মেঘবন - পর্ব ০৬ - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা - ধারাবাহিক গল্প

মেঘবন - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা
          অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশে মিটিমিটি তারা হাসছে। ঝড় আসবে আসবে বলে ফিরতি সংকেত দিতে কৃপণতা করছে বৈ কি! বাতাসের তীব্র তাণ্ডবে গা শিরশির করছে তারফানের। জ্বরে কাঁপুনি দিচ্ছে শরীর। উঠানের সাউন্ডবক্স থেকে অল্পসল্প গানের সুর ভেসে আসছে, 

‘ক্ষনিক আলোকে আঁখির পলকে
তোমায় যবে পাই দেখিতে
ওহে হারাই-হারাই সদা হয় ভয়
হারাই-হারাই সদা হয় ভয়
হারাইয়া ফেলি চকিতে’

পুরুষালী ভরাট কণ্ঠস্বর। শুনতে ভালো লাগছে। গা গরম, থরথর করে কাঁপতে থাকা ফাঁটা, শুকনো ঠোঁটজোড়া চেপে চোখ বুজলো তারফান। হাত পা ছেড়ে দিয়েছে তার। চিন্তাশক্তি লোপ পাচ্ছে। তবুও বাজতে থাকা গানের প্রতিটা লাইন, প্রতিটা সুরের সঙ্গে কি যেন মেলাতে চাইলো সে। কিসের যেন হিসেব কষলো। কষতে কষতে সেই পুরুষালী কণ্ঠের পাশাপাশি একটা সুরেলা নারী কণ্ঠ শুনতে পেল, “আপনার চিলেকোঠায় ফিরে যাওয়া উচিত। এভাবে ঠান্ডায় বসে থাকলে আরও জ্বর বাড়বে।”

তারফান সঙ্গে সঙ্গে চোখ মেললো না। রয়েসয়ে, সময় নিয়ে তাকালো সামনের রমণীটির দিকে। উদ্বীগ্ন মুখ। ভ্রু জোড়া কুঁচকে আছে। বাতাসের প্রচন্ড তোলপাড়ে মাথার ওড়না ঠিক থাকছে না। একহাতে কামিজের কোণা মুঠোয় পুরে অন্যহাতে ঘোমটা ঠিক করছে বারবার। কিন্তু লাভের লাভ কিচ্ছু হচ্ছে না। বেয়ারা ঘোমটা শত নিষেধাজ্ঞা নাকচ করে সেই পরেই গেল! চুল বোধহয় ভালো করে বাঁধা হয়নি। নিমিষেই কোমড় সমান চুল খুলে এলোমেলো হলো এত অসভ্য ভাবে! তারফান খেয়াল করলো, মেরিনের ঠোঁটজোড়াও হালকা হালকা কাঁপছে। চোখের পাতা পিটপিট করছে। গালে ক্ষীণ লালচে রঙ। মেয়েটাকে কি একটু সুন্দর লাগছে? এই অগোছালো রূপে হৃদয় হরিণী মনে হচ্ছে? মনে হোক! তারফান এত সহজে গা ভাসাবে না। কক্ষনও না! ‘কক্ষনও না’-এর শপথ গাইলেও নজর স্থির মেরিনের দিকেই রাখলো তারফান। গমগমে ভারি গলায় প্রশ্ন ছুঁড়লো, “আবার এসেছো কেন?”

মেরিন ইতিউতি করলো। এদিক-ওদিক নজর ঘুরিয়ে কি যেন খুঁজলো। এরপর আমতা আমতা সুরে বললো, “আপনার জ্বর।”
“হু? তো?”

মেরিন একটু থমকালো। বাতাসে উড়তে থাকা চুল চোখ-মুখ ঢেকে দিচ্ছে। বিরক্ত করছে খুব। কপালের চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজতে গিয়ে জড়োসড়ো হলো সে। তারফান একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। গভীর, গাঢ় চোখের চাহনি। ঠিক রাতের আকাশটার মতো।
মেরিন শুকনো ঢোক গিলে বললো, “আমি… আমার মনে হয়েছিল আপনি আমাকে ডাকছেন।”
“তোমাকে ডাকছিলাম না।”
“তাহলে কাকে ডাকছিলেন?”

তারফান উত্তর দিলো না। শরীর ক্রমশ দূর্বল হয়ে আসছে তার। দূর্বল কণ্ঠে অনেকটা আদেশের সুরে বললো, “এখান থেকে চলে যাও মেরিন। আর আসবে না।”

অথচ মেরিন গেল না। ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। লোকটার প্রতি তার রাগ হওয়া উচিত। কিন্তু কেন যেন এই মুহুর্তে কোনো ধরণের রাগ মেরিনকে কাবু করতে পারছে না। বরং সামনের লোকটাকে বড্ড অসহায় লাগছে তার। মায়া হচ্ছে। অবাধ্য মেরিন হাত উঁচিয়ে চুলের খোপা বাঁধলো। মাথার ঘোমটা যদিও থাকছে না। আপাতত সেটা আর ঠিক করলো না। তারফানের কাছে গিয়ে বললো, “উঠুন, আপনাকে চিলেকোঠায় দিয়ে আসি। দেখে তো মনে হচ্ছে উঠে দাঁড়াতেও পারবেন না।”

তারফান দিরুক্তি করে বললো, “পারবো। তুমি যাও।”

মেরিন ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারফানের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বললো, “আপনি কথা শুনছেন না কেন? আমি তালহা ভাইয়াকে ডাকবো? আন্টিকে ডাকবো?”

তারফান বিরক্ত নজরে তাকালো। বিষণ্ণ তিক্ততা নিয়ে শুধালো, “জ্বালাচ্ছো কেন মেরিন?”
“আমি মোটেও আপনাকে জ্বালাচ্ছি না। বরং আপনি কথা শুনছেন না। বাচ্চাদের মতো করছেন।”

“আমি বাচ্চাদের মতো করছি?” তারফানের অবাক কণ্ঠস্বর।
“হ্যাঁ! জ্বর শরীর নিয়ে এই বাতাসে বসে কাকে কি বোঝাতে চাইছেন আপনি? কাকে জেদ দেখাচ্ছেন?”

এ কথার উত্তরে আচমকা চুপ হয়ে গেল তারফান। নজর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মেরিনকে দেখলো। মেরিনের চটপটে দুরন্তপনা খুব করে পরখ করলো। সামান্য একটা হলুদ কণা মেরিনের ডান গালে লেপ্টে আছে। বার বার নজর ওদিকে চলে যাচ্ছে। হাত বাড়িয়ে এবার বুড়ো আঙুলটা হালকা করে তার গালে ছোঁয়ালো তারফান। মেরিন চমকালো, হতবাক নজরে তাকালো। তারফান পাত্তা দিলো না। আঙুল বুলিয়ে হলুদ কণাটা ফেলে দিলো নিমিষেই। নিস্প্রভ স্বরে বললো, “আমার জেদ দেখানোর কেউ নেই মেরিন। আমি কাউকে আমার জেদ দেখাই না।’”

সরব, বাজ পরার শব্দ হলো। খুব কাছে কোথাও। দেখা গেল, তিন বিল্ডিং পরের বৈদ্যুতিক খাম্বায় আগুন লেগেছে। সে কি পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ! মানুষের চেঁচামেঁচি! মেরিনদের বিল্ডিংয়ের কারেন্ট চলে গিয়েও আবার জেনারেটর চালু হলো। ক্ষণিকের জন্য বন্ধ হওয়া রবীন্দ্রসংগীত আবারও বাজতে শুরু করলো। বিহ্বল মেরিন ওইটুকু সময়ে চেয়ে চেয়ে দেখলো, বড় অবলীলায় তারফান বসা থেকে উঠে পরেছে। টালমাটাল পায়ে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে চিলেকোঠার ওখানটায়।

—————

আজ শুক্রবার। মেরিনের বাবা ননী সাহেব সোফায় বসে পত্রিকা পড়ছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তিনি আবার কোথাও বেড়তে চান না। চায়ের কাপে আয়েশ মিশিয়ে একেকটা চুমুকের সঙ্গে পত্রিকার লেখাগুলোয় চোখ বুলান। মাঝে মাঝে স্ত্রী টিউলিপ আক্তারকে বিরক্ত করেন। দিন ওভাবে কেটে যায়। তবে এখন স্ত্রীকে বিরক্ত করার অভিলাষটা পূরণ করতে পারেননি তিনি৷ টিউলিপ আক্তার কিসের যেন হালুয়া-রুটি বানিয়েছেন। পাঁচতলার ভাবিকে দিবেন। মেরিনকেও সাথে নিয়ে গেছেন। ফাঁকা ঘরটার দিকে চেয়ে একদফা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন ননী সাহেব। যাক! পত্রিকাটা অন্তত এবার নিশ্চিন্তে পড়া যাবে!

ডাইনিংটেবিলের একপাশের দেয়ালে বিরাট ছবির ফ্রেম ঝুলালো। একটু পুরোনো ধাঁচের নকশা আঁকা। ছবিতে মা, তিন ছেলে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে। একফোঁটা হাসি কিংবা আনন্দের রেশ চিরুনি তল্লাশি করেও খুঁজে পাওয়া মুশকিশ। মেরিন ধারণা করে বুঝলো, এ ছবিটা পাঁচ-ছয় বছর আগের। তারফান, তামজিদ আর তালহাকে অনেকটা কম বয়সী লাগছে। আশ্চর্যের বিষয়, সর্বদা হাসোজ্জল থাকা তালহাও ছবিতে হাসছে না। তিন ভাইকে হুবহু এক রকম লাগছে।
রজনী হায়দায় সবার জন্য ট্রে-তে করে চা নিয়ে এসেছেন। টিউলিপ আক্তারের পানে হেসে বললেন, “শুধু শুধু কষ্ট করেছেন ভাবি। তবে হালুয়া খেতে মজা হয়েছে। আমার ছেলেদের খুব পছন্দ হবে।” এরপর মেরিনের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার মেয়ে?”

টিউলিপ আক্তার মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলতেই এবার মেরিনের কাছে এসে দাঁড়ালেন তিনি। সস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। মায়াময় চোখে চেয়ে বললেন, “ভারী মিষ্টি দেখতে তো তুমি! তোমার নাম কি মা?”

মেরিন জবাব দিতে গিয়েও থেমে গেল। পেছন থেকে ঘুম জড়ানো ভরাট কণ্ঠ তার হয়ে উত্তর দিলো, “ওর নাম মেরিন খন্দকার।”
“কিরে? তুই চিনিস ওকে?” রজনী হায়দারের সঙ্গে সঙ্গে টিউলিপ আক্তারও প্রশ্নাতীত নজরে তাকালেন।

মেরিন ঠোঁট কামড়ে পাশ ফিরে তাকালো। ঘড়িতে তখন সকাল দশটা কি সাড়ে দশটা। মাত্রই ঘুম থেকে উঠে এসেছে তালহা আর তামজিদ। পরনে একটা লুজ প্যান্ট ছাড়া কিচ্ছু নেই। উদোম শরীর। মেরিন দ্রুত নজর সরিয়ে নিলো। মাথা নুয়ালো। কি নির্লজ্জ! তাকে এখানে দেখেও লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে দু’ভাই এভাবে চলে এসেছে! 
রজনী হায়দার ধমক লাগিয়ে বললেন, “কিরে! তোদের গেঞ্জি কই? মেহমান এসেছে দেখিস নি?”

তামজিদ প্রশ্নের উত্তর দিলো না। এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজলো। সোফায় দুটো শার্ট পরে আছে। উঠে গিয়ে একটা শার্ট নিজে নিয়ে আরেকটা তালহাকে দিলো। বিশাল এক হামি দিয়ে বললো, “নাস্তা কি আছে দাও। আমাদের বেড়োতে হবে।”

টেবিলে থাকা হালুয়া-রুটি হাত দিয়ে ঠেলে দিলেন রজনী হায়দার। ফের প্রশ্ন করলেন, “বললি না যে? মেরিনকে কিভাবে চিনিস?”

তালহা ঘুমে ঢুলছে। বিরক্ত নজরে চেয়ে আছে টেবিলের হালুয়া-রুটির দিকে। তারপর তামজিদের দিকে তাকাতেই অচিরে রুটির মাঝে একটু হালুয়া নিয়ে তালহার মুখে পুরে দিলো তামজিদ। কপাল কুঁচকে নিজেও রুটির টুকরো মুখে নিলো। চিবুতে চিবুতে বললো, “পরশু পিকনিকে দেখা হলো।”

মিথ্যুক! মেরিন সরু চোখে তাকিয়ে বিড়বিড়ালো। রজনী হায়দার টিউলিপ আক্তারকে দেখিয়ে বললেন, “ইনি মেরিনের মা। সালাম দে।”
তামজিদ আর তালহা এক সঙ্গে সালাম দিলো, “আসসালামু আলাইকুম আন্টি।”

টিউলিপ আক্তারের চেহারা চকচক করছে। কি সুন্দর সোনার টুকরোর মতো দুটো ছেলে! দেখতে একেবারে এক রকম। সালামের উত্তর দিয়ে তিনি হেসে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা তো দেখতে একদম একরকম বাবা। তোমাদের আরেকটা ভাই আছে না? ও কোথায়?”

তামজিদ খেতে খেতে উত্তর দিলো, “চিলেকোঠায়।”
“তোমাদের সাথে থাকে না?”
“নাহ্।”
“ওমা! কেন?” অবাঞ্চিত প্রশ্ন। কথাটা জিজ্ঞেস করে নিজেই অস্বস্তিতে পরে গেলেন টিউলিপ আক্তার। মা, ছেলে তিনজনই কেমন থমকানো নজরে তাকিয়ে আছে। তালহা আর তামজিদের মুখে স্পষ্ট বিরক্তি। টিউলিপ আক্তার অপ্রস্তুত হাসলেন। তড়িৎ কণ্ঠে বললেন, “মেরিনের বাবা আজকে বাসায়, বুঝলেন ভাবি? রান্নাবান্না আছে। দেড়ি হয়ে যাচ্ছে। আমরা আসি তাহলে?”

মেরিন যেন এটারই অপেক্ষা করছিল। এখানে বসে থাকার ইচ্ছা, আগ্রহ কোনোটাই ওর মধ্যে নেই। চেয়ার ছেড়ে উঠতে নেবে, ওমনি! তামজিদ নিচু স্বরে ফিসফিসালো, “হালুয়া রুটি কি তুমি বানিয়েছো?”

মেরিন প্রশ্নাতীত নজরে একপলক তাকালো, “আমি আর মা একসঙ্গে বানিয়েছি। কেন?”
“মজা হয়নি।” 

বলে আরেকদফা হালুয়া-রুটি মুখে পুরলো তামজিদ। ঢকঢক করে পানি খেয়ে উঠে চলে গেল নিজ রুমে। তালহাও ভাইয়ের পিছু পিছু চলে গেল তখন।

—————

আঁধারে ছিম ধরানো পরিবেশ। বাহিরে অবিরাম ঝিঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে, ঝিঁ-ঝিঁ-ঝিঁ! টিনের একচালা ঘর। ছোটখাটো একরুম। মেঝে মাটির। মাথার ওপর উত্তপ্ত সূর্যের ন্যায় একটা হলদে বাতি জ্বলছে-নিভছে। ঘরের মধ্যিখানে কাঠের শক্তপোক্ত একটা চেয়ার। সেই চেয়ারে আধম’রা হয়ে একটা লোক বসে আছে। হাতে-পায়ে শক্ত করে দঁড়ি বাঁধা। অস্পষ্ট আওয়াজে ব্যথায় একটু একটু করে কুঁকাচ্ছে। কুঁকানোর মাঝেই শক্ত হাতে একটা চড় লাগালো তারফান৷ পরপর আরও দুটো! লোকটা চিৎকার করছে, ক্ষমা চাইছে। কিন্তু এখানে যে কেউ নেই। দূরদূরান্তে কেউ নেই। এই আর্তনাদ কেউ শুনছে না, শুনবে না।
তামজিদ পেছনে থেকে দায়সারা কণ্ঠে বললো, “আর কত মারবি? মুখ তো খুলেছেই।”

তারফান শুনলো। তবে জবাব দিলো না। সামনের লোকটার মাথায় চুল নেই। তেলতেলে টাক মাথা হলদে বাতিতে জ্বলজ্বল করছে। শরীরে একটা সুতো পর্যন্ত নেই। মা’র খেতে খেতে শ্যামবর্ণ রঙ বেগুনী দেখাচ্ছে। নাক, কপাল ফেঁটে র’ক্তাক্ত। শেষ একটা চড় মেরে সরে গেল তারফান। শরীর ঘেমে গেছে। পরনের সাদা শার্ট ভিঁজে চুপচুপ। তারফান নাক কুঁচকে শার্টের বোতামে হাত লাগালো। পরপর বোতাম খুলে শার্ট-টা ফেলে দিলো মেঝেতে। টেবিল থেকে তোয়ালে নিয়ে ঘাড়-মাথা মুছতে মুছতে বললো, “হাসপাতালে নিয়ে আসিস কাল সকালে। এটাকে ট্রিটমেন্ট করে দিবো।”

শুনে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো তামজিদ। একপলক আধম’রা লোকটার দিকে তাকালো। মায়াময় নজরে তামজিদের দিকে একটু আশ্রয়ের জন্য হাঁসফাঁস করছে সে। দূর্বল, কর্কশ কণ্ঠে বলতে চাইলো, “আমারে আর মাইরেন না ভাইজান। আমারে বাঁচা…”

কথা শেষ হলো না। সপাটে একটা চড় লাগালো তামজিদ। একটু দূরে ড্রামের ওপর তালহা বসেছিল। ঘুমে ঝুরতে ঝুরতে সে প্রশ্ন করলো, “কিরে, তুই না একটু আগে তারফানকে মারতে মানা করলি? এখন নিজে মারছিস কেন?”

ঠোঁটে কুটিল হাসি এঁটে তালহার দিকে তাকালো তামজিদ। বললো, “ব্যাটার চেহারার দিকে একবার তাকা তালহা। দেখলেই মারতে ইচ্ছে করে।”
“কই, দেখি!”

এক লাফে ড্রাম থেকে নিচে নেমে তামজিদের পাশে দাঁড়ালো সে। একপলক লোকটাকে পরখ করে তারফানের উদ্দেশ্যে বললো, “তামজিদ কিন্তু সত্যি বলছে তারফান!”

বলতে বলতে তালহার হাতের কঠিন তালু পৌঁছে গেল লোকটার নরম গালে। এতশত আ’ঘাত গালটা বোধহয় আর নিতে পারলো না। গাল ফেঁটে রক্ত বেরোলো। ভিঁজিয়ে দিলো গাল, চিবুক, গলা, বুক! লোকটা তখন আর শব্দ করতে পারছে না। শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছে। এই একটু, আর একটু! জ্ঞান হারানোর পূর্বে মাথার ওপরের হলদে বাতিটা ভয়া'নক দাবানলের মতো তাড়া করলো যেন।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp