আড়ালে আবডালে শুধুই তুই - পর্ব ২২ - রাহা ইসলাম - ধারাবাহিক গল্প

আড়ালে আবডালে শুধুই তুই
"হাউ ডাজ শি ডেয়ার স্টেপ আউটসাইড দিস হাউস!আই’ম কামিং রাইট নাউ।”

বলেই হনহন করে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলো..

জারিফ কালো মার্সিডিজ গাড়ি বের করেই দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু অভ্র একবারও সেদিকে তাকাল না।
সোজা এগিয়ে গেল তার কালো Kawasaki Ninja H2R বাইকের দিকে। 

প্রায় সত্তর লাখ টাকার দানবটা যেন অন্ধকার রাতেও আগুন ছড়াচ্ছিল।
পরের মুহূর্তেই বাইকে উঠে স্টার্ট দিতেই গর্জে উঠল ইঞ্জিন। শব্দটা যেন পুরো পার্কিং লট কাঁপিয়ে দিল।

অভ্রের রাগান্বিত মুখ দেখে জারিফ আর জায়ান কেউই কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পেল না। শুধু তাকিয়ে রইল।
— ৪০০ কিলোমিটার গতির দানবটা নিয়ে বাতাস চিরে বেরিয়ে গেল ।

রাত তখন প্রায় প্রথম প্রহর। ফাঁকা হাইওয়ে জুড়ে মৃত্যুর মতো নীরবতা, আর সেই নীরবতা ভেদ করে আগুনের বেগে কুমিল্লার দিকে ছুটে চলেছে সে।
গাড়িতে গেলে দেরি হবে। আর এই মুহূর্তে তার কাছে প্রতিটা সেকেন্ডই ছিল যুদ্ধের মতো মূল্যবান।

হ্যান্ডেলে শক্ত করে চেপে ধরা অভ্রের আঙুলগুলো যেন রাগে সাদা হয়ে উঠেছে। হেলমেটের কালো ভাইজারের আড়ালে তার চোখ দুটো জ্বলছে আগুনের মতো।
রাস্তার পাশের লাইটগুলো একের পর এক পিছনে মিলিয়ে যাচ্ছে। চারপাশের বাতাসের তীব্র চাপেও বাইকের গতি একটুও কমায় না সে।

হঠাৎ ফোনটা আবার কেঁপে ওঠে।
ব্লুটুথে কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কাঁপা গলায় জায়ান বলে উঠল—
“ভাই… আমরা লোকেশন পেয়েছি।”

এক মুহূর্তে অভ্রের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।
“কোথায়…?”

“কুমিল্লা শহরের বাইরে একটা পুরোনো রিসোর্টে…”

কথাটা শুনেই অভ্র আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। থ্রটল পুরোটা ঘুরিয়ে দিতেই Kawasaki Ninja H2R আবারও গর্জে উঠল।

স্পিডোমিটারের কাঁটা যেন থামতেই চায় না—ক্রমে আরও ওপরে উঠছে।
হাইওয়ের বাতাস কেটে বাইকটি ছুটে চলেছে।
মাথায় শুধু একটাই চিন্তা—রাহা কুমিল্লার ওই জায়গায় কীভাবে গেল..?

রাহার পেনডেন্টের লোকেশন কুমিল্লা দেখাতেই আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি সে। কোনো ব্যাখ্যা, কোনো প্রশ্ন—কিছুই মাথায় আসেনি তখন। শুধু একটা কথাই মনে আসছে 
“রাহার শেষ আজ অভ্র নিজের হাতে লিখবে।”

হঠাৎই জায়ানের পাঠানো লোকেশনটা আবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে অভ্রের।
রাহার গলার ছোট্ট লকেটটা পাওয়া গেছে কুমিল্লা শহরের বাইরে, নির্জন একটা পুরোনো রিসোর্টে।
লকেটটার GPS লোকেশন ট্র্যাক করেই জায়ান নিশ্চিত হয়েছিল— রাহা শেষবার ওই রিসোর্টেই আছে। আর এটা জানার পরই এক মুহূর্ত দেরি না করে বাইক ঘুরিয়ে আগুনের গতিতে সেদিকেই ছুটে যায়।

তিন ঘণ্টার পথকে দেড় ঘণ্টায় নামিয়ে এনেছে সে—সময় যেন তার গতি দেখে হার মেনে গেছে। দেড় ঘণ্টা পর সে যখন শহরের প্রান্তে পৌঁছায়, 

রিসোর্টের গেটটা দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল—জং ধরা লোহার ফ্রেম, অর্ধেক ভাঙা লাইট, আর চারপাশে অস্বাভাবিক নীরবতা।
অভ্র বাইক থামাল না।
বাইকটি একটানা গর্জন তুলে সোজা ঢুকে গেল ভেতরের কাঁচা রাস্তা দিয়ে।
ধুলা উড়ে চারপাশ ঝাপসা হয়ে যায়, কিন্তু সে থামে না। হেলমেট খুলতেও সময় নিল না।
বাইকের ইঞ্জিন এখনো গরম, কিন্তু তার মাথা ঠান্ডা—ভয়ংকর ঠান্ডা।

ঠিক তখনই সামনে থেকে একটা চাপা শব্দ ভেসে আসে। কোনো দরজা বন্ধ হওয়ার মতো শব্দ… তারপর আরেকটা।

অভ্র এক মুহূর্ত থেমে চারপাশটা দেখে নেয়।
রিসোর্টের পুরোনো বিল্ডিংটা অর্ধেক অন্ধকার। একটা জানালার পাশে হালকা আলো জ্বলছে।

সে ধীরে ধীরে বাইকটা পার্ক করে। 
ভিতরের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু গলায় বলে ওঠে—
“আমার জান কোথায় তুই…”

তারপর সে এক পা সামনে এগোতেই ভিতর থেকে হঠাৎ কারও পায়ের শব্দ শোনা যায়…
পায়ের শব্দটা ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসে।
অভ্র এক সেকেন্ডও নড়ে না। শুধু চোখ দুটো সরু হয়ে যায়। আওয়াজ এর উৎস খুঁজতে খুঁজতে তড়িৎ পা চালিয়ে সামনে দেখে একটা লম্বা করিডোর।যেখানে গিয়ে শব্দ গুলো থেমে যায়।
করিডোরটা লম্বা, ভেজা দেয়াল আর মিটমিটে একটা বাল্ব—সব মিলিয়ে পরিবেশটা খুবই ভূতুড়ে 
পর্দার আড়ালে চার-পাঁচটা ছায়া নড়ছে। স্পষ্ট নয়, কিন্তু উপস্থিতি বোঝা যাচ্ছে।

একটা ভাঙা, চাপা চিৎকার করিডোরের ভেতর থেকে ভেসে আসতেই অভ্রের শরীর মুহূর্তে থমকে যায়। কোনো মেয়ের ভগ্ন কণ্ঠস্বর।
যা শুনে মাথার ভেতর সবকিছু এক সেকেন্ডে স্তব্ধ হয়ে যায়।

রাহার কথা মাথায় আসতেই অভ্রের ভেতরের নিয়ন্ত্রণটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। মাথা ভার হয়ে আসে, বুকের ভেতর অস্থিরতা বাড়তে থাকে।কিন্তু সামনে এগোনোর শক্তিটা যেন হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে শরীর আর মানসিক চাপ—দুটোই তাকে একসাথে চেপে ধরেছে।

পর্দার ঠিক সামনে লকেটটা পড়ে থাকতে দেখে অভ্র থমকে যায়।
সেটা তুলে সামনে ধরতেই
রাহার মুখ, শেষবারের সেই কাঁপা কণ্ঠ—সব কিছু একসাথে ভেসে ওঠে।
রাহার কথার মাথায় আসতেই পাগল পাগল হয়ে যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে পা গুলো থমকে গিয়েছে।
সামনে এগোনোর জন্য অবশিষ্ট শক্তি টুকু বাকি নেই।

--কাঁপা হাতে পর্দাটা একটু সরাতেই ভেতরের দৃশ্যটা ধীরে ধীরে সামনে দৃশ্যমান হয়।

এক সেকেন্ডের জন্য সময়টা যেন থমকে যায়।
অভ্রের শরীরটা হঠাৎ ভারী লাগছে— মুহূর্তেই দুই হাঁটু ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ে ।

চোখ দুটো স্থির, কিন্তু সেই স্থিরতার ভেতরে যেন ভেঙে যাচ্ছে একটা পুরো পৃথিবী।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, তবুও শব্দ নেই।
লকেটটা এখনো তার হাতে ধরা, আঙুলগুলো শক্ত হয়ে আছে, যেন ছেড়ে দিলে সবকিছু সত্য হয়ে যাবে।

ভেতরের দৃশ্যটা দেখে তার বুকের ভেতর জমে থাকা সব রাগ, সব দৌড়, সব সিদ্ধান্ত একসাথে গুলিয়ে যায়।
মাথার ভেতর শুধু একটা নাম ঘুরতে থাকে—রাহা।
আর সেই নামটাই যেন ধীরে ধীরে তাকে ভিতর থেকে ভেঙে ফেলছে, নিঃশব্দে, নির্মমভাবে।

অভ্রের এইভাবে ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ার শব্দ হতেই পাঁচটা ছেলে একসাথে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় ওর দিকে।
তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট বিস্ময়—হয়তো বুঝতেই পারছে না, এই ছেলে হঠাৎ এখানে এলো কীভাবে।

আর এভাবেই বা কেন মেঝেতে বসে পড়ল…?

কিন্তু অভ্র যেন তাদের কাউকেই দেখছে না।
তার স্থির দৃষ্টি শুধু সামনে পড়ে আছে।
চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে, নিঃশ্বাস ভারী।
মনে হচ্ছিল বুকের ভেতরটা কেউ একমুঠো করে চেপে ধরেছে।

চারপাশের সব শব্দ ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে তার কাছে।
শুধু একটা দৃশ্যই বারবার চোখে আঘাত করছে…
আর সেই আঘাতেই যেন মুহূর্তের মধ্যে ভিতর থেকে ভেঙে পড়েছে অভ্র।

অভ্র চোখ তুলে তাকাতেই ওর বিভীষিকাময় চাহনি দেখে সবাই থমকে যায়।
চোখ দুটো রক্তিম লাল—মনে হচ্ছিল পলক ফেললেই যেন রক্ত ঝরে পড়বে।

ঘরটার এক পাশে পড়ে আছে অজস্র সুরার বোতল। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য ফাঁকা সিগারেটের প্যাকেট আর অবশিষ্ট টুকরো।
দেখলেই বোঝা যায়, নিশি নামলেই জায়গাটা নেশাখোরদের আস্তানায় পরিণত হয়।

এক লোক এতক্ষণে নিজের কুৎসিত বাসনা পূরণ করে হাঁপাচ্ছিল।
হয়তো আরও কিছুক্ষণ নিজের নোংরা ইচ্ছা চালিয়ে যেত, কিন্তু হঠাৎ করেই অভ্রের আগমনে সবকিছু থেমে যায়।
মেয়েটির একপাশে আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকায় মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।

লোকগুলোর মধ্যে একজন ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসতে হাসতে অভ্রের দিকে এগিয়ে আসে।

— “কিরে, এখানে কী করছিস?”

ও মাথা থেকে পা পর্যন্ত অভ্রকে একবার দেখে নিয়ে আবার হাসে।

— “তোকে দেখে তো বড়লোক বাড়ির ছেলে মনে হচ্ছে। ফাইভ স্টার হোটেল ছেড়ে এই জায়গায় কী করতে এলি?”

তারপর কণ্ঠটা আরও কদর্য হয়ে ওঠে।
— “যাই হোক, এসে যখন পড়েছিস, তোকে একটা সুযোগ দেই। একদম কচি খাসা মাল।”

কথাটা শেষ করেই লোকটা পাশের দিকে তাকায়।
তার চোখেমুখের নোংরা ইঙ্গিত মুহূর্তেই পুরো ঘরটাকে আরও নোংরা করে তোলে।

আর ঠিক তখনই অভ্র খপ করে তাকায় লোকটির পানে। রক্তিম চোখ দুটো এমনভাবে লোকটার দিকে স্থির হয়, যেনো ঝড়ের আগের কোনো পূর্বাভাস।

অভ্রর হাত তখনও মুঠিবদ্ধ, ভেতরে লকেটটি শক্ত করে ধরা। তার কোনো নড়াচড়া না দেখে লোকটিও এক পা এগিয়ে ঝুঁকে পড়ে।
ঠিক তখনই তৎক্ষণাৎ এক ঘুষি এসে লাগে লোকটার নাক বরাবর।
সে কয়েক কদম পিছিয়ে যায়।নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে।বাকি লোকগুলো অভ্রের এই আকস্মিক আঘাতে আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে যায়।

যেই লোকটিকে অভ্র আঘাত করেছিল, সে তড়িৎ উঠে দাঁড়ায়।

— “এই নাটকির পোলা, আমার এলাকায় এসে আমাকে মারার সাহস কত বড়!”

তারপর চিৎকার করে ওঠে—
— “সবাই আয়! ধর ওকে!”

নেতার আদেশ পেতেই বাকি সবাই এগিয়ে আসে।
ঠিক তখনই অভ্র উঠে দাঁড়ায়, মুখ থেকে বেরিয়ে আসে,
"ইউ ব্লাডি বিচ"

সামনের একজন এগিয়ে আসতেই অভ্র নিখুঁতভাবে আঘাত করে—সোজা মেইন পয়েন্টে।
লোকটি তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ফ্লোরে পড়ে গিয়ে হাত-পা ছুঁড়ে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে চিৎকার করতে থাকে।

বাকিরা ভয়ে আবারও কিছুটা পিছিয়ে যায়।
তবুও নেতার নির্দেশ অমান্য করার সাহস কারও নেই। একজন আবার এগিয়ে আসতেই অভ্র মুহূর্তেই পাশে থাকা মদের বোতল তুলে নিয়ে আঘাত করে। বাকি দুইজন আর সামনে এগোতে সাহস পায় না। পালাতে চাইতেই অভ্র দুজনকেই একসাথে ধরে ফেলে।দুই হাত দিয়ে কলার চেপে ধরে দ্রুত ঘুরিয়ে এনে তাদের মাথা একে অপরের সাথে জোরে ঠুকে দেয়। ধপ করে দুজনই মাটিতে পড়ে যায়।
অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তারা খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, আর পুরো ঘরটা মুহূর্তেই নীরব হয়ে যায়।

ঠিক তখনই রিসোর্টের বাইরে থেকে গাড়ির শব্দ ভেসে আসে।
হর্নের আওয়াজ কানে যেতেই অভ্র বুঝে যায়—কারা এসেছে।
তার ডান আর বাম হাত।
বসের এমন পরিস্থিতিতে তাদের না আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এক মুহূর্ত দেরি না করে ম্যানেজারকে পরিস্থিতি সামলাতে বলে তারা তৎক্ষণাৎ লোকেশন অনুযায়ী রওনা দেয়।

জারিফ আর জায়ান এসে পৌঁছাতেই অভ্রকে এই 
অবস্থায় দেখে দুজনেই থমকে যায়।

পুরো ঘরটা একবার চোখ বুলিয়ে নিতেই তাদের দৃষ্টি আটকে যায় এক কোণে থাকা চৌকিটিতে।
সেখানে এক মেয়ে নিথর হয়ে পড়ে আছে—ভয়ংকরভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায়।
চুলগুলো এলোমেলো, গায়ের কাপড় ছিঁড়ে-বিছিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে আছে।
শরীরটা খুব হালকা কেঁপে উঠছে—যেন শেষ শক্তিটুকুও ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
চোখ আধখোলা, দৃষ্টি অস্পষ্ট, পলক ফেলতেও যেন কষ্ট হচ্ছে। মাথাটা বিপরীত দিকে ঘুরানো থাকায় মুখটা পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না।শুধু দূর থেকেই বোঝা যায়—তার ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।

এই দৃশ্য দেখে জারিফ আর জায়ান দুজনেরই গলা শুকিয়ে যায়, বুকের ভেতরটা যেন হঠাৎ করে চেপে বসে—শব্দহীন এক ভারী ঢোক গিলে তারাও থমকে দাঁড়িয়ে থাকে।

অভ্র কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।

জারিফ এগিয়ে এসে নিচু গলায় বলে—
“বস… রাহা ম্যাম…”

শুনতেই অভ্র শুধু এক আঙুল তুলে মেয়েটির দিকে ইশারা করে।
পরক্ষণেই তার শরীরটা পুরো ভেঙে পড়ার মতো হয়ে যায়। জায়ান দ্রুত এসে তাকে ধরে ফেলে, না হলে সে পড়ে যেত।

অভ্রর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।
সামনে এগোতে গেলেও প্রতিবারই পা থেমে যায়, আবার পিছিয়ে আসে—যেন নিজের ওপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে।

জারিফ আঙুলের ইশারায় দ্বিতীয়বার মেয়েটির দিকে তাকাতেই সে শুকনো ঢোক গিলে ফেলে। তার পাশে জায়ানও একই প্রতিক্রিয়া দেখায়।
এদিকে জায়ান অভ্রকে ধরে রেখেছে, আর জারিফ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মেয়েটির দিকে।
কিছুটা দূরে পড়ে থাকা উড়নাটা চোখে পড়তেই সে আগে সেটি তুলে নেয়। এরপর অন্যদিকে ঘুরে খুব যত্ন করে মেয়েটির শরীর আড়াল করে দেয়।

হঠাৎ মেয়েটি চমকে ওঠে।  
মরুভূমিতে হঠাৎ বৃষ্টির মতো এক মুহূর্তের স্বস্তি যেন তার ভেতরে ছুঁয়ে যায়। ধীরে ধীরে সে মাথা ঘুরিয়ে তাকায় জারিফের দিকে।

মেয়েটির মুখটা চোখে পড়তেই জারিফ সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, কয়েক কদম পিছিয়ে যায়।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp