শুক্রবার শুরু হলো ওদের গন্তব্যহীন যাত্রা। কলরব জিজ্ঞেস করল,
“আগে কোথায় যাবে?”
“তোমার ইচ্ছা।”
“জানতাম তুমি এটাই বলবে। আচ্ছা, চল আগে মুভি দেখে আসি।”
“ঠিক আছে।”
এরপর কলরব নিহিনকে একটা ছোট্ট ব্যাগ দিলো। নিহিন বলল, “কী এটা?”
“তোমার সেই সাজুগুজু! আমার বাসায় ফেলে এসেছিলে।”
“ও।”
হাসল নিহিন, তারপর নিজের অজান্তেই ব্যাগটা খুলল। দেখে বলল, “এগুলো তো আমার না।”
“এগুলোই তোমার।”
“আরে বাবা, আমারগুলো তো ব্যবহৃত। এগুলো তো নতুন।”
“হুম ওগুলো আমি রেখে দিয়েছি। ওই ব্রান্ডের ওই জিনিসগুলোই আছে এখানে।”
“সে তো দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু কেন?”
“তোমার ওই ছোটবেলার ছবিটা ছাড়া আর তো কিছু নেই আমার কাছে, থাকুক না কিছু জিনিস স্মৃতি হিসেবে!”
নিহিনের বুকের মধ্যে চিনচিন করে উঠল। স্মৃতি হিসেবে রাখতে চাচ্ছে কেন? তাহলে কি যা ভেবেছিল তাই! আবার ভাবল, ধ্যাত হতেই পারেনা। কলরব তো ওকে পাগলের মতো ভালোবাসে।”
নিহিন মনোযোগ দিয়ে মুভি দেখছে আর কলরবের দেওয়া চকোলেট খাচ্ছে। আর কলরব দেখছে নিহিনকে। খেতে খেতে একটুখানি চকোলেট ঠোঁটে লেগে গেল নিহিনের, ও খেয়াল করল না। সিনেপ্লেক্সের আধো আলোতে অসাধারণ লাগছে নিহিনকে। নিহিনের মুখটা এমন যে একবার তাকালেই ভালো লাগে, আরেকবার তাকাতে ইচ্ছে করে। তবে ওর সৌন্দর্য শতগুণ বেড়ে যায় হাসলে আর হাজারগুণ বেড়ে যায় লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিলে।
কলরব আঙুল দিয়ে চকলেটটুকু নিহিনের ঠোঁট থেকে উঠিয়ে নিয়ে নিজের মুখে দিলো। কলরব নিহিনের ঠোঁটে হাত দিতেই ও চমকে উঠেছিল। তারপর কলরবের এ কাণ্ড দেখে লজ্জায় আর মুখ উঠাতে পারল না। কলরব বুঝল, তবু না বোঝার ভান করে ফিসফিসিয়ে বলল,
“কী হলো?”
“কিছু না।”
বলেই আধ খাওয়া চকোলেটটা এগিয়ে দিলো কলরবের দিকে। কলরব হাতে নিয়েই খাওয়া শুরু করল। নিহিনকে এত লজ্জার হাত থেকে বাঁচাতে কলরব মুভিতে মন দিলো।
কিছুক্ষণ পর দুজনেই কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। একই সাথে দুজন দুজনার দিকে ফেরাতে নিহিনের ঠোঁট ধাক্কা খেল কলরবের বাহুতে। ফলে নিহিনের ঠোঁট থেকে চকোলেট মাখা লাল লিপস্টিক লেগে গেল কলরবের কালো টি শার্টের হাতায়। নিহিন গলা নিচু করে বলল,
“ইশ, সরি খেয়াল করিনি। কী হবে?”
“কিছুই হবে না। ঠিকাছে।”
“কালোর ওপর লাল একদম স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।”
কলরব হেসে বলল,
“সমস্যা নেই তো, ছেলেদের কাপড়ে এবং গায়েও লিপস্টিকের দাগ সবচেয়ে স্বাভাবিক ব্যাপার।”
“যাহ, তুমি না!”
“কী?”
“অসভ্য।”
“আমি কোথায় অসভ্যতা করলাম? তুমিই তো অসভ্যতা করলে!”
নিহিন অবাক হলো,
“আমি! আমি কী করেছি?”
“চুমু খেলে আমার হাতে।”
“ইশ! যাহ। মুখে কিছু আটকায় না।”
লজ্জায় চুপসে গেল নিহিন। আর কলরব হাসতে লাগল।
·
·
·
চলবে....................................................................................