মেঘবন - পর্ব ২৯ - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা - ধারাবাহিক গল্প

মেঘবন - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা
          স্বপন হায়দার। অত্যন্ত গরিব ঘরের বখে যাওয়া বেপরোয়া ছেলে। কলেজে বড়ো কপাল করে দুটো বন্ধু জুটিয়েছিল সে। ইমন, আদনান। টাকা-পয়সা কিংবা যশ! যাদের কিচ্ছুটির অভাব নেই। আর স্বপন? ওদের সামনে নিজেকে বড্ড ছোট মনে হতো তার। তুচ্ছ, নগন্য কিছু। আর্থিক হিং সায় একটা চাপা আক্রো শও বোধকরি ছিল।

ইমন, তাদের বন্ধুদের মধ্যে সবচে' ধনী পরিবারের দুলাল। তাদের এলাকারই একটা মেয়েকে পছন্দ করে ফেলে। মনে মনে স্বপনও ঠিক ওই মেয়েটিকেই পছন্দ করতো। রজনী নাম। নামের মতোই রাত্রি আকাশের অপার্থিক একটা সৌন্দর্য গোলগাল মুখে স্পষ্টতই বিরাজ করতো। এত মিষ্টি! এত স্নিগ্ধ! অথচ, সেবেলা রজনীকে স্বপনের পাওয়া হলো না। শুনেছে, ইমন না-কি রজনীকে পালিয়ে নিয়ে পতি তালয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। আহ! আফসোস! বিক্রি করার আগে একবার স্বপনকে একদিনের জন্য দিয়ে দিলে কি হতো? ইমনটা আসলে ভীষণ বোকা।

পুরোনো আফসোস ততদিনে মিইয়ে যেতে শুরু করেছে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে উল্টাতে ধরিত্রীর নিয়ম-শৃঙ্খলা পালটে গেছে একটু তাড়াহুড়ো নিয়েই। কেটে গেছে দশটি বছর। ইমন ততদিনে পারিবারিক সূত্রে রাজনৈতিক জাঁতাকলে পিষে একাকার। আদনানের নিজস্ব ব্যবসা আছে। বন্ধুদের মাঝে একমাত্র স্বপনই পিছিয়ে রইলো। সামান্য কেয়ারটেকারের চাকরি করে সে। দশ হাজারের বেতনের সংসারে বউ-বাচ্চার খায়েশ মেটে না। ইমন কৌতুকের সুরে একদিন বললো, ‘আমার পিয়নের কাজ করবি? ভালো পয়সা দিমু।’

শুনে আদনানের কি বেজায় হাসি! পেটে হাত চেপে খিকখিক হেসে উঠলো সে। অপমানে, ক্রোধে স্বপনের চোখে জল চলে এলো। পকেটে তখন শুধুমাত্র পঞ্চাশ টাকা। মাস শেষ হতে আরও পনেরোদিন বাকি। ওদিকে ঘরে বউ বাজারের আশায় বসে আছে। বাচ্চাটা বার্বিডলের আবদারে গাল ফুলিয়ে রেখেছে। মুখ থমথমে করে নিগূঢ় প্রশ্বাস ফেলে সে জানাল, ‘আমারে এডফান্স পাঁচ হাজার দিতে হইবো।’

খিকখিক হাসির বিচ্ছিরি ধ্বনি কানে তালা লাগিয়ে দিলো। সিগারেটের এঁটো ধোঁয়া স্বপনের মুখে ছেড়ে এক হাজারের পাঁচটা নোট স্বপনের হাতে গুঁজে দিলো ইমন। স্বপন টাকাগুলো দিকে তাকিয়ে রইলো প্রায় অনেক্ষণ। স্থির, স্থবির নয়নে। সময় নিয়ে প্রশ্ন করলো, ‘এহন যেহানে কাজ করি, দশ হাজার দেয়। তুই বেতন কতো দিবি?’

ইমন আগের ন্যায়ই সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে বললো, ‘ত্রিশ হইবো?’

বিস্ময়ে হতবাক হলো স্বপন, ‘সামান্য পিয়নের চাকরি ত্রিশ হাজার?’

‘শুধু পিয়ন না, আমার গুপ্ত কর্মচারী হইতে হইবো তোরে। এহন যেইহানে কাজ করতেছোত, থাউক। আমার তোরে মাঝে মাঝে লাগবো। তহন আইবি।’
স্বপনের উত্তেজনায় হাত কাঁপলো। কাঁপা হাত দুটো জড়োসড়ো করে মাটির দিকে চেয়ে রইলো সে। 

দিনগুলো কেমন ট্রেনের গতিতে ছুটতে লাগলো। কখনো-বা সোনালী রোদ্দুরের ন্যায় ধীরে ধীরে। স্বপনের সুখ, শান্তির শেষ ছিল না। ইমন তেমন কাজ দেয় না তাকে। মাসে একটিবার তার ডাক পরে। কিছু অনৈতিক সরঞ্জাম এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যেতে হয়। একবার ঢাকার এক জরাজীর্ণ বস্তি থেকে কিসব পাঁচার করার জন্য নিতে এসেছিল স্বপন। সেখানেই, সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে একটা চেনা, ভীষণ পরিচিত মুখ দেখে থমকে গিয়েছিল সে। রজনী! রজনী না মেয়েটার নাম? ইমনের প্রাক্তন?

দপ করে পুরোনো আফসোস যেন আবারও প্রজ্জ্বলিত শিখার ন্যায় দাউদাউ করে জ্বলতে লাগলো। মনে বাসনা জাগলো, এবার রজনীকে পেতেই হবে। ইমনকে এবিষয়ে কিচ্ছুটি জানালো না স্বপন। রজনীকে পাওয়ার নেশায় প্রায় অন্ধ হয়ে গেল। রোজ রোজ ফুল আনা, বয়স পঁয়ত্রিশের কোঠায় পৌঁছুলেও তগবগে যুবকের মতোন আহ্লাদ করা, মিছে মায়া-করুণা দেখানো! রজনী তখন ভঙ্গুর নদীর নৌকা। স্বপন ভরসার হাত পাততেই দেড়ি করেনি, শক্ত করে ধরেছে। 

—————

ফুলে সসজ্জিত চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর। তেজস্ক্রিয় ঘ্রাণ চারিদিকে ম ম করছে। নতুন বউ আনার খুশিতে একটু আগেও পুরো বিল্ডিং জুড়ে হইহট্টগোল লেগে থাকলেও এখন সব শান্ত, নিবিড়। টুকটুকে বউ সাজে মেরিন চিলেকোঠার মধ্যিখানে এসে দাঁড়ালো। নির্লিপ্ত চোখে আশপাশটা পরখ করে তারফানকে বললো, ‘ফুলের ঘ্রাণে কষ্ট হচ্ছে না আপনার? মানা করেননি কেন ওদের সাজাতে?’

নির্বিকার, নির্জীব কণ্ঠস্বর। যেন কিচ্ছুটি হয়নি। কিচ্ছু না। তারফান জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। চিলেকোঠার দরজায় ঠেশ দিয়ে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেকে শক্তিশূন্য মনে হলো তার। হতবাক হয়ে দেখলো, বিছানায় সাজানো ফুলগুলো মেরিন ঝেড়ে ফেলেছে। টাঙিয়ে রাখাগুলো ছিঁড়ে ফেলছে। তারফান ঢোক গিললো। কণ্ঠ নড়বড়ে হলো, ‘আমার ওপর চিৎকার করতে পারো, মেরিন। রেগে থাকলে রাগ দেখাতে পারো।’

ফুল ছিঁড়তে গিয়ে হাত থমকালো মেরিনের। লম্বা, শীর্ণ নিশ্বাস ফেলে বললো, ‘রাগ কেন দেখাবো? আপনি আমায় ভালোবাসেন? যে আমায় ভালোবাসে না, তাকে আমি আমার রাগ দেখিয়ে কি করবো?’

এক কদম কাছে এগোলো তারফান। পাঞ্জাবির কলারটা গলায় বিঁধছে। অসহ্য লাগছে। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিঁজিয়ে বললো, ‘বাসি! ভালোবাসি তো মেরিন।’

‘মিথ্যুক!’ 

বলতে বলতে যেন হেসে ফেললো মেরিন। তারফানের দিকে ফিরে তাকালো, চোখে চোখ রাখলো। টইটুম্বুর চোখে হাজারটা অভিযোগ-অভিমান মিশিয়ে বললো, ‘আমি ভেবেছিলাম আপনি সত্যি আমাকে ভালোবাসেন। অথচ... তারফান! মিথ্যে বলতে মানা করেছিলাম আপনাকে।’

তারফান অস্ফুট আওয়াজ তুললো, ‘বলতে চাইনি। বাধ্য ছিলাম মেরিন। প্রতিশোধটা নেওয়া জরুরি ছিল।’

‘কিসের প্রতিশোধ? আমাকে নিয়ে আপনার কিসের প্রতিশোধ?’ একটু জিরিয়ে থেমে থেমে শ্বাস ফেললো মেরিন, ‘আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল। বিয়ে করতে এত উতলা হয়ে যাওয়া, এত তাড়াহুড়োয় বিয়ে করা, বারবার কেয়ারটেকারের কথা জিজ্ঞেস করা! কি বোকা আমি! কেয়ারটেকারকে আপনার চেনার কথা না। তবুও বারবার বিয়েতে কেয়ারটেকারকে দাওয়াত দেওয়ার কথা জিজ্ঞেস করছিলেন আপনি। এইজন্যই?’

অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস করে উঠলো তারফান। শরীর কাঁপছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কাছে এগিয়ে মেরিনকে ছুঁতে নিলেই মেরিন কদম পেঁছালো। হাওয়ায় ভেসে হাতটা ছুঁড়ে পরলো নিচে। মেরিনকে ছুঁতে পারলো না। 
মেরিন তখন খুব হীনমন্য ভাবে কাঁদছে। বারিধারার দুর্দম অশ্রুগুলো টুপটাপ গাল ভিঁজিয়ে দিচ্ছে তার। করুণ এক মিহি সুর বেদনা জানিয়ে বলছে, ‘কষ্ট পাচ্ছি! ভীষণ, ভীষণ, ভীষণ কষ্টে আমি মূর্ছা যাচ্ছি।’

তারফান হাঁপালো। হাঁটু ভেঙ্গে আচমকাই বসে পরলো মেরিনের সামনে। হাত দুটো আগাতে গিয়ে বুঝলো, অস্বাভাবিক কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতেই মেরিনের মোলায়েম হাতজোড়া নিজের হাতের মুঠোয় জড়ো করলো সে। কপাল ঠেকালো হাতের পিঠে। দ্রুত নিশ্বাসে বুক উঠা-নামা করছে। কণ্ঠ গলিয়ে শব্দ বেড়োতেও যেন কত ভয়! কত শঙ্কা!
কপাল গড়িয়ে সূক্ষ্ণ ঘামকণা বেয়ে পরলো। ইতোমধ্যে ঘর্মাক্ত শরীর জড়ানো পাঞ্জাবি ভিঁজে গেছে। নিজেকে খুব অসহায় মনে হলো তারফানের, ‘আমি, আমি সত্যি তোমায় ভালোবাসি মেরিন। আমার ভালোবাসা মিথ্যা না।’

মেরিন কান্না থামানোর চেষ্টা করলো। ফিরেও তাকালো না তারফানের দিকে। হাতও ছাড়াবার প্রয়াশ করলো না। ধীর স্বরে কেবল জানতে চাইলো, ‘কি উদ্দেশ্যে বিয়ে করেছেন?’

‘কোনো উদ্দেশ্য নেই।’

‘মিথ্যে কথা বলবেন না। আগে আমাকে বিয়ে করতে চাননি। নিজেই বিয়েতে মানা করেছিলেন। এরপর কি হলো? কিসের প্রতিশোধ আপনার যেখানে আমি আছি?’

খুব নম্রতার সঙ্গে একটা দৃঢ় ঢোক গিললো তারফান। চোখ মুদে কপাল ঘঁষলো মেরিনের হাতের পিঠে। কথা বলতে গিয়ে বারবার আটকালো, ‘ইমন তালুকদার, আমার মায়ের প্রাক্তন। ওই লোক মায়ের সুযোগ নিয়ে পতি..পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। আমাদের কোনো জন্ম পরিচিয় নেই মেরিন। আমরা জারজ। মা আমাদেরকে পতিতালয় থেকে পালিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। সেখানেই তোমাদের কেয়ারটেকারের সঙ্গে মায়ের দেখা, পরিচয়। ওই লোক মাকে মিথ্যে বিয়ে করে একটা ভুল জগতে রেখেছিল। আমার মায়ের মুখে যেটুকু হাসি ছিল, সব ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া শান্তি পেতাম না মেরিন।’

মাথা ঝুঁকিয়ে রাখা তারফানের দিকে ঝাপসা চোখে তাকালো মেরিন। সদ্য কান্না শেষে ভাঙ্গা গলায় শুধালো, ‘এটুকুই?’

‘হু?’ মাথা তুলে মেরিনের দিকে অবিশ্বাস্য চোখে তাকালো তারফান। মেরিন বললো, ‘এতটুকু একটা কথা বলতে আপনার কিসের জড়তা ছিল তারফান? আমাকে বললে আমি কি বুঝতাম না?’

তারফান মনে মনে আওড়ায়, ‘বুঝতে না। কেউ বুঝেনি।’ 

তারফান থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো মেরিন। মনের দ্বন্দে কলুষিত হলো। এত এত চাপ বুঝি একসাথে নেওয়া যায়? জানালার বাহিরে নিরুদ্দেশ দৃষ্টি ফেলে মেরিন কেমন ঘোর কণ্ঠে আবদার করলো, ‘আমাকে একটু একা থাকতে দিবেন, তারফান?’

তারফান দিলো। নড়বড়ে পায়ে চিলেকোঠা ছেড়ে মেরিনের শখের বাগানের কাছটায় এসে বসলো। অনেক্ষণ ধরে নাক চুলকাচ্ছে। ফুলের ঘ্রাণে মাথায় ঝং ধরে গেছে সেই প্রথম থেকে। তারফান দম আটকে রাখলো কিছুক্ষণ। আকাশপানে বার কয়েক পলক ফেলে তাকালো। শত শত তারাদের মেলা বসেছে আজ। শুভ্র সাদা, ঘোলাটে হলুদ। চেয়ে থাকতে থাকতে তারফান ময়লা মাখানো ছাদের মেঝেতেই শুয়ে পরে, চোখ মুদে। ঠিক তক্ষুনি তরুণ বাতাস এসে তাচ্ছিল্য জানায়, ‘হায় যুবক! তুমি কি আজীবন অবুঝই রয়ে যাবে? জিতে গিয়েও হেরে যাবে?’

ঠিক কবে থেকে প্রতিশোধের আগুনে ডুবে ছিল তারফান? মনে নেই। কখনো মনে করা হয়নি। স্বপনকে খুঁজতে খুঁজতেই একদিন জেনেছিল, ইমনের বন্ধু সে। ইমনের কাজ-কারবার টুকটাক দেখে। সেই সুবাদে মাঝে মাঝে লুকিয়ে থাকা লাগে তার। পুলিশের ভয়ে, ধরা পরে যাওয়ার আশঙ্কায়। তারফান তখন ইমনকে ধাওরা করতে লাগলো। সূক্ষ্ণ থেকে সূক্ষ্ণ মানুষদের ধরে এনে টিনের বদ্ধ ঘরে নির্যা তনের মতোন পাশ বিক আচরণ করতে লাগলো। 
তারপর একদিন বিশিষ্ট সাংবাদিক আল-ফয়সাল হাকিম তারফানের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। কাকতালীয় ভাবে তার মৃ ত্যুর কিছু দিন আগেই। স্ত্রীর কারণে বোন সমতুল্য রজনীকে একা ফেলে যাওয়ায় অপরাধ বোধে ভুগছিলেন তিনি। অপরাধবোধ থেকেই সুমনের সম্বন্ধ্যে কিছু তথ্য জোগাড় করেছিলেন। কোত্থেকে, কিভাবে— তারফান জানে না। জিজ্ঞেস করার সুযোগ হয়নি। 

মেরিনকে তারফান যখন প্রথম দেখেছিল? একটা চঞ্চল হরিণী ছাড়া কিচ্ছু মনে হয়নি। রমণীর চঞ্চলতা, আটপৌরে জেদ দেখেই প্রেমে পড়েছিল সে। আগে-পরে আর কোনো কিছু জানা ছিল না। পরে আস্তে আস্তে জানতে পারলো, স্বপন মেরিনের চাচার বাড়িতেই কেয়ারটেকার ছিল। বউ-বাচ্চা নিয়ে দীর্ঘদিন সেখানে থেকেছে। অথচ জানতে বড়ো দেড়ি হয়ে গিয়েছিল। ততদিনে মেরিনের বড়ো চাচা দেশে আসায় বউ-বাচ্চা নিয়েই পালিয়েছে স্বপন। 
তারফান ভেবেছিল, স্বপনকে খুঁজলেই সে পেয়ে যাবে। এতদিনের অপেক্ষা, চাইলেই ধরতে পারা শিকারের হুট করে পালিয়ে যাওয়া তারফানকে তেমন ঘাটায়নি। দেশে ইমনের অবস্থা খারাপ। একের পর এক কালো কারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ সময় প্রাণ বাঁচিয়ে গা ঢাকা কে না দেয়? তারফান তাই প্রথমে নিজের বিভীষিকা জীবনের সঙ্গে মেরিনকে জড়াতে চায়নি। বিয়েতে মানা করে দিয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো তখন, যখন স্বপনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ধুরন্ধর ইঁদুরের মতোন মাটির গভীরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে ছিল সে। 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp