নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া - পর্ব ২৪ - লাবিবা ওয়াহিদ - ধারাবাহিক গল্প

"চাঁদের রূপ যদিও অনেক, কিন্তু তাঁর সামনে তা কিছুই নয়। ~ মির্জা গালিব

          আজ বাড়িওয়ালীদের পার্টি। চারপাশে সব বিদেশি মানুষ। বাঙালি একদমই নেই। এদিকটায় বাঙালি পায়নি ইসমাত। ইসমাতকে দেখতেই বাড়িওয়ালীর নাতনি সেলেস্ট তাকে খুবই আন্তরিকতার সাথে ওয়েলকাম করল। পরিচয় করিয়ে দিল ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে। চারপাশে ওয়াইন, মিটের দাপাদাপি। সাথে বিভিন্ন ব্রেড, ডেজার্ট তো আছেই। হলরুম তুলনামূলক বড়ো, অনেক মানুষই এসেছে। একপাশে বুফের মতো আয়োজন, যার যেটা ইচ্ছে নিজেরাই নিয়ে খাচ্ছে। আর ইসমাতের মেইডরা ড্রিংক সার্ভিং এর দায়িত্বে। ওরা ছাড়াও আরও দুজন মেম্বারকে দেখতে পায় সে।

বাড়িওয়ালি, ওনার মেয়ে এবং বাকিদের নজর পড়েছে ইসমাতের ওপর। লাল জামদানিতে ইসমাতকে চোখ ধাঁধানো সুন্দর লাগছে। সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অন্য দেশের এক মুসলিম পরিবারও ছিল বুঝি। ইসমাতকে দেখতেই নজরের দোয়া পড়ে ফুঁ দিলেন মহিলা। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বোঝালেন নজর না লাগুক। ইসমাত এত ভিনদেশি মানুষের মাঝে এসে খুশিই হলো। শুনেছে ফ্রান্সের মানুষজন নাকি অপরিচিতদের এড়িয়ে চলে। এখানে মোটেও তেমন লাগছে না। এখানে কয়েক দেশ মিলিয়ে এই পার্টি। ইন্ডিয়ার দুজনকেও দেখল সে। প্রত্যেকেই নিজস্ব দেশীর পোশাক পরার চেষ্টা করেছে। 

সবাই খুবই উৎসাহ, আগ্রহের সাথে তার পোশাক সম্পর্কে, এর ইতিহাস জানতে চাইল। ইসমাত জামদানি শাড়ি সম্পর্কে যতটুকু বলা যায় বলল, তাও খুব আকর্ষণীয় ভাবে। যেমন প্রেজেন্টেশন সে অফিসে দেয়। দেশকে অন্য দেশের সামনে রিপ্রেজেন্ট করাটা বেশ গর্বের হয়। এজন্যই তো এখানে এসে জামদানি সম্পর্কে কিছু ঘাটাঘাটি করে আসে। এজন্যই হয়তো আকর্ষণটা ধরে রাখতে পেরেছে। সেলেস্ট তো বলেই বসল,
--"আমিও চাই, পাব?"

ইসমাতের হঠাৎ ইফরার কথা মনে পড়ল। চাইলে তো ওদের জন্য শাড়ি আনাই যায়। আপাতত সে মুচকি হেসে প্রসঙ্গ ঘুরাল।

জামদানি শাড়ি থেকে প্রসঙ্গ সাহিদের দিকে যেতে সময় নিল না। সাহিদ গেছে শাবাবের সাথে, বিজনেসের কাজে। আজকাল সে ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অল্প সময় হলেও মনোযোগ পুরোটা দিচ্ছে। ভুল করছে, আবার শুধরেও নিচ্ছে। সাব্বিরের ব্যাপারটা মাঝেমধ্যে তাকে তাড়া করে বেড়ালেও, সাহিদ সেই রাতের পর থেকে অনেকটাই উন্নতি করে এসেছে। যেন অনেকদিন যাবৎ ভেতরের কথাগুলো জমে পাহাড় হচ্ছিল, সেগুলো উগলে দিতেই এখন হালকা অনুভব হয়।

সাহিদ বেশি সময় নিল না। সে আসতেই আবারও সবার নজর তার ওপর পড়ল। এই ছেলেটা যেখানেই যাবে, মেয়েদের নজর এড়াতে পারবে না। বাপ-দাদার চেহারা, চোয়াল পেয়েছে কিনা। দাদা নিজেই তো ছিল কানাডিয়ান.. সেক্ষেত্রে সাহিদের সুদর্শন হওয়াটা অস্বাভাবিক না। 

 কিন্তু দেখা গেল এতজনের মাঝে সাহিদের চোখ আটকাল ইসমাতের দিকে। বন্ধুদের থেকে শুনেছে চিকন মেয়েদের শাড়ি পরলে বেশি আকর্ষণীয় লাগে। কখনো কেউ সেভাবে আকর্ষণে বাঁধতে না পারলেও আজ ইসমাত তাই করে বসল। এই প্রথম ইসমাতকে শাড়িতে দেখছে সে, তাও আবার নিজের কিনে দেওয়া। শাড়িটা পুরোপুরি লাল না হলেও মেরুন। খুবই পাতলা। পেট-কোমর দৃশ্যমান, শাড়ির ওপর দিয়েই। তবে খুব বেশি না। এর সাথে ইসমাত নাকে নথ পরেছে, গলায় গোল্ডের খুবই ছোটো নেকলেস পরেছে। আর হাতে লাল চুড়ি। সাহিদের গলা শুকিয়ে কাট কাট, এই সর্বনাশা রূপ দেখে। সবাই যে যার মতো ব্যস্ত হলেও সাহিদ তখনো ইসমাতের মাঝে আটকে আছে। সময়, স্থান, ক্ষণ কোনোকিছু ই তার জ্ঞানে নেই। দুটো মেয়ে আসল তার কাছে ড্রিংক অফার করল। মেয়ে দুটো দেখতে কেমন, সাহিদ সেটাও বলতে পারল না। ইসমাত সাহিদের এহেম নজরের জন্য অস্বস্তিতে চলে গেল বুফের দিকে। সাহিদ মেয়েগুলোকে এড়িয়ে ইসমাতের পেছন পেছন আঁচল ধরতে চলে গেল। ইসমাত প্লেটে এটা সেটা নিচ্ছে। সাহিদ তখন তার পাশে দাঁড়ানো। ইসমাত চোখ তুলে তাকাতে পারল না। এই ছেলে তার জুনিয়র, তবুও তার চোখের ঝাঁঝে ইসমাতের সব এলোমেলো হয়ে গেছে। চিরচেনা আত্মবিশ্বাস খুইয়ে বসেছে অনুভূতির শক্তিতে। ভালোবাসা, ভালো লাগা, লজ্জা, মুগ্ধতা, এগুলা বুঝি এত ভয়াবহ হয়, যে মানুষ তার চিরচেনা খোলশ থেকে অন্য এক চরিত্রে ঢুকে পড়ে? এটাই কি হচ্ছে তার আর সাহিদের মধ্যে?

ইসমাতের মনে অন্য রকম অনুভূতি এসেছিল সম্ভবত এক্সিডেন্টেরও আগে। কিন্তু মনের খোঁজ কখনো নেওয়ার প্রয়োজনবোধই করেনি। তাদের দুজনের ক্ষেত্রেই হয়তো এমন হয়েছে। কে, কখন, কোন সময়ে প্রেমে পড়ল— এর সঠিক ব্যাখ্যা নেই। তবে এই অনুভূতি খুবই নতুন। মানুষ বলে বিয়ে হলে, আল্লাহ নিজেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা তৈরি করে দেন। সেটাই বুঝি ফলে গেল দুজনের মাঝে। এ নিয়ে অবশ্য কোনো অভিযোগ নেই। বিয়ে যেহেতু হয়েছে, অনুভূতির শুরু যে হওয়ারই ছিল।

ইসমাত সাহিদের নজর এড়িয়ে বলল,
--"কোনটা খাবে?"
--"বিউটিফুল.."

ইসমাত বিষম খেল। পানি খুঁজল সে। শান্ত হয়ে তাকাল সাহিদের দিকে। এই নজরে সে প্রথমবারের মতো ভড়কে গেল। যার ফলস্বরূপ সে দুই ধাপ পিছিয়ে গেল। ঢোঁক গিলল, নিজেকে সামলানোর ব্যর্থ চেষ্টা করল,
--"কি বললে?"
--"বিউটিফুল।"
--"খাবার?"
--"আপনি।"

নজর তখনো সরে না সাহিদের। ইসমাত হাসফাস করল, চোখ ফিরিয়ে নিল। মিনমিন করে বলল, 
--"সুন্দর মানুষকে তো সুন্দর লাগবেই।"
--"আপনার মতো করে সুন্দর আগে কাউকে লাগেনি, ইসমি।"

সাহিদদের জন্য আপাতত পার্টি শেষ। ওরা সবাই এখন বিয়ার, হুইস্কি নিয়ে বসেছে। ম দ খাবে আর বিভিন্ন আলোচনা করবে তারা। ইসমাত আর সাহিদ ফিরে আসে। ইসমাত শাড়ি না পালটে টেরেসে আসে, রেলিঙে হাত প্রসারিত করে রাতের শহরের ঘ্রাণ নিল। তখনো বুঝতে পারেনি সাহিদ পিছে আছে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই সাহিদ ইসমাতকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। এক হাত শাড়ির ভেতর দিয়ে গলানো। আকস্মিক কাণ্ডে ইসমাতের রূহ কেঁপে উঠল। এই ধরণের স্পর্শ ইসমাতের জন্য খুবই নতুন। সাহিদের খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির চোয়াল ছুঁলো ইসমাতের কাঁধ, কম্পন বেগতিক শুধু বাড়ছে।
--"সা..সাহিদ!"

--"ইটস নট এনি ফোর্স, ইটস আ স্টর্ম ইসমি। এন ইনার টর্নেডো। আই ক্যান্ট.. কান্ট্রোল। জা..জাস্ট লেট মি হোল্ড ইউ।" সাহিদের কণ্ঠস্বর খুব গাঢ় এবং ঘোরমাখা। আজ যেন ওয়াইন ছাড়াই নেশা করে ফেলেছে সে। ইসমাতের নেশা।

ইসমাত ছোটার চেষ্টা করল না। সাহিদ এভাবেই ওর গালে ঠোঁট ছোঁয়াল। ইসমাত খামচে ধরল সাহিদের হাত। সাহিদ আবারও তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল,
--"আগে যদি জানতাম আপনাকে শাড়িতে দেখলে আমার নেশা উঠবে, আমি অসংখ্য শাড়িতে আলমারি ঠেসে দিতাম ইসমি। আই সোয়্যার! ইউ আর আ ড্রাগ, রিয়েল ড্রাগ।"

ইসমাতকে নিজের দিকে ফেরাল সে। তার মাথা নিচু। সাহিদ চিবুঁক ছুঁয়ে মাথা তুলে বলল,
--"খবরদার এই শাড়ি অন্য কারো সামনে পরবেন না। আমার জন্য পরবেন, জাস্ট.. ফর মি!"

সাহিদ থেমে ইসমাতের ঠোঁটের কাছাকাছি এগিয়ে এলো। ইসমাত জমে গেল, নড়চড় করছে না একদমই। বুকের বা পাশটায় ঢোল বাজার মতো শব্দ হচ্ছে। সাহিদ শেষবারের মতো ফিসফিস করে বলল,
--"ফর দ্য ফার্স্ট টাইম, আ'ম প্রাউড উইদ মাই প্যারেন্টস ডিসিশন। লাকিলি, ওনাদের জন্যই আপনাকে মিসেস মুস্তাহাব হিসেবে পেয়েছি। কোন সিনেমায় বলে না.. 'কংগ্রেস.. আই লাভ ইউ?' আজ আমি বলছি আপনাকে। কংগ্রেস.. মিসেস ইসমাত। আই ফেল ইন লাভ উইদ ইউ, বেডলি।"

বলেই দুজনের অধর মিশল। ইসমাত খুব করে অনুভব করল ঝাঁঝালো সিগারেটের, খসখসে ঠোঁটজোড়া। সাহিদ ডেস্পারেট হয়ে তার কোমর জড়িয়ে নিয়েছে। খুবই শক্ত করে। যেন হাত ফসকে গেলেই হারিয়ে ফেলবে ইসমাতকে। আজ তাকে হারানোর মতো সাহস কিংবা শক্তি.. তার মাঝে নেই।

—————

সাহিদ ইফরাকে বহু পাম-পট্টি দিয়ে কতগুলা জামদানি, কাতান, জর্জেট শাড়ি আনাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নিয়েছে জামদানি শাড়ি। কেন যেন ইসমাতকে জামদানি শাড়িতেই বেশি মানায়। সাব্বির একবার বলেছিল তার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক ছিল এক জামদানি ব্যবসায়ীর। মাকে জ্বালিয়ে ওই লোকের জামদানিই কতগুলা ছবি আনিয়েছে। সেখান থেকে নিজেই বিভিন্ন রঙের শাড়ি পছন্দ করেছে। এসবে বিরক্ত ইসমাত। শাড়ি আনানোর কোনো মানে আছে? সে তো শাড়িই পরে না, একদিনই শুধু পড়েছিল। কিন্তু সাহিদ কি এতকিছু শোনার পাত্র। ইসমাত রাগ দেখিয়ে বলল,
--"এত শাড়ি কে পরবে?"
--"অফ কোর্স আপনি। আমার কি দুই চারটা বউ আছে নাকি?"

--"নতুন করে বিয়ে করার বুঝি খুব তাড়া?"

--"সবাই কি আর আপনার মতো আমাকে সহ্য করতে পারে বলুন?"

সাহিদের সাথে ইসমাত সেলেস্ট আর তার মায়ের জন্যেও জামদানি আনাল, নিজেই তাদের জন্য কালার বেছে দিয়েছে। ইসমাত যখন সেলেস্টের জন্য চুজ করতে বলল সাহিদের কপাল কুঁচকে গেছিল,
--"আ'ম এক্সপেন্সিভ! এভেইলেবল অনলি ফর ইউ, ইসমি। আমি অন্যদের জন্য কিছু চুজ করি না।"

ইসমাত গোপনে শুধু হেসেছিল, ছেলেটা আগের মতো থাকলেও.. বদলিয়েছে শুধু তার ক্ষেত্রেই। অবশ্য, জ্বালানো এখনো বন্ধ করেনি। অফিস, বাড়ি কোথাও ছাড় দেয় না। জ্বালানো তার জন্য বাধ্যতামূলক। 

এসবের পাশাপাশি দুই বোন বিভিন্ন পরিকল্পনায় মজেছিল। আসলে কে কোথায় যাবে, কোথায় ঘুরবে ইত্যাদি। সাহিদ এসব নীরবে শুনত নিজের ফোনের দিকে চেয়ে। বিড়বিড় করে বলত, 
--"পোর গার্লস, রং টাইমিং।"

—————

আজ ইফরা আর আশিফ আসছে ফ্রান্সে। এই মুহূর্তে ইসমাতের বিভিন্ন আয়োজনে ব্যস্ত থাকার কথা, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা। তা না, ওরা বসে আছে ট্রেনে। যাচ্ছে প্যারিসের বাইরে। সাহিদ শাবাবকে ওদের দায়িত্ব দিয়ে সে আরেকজন এমপ্লি নিয়ে যাচ্ছে ফ্রান্সের এক সুন্দর গ্রামে। সেখানেই থাকবে ওরা কিছুদিন। এরপর ফিরে আসবে। ততদিনে যদি ইফরারা থাকে, তাহলে দেখা হবে। না হলে নেই।

এতে করে ভিষণ রেগে আছে ইসমাত। এটা কি ধরণের আচরণ? সাহিদ তো কাজের নাম করে তাকে নিয়ে একদম ট্রেনে উঠে গেছে, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই। সাহিদ ইসমাতের এই রাগের খুব একটা পরোয়া করল না। মেয়ে মানুষের রাগ ধরে বসে থাকলে জীবন-নীতির উন্নয়ন সম্ভব না। কতক্ষণ ইসমাত রাগ করে বসে থাকলেও এবার মুখ খুলল,

--"এটা কি ধরণের আচরণ?"

সাহিদ খুবই দায় সারা ভাবে বলল, 
--"কোনটা!"

--"আমার বোন ফ্রান্সে আসছে। ও ইমিগ্রেশন পার করে আসবে কিছুক্ষণের মাঝেই।"

--"সো হোয়াট!?"

ইসমাত অবাকের চরম পর্যায়ে। মানে কি এসবের? এমন জ ঘ ন্য আচরণ করছে কেন?
--"আমি অবাক হচ্ছি তোমার কাণ্ডে।"

--"বিয়ের বছরগুলো কাটুক, আরও বহুবার অবাক হবেন।"

--"আমরা ফিরতি ট্রেনেই ফিরব।"

--"নেভার!"

--"তোমার কথায় চলবে?"

--"অফ কোর্স, আ'ম ইওর হাসবেন্ড.. রিমেম্বার?"
--"হাসবেন্ড না ছাই! অকাজের পাত্র পুরো!"

--"অকাজ তো আপনি করতে যাচ্ছিলেন ইসমাত!"

--"মানে?"

--"ওরা নিউলি ম্যারিড, হানিমুনে আসছে। কোথায় একা সময় কাটাবে, আমরা স্পেস দিব.. তা না! উলটো আমরা ওদের রোমান্সে কাবাবে হাড্ডি হবো। ওরা তো আরও আগে হবে। আপনার হানিমুনের ইচ্ছে নাই থাকতে পারে, ওদের আছে। আপনারা দুই বোনই মাথা মোটা!"

ওদের হানিমুনের কথা শুনে অস্থায়ী ভাবে চুপসে গেলেও এবার সে মাথামোটা শুনে ক্ষেপে গেল।
--"আমরা মাথামোটা? তাহলে তুমি কি?"

সাহিদ হালকা ঝুঁকে এসে বলল,
--"ওয়াইফ এডিকটেড ম্যান!"
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp