বৃষ্টি শেষে বিকেলে আধো পরিষ্কার আকাশে মেঘের মাঝে সূর্যের আলোর মিশেলে মায়াবি রঙে ছেয়ে গেছে চারপাশ।চারদিক স্নিগ্ধতায় ভরা,হালকা ঠান্ডা বাতাস এবং আকাশের এই বিচিত্র রঙে সবার মন ভালো হতে বাধ্য।কিন্তু ভিনার চোখে একরাশ বিষন্নতা,নিজের জগতে এতটাই ডুবে আছে যে নিষ্পলক কিন্তু ভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পাশের ছাদের দিকে,যদিও ছাদের কিছুই সে দেখছে না।এখন যদি হুট করে জিজ্ঞেস করা হয়,এই ভিনা,ঐ লাল ফ্রক পরা মেয়েটা কতক্ষণ ধরে দোলনায় দুলছে,ভিনা চমকে যাবে।
প্রিতি দাঁড়িয়ে অনেক্ষণ ধরে দেখছে ভিনাকে।রেহান পাশেই দাঁড়ানো।অসংখ্য প্রশ্ন মাথায় নিয়ে রেহান প্রিতির দিকে ঘুরে তাকালো।
--এত বিষন্ন লাগছে কেন ভিনাকে?
--এত কষ্ট নিয়ে যে বেঁচে আছে,এটাই তো অনেক।
প্রিতি বিড়বিড় করে বললো কথাগুলো।রেহান বুঝতে পারলো না সেটা,তাই কথা বাড়ালো না আর।বিয়ের আজকে তিনমাস,তাই ছোট কেক আর বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিলো সবার জন্য।রুশানের ল্যাব ছিলো ভার্সিটিতে,সন্ধ্যার দিকে আসবে।সাধারণত ভিনা হাসিমুখে কথা বলে সবার সাথে,রেহান আসলেই এটা ওটা নিয়ে আসে,গল্প করে ওদের সাথে বসে।বিয়ের পর খানিকটা হেজিটেট লাগলেও রেহান প্রায়ই ভিনার বাসায় আসে।কখনো চকো আর বেরিকে নিয়ে আসে ছাদে।ভিনার মনখুলে খেলে ওদের সাথে,কোলে নিয়ে আদর করে।আজকে অন্যদিনের চেয়ে আলাদা লাগছে ভিনাকে,চেহারায় মলিনতা,কথাও সেভাবে বলছেনা।
প্রিতি ছাদের অন্য প্রান্তে চলে গেলো,গত দুইদিনে যা হয়েছে,ভিনার জন্য নতুন কিছু না হলেও কষ্টদায়ক। রেহান গত পরশু বলেছিলো,প্রিতিকে নিয়ে একসাথে জার্মানি চলে যাওয়ার কথা।সেখানে এম এস সি কম্পলিট করে দুইজন মিলে জব করে সেটেল হওয়ার পরিকল্পনা করছিলো।এইদেশে থাকতে গেলে পারিবারিক বিভিন্ন সম্পর্কের টানাপোড়েনে সংসার করা মুশকিল হয়ে যাবে।যদিও ফারুকের সাথে একসাথে থাকা মোটেও কষ্টকর না,কিন্তু জেবা এখনো বিয়ের কথা জানে না।জানলে যে তামাশা শুরু হবে,সেটা প্রিতির পক্ষে সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে যাবে।বিশেষ করে জেবার ভাই মেজবা যখন পারিবারিক সালিশি বসাবে,সেসময় যে তির্যক মন্তব্য করবে উনি,তখন বড়দের লেহাজ করে থাকা মুশকিল।আর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে প্রতিবাদ করতে গেলে,সেটা হয়ে যাবে বেয়াদবি এবং এর পুরো দোষ এসে পরবে প্রিতির ঘাড়ে।শিক্ষিত হলেও জেবা এবং তার বাবার বাড়ির দিকের মানুষের মাঝে চরম পর্যায়ে গোড়ামি আছে কিছু বিষয়ে।শুদ্ধ ভাষা এবং এটিকেট শিখে গেলেও স্বভাবের দোষে এদের আসল রূপ বের হয়ে আসে মোক্ষম সময়ে।মানুষের দূর্বলতা নিয়ে ইচ্ছা করে সস্তা রসিকতা,অতীত নিয়ে ঠাট্টা,পারিবারিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে গায়েবি অহংকার এবং শারীরিক গঠন নিয়ে নিজেদের গবেষণা হতে প্রাপ্ত আবর্জনার মাপকাঠিতে মানুষকে বসিয়ে তাকে হীনমন্য ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত না করা পর্যন্ত এরা শান্তি পায় না।মানুষের অস্বস্তিতে এরা নিজেদের সুপিরিয়র লেভেলের প্রাণি মনে করে।মানসিক বিকারগ্রস্ত এসব মানুষের সামনে প্রিতিকে নিয়ে হেনস্তা করার কথা রেহান ভাবতেও পারেনা।
প্রিতি প্রথমে রাজি হয়ে গিয়েছিলো এই ভেবে যে রেহানের বাবা এবং রুশান তো জানে তাদের বিয়ে সম্পর্কে।পারিবারিক আংশিক স্বীকৃতি আছে,এর বেশি চাইতে যাওয়া হয়ত ঠিক হবে না।এসব ভেবেই সোহেল আর মুনার সাথে আলোচনা করেছিলো এই ব্যাপারে।যতই আপন করে রাখুক না কেন,প্রিতি তাদের রক্তের কেউ না।যেখানে বিয়ের পর মেয়েরা নিজের বাবার বাড়িতেই পর হয়ে যায়,সেখানে মাসের পর মাস এভাবে অন্যের বাড়িতে থাকা যায় না বিবাহিত হয়ে।যত্নের এবং আন্তরিকতায় ত্রুটি না থাকলেও প্রিতির মাঝে তীব্রভাবে কাজ করে অনাকাঙ্ক্ষিত হওয়ার অনুভূতি ।এটা নিতান্তই অন্যের বাড়িতে থাকার জন্য, নাকি রেহানের সাথে সংসার করার সুপ্ত বাসনা সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।যাই হোক,সেটার সারমর্ম এই যে সে এই বাসায় আর থাকতে চায়না।
মুনা আর সোহেলকে জানানোর পর খুব ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই দেখিয়েছে তারা।সোহেল এ ব্যাপারে জানার পর প্রিতির জন্য স্বর্ণের চেইন,আংটি, কানের দুল এবং রেহানের জন্য ভালো দেখে ঘড়িও কিনে এনেছেন।মুনা যদিওবা বলেছিলো,যাওয়ার আগে জেবাকে বিয়ের কথা জানিয়ে দিতে,কিন্তু রেহান সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানে যাওয়ার পর জানাতে।অন্তত পারিবারিক নাটকীয়তার সম্মুখীন হতে হবে না।
প্রিতি সব মিলিয়ে ভালোই ছিলো।নতুন জীবন শুরুর হাতছানিতে ভুলে গিয়েছিলো কারো কথা,যে যুদ্ধ করে এই জীবন প্রিতির জন্য বেছে নিয়েছিলো।
গতকাল সকালবেলা প্রিতি ভার্সিটির জন্য রেডি হয়ে বের হচ্ছিলো।অন্ধকার ড্রয়িং রুমে সোফার কোণায় ভিনাকে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করতে দেখে দৌড়ে সেখানে গিয়েছিলো।
--সোনা,কাঁদছিস কেন তুই?
ভিনা চমকে গিয়ে চোখ মুছে ফেললো।হাত দিয়ে চুল ঠিক করে তাকালো হাসিমুখে।
--এই,ভার্সিটিতে দেরি হয়ে যাবে তোমার,যাও।
--খুলে বল কী হয়েছে।
--কী আবার হবে,আজব তো!
--কাঁদছিস কেন এভাবে?
--এইযে,তুমি চলে যাবে আমাকে রেখে।অনেক একা হয়ে যাবো রে আপু।
প্রিতি ভিনার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো।কীভাবে পারলো এত স্বার্থপর হতে?যে মেয়েটার জন্য জীবনের সব আনন্দ খুঁজে পেয়েছে,তাকেই কীভাবে ভুলে গেলো অনায়াসে?এমনকি রেহান যে এই কথা বলেছে সেটাও পর্যন্ত জানায়নি!
--বাবু আমার ভুল হয়ে গেছে,আমি আসলে....
--খবরদার,এটা বলো না তুমি যাবে না।তুমি অবশ্যই যাবে!রেহান ভাইয়ার সাথে সুন্দর করে নিজের সংসার গুছাবে,তোমাদের বাবু হবে।আমি দেখতে আসবো কিন্তু...অনেক সুন্দর সংসার হবে....
ভিনা ডুকরে কেঁদে উঠলো।অনেক চেষ্টা করছে শব্দ না করতে, কিন্তু পারছে না।নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে।প্রিতির ভেতর একদম খালি হয়ে গেলো যেন। মাথা ভনভন করছে।
--আঙ্কেল কিছু বলেছে ভিনা?মাহভিনের সাথে থাকা নিয়ে কোনো ইস্যু হয়েছে?
--হ্যাঁ।তুমি যাওয়ার পর বাবা আমাকে মামার কাছে পাঠাবে।ঐ লোককে আমি চিনি না,জানি না।বড় কথা আমার নানির বাড়ির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।আমার মার মারা যাওয়ার কথা শুনেও তারা আসেনি।এমন মানুষের কাছে আমাকে পাঠাতে চাচ্ছে।কিছু বলতেও পারছিনা।হোস্টেলে তো এখন পাঠাবেই না।
--আর দাদুর বাড়ির দিক থেকে?
--আমার দাদি.....হাহ্!আমি এত একা কেন বলবে আপু?আমি হিসাব মিলাতে পারিনা একদম।
--কাঁদিস না বাবু।ঠিকি একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
--কথা দাও আমাকে ছুঁয়ে,তুমি রেহান ভাইয়ার কথা ফেলবে না আমার জন্য।আমার জন্য তোমাদের কনজুগাল লাইফে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
--ঠিকাছে।
প্রিতি তড়িঘড়ি করে চলে এসেছিলো।ভিনার মুখোমুখি আর থাকতে পারছিলো না কোনোভাবে।পৃথিবীর সবাই খারাপ,এমনকি সে নিজেও।
প্রিতির নতুন বিয়ে হয়েছে।রেহানের মাঝে খুঁজে পেয়েছে ভালোবাসা,ভরসা,সম্মান,প্রেম সবকিছু।রেহান ভেবে রেখেছে,বাইরে গিয়ে জেবাকে জানিয়ে দিবে বিয়ের ব্যাপারে।এমনিও বহু বছর ধরে মা ছেলের মাঝে শীতল সম্পর্ক।বাইরে গিয়ে এ ব্যাপারে জানানোর পরে যে প্রতিক্রিয়া হবে সবার,সেটা মোটামুটি জানা আছে,আর দূরে থাকলে কে কী বললো,ভাবলো সেটা যায় আসে না।সবকিছু নিয়ে রেহান অনেক বেশি উচ্ছ্বাসিত।যখনি দেখা হবে,ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ডুবে থাকবে।প্রিতিও রেহানের কাঁধে মাথা রেখে নিজের স্বপ্ন বুনে যায়।কিন্তু ভিনা?ভিনার কী হবে?বিবেক আর স্বপ্নের মাঝের এই অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রিতি একদম নিশ্চুপ হয়ে গেলো।রেহানকে কী বলবে?কেমন প্রতিক্রিয়া করবে সেই মানুষটা?
••••••••••••
-কাচ্চি আনতো ভাইয়া,বিরিয়ানি আনলো কেন?কাচ্চির উপর কিছু হয়?
খাবার খেতে খেতে চুমকিকে কথাগুলো বললো রুশান।ভার্সিটি থেকে ভিনার বাসায় এসেই খেতে বসে গেছে।সারাদিনের ব্যস্ততায় মুখে কিছু দেয়া হয়নি।আর কাচ্চি বরাবরই ওর সবচেয়ে প্রিয়।সন্ধ্যায় দুপুরের খাবার খেতে বসায় একাই খেতে হচ্ছে।ভিনা নিজের ঘরে।মুনা প্রথমে আসলেও পরে মাহভিনের কাছে চলে গেছে।চুমকি খাবার গরম করে ঝাঁঝ ছাড়া ঠান্ডা এক গ্লাস কোক দিয়ে গেছে টেবিলে।খাবারের মাঝখানেই প্রিতি আসলো।
--খবর কী রুশান?
--আরে ভাবি,বসো না।কেমন আছো?
--ভালো আছি।তোমার দিনকাল কেমন যাচ্ছে?
--অনেক চাপে আছি ভাবি।এত্ত প্যারা!
--ভার্সিটিতে,নাকি বাসায়?
--দুই জায়গায়ই!
রুশান হেসে বললো কথাগুলো।প্রিতি গ্লাসে পানি নিয়ে আবার বসলো রুশানের কাছে।মাথা নিচু করে রাখলো।যে কথা বলার কথা ভাবছে,সেগুলো বলা সহজ না।
--ভাবি?তুমি কি কিছু নিয়ে অনেক চিন্তিত?
--হ্যাঁ, আমি ভিনাকে নিয়ে ভাবছিলাম।
--ভিনাকে নিয়ে?কোনো প্রবলেম হয়েছে?আমাকে খুলে বলো ভাবি।
--বলবো ধীরে ধীরে।আগে আমাকে কিছু কথা বলো,কেমন?
--অবশ্যই,বলো কী জিজ্ঞেস করবে?
--খেয়ে নাও। এরপরে ধীরে সুস্থে বলছি।
রুশান বক্সের পুরো বিরিয়ানি শেষ করলো না।আধপেট খেয়েই দ্রুত মুখ ধুঁয়ে আসলো।ভিনার কোনো সমস্যা হয়েছে,শুনেই ভেতরে অস্থিরতা কাজ করছে।এসময়ে কোনোভাবেই গলা দিয়ে খাবার নামবে না।
--খাওয়া শেষ। ভাইয়া কোথায় ভাবি?
--রেহান বাইরে গেছে ক্যাটফুড আনতে।আশেপাশের দোকানে পাওয়া যাবে না।তাই সুপার শপে গেছে,একটু দূরে।
--আচ্ছা আচ্ছা।এবার বলো কী বলবে।
--আগে কথা দাও,যা বলবো,সেটা আপাতত আমাদের দুইজনের মাঝেই থাকবে।আপাতত বলছি কারণ সময় হলে আমি নিজেই রেহানকে সব জানাবো।
--কথা রাখলাম।এবার বলো।
--তোমার মা কি অনেক রাগি?
--হ্যাঁ,অনেক।
প্রিতির বুকচিরে দীর্ঘশ্বাস বের হলো।
--তোমার বাবা?
--বাবা অনেক ভালো। আগে এমন ছিলো না।ভাইয়া দেশে আসার পর একদম চেঞ্জ হয়ে গেছে।এ্যকচুয়ালি বাবা অনেক ইমোশনাল,আগে বুঝতে দেয়নি আমাদের।ভাইয়া যতদিন দূরে ছিলো,অনেক কষ্টে ছিলো বাবা।দেখো না,তোমাদের বিয়ে কত ইজিলি দিয়ে দিলো?একদম ই মার বিপরীত।
--তোমার ফ্যামিলির বাকি সবাই?
--আমাদের চোদ্দগুষ্টি অনেক বড় ভাবি।কিন্তু আসা যাওয়া আছে হাতে গোনা কয়েকজনের বাসায়।তাদের কথাই বলি?
--হ্যাঁ হ্যাঁ,তাদের কথাই বলো।
--আমার তিন খালার একজন ঢাকার বাইরে আরেকজন দেশের বাইরে থাকে। আর সবচেয়ে ছোট যে জন,সায়বা উনি আমার ছোট মা।একদম ছোট থেকে ভাইয়া আর আমাকে বড় করেছে।মাটির মত মানুষ।মোমের পুতুল,অনেক ভালো নির্ভেজাল মানুষ।
প্রিতির চোখ চকচক করে উঠলো।অবশেষে অল্প হলেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছে।
--আর?আর কেউ নেই এমন?
--সায়বা খালার মতো আর কেউ নেই।বাকি সবাই প্রবলেমেটিক। আর বাবার সাইডে যারা আছে,তারা উপরে উপরেই সম্পর্ক রাখে।কেউ কারো লাইফে তেমন ইন্টারফেয়ার করে না।
--বুঝতে পেরেছি।
--ভিনার ব্যাপারে কি যেন বলছিলে?কী হয়েছে ভাবি?
--জানবে সব।তার আগে বলো,তুমি কি জানো রেহান জার্মান যাওয়ার পরিকল্পনা করছে?
--হ্যাঁ, বলেছিলো।
--তোমার বাসায় জানে?মানে তোমার বাবা জানে?
--এখনো না।সব ঠিকঠাক করে ভাইয়া জানাবে মনে হয়।এখনো তো কিছু ঠিক হয়নি।
--তোমার কি মনে হয়?বাবা কি সায় দিবে?
--হ্যাঁ দিবে।ভাইয়া খুশি থাকলেই হলো।কিন্তু....
--কিন্তু?
--বাবা ভীষণ কষ্ট পাবে।আমিও...অনেক বছর ভাইয়াকে কাছে পাইনি।কত ভালো হতো যদি তোমরা এখানেই থাকতে....
--আমি যদি বলি আমি তাই চাই?
--মানে!ভাবি তুমি কি সত্যি বলছো?
--হ্যাঁ।আমি বাইরে যেতে চাইনা।আমার ভিনাকে রেখে যাবো না আমি।
--ভাইয়াকে জানিয়েছো?
--না।আমি আসলে বুঝতে পারছিনা কীভাবে বলবো।রেহান অনেক এক্সাইটেড সব নিয়ে।আমি সরাসরি না করতে পারছিনা।বুঝোই তো...
--গট ইট।আমি বুঝে গেছি কী করতে হবে।
--পারবে করতে?
--হ্যাঁ পারবো।থ্যাঙ্কিউ সো মাচ ভাবি!
--থ্যাংক্স তো তোমাকে দেয়া উচিৎ।
--উহু।এইযে তুমি কত বড় স্যাক্রিফাইস করে এখানেই থেকে যাচ্ছো।আমি ভাবিওনি তুমি এমন কিছু করবে।
--সব ভিনার জন্য....
রুশান মুচকি হাসলো।এর দশ মিনিট পরেই রেহান এসে পরলো।সোহেল,মুনা আর বাকী সবাই মিলে লিভিং রুমে বসে মুভি দেখলো।মুভির ইন্ট্রেভালের পর ভিনাও বসলো সবার সাথে,কিন্তু খানিকটা দূরে।মুভির চেয়ে এই ঘরের সবার দিকে ভিনার মনোযোগ। কী আজব সম্পর্ক সবার সাথে সবার।নিজের বাবা, সৎ মা,নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত পিতৃপরিচয়হীন সন্তান,হুট করেই পরিচয় হওয়া বড় বোন,নিজের ছোটবেলার স্বল্প পরিচিত ক্লাসমেট,আর তার ভাই।কারো এখন এই মুহূর্তে এইভাবে এই বাসায় থাকার কথা ছিলো না।দুই-তিন বছর আগেও ভিনা কল্পনা করতে পারতো না এই দৃশ্য। নিয়তি কত অদ্ভুত এবং অকল্পনীয়!
রাতে বাসায় চলে যাওয়ার আগে রুশান ভিনার রুমে নক করলো।
--হেল্প করতে পারবে ভিনা?
--পারলে করবো।
--কালকে প্রেজেন্টেশন আছে।স্লাইডের রাফ করা আছে খাতায়।আজকে সকাল থেকে ল্যাপটপ কাজ করছে না।দিতে পারবে তোমার ল্যাপটপ?
-- হ্যাঁ পারবো।
--শোনো শোনো...
--বল
--আমার এই উইকে আরেকটা ওয়ার্কশিট আছে।
--দুই সপ্তাহর জন্য নে ল্যাপটপ। আপাতত কিছু নেই আমার।
--থ্যাংকিউ সো মাচ।আর হ্যাঁ, আমি কিন্তু প্রি অর্ডারের সব প্রোডাক্ট কাদের ভাইকে দিয়ে ঠিকঠাক পাঠিয়ে দিয়েছি।
--থ্যাংকস।
ভিনা বেশি কথা বললো না।রুশান বুঝলো ভিনার মন ভালো না।প্রায় সময়ই ভালো থাকে না।ব্যাপার না,একবার নিজের করে নিতে পারলে কখনোই ভিনাকে কষ্ট পেতে দিবে না।কিন্তু রুশান জানে না,ভালোবাসা পৃথিবীর কঠিনতম পরীক্ষার নাম।কখনো নিয়তি এমন পরীক্ষার সামনে এনে দাঁড় করায়,যেখানে নিজের অনুভূতি নিয়ে নিজের মাঝেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
.
.
.
চলবে.......................................................................