ভাইয়ের বন্ধু যখন বর - পর্ব ৫০ - ইয়াসমিন তানিয়া - ধারাবাহিক গল্প


"প্রায় একমাস হয়ে গিয়েছে তিশা অফিসে যায়না।জিসানই তিশাকে অফিসে আসতে নিশেধ করে দিয়েছে।তাই তিশার পুরোটা সময় এখন বাসায় কাটে।তানজিলার সাথে বাড়ীর প্রত্যেকটা কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করে।
-এতোদিন অফিস নামক প্যারার কারণে বাড়ীর মানুষগুলোকে তেমন সময় দিতে পারেনি তিশা।তাই এখন যেহেতু অফিস নেই,আর কলেজেও যেতে পাড়ছে না, তাই এই সময়টুকু বাড়ীর সবার সাথে হাসিখুশি পার করতে চায় তিশা।"

---তিশার দিনগুলো ভালোই চলছিলো,আর রাতটা মধুময় জিসানের সাথে।কারণ প্রতিরাতে জিসান ঠিক সময়মতো এসে পড়তো তিশার কাছে।তাই তিশাও এখন আগের থেকে অনেক ব্যাটার ফিল করছে।
'জিসানও যেনো ওর আগের তিশাকে পেয়ে গেলো।হাসিখুশি চঞ্চলতায় ভরপুর তিশা,এমন তিশাকেই তো জিসান ভালোবেসে ছিলো।যে উদ্দেশ্যে জিসান তিশাকে খাগড়াছড়ি নিয়ে গিয়েছিলো,তা এখন সফল হতে দেখতে পাচ্ছে জিসান।'

"সবই ঠিক চলছিলো, তবুও কিছু যেনো একটা ঠিক নেই।পরিবারের সবাই তিশার এই চেন্জ দেখে খুশি হলেও একজন তিশার উপর কিছুটা ক্ষোভ জমা করে রেখেছে।আর সে আর অন্য কেউ না তিশার শ্বাশুরী রাবেয়া।"

---সে কিছুতেই মানতে পাড়ছে না,তিশা এতো সহযে,এতো তারাতারি জিসানকে ভুলে গেলো।তাহলে এছিলো জিসানের প্রতি তিশার ভালোবাসা।
'আমার ছেলেটা এই মেয়েকে ভালোবেসে নিজের জীবনটা শেষ করে দিয়েছে,আর এই মেয়ে!এই মেয়ের মনে ঈদানিং লাড্ডু ফুটেছে মনে হয়।
এতো খুশি!এতো আনন্দো পায় কই।কিসের জন্য এতো খুশি।
-আরিয়ান নামের ওই ছেলেটার সাথে খাগড়াছড়ি গিয়ে আসার পর থেকেই এই মেয়ের মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।তার মানে কি আমার জিসানের জায়গা এই আরিয়ান নিয়ে নেয়নি তো তিশার মনে।রাবেয়া বেগমের মনে এক অজানা ভয় শুরু হয়ে গিয়েছে।কিছুতেই মানতে পাড়ছে না,তিশার আচানক এমন পরিবর্তন।

"তিশা এতোদিনে বুঝে গিয়েছে,শ্বাশুরী মা যে ওর উপর একটু নারায।আগের মতো আদর করে কথা বলে না।তিশার হাতের কিছু খেতে চায় না।এমনকি তিশাকে সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।বাড়ীর কোনও গুরুত্ব পূর্ন কাজে তিশাকে শামিলও করেনা রাবেয়া।"

---.রাবেয়ার এমন আচরণ শুধু তিশা না, বাড়ীর সবাই খেয়াল করেছে।কিন্তু এই মুহুর্তে কিছু বলা মানে হিতের বিপরীত হতে পারে বলে মনে করে সবাই চুপ থাকে।
এছাড়া তিশাও চায়না এসব নিয়ে কোনও প্রকার ঝামেলা হোক।
কারণ তিশা বুঝতে পাড়ছে ছেলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণেই শ্বাশুরী ওর সাথে এমন আচরণ করছে।তা না হলে,যে নিজের সন্তান না যেনেও জিসানকে এতো ভালোবাসতে পারে,সে আমাকে কেনো ঘৃণা করবে।আমার বিশ্বাস যেদিন সত্য জানতে পাড়বে মায়ের এই অভিমান সব দূর হয়ে আমাকে কাছে টেনে নিবে আবার।আর এটা খুব শীঘ্রই হবে।"

---তিশা যখন শ্বাশুরীর মন জয় করতে ব্যস্ত ছিলো,ঠিক তখনি আসে আরেক ঝামেলা তিশার জীবনে।
বলা নেই,কথা নেই একদিন শামসুর রহমান এসে হাজির হলো তিশার শ্বশুর বাড়ীতে।তিশা বাবাকে নিজের বাড়ীতে এতোদিন পরে দেখে আনন্দে যেনো চোখে জল চলে আসলো।
জিসানের নিষেধ এর কারণে তিশা বাড়ী থেকে বের হতে পারছিলো না,যার কারণে নিজের বাড়ীও যাওয়া হয়না অনেকদিন ধরে।
তবে বাবার আচানক এখানে আসার কারণ যেনে তিশার সব আনন্দো মুহুর্তে বেদনায় পরিনত হলো।

'শামসুর রহমান তৌফিক সাহেবকে তিশাকে নিজের সাথে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটা জানায়।'

'-তৌফিক সাহেব সব কথা শুনে তিশাকে জিঙ্গেস করে,
তিশা মা, তুমি কি তোমার বাবার সাথে যেতে চাও।'

---তিশা কিছুক্ষণ চুপ থেকে,এবার শ্বশুরের সামনে গিয়ে বললো,
বাবা আমি যদি এখানে থাকি,তাহলে কি আপনাদের খুব বেশি সমস্যা হবে।

'কি বলছো এসব তিশা,আমাদের কেনো সমস্যা হবে।এটা তোমারও বাসা।এই বাড়ীতে তোমারও অধিকার আছে যতোটা জিসানের ছিলো।তুমি আমার জন্য আজও আমার জিসানের বউ।তাই নিজেকে কখনো এই বাড়ীতে অবলা মনে করবে না।
তুমি না চাওয়া পর্যন্ত কেউ তোমাকে এ বাড়ী থেকে বের করতে পাড়বে না।শ্বশুরের কথা শুনে তিশার চোখ দু'টো আনন্দে ছলছল করে উঠলো।তিশা এটাই আশা করেছিলো শ্বশুরের কাছ থেকে।'

"কিন্তু শামসুর রহমান মানতে নারায।তাই তিশার হাতটি ধরে নিজের পাশে বসিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলো।"

---কিন্তু তিশা আজ প্রথমবার বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বললো।
বাবা তুমি যখন যা বলেছো আমি করেছি।কখনো কোনও বিষয় তোমাকে প্রশ্ন করেনি।জানারও চেষ্টা করেনি।কিন্তু আজ আমাকে ক্ষমা করে দেও।আমি পাড়বো না তোমার কথা মানতে।
শামসুর রহমান কিছু বলতে চেয়েছিলো তিশাকে কিন্তু তখনি, 
"তাওহিদ বাড়ীতে প্রবেশ করে।তানজিলা ফোন করে শামসুর রহমানের এখানে আগমনের কথা জানিয়েছিলো।আর এতে তাওহিদের তেমন কোনও মাথা ব্যাথা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছিলো তানজিলাকে।"

'-তবে একটু পর যখন রায়হান ফোন করে,আর ফোন করে যা বলে এতে তাওহিদ কিছুক্ষণ শোকড এর মধ্যে চলে যায়।ভাইয়ের প্রতি রাগ হলেও এখন বর্তমান পরিস্থিতি সামলানো দরকার বলে মনে করে বাড়ীর দিকে রওনা দেয়।
এই সময় তাওহিদকে বাসায় দেখে সবাই কিছুটা হলেও অবাক হয়।তবে এসব নিয়ে ভাবার সময় এখন নেই তাওহিদের।তাই ও কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই শামসুর রহমানকে বলে,

---আংকেল আমাদের বাড়ীর গার্ডগুলো দেখেছেন, তা সব আপনার মেয়ের জন্য করে গিয়েছিলো আমার ভাই।কোনো এক অজানা ভয়ের কারণে।আর ওই ভয়টা ওর সত্যও হয়েছে।এতোবছর পর অর্ক আবার ফিরে এসেছে।
শুধু তাইনা তিশা গার্ড ছাড়া যাতে কোথাও যেতে না পারে তারও ব্যবস্তা পুরোপুরি করে গিয়েছে।তারও কারণ কিছুদিন আগে তিশার উপর হামলা হবার পর জানতে পারি আমরা।
তাহলে এখন বলুন আপনার মেয়ের সুরক্ষার জন্য যে,আমার ভাই এতোকিছু করে গিয়েছে,সেই মেয়েকে আপনার সাথে নিয়ে গেলে তাকে কি পাড়বেন আপনি আমার ভাইয়ের মতো সুরক্ষা করতে।
তার উপর জিসানের এতোবড় বিজনেস ওর সবকিছু এখন তিশার নামে, এখনতো ওর আরো পায়ে পায়ে শত্রু বেজে গিয়েছে।এসব জানার পরও কি আপনি বলবেন,তিশা আপনার সাথে যাওয়া ঠিক হবে।আমিতো তা মনে করছি না।
তাই বলছি আবেগ দিয়ে না ভেবে,একটু চিন্তা করে দেখুন,এরপর বাকিটা আপনার ইচ্ছা।
শামসুর রহমানকে এসব বলেই তাওহিদ আবার চলে গেলো গাড়ী নিয়ে কোথাও।
এখন কাউকে খুব মারতে মন চাইছে তাওহিদের,নিজের এই ইচ্ছাটা আজ ভাইকে দিয়েই পূরণ করবে।

'শামসুর রহমানও কিছুক্ষণ ভেবে,তিশাকে ভালো থেকো বলে চলে গেলো।'
___________

"ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে নিশি ও নিলু কফি খাচ্ছিলো আর আজকের ক্লাশের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলো।ঠিক তখনি হঠাৎ কোথা থেকে আশিষ এসে ওদের পাশের চেয়ারে বসে পড়লো।
-আশিষকে দেখে নিশি একটুও অবাক হলো না।কারণ এ কয়েকদিনে খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে আশিষের সাথে নিশির।তবে তা একটা পরিসীমার মধ্যে।"

---রায়হানের কথায় নিশি আশিষকে এভোয়েড করার চেষ্টা করেছে,কিন্তু ছেলেটি বারবার সবার সামনে সরি বলে নিশিকে কিছুটা বিব্রত অবস্থায় ফেলে দিতো।
তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই আশিষের সরিটা একসেপ্ট করে নেয় নিশি।

"সরি একসেপ্ট করার পর নিশিকে এক নতুন ঝামেলায় পড়তে হয়।এই যেমন-আশিষ যখনতখন নিশির সাথে কথা বলতে এসে পরে।তবে আগের মতো বেড ম্যানারস করেনা,বা উল্টাপাল্টা কথাও বলে না।পড়ালিখা,ক্যাম্পাস বা টিচারদের কথা ছাড়া তেমন কথা বলেনা দেখে ওকে নিষেধও করতে পারেনা নিজের সাথে কথা বলতে।"

-আজও তাই হলো,ক্যান্টিনে নিশিকে বসে থাকতে দেখে আশিষও এসে হাজির হলো।

'আশিষ তুমি এখানে কি করছো,ক্লাশ নেই তোমার।'

---আছেতো, বাট করতে মন চাইছে না।

"এটা কেমন কথা আশিষ ,ইচ্ছে করছে না মানে।এভাবে ক্লাশ মিস করা ঠিক না আশিষ।সামনে তোমার এক্সাম চলে আসছে।পড়াশুনার প্রতি এতোটা উদাসীন হলে কি করে চলবে।"

---আশিষ একটু বিরক্ত হয়ে নিশিকে বললো,শুনেছি তোমার বান্ধবী উরফ তোমার ভাবী নাকি ক্লাশ করতেই আসে না।তাহলে তার কি কোনও সমস্যা হয় না।তাকে কেনো বলছো না নিয়মিত ক্লাশ করতে আসতে।বাড়ীতে বসে বসে করেটা কি?

'কার কথা বলছো তুমি।'

---কারো না,চললাম আমি।পরে কথা হবে বলে আশিষ চলে গেলো।

আর এদিক দিয়ে নিশি একটু ভাবনায় পরে গেলো,আশিষ তিশাকে কি চিনে।কিন্তু কি করে।তিশাতো কলেজেই আসে না।খুব কম সংখ্যক স্টুডেন্ট তিশাকে চিনে,আর আশিষ নতুন এসেছে কলেজে।আশিষ কলেজে আসার পর তিশা একদিনও কলেজে আসেনি,তাহলে আশিষ কি করে!আর তিশা আমার ভাবী এটাও কেউ কলেজে জানে না।তাহলে!
______________

"অফিসের টেরিছে পাতানো একটা চেয়ারে ক্লান্ত হয়ে বসে আছে তাওহিদ।আজ অনেকদিন পর ছোটবেলার কিছু স্মৃতি মনের জানালা দিয়ে উকি দিয়ে উঠলো।"

---তাওহীদ থেকে কিছু দূরে ফ্লোরে বসে হাফাচ্ছে জিসান।আজ বহুত বছর পর বড় ভাইয়ের হাতে মার খেয়েছে।তাই হজম করতে একটি কষ্ট হচ্ছে ব্যাচারার।

'ভাই আমি এখন বড় হয়ে গিয়েছি।দু'দিন পর আল্লাহ চাইলে বাচ্চার বাপ হয়ে যাবো,আর এই বয়সে তুমি আমাকে মারলে।তাও আবার আমার এই শয়তান বন্ধুগুলোর সামনে।মান সম্মান কিছুই রাখলে না।'

"ছাদের কর্ণার সাইডে দাঁড়িয়ে নিলয় আর রায়হান হাসছে,এদের দু'ভাইয়ের কান্ড দেখে।"

---তোমাদের সব কিছু বলাই ভুল হয়েছে।চুপ হয়ে থাকলেই ভালো হতো মনে হয়।(জিসান)

"হুম ভালো হতো তো।আর কয়েকদিন পর বললে,নিজের বউয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে যেতে পারতি।
তোর শ্বশুর কে তো চিনিস।আজকে তো কাছা মেরে মাঠে নেমেছিলো,তিশাকে নিজের সাথে নিয়ে যাবার জন্য।
তারপর দু'দিন পর মেয়েকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে কোনও সুপাত্রের হাতে তুলেও দিতো।আর তুই বড় একটা গিফ্ট নিয়ে বউকে নতুন জীবনের শুভেচ্ছা দিতি।তখন খুব ভালো হতো তাই না।কি বলিস!ব্যবস্তা করবোনি কোনও সুপাত্র তোর বউয়ের জন্য।"

---ভাই....!(জিসান)

"কি ভাই হে!"

'মাইর কি কম হয়েছে নাকি আরো একটু খাবি।বল!এবার কিন্তু হাড্ডিগুলোও ভেঙ্গে দেবো।'

---জিসান ভাইয়ের পায়ের কাছে এসে বসে-সরি ভাই।আর এমন হবে না।বাট একটা জিনিস তোমাদেরকেও মানতে হবে আমি কিন্তু একজন ধারুন অভিনেতা।কি বোকাটা না বানিয়েছি সবাইকে।আমারতো বিশ্বাসই হচ্ছে না।সিরিয়াসলি! 
তোমরা বিশ্বাস করলে কিভাবে আমি জিসান না আরিয়ান।
এটা রিয়েল লাইফ ভাই,কোনও নাটক বা সিনেমা না যে, যেখানে নায়ক মরে বেঁচে আসবে।
বা তার কোনও ডুবলিকেট এসে তার জায়গা দখল করে নিবে।আমিতো ভেবেছিলাম প্রথম দিনই ধরা খেয়ে যাবো।কেমন স্টুপিট মার্কা আইডিয়া ছিলো তাই না।

'তাওহীদ জিসানের মাথায় হাত রেখে,মন তো মানতে চায়নি, কিন্তু ওই যে একটা কথা আছে না, আমরা প্রমাণে বিশ্বাসী।তাই তো মনকে প্রাধান্য না দিয়ে কাগজে লিখা প্রমাণগুলোকে বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম।কিন্তু এখন তুই বল, এতো মানুষের ইমোশন নিয়ে কেনো খেলা করলি।'

"ভাই আমি কারো ইমোশন নিয়ে খেলা করতে চাইনি,বাট পরিস্থিতি এমন হলো যে আমার হাতে কিছুই ছিলো না।
আমার উপর দু'বার হামলার পর,তৃতীয়বার হামলার সময় আমি কিছুটা প্রস্তুতি রেখে ছিলাম।তাই হয়তো ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছি।"

---হয়েছিলো কি?খুলে বলতো।(তাওহিদ) 

"সেদিন ফ্যাক্টরি থেকে বাসার দিকে রওনা দিয়েছিলাম গাড়ী করে।কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম আজও আমার গাড়ীর ব্রেক ফেল করা হয়েছে।কিন্তু আজ গাড়ীটি কন্ট্রোল করতে ভীষণ বেগ পেতে হলো।অবশেষে গাড়ী থেকে লাফিয়ে পড়া ছাড়া কোনও উপায় ছিলো না।
আমি জানতাম,হয়তো এবার আমি মরে যাবো,আর ভাগ্য ভালো হলে বেঁচেও যেতে পারি।আর তাই হলো।
আমি ভীষন ইনজুরি হয়ে গিয়েছিলাম।মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলাম।
সোম কয়েকজন ছেলেকে আমার আড়ালে আমাকে গার্ড করতে বলেছিলো।
যাতে আমার যেকোনও বিপদের সময় ওরা আমাকে সাহায্য করতে পারে।আর সেদিন তারাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।খবর পেয়ে সোমও চলে আসে।সোম আমাকে নিয়ে পুরো ব্যস্ত হয়ে পরে।
আর এদিক দিয়ে মিডিয়া আমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দেয় চারদিকে।গাড়ীটা যেহেতু আগুন লেগে পুড়ে ছাড়খার হয়ে গিয়েছিলো তাই পুলিশও আমার ডেথ কনফার্ম করে দিয়ে কেস বন্ধ করে দেয়।"

---সোম যখন জানতে পারে এসব,সবাইকে বলতে চেয়েছিলো।কিন্তু আমার অবস্থা তেমন ভালো ছিলো না।সোম নিজেও জানতো না আমি বাঁচবো নাকি মরবো।তার উপর শত্রুর কোনও আইডেন্টি পাওয়া যাচ্ছিলো না,তাই সোমও চুপ থাকাটা ভালো মনে করলো।আর আমার জ্ঞান ফিরার অপেক্ষা করতে লাগলো।
এসবের মাঝেই সোম শুধু নিলয়কে ফোন করে বাংলাদেশে আসতে বললো।কারণ আমার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথে বিজনেসের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো।সোম জানতো এটা আমার অনেক পরিশ্রমের ফসল।আর আমার অবর্তমানে নিলয়ই পাড়বে এটাকে সামলাতে।

"হুম,সবই বুঝলাম।আমরা না হয় জিসানকে চিনলাম না,কারণ মাত্র একবার দেখা হয়েছে আমাদের সাথে কিন্তু তোমরা নিলয় আর রায়হান।তোমদের কি একবারও সন্দেহ হলো না।"

---কে বলছে ওদের সন্দেহ হইনি।শুধু কি সন্দেহ উঠে পড়ে লেগেছিলো আমাকে জিসান প্রমাণ করার জন্য।

"তাই নাকি।তাওহিদ হেসে।"

---হুম,শুধু কি ওরা,আমার বউ,আর বোনও কম ছিলো না।দু'জনে গোপনে স্পাইগিরি শুরু করে দিয়েছিলো।

"তাই নাকি,বাহ!তাওহীদ এর সাথে সবাই হেসে দিলো।আজ অনেকদিন পর সবাই একত্রিত হলো আগের মতো।"
__________

"তিশা মাগরিবের নামায পড়ার পর, সালাম ফিরাতে গিয়ে নিশিকে নিজের রুমে দেখতে পেলো।কেমন ক্রুদ্ধ চোখে তিশার দিকে তাকিয়ে আছে।তিশা নামায শেষ করে জায়নামাজটা ভাজ করে রেখে নিশির সামনে দাঁড়িয়ে জিঙ্গেস করলেো।"

-কি হলো আমার জানটুস বান্ধবীটার। এতো রেগে আছে কেনো আমার উপর।আর কখন এলি তুই।

"নিশি মুখটা অন্যদিকে ঘুড়িয়ে, তুই কথা বলবি না আমার সাথে।আর এখন কি আমার বাসায় আসতে তোকে বলে আসতে হবে।"

---আরে! আমি কি এটা বলেছি।আগে বল কেনো রেগে আছিস।

'-তুই সত্যটা যেনোও কেনো বললি না আমায়।'

"কোন সত্যের কথা বলছিস।"

---জিসান ভাই বেঁচে আছে।এই সত্যের কথা, নিশি দাঁতগুলো কটমটিয়ে।

"তিশা এবার নিশির পাশে বসে,নিশির হাতটা ধরে বললো,
দেখ এটাতো আমরা আগেই জানতাম যে আরিয়ানই হয়তো জিসান।কোনও এক কারণে নিজের আইডেন্টিটি লুকাচ্ছে।তাই তো অনেক চিন্তা করে তাকে জিসান প্রমাণ করার চেষ্টা বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম।"

---আর উনি আরিয়ান হয়ে যতোই নিজের আইডেন্টিটি লুকানো চেষ্টা করুক না কেনো।একটা জায়গায় এসে নিজেকে আর লুকাতে পারেনা।আর তা হলো,আমার প্রতি তার অনুভূতিগুলো।
আর উনার এই অনুভূতিগুলোর জন্যই অনেক আগেই আমার কাছে ধরা খেয়েছিলো।কিন্তু আমি চাইছিলাম উনি নিজের মুখে সত্যটা বলুক।
খাগড়াছড়িতে যাওয়া তার প্লান হলেও তাকে তার মুখে নিজের আসল স্বত্বাকে স্বীকার করতে বাধ্য করেছি আমি।আর আমি যা চেয়েছি তাই হলো,,,,।এরপর তিশা খাগড়াছড়িতে কি কি হলো সবই বললো নিশিকে।

"আম সো হেপি,তোর জন্য তিশা।আল্লাহ সত্যি মহান।চাইলে সব কিছু করতে পারে।দেখ আজ আবার তোর আঁচলে আল্লাহ তোর সব খুশি ঢেলে দিয়েছে।আল্লাহ কখনো তার বান্দাদের নিরাশ করেনা।তোকে দেখে আজ বুঝলাম।"

---হুম,ঠিক বলছিস।আমিও বুঝেছি।মন থেকে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে,আল্লাহ কখনো তার বান্দাকে নিরাশ করেনা।
"আচ্ছা, বাবা মা জানে।"(নিশি)

"না,এখনো না। জিসানকে বলেছি সব বলে দিই আমি।কিন্তু উনি বললেন উনিই বলবেন বাবা মাকে।কিন্তু আর কিছুদিন পর।"

---হয়তো কোনও কারণ আছে,ভাই ভেবেই সব করে।তুই টেনশন করিসনা।এবার দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে।ভাই এবার ওই অর্ক কর্ককে এমন শাস্তি দিবে যে,জীবনেও ভুলবেনা।দেখিস!

"হুম,সেটা আমিও জানি।কিন্তু মনের মধ্যে এক অজানা ভয় করছে কেনো জানি।"

-আরে তুই একটু বেশি ভাবিস।দেখবি চোখের পলকে ভাই সব ঠিক করে দিবে।
হুম,আল্লাহ চাইলে সব ঠিক হবে।(তিশা)
___________

"অফিসের ছাদের রেলিং এ পা ঝুলিয়ে বসে ব্যস্ত শহরটাকে দেখছে চারজন।কাজের চাপে নিজেদের লাইফের ব্যস্ততার কারণে হয়তো কখনো দেখাই হয়নি রাতের এই ব্যস্ত নগরীর ফাকা রাস্তাগুলোকে।
যেখানে দিনের বেলা মানুষের ভিড়ে পা রাখাও মুসকিল,সেখানে রাতেরবেলা এই পরিচিত রাস্তাগুলো ফাকা হয়ে কেমন অপরিচিত লাগে।

---হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাওহিদ জিসানের কাছে একটা সিগেরেট চাইলো।

"-জিসান সহ বাকি সবাই একটু শোকড!কারণ ভাইকে কখনো এসব খেতে দেখেনি জিসান।এমনকি বড় বড় পার্টিতে গেলে সেখানেও কখনো ভাইকে একটা ড্রিংক করতেও দেখেনি।সেই ভাই আজ তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে সিগেরেট চাচ্ছে,আশ্চর্য হওয়ারি কথা।"

---জিসান না বুঝার ভান করে,
ভাই তুমি একজন ডাক্তার মানুষ।তোমাকে ধূমপান মানায় না।আর তাছাড়া তুমিতো জানোই ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

'তাওহিদ একটু বিরক্ত হয়ে জিসানের দিকে তাকালো।সারাদিন চারপাঁচটা বিড়ি টানিস তুই।তখন মনে থাকেনা,স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
আর এখন তোর থেকে একটা বিড়ি চাইলাম বলে এতো কথা শুনাচ্ছিস।আমি কি তোর থেকে কম জানি।নাকি তোর ভাগে একটা কম পড়বে বলে এমন করছিস।'

---ভাই,মাপ করে দেও।আমিতো আবার ভুলেই গিয়েছি,তুমিতো ডাক্তার মানুষ,সবই একটু বেশি জানো।

"তাওহিদ বিড়ির স্বাধ নিতে গিয়ে একটু বিরক্ত হলো,আজ অনেক বছর পর নেওয়া হলো।কেনো হঠাৎ মনে এমন উদ্ভট চিন্তা আসলো বুঝলো না।
তবে এতোটুকু বুঝতে পাড়ছে,এই বিড়ি জিনিসটা যে এখন আর তার জন্য না।অনেক আগে এটার অভ্যাস ছিলো কিন্তু এখন আর নেই,তাইতো আগের মতো স্বাদও পায়না তাওহিদ।
তবুও বিড়িটা আজ শেষ করবে।মাঝে মাঝে না চাওয়ার জিনিসগুলো করতেও কেনো জানি অদ্ভুত ভালো লাগার কাজ করে।কারণ নিশিদ্ধ জিনিসগুলোর প্রতি মানুষের বরাবরই আকর্ষণ বেশি থাকে।

---কিছুক্ষণ পর, ইচ্ছা করলে তোরাও একটা ধরাতে পারিস।আমি কিছুই মনে করবো না।(তাওহিদ) 

'তাওহিদের বলতে দেরি তিনটার ধরাতে দেরি হলো না। তাওহিদ একটুও অবাক হলো না,এদের কান্ড দেখে।তিনটা প্রচুর সিগেরেট খোর।'

"কিছুক্ষণ পর তাওহিদ আবার তার গভীর কন্ঠে বললো,
আমি মনে করি এবার তোদের এটা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। 
নিজের জন্য না হলেও নিজের প্রিয়জনদের জন্য।"

---ভাই আসলে.....জিসান কিছু বলতে চেয়েছিলো।

"আমাকে বলতে দেও জিসান,
                ডাক্তারি জীবনে আমি অনেক কিছু দেখিছি।চোখের সামনে অনেকের করুন মৃত্যুও দেখেছি।তাই বলছি ছেড়ে দে।
আজ তোরা না ছাড়তে পাড়লে কাল নিজের সন্তানদের কি শিখাবি বল।বড় হয়ে তারাও এই অভ্যাসে পরিনত করবে নিজেদের।
এছাড়া এর জন্য যদি দেহে কোনও বিরাট মাপের রোগ বাধে,তখন চিন্তা কর,তোর পরিবারের কি হবে।
কখনো ভেবেছিস এই সামান্য জিনিসটা প্রতিনিয়ত আমাদের মৃত্যুর দিকে ঝুকে নিয়ে যাচ্ছে।তাই বলছি তোদের ছেড়ে দে,তিশার জন্য,নিশির জন্য।
তোদের আগামী ভবিষ্যৎ এর জন্য।জানি একটু কষ্ট হবে তবে ইচ্ছা থাকলে উপায়ও বের হবে।
ভাইয়ের কথা শুনে জিসান আর রায়হান কিছুক্ষণ ভেবে একত্রে সিগেরেটটা ফেলে দিলো।ওয়াদা করলো দু'জনেই ,যতোই কষ্ট হোক এবার এটাকে ছাড়বেই।
__________

"ডিনার টেবিলে বসে আছে আহমেদ পরিবারের সবাই।আর আজ তাদের সাথে জয়েন হয়েছে রায়হান নিশি,নিলয় আর আরিয়ান ডিনার করতে।"

---ভাইকে এতোদিন পর পেয়ে আজকের দিনটা একটু একসাথে কাটাতে চায় বলে,তানজিলাকে ফোন করে গেস্ট আসবে বলে ডিনারের আয়োজন করতে বললো।

'-রায়হান নিশিকে ফোন করে আগেই আহমেদ ভিলায় চলে যেতে বলেছিলো।
তাই এখন সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে ডিনার এন্জয় করছে।'

-রাবেয়া আরিয়ানকে দেখে একটু খুশি হলেও,তিশা আর আরিয়ানের ব্যাপারটা মাথায় আসলে কিছুটা ডিস্টার্ব ফিল করতে শুরু করে।

"শ্বাশুরীর মনের অবস্থা তিশা আগেই বুঝতে পাড়ছে,তাই সবার সামনে তিশা আরিয়ানকে একদম এভোয়েড করতে লাগলো।নিলয়ের সাথে কথা বললেও আরিয়ানের সাথে একদমই কোনও কথা বললো না।আরিয়ান কিছুটা অবাক হলেও কিছুই বললো না এই মুহুর্তে।"

-তিশার আরিয়ানের প্রতি এমন আচরণ দেখে মনে মনে একটু খুশিই হলো রাবেয়া।যাক তাহলে আমরা ধারণা হয়তো ভুল।তিশা কখনো আমার জিসানের জায়গায় অন্য কাউকে দিবেনা।

---কিন্তু তিশা জানে না,তিশার এই এভোয়েড এর বদলা যে কেউ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।ডাইনিং টেবিলে তিশার ঠিক অপজিট সাইডে জিসান বসে আছে।
তিশা খাবার মুখে দিতে গিয়ে হঠাৎ তিশার ফিল হলো কেউ পা দিয়ে ওর পায়ে স্লাইড করছে।প্রথমে তিশা এটা ভুলবশত মনে করে কোনও রিয়েকশন দিলো না।

"কিন্তু কিছুক্ষণ পর যখন একই ঘটনা আবার ঘটলো,এবার তিশা খাবার টেবিলে বসা সবার দিকে তাকালো সবার মুখের রিয়েকশন দেখতে।কিন্তু কারো চেহারা দেখে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না,এমনকি জিসানের ও না।দিব্বি কি সুন্দর করে খাবার গিলছে।"

'তাহলে করছেটা কে আমার সাথে।'

---টেবিলের নিচে তাকাতেই তিশা শোকড!যা ভেবেছিলো তাই।
জিসানের দিকে তাকাতেই, জিসান আড়ালে একচোখ টিপ মারলো তিশাকে।
তিশার রাগে গা জ্বলছে।খাবার টেবিলে বসে কেউ এমন করে।তিশাতো ভেবেই পাচ্ছে না।

"হঠাৎ নিশির কথায় তিশা ধ্যানমগ্ন থেকে ফিরে এলো।"

---কি রে খাচ্ছিস না কেনো।কখন ধরে দেখছি খাবার নিয়ে বসে আছিস।কি সমস্যা?

'তিশা অসহায় দৃষ্টিতে নিশির দিকে তাকিয়ে ভাবছে,তোকে কিভাবে বলি, কি সমস্যা।খেতে বসে কেউ এমন টর্চার করলে কি খাবার মুখে ঢুকে।'

---কি হলো, এমন বেয়াক্কলের মতো তাকিয়ে আছিস কেনো।

"কিছু না,আমার খিদে নেই।আমি চললাম বলে তিশা উঠার সময় জিসানের দিকে চোখ যায়।
কেমন ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জিসান তিশার দিকে।তার মানে-
এভোয়েড করার শাস্তি পেয়েও শিক্ষা হয়নি।এখন আবার ডিনার না করে চলে যাচ্ছিস।এবার শাস্তি কিন্তু আরো বেশি হবে।"

কিন্তু তিশা ডোন্ট কেয়ার একটা লুক নিয়ে চলে গেলো। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে ভাবছে-
মা ইমোশনাল টর্চার করে,আর ছেলে শারীরিক।এদের দু'জনের চক্করে শাস্তি শুধু আমাকেই পেতে হয়।
.
.
.
চলবে….............................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp