পবনপত্র - পর্ব ১৫ - তাসনুভা আহম্মদ - ধারাবাহিক গল্প

পবনপত্র
          মারুফ খন্দকার হাতঘড়ির দিকে তাকালেন। আড়াইটা বাজে প্রায়। উঠোনের দরজাটা একেবারে খোলা। রিপন কিছুক্ষণ আগেই এসেছে, এটা বুঝতে অসুবিধা হলো না। সে যখন আসে, সজোরে ধাক্কা দিয়েই দরজা খোলে। তারপর দরজা বন্ধ করার দরকার মনে করে না। মারুফ ভেতরে এসে প্রধান ফটকের ছিটকিনি লাগালেন। বাড়িটাকে অরক্ষিত দেখলেই তার মেয়েদুটির কথা মনে পড়ে।
আঙিনা পরিষ্কার। ঝাড়ু দেয়া হয়েছে সম্ভবত। ফুলের টবগুলোতেও আজ পানি দেয়া হয়েছে। মারুফ ফুরফুরে মেজাজে বারান্দার দরজাটা খুললেন। বড় মেয়ের পুরোনো জুতোজোড়ার দিকে তাকালেন। ছোট একটা শ্বাস ফেলে ভেতরে এলেন তিনি। আজকাল দোকানে যেতে একদমই ভালো লাগে না। ক্রেতার দেখা নেই, অযথা গরমের মধ্যে ঐ সংকীর্ণ কুঠুরিতে বসে থাকার কোনো মানে হয় না। সংসারটা তবু চলছে। কতোদিন এভাবে চলবে, কে জানে?

লোকটার শরীর যেন হঠাৎ বিদ্রোহ করতে শুরু করলো। মারুফ আজ স্ত্রীকে ডেকে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন না। সরাসরি ঘরে ঢুকলেন, খাটের এক কোণে গিয়ে বসলেন। কপাল ঘামছে দরদর করে। ফ্যান চালু করা হয়নি। তিনি উঠলেন না, খাটেই শুয়ে পড়লেন। একটু বিশ্রাম নিলে যদি ক্লান্তিটা কমে। আজ শক্তি নেই বলে তো জীবন থেমে থাকবে না। নানান কিছু ভাবতে ভাবতে মারুফ কখন যে ঘুমিয়ে পড়লেন, নিজেই টের পেলেন না।

রাবেয়া সবাইকে খেতে ডাকলেন, ঘরে ঢুকে ফ্যান চালু করলেন। বিছানার কাছে এসে দাঁড়ালেন তিনি। মারুফের ঘুম তখনও ভাঙেনি, একটা হাত গালের নিচে রাখা। ঘুমন্ত কর্তার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে রাবেয়ার যেন একটু করুণা হলো। লোকটাকে তিনি কখনোই সেভাবে বোঝার চেষ্টা করেননি। ফলে বুঝতেও পারেননি। এই বুঝতে না পারার সব দোষটুকুও তুলে দিয়েছেন স্বামীর ঘাড়ে।
মারুফেরও দোষ আছে। সমস্ত ব্যর্থতা আর অভাবের ভারগুলো তিনি একা একাই বয়ে নিয়ে বেড়ান। কারও সাথে ভাগাভাগি করেন না কখনোই। এমনকি স্ত্রীর সাথেও না। সব দুঃখের কথা তিনি আপন মানুষকে বলতে চান না। তার কাছে এটা দায়িত্ব মনে হলেও, রাবেয়ার কাছে এটাই দায়িত্বহীনতা।

কপালে হাতের স্পর্শ অনুভব করতেই মারুফ ধড়মড় করে উঠে বসলেন। রাবেয়া বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেন, “আরে, সাবধানে। আপনার শরীরটা কি খারাপ নাকি?”

মারুফ ধাতস্থ হতে কিছুটা সময় নিলেন। তখনই মার্জিয়া চৌকাঠে এসে দাঁড়ায়, “আব্বা?” তার মুখের হাসিটা একটু ম্লান হয়ে যায়, “আপনার কি খারাপ লাগছে? পানি এনে দেবো?”

“ছোট মা—” মারুফ কেশে গলা পরিষ্কার করলেন, “পানি লাগবে না। মাথাটা ব্যথা করছে—”

মার্জিয়া দ্রুত পা ফেলে তার আব্বার পাশে এসে দাঁড়ায়, “আজকে আর দোকানে যাওয়ার দরকার নাই আব্বা। ভাত খেয়ে একটু ঘুমান। আমি মাথা টিপে দেবো। যদি মাথার ব্যথাটা কমে, তবেই দোকানে যাবেন।"

“তোমার কী যেন একটা দরকার ছিলো, মা?”

“ক্যালকুলেটর। ওটা নিয়ে ভাবতে হবে না আব্বা। তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। আমি ব্যবস্থা করে নিয়েছি।”

কথাটা বলে মার্জিয়া মুখ ভোঁতা করে অন্যদিকে তাকায়। এই সামান্য একটা ক্যালকুলেটরের জন্য তাকে বারবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। সে মূলত এই খবরটা আব্বাকে জানাতেই এ ঘরে এসেছিলো। কিন্তু আব্বার এমন অবস্থা দেখে প্রসঙ্গটা তার কাছে ভীষণ নিষ্ঠুর মনে হলো। নিজের অপ্রস্তুত ভাব লুকিয়ে সে তাড়া দেখিয়ে বলে, “খেতে আসেন আব্বা, আজকে আমি মাছ ভেজেছি।”

রিপন গপাগপ ভাত গিলছে। দেখে মনে হচ্ছে, হয় ভীষণ তাড়ায় আছে, নয়তো তিনদিন ধরে কিছু খায়নি। রাবেয়া বাঁকা চোখে তার দিকে তাকালেন, “আস্তে খাও, গলায় আটকাবে।”

পানির গ্লাসে একবার চুমুক দিয়ে রিপন মারুফের উদ্দেশ্যে বলে, “দোকানের কী অবস্থা দুলাভাই? আপনি নাকি জুনায়েদকে ডেকেছেন কাজের জন্য। আমাকে বললেও পারতেন।”

মারুফ কেশে উঠলেন, তার চোখ দুটো লাল হয়ে এলো মুহূর্তেই। রাবেয়া পানির গ্লাসটা ব্যস্তভাবে এগিয়ে দিলেন, “আহা! পানি খান একটু।”

মাথা নিচু করে আবার খেতে শুরু করলেন মারুফ। খুব বিব্রতবোধ করলেন তিনি। তার শ্যালক খুবই চতুর, সর্বদা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। দোকান নিয়ে এই কথাটা সে আড়ালে বলতে পারতো, আলাদাভাবে প্রশ্ন করতে পারতো নাহয়। এভাবে খাওয়ার টেবিলে সবার সামনে তার এমন প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যটা কী? স্ত্রী কন্যাদের সামনে যেন তিনি হঠাৎ করেই খুব ছোট হয়ে গেলেন। বিষয়টা হয়তো এতোটা গুরুতর নয়। তবে মারুফ আর স্বাভাবিক হতে পারলেন না।
আব্বার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইলো মৌমিতা। খুব সহজভাবে একটা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে উঠলো, “আচ্ছা? এইদিকে যে জিলাপি পাওয়া যেতো। এখন আর পাওয়া যায় না?”

রিপন খেতে খেতে উত্তর দেয়, “যায় বোধহয়। দেখা লাগবে একবার।”

তারপর আর কেউ কোনো কথা বললো না। মার্জিয়া এঁটো হাতটা তুলে মুখের কাছে ধরলো, নখ কামড়াতে শুরু করলো। সে স্পষ্টভাবে বোঝেনি, কী হচ্ছে এখানে। তবু আঁচ করলো, যা হচ্ছে, তা মোটেও সুখকর নয়।

সামান্য একটা ব্যাপার থেকেই পরিস্থিতি ধোঁয়াটে হয়ে উঠেছে। লোকটার মাথার ব্যথা কমেছে কিনা, বোধগম্য হলো না কারও। তবুও তিনি খাওয়ার পরেই দোকানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। রাবেয়া বুঝলেন না, স্বামীকে কীভাবে আটকাবেন। এই শরীর নিয়ে তার দোকানে যাওয়াটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। রাবেয়া বিহ্বল হয়ে পড়লেন। কাজকর্ম ফেলে ঘরে গিয়ে বসে রইলেন।

মার্জিয়া নিজের ঘরে অস্থিরভাবে পায়চারি করছে। দাঁত দিয়ে নখ কাটছে এখনও। মৌমিতা ব্যাগটা ঘাড়ে নিয়ে বলে, “যাই এখন।”

“আজকে না গেলে হয় না?”

“উঁহু। যেতেই হবে। এমনিতেও এই চ্যাপ্টারটা খুব কঠিন।”

“এতো তাড়াতাড়ি যাবা? অনেক দেরি আছে তো এখনও।”

“এদিকে রিকশা পাওয়া যায় না। মোড় পর্যন্ত হাঁটতে হয়।”

“যাও তাহলে।”

মৌমিতা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ওড়না ঠিক করে নেয়। মার্জিয়ার চোখ আপার গতিবিধির দিকে স্থির হয়ে আছে, তবে মনটা বিক্ষিপ্ত। সে উদ্বিগ্ন হয়ে আপন মনে বলে, “দোকানের কাজের দায়িত্বে জুনায়েদ ভাইকে নেওয়া... ঠিক হয়নি। তাই না?”

মৌমিতা পেছনে ঘোরে। বোনের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়, শান্ত স্বরে বলে, “আব্বা কখনও কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?”

“নাহ!” মার্জিয়া জোরে জোরে মাথা নাড়লো। এবং সেই সঙ্গে তার মনে আরেকটা প্রশ্ন এলো। রিপন মামাকে বাদ দিয়ে আব্বা দায়িত্বটা জুনায়েদ ভাইকে দিয়েছেন। এর পেছনে কি কোনো বিশেষ কারণ থাকতে পারে?
মার্জিয়া নিজের এমন ভাবনায় খুব লজ্জিত হয়ে গেলো। মাথা থেকে সমস্ত কিছু ঝেড়ে সে জানালার দিকে পা বাড়ালো। ভাবতে গিয়ে হয়তো একটু বেশিই ভেবে ফেলছে সে!

আজকে টিউশন ক্লাসে এসে তামান্না একপ্রকার ফেঁসে গেছে। এমনিতে রবিউল স্যার বেশ রাগ দেখিয়েছেন তার উপর। তাছাড়া সে কিছু পড়ে আসেনি। কী কী পড়তে বলা হয়েছিলো, এটাও জেনে নেয়নি। সে গোমড়া মুখে বসে আঙুলের চারদিকে কলম ঘোরাচ্ছে। এতো ধীরে ধীরে সময় যাচ্ছে কেন—এটাও চিন্তার বিষয়।
তামান্না প্রতিজ্ঞা করেছে, আজই মৌমিতার খাতা দেখে লেখার শেষ দিন। এরপর থেকে সে যা-ই লিখবে, নিজে নিজে লিখবে। খাতা জমা দিয়ে দু'জনে চুপচাপ বসে রইলো। অন্য মেয়েগুলো তখনও নিচু স্বরে কথা বলছে।
তামান্না জানালার বাইরে তাকায়। একজন ঝালমুড়িওয়ালা ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তার একটু দূরেই একাদশ শ্রেণির কয়েকজন ছেলে আড্ডা দিচ্ছে। সরু চোখে সেদিকে খানিকক্ষণ চেয়ে রইলো মেয়েটা। তারপর মৌমিতার বাহুতে ঠেলা দিয়ে বললো, “ঐ ছেলেটার নাম যেন কী?”

তার দৃষ্টি অনুসরণ করে মৌমিতাও সেদিকে তাকায়, “কোন ছেলেটা?”

“ঐ যে, গালে টোল পড়ে। তোকে যে ঢিল মারলো সেদিন।”

মৌমিতা জানালা থেকে দৃষ্টি সরায়, গম্ভীরভাবে বলে, “ওর নাম বাঁদর।”

“কী নাম?”

“বাঁদর, বাঁদর! গাছে লটকে থাকে যে?”

“অ্যাঁ?”

“হ্যাঁ!”

তামান্না কথাটা বিশ্বাস করলো না ঠিকই, তবু বাদলের দিকে তাকিয়ে নাক সিঁটকে বললো, “এতো সুন্দর একটা ছেলের এমন উদ্ভট নাম?”

মৌমিতা ফিক করে হেসে ফেলে, “সুন্দর ছেলে?”

“ঐ না মানে, চেহারা তো খারাপ না। কিন্তু চালচলন বাঁদরের মতোই। ও সব লাফালাফিতেই থাকে। হাইজাম্প, লং জাম্প, সবখানে, দৌড়েও নাম দিয়েছে দেখলাম... এক মিনিট। ওর নাম বাদল না?”

“হুম।”

“তাহলে তুই বাঁদর বললি কেন?”

“নাম তো তুই জানিস, জিজ্ঞেস কেন করলি?”

তামান্না পেছনের বেঞ্চে হেলান দিয়ে বসে, হাত নেড়ে বলে, “আরে এদের নাম আমার মনেই থাকে না। এখন ভালোভাবে মনে থাকবে। বাঁদর থেকে বাদল, ভালোই হয়েছে!”

ছুটির পর তামান্নাই সবার আগে বেরিয়ে এলো। চেঁচামেচি করে রিকশা ডাকার পর অন্যজনের জন্য দাঁড়িয়ে রইলো। মৌমিতা দরজা পেরিয়ে একটু আড়ালে দাঁড়ায়, নিজেকে জোর করেই একটু ক্লান্ত দেখানোর চেষ্টা করে, “তামান্না? আজকে আমার জন্যেও রিকশা ঠিক করে দে তো। মাথা ঘুরছে।”

“তাই নাকি? এক কাজ কর, তুই এই রিকশায় যা। আমি আরেকটা ডাকি। নাকি আমিও যাবো তোর সাথে? পৌঁছে দিয়ে আসবো?”

“না না। লাগবে না।”

সে উঠতে বসতেই মধ্যবয়সী রিকশাওয়ালা হুট তুলে দিলেন। মৌমিতা আড়চোখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কাউকে দেখার চেষ্টা করলো। আজ তার এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো। রিকশা চলতে শুরু করলেই হু হু করে বাতাস লাগলো মেয়েটার গায়ে।
তামান্নাকে অন্তত একটা ধন্যবাদ জানানো উচিত ছিলো। মেয়েটা নিজের জন্য ঠিক করা রিকশাটা ছেড়ে দিলো। মৌমিতা একবার আপত্তিও জানালো না। খুব নির্লজ্জের মতো একটা কাজ হয়ে গেলো! নিজের কাজকর্ম তার একটুও ভালো লাগছে না ইদানিং। দিন দিন যেন আরও অসামাজিক হয়ে যাচ্ছে সে। তাছাড়া আরেকটা বিষয় নিয়েও খুব হীনমন্যতায় ভুগতে হচ্ছে। কলেজে বা টিউশন ক্লাসে বসেও মনটা অন্য কোথাও ছোটাছুটি করছে। তার মন বলছে, এটা খুব বড় ধরনের অধঃপতনের সূত্রপাত। এখনই লাগাম না টানলে ঝামেলা হয়ে যাবে। কিন্তু নিজেকে রক্ষা করার কোনো উপায়ই পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিজেকে আদৌ রক্ষা করতে চায় কিনা—এই ব্যাপারেও মেয়েটা সন্দিহান!

—————

ভাদ্র মাস যাই যাই করছে। নাটোরে যেন তবু আগুনঝরা উষ্ণ মৌসুম।
কলেজের চারপাশে বড় বড় গাছপালা। গাছের ডালে বসে থাকা পাখিগুলো তৃষ্ণার্ত গলায় ডাকাডাকি করছে।
আমজাদের শার্টের উপরের কয়েকটা বোতাম খোলা। হাতের পিঠ দিয়ে ঘর্মাক্ত মুখটা মুছে সে অফিস ভবনের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ফারুক আলি তার দিকে এক পলক তাকালেন, তারপর কয়েক পা এগিয়ে এলেন, “তোমার নাম আমজাদ?”

সে ফ্যাসফেসে কণ্ঠে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ স্যার।”

“তোমরা দোতলায় থাকো?”

“হ্যাঁ। আমাকে ডেকেছিলেন?”

“তোমাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। গত পরশু ছাদে যারা পিকনিক করেছে, তাদের সবাইকে জানিয়ে দিও।”

“কিন্তু স্যার, আমরা তো কিছু করি নাই। কিসের অভিযোগ এসেছে?”

“তোমরা ঢিল ছোঁড়াছুঁড়ি করেছো। মেয়েরা কমপ্লেইন করেছে।”

আমজাদ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কয়েকটা ছেলে এই অপরাধ করেছে ঠিকই। তবে এবার আমজাদরা এসবে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কোনোভাবেই সঙ্গ দেয়নি, এই কুকর্মে তাদের কোনো হাত নেই। সে আমতা আমতা করে বলে, “স্যার, আমরা তো কিছুই করিনি। ঐ কমার্সের—”

হাত উঁচু করে তাকে থামিয়ে দিলেন ফারুক আলি, “প্রমাণ আছে, যে তোমরা করোনি? এর আগেও কিন্তু অনেক নালিশ এসেছে। লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি। আবার যদি এমন কিছু হয়, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দিতে সময় লাগবে না।”

বাদল আর রাশেদ এখন ক্লাসে রয়েছে। তাদের শ্রেণিকক্ষের সামনে আনিসকে পেয়েই আমজাদ বলে উঠলো, “ঝামেলা হয়ে গেছে রে।”

আনিসকে একটু বিভ্রান্ত দেখায়, “কী হয়েছে?”

“ভেতরে চল, বলছি।”

বাদল লাইব্রেরিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আগের ক্লাসের বইগুলো টপাটপ ব্যাগে ঢুকিয়ে উঠে দাঁড়াতেই সে আমজাদকে দেখলো। সিনিয়র ছেলেটার শুকনো মুখ দেখেই ধারণা করা গেলো, আবার কিছু হয়েছে। বাদল তা না দেখার ভান করে। যেটাই হয়ে যাক না কেন, সে এখন লাইব্রেরিতে যাবেই! তাকে অমন নির্লিপ্তভাবে বেরিয়ে আসতে দেখে আমজাদ হাত টেনে ধরলো, “এই যে আরেক নবাব! এদিকে বন্যা হলো, না ঘূর্ণিঝড় হলো, সেটা নিয়ে তার চিন্তা নাই। উনি আছেন নিজের রঙ্গে।”

বাদল ভ্রু কুঁচকায়, “কোথায় বন্যা হলো?”

“বাল! এদিকে আয়, বলি...” আমজাদ বাদলের হাত ধরে টেনে রাশেদের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে, “পরশুদিন কমার্সের কয়েকটা হারামি গার্লস হোস্টেলে ঢিল মারলো। মনে আছে? ওটার অভিযোগ ওদের উপরে আসেনি, আমাদের উপরে এসেছে।”

বাদল অস্থির ভঙ্গিতে বলে, “মানে?”

“আমাদের নামেই কোনো বজ্জাত এসে কমপ্লেইন করেছে। কিন্তু আমরা তো ঢিল মারিনি। ফারুক স্যার বললো, এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং। এরপর টিসি দিয়ে বের করে দিবে।”

“সেটা আবার কেমন কথা? আমরা তো কিছু করি নাই।”

“এতোক্ষণ ধরে এটাই বলছি।”

রাশেদ একটু চিন্তা করে বলে, “কে কমপ্লেইন করলো?”

“আমি জানি না।”

“সুরাইয়া আপু করতে পারে।”

বাদল সজোরে মাথা দোলায়, “হ্যাঁ হ্যাঁ। সেদিন আমাকে বলেছিলো আমজাদ ভাইকে সতর্ক করতে, আবার নাকি কমপ্লেইন করবে।”

সুরাইয়াকে শ্রেণিকক্ষে পাওয়া গেলো না। টিফিনের বিরতি মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। সবখানে তন্ন তন্ন করে খুঁজে অবশেষে গাছতলার কাছাকাছি মেয়েটাকে হাঁটতে দেখা দেখলো ওরা। আমজাদ তার সামনে গিয়েই গর্জন করে বলে উঠলো, “আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ কেন করেছিস, শালী!”

সুরাইয়া অবাক হলো না, যেন এটারই অপেক্ষায় ছিলো। সে বরং আগুনে ঘি ঢালার চেষ্টা করলো, “মিথ্যা অভিযোগ কেন করতে যাবো? আর এবার আমি একা অভিযোগ করিনি।”

“তোর পুরো গোষ্ঠী মিলে করলেও এই অভিযোগ সত্যি হয়ে যাবে না। এখন বল, কমপ্লেইন তুলে নিবি কিনা?”

“আবেদনপত্র আমি দিইনি। যে দিয়েছে, তাকে বলে দেখো, পারলে।”

বাদল ধমকের সুরে বলে ওঠে, “নাটক বন্ধ করেন। আপনার মতো বেকার মানুষ খুব কমই আছে এখানে। এসব আজাইরা কাজ আপনি ছাড়া কেউ করবে না।”

রাশেদ এতোক্ষণ সব চুপচাপ দেখছিলো। বাদলের কথায় সে বিরক্ত হলো, “আহা! ভালো করে কথা বল। তোর বড় হয় না?”

বাদল তীব্র আক্ষেপ নিয়ে তার দিকে তাকায়। তবে সে আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই সুরাইয়া হেসে বললো, “আমার কথা বিশ্বাস না করলে তো কিছু করার নেই। দরখাস্ত যে দিয়েছে, তাকে বলে দেখো, তার যদি দয়া হয়—”

“কে দিয়েছে?”

সুরাইয়া তৎক্ষণাৎ কোনো জবাব দিলো না। শূন্য দৃষ্টিতে বাদলের দিকে তাকিয়ে ভাবলো কিছু একটা, তারপর বলে উঠলো, “তুমি যে মেয়েটার পেছনে ঘুরঘুর করো, সারাদিন খুঁজে বেড়াও! সে-ই দিয়েছে।”

বাদল থতমত খায়। এই ভরা ময়দানে, এতোগুলো মানুষের সামনে এমন একটা কথা বলে সুরাইয়া তাকে স্পষ্টতই অস্বস্তিতে ফেলেছে। সে তো কোনো মেয়ের পেছনে ঘুরঘুর করেনি। আর করলেও তা সুরাইয়ার জানার কথা না। কোনো মীমাংসা হওয়ার আগেই পরবর্তী ক্লাসের ঘণ্টা বেজে উঠলো, একটু বেশিই শ্রুতিকটু শোনালো সেটা। মেয়েটা চলে যাওয়া মাত্রই আমজাদ বাদলের দিকে চোখ ফেরায়, কটমট করে বলে, “ঘুরে উল্টে সব ঝামেলা তুই-ই করিস।”

বাদল তার কথা গায়ে মাখলো না। মস্তিষ্কে জোর দিয়ে অভিযোগকারিণীর পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করলো। তার মানসপটে ভেসে উঠলো পাথরের নাকফুল পরিহিত উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের সুশ্রী মুখখানি। লাইব্রেরিতে তার সাথে একতরফা ঝগড়া হয়েছিলো। তারপর আরও অনেককিছুই ঘটে গেছে একতরফাভাবেই। সেটার এতো বড় প্রতিদান দিলো মেয়েটা? বাদলের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে।

“আমজাদ ভাই? ছুটির পরে হলে যাবেন না আজকে। এখানে আসবেন।”

“কেন?”

“কাজ আছে।”

—————

বিজ্ঞান শাখার ব্যবহারিক ক্লাস ছিলো আজকেও। বরাবরের মতোই সবার শেষে বের হলো মৌমিতা। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারলে ভালো হয়। সে ভীষণ ক্লান্ত। বোতলের পানি অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তৃষ্ণায় গলা ফেটে চৌচির।
সে প্রাতিষ্ঠানিক ভবন ঘেঁষে ধীরপারে ফটকের দিকে হাঁটতে থাকে। কিছুদূর এগিয়ে যেতেই ছেলেদের জটলাটা তার চোখে পড়ে, রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে তারা। মৌমিতা আশেপাশটা ভালো করে দেখে নেয়, অতঃপর নিরুপায় হয়ে অস্বস্তি নিয়েই হাঁটতে থাকে। দলটার মাঝে বাদলকে দেখে সে। এতে যেন তার অস্বস্তিটাই ক্রমশ বেড়ে যায়। তাদের কাছাকাছি আসতেই মৌমিতা আঁচ করতে পারে, সামনে বিপদ; তার হাঁটার গতি কমে যায় আপনাআপনিই। ছেলেগুলো হঠাৎ পথরোধ করে দাঁড়ায়। মেয়েটা আর এগোয় না, কোনো এক অজানা আশঙ্কা তাকে পেছন থেকে টেনে ধরেছে। সে কিছু বলতে গেলেও শব্দগুলো গলায় আটকে যাচ্ছে।

সামনে এগিয়ে আসে বাদল, “আপনি কি আমাদের নামে কোনো অভিযোগ করেছেন?”

“ক... কিসের অভিযোগ?”

বাদল একটা লম্বা শ্বাস টেনে নিলো। কোনো কারণে তার হৃদযন্ত্রটা বক্ষপিঞ্জর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সে গলা খাঁকারি দেয়। মেয়েটার প্রতি যে তার একটা অপ্রতিরোধ্য দুর্বলতা আছে, পাছে তা প্রকাশ পায়, এই ভয়ে সে অহেতুক জোর দিয়ে কথা বলতে শুরু করে। যদিও তার কথাগুলো আশানুরূপ কর্কশ শোনালো না।

“পরশুদিন আমাদের ব্যাচের, ব্যবসায় শাখার কয়েকটা ছেলে ছাদ থেকে ঢিল ফেলেছে। আমরা কিছু করিনি। তবুও আমাদের বিরুদ্ধে কমপ্লেইন এসেছে। আমরা জানতে চাচ্ছি... ঐ দরখাস্ত কি আপনি দিয়েছেন?”

মৌমিতা সবার দিকেই একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নেয়। মুখ থেকে ভয়ের ছাপটা কেটে যাওয়ার কারণেই হয়তো তাকে একটু বেশিই অটল দেখালো, সে দ্বিতীয়বার না ভেবেই মাথা নেড়ে বলে, “হ্যাঁ। আমি দিয়েছি।”

অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাদল আশাহত হলো, “কেন দিলেন? যাচাই করবেন না একবারও?”

“তোমাদের দোষ নেই, সেটারই বা প্রমাণ কী?”

আমজাদ অধৈর্য হয়ে বলে উঠলো, “আরে আপনি যে প্রমাণ ছাড়া—”

বাদল হাত তুলে তাকে থামতে ইশারা করে, চোখজোড়া এখনও মেয়েটার মুখ থেকে সরেনি, “অভিযোগ দিয়েছেন, ভালো করেছেন। এখন তুলে নেন। লিখে দেন, অভিযোগ মিথ্যা। কাগজ, কলম যা লাগে, আমরা দিচ্ছি...”

বাদল ঘুরে আনিসের হাত থেকে কাগজটা নিলো। সুযোগ পেয়ে মৌমিতা ক্ষিপ্রগতিতে হিসেব কষতে থাকে। পেছনের দিকে একটা মেয়েদের দল হলের দিকে যাচ্ছে। কোনোমতে ওদের মধ্যে ঢুকে পড়তে পারলেই সে মোটামুটি বিপদমুক্ত। আর অপেক্ষা করলো না সে, দ্রুত পেছনে ঘুরে হাঁটতে গেলেই বাদল দৃঢ় হাতে তার ব্যাগটা টেনে ধরলো। মৌমিতা রাগে ফেটে পড়লো এবার, “আমার ব্যাগে হাত দিবা না।”

“তাহলে কোথায় হাত দিবো?”

বাদলের এই চরম ইঙ্গিতপূর্ণ অসৌজন্যতায় সে স্তব্ধ হয়ে গেলো। পেছনে থাকা কয়েকটা ছেলে হেসে উঠলো, রাশেদ বাদে। তাদের হাসির আওয়াজ যেন মেয়েটার দমিয়ে রাখা অশ্রুকে আরও উস্কে দিলো। কিন্তু সে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, মুখ দেখে তার ভেতরের অবস্থা বোঝার উপায় নেই।
বাদল খানিকক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। মেয়েটার অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার এই দৃশ্যটা তাকে আনন্দ দিলো না, করুণার উদ্রেকও ঘটালো না। সে কেবল কাগজটা এগিয়ে দিয়ে তুলনামূলক নরম স্বরে বললো, “এটা নেন। এখানে লিখে দেন।”

মৌমিতা টের পেলো, তার চিন্তাশক্তি লোপ পাচ্ছে। ঠিকমতো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সে। যদি আপত্তি জানায়, বাদল আবার বাজে কথা বলতে পারে; চলে যেতে চাইলে সত্যিই যদি এবার ব্যাগ না ধরে তাকেই স্পর্শ করে? মৌমিতা কাঁপা হাতে সাদা কাগজটা নেয়।
ওদিকে ভিড় দেখে, পুরোনো ভবনের বারান্দা থেকে ফারুক আলি ডেকে উঠলেন, “তোমরা কী করো ওখানে?”

আমজাদ স্যারের দিকে একবার তাকিয়ে বাদলের উদ্দেশ্যে বলে, “বাদল? আয়, স্যারকে বলে আসি অভিযোগটা ভুয়া ছিলো।”

“আপনি যান, আমি আসছি।” বাদল আবার মুখ ঘুরিয়ে মেয়েটাকে বললো, “একটাই কাগজ। কোনো খসড়া করার সুযোগ পাবেন না। চালাকি করার চেষ্টা করবেন না। রাশেদ, তুই চেক করে দেখবি, সব ঠিকঠাক লিখেছে কিনা।”

রাশেদ হ্যাঁ-না কিছুই বললো না। বাদল চলে গেলো আমজাদের সাথে। মৌমিতার হাত কাঁপছে এখনও, আতঙ্কে নয়, ক্রোধে। সে গমনোদ্যত বাদলের দিকে তাকায়, মনে মনে বলে, “শয়তান! আস্ত শয়তান একটা। আল্লাহর লানত পড়ুক তোর উপর।”

রাশেদ মাথা নিচু করে এগিয়ে এলো তার দিকে, হতাশার সুরে বললো, “বাদলের তরফ থেকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি আপু। ওর কাণ্ডজ্ঞান বলতে কিছুই নেই। মেজাজ খারাপ হয়ে গেলে ও নিজেই বোঝে না কাকে কী বলে ফেলছে—”

মেয়েটা তার কথায় কোনো আগ্রহ দেখালো না। ব্যাগ থেকে কলম বের করে গাছতলায় গিয়ে বসলো। ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে একাকার। তবু তার বাম হাতটা দ্রুতগতিতে চলতে লাগলো কাগজের উপর। আজ যা ঘটছে, তা আরও আগে ঘটলে ভালো হতো। এই ঘৃণাটা অনেক আগে থেকেই ছেলেটার প্রাপ্য।
মৌমিতা আর কখনোই তার সামনে আসবে না, এতোটা নির্লজ্জ সে নয়। তার মধ্যে যদি ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থেকে থাকে, সে কখনোই ঘুরে তাকাবে না ছেলেটার দিকে। বড়সড় একটা শিক্ষা হয়ে গেছে।
রাশেদ পাশে দাঁড়িয়ে নিচুস্বরে বললো, “লেখা শেষ হলেই চলে যান, আপু। আর কিছু নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি... দুঃখিত।”

ছেলেটা মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়ে রইলো। মৌমিতা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করলো না। কাগজটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়েই হনহন করে বেরিয়ে পড়লো। ফটকের দিকে এখনও ছোটখাটো ভিড়। কথাবার্তা আর হাসির আওয়াজ ভেসে আসছে। মেয়েটা সেই লোকারণ্যে হারিয়ে গেলো চোখের পলকে।

বাদল দৌড়ে এসে এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করে কাউকে খোঁজে, রাশেদকে প্রশ্ন করে, “মেয়েটা কই গেলো?”

“চলে গেছে।”

“চলে গেছে মানে? গাধা! দরখাস্ত কি আমরা জমা দেবো? ওনাকে দিয়েই পাঠানো লাগতো। আমরা দিলে কোনোই লাভ হবে না।”

রাশেদ নিরুত্তর। বাদল খুব বিরক্ত হয়ে তার হাত থেকে কাগজটা কেড়ে নিলো। ভ্রু কুঁচকে তা পড়তে যেতেই একটা বড়সড় ধাক্কা অনুভব করলো সে। হাতের লেখাটা তার ভীষণ পরিচিত। মেয়েটা আবেদনপত্রে যা লিখেছে, তার ঠিক-ভুল নির্ধারণ করার অবস্থা আর রইলো না বাদলের। সবকিছু ঘোরের মতো ঠেকলো হঠাৎ, হাঁসফাস লাগলো।
রাশেদ জিজ্ঞেস করলো, “বাদল? কী হলো?”

বাদল অন্যমনস্কভাবে কাগজটা তার হাতে ফিরিয়ে দেয়, অসহায়ের মতো ঘুরে তাকায় প্রধান ফটকের দিকে। মেয়েটা কি চলে গেছে? সে ধীরপায়ে এগিয়ে যেতে শুরু করলো সেদিকে।
এতোদিন ধরে যে মানুষটার প্রতি অবচেতনে টান অনুভব করলেও সজ্ঞানে তা অস্বীকার করেছে, আজ তাকে নতুন করে দেখতে ইচ্ছে করলো। অবচেতন মনের অনুভূতিগুলোকে সচেতনভাবে অনুভব করতে ইচ্ছে করলো। সেগুলোকে অন্তত মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিতে হবে না আর।
মৌমিতা খন্দকারের সামনে সে এই মুখ নিয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কিছুক্ষণ আগের উদ্ধত আচরণের স্মরণ করে মাটির সাথে মিশে যেতে কথা ইচ্ছে করছে। তবুও সে থামলো না। তাকে পছন্দ অপছন্দের তীব্র দোলাচলে ফেলে দেওয়া মেয়েটাই মৌমিতা খন্দকার। কেন আরও আগে বুঝলো না সে? এতো বড় অঘটন হয়ে যাওয়ার পরই কেন এই সত্যটা সামনে এলো?

রাশেদ বুঝলো না ব্যাপারটা। দরখাস্তে তাদের বিরুদ্ধে মেয়েটা কিচ্ছু লেখেনি। বেশ ভালোভাবেই ভুল স্বীকার করেছে। বাদলের এই উদ্ভট প্রতিক্রিয়ার কোনো অর্থ খুঁজে পেলো না সে। তবে সেই আবেদনপত্র নতুন করে পড়তে গিয়ে রাশেদও ধাক্কাটা টের পেলো।

নিবেদিকা,
আপনার একান্ত অনুগত
দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের পক্ষ হতে
মৌমিতা খন্দকার
বিজ্ঞান বিভাগ, শাখা: খ, রোল: ১৪
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp