ভোরের আলো সবে ফুঁটতে শুরু করেছে। ছাদ সংলগ্ন রেস্তোরাঁয় মানুষের ভীড় নেই। কোলাহল মুক্ত। তুবা এদিক-ওদিক তবুও একবার নজর বুলিয়ে নিলো। মুখের মাক্স খুলে তাকালো সম্মুখে বসে থাকা পুরুষটির পানে। তামজিদ স্পন্দন। তাকালেই ঠিক নামের মতোই স্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। যেদিন প্রথম দেখেছিল? ওই লালচে চুলের উড়ু উড়ু ভাব, ঘন পাপড়ির আড়ালে লুকিয়ে থাকা তেজি দৃষ্টি কিংবা পাতলা ঠোঁটে মিটমিট করতে থাকা হাসির প্রেমে পরেছিল তুবা। যার রেশ এখনো আছে। হয়তো আজীবন থাকবে। তুবা ঠোঁটে ঠোঁট চিপে হাঁসফাঁস করলো। তামজিদ কথা এগোচ্ছে না। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বসে আছে এইতো, দশ মিনিট হতে চললো। অথচ লোকটার মাঝে কথা বলবার কোনো উদ্যোগ নেই, আকাঙ্ক্ষা নেই। ছেলেরা না আগে কথা বাড়ায়?
তুবা মন খারাপের গলায় জিজ্ঞেস করলো, ‘কেমন আছো, তামজিদ?’
তামজিদ দূরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ফের তুবার চোখে চোখ রাখলো, ‘ভালো। তুমি?’
প্রচন্ড তেঁতো মেজাজে তুবা ছটপট করলো, ‘ভালো নেই আমি তামজিদ। তিনদিন ধরে লাগাতার তোমাকে মেসেজ, কল করছি। একটার রিপ্লাইও দাওনি। বাধ্য হয়ে তোমার হস্পিটালে যেতে হয়েছে। কেন তামজিদ? এমন কেন করছো? কি করেছি আমি?’
তামজিদ উত্তর দিলো না। নিষ্পলক তাকিয়ে রইলো মাত্র। তুবা অসহ্য গলায় বললো, ‘আমার দোষটা না বললে আমি কিভাবে জানবো তামজিদ? কিছু তো বলো!’
প্রাণভরে নিশ্বাস টেনে মুক্ত বাতাসের স্বাদ যেন অনুভব করতে পারলো তামজিদ। টেবিলের ওপর রাখা হাত দুটো এবার আড়াআড়ি ভাবে বুকে জড়ালো। ওমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পিঠে ভীষণ অবাঞ্ছিত একটা উত্তর দিল, ‘জাস্ট… তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো তা দেখতে চেয়েছিলাম।’
তুবার চোয়াল ঝুলে গেল। ঠোঁটে ফাঁক হলো সামান্য। পিটপিট নজরে হাজারো অবিশ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলা ভুলে গেল তুবা। কণ্ঠ গলিয়ে শব্দ বেড়োলো খুব কষ্টে, ‘সিরিয়াসলি, তামজিদ? তাই বলে তুমি আমায় এভাবে কষ্ট দেবে? আমি কতটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম জানো?’
উত্তরে তামজিদ হাসলো কেবল। কি যে দৃষ্টিনন্দন হাসি! তুবার মন গলতে লাগলো। নরম হয়ে মিলেমিশে বললো, ‘আর এমন করবে না তামজিদ। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’
কোনো কিছু জিততে হলে প্রথম শর্ত হচ্ছে, ‘Never let your enemy know your next move.’ অর্থাৎ, কখনো তোমার শত্রুকে তোমার পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে দেবে না। বুঝ হওয়ার পর থেকে তামজিদ মনে প্রাণে এ কথা বিশ্বাস করে এসেছে। গুটি চালতে চালতে সে এতটাই পাকা হয়েছে যে, সামনে বসে থাকা মেয়েটা কি ভাবছে সে হলফ করে বলতে পারবে। কিন্তু তার মনে কি চলছে তা বোঝা কঠিন। মাঝে মাঝে তামজিদ নিজেই তা ঠাওর করতে পারে না।
তুবা কণ্ঠে আলতো লাজ নিয়ে বললো, ‘বাবা তোমাকে দেখা করতে বলেছেন। এমনি… ওইযে নিউজ হলো না? এজন্য আরকি! তুমি কি একবার দেখা করবে বাবার সাথে?’
‘হুম…’ মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো তামজিদ। পরপরই প্রশ্ন করলো, ‘টিয়া পাখিটা কেমন আছে? ওটা যত্নে রেখেছো তো?’
শুনে তুবা যারপর নাই চমকালো। মুখের অদল দেখেই স্পষ্ট বোঝা গেল তা।
টিয়া পাখি! তামজিদের দেওয়া ওই টিয়া পাখিটা! দু'দিন আগেই রাগের মাথায় গলা টিপে… তুবা জোড়পূর্বক হাসার চেষ্টা করলো। সামান্য তোতলিয়ে বললো, ‘এ..একটু অসুস্থ। কিন্তু আমি যত্ন নিচ্ছি ওটার। ঠিক হয়ে যাবে…’
বলতে বলতে আড়চোখে তামজিদের দিকে তাকালো তুবা। তার কথা কি বিশ্বাস করেছে সে? বোঝা যাচ্ছে না। বরং টেবিল থেকে জুসের গ্লাস উঠিয়ে স্ট্র-তে ঠোঁট চেপেছে তামজিদ। জুস পান করতে করতে কেমন অদ্ভুত নয়নে চেয়ে আছে। তুবার গা শিরশির করে উঠলো। অজানা কারণে শরীর ঘামছে। টিস্যু নিয়ে কপালের ঘাম মুছলো ও।
—————
মেরিন বড় চাচার ওখান থেকে এসেছে আজ দু'দিন। এটুকু সময়ে তারফান, তামজিদ কিংবা তালহা কারো সাথেই তার দেখা হয়নি। কিন্তু ভাবনার বিষয়, এই যে মেরিন পুরো এক সপ্তাহ পর এলো? ছাদের ফুল গাছ, সবজি গাছ সব মরে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবার কথা। অথচ কই? সব এত সতেজ, তরতাজা! দেখে কে বলবে মেরিন এতদিন তাদের যত্ন নেয়নি। তার অগোচরে কি কেউ গাছে পানি দিয়েছিল? তারফান দিয়েছে? ভাবনাটা চট করে যেভাবে মস্তিষ্কে এলো ঠিক সেভাবেই তা টেনেহিঁচড়ে মাথা থেকে ছুঁড়ে ফেললো মেরিন। তারফান আর তার গাছে পানি দেওয়া? মাবুদ! কক্ষনো না। ওই লোক একটা আস্ত গাছ বিদ্বেষী পি-শাচ!
ইখতিয়ার আদিলের সঙ্গে অবশ্য মেরিনের ফেরার দিনই দেখা হলো। সে জুম্মুসহ আরও কিছু ল্যাদা ছেলেপেলে নিয়ে ক্রিকেট খেলছিল পাশের মাঠেই। তখন সন্ধ্যে নেমেছে মাত্র। কমলা রঙের আকাশে কালো পরদ নামবে বলে একটু আগেই ঘোষণা দিয়েছে। আজানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে ওইতো! অনেক দূর থেকে। একটা মাঝারি আকারের গাড়ি বিল্ডিং-এর সামনে থামতেই ইখতিয়ার দৃষ্টি সর্তক করলো। পরপরই গাড়ি থেকে মেরিনকে নামতে দেখে ছুটে গেল সে। ননী সাহেবের উদ্দেশ্যে লম্বা একটা সালাম দিয়ে বললো, ‘কেমন আছেন আঙ্কেল? আসতে কোনো অসুবিধে হয়নি তো?’
ননী সাহেব এই ছেলেকে ভীষণ পছন্দ করেন। দেখলেই সালাম দেবে, খোঁজখবর নেবে। এমন দায়িত্ববান, বুঝদার ছেলে আজকাল পাওয়া যায় নাকি?
তিনি প্রসন্ন মনে জবাব দিলেন, ‘ভালো আছি বাবা। আসতেও অসুবিধে হয়নি।’
‘আমাকে ব্যাগগুলো দিন আঙ্কেল। আমি নিচ্ছি৷ এতদূর থেকে এসেছেন, নিশ্চই ক্লান্ত?’
রাস্তার পাশ ঘেঁষে সারি সারি হলদে বাতির ল্যাম্পপোস্ট দাঁড়িয়ে আছে। সেখান থেকে মৃদু মৃদু ছুঁটে আসা আলোয় কিংবা সন্ধ্যার শেষ মুহুর্তের কিরণেই বোধকরি হাঁপাতে থাকা ইখতিয়ারের ঘর্মান্ত অদল স্পষ্ট চোখে বিঁধলো। সোনালী জলবিন্দু চিকচিক করলো খুব। কপাল বেয়ে তা ভ্রু ছুঁতেই বাহুর শার্টে ঘাম মুছলো ইখতিয়ার। সে তখনো ননী সাহেবের সঙ্গে কথা বলছে, হাঁপাচ্ছে, একটু জিরিয়ে ফের রয়েসয়ে কথা বলছে। কথা বলার ফাঁকে তার দৃষ্টি যে মেরিন জুড়ে, মেরিন তা খুব ভালো করেই বুঝলো। দ্রুত কদমে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলো সে। এসেই একেবারে প্রেম বিশেষজ্ঞ লোকটার সঙ্গে তার কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।
দৈবাৎ! পেছন থেকে শব্দ এলো, ধুপধাপ! ধুপধাপ। পরপরই কানের খুব কাছে একটা ভরাট কণ্ঠ শুনতে পেল মেরিন, ‘তুমি দেখছি খুব শুকিয়ে গেছো, মেরিন। ওখানে বুঝি কারো সঙ্গে প্রেম করতে পারোনি?’
মেরিন ভয়ংকর চমকালো। হতবিহ্বল চোখে পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো, তার পাশাপাশি ইখতিয়ার হাঁটছে। হাতে বড় বড় দুটো লাগেজ।
বিরক্তিতে নিমিষেই চোখ-মুখ কুঁচকে ফেললো মেরিন। তেক্ত কণ্ঠে শুধালো, ‘আসা মাত্রই শুরু করে দিয়েছেন? দু'দন্ড শান্তি দিবেন না আমাকে?’
মেরিনের খিটখিটে মেজাজ ইখতিয়ারকে আনন্দ দিলো বোধহয়। কণ্ঠে কৃত্রিম আশ্চর্য চুইয়ে চুইয়ে পরলো, ‘তুমি বিরক্তও হও মেরিন?’
মন বলতে চাইলো, ‘নাহ্! আমি বিরক্ত হইনা। আমি বসে বসে ঘাস কাটি। আপনার জন্য কি একটা কাস্তে নিয়ে আসবো? একসঙ্গে ঘাস কাটবেন?’
অথচ ঠোঁট জুড়ে ইখতিয়ারের মতোই কৃত্রিম হাসি ফোঁটালো মেরিন। মনের কথাগুলো মনে চেপে অকপটে বলল, ‘হতে হয় ভাইয়া। আপনার মতো কিছু বেকার মানুষ পিছু থাকলে বিরক্ত না হওয়া ছাড়া উপায় আছে, বলুন?’
শুরু থেকে শেষ অপমান ছাড়া কথাগুলোতে আর কিছুই নেই। ইখতিয়ারের উচিত অপমানের স্পষ্ট খোঁচাটা গায়ে মেখে মুখ গোমড়া করে রাখা। মনে মনে শপথ করা, ‘এই মেয়েটির সঙ্গে আমি আর একটা কথাও বলবো না।’ কিন্তু নাহ্! বেহায়া ইখতিয়ার তখনো হাসছে।
মেরিন খেয়াল করলো, সেদিন যে দাঁড়ি কাঁটালো ইখতিয়ার? সুশীল হয়ে গজানো দাঁড়ি কেমন গর্ব করছে যেন! তবুও ওষ্ঠজুগলের এককোণে ওত পেতে থাকা গভীর ক্ষত লুকোতে পারছে না। বলতে মানা, লোকটাকে ভদ্র দেখাচ্ছে। বাবা কি এজন্যই এ লোকের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠিয়ে ফেলেন? কি মুশিবত! এই প্রেমজ্ঞানী লোকের আসল চেহারাটা যদি সে তার বাবার সামনে উন্মোচন করতে পারতো! আহা! এই কঠিন আফসোস কোথায় লুকাবে মেরিন? বড়সড় একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এলো। তার আফসোস যেন ইখতিয়ার ক্ষণেই বুঝলো। দু:খী দু:খী মুখ করে বললো, ‘কষ্ট পাচ্ছো কেন মেরিন? তুমি কি আসলেই ওখানে প্রেম করার কাউকে খুঁজে পাওনি?’
মেরিন জবাব দিতে পারেনি। দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে মাত্র।
মেরিন তারপর ছাদ ব্যতীত আর কোথাও যাওয়ার সময় পায়নি। সকালের নাস্তা খেয়ে ছুটেছে ছাদে। এরপর বাসায় ফিরে দুপুরের ভাতঘুম শেষে আবার ছাদ! ওইযে বিয়ের ব্যাপারটা? এখানে আসার পর কোনো এক অদ্ভুত ক্ষমতা বলে ব্যাপারটা ধাপাচাপা হয়ে গেছে। দারুণভাবে কেউ বিয়ের ‘ব’ অক্ষর পর্যন্ত উচ্চারণ করছে না। তারফানকেও আশেপাশে পায়নি মেরিন। ভেবেছিল আজও পাবে না।
সকাল তখন সাড়ে ন'টা। ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে মেরিন চলে এসেছে ছাদে। পা থেকে স্যান্ডেল খুলে সিমেন্টের খসখসে জমিনে ত্বক ছুঁটেই কেমন শিরশির করলো বদন। উহ! ঠান্ডা! আকাশে রবি নেই। বাতাসে হিমেল-শীতের গাঢ় ছোঁয়া। হঠাৎ করে একটা ঝড়ো হাওয়া বইতেই কোত্থেকে যেন পাতারা উড়ে আসে। মেরিনের ভালো মন আরেকদফা ভালো হলো। বাবা কাল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের দরুণ একটা ক্যাকটাস গাছ এনে দিয়েছেন। প্রশ্ন আসতে পারে, ক্যাকটাস গাছই কেন? বাবা খুব বই পড়তে ভালোবাসেন। ক্যাকটাস নিয়ে তিনি কোথায় যেন পড়েছিলেন, কাঁটার আড়ালেও সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে, শুধু দেখার চোখ থাকতে হয়।
প্লাস্টিকের পলিথিনে মোড়ানো ক্যাকটাসটা ঠিকঠাক করে রাখছিল মেরিন। আচমকা খটখটে আওয়াজ হলো। কেউ দরজা খুলছে। মেরিন সঙ্গে সঙ্গে বাম পাশে তাকালো। দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে দৈত্য এক মানুষ হেঁটে আসছে। হাতে বই, চোখে চশমা। গম্ভীর চেহারায় কেমন শীতলতা বিরাজ করছে। মেরিন প্রথমে চুল দেখলো, লালচে কালো। চোখ দেখলো, সর্বদা তীক্ষ্ণ। দূর! তারফান নাকি তামজিদ— কিছুই তো বোঝা যাচ্ছে না।
তারফান ততক্ষণে বই নিয়ে মেরিনের পাশে বসেছে। আগাগোড়া মেরিনকে দেখে তক্ষুণি প্রশ্ন ছুঁড়লো, ‘চুল আঁচড়াও নি?’
মেরিন কপাল কুঁচকালো। প্রতিবারের মতো এবারও প্রশ্ন করলো, ‘কে আপনি?’
প্রতিবারের মতো এবারও গম্ভীর কণ্ঠের মালিক উত্তর দিলো, ‘আমি তারফান ওয়াহাজ।’
বাতাসে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছে। তারফান বুড়ো আঙুলের চাপে উড়ন্ত পৃষ্ঠা আটকালো। তার গভীর মনোযোগ পৃষ্ঠায় লেখা গুটিগুটি অফুরন্ত অক্ষরে, শব্দে, বাক্যে! কাজ করতে থাকা মেরিন সময়ে সময়ে আড়চোখে তারফানকে দেখতে লাগলো। সে একবার ভেবেছিল, চলে যাবে। কিন্তু তাতে যদি তারফান মনে করে সে এই লোককে ভয় পায়? কিংবা যদি মনে করে মেরিন তাকে দেখে লজ্জা পাচ্ছে? মোটেও না! এমন হতে দেওয়া যাবে না।
ক্যাকটাসের কাঁটা যেন একটু করে আঙুলে বিঁধলো। ব্যথায় চিৎকার করতে গিয়েও ফের আড়চোখে তারফানের দিকে তাকালো মেরিন। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ভাবলো কিছু। জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনি এখানে বসে আছেন কেন?’
চশমার আড়ালে তারফান একটু করে তাকালো। আবারও পড়ায় মনোযোগী হয়ে পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে বললো, ‘হস্পিটালে কাজ নেই আজ।’
‘সেটা জিজ্ঞেস করছিনা। আপনি আমার পাশে কেন? মানে আমার এখানে কি?’
‘ছাদটা আমার, মেরিন। আমি যেখানে সেখানে বসতে পারি। যেকারো পাশে।’
মেরিন তিক্ত কণ্ঠে বললো, ‘আমিও এখানে টাকা দিয়েই থাকি।’
‘তো?’
‘এই ছাদে আমারও অধিকার আছে।’
তারফাম ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো তখন। যেন দফায় দফায় প্রশ্ন ছুঁড়ছে। মেরিন বলল, ‘আপনি এভাবে তাকাবেন না।’
‘কিভাবে?’ জানতে গিয়ে চোখের ধরণটাই পালটে ফেললো তারফান। এবার তাকালো গভীর, অনবদ্য প্রগাঢ়তা নিয়ে। মেরিন দৃষ্টি লুকিয়ে বললো, ‘এ.. এভাবে, এখন যেভাবে তাকাচ্ছেন।’
নির্মল কণ্ঠে তারফান পরাজয় মেনে নিলো, ‘আচ্ছা, তাকাচ্ছিনা তাহলে।’
অথচ তারফান কিন্তু তখনো তাকিয়ে। বইয়ের পৃষ্টা একে একে উলটে যাচ্ছে, শব্দরা হারিয়েছে সেই কখন! তারফানের সেদিকে মনোযোগ নেই। সে ব্যস্ত মেরিনকে দেখতে। আড়চোখে তাকে দেখতে থাকা মেয়েটার চুরি ধরা পরতেই লুকিয়ে যাওয়া মুখশ্রী অবলোকন করতে। তারফান দীর্ঘশ্বাস ফেললো। রেলিং ঘেঁষে বসে হাত বাড়িয়ে টেনে ধরলো মেরিনের বাঁধনহারা চুল। মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে। চুল থেকে না ফুল থেকে তারফানের জানা নেই। নাকের অগ্রভাগ সেই ঘ্রাণে রক্তিম হাহাকারে লিপ্ত। কিন্তু উঠতে ইচ্ছে করছে না। এইযে, চুল টেনে ধরায় সঙ্গে সঙ্গেই মেরিন রেগে তাকালো? তারফানের এত ভালো লাগলো কেন? সে মুগ্ধ হলো কেন? জবাব নেই। সে খোঁজার চেষ্টাও করেনি। চুলে পরপর ঠোঁট ছুঁইয়ে মনে মনে আওড়ানো কথাটা হঠাৎ জোড়ে বলে ফেলল তারফান, ‘তুমি আমাকে মুগ্ধ করো, মেরিন।’
·
·
·
চলবে……………………………………………………