হারেমের গণকক্ষ গমগম করছে উত্তেজনায়। সকলের মুখে কৌতুহল, ভীতি, বিভ্রান্তি। হামিদা পুরো হারেম তোলপাড় করে দিয়েছে এক আংটির খোঁজে। আংটিটি শেহজাদা উমারের দেওয়া। হামিদা এবং শেহজাদা উমারের সখ্যতা জানে না হেন মানুষ এই হারেমে নেই। হামিদার মা শাহরীন ছিলেন আরবের নামকরা তাবায়েফ। শাহরীনকে উপঢৌকন রুপেই পাঠানো হয় এই মহলে। নীলুফারের দাসী রুপে এই মহলে তার অনুপ্রবেশ ঘটে। শাহরীন প্রচন্ড রুপবতী। ফলে নীলুফার নিজের স্বামীর কামুক নজর থেকে তাকে বাঁচাবার জন্য নিজের তত্ত্বাবধায়নে এক সৈনিকের সাথে তার বিবাহ দেয়। মামলুকদের সাথে সতেরো বছর পূর্বের যুদ্ধে সৈনিক মারা যায়। তখন হামিদার বয়স ছিলো মাত্র তিন বছর। ফলে নীলুফার তাকে আবার হারেমে থাকার অনুমতি দেয়। সেই থেকে হামিদার বেড়ে ওঠা এই হারেমে। উমারের সাথে সখ্যতার কারণও এটা। ছেলেবেলা থেকে তারা একত্রে বড় হয়েছে। যেকারণে হামিদাকে হারেমের সকলেই ভিন্ন চোখে দেখে। ফলে তার অন্যায্য কাজ এবং অহেতুক দাপটও সকলে সহ্য করে। আংটিটি শেহজাদা উমারের দেওয়া। সুতরাং আংটিটি যে চুরি করেছে তার গর্দান যাবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। হারেমের প্রধান দায়িত্বে থাকা উসমা শোরগোলে ছুটে এলো। হারেমের মেয়েদের নিয়ন্ত্রণ করা দিনদিন দুষ্কর হয়ে উঠছে। মেজাজ সর্বদাই তার থাকে তুঙ্গে। তাই এসেই খেঁকিয়ে উঠে বললো,
“এটা কি মাছের বাজার নাকি? একেবারে ঝেঁটিয়ে সবগুলোকে বের করে দিব”
হামিদা উসমাকে মোটেই ভয় করে না। ফলে তার গালজোড়া চেপে ধরে বললো,
“আমার আংটি পাচ্ছি না। শেহজাদার দেওয়া আংটি”
বলেই নিজের আঙ্গুল দেখালো। উসমা নিজের গাল ছাড়িয়ে বললো,
“তারমানে এখন আমার সব কাজ ফেলে তোমার আংটি খোঁজা লাগবে তাই তো”
“তাই হলে তাই? যতক্ষণ না আমি আমার আংটি খুঁজে পাচ্ছি আমি শান্ত থাকবো না। ভুলে যেও না শেহজাদা উমার যদি জানতে পারেন তবে তোমার অবস্থা ভালো হবে না”
উসমা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। যদিও হারেম শেহজাদার নয়। তবুও রাজবংশীয় কাউকে অগ্রাহ্য করার স্পর্ধা কারোর নেই। তাই দায়সারা স্বরে বললো,
“তাহলে কি চান আপনি হামিদা খাতুন?”
“সবার তল্লাশি নাও। আংটি কি দিনের বেলাতে উধাও হয়ে যাবে। পান্নার আংটি। অমূল্য”
উসমা হামিদাকে ক্ষান্ত করতে খোঁজা প্রহরীদের ডাকলো। তারা প্রতিটি বিছানা এবং জিনিসপত্র তন্নতন্ন খুঁজলো। আয়েশা হুসনাতের হাত চেপে ধরে রেখেছে। তার ভয়ে বুক কাঁপছে। হামিদার বিশ্বাস নেই। ভুলক্রমেও যদি আংটিখানা তার জিনিসপত্রের ভেতর থেকে বের হয় রক্ষে থাকবে না। মেহমুদ সাম্রাজে চুরির দন্ড খুব কঠিন। হাত কেঁটে ফেলা হয় সেই সাথে জবানও। কানে ঢেলে দেওয়া হয় গলন্ত শিশা। বহুক্ষণ যাবৎ সকল দাসীদের জিনিসপত্রগুলো তন্নতন্ন করে খোঁজা হলো। কিন্তু আংটি পাওয়া গেলো না। আংটির খোঁজ না মিললে হামিদার মুখে চিন্তার রেশ ফুটে উঠলো। সে ব্যগ্র কণ্ঠে বললো,
“আংটি নেই?”
উসমা বিরক্ত স্বরে উত্তর দিল,
“দেখলেনই তো সবটা”
“ওদের শরীর সন্ধান কর। হয়তো শরীরের কোথাও লুকিয়ে রেখেছে”
উত্তেজিত হয়ে গেলো হামিদা। তার চোখ বড়বড় হয়ে গেছে। সে তার সঙ্গী সানজিদার দিকে চাইলো। সানজিদা চোখের ইশারায় বোঝালো আংটিখানা সে রেখেছে। আংটিখানা সানজিদা হুসনাতের বালিশের খোলে রেখেছে। সেখান থেকেই পাবার কথা। তাহলে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? উসমার বিরক্তিতে মুখ তেঁতো হয়ে আসছে। রাগে গা জ্বলছে। কিন্তু সে মুখে কিছু প্রকাশ করলো না। নিজে সব দাসীদের দেহতে অনুসন্ধান চালালো। আংটি কোথাও পাওয়া গেলো না। আংটিটা কি হাওয়ায় উবে গেছে? মাটি গিলে ফেলেছে? নাকি আকাশে উঁড়ে গেছে। অনুসন্ধান শেষে উসমা কড়া স্বরে বললো,
“হামিদা খাতুন আমার মনেহয় আপনার নিজের ঘর ভালো করে খোঁজা উচিত। এখানে আংটি নেই”
“আংটিটা এই ডাইনীটা সরিয়েছে। আমি খুব ভালো করে জানি, শেহজাদার উপর নজর ওর”
নিজের সংযম হারিয়ে ফেললো হামিদা। নিজের পরিকল্পনা সফল না হবার কারণে সরাসরি সকলের সামনেই হুসনাতের দিকে আঙ্গুল তুললো। উসমার চোখ বিস্ফারিত হলো। হামিদা খাতুনের মানসিক অবস্থা যে নড়বড়ে তার চাক্ষুস প্রমাণ পেলো যেন। শেহজাদা ইরহানের প্রিয় দাসীকে সে সকলের সামনে গালমন্দ করছে। এর পরিণাম যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আন্দাজ নেই তার। পুরো দু সপ্তাহ মেয়েটি শেহজাদার ঘরে থেকেছে। শেহজাদা খাস হাকেমের ব্যবস্থা করেছেন। এটাই কি যথেষ্ট নয় তাদের মধ্যকার সম্পর্ক বিবেচনায়? শেহজাদা নিজের হুকুম রাজকীয় খাবারের ব্যবস্থা করেছেন প্রতিদিন। হেঁশেলের প্রধানকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যেন খাবারের স্বাদ খারাপ না হয়। শেহজাদা ইরহানের এমন উদার মনের পরিচয় আগে কখনো কেউ দেখে নি। এটাই কি প্রমাণ নয় শেহজাদা ইরহান হুসনাত খাতুনের মোহে বুদ। সেই শেহজাদার নারীর চরিত্রে আঙ্গুল তোলা যে গর্হিত অপরাধ। উসমা হামিদাকে সতর্ক করে,
“হামিদা খাতুন, নিজেকে সামলান”
হুসনাত নির্বিকার। তার মধ্যে ভাবাবেগ দেখা গেলো না। সে উলটো নম্র স্বরে বললো,
“আমি কি যেতে পারি? শেহজাদী অপেক্ষা করছেন। উনার গোসলের সময় হয়ে গিয়েছে”
উসমা তাকে যাবার অনুমতি দিলো। হুসনাত গণকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলো। হামিদা দাঁত কিড়মিড় করছে তার সহ্য হচ্ছে না মেয়েটির এমন নির্লিপ্ততা। মেয়েটিকে উচিত শিক্ষা না দেওয়া অবধি তার যেন শান্তি নেই।
***
আলীউদ্দিন বর্তমানে পলাতক। সে ঠিক কোথায় লুকিয়ে রয়েছে সেই জায়গাটার খোঁজ পেয়েছে শেহজাদা আবু সাঈদ। তার খাস ভৃত্য ফায়সাল এই খোঁজ নিয়ে এসেছে। এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে উজির প্রধান আবদালীর জন্য। নানাজান আবদালী নিজের দৌহিত্রকে সহায়তা করার জন্য একটি সূক্ষ্মচাল চেলেছেন। আলীউদ্দিনকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার নীল নকশা করেছেন নিজেই। হুসনাত খাতুনের থেকে বায়োজিদের নতুন আসা পত্রটি আসার পর থেকেই সুলতানা তাবিয়ার মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে আছে। চিঠিটিতে লেখা,
“হুজুর,
এসফাইন এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সৈন্যরা এখন আপনার আধিপত্য এবং মেহমুদ সাম্রাজ্যের আধিপত্য মেনে নিয়েছে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। এসফাইনের ত্রিসীমানাতে আলীউদ্দিন এবং তার বংশধরদের প্রবেশ নিষেধ। আমি আলীউদ্দিনের সকল সহোচরকে বন্দি করেছি। এখনো পর্যন্ত তার অবস্থান জানতে পারি নি। তবে আমার বিশ্বাস তার অবস্থান উজির প্রধান জানেন। আলীউদ্দিন তার অনুগত। সর্বোচ্চ চরের জাল বিছিয়ে রেখেছি। আলীউদ্দিন ধরা পড়বেই। আপনি যদি হুকুম করেন, আমি ফেরত আসতে চাই। এসফাইনে একজন যোগ্য প্রাদেশিক প্রধান প্রয়োজন। আমার বিশ্বাস আপনার থেকে উপযোগী কেউ নেই”
এই পত্র পাবার পর থেকে আবদালী এবং তাবিয়ার মনে একটি সুপ্ত ভয় উঁকি দিয়েছে। যদি ইরহানের হাতে আলীউদ্দিন ধরা পড়ে তবে আবদালী এবং তাবিয়ার অনেক গোপন ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে যাবে। সব কিছু বিবেচনা করেই এই নীল নকশা। আলীউদ্দিনকে একটি পত্র পাঠানো হয়েছে। তাকে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। রাতের আঁধারে তাকে জাহাজে তুলে কায়রোতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আলীউদ্দিন নিশ্চয়ই চিঠিটা পেয়ে গদগদ হয়ে আছে। এই সুযোগেই তাকে হত্যা করা হবে। এই হত্যার পুরো কৃতিত্ব নিবে আবু সাঈদ। ফলে সুলতান তাকে শিকার অনুষ্ঠানের পূর্বেই এসফাইনের প্রাদেশিক প্রধান ঘোষণা করবে। আবু সাঈদের চোখ চকচক করছে। আয়নায় সে নিজেকে নয়, হবু সুলতান আবু সাঈদকে দেখতে পাচ্ছে। দামী লাল কাফতান, মাথায় হিরে খচিত সোনার মুকুট। একহাতে রক্তাক্ত তলোয়াড় আর এক হাতে ইরহানের কাটা মাথা।
১৯.
ব্যস্ত সূর্য ডুবে গেছে। আকাশের শেষ আলোটুকুও শুষে নিয়েছে সন্ধ্যা। আযানের ধ্বনি কানে আসছে। শেহজাদীর মনোরঞ্জনের উপলক্ষে আজ হারেমে ছোটখাট একটি আয়োজন করা হয়েছে। মেয়েরা নাচ-গান করছে। ভালো খাবার-দাবারের আয়োজন করা হয়েছে। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর, শেহজাদীর অনুমতি নিয়ে হুসনাত আসর থেকে উঠে গেলো। মাথাটা খুব ব্যথা করছে। হয়তো জ্বর আসবে। চোখ জ্বালা করছে। ঝরা পাতা এবং শুষ্ক হাওয়া শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসছে। হয়তো আবহাওয়ার এই পরিবর্তনেই তার গা মেজমেজ করছে। নিরিবিলি কিছুক্ষণ থাকলে হয়তো ভালো লাগবে। পাতাল ঘরের আঘাতগুলো এখনো তাজা হয়ে আছে। ঘা হয়েছে কি না বুঝতে পারছে না। ক্লান্ত পায়ে গণকামরাতে ঢুকতেই হামিদাকে দেখতে পেলো হুসনাত। তার বিছানা লন্ডফন্ড করে ফেলেছে। হামিদা একা নয়, তার সাথে হারেমের বেশ কিছু মেয়েরা রয়েছে। হুসনাত তাদের দেখতেই শুধালো,
“নিজে শেহজাদীর জন্য নাচ-গানের আয়োজন করা হয়েছে, অথচ আপনারা এই কামরায় কি করছেন?”
হুসনাতের কণ্ঠে চমকে উঠলো হামিদা। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো সে। পরমূহুর্তে নিজেকে সামলে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলো। হুসনাত কিছুসময় তাকে নিলীন চোখে দেখলো। তারপর মৃদু স্বরে বললো,
“যা খুঁজছেন সেটা ওখানে নেই”
হুসনাতের কথায় আবারও থতমত খেয়ে গেলো হামিদা। গমগমে স্বরে বললো,
“কোথায় আংটিটা?”
“আমি কি জানি? আপনার মিত্র সেটা কোথায় রেখেছে আমি কিভাবে বলবো? তবে এতোটুকু বলবো, এখানে কোথাও আংটি খুঁজে পাবেন না”
হামিদা কিছুসময় হতবিহ্বল নয়নে দেখলো হুসনাতকে। তার বিশ্বাস হচ্ছে না। মেয়েটি তার চাল ধরে ফেলেছে? সে সানজিদার দিকে চাইতেই সানজিদা আমতা আমতা করে বললো,
“ও তখন ছিলো না ঘরে। আমি সত্যিই ওর বালিশের খোলেই আংটিটা রেখেছি, যেমন তুমি বলেছো”
হামিদার গা জ্বলছে যেন। হুসনাত শান্ত নয়নে তাকিয়ে রয়েছে। তার চোখে মুখে এক অদ্ভুত স্থবিরতা। দৃষ্টি শিথিল। সে হামিদার চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে হামিদার রাগ বাড়লো সেই ক্লেশহীন মুখখানা দেখে। একরকম তেড়ে এসে সে চড় বসাতে গেলেই হুসনাত তার হাত ধরে ফেললো। শান্ত চোখগুলো ধপ করে জ্বলে উঠলো যেন। হুট করে হামিদার গায়ে কাঁটা দিলো হুসনাতের দৃষ্টির ধার দেখে। যে মেয়েটি কারোর সাথে কথা বলে না, উচ্চবাচ্য করে না, ঝামেলায় জড়ায় না—সেই শান্ত মেয়েটিকে যেন চিনতে পারছে না হামিদা। হামিদা অনুভব করলো তার অস্বস্তি লাগছে। হুসনাতের দৃষ্টির ধার তার ভেতরটাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। শান্ত মুখমন্ডলের মেয়েটির দৃষ্টি এমন ধাঁরালো হবে কেন! মনে হচ্ছে কোনো হিংস্র জানোয়ারের সামনে সে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ বন্ধ করতেই সে ঝাপিয়ে পড়ে শিকার করে নিবে তাকে। হুসনাত সর্বদার মত, ধীর স্বরে বললো,
“আমি জানি না আপনি আমাকে এতো ঘৃণা কর কেন? তবে আমার মনে আপনার জন্য কোনো কুমতলব নেই। একটা উপদেশ দেই, নিজের শত্রুকে হেয় করাটা বোকামি; আশাকরি আপনি বোকা নন”
ঠিক তখনই উসমা উপস্থিত হলো সেখানে। খরখরে স্বরে বললো,
“হামিদা খাতুন, সুলতানা আপনাকে তলব করেছেন”
হামিদা নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো। হুসনাত নামক মেয়েটির সাথে এখন জড়ানোটা উচিত হবে না। তাই সে একপ্রকার ছুটে বেরিয়ে গেলো।
***
তাবিয়া সুলতানার ঘরে মৃদু আলো জ্বলছে। তিনি আতর মেখেছেন। কড়া গন্ধের আতর। হামিদা প্রবেশ করতেই সেই আতরের গন্ধ তার নাক ঝাঁঝিয়ে গেলো। কুর্নিশ হয়ে আনত স্বরে শুধালো,
“সুলতানা ডেকেছিলেন?”
“তোমার আংটি হারিয়ে গেছে শুনলাম, পেয়েছো কি?”
“না সুলতানা”
“তুমি নাকি হারেম মাথায় করে ফেলেছো এক আংটির জন্য?”
হামিদা চুপ করে রইলো। কিছু বললো না। তাবিয়া ধীর পায়ে হেঁটে তার সামনে দাঁড়ালো। একটি কাঠি দিয়ে হামিদার চিবুক তুললো সে। হামিদা চোখে মেলে চাইলো তাবিয়ার দিকে। তাবিয়া শীতল স্বরে বললো,
“এই হারেম আমার হামিদা, সুলতানা আমি। তুমি কেবল একটা দাসী যাকে দয়া করে এখানে থাকতে দিয়েছি আমি। তোমার কাজ উমারকে ব্যস্ত রাখা, প্রেমের জালে আটকে রাখা। হারেমে কর্তৃত্ব করা নয়। নিজের সীমা অতিক্রম করবে না হামিদা। আমার ধৈর্য্য পরীক্ষা করবে না। হুসনাত খাতুনকে তোমার অপছন্দ হতেই পারে, কিন্তু সে আমার দাবার গুটি। তোমার বোকামির জন্য তার কিছু হলে আমি কিন্তু তোমাকে ছাড়বো না”
হামিদা শুকনো ঢোক গিললো। অপমানখানা গিলে ফেললো। কাঁপা স্বরে বললো,
“ক্ষমা করবেন মালেকা। শেহজাদার সাথে ওই মেয়েটাকে দেখে আমি ঈর্ষান্বিত হয়েছিলাম”
“উমারের সাথে হুসনাত খাতুন?”
“জি মালেকা, মেয়েটা খুব চালাক। নাটক করে অসহায় সাজার। কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুব চালবাজ। ওর কোনো একটা উদ্দেশ্য আছে। আমি নিশ্চিত”
তাবিয়ার ভ্রু কুচকে গেলো। চিন্তার বলিরেখা উন্মোচিত হলো কপালে। হাতের ইশারায় হামিদাকে বললো,
“যাও তুমি”
হামিদা তার কাফতানে চুমু খেয়ে বেরিয়ে গেলো। মনে মনে বললো,
“একদিন আমারো সময় আসবে, তখন সবাইকে দেখে নিব”
তাবিয়ার মুখে হাসির ছাপ। মস্তিষ্কে ছক কষে ফেলেছে সে। এক তীরে তিন পাখি শেষ। তীরের নাম হুসনাত খাতুন।
*****
সীমান্তে প্রহরীদের টহল এখন শিথিল। শিথিলতা উজিরের হুকুমেই। আলীউদ্দিন এবং তার ছেলে নিজের সৈন্যসামন্ত এবং দোসরদের নিয়ে প্রস্তুত। আবদালি তাদের ঠকাবে না। কিন্তু সে তো জানে না, সে পত্র কেবলই টোপ। শিকারকে ছাগলের লোভ দিয়ে শুধু বের করা হয়েছে। এদিকে শিকারী প্রস্তুত। একজন নয়, তিন তিন জন। উমার, আবু সাঈদ এবং ইরহান—তিনজনের লক্ষ্য এসফাইন। কার ভাগ্যে থাকবে আলীউদ্দিনের শির এবং কে হবে এসফাইনের প্রাদেশিক প্রধান সেটাই যেন জানার অপেক্ষা…………
·
·
·
চলবে……………………………………………………