কালান্তরের কন্যা - পর্ব ০৫ - ইলমা বেহরোজ - ধারাবাহিক গল্প

          উপশহর সি ব্লকের স্টুডেন্টকে পড়ানো শেষ হতে হতে আসরের আজান পড়ে গেল। সেখান থেকে একটু এগোলেই ফারাজের বিলাসবহুল বাড়ি। এতকিছু হয়ে গেল ও একটা কল করেনি, ব্লকটাও এখনো খোলেনি।

ফারাজের বাড়ির সামনে এসে কাজলী থমকে দাঁড়াল। গতকাল ভেবেছিল, সামনে পেলে ফারাজের শার্টের কলার চেপে ধরবে, কৈফিয়ত চাইবে। কিন্তু এই কাজটা ও কোনো দিনই পারবে না। সাহসের অভাবের জন্য নয়, আসলে ফারাজের ওপর তেমন কোনো জোরালো অধিকারবোধ ওর তৈরি হয়নি। সেই সময়টাই হয়ে উঠেনি। কাজলীর আত্মসম্মানবোধ ভীষণ প্রবল। গতকাল ও যে কেঁদেছিল, সেটাও নিজের স্বপ্নগুলো ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণায়। এই প্রথম ও কোনো পুরুষকে নিয়ে স্বপ্ন সাজিয়েছিল।

কান্নাকাটি বা কাকুতি-মিনতি করে জীবনে কাউকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার মতো মেয়েও ও নয়। বাস্তবতার যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে যে মেয়ে শক্ত হয়েছে, সে কোনো একটা ছেলের জন্য মাটিতে গড়াগড়ি খাবে না। এটাই স্বাভাবিক। তবুও যে কেন ফারাজের মুখোমুখি হতে চাচ্ছে, নিজেও বুঝতে পারছে না। হয়তো সম্পর্কের শেষটা নিজের চোখে দেখার জন্য, অথবা ফারাজের চোখের চাউনিটা শেষবারের মতো একটু পরখ করে নিতে। এর পেছনে হয়তো অবচেতন মনের সুপ্ত মায়া-মমতা বা ভালোবাসার ব্যাপারও থাকতে পারে। কী জানি কেন!

বুকের ভেতর শ্বাস টেনে নিয়ে কাজলী বাড়ির ভেতর ঢুকল। বাড়ির কাজের মেয়েটি ওকে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে রেখে ভেতরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ড্রয়িংরুমে এসে হাজির হলেন ফারাজের মা আম্বিয়া জামান। বেশ অহংকারী আর দাম্ভিক মহিলা। শুরু থেকেই এই বিয়েতে উনার মত ছিল না কাজলীকে উনি একদমই পছন্দ করেন না। 

কাজলী ভদ্রতার খাতিরে উনাকে সালাম দিল, “আসসালামু আলাইকুম।”

আম্বিয়া জামান সোফায় বসতে বসতে শীতল গলায় বললেন, “ফারাজ তোমার সাথে দেখা করবে না।”

কাজলীর গায়ে যেন কেউ চাবুক মারল! এভাবে শুরুতেই কেউ মুখের ওপর এমন সত্য ছুঁড়ে দেয়? কাজলী সংকোচে কুঁকড়ে গেল।

আম্বিয়া জামান ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলে চললেন, “আমি মনে মনে খুব খুশি হয়েছি যে আমার ছেলের বিয়ের আগেই সুবুদ্ধি হয়েছে। তুমিও আমার ছেলেকে আর বিরক্ত কোরো না। ওর পিছু ছেড়ে দাও। তোমার বাবা নেই, ভাই নেই। ঘরে অসুস্থ মা, পঙ্গু বোন সবকিছুর দায়িত্ব আমার বোকা ছেলেটা নিজের ঘাড়ে নিতে চেয়েছিল। কারণ ও তোমার চোখ পছন্দ করেছে। আমার ছেলের মেয়েদের চোখ নিয়ে অদ্ভুত অবসেশন আছে। ও না খুব দ্রুত মেয়েদের চোখের প্রেমে পড়ে যায়। তোমার চোখ দুটি আসলেই সুন্দর, ঠিক তোমার নামের মতোই৷ কাজল কালো, বড় বড় ডাগর চোখ। তোমার চোখের মায়ায় পড়েই ও মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়ে তোমাকে বিয়ে করতে এক পায়ে রাজি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, চোখ দিয়ে মায়া ছড়ানো যায়, কাউকে চিরদিনের জন্য ধরে রাখা যায় না। ডাস্টবিনের ময়লা যত সুন্দর প্যাকেটেই রাখো না কেন, তা যেমন ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা যায় না, ঠিক তেমনি বস্তির একটা মেয়েকে চোখ সুন্দর হলেই রাজপ্রাসাদের বউ বানানো যায় না। সেটা যে ফারাজ ভুল হয়ে যাওয়ার আগেই বুঝেছে। সেজন্য আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।”

কাজলীর নিজেকে বড্ড ছোট মনে হতে লাগল। ওর ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, গলাটা যন্ত্রণায় পুড়ছে। তবুও নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে গলার স্বর স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে বলল, “আপনার ছেলে আমার মা-বোনের দায়িত্ব নিতে চাইলেই আমি তা লুফে নেব এমনটা আপনি ভাবলেন কী করে? আমি ফারাজকে শর্ত দিয়েছিলাম, যদি বিয়ের পরও আমাকে চাকরি-বাকরি করে আমার মা-বোনকে দেখতে দেয় তবেই বিয়ে করব৷ আপনার ছেলেও তাতে রাজি হয়েছে৷ আর আমি কোনো দিন আপনার ছেলের পিছু ঘুরিনি। বরং আপনার ছেলেই দুই মাস আমার পেছনে ঘুরঘুর করেছে।”

আম্বিয়া জামান বিদ্রূপের সুরে বললেন, “প্রেমের প্রস্তাব ও আবেগের বশে দিতেই পারে! কিন্তু তুমি বড্ড চালাক মেয়ে, প্রেম করে অল্প জিনিসে তোমার মন ভরতো না। তাই বিয়ে করে একবারে পার্মানেন্ট সবকিছু নিজের করে পেতে চেয়েছ। তুমি জানতে এ বাড়িতে বিয়ে হলে, তোমাকে আর কাজ করে খেতে হবে না। মা-বোনের কাছেও অনেক কিছু পাচার করা যাবে।”

“আমি চলে যাচ্ছি।” 

বলেই কাজলী এক ঝটকায় সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। ও যখন হনহন করে ড্রয়িংরুম পেরিয়ে চলে যেতে নিল, আম্বিয়া জামান পেছন থেকে চাবুকের মতো আরেকটি তীক্ষ্ণ বাক্য ছুঁড়ে দিলেন, “আমার ছেলেকে ফাঁসাতে আশা করি ফেসবুক লাইভে চলে যাবে না।”

কাজলীর দুই হাতের মুঠো অপমানে শক্ত হয়ে গেল। ও আর পেছনে তাকাল না। এক ছুটে বেরিয়ে গেল। নিজেকে তার উচ্ছিষ্ট কোনো প্রাণী মনে হতে লাগল।

অবশ্য এবার আম্বিয়া জামান কিছুটা কমই বলেছেন। এর আগে গোল্ড ডিগার, ছোটলোকসহ আরও কত নোংরা বিশেষণে ডেকেছেন, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। শুধু ফারাজের ভালোবাসা আর সততার ওপর অগাধ বিশ্বাস ছিল বলেই কাজলী সেগুলো মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছিল।

উচ্চবিত্তদের কাছে সাধারণ নিম্নবিত্ত মেয়ের সম্মান কতটা সস্তা! কতটা হেয়! একটা পাকা কথা হয়ে যাওয়া বিয়েও এত সহজে, তুড়ি মেরে ভেঙে দেওয়া যায়! আজ ওদের টাকা থাকলে, বাপ-ভাই পাশে থাকলে কি এভাবে চুপচাপ লাঞ্চিত হয়ে বেরিয়ে আসতে হতো? 

কাজলী যখন চোখ মুছতে মুছতে বারান্দা পার হয়ে প্রধান গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন ওর চোখ গেল বারান্দার কোণে। সেখানে ফারাজ দাঁড়িয়ে আছে, বড্ড আয়েশ করে মগে চুমুক দিয়ে কফি খাচ্ছে। কাজলী এক বুক আশা নিয়ে ওর দিকে তাকাল। যদি ডেকে বলে, “কাজলী, সরি গতকালের ব্যবহারের জন্য। আমার মাথা ঠিক ছিল না৷ খুব অন্যায় হয়ে গেছে৷ প্লিজ দাঁড়াও, আমি এখুনি আসছি।”

সেসব কিছুই হলো না৷ ফারাজ ওকে দেখামাত্রই অচেনা মানুষের মতো চোখ দুটো অন্যদিকে ফিরিয়ে নিল। ওর চোখের চাউনিতে কাজলীর জন্য এক বিন্দু মায়া বা অপরাধবোধের ছিঁটেফোঁটাও ছিল না। 

কাজলী আর এক মুহূর্তও ওখানে দাঁড়াল না।  

আকাশ জুড়ে তখন কালচে মেঘের আনাগোনা, চারপাশটা অন্ধকার করে বৃষ্টি হবে হবে ভাব। ফারাজদের বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজলী ঝিলপাড় বস্তির দিকে হাঁটতে লাগল। আজ আর পড়াতে পারবে না৷ এরমধ্যেই আকাশ ভেঙে বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করল।

ইউসুফদের বাড়ির ঠিক উল্টো পাশেই ওর আমেরিকান প্রবাসীর চাচার একটা সাত তলা ভবনের কাজ অর্ধেক হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কাজলী হন্তদন্ত সেই ভাঙা বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে উঠল। নিকাবটা টেনে মাথার ওপর তুলে দিয়ে, একটা ফেলে রাখা পিলারের ওপর বসে দুই হাতে মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। বড্ড ক্লান্ত লাগছে৷ বড্ড একা লাগছে৷ 

কান্নার দমকে পুরো শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। এই বিশাল পৃথিবীতে কি তাকে ভালোবাসার মতো কেউ নেই? কেউ নেই একটুখানি আগলে রাখার? একা একটা মেয়ে আর কত দিন একা এভাবে সমাজ আর নিয়তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে? আর কত? আর কত সইবে? 

কাজলী মাথা নত করে দুই হাঁটুর মাঝে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগল। বৃষ্টির বেগও ক্রমশ বাড়ছিল। 

তখনই, ঝুম বৃষ্টির শব্দের মাঝেও এক জোড়া পদশব্দ এসে কাজলীর থেকে কিছুটা দূরে থমকে দাঁড়াল। 

কাজলী ভয়ে চমকে মাথা তুলল। আবছা আলোয় দেখল, গায়ে কালো রঙের একটা রেইনকোট জড়িয়ে, এক হাতে বড় একটা ছাতা নিয়ে কিছুটা দূরে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে ইউসুফ। কাজলী ওর দিকে তাকাতেই ইউসুফ বরাবরের মতোই চমকে উঠে চোরের মতো নিজের মাথাটা নিচু করে ফেলল। 

ইউসুফ মাঝেমধ্যেই ও'কে অনুসরণ করে। কোনো দিন ছায়া মাড়ানোর সাহস দেখায় না। মাঝেমধ্যে ভরদুপুরে বা বিকেলে হুট করে সামনে এসে বোকার মতো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, একটা কথা পর্যন্ত মুখ ফুটে বলতে পারে না। আজও হয়তো ছাতার নিচে বোকাসোকা হয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখবে। এটাই ওর কাজ৷ ক্যাবলা একটা!

কাজলী ইউসুফের থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আবারও হাঁটুতে মুখ গুঁজল।

ইউসুফ ছাতাটা কাজলীর মাথার ওপর ধরার চেষ্টা করল। যতটা দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে ছিল, তত দূর থেকে ছাতাটা কাজলীর মাথা ছুঁতে পারল না। ও দ্বিধা নিয়ে এক পা এগিয়ে এলো, তাতেও ছাতাটা পৌঁছাল না। ভয়ে ভয়ে আরও এক কদম এগিয়ে এলো। অবশেষে যখন ছাতাটা কাজলীর মাথা বরাবর ধরা গেল, তখন ও কাজলীর অনেকটাই কাছাকাছি চলে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে হৃৎস্পন্দন সহস্র গুণে বেড়ে গেল। দুই হাঁটুতে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকাটা অসম্ভব হয়ে উঠল৷ যেকোনো মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাবে৷

কোনো উপায় না পেয়ে, ইউসুফ নিজের কাঁপতে থাকা হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে কাজলীর থেকে কিছুটা দূরত্ব রেখে বসল। এরপর নিজের হাতটা সর্বোচ্চ বাড়িয়ে ছাতাটা শক্ত করে ধরে রাখল কাজলীর মাথার ওপর।

এমন দুঃসাহসিক কাজ সে এই প্রথম করেছে! বড্ড বেশি নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে। চোখমুখ জুড়ে খেলা করছে আড়ষ্টতা।

কাজলী তখন পৃথিবীর সব কষ্ট এক করে মন খুলে কাঁদছে। ছাতার ছায়ায় বৃষ্টির ফোঁটা আসা বন্ধ হতেই একবার চোখ তুলে ইউসুফের দিকে তাকাল। ভাঙা গলায় ক্লান্তি নিয়ে বলল, “চলে যান৷ লোকে দেখলে বদনাম হবে।”

ইউসুফ মাথা নিচু করে মিনমিন গলায়, চোরের মতো বলল, “ মাস্ক এনেছি।”

বলতে বলতেই নিজের রেইনকোটের পকেট থেকে একটা কাপড়ের মাস্ক বের করে তড়িঘড়ি করে মুখে পরে নিল।

কাজলীর অসহ্য বোধ হলো। তার সাথে লোকসমক্ষে মুখ দেখালে ইউসুফের জাত যাবে, বদনাম হবে, সেই ভয়ে পকেটে করে আগে থেকেই মাস্ক নিয়ে এসেছে! কাজলী তাচ্ছিল্যের সাথে মুখ ফিরিয়ে নিল। ইউসুফের থাকা না থাকায় ওর কিছু যায় আসে না। পাশে একটা রাস্তার কুকুর কিংবা বিড়াল বসে থাকলে ওর মনে যেমন অনুভূতি হতো, এই গোবেচারা ইউসুফকে পাশে দেখেও ওর ঠিক তেমনই মনে হচ্ছে।

ও আবারও নিজের মতো করে মাথা নুইয়ে দুই হাঁটুতে মুখ গুঁজে রইল। 

কিছুক্ষণ পর বিরক্ত হয়ে ক্যাটক্যাট করে উঠল, “কী সমস্যা? হাঁটু কাঁপাচ্ছেন কেন?”

ইউসুফ অপ্রস্তুত হয়ে অন্য হাত দিয়ে নিজের হাঁটু চেপে ধরল। কাজ হলো না। কাজলী এত কাছে বসে আছে যে ওর ভেতরটা ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে, সব কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। গায়ে কাঁটা দিচ্ছে৷ চোখ তুলে কাজলীর লালচে চোখ দুটো দেখে আরও ভড়কে গেল। মেয়েটা রাগ সামলাতে না পেরে ঠাটিয়ে চড় কষিয়ে দেবে না তো! ইউসুফ শত চেষ্টা করেও হাঁটু কাপুনি থামাতে পারল না।

কাজলী একদৃষ্টে চেয়ে দেখল। হাঁটুর কাঁপুনি কমার বদলে উল্টো আরও বেড়ে গেছে। ও অবাক হয়ে ভাবল, মিরকি বেমার (মৃগী রোগ) আছে নাকি এর? বড়লোকের ছেলেদের কত সমস্যা! 

একরাশ বিরক্তি নিয়ে কাজলী ইউসুফের কাঁপতে থাকা হাঁটু দুটো চেপে ধরল। নিমেষে থেমে গেল ওর হাঁটুর কাঁপুনি, থমকে গেল শ্বাস-প্রশ্বাস, স্তব্ধ হয়ে গেল হৃদপিণ্ডের স্পন্দন। ইউসুফের মনে হলো, পুরো পৃথিবীটা এক জায়গায় এসে থমকে গেছে, মহাবিশ্বের সব কোলাহল স্তব্ধ হয়ে গেছে। 

ছোটবেলা থেকে একই পাড়ায়, পাশাপাশি থেকে একসাথে বড় হওয়া সত্ত্বেও কাজলীর একটা নখের স্পর্শও ইউসুফ পায়নি। তার একাকী জীবনে কাজলীর দেওয়া এটাই প্রথম স্পর্শ!

কাজলী নিজের হাত দুটো সরিয়ে নিল। তারপর আগের মতোই গুটিসুটি মেরে বসে, ঝুম বৃষ্টি দেখতে লাগল। যতক্ষণ না মনে আবার নতুন করে লড়াই করার শক্তি জমছে, ততক্ষণ ও ছাদেই বসে থাকবে।

কাজলীর হাতের স্পর্শে সেইযে ইউসুফ স্তব্ধ হয়ে গেল, আর একচুলও নড়ল না। বিকেল পাঁচটা ত্রিশ থেকে শুরু করে একনাগাড়ে রাত এগারোটা অবধি… সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় ইউসুফ মেঝের ওপর ঠিক একই ভঙ্গিতে, একভাবে বসে কাজলীর মাথায় ছাতা ধরে রইল। একটিবারের জন্যও ও ছাতা ধরা হাতটা নামাল না, মুখ ফুটে একটা কথাও বলল না। চোখ দুটো সারাক্ষণ অপরাধীর মতো মেঝের দিকেই নত হয়ে রইল। বহু বছরের ব্যাকুলতা নিয়ে শুনল কাজলীর নড়াচড়া, কান্না, ফোঁপানি আর নাক টানার শব্দ। 

কাজলী যতক্ষণ ছাদে রইল, ইউসুফও নিজের সমস্ত হুঁশ হারিয়ে মাতোয়ারা হয়ে রইল। কেবল সাহসের অভাবে কাজলীর বিধ্বস্ত মুখের দিকে তাকানোর ধৃষ্টতা দেখাতে পারল না।

ওদিকে, ইউসুফদের বাড়িতে ততক্ষণে তুলকালাম কাণ্ড শুরু হয়ে গেছে। ইউসুফের বাবা-মা আর ছয় বোন হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছে। তল্লাটের সবাই জানে, ইউসুফ সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বাসায় ফিরে আসে। আজই প্রথমবার রাত এগারোটা বেজে গেল, অথচ ওর কোনো খোঁজ নেই, ফোনটাও বন্ধ! এমনকি ইউসুফের দোসর জামিলও ওর কোনো হদিস দিতে পারল না। পুরো পরিবার আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp