বিষে সবার ভয়! বিষাক্ত বস্তু এড়িয়ে চলার প্রবণতা বরাবরই দেখা যায় মানুষ নামক এই সচেতন প্রাণীর মধ্যে। জগতশ্রেষ্ঠ প্রাণীগুলো জানে না, নিজেদের মধ্যেই কী প্রবল বিষ বহন করে তারা। বোঝে না, প্রকৃতির কাছে তারা কালকেউটের চেয়েও ভয়ংকর! এদিকে শক্তিশালী কিছু চক্র সেই বিষ প্রয়োগ করে ধ্বংস করে দিচ্ছে সমাজ, দেশ। আইন, প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ধসিয়ে দিচ্ছে সমাজব্যবস্থা। যাদেরকে বলা হয় মাফিয়া! না, খুনখারাবি, ডাকাতি, ছিন্তাই করে বেড়ানো পাতি মাফিয়া না। এরা বাস্তবিক অর্থেই মাফিয়া। যারা কখনও সামনে আসে না, কখন নিজেদের প্রকাশ করে না। আবৃত থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, বিনোদনমূলক ব্যক্তিত্বের আড়ালে। জনসাধারণের কাছে এরা সেই মিথগল্প। যা শোনা যায়, বোঝা যায়, অস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু চাক্ষুস দর্শন করা যায় না। জনসাধারণের আড়ালে তাদের সৃষ্ট সেই রহস্যময় জগতকে বলা হয় আন্ডারওয়ার্ল্ড। এ জগতে সম্রাজ্য যতদ্রুত তৈরী হয়, ধ্বংস হয় তারচেয়েও দ্রুত। সম্রাজ্য ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলেও অক্ষুন্ন থাকে তাদের আড়াল প্রদানকারী সেসব ব্যক্তিত্বের মুখোশ। পুনরার নতুন সম্রাজ্য আসে। নিজ স্বার্থে পুনরায় আড়াল তৈরী হয়। এভাবেই চলে, চলতেই থাকে। শুধু সেই ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে থাকে অজানা একেকটা বিষাক্ততার গল্প, বিশ্বাসঘাতকতার গল্প। এমনি এক বিষাক্ততার গল্প অন্তর্নিহিত কালকূট। এখানে কোন কেন্দ্রীয় চরিত্র নেই। আছে কেবল একটা গল্প। স্বাভাবিক জগতের ওপিঠে থাকা বিষাক্ত এক জগতের গল্প। উপস্থিত প্রতিটা চরিত্রের নিজস্ব, স্বতন্ত্র গল্পগুলো এসে একত্রিত হবে এক সুতোয়। যা প্রকাশ করবে স্বাভাবিকতার আড়ালে ঘটে চলা নির্মমতার কাহিনী। সীমা অতিক্রম করবে নীতি, একাগ্রতা, বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস, তেজ, দৃঢ়তা, প্রেম, ভালোবাসা, ত্যাগের মতো চমৎকার সব অনুভূতি। অপরদিকে সর্বোচ্চস্থরে প্রকাশ পাবে বিশ্বাসঘাতকতা, হিংস্রতা, নৃশংসতা, উগ্রতা, স্বৈরাচারীতা, হিংসা, ক্ষোভ, ঘৃণা, প্রতিশোধ, ক্রুরতার মতো ভয়ংকর মনোভাব।
সূচিপত্রঃ—

সকল পর্বের লিংক সমূহ
প্রথম অধ্যায়
মাত্র বারোদিনে ঢাকা বিভাগ জুড়ে ঘটে গেল ছয়'ছয়টা রহস্যময় খুন। সমাধান করতে গিয়ে হিমশিম খেল গোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। খুন সম্পর্কিত কিছু তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা হল আলাদা জায়গায়, আলাদা সময়ে হলেও খুনগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অবশেষে কেইসটা তুলে দেওয়া হল গোয়েন্দা বিভাগের হাতে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হল ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে তুখোড় তরুণ ইনভেস্টিগেটর তুহিন আহমেদকে। আদাজল খেয়ে তদন্তে নামল তুহিন। রহস্যময় এই হত্যালীলার সমাধান করতে গিয়ে তুহিনের পরিচয় ঘটল আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার জগতের অজানা এক গল্পের। সে গোলকধাঁধায় নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলল তুহিন। ওর সন্দেহের তীর তখন সেই জগতেরই প্রতাপশালী এক রাজপুত্রের দিকে। কিন্তু রাজ্যের পাঠ চুকিয়ে রাজা, রাজপুত্র নিখোঁজ। নিঃস্ব, বিধ্বস্ত গোটা সম্রাজ্য। কী ঘটেছিল সেখানে? দুটো ঘটনা কী একইদিকে নির্দেশ করছে? সত্যিই কী খুনগুলো পরস্পর সম্পর্কিত? হলে কী সেই সংযোগ? কে সেই অন্তর্নিহিত খুনি? কেন ঘটাচ্ছে এই হত্যালীলা? লোভ, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা নাকি অন্যকোন অন্তর্নিহিত কারণ? উত্তর খুঁজতে গিয়ে একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনার সঙ্গে পরিচয় ঘটতে থাকে তুহিনের।
দ্বিতীয় অধ্যায়
অন্ধকার জগতের নিখোঁজ রাজপুত্র রুদ্র আমের। যাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে গোয়েন্দা বিভাগের তুখোড় ইনভেস্টিগেটর তুহিন আহমেদ। পরপর ন'টি খুনের অভিযোগ তার কাঁধে। পুলিশের নাকের ডগা থেকে তুলে নিয়ে গেছে নিজের দশ নম্বর টার্গেটকে। সময়ের সঙ্গে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে সেই খুনি। তদন্তের স্বার্থে অতীতের পাতা আরও গভীরভাবে ঘাটতে থাকে তুহিন। আমের পরিবারেরই এক সদস্য জ্যোতির কাছ থেকেই জানতে পারে হৃদয়বিদারক স্তব্ধ করে দেওয়া কিছু ঘটনা। আরেকটু গভীরে যেতেই চমকাতে বাধ্য হয় তুহিন আহমেদ, যখন জানতে পারে রুদ্রর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যকে। কী সেই সত্যি? কোথায় রুদ্রর প্রিয়তমা অর্ধাঙ্গিনী প্রিয়তা? ঘনিষ্ঠ বন্ধু উচ্ছ্বাসই বা কোথায়? অপরদিকে এমন কিছু আছে রুদ্রর হাতে যা প্রকাশ পেলে নড়ে যাবে সম্ভাব্য মন্ত্রী শওকত মীর্জাসহ প্রভাবশালী কিছু সমাজচালকের ভীত। সুতরাং শুরু হল নতুন ষড়যন্ত্র। এদিকে চব্বিশ ঘন্টা ধরিয়ে দেওয়া হল তুহিনের হাতে। রুদ্রকে আদৌ ধরতে পারবে তুহিন? সময় মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা!
তৃতীয় অধ্যায়
পরপর দশটি খুনের আসামী আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই পরিচিত নাম, রুদ্র আমের। দীর্ঘ পরিশ্রম আর বিরতিহীন তদন্তের পর তাকে অ্যারেস্ট করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা বিভাগের তরুণ, তুখোড় ইনভেস্টিগেটর তুহিন আহমেদ। কেইস সলভড! কিন্তু তুহিনের মন তবুও শান্ত হয় না। কারণ, বিগত দিনে তার সঙ্গে যে অপরাজেয়, ধূর্ত, ভয়ংকর রুদ্র আমেরের মোকাবেলা হয়েছে। ধরা পড়ে যাওয়া রুদ্র আমেরের সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক। শেষ মুহূর্তে যেন সেচ্ছায় সবটা ঘটতে দিল সে। কিন্তু কেন? প্রশ্নটা কুঁড়েকুড়ে খায় তুহিনকে। অপরদিকে সে জানে, রুদ্রর কাছে এমন তথ্য আছে যা খুলে দেবে সমাজে বসবাসকারী কিছু মুখোশধারীর মুখোশ। এ যেন কেঁচো খুড়তে কেউটে। সেই তথ্য চাই তুহিনের। যেকোন মূল্যে। তার সঙ্গে চাই উত্তর। পরপর ঘটা এই দশটা খুনের পেছনের মূল সত্য কী? কেন এতো বেশি বেপরোয়া রুদ্র। এতো অঘটনের পরেও নতুন কী ঘটেছিল? শুরু হল ইন্ট্রোগেশন। মুখোমুখি রুদ্র এবং তুহিন। জিজ্ঞাসাবাদ যত গভীর হচ্ছিলো ততই স্তব্ধ হচ্ছিলো তুহিন। শক্ত হচ্ছিলো শরীরের প্রতিটা নার্ভ। সবকিছুই যেন বেঁধে গেল এক অবিচ্ছেদ্য সুতোয়। শেষ মুহূর্তে তুহিন বলতে বাধ্য হলো সেই পরিচিত বাক্য, 'এভ্রি ভিলেইন ইজ আ ব্রোকেন হিরো!'