গল্পটা আমাদের - পর্ব ০৪ - আফরোজা আক্তার - ধারাবাহিক গল্প


          নিশাত অফিসে যাচ্ছে ঠিকই। কাজও করছে ঠিকঠাক। কিন্তু তার মন কোথাও বসছে না। কেমন জানি অস্বস্তি হচ্ছে সব কিছুতে। চোখ না চাইতেও আফরাজের কেবিনের দিকে যাচ্ছে বার বার৷ আফরাজ দেশের বাইরে আছে দশদিন হলো। তার ফেসবুকেও আর কোনো আপডেট নেই। প্রতি রাতে একবার করে হলেও নিশাত আফরাজের একাউন্ট স্টক করে। লাস্ট আপডেট ছিল যেদিন আফরাজ টরেন্টো গিয়েছে তার পরদিন। নিশাত নিজের মনকে বুঝতে পারছে না। সামনে থাকলে তার আফরাজকে সহ্য হয় না। আর দূরে গেলে ভালো লাগে না। অথচ পরিচয়টা খুব বেশি দিনের না। এটাকে পরিচয় বললেও ভুল হবে। সে যে অফিসে জব করে আফরাজ সেই অফিসের মালিকের ছেলে। মানে এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। যেই মানুষটা শুধুমাত্র একটা সাধারণ ঘটনাকে টেনে বড় করে রিভেঞ্জ নেওয়ার জন্য তাকে প্রতি রাতে কাজ দিয়ে আটকে রেখেছে সে মানুষটার প্রতি এমন অদ্ভুত অনুভূতি কেন জন্মাচ্ছে তা নিশাত বুঝতে পারছে না। বিষয়টা দেখতে কেমন লাগবে ভেবে সাবরিনাকে জিজ্ঞেস করতে পারছে না আফরাজ ফিরেছে কি-না। আর ফিরলে অবশ্যই আফরাজ তার আইডিতে আপডেট দিত। কই, তেমন কিছু দেয়নি। 

দুপুর তিনটা নাগাদ ফোর্থ ফ্লোরে নিশাতকে ডাকা হয়। পিওন এসে নিশাতকে খবর দেয়। সাবরিনা ফোর্থ ফ্লোরে থেকে হঠাৎ তাকে এইভাবে ডেকে পাঠিয়েছে কেন, ভাবছে নিশাত। ফোর্থ ফ্লোরে যাওয়ার পর নিশাতকে দেখে সাবরিনা বলল, 

‘সরি নিশাত, নিচে নামতে হলো তোমাকে।’ 

‘সমস্যা নেই। বলো, কী জন্য ডেকেছ?’

‘ফাইলগুলো নাও। দুটো ফাইল আছে এখানে। দুটো ফাইলেই আফরাজ স্যারের সাইন লাগবে। বড় স্যার থাকলে অবশ্য সাইন লাগত না। বড় স্যার নেই তাই আফরাজ স্যারের সাইন লাগবে। তুমি যাও, গিয়ে সাইন নিয়ে আসো।’ 

‘সাইন নিয়ে আসব মানে? যতদূর জানি আফরাজ স্যার টরেন্টোতে আছে। আমি কি এখন ডোরেমনের ম্যাজিক ডোর দিয়ে টরেন্টো চলে যাব নাকি?’ 

নিশাতের কথাটা শুনে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন বেশ শব্দ করেই হাসল। তাদের হাসি দেখে নিশাতও বলে, 

‘সিরিয়াসলি! সাবরিনা এমন ভাবে বলছে যেন স্যার অফিসে নিজের কেবিনে বসে আছেন আর আমি গিয়ে সাইন নিয়ে আসলাম।’ 

এবার সাবরিনাও খানিক হেসে বলল, 

‘কী স্টাফ হয়েছ, বসদের খবর রাখো না। আফরাজ স্যার বাংলাদেশে চলে আসছেন। এই মুহুর্তে তিনি তার বাসাতেই আছেন। আর তোমাকে কষ্ট করে তার বাসায় যেতে হবে। স্যারের সঙ্গে দেখা করে ফাইলগুলো দিয়ে বলবে এখানে সাইন লাগবে। বুঝেছ?’ 

নিশাত বেশ অবাক হয়। আফরাজ বাংলাদেশে অথচ নিশাত এতক্ষণ যাবত ভাবছিল সে টরেন্টোতে। সাবরিনা নিশাতকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল, 

‘এইযে ম্যাডাম, কী ভাবছ? জলদি যাও। অফিসের গাড়ি তোমাকে নিয়ে যাবে। গো গো।’ 

নিশাতের ঘোর কাটে। সে বলে, 

‘আমি কেন যাব? না না। আমি যাব না। সরি। তুমি যাও। না হয় অন্য কাউকে পাঠাও।’ 

‘আমি ভীষণ ব্যস্ত। নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছো। আর অন্য কাকে পাঠাব। তুমি গেলে সমস্যা কী?’ 

‘না ভাই। মাফ করো। ওই নাক উঁচু লোকের বাসায় যাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’ 

কথাটা বলে নিশাত নিজের জিবে নিজেই কামড় বসায়। অতি চিন্তায় বুদ্ধি লোপ পেয়েছে তার। কোথায় কী বলছে নিজেই জানে না। তার মুখ থেকে এমন কথা শুনে সবাই তার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন সে চিড়িয়াখানার সেই বানর যার সামনে বাদাম ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। সাবরিনা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে বলল, 

‘প্লিজ গাইজ, ওকে এইভাবে না দেখে নিজেদের কাজে মন দাও। আর নিশাত তুমি এদিকে আসো।’ 

বলে নিশাতকে একটা কোণায় নিয়ে গেল। বলল, 

‘কী সমস্যা তোমার? কী সব বলছ, হ্যাঁ। আমিই যেতাম। কিন্তু আমি আজ প্রচন্ড বিজি। দেখছই তো সেই সকাল থেকে ফোর্থ ফ্লোরে পড়ে আছি। যাও সোনা, যাও।’ 

‘সাবরিনা প্লিজ, তুমি আমাকে এটা ছাড়া যা করতে বলবে আমি বিনাবাক্যে তা করতে এক পায়ে খাড়া। কিন্তু এটা করতে পারব না। আমি যাব না।’ 

‘আপাতত এটাই করতে বলছি। সো এটাই করবে তুমি।’ 

‘আমি উনার সামনেই যেতে চাই না।’ 

‘কিচ্ছু করার নাই। উনি বস। আমরা স্টাফ। না চাইতেও যেতে হবে। কথা বলতে হবে। তাই বলছি যাও। যত দ্রুত সম্ভব চলে যাও।’ 

নিশাতের অনেক বোঝানোর পরেও সাবরিনা রাজি হয়নি। ফাইলগুলো ভীষণ জরুরী ছিল। তাই সাবরিনা নিশাত ছাড়া কাউকে ভরসা করতে পারছিল না। কোনো উপায় না পেয়ে নিশাত একপ্রকার বাধ্য হয়েই আফরাজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের ইশারায় সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ায়। এই সুযোগে নিশাত ড্রাইভারকে প্রশ্ন করে, 

‘শফিক ভাই, স্যারের বাসা কোথায়?’ 

‘বাসা তো দুইটা। একটা গুলশান দুই'য়ে, আরেকটা পূর্বাচলে।’ 

‘মানুষ এদিকে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট বাসার ভাড়া টানতে পারে না এদিকে উনাদের দুই দুইটা বাড়ি। দুই বাড়িতে থাকে কীভাবে? সপ্তাহ তো সাত দিনে। ভাগাভাগি করে থাকে নাকি?’ 

ড্রাইভার শফিক সাহেব হাসেন। নিশাত বেশ মজার মজার কথা বলে। তিনি বললেন, 

‘গুলশানে সবাই মিলে থাকে। মানে বড় স্যার, আফরাজ স্যার, ইয়াসিন স্যার আর জাহানারা ম্যাডাম। আর পূর্বাচলে আফরাজ স্যার একা থাকেন। থাকেন বলতে মাঝে মাঝে থাকেন আরকি।’ 

‘ইয়াসিন কে?’ 

‘ম্যাডাম দেখি কাউকেই চেনেন না।’

‘কাউকে চেনার কথাও না আমার। আপনি বললেন, তাই জিজ্ঞেস করছি এখন।’

‘ইয়াসিন হচ্ছে বড় স্যারের আরেক ছেলে। ছোট ছেলে। আর জাহানারা ম্যাডাম হচ্ছেন স্যারের বোন।’ 

‘ওহ।’ 

‘তা আমরা এখন কোন বাসায় যাচ্ছি?’

‘আমরা এখন পূর্বাচলের বাসায় যাচ্ছি।’ 

ড্রাইভারের মুখে পূর্বাচলের কথা শুনে নিশাত হকচকিয়ে গেল। অগোছালো ভঙ্গিতে খানিক তোতলানো স্বরে বলল, 

‘ও..ও..ওই বা..সায় কে..কেন?’ 

‘স্যার তো ওইখানেই আছেন এখন। স্যার গতকাল রাতে ফিরেছেন। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি পূর্বাচলে উনার বাসায় গেছেন।’ 

‘শফিক ভাই, একটা হ্যাল্প করবেন আমার?’ 

‘বলেন ম্যাডাম। কী সাহায্য করতে পারি?’ 

‘আমি গাড়িতেই বসব। আপনি বাসায় গিয়ে এই ফাইল দুটো সাইন করিয়ে নিয়ে আসবেন।’

‘ম্যাডাম, কী বলছেন এসব? এগুলো আপনাদের কাজ। আমি ড্রাইভার মানুষ। আর তাছাড়া স্যার যদি জানতে পারে আপনি গাড়িতে বসে থেকে আমাকে পাঠিয়েছেন, আপনার চাকরি তো যাবে, সাথে আমরটা নিয়েও টানাটানি হবে। মাফ চাই ম্যাডাম। আপনিই যান। আমি বরং বাইরে অপেক্ষা করব।’ 

নিশাত আর কিছুই বলতে পারল না। সব রাস্তাই বন্ধ। সে যার সামনে যেতেই চাচ্ছে না প্রকৃতি তার সামনে নিয়ে দাঁড় করাবেই। অতীতেও এমন বহুবার হয়েছে। যাকে তার পছন্দ হতো না দেখা যেত তার সামনেই হাজারবার পড়েছে। 

—————

গাড়ি এসে মস্ত বড় একটা অ্যাপার্টমেন্টের সামনে এসে দাঁড়ায়। শফিক সাহেব সিট বেল্ট খুলতে খুলতে বলল, 

‘ম্যাডাম, নামুন। আপনাকে গেট অবধি দিয়ে আসি। আর আপনার পরিচয়টাও বলে আসি। নইলে আবার ঝামেলা করবে।’ 

ড্রাইভারের কথা মতো নিশাত গাড়ি থেকে নামল। শফিক সাহেব নিশাতকে সাথে নিয়ে মেইন গেট পার হলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে বয়স্ক লোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। আর নিশাতকে আফরাজের ফ্ল্যাট নাম্বারও বলে দিল। লিফটে চড়ে নিশাত যথারীতি আফরাজের ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়ায়। মেইন ডোরের পাশেই নেইম-প্লেট। যেখানে ইংরেজিতে বড় করে লিখা -- Afraaz Ahmed. 

নিশাত ডোরবেল বাজায়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর দরজা খুলে সতেরো আঠারো বছর বয়সী একটা ছেলে। সে দরজা খুলেই বলল, 

‘কাকে চাই?’ 

নিশাত তাকে উত্তরে বলে, 

‘আমি অফিস থেকে এসেছি। এই ফাইলগুলোতে স্যারের সাইন লাগবে। স্যার বাসায় আছেন?’ 

‘জি আছে। আসেন। ভেতরে আসেন।’ 

ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকে নিশাতের চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেল। বোঝাই যাচ্ছিল না এখানে ব্যাচেলর কেউ থাকে। এত সুন্দর করে সাজানো-গোছানো আছে সব কিছু। নিশাতকে সোফা দেখিয়ে বসতে বলল ছেলেটা। নিশাত সোফায় বসতেই ছেলেটা বলল, 

‘আফরাজ ভাইয়া তো ঘুমাচ্ছে। আপনাকে একটু বসতে হবে।’

নিশাত সংকোচবোধ করে বলল, 

‘স্যারকে একটু বলবেন যে সাইনগুলো আর্জেন্ট লাগবে। এগুলো নিয়ে আমাকে আবার অফিসে যেতে হবে।’ 

‘আচ্ছা।’ 

ছেলেটা আফরাজের রুমের দরজায় কয়েকটা টোকা দিয়ে বলল, ভাইয়া, অফিস থেকে ফাইল নিয়ে আসছে। আপনার সাইন লাগবে। আফরাজ ছেলেটাকে ভেতরে ডাকে। ছেলেটা কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে এসে বলল, 

‘ভাইয়া আপনাকে ওই রুমে যেতে বলেছে।’ 

‘ওটা কার রুম?’ 

ছেলেটা একটু অবাক হয়। তারপর বলে, 

‘কার রুম মানে? ওটা ভাইয়ার স্টাডি রুম। এই বাসায় থাকলে অফিসের যাবতীয় কাজ ভাইয়া ওই রুমেই করে থাকেন। আপনি ওই রুমে গিয়ে বসেন। যান।’ 

নিশাত ফাইল দুটো হাতে নিয়ে স্টাডি রুমে আসে। মনে মনে বলে, বড়লোকদের বড় বড় ব্যাপার। কত রুম লাগে তাদের। আর আমাদের, যেই রুমে খাও, ওই রুমেই ঘুমাও। স্টাডি রুমের দেওয়ালগুলোতে অনেক সুন্দর সুন্দর জলরঙের সাহায্যে আঁকা ছবি টাঙানো আছে। আফরাজের এসবের শখ আছে সেটা নিশাত আজ প্রথম জানল। তারপর হুট করেই তার একটা কথা মনে পড়ে গেল। এই রুমটা সে আরও একবার দেখেছে। কোথায় দেখেছে কোথায় দেখেছে মনে করতেই সে নিজের ফোন বের করে আইডিতে যায়। সেখান থেকে আফরাজের কভার পিকচার বের করে। হ্যাঁ, এই রুমেই তো ছবিটা তুলেছিল। যেই সোফায় বসে আফরাজ ছবি তুলেছিল ওই সোফাটা এই রুমেই আছে। ব্যাকগ্রাউন্ডটাও সেইম। রুচি আছে লোকটার। 

এসব ভাবতে ভাবতেই আফরাজ চলে আসে। দরজা দিয়ে ঢুকেই সে নিশাতকে বলে, 

‘আপনাকেই আসতে হলো। অফিসে আর কেউ ছিল না?’

নিশাতের হাতটা কেঁপে উঠে। সে দ্রুত হাত থেকে ফোনটা সরিয়ে ব্যাগে রাখল। আফরাজ এসে টেবিলের অপর পাশে নিশাতের মুখোমুখি বসে। আফরাজকে দেখে নিশাতের চোখ দুটো স্থির হয়ে যায়। কালো রঙের ট্রাউজার। কালো রঙের টি-শার্ট। চোখ মুখ ফুলে আছে। এসবের মধ্যেও যে পুরুষ মানুষকে এতটা সুদর্শন লাগে এই প্রথম দেখল নিশাত। 

নিশাতের চুপ থাকা দেখে আফরাজ বলল, 

‘ফাইলগুলো দিন। দেখি কীসের ফাইল পাঠিয়েছে?’

নিশাতও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী না। জবাবে সেও বলল, 

‘অফিসে গিয়ে সাবরিনাকে জিজ্ঞেস করবেন কেন আমাকেই পাঠিয়েছে? অফিসে কি আর কেউ ছিল না?’ 

আফরাজ ফাইল থেকে চোখ সরিয়ে নিশাতের দিকে তাকায়৷ তারপর বলে, 

‘আপনার এই মুখে মুখে কথা বলার অভ্যাস কি ছোটবেলা থেকেই নাকি?’ 

‘আমার সাথে যে যেভাবে কথা বলবে, সে সেভাবেই কথা শুনবে।’ 

‘এইজন্যই তো মাঝ রাস্তায় বখাটেরা হাত ধরে টানাটানি করে।’

‘সেটাও আপনার জন্যই হয়েছে। সেদিন আমার সাথে যা হয়েছে তার জন্য আপনিই দায়ী।’ 

আফরাজের তাকানো দৃষ্টিই বলে দিচ্ছিল, নিশাত, জাস্ট কিপ ইউর মাউথ সাট। নিশাত আর কিছুই বলল না। আফরাজ ফাইলগুলো চেক করে নিশাতের দিকে ছুঁড়ে মারে। ব্যবহারটা নিশাতের কাছে জঘন্য লাগে। তাই সে জেদের বসে বলেই ফেলল,  

‘আপনি এত ম্যানার্সলেস কেন? অফিসের একজন স্টাফের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হয় আপনি জানেন না? আপনাকে আমি মেরেছি নাকি গালি দিয়েছি যে আপনি আমার সাথে এই আচরণ করলেন। নিজেকে শুধরে নিন। নইলে বিপদে পড়বেন। এখানে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে। আসছি।’ 

ফাইল হাতে নিশাত দ্রুত পায়ে রুম থেকে বের হতে দরজার কাছে যায়। দরজায় হাত লাগাতেই বুঝতে পারে দরজা লক করা। নিশাত কয়েকবার লক ঘুরিয়েও ব্যর্থ হয়। সে পেছনে ফিরে বলে, 

‘দরজাটা লক করল কে?’

চেয়ারে হেলান দিয়ে আফরাজ নির্দ্বিধায় উত্তর দিল,

‘আমি।’ 

‘কেন লক করেছেন?’

‘ভাবছি আপনাকে একটা শিক্ষা দিব। সেইজন্য।’

‘লক খুলুন। আমাকে যেতে হবে।’ 

‘যদি না খুলি।’

‘আপনি কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। লক খুলে দিন। আমাকে অফিসে যেতে হবে।’

‘ধরে নিন আপনি এই মুহুর্তে অফিসেই আছেন।’

‘আপনি লকটা খুলে দিন।’

আফরাজ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। এক পা দু পা করতে করতে একদম নিশাতের কাছে চলে আসে। আফরাজের লাল চোখ গুলো নিশাতের মনে ভয় জাগাচ্ছে। আচমকাই আফরাজ নিশাতের বাম হাতটা মুচড়ে পেছন দিকে নিয়ে নিশাতকে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে বলে, 

‘এই দুনিয়ায় আমি নারী জাতটাকে সব থেকে বেশি ঘৃণা করি। সেই সুবাদে আমি আপনাকেও ঘৃণা করি। আপনি বুঝতে পারছেন তো একটা ছেলে কাউকে ঘৃণা করলে কী কী করতে পারে। আমিও ঠিক তাই তাই করতে পারি। আর এর জন্য আমাকে কাউকে কোনোরকম কৈফিয়ত দিতে হবে না। সো বি কেয়ারফুল।’ 

কথাটা বলে আফরাজ নিশাতকে জোরে ধাক্কা দিয়ে নিজের কাছ থেকে দূরে সরায়। ধাক্কার গতি সামলাতে না পেরে নিশাত বুকসেল্ফের সাথে আঘাত পায়। বাম হাতের কব্জির উপরের অংশটা কেটে যায়। নিশাতের চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়তে থাকে। আফরাজ হয়তো নিজেও বুঝতে পারেনি যে তার চট করেই মাথাটা গরম হয়ে যাবে। আর সে এমন একটা কাজ করে বসবে। সামনে থাকা আয়নায় সব দেখে আফরাজ পেছনে তাকায়। ততক্ষণে নিশাত নিজেকে সামলে নিয়ে মেঝে থেকে ফাইলগুলো তুলে দরজার দিকে এগোয়। আফরাজ ওমনি নিশাতের বাম হাতটা ধরে। আর ঠিক তখনই নিশাত আফরাজকে পেছন দিকে ধাক্কা দেয়। কাঁদতে কাঁদতে বলে, 

‘ডোন্ট টাচ। জাস্ট ওপেন দ্য ডোর।’ 

আফরাজ নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে আবারও নিশাতের সামনে এসে দাঁড়ায়। এবার সে নিশাতের বাহু চেপে ধরে। বলে, 

‘এত তেজ কীসের? এত জেদ কোথা থেকে আসে?’ 

নিশাত পানি ভরা চোখ জোড়া রাঙিয়ে বলে, 

‘আই সেইড, ওপেন দ্য ডোর।’ 

কথাটা বলেই আফরাজকে দ্বিতীয়বারের মতো ধাক্কা দেয়। আর এই ধাক্কাটাই নিশাতের শরীরে আফরাজের শরীরে ছাপ ফেলে। 
·
·
·
চলবে.........................................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp