ভার্সিটির প্রথম দিনই নিজের পোশাকের জন্য চরম অপমানের শিকার হতে হলো প্রাপ্তিকে। প্রাপ্তির ফর্সা মুখখানা রাগে, বিরক্তিতে রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো যেনো। তার সম্মুখের মানুষটি বাঁকা হাসছে। সেই হাসিতে রয়েছে ভর্ৎসনা, বিদ্রুপ। সেই সাথে সাথে তাল মিলিয়ে অট্টহাসিতে যেনো গড়াগড়ি খাচ্ছে পাশের সাঙ্গপাঙ্গ।
কিছুক্ষণ পূর্বের কথা, গেট থেকে অডিটোরিয়াম পার হতেই মুখোমুখি হলো একদল নারীর সাথে। যারা তাকে দেখেই ডাক দিলো,
"ফার্স্ট ইয়ার? এদিকে"
অনেকটা হুকুমের স্বরে তলফ করায় বিমূঢ় হয়ে গেলো প্রাপ্তি। সে আশেপাশে চাইলো। তখন তাদের একজন বলে উঠলো,
"আশেপাশে তাকাচ্ছো কেনো? তোমাকেই ডাকছি"
প্রাপ্তি ছোট ছোট পায়ে তাদের সামনে যেতেই একজন ক্ষীপ্ত স্বরে বলে উঠে,
"ম্যানারস নেই নাকি? সিনিয়ররা ডাকলে যে শুনতে হয়, সম্মান করতে হয়; এইটুকু জানা নেই?"
প্রাপ্তির চোয়াল ঝুললো! এ কোথাকার নিয়ম! সিনিয়র বলে তাদের হ্যা হুজুর, জ্বী হুজুর করতে হবে! কোথাকার হনু এরা? স্কুল-কলেজে তো এমন কোনো নিয়ম ছিলো না। উপরন্তু মেয়েগুলো যেভাবে অভদ্রের মতো তাকে ডাকলো তাতে তাদের সম্মান দেবার প্রশ্নই উঠে না। তবে ঝামেলায় যেতে চায় না প্রাপ্তি। কারণ আজ তার প্রথম দিন ভার্সিটিতে। খুব কাঠখর পুড়িয়ে এই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে সে। তাই স্মিত স্বরে বললো,
"আমি তো আপনাদের চিনি না তাই আপনারা আমাকেই ডাকছেন কি না শিওর ছিলাম না"
প্রাপ্তির কথাটা মনে হয় মনে ধরলো না তাদের। কপালে তীক্ষ্ণ ভাঁজ নিয়ে মেয়েগুলো তাকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে। উচ্চতায় ছোট। ছিপছিপে গড়ণ। মুখের আদলে খুব বিশেষত্ব নেই। সৌন্দর্য্যের ছাঁচে ফেলাতে শুধু ফর্সাটুকুই চোখে বিঁধবে। এর প্রধান কারণ তার বেশভুষা। এলোমেলো জট লাগা চুল। কোনোমতে ঝুটি করা। চিরুনী দিয়েছে কি না সন্দেহ। গায়ের পোশাকটা দলা মচা। ইস্ত্রী করে নি নিশ্চিত। উপর থেকে ফ্যাশন সেন্স নেই বললেই চলে। পায়জামার একটা পা মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে তো আরেক পায়ের পায়জামা গোড়ালির উপরে। কটকটে মেজেন্টা রঙের জামা, হলুদ পায়জামা আর ওড়নাটা মনে হয় কোনো হাড়ি থেকে বের করা। জুতাটা বাথরুমের স্লিপারের মতো। চোখে মোটা চশমা। শুষ্ক মুখ। মনে হয় দাঁত ব্রাশ করেই চলে এসেছে। মুখে ক্রিম ও লাগায় নি। ঠোঁটজোড়া শুষ্ক, ফাঁটা, রক্ত জমে কালচে হয়ে আছে। ইচ্ছে করছে কান ধরে ভ্যাসলিন দিয়ে দিতে। এমন নারীকে আর যাই হোক সৌন্দর্যের ছাঁচে ফেলা যায় না। অনীহা নিয়ে একটি মেয়ে শুধালো,
"কোন ডিপার্টমেন্ট?"
"সিএসই"
"রোল কি তোমার আব্বা বলবে?"
মেয়েটির কথাটা মোটেই পছন্দ হলো না প্রাপ্তির। চোখমুখ খিঁচে এলো। বিরক্তি ধরলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে৷ রোষপূর্ণ স্বরে উলটো প্রশ্ন ছুড়লো প্রাপ্তি,
"আব্বাকে টানছেন কেনো?"
ফলে মেয়েটি থতমত খেলো। কিছু বলতে যাবে তখন পাশের মেয়েটি তাকে থামালো। ফিসফিসিয়ে বললো,
"বিন্তী, লাইন ক্রস করিস না। এই মেয়ে পরিচয় দেও"
দ্বিতীয় মেয়েটির কথায় প্রাপ্তি বুঝতে পারলো এই মেয়েগুলোর একটি মেয়ের নাম বিন্তী। প্রাপ্তি হতবাক স্বরে শুধালো,
"পরিচয় মানে?"
"নাম, রোল, ব্যাচ, ডিপার্টমেন্ট"
মেয়েগুলোর মাঝে বিরক্তি জন্মালো বোধ হয়। এদিকে প্রাপ্তি কিছু সময় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তাদের দিকে। এমন অদ্ভুতুরে কান্ড ভার্সিটিতে হয় তার জানা ছিলো না। মিরাজ ভাই তো এমন কিছু জানায় নি তাকে। ফলে ফোঁস করে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। হতাশ স্বরে বললো,
"প্রাপ্তি মজুমদার, রোল ২৪০৩০৬, ব্যাচ ২৪, ডিপার্টমেন্ট সিএসই"
"শোনো মেয়ে, এই ভার্সিটিতে কিছু নিয়ম কানুন আছে। আমরা সেকেন্ড ইয়ার ফার্স্ট সেমিস্টার। মানে তোমার সিনিয়র। তুমি যেহেতু ফার্স্ট ইয়ার তোমাকে এই সিনিয়রিটি ব্যাপারটা মেনে চলতে হবে। সিনিয়র দেখলেই তাদের সালাম ঠুকবা। জায়গা ছেড়ে দিবা, হোক ক্যান্টিন বা বাস। আর সিনিয়ররা কাজ দিলে তা করে দিবা। না করবা না"
"আপনারা কি আমাকে র্যাগ দেওয়ার চেষ্টায় আছেন?"
অকপটে প্রশ্ন ছুড়লো প্রাপ্তি। ফলে বিন্তী সহ বাকি সব মেয়েরা ভ্যাবাচেকা খেলো যেনো। উত্তর সাথে সাথে দিতে পারলো না। কিছুসময় নিয়ে শানিত স্বরে বললো,
"এটা র্যাগ না, এটা হলো সিনিয়রকে সম্মান করা। এতো বড় হয়েছ ভার্সিটি কালচার জানো না এখনো? শোনো ভার্সিটিতে তোমার আব্বা আম্মা নেই। এই সিনিয়ররা কাইন্ড অফ গার্ডিয়ান। তুমি যখন বিপদে পড়বা এই সিনিয়ররাই শেল্টার দিবে, পড়াশোনায় হেল্প করবে। সো ইউ হ্যাভ টু রেস্পেক্ট দেম। আন্ডারস্ট্যান্ড?"
প্রাপ্তি কপালের প্রগাঢ় ভাঁজ মিলালো না। তবে সে উত্তর দিলো না। তার মুখায়বয়ব দেখে বোধগম্য হচ্ছে না সে একটু পূর্বের কথাটার গভীরতা বুঝতে পেরেছে কি না। বরং তার চোখে বিন্দুমাত্র ভয় বা সম্মানের রেশ নাই। বিন্তীদের এই দলটি সদ্য ফার্স্ট ইয়ার থেকে সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছে। প্রথম বর্ষ পার হতেই গায়ে একটি সিনিয়র সিনিয়র গন্ধ চলে আসে। একটা বছর নিজেদের সিনিয়রদের কাছে দলামচা হতে হতে মনের মাঝে বাসনা জাগে নিজেও এই আনন্দ ভোগ করবে। আজ যখন প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আগমণ ঘটেছে তখন তাদের আনন্দের অন্ত নেই। ক্লাসের চাঁপ না থাকায় তাদের একটাই কাজ, অডিটরিয়ামের বিপরীত প্বার্শে দাঁড়িয়ে যতগুলো ফার্স্ট ইয়ারের মেয়ে দেখবে তাদের ডেকে ডেকে পরিচয় দেওয়াবে, তাদের সাথে মজা করবে, ভয় দেখাবে, উলটা পালটা কাজ করাবে। সকাল থেকে যতগুলো মেয়েদের ডেকেছে বিন্তীরা তাদের মধ্যে দুটো বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে, ভয় নয়তো চামচামি করার প্রবণতা। র্যাগের ভয়ে তো কেউ কেউ কেঁদে অবধি দিয়েছে। আর অনেকে সম্মানের নামে চামচামি করা শুরু করেছে। বিন্তীদের অবশ্য সম্মান চাইও না। তারা শুধু নিজেদের সিনিয়ারদের অনুসরণ করতে চায়। জুনিয়ারদের দিয়ে নিজের ফাইফরমাশ খাটাতে চায়। কিন্তু এই প্রাপ্তি খুব ই অদ্ভুত। তার মধ্যে না ভয় আছে না চামচামি করার প্রবণতা। সম্মানটুকুতো উল্লেখ না করাই শ্রেয়। বিন্তী ফোঁশ করে একটা নিঃশ্বাস ফেললো। এগিয়ে এলো। প্রাপ্তির মুখোমুখি হয়ে বললো,
“তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। ওই যে, ক্যান্টিনের পাশের মাঠে বাইকের উপর শোয়া ছেলেটিকে দেখছো তাকে এই কাগজটি দিতে হবে”
বলেই একটি কাগজ এগিয়ে দিলো। প্রাপ্তি এবারো নির্লিপ্ত স্বরে বললো,
“আপনি নিজে যেয়ে দিয়ে আসুন”
ফলে বিন্তীর মেজাজ তিরিক্ষি হলো। ব্রহ্মতালু জ্বলে উঠলো। কিন্তু রাগ সংবরণ করলো। মোলায়েম স্বরে বললো,
“তুমি জুনিয়র, এটা কিছুই না। একটা ফর্মালিটি শুধু। ওই ভাইয়াটি এই কলেজের খুব সম্মানীয় মানুষ। নাম অয়ন ভাই, কোডিং বস। পাশ করতে গেলে সবাইকে তাকেই কাগজ দিতে হয়। সে একটা টিউশন ক্লাস করায়। তোমার যদিও মনে হচ্ছে তোমার এসব কিছুর প্রয়োজন নেই। কিন্তু সময় হলে তোমার ঠিক এসব কাজে লাগবে। তাই বলছি উনাকে কাগজটি দিয়ে আসো। অল্পটুকুই কাজ। পাঁচমিনিট লাগবে জাস্ট”
“এই কাগজে কি আছে?”
“কিছু না, তোমার নাম আর রোল। তুমি তার টিউশন ক্লাসে এনরোল হয়ে থাকো।”
প্রাপ্তি ঘড়ি দেখলো। ক্লাসের এখনো অনেক বাকি, তাই পাঁচ মিনিটে কিচ্ছু যাবে আসবে না। তাই সে কাগজটি নিলো। হনহন করে হেটে গেলো ক্যান্টিনের পাশের সুবিশাল মাঠের দিকে। মাঠের বিশাল সুপাড়ি গাছের নিচে বাইকের উপর শুয়ে ছিলো একটি ছেলে। পরণে সাদা একটি শার্ট। মুখের উপর বাহাত দেওয়া। মুখ দেখা যাচ্ছে না। তার বাইকের পাশে মাঠে বসে চার পাঁচটা ছেলে। প্রাপ্তি বাইকের কাছে যেয়ে বিনা ভনীতায় বললো,
“শুনুন এই কাগজটা আপনার জন্য। নিয়ে উদ্ধার করুন তো”
কথাটা শুনতেই চোখের উপর থেকে হাত সরালো ছেলেটি। গৌঢ় বর্ণের সৌম্য পুরুষের বাদামী চোখের সাথে চোখাচোখি হলো তার। ছেলেটির মুখজুড়ে বিস্ময়। কিঞ্চিত অবাক স্বরে শুধালো,
“আমাকে বলছেন?”
“হ্যা, নিন। আমার ক্লাস আছে। নিয়ে আমাকে ছাড়ুন”
ছেলেটির কৌতুহল বাড়লো। পাশ থেকে একটি ছেলে শুধালো,
“অয়ন, ওকে চিনিস?”
অয়ন নামক ছেলেটি উত্তর দিলো না। বাইক থেকে উঠে দাঁড়ালো। তার উচ্চতা অনেক। প্রাপ্তি তার বুক অবধিও আসে না। ফর্সা কপালে মেদুরের ন্যায় ঘন কেশগুলো ঝাপটে পড়লো। ছেলেটির দৃষ্টি স্থির গাঢ়। সে নিপুনভাবে আপাদমস্তক দেখে নিলো প্রাপ্তিকে। মুখশ্রীতে বিস্ময়ের ছাপ কাটলো না। এগিয়ে প্রাপ্তির মুখোমুখি হলো। কাগজটি হাতে নিলো। কাগজটি খুলে দেখলো। কপালে প্রগাঢ় ভাঁজ পড়লো তার। হতবাক স্বরে শুধালো,
“এই কাগজটা কি সত্যি আমার জন্য? আর ইউ সিরিয়াস?”
“হ্যা, আপনার জন্য। উনারা……”
প্রাপ্তি কথাটা শেষ করার পূর্বেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো অয়ন। যেনো বিশ্বের সবচেয়ে হাস্যকর কোনো জোকস এই কাগজে লেখা। প্রাপ্তি খানিকটা অপ্রস্তুত হলো। তার হাসি থামছেই না। পাশের ছেলেটি আবারো শুধালো,
“কি হয়েছে? পাগলের মতো হাসছিস কেনো?”
অয়ন ছেলেটির হাতে কাগজটি ধরালো। কাগজের লেখাটি পড়ে সেও হাসতে শুরু করলো। একে একে সবার হাতে ঘুরলো কাজটি। কাগজটি পড়তেই সবাই হাসতে শুরু করলো। ফলে প্রাপ্তির অস্থিরতা বাড়লো। প্রচন্ড অপ্রস্তুত কন্ঠে বললো,
“হাসছেন কেনো?”
অয়ন অনেক কষ্টে হাসি থামালো। তার বাদামী চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে হাসির দমকে। তবুও গাঢ় স্বরে বললো,
“দেখো খুকি, ভালোবাসা মন্দ নয়। কিন্তু একটা লেভেল আছে। জানি আমাকে দেখে হয়তো তোমার ভালো লেগেছে। সবারই লাগে। কিন্তু আমি একটা ক্যাটাগরি মেইনটেইন করি। তুমি যেমন আমার লেভেলে উঠতে পারবে না। আমিও তোমার লেভেলে নামতে পারবো না। তাই আই এম এক্সট্রিমলি সরি। আমার পক্ষে এই প্রণয় নিবেদনের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। অয়ন শিকদার মেয়েদের মন ভাঙ্গতে পছন্দ করে না যদিও, কিন্তু মাঝে মাঝে একটু করতে হয়”
প্রাপ্তি যেনো আকাশ থেকে পড়লো। ব্যগ্র স্বরে বললো,
“কোথাও ভুল হচ্ছে, প্রণয় নিবেদন এখানে আসবে কোথা থেকে?”
অয়ন তার বন্ধুর থেকে কাগজটি নিয়ে প্রাপ্তির সম্মুখে রাখলো। সত্যি সেখানে “ভালোবাসি” লেখা। কিন্তু এখানে তো নাম আর রোল লেখার কথা ছিলো। পেছনে চাইতেই দেখলো বিন্তীদের দল হাসছে। তারা ইচ্ছেকৃত তাকে ফাঁসিয়েছে। এদিকে অয়নের পাশের ছেলেটি ভর্ৎসনা করে বলতে লাগলো,
“তেলাপোকা উড়তে পারলেই তাকে পক্ষী বলা যায় না। আগে ভালোভাবে পোশাক পড়া শিখো এরপর এসো অয়নকে ভালোবাসি বলতে”
অয়ন মিটিমিটি হাসছে এখনো। কিন্তু তার বন্ধুকে থামিয়ে বললো,
“আমি আবার বলছি ভালোবাসা দোষের নয়। তবে আমি তোমার ভালোবাসার বিপরীতে কিছুই দিতে পারবো না। ডোন্ট মাইন্ড”
অয়নের বন্ধুদের হাসি এখনো অটল। প্রাপ্তির বেশভূষা তাদের বেশ মনোরঞ্জন করছে। এই হাসি তার দূর্বল ফ্যাশান সেন্সের জন্য। প্রাপ্তি শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলো বেশ কিছু সময়। রাগলো না, ক্ষেপলো না। মা বলে, “রাগলেই তুমি হেরে যাবে”। তাই প্রাপ্তি দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বললো,
“এই হাসি বন্ধ, এখানে ক্লোজাপের কোন এড চলছে না। আর শুনেন ভাইয়া, আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। আমার এতোও দুর্দিন আসে নি যে আমি আপনাকে ভালোবাসি বলবো। সে তো ওই বদের হাড়ি আপুগুলো মিথ্যে কথা বলেছে তাই আমি ফেঁসে গেছি। নয়তো যেখানে আমি আপনাকে জীবনে দেখিও নি সেখানে ভালোবাসার কথা বলা নিতান্তই আকাশ কুসুম ভাবনা, হ্যাভ সাম কমন সেন্স। আর চামচা ভাইয়া, তেলাপোকা পক্ষী না হলেও পক্ষী মরলে সে তেলাপোকার খাদ্য হয়”
প্রাপ্তি আর দাঁড়ালো না। দ্রুততার সাথে পা বাড়ালো ক্লাসের দিকে। অন্যদিকে অয়ন এবং তার বন্ধুদের হাসি বন্ধ হয়ে গেলো। অয়নের সূঁচালো দৃষ্টি নির্নিমেষ চেয়ে রইলো মেয়েটির দিকে। তার বন্ধু নুহাশ রীতিমত প্রাপ্তির অপমানে ক্ষেপে লাল হয়ে গেছে। ক্রোধাগ্নি স্বরে পাশ থেকে বললো,
“মেয়েটাকে নতুন দেখছি। ফার্স্ট ইয়ার মনে হয়, অথচ কি পার্ট দেখালো। শালা, এখনের বাচ্চাগুলো সিনিয়রদের মান্যিই করে না”
নুহাশের কথাগুলো যেন অয়নের কানেও ঢুকলো না। উলটো পোঁড়া ঠোঁটে বাঁকা হাসি উন্মোচিত হলো। কাগজটা নুহাশের হাত থেকে নিলো। ঠান্ডা গলায় বলল,
“ইন্টারেস্টিং। মেয়েটার পুরো ডিটেইলস বের করতো। আমিও তো দেখি কোন স্বর্গের বড়ইপাতা সে, যার দুর্দিন শুরু হবে আমাকে ভালোবাসি বললে”
·
·
·
চলবে……………………………………………………