মিনি চোখে রাজ্যের বিস্ময় সদর দরজার পাল্লা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মাহির ভাইয়া যখন তাকে রেখে তার মায়ের কথামতো ভেতরের ঘরে গেল, তখন থেকে মিনির অস্বস্তি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সে একবার আড়চোখে সামনের মেয়েটিকে দেখছে, আবার ভেতরের কথাগুলো শোনার চেষ্টা করছে।
আয়না দরজার ঠিক বাইরে সিঁড়ির শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে আছে। তার পায়ের কাছে বড় স্যুটকেসটা একপাশে পড়ে আছে। সে মিনি বা মাহিরকে একবারও ভেতরে ঢোকার জন্য তাড়া দিল না, কিংবা মিনির কাছে কোনো প্রশ্নও করল না। তার নির্লিপ্ততা মিনিকে ভাবিয়ে তুলছে। সাধারণত কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়লে ঘাবড়ে যায়, কান্নাকাটি করে বা অন্তত একটু কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু আয়না যেন মহাকাশ থেকে আসা কোনো শীতল সত্তা, যার কাছে এই বাড়ির অপমানজনক অপেক্ষাটার কোনো গুরুত্বই নেই।
আহমেদ নিবাসের দোতলার ড্রয়িংরুমটা বেশ বড়। সেগুন কাঠের পুরনো সোফাসেট আর একটা গ্লাস টপ সেন্টার টেবিল দিয়ে সাজানো। এক পাশে একটা কাঠের শোকেসে দামী চিনেমাটির কাপ আর কিছু পুরোনো পারিবারিক ছবি সাজানো। ড্রয়িংরুমের পাশেই ডাইনিংরুম। লম্বা চতুষ্ক টেবিলের মাথায় একটা চেয়ার টেনে বসে আছে মাহিরের চাচাতো ভাই রামিম।
তার পরনে ট্রাউজার ও গা খালি। এক হাতে একটা চকচকে লাল আপেল। বাড়ির ভেতরে কী হচ্ছে তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই, সে নিজের জগতে মগ্ন, ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বিরক্ত। সে একবার নিজের মায়ের পাথরমসম কঠিন মুখ দেখে, আরেকবার বিব্রত মাহিরকে দেখে। দাদী কোন দলে যাবে কিছু বুঝতে পারছে না। রামিম কড়মড় শব্দে আপেল চিবোতে শুরু করল।
শারমিন আরা মুখ অন্ধকার করে বসেছিলেন। মাহিরের কথা শেষ হতেই বললেন, খুব লেইম কিন্তু অযুহাত শোনালে মাহির। একটা অচেনা ছেলেকে ধরে বেঁধে কেউ নিজেদের মেয়ে বিয়ে দেয়? এমন কোনো রাজ্যের রাজপুত্র তো তুমি নও। নাকি তোমার প্ল্যান ছিল এটা? মেয়েটার সাথে তোমার এফেয়ার কতদিনের?
মাহির ঠান্ডা স্বরে বলল, এরকম কিছুই না চাচী। আপনি আমাকে অবিশ্বাস করে ভুল করছেন।
-আর কোনো কথা বলতে হবে না মাহির। আম্মা আপনি এখন কি বলবেন?
সাহেরা বানু আমতা আমতা করে বললেন, বড় বউ আমি তো কিছুই বুঝতেছি না! পোলাডা কি বলতেছে শুনো।
-না বোঝার কিছু নাই তো আম্মা। এইসব বানোয়াট কথা বিশ্বাস করতে বলছেন আপনি?
মাহির বলল, ওকে আগে ভিতরে আনার ব্যবস্থা করি। পরে এই আলাপ করতে পারব আমরা।
-সেটাও কি এখন তুমি ঠিক করে দিবা নাকি? এই মেয়েরা নাম-বংশ কিছুর ঠিক আছে? যাকে তাকে ঘরে তুলব এখন আমি?
-ওর অবশ্যই নিজস্ব পরিচয় আছে চাচী। আপাতত আমার পরিচয় কি যথেষ্ট না?
-তুমি কিন্তু শুরু থেকেই ওর ফেভারে গিয়ে অনেক কথা বলছো মাহির। জোর করে বিয়ে দেওয়া হলে এরকম হয়? তোমার ক্ষোভ, রাগ কোথায়? আসলে সবকিছুতেই তোমার মত ছিল। এই বাড়িতে একটা অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করার জন্য তুমি এমনটা করলে। চাকরি পেয়েই প্রেমের বিয়ে করতে চাও আগে বললেই পারতে! তোমার বদলে আজ অন্য কেউ হলে তোমার দাদী এতক্ষণে দশজনকে ডেকে বিচারসভা বসাতেন।
সাহেরা বানু কথার উত্তর করলেন না। বয়স্কদের নিজের হাতে গড়া সংসারেই মাঝে মাঝে বধির হতে হয়৷ তিনি নরম সুরে বললেন,
বড় বউ তোমার কথায় ওজন আছে। কিন্তু এতো বেলা ধরে জোয়ান মেয়ে বাইরে দাড়া করায় রাখলে মানসম্মান থাকবো কিছু? কানাঘুঁষা হইবো না? তোমার ও তো পোলা মাইয়া বিয়া দেওন লাগবো।
-সবশেষে আমার ঘরেই বিপদটা আসে। আমার বাচ্চাগুলোর ওপর দিয়েই যায় সবসময়!
-তুমি বড় বউ। ধৈর্য্য ধরো মা। যাও একটু বরণ করে ঘরে তোলো।
-সারাজীবন খালি ধৈর্য ধরে গেলাম, সহ্য করে গেলাম আপনার কথায়। আমি কোনো বরণ করতে পারব না। বেয়াদবি নিয়েন না আম্মা।
শারমিন আরা আসলেই মাহিরের নববধূকে বরণ করলেন না। নিজের ঘরে গিয়ে শব্দ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। রামিম নাটকের সমাপ্তির সাথে সাথে উঠে গেল। ঘরে গিয়ে পিএস ফাইভে গেম খেলবে। নতুন ভাবী পরে দেখলেও চলবে।
সাহেরা বানু নিজেই মুখ অন্ধকার করে আয়নাকে বরণ করলেন। নাতবৌ তার মোটেই পছন্দ হয়নি। তার সব নাতিগুলোর মধ্যে মাহির সবচেয়ে রূপবান। গৌরকান্তি ছেলেটার আচার-আচরণ মার্জিত। কথা শুনলেই বুক ভরে যায়। পড়াশোনায় ভালো। কোনো নেশাপানি করে না। নিজে নিজেই একটা চাকরি জুটিয়ে নিয়েছে। এরকম চাঁদের টুকরা ছেলের জন্য অপ্সরা মেয়ে মানানসই হতো। কিন্তু ভাগ্যে পড়ল কি!
নাতির কথায় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে না পারায় সাহেরা বানুর মন খারাপ হয়ে গেল। আয়না কদমবুসি করল। বৃদ্ধা মনোভাব বুঝতে তার বিন্দু মাত্র কষ্ট হলো না। সে তাদের অদ্ভুত আচরণে ভ্রুক্ষেপ করল না। এসব তার কিছু যায় আসে না।
-নাতবৌ তুমি ঘরে গিয়া বিশ্রাম নাও। ডাকলে আইসো। তহন তোমার সাথে পরিচিত হবো।
মিনি রিনরিনে স্বরে বলল, ভাবী আসো। আমি তোমাকে নিয়ে যাই। আচ্ছা ভাবী কি ওই ঘরেই থাকবে? কিভাবে থাকবে!
সাহেরা বানু বলল, তোমার সেসব ভাবা লাগতো না। জামাই বউ মিলে বুইঝা নিবে। তুমি আমারে ঘরে দিয়া আসো।
মাহির দাদীর রূঢ় ব্যবহারে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। অবশ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী এরচেয়ে ভালো কিছু সে আশাও করেনি। আয়নাকে বিড়বিড় করে বলল, আই অ্যাপোলোজাইজ! কিছু মনে করো না।
-ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। এরকম রিসিপশনই বরং স্বাভাবিক।
মাহির কোনো উত্তর না দিয়ে সুটকেস টেনে এগোতে থাকে।
—————
আয়না মাহিরের পেছনে পেছনে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে। তিনতলার শেষ মাথায় আসতেই করিডোরটা কিছুটা সরু হয়ে এসেছে। সিঁড়ি শেষ হতেই সামনে সেই গাঢ় খয়েরি রঙের মজবুত চিলেকোঠার দরজা। দরজার ঠিক পাশেই বাম দিকে কয়েক পা এগোলে ছাদের খোলা প্রবেশপথ, যেখান থেকে সকালের মিঠে রোদ আর বাতাসের ঝাপটা করিডোরে এসে পড়ছে।
মাহির দ্রুত পকেট থেকে চাবি বের করে তালা খুলল। দরজাটা খোলার সাথে সাথে ভেতর থেকে আসা পরিচ্ছন্ন আর শান্ত ঘ্রাণ আয়নাকে অভ্যর্থনা জানাল। আয়না ধীরপায়ে ভেতরে পা রাখল। মাহির দরজার একপাশে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখেমুখে চাপা উত্তেজনা, সে নিঃশব্দে আয়নার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছিল।
আয়না ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারপাশটা খুঁটিয়ে দেখল। দেয়ালগুলোর হালকা ঘিয়ে রঙ ঘরটাকে বেশ উজ্জ্বল করে রেখেছে। মেঝের মোজাইক টাইলসগুলোতে ধূলোর পারদ জমেছে। আয়না প্রথমে খাটের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। সিঙ্গল খাট হলেও সেটা বেশ ভারি আর মজবুত কাঠের তৈরি। সে খুব আলতো করে খাটের ধূসর চাদরটার ওপর হাত রাখল। চাদরটা এতটাই টানটান করে বিছানো যে কোথাও কোনো ভাঁজ নেই। আয়না অনুভব করল মাহির কতটা নিভৃতে আর শৃঙ্খলার মধ্যে এখানে থেকেছে।
সে জানালার পাশে রাখা পড়ার টেবিলটার দিকে এগিয়ে গেল। টেবিলের ওপর রাখা এলোমেলো বইগুলোর ওপর আঙুল বুলাল সে। মাহির ছুটে এসে সেগুলো গুছাতে লাগল।
-দ্রুত বের হতে গিয়ে আর ঠিক মতো গুছাতে পারিনি!
আয়না মৃদু হাসে।
টেবিলের একপাশে একটা ছোট টেবিল ল্যাম্প আর ডায়েরি রাখা। আয়না দেখল টেবিলের ঠিক ওপরেই একটা বড় জানালা। সে জানালার পাল্লাটা আর একটু টেনে দিল। বাইরে তাকালে দেখা যায় বিশাল খোলা ছাদ, আর দূরে শহরের উঁচু-নিচু দালানগুলো কুয়াশাভেজা আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। করিডোরের সেই খোলা দরজা দিয়ে আসা বাতাসটা জানালার পর্দাগুলোকে হালকা করে দোলাচ্ছে।
আয়নার নজর গেল এক কোণে রাখা লোহার আলমারি আর তার পাশে জায়নামাজের দিকে। সবকিছু এত পরিপাটি যে আয়নার মনে হলো, সে কোনো ব্যাচেলরের শোবার ঘরে নয়, বরং অন্য কোনো ঘরে এসে দাঁড়িয়েছে।
মাহির স্যুটকেসটা একপাশে দেয়াল ঘেঁষে রাখল। সে আয়নার কাছাকাছি এসে দাঁড়াল, কিন্তু খুব বেশি কাছে নয়। মাহির নিচু স্বরে বলল,
ঘরটা খুব একটা বড় না। গরম-ঠান্ডা বেশি লাগে। অনেক কিছুই আপটুডেট না। তবে এখানে কেউ সচরাচর আসে না।
আয়না মাহিরের দিকে ফিরে তাকাল। নিরিবিলি থাকতে পারার কথা প্রথমবারের মতো তাকে এক ধরণের মানসিক প্রশান্তি দিল। আয়না আবার জানালার বাইরে তাকাল। সকালের উজ্জ্বল রোদ এখন ছাদে আছড়ে পড়ছে। এখানে আজ থেকে তার দাম্পত্য জীবন শুরু হবে।
—————
আয়না তার স্যুটকেস খুলে একটা আকাশি রঙের সুতি শাড়ি আর তোয়ালে বের করে নিল। মাহির আলমারির পাশে দাঁড়িয়ে নিজের শার্টের কলার ঠিক করছিল। ইতস্তত ভঙ্গিতে আয়নাকেও দেখে নেয় সে। আলমারি চট করে অর্ধেক খালি করে দিয়েছে সে আয়নার জন্য। এখন তার কাপড়গুলো বেওয়ারিশ ঘুরছে। নতুন কিছুর বন্দোবস্ত করতেই হবে।
আয়না তার দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল, আমি একটু গোসল করে নিতাম। বাথরুমটা কোন দিকে?
মাহির কিছুটা ইতস্তত করে দরজার দিকে ইশারা করল। গলা ঝেড়ে বলল,
করিডোর দিয়ে কয়েক পা গেলেই বাম দিকে বাথরুম। তবে সকালের পানিটা এখন খুব ঠান্ডা হবে। আমি নিচ থেকে এক বালতি গরম পানি নিয়ে আসি।
আয়না একটু থামল। নিচতলায় শারমিন আরার সেই কঠোর চেহারা আর দাদীর আপ্যায়নের অভাব সে ভোলেনি। সে চাইল না তার জন্য মাহিরকে আবার নিচে গিয়ে কারো কথা শুনতে হোক। সে মাথা নেড়ে বলল,
তার দরকার নেই। আমি ঠান্ডা পানিতেই অভ্যস্ত।
-এনে দেই। ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
-প্রয়োজন হলে আমি নিজে থেকে চেয়ে নিব তোমার কাছে।
মাহির কয়েক পলক তাকায় তার দিকে,
আসলেই? মোটেই বিশ্বাস করতে পারছি না।
-করে নাও। মিলিয়ে দেখো না-হয়।
মাহির আর জোর করল না। সে দরজা খুলে দিয়ে নিজে করিডোরে গিয়ে দাঁড়াল। আয়না বাথরুমে ঢুকে যাওয়ার পর সে ছাদের রেলিং ধরে কিছুক্ষণ বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সে নিচতলায় নেমে গেল।
বিশ-পনেরো মিনিট পর আয়না আবার চিলেকোঠা ঘরের ভেতরে ফিরে এল। তার ভেজা চুলগুলো পিঠের ওপর ছড়ানো। তোয়ালে দিয়ে সে মাথা মুছতে মুছতে দেখল, মাহির বাহির থেকে এরই মধ্যে ঘরে ফিরে এসেছে। সে তার পড়ার টেবিলটা পরিষ্কার করে সেখানে দুটো প্লেট আর মগ সাজিয়ে রেখেছে। ঘরের ভেতর ভাজা পরোটা আর কড়া লিকারের চায়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মাহির আয়নাকে দেখে একটু সরে দাঁড়াল। সে টেবিলের দিকে ইশারা করে বলল, নিচে গিয়েছিলাম। মিনি নাস্তা দিয়ে গেল। আমাদেরকে আর নিচে যেতে হবে না, আমরা এখানেই খেয়ে নিই।
আয়না দেখল টেবিলের ওপর ধোঁয়া ওঠা চা, ডাল ভাজি আর দুটো পরোটা। সে তোয়ালেটা ঘরের একপাশে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে দিয়ে টেবিলের সামনে এসে বসল। গোসলের পর তার শরীরের ক্লান্তিটা কিছুটা কমেছে। সে জানালার পাল্লাটা আর একটু খুলে দিল। করিডোর দিয়ে আসা বাতাসটা ভেজা চুলের ঘ্রাণ নিয়ে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। মাহির কিছুটা নড়েচড়ে বসল।
মাহির একটা চায়ের মগ হাতে নিয়ে আয়নার উল্টো দিকে বসল। সে সরাসরি আয়নার দিকে না তাকিয়ে চায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, চিনি ঠিক আছে কি না খেয়ে দেখোতো? মিনি বানিয়েছে।
আয়না চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দেখল চিনি বেশ কড়া। সে মৃদু হেসে বলল, ঠিক আছে।
পুরো ঘরে এখন শুধু চায়ের মগের ধোঁয়া আর জানালার বাইরে থেকে আসা শহরের ব্যস্ত কোলাহল। নিচতলার সেই অপমানজনক অভ্যর্থনার পর এই শান্ত পরিবেশে বসে নাস্তা করাটা আয়নার কাছে অনেক বেশি স্বস্তির মনে হলো। মাহিরও খুব একটা কথা বলছিল না, তবে তার উপস্থিতিতে এক ধরণের নিঃশব্দ দায়িত্ববোধ ছিল।
নাস্তা শেষ করে মাহির মগটা টেবিলের ওপর রাখল। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল,
এখন একটু ঘুমিয়ে নিতে পারো আয়না। বাসে সারারাত তোমার একদম ভালো ঘুম হয়নি।
আয়না ঠিকমতো মাহিরের সাধারণ কথা শুনতে পেল না। তার মাথায় চলছে অন্য জটিল হিসাব। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ তাদের বাসর রাত। এ কয়েকদিন এক বিছানায় তেমন থাকা হয়নি আর না পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল। তবে এখন তারা মাহিরের নিজের আবাসে। এতদিন মাহির সেদিকে কোনো ইঙ্গিত না দিলেও আজ রাত আর টলানো যাবে না।
মাহির তুড়ি বাজিয়ে বলল, কি ভাবছো? কিছু লাগবে?
আয়নার কান গরম হয়ে এলো। সে দ্রুত মাথা নেড়ে বলল, না তেমন কিছু ভাবছি না।
-এরকম লাল দেখাচ্ছে কেন? জ্বর এলো নাকি আবার?
মাহির হুট করে কপালে হাত রাখল। হাতের দুপিঠ কপালে ছুঁইয়ে বলল,
নাহ! তেমন গরম না। আমি তাও ঔষধ এনে রাখি। আর কিছু লাগলে বলবে। আমাকে কিন্তু জানাতে হবে আয়না। আমি মোটেই অন্তর্যামী নই।
তাকে চলে যেতে দেখতে তাকিয়ে থাকে আয়না। অপ্রত্যাশিত বিচিত্র অনুভূতির চক্রে পড়ে যায় সে।
·
·
·
চলবে……………………………………………………