খোঁপার ওই গোলাপকাঁটা - পর্ব ১১ - মুশফিকা রহমান মৈথি - ধারাবাহিক গল্প

খোঁপার ওই গোলাপকাঁটা - মুশফিকা রহমান মৈথি
চিঠিটা আমি মনোযোগ দিয়ে পড়তে লাগলাম। মিষ্টি আপুর গোটাগোটা হাতের চিঠি। 
"আমাকে ক্ষমা করবেন আদনান ভাই। আপনার মুখোমুখি হবার সাহস আমার নেই। তাই কাপুরুষের মতো চিঠি লিখছি। আপনি চিঠিটা ছিড়ে ফেলবেন। নিজের কাছে রাখবেন না। কারণ এটা আপনাকে খুব কষ্ট দিবে। 

চিঠিটা ঠিক কোথা থেকে শুরু করবো বুঝতে পারছি না। কিছু কিছু কথা এমন হয় যার জন্য শব্দও অনেক ছোট হয়ে যায়। আমার কথাগুলোও তেমন। 

আদনান ভাই আপনি কি জানেন, আপনি একজন সুপুরুষ। আপনি যেদিন প্রথম আমাদের বাড়ি এসেছিলেন আমার কাছে আপনাকে খুব কঠোর, কাঠখোট্টা মানুষ লেগেছিলো। কিন্তু আপনার শান্ত, উদাসীন, সুগভীর চোখগুলোকে আমাকে টানলো। এক অদ্ভূত শান্তি আছে জানেন তো। আপনার সাথে চোখাচোখি হলেই আমি থমকে যেতাম। এক সম্বোহনী শক্তি আমাকে বেঁধে ফেলতো। খুব নীরবেই ভালোবাসলাম আপনার চোখগুলোকে। 

সেদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় আমার জুতোটা ছিড়ে গেলো আর সেই সময়টাতেই আপনার সাথে দেখা হওয়ায় আমি খুব লজ্জা পেয়েছিলাম। আপনি আমার পায়ের দিকে চাইলেন না। বরং রিক্সা থেকে নেমে গেলেন। আমাকে বললেন,
 "রিক্সায় উঠুন৷ এই ভরদুপুরে হেঁটে যাওয়া ঠিক নয়!"

আপনার চোখগুলোতে সেদিন একটা অন্যভাষা ছিলো। আমি তা বুঝেছি। সেই ভাষাটা যখন শব্দে আমাকে জানালেন, আমি উত্তর দিতে পারি নি। আপনার ভালোবাসা পাওয়া সৌভাগ্য। অথচ দেখুন সেই সৌভাগ্য আমার হলো না। আপনার স্বচ্ছ সৎ ভালোবাসাটা আমি গ্রহণ করতে পারছি না। 

আদনান ভাই আমার আগামীকাল বিয়ে। ছেলেরা খুব বড়লোক। মা খুব খুশি এই বিয়েতে। তার থেকেও বড় কথা, ভাইয়াও খুশি। ভাইয়াকে বলার সাহস আমার নেই। আমি জানি না সে কিভাবে নিবেন। আপনাকে কেউ অপমান করুক সেটাও আমি মানতে পারবো না। সব গল্পের যে সুন্দর সমাপ্তি হবে জরুরি নয়। আপনার সাথে কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না, তবুও একটা অদৃশ্য সুঁতো ছিলো আমাদের মাঝে। আজ সেটাই আমি ছিঁড়ে ফেললাম।

আপনি হয়তো ভাবছেন, আমি স্বার্থপর। ভাবতে পারেন টাকার জন্য আপনার হাত ধরতে ভয় পাচ্ছি। হয়তো সেটাই সত্যি। সত্যিই আমি স্বার্থপর। আজকে আমি আপনার হাত ধরলে সেটা শুধু আপনার জন্য বোঝা হবে। আপনার যে স্বপ্ন সেটা হয়তো মাঝপথে থামিয়ে আপনাকে ছুটতে হবে একটা মানুষের ভরণপোষণের তাগিদায়। একটা সময় ভালোবাসা শেকল মনে হবে। কি প্রয়োজন! আমি আমার পরিবারের আনন্দ বেছে নিচ্ছি। আপনার হাত ধরার সৌভাগ্যটা না হয় অন্যের জন্য বরাদ্ধ থাক।

আপনি এখনো লড়ছেন, নিজের একটা জায়গা তৈরি করার জন্য। আমি জানি, একদিন আপনি অবশ্যই সফল হবেন। সেই দিনে আপনার পাশে আমি থাকবো না, কিন্তু দূর থেকে শুনলেও গর্বিত হবো। আমি দোয়া করবো আপনার জন্য। কখনো হার মানবেন না। 

আমাকে ভুলে যাবেন দয়া করে। কোনো তিক্ত অনুভূতি রাখবেন না। আমি চাই, আপনার স্মৃতিতে আমি এমন এক অধ্যায় হয়ে থাক যেটা মনে পড়লে কষ্ট নয়, বরং একটু নরম হাসি লেপ্টে থাকবে। ক্ষুদ্র সময়ের এই অধ্যায়টা যেন আপনার মনে কখনোই দাগ না কাটে। 

ভালো থাকবেন, নিজের খেয়াল রাখবেন। অনিয়ম করবেন না। আপনার খাওয়ার দাওয়ার অনীহা খুব। এভাবে করলে অসুস্থ হয়ে যাবেন। তখন এতো পড়াশোনার কি মানে থাকবে বলুন তো! 

আর একটা কথা, আপনি যেভাবে ভালোবাসতে জানেন, সেই ভালোবাসা একদিন ঠিকই তার সঠিক ঠিকানা খুঁজে পাবে।

ইতি
আপনার কেউ না হওয়া মিষ্টি

চিঠিটা পড়তে যেয়ে আমার মাথার উপর বিশাল বড় বাজ পড়লো। আমি হতভম্বের মতো চেয়ে রইলাম মিষ্টি আপুর বান্ধবী প্রীতি আপুর দিকে। তিনি-ই এই চিঠি আদান প্রদানের দায়ভার নিয়েছেন। পরদিন মিষ্টি আপুর বিয়ে। শাহনেওয়াজ সাহেবের সাথে। তার হলুদের অনুষ্ঠান চলমান। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে যা আমার মাথা নষ্ট করে দিচ্ছে তা হলো মিষ্টি আদনান ভাইকে ভালোবাসেন। আর আদনান ভাই তাকে ভালোবাসেন। আদনান ভাই আমার এবং মাহমুদের শিক্ষক ছিলো। আমাদের বাসায় শেষ এসেছিলেন যখন মাহমুদ আর্মিতে ভর্তি হলো। মাহমুদের জন্য তিনি একটা দামী কলম নিয়ে এসেছিলেন। আদনান ভাই নীরব, শান্ত, কঠিন ব্যক্তিত্বের মানুষ। শিক্ষক হিসেবে আমাদের সামনে তার কঠিন রুপটাকেই তিনি উন্মুক্ত রেখেছিলেন। অথচ সেই কঠিন রুপের আড়ালে একজন প্রেমিক ছিলো তা কি কল্পনা করেছিলাম? লোকটির মধ্যে কোনো খুঁত নেই। তবে অদৃষ্ট চাঁদের গায়েও কলঙ্ক আঁকেন। ঠিক তেমনি আদনান ভাই অনাথ, উপর থেকে বেকার। হাওড়া বেকারীর পাশে একটা পুরানো বাড়ির চিলেকোঠায় থাকেন। সেই রঙচটা ঘরে নিজের জীবনের সাথে লড়তে থাকা সেই আদনান ভাই কি শাহনেওয়াজ সাহেবের সামনে কোনোভাবেই দাঁড়াতে পারেন? আমি তবুও হাল ছাড়লাম না। মায়া হলো! ভালোবাসা নামক নীল বিষে তো আমিও ভুগছি। তাই এই দুজনের প্রতি একটা মায়া কাজ করলো আমার৷ আমি মিষ্টি আপুকে যেয়ে চিঠিটা দেখাতেই তিনি একেবারে কাগজের মতো ফ্যাকাশে হয়ে গেলেন। ধরা গলায় বললেন,
 "ভাবী, কাউকে বলবে না। দয়া করে কাউকে বলবে না।"

আমি তার হাতটা ধরে বললাম,
 "মিষ্টি আপু, তোমার ভাইকে বললে তিনি একটা ব্যবস্থা করবেন। উনাকে যেমন ভাব উনি তেমন নন!"
 "তবুও আমি চাই না।"
"তুমি তো শাহনেওয়াজ সাহেবকে ভালোবাসো না। এভাবে বিয়ে হয় নাকি!"
"তুমিও তো ভাইয়াকে ভালোবাসতে না। তুমি কি সংসার করছো না। আমরা যা চাই সবসময় কি তাই পাই! সংসার করতে ভালোবাসাটা প্রধান না। আমি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। আজকে যদি আমি বিয়েটা ভাঙ্গি মা খুব অপমানিত হবে। ঘর ভর্তি আত্নীয়রা। হাসাহাসি করবেন। ভাইয়া হয়তো আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রাজি হবেন। কিন্তু মা পরে ভাইয়াকে আবার ভুল বুঝবে। কি দরকার! আমি অশান্তি চাই না। তুমিও অশান্তি কর না।"

আমি হতাশ গলায় বললাম,
"আদনান ভাই একটা সময় খুব বড় কিছু হবেন। তুমি তার হাতটা ছেড়ো না।"
"আমি জানি, এজন্যই ছাড়ছি। এখন তার পড়াশোনার সময়। সেসব ছেড়ে তিনি তখন পাগল হয়ে যাবেন আমার দায়ভারের। আমি উনার জীবনের বোঝা হতে চাই না ভাবী। আবেগ ক্ষণিকের। বাস্তবতার গ্যারাকলে সেই আবেগ মরে যায়। আমি তার জীবনের একটা ক্ষুদ্র অংশ, সেই ক্ষুদ্র অংশতেই আমি সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।"

মিষ্টি আপুর উপর সেদিন আমার খুব রাগ হয়েছিলো। তাকে খুব স্বার্থপর লেগেছিলো। আদনান ভাইয়ের মতো তুখোড় ব্যক্তিত্বকে তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন। অবশ্য তার বিষাদময় মুখটা দেখে কিছু বলা হল না। সুখী হতে চায় সবাই। সেই সুখটা যে অধরা। আমার একবার মনে হয়েছিলো যাই সাহেবকে সব বলে দেই। কিন্তু কেন যেন বলতে পারলাম না। কারণ সাহেব অত্যন্ত খুশি ছিলেন। ঘরে এসে দেখলাম তিনি গুনগুন করছেন। সাহেব আর গুনগুন! ক্যাসেট প্লেয়ারে তিনি গান ছাড়লেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান। 
"এই পথ যদি না শেষ হয়
তবে কেমন হত
তুমি বল তো!"

বুঝলাম বোনকে একটা ভালো পরিবারে বিয়ে দেওয়ার তৃপ্তি তার চোখে মুখে ছলকাচ্ছে। মাহমুদ আর্মিতে ভর্তি হবার পরও আমি তাকে আনন্দিত দেখেছিলাম। একটা গা ছাড়া ভাব। আমি তার পাশে দাঁড়াতেই তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
"ফড়িং এর মতো না লাফিয়ে একটু বসলেই তো হয়। সারাদিন টুইটুই টুইটুই। আমার উপর না হোক, নিজের উপর কৃপা করতে কি আপত্তি!"

আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম অনেকটা সময়। তারপর শুধালাম,
 "আপনাকে এতো খুশি লাগছে কেন? হুতুমকে এমন হাসিখুশি দেখলে ভয় ভয় করে!"

তিনি আমার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন। তারপর আমার হাত টেনে নিজের কোলে বসালেন খুব যত্নের সাথে। আমার ভারী শরীর। পেটটা নড়লো। সেই সাথে অনুভব করলাম আমার ভেতরের ছোট্ট দুষ্টুটা লাথি মেরেছে। আমি তার হাতটা ধরতেই সে আরোও লাথি মারলো। আমি হেসে বললাম,
 "দেখেছেন কান্ড। সারাদিন সারাশব্দ থাকে না। আপনার কাছে আসতেই শুরু হয় তার দুষ্টামি।"

তিনি কিছুসময় আমার পেটের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর মুখ গুঁজলেন আমার গলায়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আমি দুরুদুরু মনে শুধালাম, 
"আপনি কি এই বিয়ে নিয়ে খুব খুশি!"
"খুশি ঠিক না, নিশ্চিন্ত। মিষ্টির শ্বশুরবাড়ি ভালো। সবথেকে বেশি ভালো শাহনেওয়াজ সাহেব। লোকটা একটা জেন্টালম্যান। খুব ভালো মানুষ। চিন্তাধারা খুব স্বচ্ছ। মিষ্টিটা সুখী হবে। আমি খুব দায়মুক্ত হলাম।"
"কিভাবে বুঝলেন স্বচ্ছ!"

তিনি মুখ তুললেন। ভীষণ বিরক্তি ছেয়ে গেলো তার মুখে। আমার গালে একটা কামড় বসালেন। আমি "আহ!" করে চেঁচিয়ে গাল ডলতে ডলতে বললাম,
"গাল জ্বালিয়ে দিলেন আমার। রাক্ষস নাকি!"
"বেশ হয়েছে! এই আমি কি তোমার মত গ্যাদা!"
 "না আপনি একটা বুদ্ধির ঢেকি!"
"জবান তো সাপের মতো লম্বা হয়েছে। ছোঁবলও মারে!"
"বেশ করেছি।"

আমার কথাটা শেষ না হতেই তিনি আবারও আমার গালে কামড় দিলেন। আমি তার বুকে একটা কিল বসালাম। তখন আর তাকে আমার ভয় হত না। একেই মা হতে চলেছি। সেকারণে যেন আলাদা এক সুযোগ পেয়েছিলাম তার অবাধ্য হবার। সে আমার হাতদুটো তার হাতের মধ্যে আটকে ধরলেন। চোখ গরম করে বললেন,
"কোল থেকে নামিয়ে দিবো কিন্তু!"
"আমি চড়ে বসেছি?"

বলেই উঠতে গেলে তিনি আমাকে বাহুডোরে আটকালেন। আমার তাকে মিষ্টি আপুর কথাটা বলা হলো না। দ্বিতীয় বারের মতো তার থেকে কথা লুকালাম। সেদিন যদি বলে দিতাম তাহলে আজ মিষ্টি আপুর জীবনটা ভিন্ন হত। 

শুক্রবার আসর বাদে মিষ্টি আপুর বিয়ে হলো। আদনান ভাই এসেছিলেন। খুব শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন মিষ্টি আপুর দিকে। বিষন্নতা ছিলো সেই দৃষ্টিতে। সাহেব নিজে তাকে বসে খাওয়ালেন। তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে খেলেন। যাবার সময় আমার সাথে তার দেখাও হলো। তিনি মৃদু হেসে আমাকে বললেন,
"মিষ্টিকে বলো ওকে খুব সুন্দর লাগছে।"

তারপর তিনি চলে গেলেন। আদনান ভাইয়ের সেই চলে যাওয়াটা আমি নীরব চোখে দেখেছি। হয়তো তিনি এখন তার চলতে উঠা চিলেকোঠায় যাবেন। একটা লম্বা ঘুম দিবেন। ঘুম ভাঙ্গবে মধ্য রাতে। তখন আকাশে রুপালী জ্যোৎস্না। তিনি মিষ্টি আপুর চিঠিটা বের করবেন। আবার পড়বেন। হয়তো নীরবে হাসবেন তার অদৃষ্টের উপর। 

—————

মিষ্টি আপু শ্বশুরবাড়ি চলে গেছেন। ঘরটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেলো। আমার গল্প করার সাথী চলে গেলেন। একটা বছর আমি তার সাথে কাটিয়েছি। কখনো সে আমার বড় আপু হয়েছে কখনো বান্ধবী। সেই সত্তাটা চলে যাওয়ায় আমার মনটা খুব উদাস হয়ে গেলো। বাড়িটা অস্বাভাবিক বড় লাগে। সাহেব অফিসে গেলে শুধু আমি আর মা। মাঝে মাঝে খালা শ্বাশুড়ি আসেন বটে। কিন্তু তাও আমার একাকীত্ব কাটে না। 

ঘরে আমার এবং মায়ের দেখভালের জন্য একটা মেয়ে রাখা হলো। মেয়েটার বয়স বিশের কাছাকাছি। নাম জরিনা। জরিনার এক চোখ অন্ধ। ছোটবেলায় খেলতে খেলতে ইটের উপর পড়ে গিয়েছিলো। চোখে ইটের কোনা লেগে কর্ণিয়া নষ্ট হয়ে গেছে। সেই থেকে সে এক চোখে দেখে না। লোকে তাকে কানা জরিনা ডাকে। মেয়েটি ঝাঁঝালো। দু-কথার পর তিন কথা বললেই তেড়ে উঠে। মা পছন্দ করেন না। কিন্তু উপায় নেই। আমার শরীরটা শুধু খারাপ-ই হচ্ছে। মাঝে মাঝেই পেটে খুব ব্যাথা উঠে। সেই ব্যাথায় আমি চিৎকার করি। মা আমাকে সামলাতে পারে না। বাথরুমে যেতেও আমার মানুষের সাহায্য লাগে। তাই জরিনা ছাড়া উপায় নেই। গভীর রাতে হঠাৎ হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙ্গে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ঘরে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে রাখা হয়েছিলো। সাহেব তাড়াতাড়ি উঠেন আমার মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগান। আমার মনে হয় আমি বুঝি মারা যাব। একটা সময় সাহেবকে মজা করেই বলতাম,
""আমি মরে গেলে আরেকটা বিয়ে করবেন আপনি?"

তিনি আমার কথা শুনে আমার দিকে মুখটা বিকৃত করে বলতেন
"হ্যা!"
"আমি সত্যি সত্যি মরে গেলে আপনি আরেকটা বিয়ে করবেন?"
"এখন বউ মরলে পুরুষমানুষ পাগল হয়ে যায়। আমারটা আবার পোকাযুক্ত পেয়ারা। এমনেই তো আধা পাগল হয়ে গেছি। তখন হব ফুল পাগল! পাগল কত কিছুই করে! ভাবছি এবার একটা কৃপাময়ী আম বিয়ে করবো। যন্ত্রণা! যতসব!"

আমার সেই কথাগুলো মনে পড়ে। আমার পাশে চিন্তিত মুখে বসে থাকা কাটা কাটা চেহারার পুরুষটাকে আমি কান্নামিশ্রিত স্বরে শুধাই,
"আমি কি সত্যি সত্যি মরে যাবো সাহেব?"

তিনি আমার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। একটু পর বললেন,
"তুমি একটু ঘুমাও, কানন। আমি মাথা টিপে দেই?"

আমার তখন আটমাস। আষাঢ়ের তখন পাঁচ তারিখ। রাতটা আমার ব্যথায় কেটেছিলো। খুব কষ্টে ঘুমিয়েছিলাম। সাহেব আর অফিসে যান নি। আমার জন্য থেকে গিয়েছিলেন৷ এখন আর ফজরে তোলার কড়াকড়ি তিনি করেন না। আমার ঘুম ভাঙ্গলো এগারোটায়। আমি খুব কষ্টে উঠে বসলাম। বাথরুমে যাওয়ার জন্য দাঁড়াতেই আমার মনে হলো আমার পা থেকে গরম তরল গড়াচ্ছে। আমি পায়ের দিকে তাকাতেই দেখলাম তাঁজা লাল রক্ত। আমি ভয়ে শিটিয়ে গেলাম। পেটে অসম্ভব ব্যথা শুরু হয়। ভয় যন্ত্রণায় কাতর আমি মৃতপ্রায় স্বরে সাহেবকে ডাকলাম,
"শুনছেন।"

সাহেব তখন টেবিলে বসে কাজ করছিলেন। আমার গলা তার কানে যেতেই তিনি তড়িৎ গতিতে চাইলেন। আমার রক্ত ভেজা ছায়া এবং ম্যাক্সি দেখে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। সেই প্রথম আমি সাহেবকে এতোটা ভীত, সন্ত্রস্ত দেখেছিলাম।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp