মেঘবন - পর্ব ২৪ - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা - ধারাবাহিক গল্প

মেঘবন - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা
          সকাল সকাল কলেজে ক্লাস পড়েছিল। তিনটে ক্লাসের বদলে দু'টো ক্লাস হওয়ায় পরপরই ছুটি। গেইট পেড়িয়ে আকাশে শুভ্র মেঘমাদুর দেখছিল মেরিন। পায়ে অস্পষ্ট জ্বালা হচ্ছে। হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরেছে তো! বিকেলের আমেজ তখনো ঘুম ভেঙে সজাগ হয়নি। পড়ন্ত দুপুরের কড়া রোদ হুট করেই ভালো লাগছিল তার। গুটিগুটি কদম ফেলে মেরিন বাগানের সিমেন্ট ঢালাই করা বেঞ্চের ওপর বসলো। পা দু'টো আরাম পেল তখন। কাঁধ ব্যাগটা বেঞ্চের অপরপাশে রেখে মুক্ত নিশ্বাস নেওয়ার মাঝেই চোখ চলে গেল বাম কোণে। মেরিন নিশ্বাস নিতে ভুলে গেল। চমকালো, ভড়কালো, হতবাক হয়ে চোয়াল ঝুললো তার। তামজিদ শুকনো মাটির মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে আছে। শরীর উদোম। একমাত্র ধূসর ট্রাউজার ছাড়া এই ছেলের পরনে কিচ্ছু নেই৷ নাহ্! আছে! গলায় একটা চিকন রুপার চেইন ঝুলছে। আনাচে-কানাচে বাদামি রঙের ধুলোবালিতে মাখো মাখো। রহস্যময় চোখ দুটো বড্ড দুর্লভ। মেরিনের পানে স্থির। ঠোঁটে কিটমিটে হাসি টেনে সে অচিরেই শুধালো, ‘কেমন আছো, মেরিন?’

মেরিন থতমত গলায় বললো, ‘ভা-ভালো৷ আপনি কেমন আছেন তামজিদ ভাইয়া?’
তামজিদের চোখ হাসলো এবার। উত্তরে ভণিতা করে বললো, ‘সুস্থ আছি।’

তামজিদকে তামজিদ হিসেবে চিনে ফেলায় দারুণ আশ্চর্য হলো মেরিন। নিঃসন্দেহে দুই ভাইয়ের মাঝে পার্থক্য করা খুব কঠিন। ওদের আলাদা করে চেনা যায় না। অথচ আজকাল মেরিন ওসব পার্থক্য ছাড়াই দু'জনকে চিনে ফেলে, বুঝে ফেলে। কেন? উত্তর জানা নেই। কেবল ওই নিশীথের অতলে হাবুডুবু খাওয়া নয়ন জোড়ার পানে তাকালেই মেরিন বুঝে যায়, কে তারফান, কে তামজিদ।
ঠোঁট বাকিয়ে হেসে তামজিদ অভিবাদন জানালো, ‘তারফান আর আমার মাঝে পার্থক্য করা শিখে গেছো তুমি। সবাই পারে না।’

মেরিন আড়চোখে তাকালো, ‘আর কে কে পেরেছে?’
তামজিদ ভাবলেশহীন কণ্ঠে বললো, ‘মা, তালহা, আমাদের স্কুল টিচার আর… হায়দার!’
মেরিন আগের সুর টেনেই প্রশ্ন করলো, ‘হায়দার কে? আপনাদের বাবা?’

‘হু।’

‘নাম ধরে ডাকছেন কেন?’

সূর্যের কড়া রোদে তামজিদের তামাটে রঙ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। স্বর্ণের ন্যায় চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে খুব। উন্মুক্ত শরীরের খাঁজে বিন্দু বিন্দু ঘাম। আশ্চর্য ভাবে বুকে লোম নেই। হয়তো-বা আছে। সোনালী বর্ণের হওয়ায় দেখা যাচ্ছে না। তারফানেরও ঠিক বুকে লোম নেই। সেদিন মেরিন দেখেছিল। পান খেতে খেতে দাদি বলতেন, পুরুষ মানুষের বুকে লোম নেই অর্থাৎ সে পাষাণ। ভেতর-বাহির কোনো মায়া, দয়া নেই। সত্যিই কি নেই?
মেরিন খেয়াল করলো, তামজিদ তার দিকে চেয়ে আছে। দৃঢ় দৃষ্টি। গাঢ় মনোভাব। দমকা হাওয়া তার চুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দিতেই সে মাথা ঝুকিয়ে ফেললো। নির্ভার গলায় বললো, ‘তারফানকে কষ্ট দেবে না, মেরিন। মায়ের আদুরে বলে ও বখে গেছে। যাকে পায় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। আমার হ্যান্ডসাম চেহারা পেলেও মনটা কুচকুচে কালো। ওই কাকের মতো। ওইযে, তাকাও!’

মেরিন তাকালো। কারেন্টের তারে একটা কুৎসিত কালো কাক বসে আছে। তামজিদ বলতে রইলো, ‘কথায় কথায় কান্না করার স্বভাব আছে ওর। মাসের পর মাস জ্বরে ভুগে। ফ্যাশন সেন্স নেই। তাও মানিয়ে নিতে হবে। আলাভোলা মন নরম মানুষ— তারফানকে কাঁদাবে না।’

মেরিনের ভ্রুজোড়া ক্রমশ কুঁচকে যাচ্ছে। বুঝতে পারছে না, তামজিদ আদৌ বোঝাতে চাইছে কি? সে কি তারফানের দুর্নাম করছে? কেন? মেরিন তপ্ত নিশ্বাস ফেললো। শুধালো, ‘আপনি কি কোনো ভাবে বিয়ে ভাঙতে চাচ্ছেন?’

তামজিদ গম্ভীর হলো হঠাৎ। সূক্ষ্ণ স্বরে বললো, ‘নাহ্।’

‘তাহলে?’

‘তারফান অনুভূতি বোঝে দেড়িতে মেরিন। ও হয়তো তোমাকে খুব বড়ো ধাক্কা দেবে। তোমাকে তখন বুঝদার হতে হবে। রাগ করলে চলবে না।’

মেরিন চোখ তুলে তাকালো। সরাসরি তামজিদের দিকে। চমকে উঠলো শিরা-উপশিরা, গোটা শরীর। তামজিদের দৃষ্টি অন্যরকম। ভীষণ গোপন দৃষ্টি। ওই দৃষ্টি আগে কখনো দেখেনি মেরিন। তামজিদ দেখায়নি। তাহলে আজ কেন দেখাচ্ছে? মেরিন শ্বাস আটকে বললো, ‘আমি ক'দিন বাদে আপনার ভাবি হয়ে যাবো।’

তামজিদ মৃদু হাসলো কি? হাসলো! জমে থাকা মাটির কুন্ডলী দু'হাতে নেড়েচেড়ে দেখলো। ম্লান গলায় বললো, ‘জানি।’

মেরিনের চোখ নমনীয় হয়ে এলো, ‘তাও কেন…’

তামজিদ উঠে দাঁড়ালো সঙ্গে সঙ্গে। গালের একপাশে লম্বালম্বি আঁচড় লেগে আছে। মেরিন সেদিকেই তাকিয়ে আছে। তামজিদ সেটা খেয়াল করতেই ভেতর থেকে জিভ ঠেললো গালে। নির্লজ্জের মতো হেসে বললো, ‘আমার গার্লফ্রেন্ড করেছে এটা। তুবা।’ 

বলতে বলতে মেরিনের কাছাকাছি হলো সে। মিনিটের মাঝে তার ঝলমলে হাসি মিলিয়ে গেছে। ভর করেছে গুমোট গাম্ভীর্য। চোখ বুজে নরম নিশ্বাস ফেলে কেমন ফিসফিসিয়ে বললো, ‘আমি নিষিদ্ধ জিনিসের দিকে তাকাই না, মেরিন। তোমার দিকে তাকিয়ে ফেলেছি, দু:খীত।’

—————

বিয়ে ঠিক হলো, তোড়জোড় চলছে খুব তাড়া নিয়েই। অথচ মেরিন তারফানের দেখা পাচ্ছে না। হুট করে লুকিয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছে লোকটা। তীর্থের কাকের ন্যায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে মেরিন। ছাদে অযথাই ঘুরঘুর করে। চিলেকোঠার নড়বড়ে দরজায় অবহেলায় ঝুলে থাকে মাঝারি আকারের তালা। 
ননী সাহেব বড় চাচাদের বিয়ে উপলক্ষ্যে এখানে আসতে বলেছিলেন। তিনি আসবেন না। এইটুকু ফ্ল্যাটের মধ্যে সবার থাকার জায়গা হবে? একদিন বিকেলে ভাইকে কল দিয়ে জম্বেশ আড্ডার মাঝে তিনি বড়ো আমোদেই প্রস্তাব জানালেন, ‘এক কাজ কর, আমাদের বাড়িতে সবাই চলে আয়। এখান থেকেই না-হয় বিয়ে হোক। দু'জনে মিলে মেয়ের বিয়ে দিবো। বড়ো করে। জাঁকজমক অনুষ্ঠানের সঙ্গে। বাড়ির মেয়ের বিয়ে হচ্ছে, খরচ তো একটু করতেই হবে।’

ননী সাহেব ভারমুক্ত হলেন। একা তার পক্ষে সত্যই এতসব সামলানো সম্ভব ছিল না। মাথায় বড়ো একজনের স্নেহের হাত পেয়ে তিনি ভরসা পেলেন।

—————

আনমনা হয়ে রাস্তার পাশ ধরে হাঁটছিল মেরিন। অন্যমনস্ক, উদাসীন মন। আকাশ বোধহয় তার মন পড়ে ফেলল। রুক্ষ হাওয়ায় মাথার ওড়না পরে গেল কাঁধে। ওড়না ঠিক করতে করতে পেছন ফিরে তাকালো মেরিন। গুটি কয়েক ছেলেপেলে অনেক চিৎকার-চেঁচামেচি করছে। হৈ-হুল্লোড়ে আশপাশ গরম। মেরিন মুখ ফিরিয়ে আবারও হাঁটতে লাগলো। নড়বড়ে দুর্বল পা দুটো টেনে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। বিষণ্ণ সুন্দর দিনটি বিষাদ ঠেকছে খুব। কাল বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা কাককে ম'রে যেতে দেখেছে সে। কারেন্টের তারে বৈদ্যুতিক ঝটকা খেয়ে দুম করে পড়েছে নিচে! ওইযে, সেদিনের কুৎসিত কাকটা! মেরিনের এত এত খারাপ লেগেছিল! বুক চিঁড়ে দমবন্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস সময় নিয়ে বাতাসে মিলিয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে অন্যমনস্ক মন আরেকটু গভীরে তলিয়ে যেতেই আচমকা একটা শক্ত কিছু পিঠে এসে লাগলো। ব্যথায় চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল মেরিন। পাথর! কে মা রলো? পেছনে ফিরবার সুযোগ পেল না মেরিন। সামনে দিয়ে দৌড়ে যাওয়া এক লোক ব্যস্ত গলায় ক্ষণেই চিল্লালো, ‘আরে আশ্চর্য! দাঁড়িয়ে আছেন কেন? মা রা মা রি হচ্ছে দেখছেন না? তাড়াতাড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে যান। দ্রুত!’

থতমত খেয়ে মেরিন সেই লোকের পিছু পিছু একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়লো। ছোটখাটো একটা রেস্তোরাঁ। তারা দশ-পনেরো জন ভীতু সাব্যস্ত বদনে সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেরিন খেয়াল করলো, সে কাঁপছে। থরথর করে। গালে উষ্ণ জলের আভাস পেতেই চমকে উঠলো। তাড়াতাড়ি গালে হাত ছোঁয়াতেই বুঝলো, কাঁদছে সে! দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। হা করে নিশ্বাস নিতে হচ্ছে। কানে অনবরত চিৎকার, হা হাকার, আ র্তনাদ। গুলির বিকট আওয়াজ কানে বাজতেই মেরিন কেঁপে উঠলো। দেওয়ালের সঙ্গে মিশে গেল আরও। গলা শুষ্ক হয়ে আসছে। কপাল বেয়ে সূক্ষ্ণ ঘামকণার রেখা। কাঁপা কাঁপা হাতে ব্যাগ থেকে ফোন বের করে ননী সাহেবকে কল লাগালো মেরিন। একবার! দু’বার! তিনবার! ধরছেন না। ব্যস্ত বলছে। বুকের ভ য়াবহ ধড়ফড় আওয়াজ মেরিন অচিরেই শুনতে পেল। মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করলো, আর কাকে কল করা যায়? সাহায্য চাওয়া যায়? তার ছেলে বন্ধু নেই। কোনো কালে ছিল না। মেয়ে বন্ধুরা এখানে এসে তাকে বাঁচাতে পারবে না। আর কে? শরীর ছেড়ে দিলো। মোবাইল খুব কষ্টে ধরে রেখে কল লিস্ট ঘাটতে লাগলো মেরিন। হঠাৎ থমকালো আঙুল। একদম শুরুতে একটা নাম ভাসছে, ‘TARFAN’। দু’বার ভাবলো না মেরিন। কল লাগালো, রিং হলো, সেকেন্ডের মাঝে রিসিভ হলো। ভরাট কণ্ঠের ডাক শোনা গেল, ‘মেরিন…।’

কথা বলতে গিয়ে মেরিন টের পেল, কণ্ঠস্বর জমে গেছে। শব্দ বেরুচ্ছে না। দারুণ ভয়ে গাল ভিঁজে করুণ অবস্থা। জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে-ফেলে মেরিন কোনোমতে উচ্চারণ করলো, ‘আ-আমি… আমার আপনাকে দ..দরকার।’

তারফান থমকালো বুঝি? পরপরই উৎকণ্ঠা হয়ে শুধালো, ‘কি হয়েছে মেরিন? কাঁদছো কেন? কোথায় তুমি?’
হু হু করে কেঁদে ফেলল মেরিন। এ পৃথিবীতে নিজের চেয়ে অসহায় তার আর কাউকে মনে হলো না। ভুল, হলো। তার সঙ্গে প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা বুড়ো থেকে বাচ্চাদের ভয়ে রক্তশূন্য চেহারা দেখে জিহ্বায় ভার অনুভব করলো মেরিন। শব্দ ভেঙ্গেচুরে গেল, ‘এখানে অনেক মারামারি হচ্ছে তারফান। কতগুলো ছেলে…’ কথা শেষ হলো না। পূর্বেই বিরাট পাথর এসে কাঁচের জানালা ভেঙে দিলো। আ তঙ্কে আরেকদফা কাঁপলো মেরিন। অসহায় কণ্ঠে আহাজারি করলো, ‘আপনি আসুন না! আমার ভয় করছে তো!’

কাঁচ ভাঙার শব্দ তারফান পেয়েছে। পেয়েছে বলেই পা নড়ছে না তার। ভয় করছে, মেরিনের কিছু হলে? তার জানটা বুঝি ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। এই ঠান্ডা আবহাওয়ায় দরদর করে ঘামলো তারফান। ঢোক গিলে বললো, ‘কোথায় তুমি?’
‘রেস্টুরেন্ট, কলেজের বামদিকের রেস্টুরেন্ট।’

তারফান দ্রুত বাইকে বসলো। আশ্চর্য! হেন্ডেল ধরে রাখা হাত দু’টো এমন কাঁপছে কেন? বুকে এমন পাহাড়সম চাপ কেন? মেরিনের কান্নার সুর দৃঢ় হতেই তারফান ছোট্ট নিশ্বাস ফেললো। আদুরে গলায় বোঝালো, ‘খবরদার কাঁদবে না মেরিন। আমি এক্ষুণি চলে আসবো, তোমাকে নিতে। টিভির সুপারহিরো দেখেছো না? আমি এইযে, এক্ষুনি একটা সুপার পাওয়ার পেয়েছি। কি জানো? মেরিন নামের রমণীকে চট করে বাঁচিয়ে ফেলার জাদুকরী পাওয়ার। মেরিন, চোখ শক্ত করে বুজে এক'শ পর্যন্ত গুণবে। আমি তোমার এক'শ গুণার আগেই চলে আসবো। ভয় পাবে না। কাঁদবে না। শক্ত মনে আমার জন্য অপেক্ষা করবে, কেমন? হু?’

মেরিন ঠিক ঠিক চোখ বুজে ফেললো। শক্ত করে। খুব খুব খুব শক্ত ভাবে। মনে মনে গুণলো, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ…।’
কান গলিয়ে তখনো মানুষের আহা জারি শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে বাচ্চাদের ফিসফিসিয়ে কান্না শব্দ। 

ঠিক কতটা সময় মেরিন ওভাবে ছিল জানা নেই। সময় গড়িয়েছে। কতবার যে এক'শ পর্যন্ত গুণতে গিয়ে থেমে গেছে মেরিন! কতবার যে ভয়ে তটস্থ হয়ে কেঁপেছে! সবে তখন মাত্র সত্তর পর্যন্ত গুণেছে সে। খুব ধীরে, সময় নিয়ে। আচমকা কিছু তপ্ত গরম নিশ্বাস মেরিনের চোখ-মুখ ছুঁয়ে দিলো। মনে হলো, খুব কাছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। মেরিন তাকালো। ধীরে ধীরে চোখের পাতা দুটো আলাদা করে চোখ মেললো। তারফান! তারফান ওয়াহাজ! মেরিনের দু'পাশে দু'হাত রেখে ঝুঁকে আছে লোকটা। ঘেমে একাকার হয়ে আছে। মেরিন তাকাতেই হাঁপাতে হাঁপাতে দাঁত বের করে বিজয়ী হেসে বললো, ‘আমি এসে গেছি, মেরিন।’ 
প্রশ্ন ছুঁড়লো, ‘বেশি ভয় পেয়েছিলে?’

তারফানকে দেখে মেরিন খুশি হলো না। উত্তর দিতে পারলো না। কপালে বড়োসড়ো আ ঘা ত তার। কেঁটে রক্ত পড়ছে। এখানে আসতে গিয়ে? মেরিনের ঠোঁট ভেঙে আসলো। কান্না দমাতে এত কষ্ট হলো! কিছুপল একাধারে তারফানের ওই খুশি চোখ দুটোর দিকে চেয়ে থেকে বললো, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি আর আপনাকে দেখতে পাবো না।’

জবাবে চমৎকার হাসিটা বজায় রাখলো তারফান, ‘নো চান্স, মেরিন।’

এগিয়ে এসে মেরিনের কাঁধে মাথা ঠেকালো তারফান। কপালের ঘাম মেরিনের কাঁধের জামাটুকোয় মুছে নিলো। বড় বড় শ্বাস টেনে মেরিন মেরিন সুবাস টেনে নিলো নিজের মাঝে। মেরিনের দু'হাত শক্ত করে দু'হাতে ধরে ফিসফিসিয়ে বললো, ‘আমার জানটা বেড়িয়ে গিয়েছিল, মেরিন। মনে হচ্ছিল আমি হারিয়ে যাচ্ছি। এই এক্ষুণি তোমার কাছে না পৌঁছালে আমি নিশ্বাস আটকে মা রা যাবো। এতটাও ভালোবাসতে চাইনি আমি মেরিন। কিভাবে যেন…’

স্বীকারোক্তিটুকু পুরো করলো না তারফান। মেরিন শুধালো, ‘আপনি এখানে এলেন কিভাবে?’
তারফান মশকরা করলো, ‘সুপার পাওয়ার দিয়ে।’
‘আমরা বের হবো কিভাবে এখান থেকে?’

‘ইখতিয়ার আসছে। ঝগড়া একটু পর থেমে যাবে।’ পরপরই তারফান হঠাৎ অদ্ভুত এক প্রশ্ন করলো, ‘ভয় পেলে কি শরীর গরম হয়ে যায়, মেরিন? আমার এমন জ্বর জ্বর লাগছে কেন?’

উত্তরটা মেরিন নিঃশব্দে দিলো। আড়নয়নে চেয়ে থাকা লোকেদের পরোয়া না করে নি:শব্দে চোখ বুজে ফেললো। একটু আগে ভয়ে তার শরীরও গরম হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল, মৃ ত্যু বুঝি চলেই এলো! অথচ এখন শীতলতায় মন-প্রাণ-মস্তিষ্ক একেবারে স্থির হয়ে আছে। মন দুলানো প্রশান্তিতে নির্ভার লাগছে সব।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp