সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ - পর্ব ০৭ - মুশফিকা রহমান মৈথি - ধারাবাহিক গল্প

          চুলগুলো খুলতেই চমকে উঠলো প্রাপ্তি। তার চুলের ভেতর একগাধা চুইংগাম লাগানো। এতোটাই বাজে ভাবে লাগানো যে প্রাপ্তির অর্ধেকের বেশি চুল চুইংগামের আঠায় ঝট পেকে আছে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বিমূঢ় হয়ে গেলো প্রাপ্তি। এমন নয় যে সৌন্দর্য নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত। সে কখনোই সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয় না। তার কাছে সৌন্দর্য কেবল চোখের ধোকা। সাধারণত মায়ায় পড়লেই এই ধোকায় পড়ে মানুষ। কিন্তু এমন ফাজলামি মোটেই পছন্দ নয় তার। এদিকে তাকে অস্থির হতে দেখে রাইসা শুধালো,
 “কি হয়েছে?”
 “আমার চুলে চুইংগাম লাগিয়ে দিয়েছে কেউ”

বিপন্ন স্বরে উত্তর দিলো প্রাপ্তি। রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ, উদ্বিগ্নতা সব অনুভূতির বিশ্রী পাটাতনে একাকার হয়ে গেছে যেন সে। রাইসা দেখলো কাঁধের একটু নিচ থেকে তার চুলে বাজে ভাবে জড়িয়ে আছে চুইংগাম। প্রাপ্তি এবং সে এতোটাই কাজে ডুবেছিলো যে খেয়াল করে নি। রাইসা ব্যগ্র স্বরে বললো,
 “এই চুইংগাম তো ছোটানো যাবে না রে, চুল কাটতে হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে কে এমন বিশ্রী কাজটা করলো? কে তোমার চুলে এই চুইংগাম লাগিয়েছে?”

আশেপাশের মানুষগুলোর দৃষ্টি প্রাপ্তির দিকে। অনেকের ঠোঁটে মনোরঞ্জনের তীব্র হাসি, অনেকের চোখের বিস্ময়। তবে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ, সূঁচালো হাসি ছিলো অয়নের ঠোঁটে, অনেকটা পৈচাশিক হাসি। প্রাপ্তির দৃষ্টি এড়ালো না তা। রাইসা সবাইকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো, এই বাজে, অমানবিক কাজটা কে করেছে জানা প্রয়োজন। কিন্তু স্বাভাবিক কেউ কি নিজ থেকে বলবে সে করেছে। এর মধ্যে নুহাশ ফিসফিসিয়ে অয়নকে শুধালো,
 “এই কামডা তুই করছোস?”

অয়ন ভালো মানুষের মত বললো,
 “তুই কি আমাকে এতো খারাপ ভাবিস? তুই না আমার দোস্ত”
 “এইজন্যই তোরে হাড়ে হাড়ে চিনি। সত্যি করে বল, এই আকাম তোর মাথার থেকেই আইসে তাই না? শালা তোর চেহারায় হারামিপনা টপকাইতেছে”

অয়ন উত্তরে শুধু হাসলো। তারপর নুহাশ আফসোসের সুরে বললো,
 “বেচারাগুলো, কত ক্ষতি হয়ে গেলো!”

অয়ন বিস্মিত স্বরে শুধালো,
 “কাদের কথা বলছিস?”
 “প্রাপ্তির মাথায় ভাড়া থাকা উকুনগুলোর। কতটা খারাপ মানুষ তুই, ছিঃ ছিঃ। এমন ভাবে চুইংগাম লাগছে যেন বেচারির চুল কেটে ফেলতে হয়। এখন ওর ভাড়াটে উকুনগুলোকে নতুন বাসা ভাড়া খুঁজতে হবে। ইশ রে!"

অয়ন না চাইতেও হেসে ফেললো। এদিকে -প্রাপ্তির স্থির নয়ন অয়নকে দেখছে। বুঝতে বাকি রইলো না এই অমানবিক কাজটা কে করেছে। সেও দমে যাবার মানুষ নয়। ঠিক তৎক্ষণাৎ সাংঘাতিক একটা কাজ করলো যা উপস্থিত প্রতিটা প্রাণকে তাজ্জব করে দিলো। অয়নের চোখজোড়া বিস্ফারিত হয়ে গেল। চোখমুখে স্থবিরতা। শুধু সে নয় উপস্থিত প্রতিটা প্রাণ হতভম্ব। সকলের সম্মুখেই পাশে থাকা কাঁচিটা নিয়ে ঘেচাং করে ঘাড় থেকে চুইংগাম লাগা চুল কেটে ফেললো প্রাপ্তি। তারপর বিদঘুটে একটা হাসি দিয়ে বললো,
 “কথায় আছে যে নারী নিজ হাতে তার লম্বা চুল কাটতে পারে সে খুন করতেও ইতস্তত করে না। আশা করি যে আমার সাথে এই ফাজলামি করেছে, সে সাবধান হবে। আমি পরের বার তার গলায় কাঁচি বসাতেও ইতস্ততা করবো না”

কথাটা যেন সবার মাঝেই ভীতি তৈরি করলো। নুহাশ, শিহাব, পলাশ শুকনো ঢোক গিললো। মনে হলো এখনই যেন তাদের উপর ই আক্রমণ করবে প্রাপ্তি। অথচ অয়নের হতভম্ব চোখজোড়া চকচক করছে। খেলাটা এতসময় ইঁদুর বিড়ালের হলেও এখন সেটা সাংঘাতিক রুপ নিয়েছে। অয়নের ঠোঁটের হাসি বিস্তৃত হলো। তার দৃষ্টি মেঝেতে অবহেলায় ফেলে রাখা ওই চুলগুলোর দিকে। ঠোঁট ফাঁক করে খুব ধীরে বললো, 
 “জোশ”

******

দেওয়ালে টাঙ্গানো ঘড়িতে বড় কাটাটা তখন আটের ঘরে। এখন রাত আটটা বাজে। নিহারের হাতে একটি বড় কাপ। কাপ ভর্তি লাল চা। তার মাথা ব্যথা করছে। চিরচারিত অভ্যাস, মাথা ব্যাথা হলে চা খাওয়া। ইচ্ছে মত আঁদা, লবঙ্গ দিয়ে চিনি ছাড়া কড়া লিকারের চা। আজও ব্যতিক্রম নয়। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি একটু পর পর দেখছে ঘড়ির সময়। প্রাপ্তি এখনো বাসায় আসে নি। মেয়েটা ফোন করেও জানায় নি। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা মোটেই ভালো লাগে না নিহারের। মুনিরা তো মেয়েকে ঘাড়ের উপর দিয়েই ক্ষান্ত। যোগাযোগও করে না। আর স্বামীও হয়েছে বোনভক্ত। প্রাপ্তি যখন নিজ থেকেই হলে থাকতে চাইছে এতো আপত্তি কিসের বুঝতে পারে না নিহার। এখন রাত বাজে আটটা এখন মেয়ে বাড়িতে ফিরে নি। না জানি কি কীর্তি করছে। অন্যের মেয়ে বাড়ি রাখা বিপদ। কোনো উচু নিচু হলে দায়ভার তার উপর আসবে। নিহারের রাগ হচ্ছে। কিন্তু মার্জিত খোলসে তিনি রাগ দেখাতে পারেন না।

ঠিক সেই সময় কলিংবেল বাজলো। পরপর তিনবার। অক্লান্ত যেন ওপাড়ের মানুষ। বিতৃষ্ণা নিয়ে দরজা খুললো নিহার। প্রাপ্তি গটগট করে ঘরে ঢুকলো। কোনো দিকে না তাকিয়ে নিজের ঘরে যেতে নিলেই নিহার শান্ত, শীতল স্বরে বলল,
 “বড় হয়েছো কিন্তু এখনো যদি দায়িত্বহীনের মত কাজ কর তাহলে কি করে চলে? কয়টা বাজে এখন? এতো রাত কোথায় ছিলে জানার ইচ্ছে নেই আমার। কিন্তু একটা ফোন করে তো জানাতে পারতে মামী দেরি হবে”

প্রাপ্তির মেজাজ অত্যন্ত খারাপ। একেই অয়নের জন্য তার দিনটা একেবারে জাহান্নামের মত কেটেছে। গরমে না খেয়ে টানা অপ্রয়োজনীয়, আনপ্রোডাক্টিভ কাজ করেছে, নিজের লম্বা চুল কেটে ফেলেছে। এখন মামীর বক্তৃতা। প্রাপ্তি খুব স্বাভাবিক স্বরে বলল,
 “আমি ভার্সিটিতেই ছিলাম মামী। মামাও জানেন। আমি তাকে বলেই এসেছি। তার সাথেই আসতাম। কিন্তু মামার একটু কাজ আছে। তাই উনি আমাকে বাসায় চলে যেতে বলেছেন। আর ইভেন্টের কথাটা গত শুক্রবার রাতে ডাইনিং টেবিলেই জানিয়েছিলাম আপনাকে। আমার যে বাসায় ফিরতে দেরি হবে সেটাও জানিয়েছে। তাই চিন্তা করবেন না”
 
প্রাপ্তির সোজাসাপ্টা কথা পছন্দ হলো না নিহারের। তার কাছে মনে হলো মেয়েটি বেয়াদবি করছে। ফলে রুষ্ট স্বরে বললেন,
 “মামাকে জানালে হবে? তোমার মামা অত্যন্ত উদাসীন মানুষ। তার কাছে তার পড়াশোনা, পি.এইচ.ডি এর কাজ ছাড়া কি কিছু প্রাধান্য পায়? তুমি আমার বাসায় থাকছো। কিছু হলে তো তোমার মা আমাকেই দোষী করবেন”

প্রাপ্তি খুব শান্ত স্বরে বললো,
 “প্রথমত আমার মার সাথে আমার ভার্সিটিতে থাকতেই দুবার কথা হয়েছে। সে চারশত কিলো দূরে থেকেও জানে আমি কি করছি। আর মা বিবেকহীন নন মামী। ভার্সিটিতে থেকে আমার বিপদ হলে সেখানে আপনি বা মামার দায়বদ্ধতা নেই। আর নিতান্ত চাপে পড়েই আমার এসবে নাম লিখাতে হয়েছে। নয়তো আমি যে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় করা পছন্দ করি না সেটা আপনিও জানেন। তাই চিন্তা করবেন না। আমি খুব ক্লান্ত। নিজের ঘরে যেতে চাই”

নিহারের উত্তরের অপেক্ষা করলো না প্রাপ্তি। সত্যি ই ক্লান্ত সে। এদিকে নিহার প্রচন্ড অপ্রসন্ন হলো। সহ্যসীমা যেন ধীরে ধীরে ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রাপ্তি। 

প্রাপ্তি ঘরে প্রবেশ করতেই মমর চোখ ছোট ছোট হয়ে গেলো। বিস্মিত চোখে বলল,
 ‘তোমার চুল কই আপু?”

প্রাপ্তি নির্লিপ্ত স্বরে বললো,
 “কেটে ফেলছি”
 “একা একা?”
 “হ্যা”

মমর বিস্ময় কাটলো না। অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
 “আমি তোমাকে পার্লারে নিয়ে যাব”
 “পার্লারে যেয়ে কি হবে?”

প্রাপ্তি অবাক স্বরে শুধালো। মম ঠোঁট বিস্তৃত করে বললো,
 “তোমার বোঝা লাগবে না। তুমি শুধু আমার সাথে যাবে ব্যাস”

****

মম সত্যি সত্যি একটা পার্লারে নিয়ে এসেছে প্রাপ্তিকে। মেয়েটির জেদের কাছে কেনো যেনো হার মানতেই হলো। কানের কাছে অতিরিক্ত প্যা প্যা করা মানুষ কার পছন্দ হয়! ফলে মুখে বিতৃষ্ণার রেখা টেনেই এসেছে মমের সাথে। অতিরঞ্জিত জাকজমকপূর্ণ স্থান পার্লার। প্রাপ্তি বুঝলো অনেক টাকা খরচ হবে এখানে। ফলে বিব্রতবোধ হচ্ছিলো তার। কিন্তু মম কি ছেড়ে দেবার ব্যক্তি। টেনেটুনে তাকে নিয়ে গেলো। এটা প্রথমবার নয় প্রাপ্তির। পার্লারে আগেও এসেছে। ফুপাতো বোনগুলো এক একটা সাজুনে। তার নিজের বোন পায়েলও সাজগোজে অত্যন্ত দক্ষ। তাই দু-তিনবার বোনের সাথে জোরপূর্বক আসতে হয়েছে। যদিও তার কাজ ছিলো সোফায় বসে থাকা। আজ ব্যতিক্রম। মম তাকে একটি গদি চেয়ারে বসিয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাকে কিছু বুঝিয়েছে। যা সে শুনে মাথা নাড়িয়ে আরোও অনেককিছু বলেছে। একটা কথাও মস্তিষ্কে ঢুকলো না। একটু পর শুরু হলো অত্যাচার। মহিলা চিরুনি নিয়ে যেনো যুদ্ধে লাগলো। যুদ্ধ প্রাপ্তির চুলের সাথে। পনেরো মিনিট পর ক্লান্ত, শ্রান্ত স্বরে শুধালো,
 “তুমি চুল আঁচড়াও না কত বছর?”
 “তিনদিন আগেই আঁচড়েছিলাম”

প্রাপ্তির নির্লিপ্ত স্বর। মহিলা মম এর দিকে তাকায়। মম জোরপূর্বক হাসে। মহিলা তার হাতা গুটায়। তার মান ইজ্জতের ব্যাপার। অবশেষে এক ঘন্টা পর চুল ওয়াশ করে, কেটে, স্টাইল করে দিলো। প্রাপ্তি আয়না নিজের চুল দেখলো। নাহ মন্দ না। ভালোই। কিন্তু এই এতো কারুকাজ কি আদোপি থাকবে? 

বিল দেখে আকাশ ভাঙলো প্রাপ্তির উপর। চুল কাটলো তার। আর সেই বিল দু হাজার? এমন হয়। মম বললো,
 “চিন্তা কর না, ভাইয়া টাকা দিয়েছে”

মিরাজ ভাই টাকা দিয়েছে ব্যাপারটি মোটেই ভালো লাগলো না। প্রাপ্তি ঠিক করলো টাকা ফেরত দিবে। বাসায় প্রাপ্তির চুল কাটার প্রশংসা হলো। প্রাপ্তির নিজেরো ভালো লাগছে। কেমন হালকা হালকা ভাব। সিনিয়র ভাই একটা উপকারই করেছে। চুলগুলো বিরক্তি লাগছিলো। হয়তো চুইংগাম না লাগালে প্রাপ্তি নিজেই কেঁটে ফেলতো। এসবে অপ্রসন্ন হলেন অবশ্য নিহার বেগম। মিরাজের এই বাড়াবাড়ি চক্ষুশুল লাগছে। 

****

অন্যদিনের মত আজকের সকালের সূচনা হলো চরম ব্যস্ততার সাথে। অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল নয়টায়। অয়ন এখানে উপস্থিত সেই সাতটা থেকে। সব কিছু আপাতত খুব ভালোই চলছে। একটু পর অতিথি আসা শুরু করবে। ভিসি, ডিন, হেড সবার আসার সময় হয়ে গেছে। এস.ডাব্লিউ.সি এর ডিরেক্টরের কল এসেছে দুবার। গত রাতে কাজ শেষ হয়েছে। এখন অবধি কোনো কিছুর কমতি রাখে নি সে। আরেকবার মাইক, সাউন্ড বক্স চেক করলো নুহাশ। এর মধ্যেই চিন্তার মেঘ বয়ে আনলো শিহাব। ছুটে এসে বলল,
 “আমাদের এখন-ই একটা মেয়ে উপস্থাপক লাগবে। সায়মার জ্বর। ও আসছে না”

কথাটা বিস্ফোরণের মত কাজ করলো যেন। একেই চিন্তায় ঘুমহীন রাত্রিযাপন করেছে অয়ন। চোখ লাল হয়ে আছে। তার সাথে উপস্থাপনা করার কথা ছিলো সায়মার। এখন জুনিয়র পাবে কোথায়? হুট করেই একজনের কথা স্মরণ হলো। একমাত্র উপস্থাপনার পুরো স্ক্রিপ্ট যে লিখে দিয়েছে তার পক্ষেই সম্ভব এতো তাড়াতাড়ি সব কিছু ম্যানেজ করা। সাথে সাথেই সে বললো,
 “যে স্ক্রিপ্ট লিখেছে ওরে ডাক দে। এক্ষুনি”

পলাশ শিহার মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। তাদের মুখখানা ম্লান। নুহাশ রয়ে সয়ে বললো,
 “সে কি সাহায্য করবে?”
 “মানে কি? এতো কষ্ট করার পর সব মাটি করে দিবো নাকি। আর কে সে? কেনো সাহায্য করবে না?”
 “কারণ তুই তিন দিন আগে মাইয়্যাটার চুল কাটায়ে দিছোস”

নুহাশের উত্তরে বুঝতে বাকি রইলো না মানুষটি কে। অয়ন ধপ করে বসে পড়লো। আর তো উপায় নেই। কিন্তু তেলাপোকা কি আদৌ শুনবে কথা?

***

প্রাপ্তির মুখে একটা পাউরুটির অর্ধখাওয়া অংশ। কেস স্ট্যাডির প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করছে সে। তার সম্পূর্ণ মনোযোগ তার কাজে। প্রাপ্তির ল্যাপটপ নেই। এটা মিরাজ ভাইয়ের পুরোনো ল্যাপটপ। অনেক পুরোনো হওয়ায় শুধু চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিরক্তি আরোও বাড়ছে। একটা লাইন টাইপ করেই সেভ করতে হচ্ছে। এর মধ্যেই গাঢ় পুরুষালি কন্ঠ কানে এলো,
 “আমার একটা সাহায্য দরকার”

প্রাপ্তি চোখ তুলে তাকালো। মুখে চরম বিরক্তি। একনজর দেখে আবার কাজ শুরু করলো। অয়নের মাঝে তীব্র জড়তা। সে কি না এই মেয়েটার হাতে পায়ে ধরতে এসেছে, কিন্তু উপায় নেই। তাই কন্ঠ নরম হলো। খুব কোমল স্বরে বললো,
 “সেদিনের জন্য সরি। এক্সট্রিমলি সরি। দেখো লুকোচুরির কিছু নেই। আমরা দুজন দুজনকে অপছন্দ করি। কিন্তু আজকের দিনের জন্য এই পছন্দ অপছন্দগুলো তুলে রাখা যায় না। তুমি আগামীকাল থেকে আবার আমার উপর ক্ষোভ পুষে রেখো?”

প্রাপ্তি এবার পূর্ণদৃষ্টিতে চাইলো অয়নের দিকে। মুখে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো। দাম্ভিক সিনিয়র ভাইয়ের এমন খাবি খাওয়া চেহারা তাকে আনন্দ দিচ্ছে। প্রাপ্তি অনুভব করলো সে শত্রুর কষ্টে আনন্দ পায়। অবশ্য পাওয়াই উচিত। শত্রু যদি এমন ইম্যাচিয়ুর সিনিয়র ভাই হয়, তার কষ্টে আনন্দ পাওয়া খুব মন্দ কিছু নয়। তাই সে ফিঁচেল হেসে বললো,
 “হাতি আবার তেলাপোকার কাছে এসেছে দেখি। বেশ আমি সাহায্য করবো। কিন্তু একটা শর্তে”

অয়নের চোখ কুঁচকে গেলো। ভারী স্বরে শুধালো,
 “কি শর্ত?”
 “সবার সামনে এখানে হাটু গেড়ে বসে হাত জড়ো করে বলতে হবে “প্রাপ্তি প্লিজ হেল্প মি, তুমি ছাড়া আমি অপারগ। প্লিজ, প্লিজ। আমি কখনো আর তোমাকে উত্যক্ত করবো না”
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp