পদ্মজা - পর্ব ৫০ - ইলমা বেহরোজ - ধারাবাহিক গল্প

পদ্মজা - ইলমা বেহরোজ
          সুনসান নীরবতা চারিদিকে। রাত গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। রুম্পা বিভোর হয়ে ঘুমাচ্ছে। পদ্মজা তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছে, কখন রুম্পা চোখ খুলবে। পদ্মজা বসে আছে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে। দরজায় কেউ টোকা দিতেই পদ্মজা সাবধান হয়ে গেল। রুম্পার নিরাপত্তা নিয়ে তার মন অস্থির হয়ে আছে। সে গম্ভীরকণ্ঠে জানতে চাইল, ‘কে, কে ওখানে?’

‘আমি।’

আমিরের কণ্ঠ শুনে পদ্মজা ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ল। খুলে দিল দরজা। আমিরের চুল এলোমেলো। ক্লান্ত দেখাচ্ছে। সে পদ্মজাকে দেখে বলল, ‘ঘুম ভেঙে গেল। তোমাকে মনে পড়ছে।’

‘আমি তো এখন যেতে পারব না।’

‘আমি থাকি তাহলে।’ আমিরের নির্বিকার কণ্ঠ।

পদ্মজা চোখ রাঙিয়ে বলল, ‘শীতের রাতে মেঝেতে থাকবেন? রুম্পা ভাবি বিছানায় ঘুমাচ্ছে। এই ঘরে থাকলে মেঝেতে থাকতে হবে। ঘরে যান।’

‘মেঝেতেই থাকব।’

‘আপনি সবসময় ঘাড়ত্যাড়ামি করেন কেন? আপনাকে তো আমি বলে এসেছি কতটা দরকার রুম্পা ভাবির সঙ্গে থাকা।’

‘গত দিনও বোনদের সঙ্গে ছিলে। আর আজ রুম্পা ভাবির সঙ্গে থাকতে চাইছ!’

‘কয়টা দিনই তো। আজীবন একসঙ্গেই থাকব।’

‘আচ্ছা যাচ্ছি, এখনও ঘুমাওনি কেন?’

পদ্মজা একবার রুম্পাকে দেখে নিয়ে বলল, ‘এই তো ঘুমাব।’

আমির চারপাশ দেখে বলল, ‘সাবধানে থাকবে। রিদওয়ান দোতলায় ঘুরঘুর করছে। ভয় পাবে না। আমি আছি।’

পদ্মজা আমিরের চোখের দিকে তাকাল। বলল, ‘আপনি আমার সঙ্গে থাকতে নয়, দেখতে এসেছেন আমি ঠিক আছি কি না তাই না? একদমই ভয় পাবেন না। আমার কিছু হবে না।’

আমির দুই হাতে পদ্মজার দুই গাল ধরে বলল, ‘আমি তো জানি আমার পদ্মবতী কতটা সাহসী! এজন্যই এই বাড়িতে আসার সাহস করতে পেরেছি।’

‘আহ্লাদ হয়েছে? এবার যান।’

আমির হেসে চলে গেল। পদ্মজা অনেকক্ষণ অন্ধকার বারান্দায় তাকিয়ে রইল। এরপর দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ল বিছানায়। আমিরকে সে কতটা ভালোবাসে সে নিজেও জানে না! আমিরের প্রতিটি স্পর্শ ও কথার ছন্দে হৃদয় স্পন্দিত হয়। আমিরের পাগলামি, খেয়াল রাখা, দায়িত্ববোধ সবকিছু পদ্মজাকে মুগ্ধ করে। একজন আদর্শ স্বামী বোধহয় একেই বলে। আমিরের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়ল! ভালোবাসার মানুষদের নিয়ে ভাবা সময়টা জাদুর মতো। চোখের পলকে নির্ঘুম রাত কেটে যায় নয়তো নিজের অজান্তে আবেশে ঘুম চলে আসে।

সকালে উঠেই পূর্ণাকে গিয়ে ডেকে তুলল পদ্মজা। এরপর রুম্পার ঘরে এসে নামাজ পড়ল। কোরআন পড়ল। রুম্পার ঘুম আরো কিছুক্ষণ পর ভাঙে। রুম্পাকে ধরে ধরে টয়লেটে নিয়ে গেল পদ্মজা। তারপর গেল রান্নাঘর থেকে খাবার আনতে। ফরিনা মাত্র চুলা থেকে খিচুড়ি নামিয়েছেন।

‘আম্মা, ভাবির জন্য খিচুড়ি নিয়ে যাই?’ বলল পদ্মজা।

ফরিনা হেসে বললেন, ‘এইডা আবার কওন লাগে। লইয়া যাও। তুমি খাইবা কুনসময়?’

‘ভাবিকে খাইয়ে এসে তারপর উনাকে নিয়ে খাব। আম্মা, রাতের মুরগির গোশত আছে না?

‘হ আছে তো। ওই যে ওই পাতিলডায়।’

পদ্মজা গরম গরম খিচুড়ি মুরগি গোশতের ভুনা দিয়ে নিয়ে যায়। ঘরে ঢুকে দেখে রুম্পা মেঝেতে পড়ে আছে। পদ্মজা থালা বিছানার উপর রেখে রুম্পাকে তোলার চেষ্টা করে।

অবাক হয়ে প্রশ্ন করে, ‘ভাবি মেঝেতে পড়লেন কীভাবে?

রুম্পা কিছু বলছে না। সে উদ্ভ্রান্তের মতো ছটফট করছে, এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে; পদ্মজাকে দূরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। পদ্মজা বিস্মিত। রুম্পা এমন করছে কেন? সে রুম্পাকে প্রশ্ন করেই চলেছে, ‘কেউ এসেছিল ঘরে? কে এসেছিল? ভয় দেখিয়েছে? ভাবি… ভাবি বলুন আমাকে। ভাবি…ধাক্কাচ্ছেন কেন? আমি আপনার জন্য খাবার এনেছি।’

খাবারের কথা শুনে রুম্পা থমকে গেল। পদ্মজার দিকে এক নজর তাকিয়ে বিছানার দিকে তাকাল। ঝাঁপিয়ে পড়ল খাবারের ওপর। গরম খাবার গাপুসগুপুস করে খেতে থাকল। পদ্মজা বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছে। এমনভাবে রুম্পা খাচ্ছে যেন আর কোনোদিন খাওয়া হবে না। সুযোগ আসবে না। পদ্মজা পানি এগিয়ে দিল। রুম্পা অল্প সময়ের ব্যবধানে পুরো থালার খিচুড়ি ও এক বাটি গোশত খেল।

খাওয়া শেষে পদ্মজা নমনীয় কণ্ঠে প্রশ্ন করল, ‘ভাবি আমার সঙ্গে একটু কথা বলবে?’

রুম্পা দূরে সরে যায়। দেয়াল ঘেঁষে বসে। মাথা দুইদিকে নাড়িয়ে ইশারা করে জানাল, সে কথা বলবে না। পদ্মজা তবুও আশা ছাড়ল না। সে রুম্পার পাশে গিয়ে বসল। রুম্পার এক হাত মুঠোয় নিয়ে বলল, ‘আমি তোমাকে আমার সঙ্গে ঢাকা নিয়ে যাব। যাবে?’

রুম্পা এক ঝটকায় হাত সরিয়ে নিলো। পদ্মজাকে ধাক্কা মেরে চেঁচিয়ে বলল, ‘বাইর হ আমার ঘর থাইকা। বাইর হ তুই।’

রুম্পার ব্যবহারে পদ্মজা আহত হলো, ‘ভাবি! আমি তোমার ভালো চাই।’

‘বাইর হ কইতাছি। বাইর হ।’

শীতের ঠান্ডা হিম বাতাস জানালা দিয়ে ঢুকছে। শীতের দাপট বেড়েছে। এবারের শীত বোধহয় মানুষ মারার জন্য এসেছে! এত ঠান্ডা! রুম্পার পরনে শাড়ি ছাড়া আর কিছু নেই। ঠান্ডায় তার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে পদ্মজা রুম্পার চোখের দিকে দৃষ্টিপাত করল। রুম্পার চোখ বার বার দরজার দিকে যাচ্ছে। পদ্মজা উঠে স্থির হয়ে দাঁড়াল না, ছুটে গেল দরজার কাছে। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আগন্তুক ছুটে পালাতে চাইল। তবে তার আগেই পদ্মজা জোরাল কণ্ঠে ডেকে উঠল, ‘লুতু বুবু।’

লতিফা একবার ঘাড় ঘুরিয়ে পদ্মজাকে দেখল। এরপর দ্রুত পায়ে সিঁড়ি ভেঙে নেমে গেল নিচে, তার চোখে ভয়। আচমকা ঝনঝন শব্দ হলো একটা। পদ্মজা চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। রুম্পা পাগলামি শুরু করেছে। মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ করতে করতে ঘরের জিনিসপত্র ছুঁড়ছে। রুম্পাকে থামানোর চেষ্টা করল পদ্মজা, বোঝাল অনেক করে। কিছুতেই রুম্পা থামল না। উলটো তার ছোড়া স্টিলের গ্লাস এসে পড়ল পদ্মজার কপালে। ‘আহ’ বলে বসে পড়ল পদ্মজা, সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল রুম্পার পাগলামি। ছুটে এসে পদ্মজার আহত স্থানে হাত রাখে, উৎকণ্ঠিত হয়ে বলল, ‘আমি তোমারে ইচ্ছা কইরা দুঃখ দেই নাই বইন। বেশি বেদনা করতাছে?’

আঞ্চলিক ভাষায় চিকন কণ্ঠ! পদ্মজা দুই চোখ মেলে তাকাল। রুম্পা পদ্মজার কপালের ফোলা অংশে ফুঁ দিচ্ছে। ভীষণ অস্থির হয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে পদ্মজাকে অনেক পছন্দ করে রুম্পা। মুখোশ খুলে বেরিয়ে এসেছে আসল রূপে। সে কঠিন নয়, পাগল নয়। বরং বড্ড নরম, কোমল। পদ্মজা শান্ত স্বরে প্রশ্ন করল, ‘কেন পাগলের অভিনয় করো?’

রুম্পার হাত থেমে গেল। সে ধরা পড়ে গেছে!

—————

কুয়াশার স্তর ভেদ করে একটা নৌকা ঢুকল খালে, মাঝি মৃদুল। গতকাল যে ছেলেটাকে আন্ডা ডেকেছিল সেই ছেলেটাও নৌকায় আছে। তার ভালো নাম, জাকির। মৃদুলের সঙ্গে বাচ্চাকাচ্চাদের অনেক খাতির। পূর্ণা খালের ঘাটে বসে ছিল। সে ফজরের নামাজ আদায় করে খিচুরি খেয়ে এখানে চলে এসেছে। মন খারাপের সময় ঘাটে বসে থাকতে তার ভালো লাগে। গতকাল রাতে খাওয়ার সময় মৃদুল কম হলেও বিশ বার তাকে কালি ডেকেছে। অন্ধকারে নাকি দেখাই যায় না। এমন অনেক কথা বলেছে। কালো রঙের মেয়ে হওয়া বোধহয় পাপ! আবার পদ্মজাও রাতে তার সঙ্গে থাকেনি। পুরো রাত সে কেঁদেছে। কেউ কেন তাকে কালি বলবে! আবার তার আপা ও তাকে সময় দিল না। শ্বশুরবাড়ির অন্য বউকে নিয়ে ব্যস্ত। পূর্ণার খুব অভিমান হয়েছে। বয়স বিশ পার হলেও রয়ে গেছে সেই ছোট্ট কিশোরী মেয়েটি। মৃদুল নৌকা থামিয়ে পূর্ণাকে ডাকল, ‘কালি বেয়াইন।’

পূর্ণা তাকাল না। মৃদুল আবার ডাকল, ‘বেয়াইন গো।’

তাও পূর্ণা সাড়া দিল না। মৃদুল জাকিরকে বলল, ‘কী রে ব্যাঠা, বুঝছিস কিছু? এই ছেড়িরে ভূতে ধরল নাকি?’

জাকির দাঁত বের করে শুধু হাসল। মৃদুল জোরে বলল, ‘আরে বেয়াইন কী কানে শুনে না? কাল তো ঠিকই শুনছিল। ঠান্ডা কী কানের ভেতরে ঢুইকা গেছে? ও কালি বেয়াইন। বেয়াইন…’

পূর্ণা হুট করে উঠে দাঁড়াল। আঙুল শাসিয়ে মৃদুলকে বলল, ‘আপনার কী মা-বাপ নাই? থাকলেও শিক্ষা দেয়নি যারে তারে যা ইচ্ছে ডাকা উচিত না? অসভ্যতা অন্য জায়গায় করবেন আমার সামনে না। আমি কালো আমি জানি। আপনাকে কালি বলে সেটা মনে করিয়ে দিতে হবে না। আমি আপনাকে অনুমতি দেইনি আমাকে কালি ডাকতে বা বেয়াইন ডাকতে। আমি আপনার বেয়াইনও না। আমার দুলাভাইয়ের আপন ভাই না আপনি। কোথাকার কে আপনি? এই ফরসা চামড়ার দেমাগ দেখান? আরেকবার আমাকে কালি বললে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।’

কথা শেষ করেই পূর্ণা কুয়াশার আড়ালে হারিয়ে যায়। রেখে যায় অপমানে থমথম করা একটা মুখ। মৃদুল ঘোর থেকে বেরোতে পারছে না। তাকে একটা মেয়ে এভাবে বলেছে? তার মতো সুন্দর ছেলের জন্য গ্রামের সবকটি মেয়ে পাগল। আর এই কালো মেয়েটা তাকে এভাবে অপমান করল! মৃদুল রাগে বৈঠা ছুঁড়ে ফেলল খালে। নৌকা থেকে নামতে গেলে তার এক পায়ে ধাক্কা লেগে নিমিষে দূরে চলে যায় নৌকাটি।

নৌকায় থাকা ছেলেটি চিৎকার করল, ‘মৃদুল ভাই। আমি আইয়াম কেমনে? বৈডাডাও ফালায়া দিছো।’

মৃদুল বিরক্তি নিয়ে ফিরে তাকাল। সত্যিই তো নৌকা অনেক দূরে চলে গেছে! এই ঠান্ডার মধ্যে ছোটো বাচ্চাটা সাঁতরে পাড়ে আসবে কীভাবে!

মৃদুল রাগ এক পাশে রেখে বরফের মতো ঠান্ডা জলে ঝাঁপ দিল।

—————

রুম্পা থেমে থেমে কাঁদছে। এদিকে অনবরত প্রশ্ন করে যাচ্ছে পদ্মজা, সে ভীষণ অস্থির। একজোড়া পায়ের শব্দ ভেসে আসতেই রুম্পার কান্না থেমে গেলে। এই পায়ের শব্দগুলো সে চেনে! রুম্পা কাঁপতে থাকল। রুম্পার অবস্থা দেখে পদ্মজার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত গড়িয়ে যায়। রুম্পা পদ্মজার এক হাত ধরে চাপাস্বরে দ্রুত বলল, ‘এহান থাইকা চইলা যাও, বইন। আর আগাইয়ো না। ওরা পিশাচের মতো। ছিঁইড়া খাইয়া ফেলব। ওদের দয়ামায়া নাই। তুমি অনেক ভালা। তোমারে কোনোদিন ভুলতাম না। তুমি এইহানে থাইকো না। তুমি এই বাড়ির কেউয়ের লগে যোগাযোগ রাইখো না।’

‘ওরা কী করেছে? ভাবি, অনুরোধ করছি আমাকে বলুন। ভাবি অনুরোধ করছি।’

রুম্পা সেকেন্ডে সেকেন্ডে ঢোক গিলছে। পায়ের শব্দটা যত কাছে আসছে তার কাঁপুনি তত বাড়ছে। সে ছলছল চোখে পদ্মজার দিকে তাকিয়ে কোনোমতে বলল, ‘পেছনে…উত্তরে…ধ রক্ত।’

পরমুহূর্তেই দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে খলিল হাওলাদার। এত জোরে দরজা ধাক্কা দিয়েছেন যে, বিকট শব্দ হয়। হুংকার ছেড়ে পদ্মজাকে বললেন, ‘তুমি এই ঘর থাইকা বাইর হও। অনেক অবাধ্যতা দেখাইছো আর না।’

খলিলের চোখ দুটি দেখে পদ্মজার রক্ত ছলকে উঠে। গাঢ় লাল। সে দুই হাতে রুম্পাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘আমি রুম্পা ভাবির সঙ্গে থাকব।’

‘থাকবা না তুমি।’

‘কেন জানতে পারি?’

‘একটা পাগলের সঙ্গে কীসের থাকন?’

‘রুম্পা ভাবি পা…’ পদ্মজা কথা শেষ করতে পারল না। বুকে মুখ লুকিয়ে রাখা রুম্পা পিঠে চিমটি দিয়ে ভেজাকণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলল, ‘কইও না। আমি পাগল না কইও না। দোহাই লাগে।’

পদ্মজা থেমে গেল। খলিল বললেন, ‘বাড়ায়া যাও, বউ।’

পদ্মজা নাছোড়বান্দা হয়ে বলল, ‘যাব না আমি। রুম্পা ভাবির সঙ্গে থাকব।’

রুম্পা পদ্মজাকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় পাগলামি শুরু করে। খলিল রুম্পাকে আঘাত করার জন্য উদ্যত হতেই পদ্মজা বাধা হয়ে দাঁড়াল। বলল, ‘নিজের মেয়েকে অমানুষের মারতে পারেন বলে সবার মেয়েকে মারার অধিকার পাবেন না।’

পদ্মজার কথা মাটিতে পড়ার আগে খলিলের শক্ত হাতের থাপ্পড় পদ্মজার গালে পড়ে।

পদ্মজা ব্যথায় ‘মা’ বলে আর্তনাদ করে উঠল।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp