ক্লাস শেষ হতেই রাহা আস্তে আস্তে অফিস রুমের দিকে এগোতে লাগলো। দরজার সামনে এসে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে শ্বাস নিয়ে নক করলে,
ভেতর থেকে ঠান্ডা স্বরে আওয়াজ এল—“কাম ইন।”
আলতো পায়ে ভেতরে ঢুকতেই রাহা দেখল—মাহাদী পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে। দুই আঙুল ঠোঁটে চেপে, কনুই টেবিলে ঠেকিয়ে হালকা ঝুঁকে আছে। মুখে চাপা এক ধরনের হাসি, চোখ দুটো স্থিরভাবে রাহার দিকেই আটকে আছে। মনে হচ্ছিল এতক্ষণ সে রাহার আসার জন্যই অপেক্ষা করছিল।
মাহাদীর হাসি মুখ দেখেই রাহা রাগে ফুঁসে ওঠে। নাকের পাটা ফুলে বোম হয়ে যায়।
“এদিকে আসো।”
টেবিলের কাছে পৌঁছাতেই মাহাদী ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসল। চোখের দৃষ্টি একটুও সরাল না, বরং আরও স্থির হয়ে রইল রাহার ওপর।
ফট করে দুই হাত দু’দিকে টানটান করে মেলে দিয়ে পরক্ষণেই মাথার পেছনে দুই হাত ভাজ করে রেখে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল, আর নিজের শুভ্র পরির দিকে ভ্রুকুঞ্চিত করে মোহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে।
এদিকে রাহা ভেতরে ভেতরে রাগে জ্বলছে। সেই ক্ষোভের আভাসটা মাহাদীও কিছুটা টের পাচ্ছে।
মাহাদী হঠাৎই মাথা ঝাঁকিয়ে উঠে দাঁড়াল। চেয়ারে হালকা ভর দিয়ে কয়েক পা এগিয়ে এসে রাহার একেবারে কাছে দাঁড়াতেই রাহা অস্বস্তিতে সামান্য পিছিয়ে গেল।
মাহাদীর এই আচরণ রাহার একদমই ভালো লাগছে না। এমনিতেই আজ সবার সামনে অপমানিত হয়ে সে ক্ষুব্ধ—তার ওপর আবার অফিসে ডেকে এনে এই অদ্ভুত ব্যবহার!
রাহার ইচ্ছে হচ্ছে টেবিলের ওপর রাখা পেপারওয়েটটা তুলে তার মাথায় ছুড়ে মারতে। স্যার বলে বেঁচে গেলো! তবুও—এই অপমানের জবাব তাকে দিতেই হবে।
রাহা ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইল। বিরক্তি যেন মুখে স্পষ্ট।
—“ডেকেছেন কেন?”
মাহাদী ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,
—“এত রাগ দেখাচ্ছো কেন? আমি কি কিছু করেছি?”
রাহা চোখ সরিয়ে নিল, যেন তার দিকে তাকাতেই বিরক্ত লাগছে।
মনে মনে বলল, সবার সামনে অপমান করে এখন বলে কিছু করেননি..!
মুখ ভেংচি কেটে বলল—
—“যেটা বলার, তাড়াতাড়ি বলুন। আমার কাজ আছে।”
মাহাদী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল, যেন রাহার প্রতিটা অভিব্যক্তি পড়ার চেষ্টা করছে। তারপর ধীরে বলে উঠল—
—“তোমার সাথে একটু কথা ছিল পার্সোনাল।”
রাহা সাথে সাথে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
—“পার্সোনাল? আমার সাথে আপনার এমন কোনো সম্পর্ক নেই যে পার্সোনাল কিছু বলবেন।”
মাহাদীর ঠোঁটে আবার সেই চাপা হাসি ফুটে উঠল।
—“সম্পর্ক তৈরি হতেও তো সময় লাগে, রাহা।”
রাহার ভেতরের রাগটা যেন আরও চড়ল।
—“দেখুন, এসব কথা বলার জন্য আমাকে ডাকা হলে আমি কিন্তু যাচ্ছি।”
সে ঘুরে দাঁড়াতেই মাহাদীর কণ্ঠটা একটু কঠিন হয়ে উঠল—
—“স্টপ, রাহা।”
রাহা থেমে গেল ঠিকই, কিন্তু ফিরে তাকাল না। অফিস রুমে ভেতরের বাতাসটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।
মাহাদী নিঃশ্বাস ফেলে বলল—
—“সবার সামনে তোমাকে ওইভাবে বলা ঠিক হয়নি। আমি দুঃখিত।”
রাহার ঠোঁট কেঁপে উঠল, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল। চোখ দুটো ঠান্ডা হয়ে গেল মুহূর্তেই।
—“কিন্তু বলেছেন তো। আপনি দুঃখিত হলেই কি আমার অপমানটা মুছে যাবে? আপনি আপনার কাজ করেছেন, আমি আমারটা করব। এর বেশি কিছু দরকার নেই।”
রাহার নিকটে আসতেই তার শরীর থেকে ভেসে আসা হালকা সুগন্ধ পেয়ে মাহাদীর এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করে ফেলল, তার মাতাল মাতাল লাগছে। যেন সেই ঘ্রাণটা অনুভব করতে চাইছে। মন ভরে শুষে নিচ্ছে সেই মাতাল করা ঘ্রাণ।
তার মনে হচ্ছে এই ঘ্রাণের কাছে অন্য কোনো ঘ্রাণ নিছকই মূল্যহীন। যেটা টাকা দিয়েও পাওয়া যাবে না।
মাহাদীর ঘোর কাটে পানির স্পর্শে। হঠাৎ করেই তার মুখে পানির ছিটা লাগতেই সে চমকে চোখ মেলে তাকায়।
আসলে পানিটা এসেছে রাহার দিক থেকে। টেবিলে গ্লাস ভর্তি পানি দেখে তার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি আসে।
ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে পানি নিয়ে সে ছুড়ে দেয় মাহাদীর দিকে, তারপর কাশতে শুরু করে—যেন বোঝাতে পারে সে হঠাৎ বিষম খেয়েছে।
রাহাকে কাশতে দেখে মাহাদী অস্থির হয়ে পড়ে। মুখের পানিটুকু মুছতেও ভুলে যায়। দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে ধরতে চাইলে একটু সরে গিয়ে আগেই চেয়ারে বসে পড়ে আর ইচ্ছে করেই কাশতে থাকে।
মাহাদীর দিকে তাকালেই তার হাসি চেপে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল তাই অন্যদিক তাকিয়ে আছে।
কাশি কমিয়ে রাহা কিছুটা দ্বিধা নিয়ে বলল—
—“স..সরি স্যার। আমি বুঝতে পারিনি।”
মাহাদী শান্তভাবে বলল—
—“ইটস ওকে, রাহা। কোনো সমস্যা নেই। এটা স্বাভাবিক।”
বলেই মাহাদী পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখ মুছতে লাগল।
এই ফাঁকে রাহা মিটিমিটি হাসছে। মাহাদী রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে সেই হাসিটা এক ঝলক দেখে ফেলল—তার ‘শুভ্রপরি’র ছোট্ট ভণ্ডামিটা যেন ধরা পড়ে গেল। তবে সে কিছু বলল না, শুধু স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল।
মুখ মুছা শেষ করে আবার আগের ভঙ্গিতে ফিরে এল মাহাদী।
—“স্যার আপনি তো ডেকেছিলেন। কি বলবেন বলুন।”
মাহাদী শান্ত গলায় বলল—
—“পরে বলব এখন যাও। এতক্ষণ টানা পরীক্ষা ছিল, নিশ্চয়ই ক্লান্ত।”
রাহার ভেতরে আবার একটু বিরক্তি জমে উঠল। ডেকে এনে এখন এমন কথা! তবু সে কিছু বলল না। তারও মনে হলো এসব না ঘেঁটে এখান থেকে তাড়াতাড়ি বের হতে পারলেই বাঁচে। বাসায় গিয়ে তৈরি হয়ে আবার এতিমখানায় ও যেতে হবে—এই চিন্তাটাই তাকে চুপ করিয়ে রাখল।
সে চেয়ারে থেকে উঠে দরজার দিকে এগোল। কিছুদূর গিয়ে হঠাৎ থেমে আবার পেছনে তাকাল।
মাহাদী তখনও তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ মাহাদী হালকা ভ্রু তুলে এক মুহূর্তের জন্য চোখ টিপে দিল।—একদম অপ্রত্যাশিত, দুষ্টু একটা ইঙ্গিত।
মাহাদীর ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক ঝলক হাসি ফুটে উঠল, কিন্তু সে তা সঙ্গে সঙ্গে লুকিয়ে ফেলল।
রাহা যেন চমকে গেল। পরের মুহূর্তেই নিজের অস্বস্তি ঢাকতে দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে বেরিয়ে গেল। মনে মনে যে কত গালি দিলো।
—————
অফিস রুম থেকে বের হতেই সাফা আর অবন্তিকা তাকে ঘিরে ধরল।
— “কি বলল? কেন ডেকেছে? আবার বকাঝকা করেছে নাকি?”
সে মাথা নেড়ে হালকা হাসল,
— “না রে, শুধু বলল—কথা আছে, কথা আছে… শেষে এসে আবার রেখে দিল। আর ক্লাসের তখনকার ব্যবহারের জন্য দুঃখিতও বলেছে।
তবে আমি একটা সওয়াবের কাজ করে এসেছি।
বলেই নিজেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।
তার সেই রহস্যময় হাসিতে দু’জনই কৌতূহলী হয়ে উঠল, কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তারাও চুপ হয়ে গেলো।
এদিকে মাহাদীরও বাসায় ফেরার সময় হয়ে এসেছে। অফিস থেকে বের হতে গিয়েই তার চোখ পড়ল গেটের এক পাশে—রাহা দাঁড়িয়ে আছে, তার বান্ধবীদের সাথে হাসিতে মেতে উঠেছে । হাসির ঝংকারে মনে হচ্ছে চারিপাশ মুখরিত হয়ে গেছে।
রাহা হাসতে হাসতেই হঠাৎ দোতলার বারান্দার দিকে তাকাতেই মুহূর্তেই তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
সাফা আর অবন্তিকা অবাক হয়ে তাকাতেই সে নিচু গলায় বলল,
— “চুপ… কিছু না। চল, বাড়ি যাই।”
গেটের সামনে এসে দাঁড়াতেই রাহা থেমে গেল।
— “তোরা যা, অভ্র ভাই আসবে আমাকে নিতে।”
ঠিক তখনই মাহাদী এসে তার পাশে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ চুপকরে তাদের অবলোকন করে বলল,
— “চলো, আমি তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিই।”
রাহা বিনীত কিন্তু দৃঢ় স্বরে মাথা নাড়ল,
— লাগবে না। ধন্যবাদ।”
কথাটা শেষ হতে না হতেই সামনে এসে জোরে ব্রেক কষলো একটি কালো মার্সিডিজ।
কিছুটা পেছনে, আরেকটা গাড়ি এসে ধীরে থামলো।
সেখান থেকে নামল জারিফ ও জায়ান।
গাড়ির কালো জানালা নামিয়ে গাড়িতে বসেই ঘাড় ঘুরিয়ে শকুনের মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুড়ে দিল মাহাদীর দিকে। তার চোখে জমে থাকা রাগটা এতটাই তীক্ষ্ণ—মনে হচ্ছিল, দৃষ্টির আগুনেই যেন তাকে ঝলসে দেবে।
মাহাদীও দৃষ্টি সরাল না। স্থির চোখে তাকিয়ে রইল, যেন সেই আগুনকে নির্লিপ্তভাবেই সহ্য করছে।
গাড়ির দরজাটা খুলে ভেতর থেকে নামল অভ্র—একটা আলাদা ভঙ্গিতে। আগে এক পা বাইরে রাখল, তারপর শরীরটা সামান্য ঝুঁকিয়ে বেরিয়ে এল, যেন সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণেই। নামার পর একবার কোটটা ঠিক করে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল—চোখে সেই চেনা ঠাণ্ডা কঠোরতা।
কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কিন্তু তার প্রতিটা মুভমেন্টেই এক ধরনের প্রভাব—চারপাশের দৃষ্টি নিজের দিকে টেনে নেওয়ার মতো।
রাহা তো অভ্রর নেমে আসা দেখে আরেকদফা ঝটকা খেলো। এতো সুদর্শন ও ছেলে হয়! তার পেটে মনে হয় তখন প্রজাপতি উড়ছিল।
তার পেছন পেছন জায়ান নামল স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, আর কিছুটা পরে জারিফ এসে যোগ দিল—চোখে হালকা কৌতূহল, যেন পুরো পরিস্থিতিটা বুঝে নিচ্ছে। পরক্ষণেই তাদের বসের দৃষ্টির প্রখরতা দেখে বুঝতে সময় লাগেনি কিছু।
অভ্র আর দেরি করল না, সরাসরি রাহার দিকে এগিয়ে গেল।
জারিফকে দেখামাত্রই অবন্তিকার গাল লাল হয়ে উঠল লজ্জায়।
এমনিতেই বাইরে রোদের তাপে মুখটা একটু লালচে ছিল—তার ওপর হঠাৎ তাকে সামনে দেখে লজ্জায় সেই রঙটা আরও গাঢ় হয়ে গেল।
সে চোখ সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু পারল না পুরোপুরি। একঝলক তাকিয়েই আবার তাড়াতাড়ি নিচে নামিয়ে ফেলল দৃষ্টি।
সাফাও জারিফকে দেখতেই এক মুহূর্ত থেমে গেল। তারপর তার স্বাভাবিক হাসিটা ধীরে ধীরে ফিরে এল। কেনো যেনো লোকটিকে দেখতে তার বড্ড ভালো লাগে।
সে একটু পাশ ঘুরে দাঁড়াল, যেন খুব বেশি নজর না পড়ে, কিন্তু চোখের কোণে জারিফকেই অনুসরণ করছিল। তার ভেতরে হালকা একটা আনন্দ কাজ করছিল। কিন্তু কেনো এমন হচ্ছিল সেটার কোনো উত্তর তার কাছে নেই।
জারিফ একবার অবন্তিকার দিকে তাকাল, তারপর দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল। আবার চোখ তুলে দেখতেই সাফার দৃষ্টি তার দিকেই—তাই আর দেরি না করে অন্যদিকে সরে গেল।
—————
মাহাদী কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অভ্রের দিকে।
কিন্তু অভ্রের উপস্থিতি পুরো পরিকল্পনাটাকেই যেন এক মুহূর্তে বদলে দিল। চারপাশের পরিস্থিতি হঠাৎ করেই আরও টানটান হয়ে উঠল।
ভর দুপুরে ক্যাম্পাস একদম ফাঁকা। সবাই আগেই চলে গেছে,অভ্রের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে রাহার দেরি হয়ে গেছে।
অভ্র যেন ইচ্ছে করেই সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে, পরিস্থিতিটা বুঝেও। হঠাৎই সে রাহার কোমরে হাত রেখে নিজের পাশে টেনে নিল একদম তার সাথেই মিলিয়ে নিলো। মাঝে একচুল পরিমাণও ফাঁকা রাখেনি।
রাহা চমকে উঠল, ঠাণ্ডা হাতের স্পর্শে মুহূর্তের মধ্যে শিহরিত হয়ে গেলো পুরো শরীর। বুকের ভেতর টা ধকধক করছে। চোখ বড় বড় করে নিজের কোমরে থাকা হাতের দিক তাকালো। মনে হলো যেন তার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেলো।
পাশে থাকা জায়ান-জারিফও অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল, অস্বস্তি লুকাতে।
এইদিকে সাফা আর অবন্তিকা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকলে জায়ান ও জারিফ তাদের হাত দিয়ে দুইজনের চোখ ঢেকে ফেলল।
আর মাহাদী?
সে একদম নড়ল না। শুধু দৃষ্টিটা আরও কঠিন হয়ে গেল, দুই হাত মুঠো হয়ে শক্ত হয়ে রইল। তার চেহারায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে—ধৈর্যটা আর বেশি দূরে নেই।
রাহা খেয়াল ফিরে পেতেই কাঁপা গলায় বারবার বলল,
— “ছাড়ুন প্লিজ! কি করছেন এসব, এটা পাবলিক প্লেস।”
অভ্র হালকা বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,
“তাহলে চল প্রাইভেট প্লেসে যাই..!
আর পাবলিক প্লেসেই আমার দিকে ওভাবে কেন তাকিয়ে ছিলি?”
রাহা উত্তর দেয়ার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছিল না। চোখের দৃষ্টি বার বার বাহানা খুঁজছে কি বলা যায়।
তখনই অভ্র বলে উঠে,
"থাক আর বাহানা বানাতে হবে না।
অবশ্য এই পাব্লিক প্লেসেও আমার কোনো প্রবলেম নেই সুইটহার্ট, বলেই ঠোঁট কামড়ে হাসতে থাকে।"
রাহা আরও ঘাবড়ে গিয়ে বলল,
— “আস্তাগফিরুল্লাহ অভ্র ভাই! মাথা খারাপ নাকি আপনার? চুপ করুন প্লিজ। সবাই দেখছে।"
"তাতে আমার কি..! কে দেখলো, কে দেখলো না সেগুলা আমার দেখার বিষয় না। আর তোর মনে হচ্ছে আমার মাথা খারাপ?
বলেই সে হঠাৎ রাহাকে পাজা কোলে তুলে নিল।
“এই দেখ, এখন তো মাথা একদম ঠিক আছে।”
রাহা পুরো ব্যাপারটা ধরতেই পারেনি। এমন আচমকা ঘটনায় সে এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
ভারসাম্য ঠিক রাখতে দ্রুতই দু’হাত দিয়ে অভ্রর গলা জড়িয়ে ধরল।
রাহার এই মুহূর্তের অজান্তে কাছে আসাটা যেন অভ্রের জন্য এক ধরনের সুযোগ হয়ে দাঁড়াল। সে কখনোই তার “ফেইরি টেইল”-কে এত সহজে দূরে যেতে দিতে চায় না।
ধীরে ধীরে সে রাহাকে আরও একটু নিজের দিকে টেনে নিল, যেন ইচ্ছে করেই দূরত্বটাকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। পাশেই মহাদী থাকলেও অভ্র একেবারেই নির্বিকার—উল্টো যেন দেখিয়ে দিচ্ছে, রাহা এখন কোথায়। রাহার প্রতি অভ্র ছাড়া আর কারো কোনো অধিকার নেই।
এতে রাহার অসস্তি আরও বেড়ে যায় কিন্তু রাহা যতই ছটফট করছিল, অভ্রের হাতের শক্তি ততটাই দৃঢ় হচ্ছিল। সে এক চুলও ছাড়ল না।
শেষে রাহাকে সরাসরি গাড়ির ভেতরে বসিয়ে দেয়।
জারিফের দিকে ইশারা করতেই সবাই একটু দূরে সরে গেল।
তারপর সে গাড়ির দরজা লক করে মাহাদীর দিকে ফিরে দাঁড়াল।
“কিরে নটকা… কেমন দিলাম? আশা করি এনজয় করেছিস। একদম লাইভ টেলিকাস্ট।”
মাহাদী একটুও পিছু হটল না। নিজেকে স্থির রেখে শান্ত গলায় বলল,
“এক মাঘে শীত যায় না। আমারও সময় আসবে। দেখবি, শুভ্রপরি নিজেই আমার কাছে আসবে। জোর করে ভালোবাসা হয় না।”
অভ্র হালকা হাসল, চোখে তাচ্ছিল্যের ছাপ।
“আমার জন্য মাঘ মাস, আর তোর জন্য সারাজীবনের সর্বনাশ।
আর হ্যাঁ, ভালোবাসা জোর করে হয় না এটা আমি ভালোই জানি। কিন্তু আমার জিনিসে কারও নজর পড়লে সেটা আমি সহ্য করি না। আর রাহার আমাকে ভালো না বেশে উপায় নেই। ওকে তো আমি ছাড়ছি না। জীবিত না পেলেও ওকে মেরে হলেও আমার কাছেই থাকতে হবে। আমি ছাড়া ওর কোনো অস্তিত্ব নেই।"
অভ্র ঠান্ডা গলায় বলল,
“সব ছেড়ে এখন এই জব নিয়েছিস? তুই কি ভাবছিস আমি কিছু জানি না?
ইচ্ছে করলে তোর জব আমি তুরী মেরেই ক্যান্সেল করতে পারতাম। কিন্তু মশার সাথে টেক্কা দেওয়া আমার অভ্যাস না। এসব আমি হিসাবেও ধরি না।”
আগেই বলেছি, ভালোমতো কেটে পড়।
মাহাদীও পিছপা হলো না। শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ গলায় বলল,
“তুই কি মনে করেছিস তুই একাই সব জানিস? দেখে নিবি আমার ক্ষমতা।”
অভ্র হালকা হেসে কাঁধ ঝাঁকাল।
“তোর ওই বা*লের ক্ষমতা তোর পকেটেই রাখ।”
পারলে আমার চুল টা বাঁকিয়ে দেখাস
তখন দেখবি,,
না থাকবে চুল, আর না থাকবে চুল গজানোর জন্য চামড়া।”
এই বলে সে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল, দরজা খুলে ভেতরে বসে পড়ল
মাহাদী দাঁড়িয়ে থেকে এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে নিজেকে বলল,
“তুইও দেখিস… কীভাবে তোর সামনে থেকেই শিকার ছিনিয়ে নিয়ে আসি।”
—————
গাড়িতে বসতেই দেখে রাহা অদ্ভুতভাবে ছটফট করছে আর এক হাত দিয়ে অন্য হাতের আঙুল কচলাচ্ছে। লজ্জা,ভয়, রাগ সব একসাথে জেঁকে ধরেছে তাকে।
অভ্র ভ্রু বাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কিরে, এমন করছিস কেন? তোর কি মিরকি বেমার উঠল নাকি? দাঁড়া, জুতা টা নেই। তোকে সুঙগাই দেখবি ঠিক হয়ে যাবে।”
"মিরকি বেরাম আবার কি? অভ্র ভাই"
আরে আমার বোকারানী- “মৃগী রোগ"।
রাহা “মৃগী রোগ আর জুতার কথা শুনে বমির মতো করে
“অত, অত” করতে লাগলো।
“ইয়াক ছিঃ কি বলছেন এসব।”
“তাহলে তেমন রোগীর মতো না করে চুপচাপ বস। আর ওই পাঠার সাথে তোর দাঁড়িয়ে থাকা বাসায় গিয়ে বের করছি।”
শুনেই রাহার অন্তর আত্মা ভয়ে লাফাচ্ছে। ইচ্ছে করে কিছু করেনি, তাও কেন শাস্তি পেতে হবে। দুর যেদিক যায় সেদিকেই শাস্তি। তার রীতিমতো কান্নার করার দশা। একদম চুপ হয়ে যায় এগুলো ভাবতে ভাবতে।
অভ্র রাহার একটু সামনে গিয়ে ঝুঁকে সিটবেল্ট বাঁধতে গেলে রাহা দুই হাত তুলে মুঠ করে ধরে, চোখ বন্ধ করে ফেলে। মুখ পিছন দিকে নিয়ে যায়।
অভ্রপুরোপুরি বুঝতে পারছিল রাহার হার্টবিট এর প্রখরতা। ইচ্ছে করেই দেরি করছিল বেল্ট বাঁধতে
কেননা সে ব্যাপার টা এনজয় করেছিল।
বেল্ট বাধা শেষ হতেই ,,দেখে তখনও রাহা মুখ কুঁচকে পিছনেই হেলে আছে। অভ্র খুবই আলতো হাতে রাহার মুখটা নিজের হাতের আজলায় নিয়ে নিলো। খুবই শান্ত গতিতে সামনে এনে ফুঁ দিলো।
ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে রাহার চোখগুলো শিথিল হয়, তবুও খুলে না। সামনে ছোট ছোট বেবি হেয়ার গুলো সেই তালে দোল খেয়ে উঠল।
গাড়িতে এসি চলা সত্ত্বেও রাহার কপালে চিকন চিকন সুক্ষ্ম ঘামের রেখা চিকচিক করছিল।
সাথে সাথে টিস্যু দিয়ে পরম যত্নে আলতো করে পুরোটা মুখ মুছে দিলো। আর কপালে একটা ভালোবাসার পরশ ছুঁয়ে দিল।
কপালে ঠোঁটের স্পর্শ পেতেই তড়াক করে চোখ খুলে ফেলে রাহা। অভ্র আর কিছু না বলে সরে আসে নিজের সিটে। নিজের সিটবেল্ট বেঁধে আবারও গভীর ভাবভঙ্গি তে ফিরে গিয়ে,
জানালার কাঁচ নামিয়ে মাহাদীর দিকে তাকাল। ঠোঁটে বাঁকা হাসি, ঠোঁট উল্টে একটা পাউট করে চুমু ছুঁড়ে দিয়ে হাত তুলে বিদায়ের ইশারা দিল।
মুহূর্তেই গাড়িটা স্টার্ট দিয়ে ধুলো উড়িয়ে সামনে এগিয়ে গেল।
জারিফ পাশ থেকে সেটা দেখে হালকা বাঁকা হাসল, তারপর মাহাদীর দিকে তাকিয়ে বলল,
— “বলেছিলাম না দূরে থাকতে। কেমন লাগছে, মিস্টার?”
একটু থেমে সে ঘুরে দাঁড়াল, হাসিটা এখনও মুখে রেখে যোগ করল,
— “চল জায়ান, কাজ আছে।”
যাওয়ার আগে অভ্র জানিয়ে গেল—
—সাফা আর অবন্তিকাকে যেনো আগে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
জায়ান মাথা নাড়ল, আর জারিফও সায় দিল। এরপর দু’জন মিলে সাফা আর অবন্তিকার দিকে এগিয়ে গেল।
গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে যেতে থাকল, আর ক্যাম্পাসের সামনে এক অদ্ভুত ভারী নীরবতা ছড়িয়ে পড়ল—মাহাদী তখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে, দৃষ্টি স্থির।
—————
প্রথমে তারা সাফাকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দেয়। সাফা নামতেই ঠিক তখনই জায়ানের ফোনে কল আসে—জরুরি মিটিংয়ে যেতে হবে।
সে আর দেরি না করে গাড়ি থামিয়ে সাফার সঙ্গে সেও নেমে পড়ে।
জারিফকে বলে যায়, অবন্তিকাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে সে যেন সরাসরি অফিসে চলে যায়।
সাফার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। মনে মনে সে চাচ্ছিল, জারিফের সঙ্গে আরও কিছুটা সময় থাকতে। কিন্তু কী আর করার—তার বাড়িই যে সবার প্রথমে।
সাফা আর জায়ান নামতেই দেখে পুরো গলি একদম ফাঁকা—দুপুরের নিস্তব্ধতায় চারপাশ যেন আরও শান্ত হয়ে গেছে।
দু’জন আলাদা দিকে যেতে নিতেই সাফার সামনে হঠাৎ একটা কুকুর “ভাও” করে উঠে।
চমকে সাফা এক চিৎকার দিয়ে পেছন ঘুরে দৌড়াতে যায়। সাফার দৌড় দেয়া দেখে কুকুরটিও দৌড় শুরু করে। চিৎকারের শব্দ শুনে জায়ান এগিয়ে আসতে গেলে দু’জনের ধাক্কা লাগে—আর মুহূর্তেই দু’জনেই রাস্তায় পড়ে যায়।
জায়ান নিচে, আর তার ওপর সাফা।
এক মুহূর্ত দু’জনই থেমে যায়। জায়ান নীরব দৃষ্টিতে সাফার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু সাফা তখনো ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে, শরীর কাঁপছে।
সে তাড়াহুড়ো করে উঠতে গেলে হাত টান পড়ে আবারও ভারসাম্য হারিয়ে জায়ানের ওপর পড়ে যায়।
জায়ান এবার শান্ত গলায় বলল,
— “ভয় পাবেন না … ঠিক আছেন।”
তারপর ধীরে ধীরে সাফাকে সামলে তুলে দাঁড় করিয়ে দিল, যেন সে আবার স্থির হতে পারে।
জায়ান সাফার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
— “কুকুর দেখলে আপনি এতটা ভয় পান?আপনি দৌড় না দিলে কুকুরটা নিজেও কিছু করত না।অকারণে আতঙ্কিত হয়ে ছুটে যাওয়ার কী দরকার ছিল?
তারপর হঠাৎ তার চোখ গেল সাফার হাতে—হালকা কেটে গেছে, সেখানে রক্ত দেখা যাচ্ছে। ভ্রু কুঁচকে সে বলল,
— “হাতটা ক্ষত হয়েছে, একটু কেটে গেছে।”
বলেই পকেট থেকে রুমাল বের করে আলতো করে ক্ষতস্থানে বেঁধে দিল, যত্নসহকারে রক্ত থামানোর চেষ্টা করে।
সাফা তখনও কুকুরের ভয়ে একটু কাঁপছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছিল।
জায়ান বলল,
— “চলুন, বাসায় পৌঁছে দেই।”
তারপর দু’জন একসাথে হাঁটতে শুরু করল। বাসার কাছাকাছি এসে সাফা হঠাৎ থেমে গেল।
— “ধন্যবাদ, আর যেতে হবে না। আমার বাড়ির কেউ দেখলে ভুল বুঝতে পারে।”
জায়ান মাথা নেড়ে বলল,
— “ঠিক আছে। ভালো থাকবেন। আর প্রয়োজনে ওষুধ নিয়ে নেবেন।”
সাফা হালকা মাথা নেড়ে বলল,
— “আপনিও ভালো থাকবেন।আর দুঃখিত, আপনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারলাম না।”
জায়ান শান্তভাবে বলল,
— “না না, কোনো সমস্যা নেই। ঠিক আছে।”
তারপর দু’জনই আলাদা দিকে হাঁটতে শুরু করল, গলিটা আবারও নীরব হয়ে গেল।
জায়ানের ভেতরে একটু অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল। আগে কখনও এমনভাবে কোনো মেয়ের পাশে হেঁটে আসেনি। আবার তার উপর এভাবে পরে যাওয়া। পুরো ব্যাপারটাই তার কাছে নতুন আর অচেনা লাগছিল কিছু ভালো লাগা ও কাজ করছিল। আজকে তার প্রিয় জিনিসের লিস্টে কুকুর ও অ্যাড হলো।
—————
গাড়ির ভেতর একদম নীরবতা। জারিফ ড্রাইভ করছে, পাশে অবন্তিকা জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে—কথা বলার কোনো চেষ্টা নেই।
হঠাৎ জারিফ স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলল,
— “হয়ে গেছে তো, আর কত লজ্জা পাবেন? কোলেই তো উঠেছেন, আর তো কিছু হয়নি। এত লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।”
কথাগুলো শোনামাত্রই অবন্তিকার মুখ আরও লাল হয়ে গেল, যেন মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়। সে তাড়াতাড়ি বলে উঠল,
— “না না, কী বলছেন এসব… লজ্জা পাব কেন?”
গাড়ির ভেতরে একটা অদ্ভুত নীরবতা ছড়িয়ে ছিল, যা মাঝে মাঝে ভেঙে যাচ্ছিল শুধু ইঞ্জিনের হালকা শব্দে।
জারিফ একদম সামনে তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল, কিন্তু তার চোখে এক ধরনের শান্ত খেলা ছিল, যেন আশেপাশের সবকিছু সে খুব ভালোভাবে অনুভব করছে। হঠাৎই সে পাশের দিকে না তাকিয়েই মৃদু গলায় বলল—
— “আপনাকে দেখেই তো মনে হচ্ছে। গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে।”
অবন্তিকা এই কথায় একটু চমকে গেল। সে আমতা আমতা করে জারিফের দিকে তাকাল।
ঠিক সেই মুহূর্তে দু’জনের চোখ একে অপরের সঙ্গে মিলে গেল। এক সেকেন্ডের জন্য সময় যেন থমকে দাঁড়াল।
জারিফ হালকা, খুব সামান্য একটুখানি মিষ্টি হাসি দিল, তারপর আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল সামনে রাস্তায় আর ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ দিল।
আর অবন্তিকা? সে চোখ সরাতে পারল না। চুপচাপ বসে রইল, মাঝে মাঝে আড়চোখে তাকিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জারিফকে দেখছিল—যেন কোনো অজানা অনুভূতি ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ধরছে।
অবন্তিকার ভেতরে জারিফকে ঘিরে এক ধরনের অস্বস্তি মেশানো টান কাজ করছিল। সরাসরি কিছু বলা না হলেও, তার উপস্থিতি তাকে অদ্ভুতভাবে নাড়া দিচ্ছিল। মাঝে মাঝে কথা শুনে সে লজ্জা পেয়ে যেত, আবার কখনও নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করত। এই অনুভূতিটা ঠিক পরিষ্কার নয়—কিন্তু ধীরে ধীরে জারিফ তার চিন্তার ভেতরে জায়গা নিতে শুরু করেছে।
জারিফ দেখতে খুবই সংযত ও আকর্ষণীয় এক ব্যক্তিত্বের মানুষ। মুখে সবসময় একটা শান্ত ভাব থাকে, যেন কোনো কিছুই তাকে সহজে বিচলিত করতে পারে না। চোখে থাকে গভীর আত্মবিশ্বাস, যা একসাথে কঠিন আর নরম—দুটোই মনে করিয়ে দেয়। তার হাসি খুব বেশি নয়, কিন্তু যখন আসে, সেটা সহজেই কারও মনোযোগ কেড়ে নেয়। পুরো উপস্থিতিটাই এমন যে, সে কথা না বললেও আশেপাশে একটা প্রভাব রেখে যায়।
—————
অভ্রের মা বার বার কল দিচ্ছিল।
বাড়িতে ফিরতেই রাহাকে তাড়াহুড়ো করে তৈরি হতে বলল।
রাহা ঝটপট উত্তর দিলো।
বেশি না শুধু দশ মিনিট লাগবেই।
শাওয়ার নিলেই সে রেডি।
আর সে নিজেও বুঝল—এখন তার একটা শাওয়ার নেওয়া দরকার।
তখনই একটা দুষ্ট পরিকল্পনা মাথাযয় আসতে রহস্য হাসি হেসে রাহার দিক তাকায়।
রাহা ঘুরে যেতে নিলেই অভ্র খপ করে তার হাতটা ধরে ফেলল।
রাহা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে অভ্রের ঠোঁটের কোণে টেনে রাখা অদ্ভুত শীতল হিংস্র হাসি। যা দেখে তার প্রতিটা শিরা উপশিরা কেঁপে উঠলো।
কি.. কি.. হয়েছে অভ্র ভাই।
এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো।
এক্ষুনি তো রেডি হতে বলেন।
সে শান্ত গলায় বলল,
— “হুম্ সেটা তো অবশ্যই রেডি হবি। চল, আজকে আমি তোর ক্লাস নেই—কিভাবে আমরা পানির অপচয় কম করব।”
রাহা কিছুই বুঝতে পারল না। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
— “পানির অপচয় মানে কী?”
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে সে অভ্রের দিকে তাকাতেই অভ্র হালকা হাসল। তারপর হঠাৎই তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে সে বলতে লাগল,
— “প্র্যাকটিক্যালি দেখলেই তুই ভালো বুঝবি, কোথায় কীভাবে পানি নষ্ট হয় আর কীভাবে সেটা কমানো যায়।”
“কি করছেন কি!
অসভ্য লোক! শুধু কোলে তুলে নেন! আমি শাওয়ার দিব, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
“সেটাই তো করব, বেবি।”
সোজা তার রুমে নিয়ে গিয়ে বাথটবে ফেলে দেয়।
·
·
·
চলবে……………………………………………………