সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ - পর্ব ০৫ - মুশফিকা রহমান মৈথি - ধারাবাহিক গল্প


“হালার পুত সুযোগ কই দিসোস তুই? হুদাই বেটির এত তেজ। ভর্তি হওয়ার পর থেকে কোনো র‍্যাগ খায় নাই বেটি। এখন তেলাপোকা যাইবো মোতালেবের কাছে আর আমাদের বারোটা বাজাইবো”

অয়নের মাথা ফাঁকা হয়ে গেলো। গলা শুকিয়ে গেলো। এই ভাগ্নীর কোনো ভরসা নেই। যদি মোতালেবকে বলে দেয় অয়ন শেষ। শুধু শেষ নয় একেবারেই ফিনিশ। উদ্বিগ্ন স্বরে শুধালো,
 “এখন কি করবো?”

নুহাশ কিছুটা ভেবে বললো,
 “এক কাজ কর”
 “কি?”
 “সোজা যা”
 “হ্যা”
 “আর প্রাপ্তির পায়ে পড়ে যা”

অয়ন চোখ মুখ কুঁচকে বললো,
 “তোকে আমি ছাদ থেকে ফেলায় দিব কিন্তু”
 “এমনেও মনে হচ্ছে তুমি বাঁচায় রাখিছো? লালবানুর ইজ্জত লুটছি, আমার মৃত্যু কনফার্ম”
 “অফ যা গাধা”

বলেই চিন্তা করতে লাগলো অয়ন। যেভাবেই হোক, প্রাপ্তিকে থামাতে হবে। 

*** 

ব্যাংক থেকে বের হতেই তৃতীয়বারের মত অয়নের মুখখানা দেখলো প্রাপ্তি। লম্বা শরীরটা নারকেল গাছের সাথে হেলান দিয়ে ছিলো। সৌম্যমুখখানা যেকোনো নারীর কাছে আকর্ষণীয় হলেও প্রাপ্তির সাথে ঠেকলো মহা বিরক্তিকর। দীর্ঘ নেত্রপল্লব, বাদামী চোখ, লম্বাটে মুখবিবর, গৌঢ় বর্ণ সব কিছুতেই মাত্রাতিরিক্ত দম্ভ। যে দম্ভই তার বিরক্তির কারণ। প্রাপ্তির মুখখানা শক্ত হয়ে গেলো। কড়া হাঁসফাঁস করা রোদের তাপও এতোটা রাগ ধরায় না। প্রাপ্তি হেটে যেতেই পথ আগলে ধরলো অয়ন। এগিয়ে দিলো হাতে থাকা ঠান্ডা জুস। প্রাপ্তি অবাক হলো। রাইসার বিস্ময়ে বিহ্বল মুখখানা উপেক্ষা করে শুধালো,
 “এটা কি?”
 “আমাদের ট্রেডিশন, র‍্যাগ দিলে ট্রিট দিতে হয়। তোমার ট্রিট। যতটুকু শুনলাম, তুমি আমার রোলমেট। তোমার একটা ট্রিট তো পাওনাই ছিলো! যদিও আমি জুস দিয়ে সেটা কাটাকাটি করবো না। তবুও জুসটা রাখো”
 “ঘুষ দিচ্ছেন?”
 “এমা না না, জাস্ট ফর্মালিটি”
 “হাসালেন, যে লোক একটু আগেও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলো সে আমার জন্য জুস কেন আনবে? সত্যি করে বলেন এই জুস কেন? কোনটার ঘুষ? সকালের কান্ডের নাকি আপনি যে সাংঘাতিক দুষ্কর্ম করেছেন সেটা চেপে যাওয়ার?

অয়নের চোখ ছোট ছোট হয়ে গেলো। চোয়াল শক্ত হলো। মেয়েটির স্পর্ধা তাকে অবাক করলো সেই সাথে অপমানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে আগুন জ্বলে উঠলো। এই মেয়েটাকে দেখলেই মাথায় আগুণ জ্বলে উঠে অয়নের। ইচ্ছে করে ধরে আঁছাড় দিতে। নুহাশ ঠিক সাথে সাথেই বলে উঠলো,
 “সিনিয়রদের সাথে এভাবে কথা বলছো কেনো?”
 
নুহাশের কথায় প্রাপ্তি মুখখানা এগিয়ে দিলো অয়নের দিকে। সুক্ষ্ণ চোখে তাকে দেখতে লাগলো। অয়ন খানিকটা ভ্যাবাচেকা খেলো। বিস্মিত কন্ঠে শুধালো, 
 "এই মেয়ে কি দেখছো?"
 "দেখছি আপনার মাথায় কোনো শিং আছে কি না। চামচা ভাইয়া তো বললেন আপনি সিনিয়র। তাই আমি ভাবলাম আপনার মাথায় মনে হয় স্পেশাল শিং আছে। কিন্তু নাহ, আপনার তো তেমন কিছু নাই। হতাশ হলাম"

রাইসা প্রাপ্তির হাত টেনে ধরে ভয়ার্ত স্বরে বললো,
 “সিনিয়রের সাথে এমনে কথা বলিস না বোন?”
 “কেনো? কি করবে সে?”
 
প্রশ্নের উত্তরটা রাইসার কাছেও নেই। ভার্সিটিতে আসার পর থেকে একটা কথাই শুনেছে সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি করলেই র‍্যাগ খেতে হবে। সেই ভয়টাই তাকে কুঁকড়ে ফেলেছে। প্রাপ্তি বিদ্রুপাত্মক স্বরে বললো,
 “এই সিনিয়র ভাইয়া কিচ্ছু করতে পারবে না। কারণ তাদের নিজের পা-ই গর্তে। তাই না ভাইয়া? সকালের ঘটনা কিন্তু ভুলি নি, আপনার বাইকের চাকাটা ভালো আছে তো? আর পার্কিংএ আপনারা কিছু তো করেছেন। আমি কিছু ভাঙ্গার শব্দও পেয়েছি। তাই না ভাইয়া?”
 “হেই লিসেন, হাতি যখন কাঁদায় পড়ে চামচিকাও লাথি মারে। তুমি তো তেলাপোকা”
 “সেই তেলাপোকার জন্যই জুস নিয়ে এসেছেন। ইশ!!”
 
প্রাপ্তির কথায় মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেলো অয়নের হাত। অন্য কোথাও হলে মেয়েটিকে আঁছাড় দিত সে। তার কপালের শিরা দপদপ করছে। নুহাশ সাথে সাথেই তাকে আটকালো। অনুনয় করে বললো,
 “দেখো তুমি আমাদের ভুল বুঝছো”
 “তাই? কোনটা ভুল?”

তখনই অয়ন কঠিন স্বরে বললো,
 “আমাদের যে একিউজ করছো তোমার কাছে প্রমাণ আছে। নিজের চোখে দেখেছো আমি কি করেছি?”

এবার অয়ন এগিয়ে আসলো প্রাপ্তির দিকে। তার রক্তচক্ষু প্রাপ্তিতে নিবদ্ধ। দূরত্ব বেশি নয়, মাত্র কয়েক ইঞ্চি। নিজের থেকে দেড় হাত লম্বা ছেলেটি যখন নিজের দিকে ঝুকে আসে প্রাপ্তি কিছুটা অপ্রস্তুত হলো। দু কদম পিছিয়ে গেলো। বুক কাঁপছে। তবুও চোখে চোখ রাখলো। নিডর স্বরে বলল,
 “আমি নিশ্চিত, আপনি কিছু তো করেছেন”
 “কি করেছি? বলো! আসলে কি করেছি জানো? না, জানো না। উপরন্তু আমার উপর বদলা নিতে মিথ্যেও বলতে পারো তাই নয় কি? আর কমপ্লেইন করতে হলেও দোষ লাগে। আমার দোষ কি? তোমার পায়ে অলমোস্ট চাকা তুলে দেওয়া। এলিবাই কে? আমার বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দিবে না। অথচ যখন আমার বাইকের চাকা ফাটিয়েছো, সবাই দেখেছে। আমি তো মহৎপ্রাণ মানুষ, তাই ক্ষমা করে দিয়েছি”

প্রাপ্তির ভ্রু কুঞ্চিত হলো। নাকের পাটা ফুলে উঠলো রাগ দমানোর কারণে। অয়ন আরেকটু কাছে এলো। তার উষ্ণ নিঃশ্বাস ছুয়ে গেলো প্রাপ্তির মুখবিবরে। শীতল স্বরে বললো,
“নাও, জুসটা খাও, মাথা ঠান্ডা কর। আসি জুনিয়র। মামলা ডিসমিস; আসামী খালাস”

বলেই ফিচেল হাসলো অয়ন। প্রাপ্তির গা কাঁপছে রাগে। প্রথম দর্শনে ছেলেটি শুধু অপছন্দ ছিলো, দ্বিতীয় দর্শনে ছেলেটি অপছন্দের শীর্ষে পৌছালো। আর তৃতীয় দর্শনে ঘৃণা জন্মালো। এই ঘৃণা যে সে ঘৃণা নয়। মারাত্মক ঘৃণা। 

*******

লালবানুর ক্ষতবিক্ষত হাল ক্ষতবিক্ষত করলো মোতালেবকে। প্রিয় বস্তুর এমন দশায় হিতাহিত জ্ঞান হারালেন তিনি। ভার্সিটি তোলপাড় হয়ে গেলো কিন্তু দোষী বের হলো না। প্রাপ্তি সবটা দেখলো। বুঝতে বাকি রইলো না কাজটা কার। অয়ন তখন মোতালেব সাহেবের লালবানুকে আহত করেই পার্কিং থেকে বের হচ্ছিলো। সবটা মামাকে বলতে চাইলো কিন্তু পারলো না। কারণ তার কাছে প্রমাণ নেই। অয়ন মিচমিচে হাসি মুখে এঁকে পুরোটা সময় সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। অবশেষে গ্যারেজে পাঠানো হলো লালবানুকে। অয়নের হৃদয়ে যেনো শান্তির পরশ বইলো। মোতালেব স্যারের এমন পাগল দশা তাকে চরম বিনোদন দিলো। ব্যাটা তাকে কম জ্বালায় নি। তাই এই দৃশ্য দুই সাবজেক্টের ফেইল ভোলার জন্য যথেষ্ট। এদিকে প্রাপ্তির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। রাগে গা জ্বলছে। অয়ন ঠিক তার সামনে থেকে নিজের বাইকের চাবিটা ঘুরাতে ঘুরাতে হাটা ধরলো। প্রাপ্তি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
 “এক মাঘে শীত যায় না”

অয়ন থামলো। ঠোঁটে হাসি ফুঁটিয়ে বললো,
 “আমার ঠান্ডার বাতিক কম, আই এম সো হট। সো শীত গেলে বা না গেলে আমার কিছুই যায় আসে না”

অয়নের উত্তরে নুহাশ ফিক করে হেসে দিলো। প্রাপ্তির কড়া চাহনীতে অবশ্য দমে গেলো সে। অয়ন একটু ঝুকে বলল,
 “এতো নাক ফুলিও না, একেবারে ফেটে যাবে”
 
বলে নিজের মোটরসাইকেলে স্টার্ট দিলো। তারপর তীব্র বেগে চালিয়ে বেড়িয়ে গেলো। প্রাপ্তির মনটা খারাপ হলো বেচারা মামার জন্য। এতোদিনের মোটরসাইকেলটা কি খারাপ অবস্থাই না করলো ছেলেটা। 

******

মোতালেব সাহেবের মন এবং মেজাজ উভয় ই খারাপ। লালবানুর দুঃখে তিনি নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন এককথায়। দুপুরে তার পছন্দের তরকারি রান্না হলেও তিনি খান নি। বাচ্চা মেয়ের খেলনা ভেঙ্গে গেলে সে যেমন জেদ ধরে বসে থাকেন মোতালেব সাহেব আজ যেনো সেই জেদই ধরেছেন। তার লালবানু আইসিউতে আছে বলে কথা। তার ডায়াবেটিস এবং হাই প্রেসারের সমস্যা আছে। না খেয়ে একবার সুগার লেভেল লো হয়ে গেলো। মিরাজ তাড়াতাড়ি লেবুর শরবত খাওয়ালো। তাতে যাও সুগার লেভেল কন্ট্রোলে আসলো। কিন্তু লালবানু আদৌও ঠিক হবে কি না সেই চিন্তায় তার প্রেসার বেড়ে গেলো। একেবারে যাচ্ছে অবস্থা হলো। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার প্রেসারের ঔষধের পাওয়ার বাড়িয়ে দিলেন। সেই সাথে ঘুমের ঔষধ দিলেন। ফলে মোতালেব সাহেব পরদিন সারাদিন ঘুমালেন। মামার এমন অবস্থা দেখে চিন্তায় পড়ে গেলো প্রাপ্তি। সবটা জেনেও চুপ করে থাকাটা অনুচিত মনে হলো। ফলে সিদ্ধান্ত নিলো সে মামাকে সব জানিয়ে দিবে।

পরদিন সকালে যখন মোতালেব সাহেবের অবস্থা মোটামুটি ভালো তখনই প্রাপ্তি তার ঘরে গেলো। ধীর স্বরে বলল,
 “মামা, আপনাকে কিছু বলার আছে” 

****

সকালের রোদের তেজ স্মিত। অম্বরের নবীন কৃষ্ণ প্রহরী ঢেকে রেখেছে তেজী সূর্যকে। অয়নের মন ফুরফুরে। সেই ফুরফুরে মেজাজেই আজ ক্লাসে আসা। অবাককর ব্যাপার, ক্যান্টিনে না যায়ে সে সরাসরি ক্লাসেই এসেছে। তাকে দেখে শিহাব, পলাশ এবং নুহাশ অবাক। নুহাশ ঘড়ির দিকে তাকালো, এখনো আটটাও বাজে নি। অথচ অয়ন ক্লাসের আগেই হাজির। সাধারণত তাকে সেমিস্টার শুরুর সময় গুলোতে মোটেই দেখা যায় না। তার দর্শন মিলে শেষ ছয় সপ্তাহের দিকে কারণ ষাট শতাংশ উপস্থিতি যে দেখাতে হয়। ফলে বন্ধুরা তাকে দেখেই হতবাক হলো। পলাশ তো একবার পশ্চিমে তাকালো, হতভম্ব স্বরে বললো,
 “সূর্য এবার কোনদিকে উঠলো রে?”
 “দক্ষিণে”

অয়নের চটপটে উত্তরে হাসির রোল দিলো। অয়ন গা এলিয়ে বললো,
 “ঘুম ভালো হয়েছে কাল, তাই ভাবলাম একটু ক্লাসে এসে ক্লাসের শোভা বাড়াই”

শিহাব টিটকারির স্বরে বললো,
 “কেনো গত রাতে কোনো গার্লফ্রেন্ড তোকে প্যারা দেয় নি?”
 “গুজব ছড়াস না, অয়ন শিকদার একেবারেই সিঙ্গেল”

ফলে সামনের বেঞ্চ থেকে একটি মেয়ে মাথা ঘুরিয়ে বলে উঠলো,
 “তাহলে আমার সাথে প্রেম কর, আমিও সিঙ্গেল”
 “না বইন, মাফ চাই ক্ষমাও চাই। আমি শান্তিতে আছি, থাকতে দে”
 
অয়ন সাথে সাথেই উত্তর দিলো। অয়নের উত্তর শেষ হতে না হতেই ডিপার্টমেন্টের পিয়ন সিআর আবরারকে এসে জানালো,
  “অয়ন শিকদারকে হেড স্যার ডাকছেন তার রুমে”

কথাটায় ক্লাসে আলোড়ণ পড়লো। অয়নের কপালে তীব্র ভাঁজ। আবরার তাকে শক্ত গলায় বললো,
 “অয়ন হেডস্যারের রুমে যাও”

নুহাশ শুকনো ডোক গিললো। অয়নকে ফিসফিসিয়ে বললো,
 “ধরা পড়ে গেলাম নাকি রে?”
 
অয়ন মাথা নাড়লো। আশ্বস্ত স্বরে বললো,
 “চুপ কর। আগেই অলুক্ষণে কথা বকিস না”

****

দরজার সম্মুখের নেমপ্লেটে সোনালী বর্ডারে লেখা “প্রফেসর শাখাওয়াত ইসলাম”। দরজাটা ঠেলে রুমে প্রবেশ করতেই অয়নের মুখবিবরের বর্ণ পাল্টে গেলো। কারণ মোতালেব শাখাওয়াতের ঠিক বিপরীতে বসে আছে। অয়ন শুষ্ক কন্ঠে শুধালো,
 “আসবো স্যার”

শাখাওয়াত গম্ভীর স্বরে বললো,
 “হ্যা”

অয়ন প্রবেশ করে গেট আটকে দিলো। শাখাওয়াতের মুখ গম্ভীর। মোতালেবের মুখে রুষ্টতা স্পষ্ট। অয়ন শান্ত স্বরে বললো,
 “স্যার, ডেকেছিলেন”
 “হ্যা, তোমার নামে কমপ্লেইন এসেছে। মারাত্মক কমপ্লেইন। এবং এই অভিযোগটা এনেছেন আমাদের মোতালেব স্যার। উনি এই ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র টিচার। সুতরাং উনি হেলাফেলা করে তো কমপ্লেইন আনবেন না। তুমি কি জানো তোমার অভিযোগ?”

অয়নের বুঝতে বাকি রইলো না ভাগ্নী মামাকে সব বলে দিয়েছে। অয়ন শান্ত রইলো। খুব নির্লিপ্ত স্বরে বললো,
 “না স্যার। আমি জানি না”
 “তুমি মোতালেব স্যারের মোটরসাইকেল ভেঙ্গেছো? ফন্ট মিরর, ব্যাক হেডলাইট? টায়ার ছিড়ে ফেলা? এগুলো কি করেছো তুমি?”

অয়ন একবার মোতালেবের দিকে তাকালো হতবাক নয়নে। যেনো এই কথাগুলো প্রথমবার শুনছে। অয়ন নাটক চালিয়ে বিস্মিত হবার ভান করে বললো,
 “না স্যার, আমি এমন কিছুই করি নি”
 “কিন্তু মোতালেব স্যার যে বলছে তুমি করেছো। উনার কাছে সাক্ষী আছে”
 
বলেই পিয়নকে দিকে প্রাপ্তিকে ভেতরে ডাকা হলো। প্রাপ্তিকে দেখতেই অয়নের কপালের ভাঁজ প্রগাঢ়। তীব্র ঘৃণা জন্মালো। তার শানিত দৃষ্টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলো প্রাপ্তি। তার দৃষ্টি শীতল। প্রাপ্তির মুখবিবর দেখেও অয়ন অনড় স্বরে বললো,
 “আমি কিছু করি নি স্যার”

শাখাওয়াত তাকে হাত দিয়ে ইশারা করলো থামার জন্য। তারপর প্রাপ্তিকে শুধাল,
 “তোমার কি বলার আছে বল”
 “স্যার আমি অয়ন ভাইয়াকে পার্কিং থেকে বের হতে দেখেছি গতকাল সকালে”
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp