ভাঙা আয়নার আলো - পর্ব ০৯ - শারমিন আক্তার সাথী - ধারাবাহিক গল্প

ভাঙা আয়নার আলো - শারমিন আক্তার সাথী
          কিছুদিন আগেই রত্না জানতে পেরেছে ও সন্তান সম্ভবা। রত্না জানে এ সন্তান মিরাজের। তবুও মন্ত্রী সাহেবকে খুশির খবর দিলেন। মন্ত্রী সাহেবও আনন্দে গদগদ হয়ে ভাবলেন সন্তান তার। এহসান সাহেব বুড়ো বয়সে বাবা ডাক শুনতে পাবেন বলে আনন্দে আত্মহারা। কয়েক মণ মিষ্টি তিনি বিলি করলেন পুরো এলাকায়। বুড়োর এমন কান্ড দেখে প্রায়ই সবাই আড়ালে হাসে। আপত্তিজনক কথা বলে। বুড়ো বয়সে ভীমরতি হওয়ার উদাহরণ হিসাবে তাকে টানে। 

এহসান সাহেব যে তা জানেন না তেমন নয়। তিনি জেনেও না জানার ভান করে থাকেন। তিনি বাইরের মানুষের কথায় পাত্তা না দিয়ে নিজের ভালো থাকাকে বেশি প্রধান্য দেন। তাছাড়া তিনি মনে করেন মন্ত্রী মিনিস্টার হতে হলে গায়ের চামড়া গন্ডারের চেয়েও মোটা করতে হয়। নয়তো এ মাঠে টিকে থাকা দায়। সবার কথায় মন খারাপ করলে তো মন্ত্রীত্ব করা চলে না। তিনি তার পারসোনাল লাইফ, প্রফেশনাল লাইফ আর মানুষের কথা তিনটাকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখেন।

আলাদা রাখেন বললেও ভুল হবে। তিনি তিনটাকে তিন ভাবে সামলান৷ ঘরে তিনি যেমন, বাইরে মন্ত্রী এহসান সাহেব তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ঘরে যেমন তিনি নমনীয়, সহজ সরল। বাইরে তিনি ততটাই ধূর্ত, চালাক আর ধান্দাবাজ টাইপ লোক। দুই নাম্বারি অনেক কাজই সে করে। কিছু কাজের কথা সবাই জানে। কিছু কাজের কথা জানে না। তিনি রত্নাকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। অসম বয়সে এমন সুন্দরী বউ পেলে আল্হাদ বুঝি সব পুরুষই করেন। তিনিও তার ব্যতিক্রম নন।

এহসান সাহেব যেদিন থেকে শুনেছেন রত্না প্রেগন্যান্ট; সেদিন থেকে তিনি রত্নাকে পারলে মাথায় করে রাখে। রত্নাকে অত্যাধিক যত্ন করার ব্যবস্থা করেছেন। এত আনন্দের মাঝেও রত্নার ভয় ছিল জবা চৌধুরীকে নিয়ে। সে কীভাবে মিরাজ আর তার কথা জানল তা ও জানে না। ও জানতে চায় জবা এসব কথা এহসান সাহেবকে বলবে কি না?

সেদিন মন্ত্রীর বাড়ি থেকে জবা যাওয়ার পর রত্না মন্ত্রীকে জবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। বলল,
'উনি কে? আপনি তাকে এত ভয় পেলেন কেন? একটা মেয়েকে এত ভয় পাওয়ার কী হলো?''

এহসান সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দিলেন,
'শিল্পপতি জয়নুল আবেদিনের একমাত্র কন্যা। তাকে একটা জীবন্ত সুইসাইড বো* মও বলতে পারো। এ মেয়ে পারে না এমন কিছু নেই। ওরা মন্ত্রী মিনিস্টারের হাতে থাকে না বরং মন্ত্রী মিনিস্টার ওদের হাতে থাকে। জয়নুল আবেদিনের কোনো ছেলে নেই, কিন্তু পাঁচ ছেলের কাজ জবা একাই করে। এমন টাইম বো* মের মতো মেয়ে থাকতে কোনো বাবার ছেলের প্রয়োজন হয় না। এ মেয়ে টাইম বো* মের মতো হলেও এর সময়ের কাটাটা নষ্ট। কখন কোথা কীভাবে ফাঁটে কেউ বুঝতে পারে না।

পাথরের মত অটল এ মেয়ে। মার্শাল আর্ট শিখেছে, শিখেছে সব রকমের আধুনিক বন্দুক চালানো। ডিফেন্সের অনেক ট্রেনিং ও নিজ বাড়ি বসে নিয়েছে। এসব নাকি ওর শখ। মেয়েদের কখনো এমন শখ থাকতে পারে?

একটা গল্প বলি, একবার এক মন্ত্রী এক পার্টিতে জয়নুল আবেদিনকে অপমান করছিল। জবা সাথে সাথে সেই মন্ত্রীকে এবং তার কথায় সহমত পোষন করা চারজনকে গুলি করেছিল। কেউ মরেনি অবশ্য। কারণ জবা চৌধুরী তেমন করেই গুলি করেছিল। ও চাইলে মেরে ফেলতে পারত। কিন্তু ইচ্ছা করে গুলি সবার কাঁধে করেছে। ও কাউকে মারতে চায় না, তবে তাদের এমন অবস্থা করে যে মৃত্যু সহজ মনে হয়। ও চায় সবাই ওকে ভয় পাক। এই মেয়ে ভয়কে জয় করেছে। কিন্তু ওকে যারা চিনে তারা ওকে ভয় পায় যমের মতো।

শুনেছিলাম এক ছেলে ওকে পছন্দ করত। তখন ও বিবাহিত। সে ছেলেকে ও রিজেক্ট করার পর, সেই ওকে রেপ করার হুমকি দিয়েছিল। সে ছেলের খবর আজ পর্যন্ত কেউ জানে না। বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও না।

দেখতে মেয়ের মতো কিন্তু ওর ভিতরে কয়েকটা গুন্ডার বসবাস।'

এহসান সাহেবের কথা শুনে ঢোক গিলল রত্না। এমন ভয়াবহ মেয়ে হতে পারে ওর ধারণা ছিল না৷ রত্না মনে মনে ভাবল, যে করে হোক এই মহিলার সাথে কথা বলে ওর বিষয়টা ধামাচাপা দিতে হবে। নয়তো জবা চৌধুরী এহসান সাহেবকে সব জানালে তিনি রত্না, মিরাজ এবং ওদের অনাগত সন্তান তিনজনই শেষ। আর কিছুদিন পরই ওদের ভিসা হয়ে যাবে। তারপর ফিনল্যান্ড চলে যাবে মিরাজ আর ও। তখন মন্ত্রী এহসান সাহেব কিছু করতে পারবে না।

রত্না কিছুক্ষণ বসে থেকে খানিক বিরক্ত হয়ে বাড়িটা একটু ঘুরে দেখতে লাগল। বেশ সৌখিন বাড়ি। চারপাশে প্রাচুর্য আর আভিজাত্যের ছোঁয়া। সবথেকে চোখে যে বিষয়টি লাগছে তা হচ্ছে এ বাড়ির ভিতর ও বাহিরে প্রচুর গাছ। বাড়ির বাইরে যেমন সবুজ ভিতরেও তেমন সবুজের সমারোহ। যেন এক টুকরো গ্রীনল্যান্ড। 

রত্না নিজেও গাছ খুব ভালোবাসে। মন্ত্রী সাহেবের বাড়িতেও প্রচুর গাছ লাগিয়েছে। ও গাছের কাছে গিয়ে হাত বুলাতে নিতেই পিছন থেকে বাচ্চা কণ্ঠে জারা বলে উঠল,
'ডোন্ট টাচ। এগুলো আমার বাবার গাছ। বাবার গাছে কেউ হাত দেয় তা সে পছন্দ করে না।'

রত্না জারাকে দেখে অভিভূত হলো। কি মিষ্টি দেখতে বাচ্চাটা! রত্না মৃদু হেসে বলল,
'এ গাছ তোমার বাবা লাগিয়েছে?'
'ইয়েস।'
'বাহ। তুমি গাছ লাগাও না?'
'আমিও বাবার সাথে লাগাই।'
'গুড৷ তা তোমার নাম কি বাবু?'
'জারা।'

'বাহ্। কি চমৎকার নাম! এত সুন্দর নাম তোমার কে রাখল?'
'তা তো জানি না। মা কে জিজ্ঞেস করি?'
'আচ্ছা। তা তোমার মা কী করছে?'
'মা বাবাকে পানিশটড করছে।'
'কী করছে?'
'বাবা কান ধরে উঠবস করছে আর মা গুনছে।'
'ওমা কেন?'

'তা তো জানি না। তবে বাবা যখন ভুল করে মা তখন এমন করে শাস্তি দেয়।'
'ভালো তো। এখন সোনা যাও তো তোমার মাকে একটু ডেকে আনো। আমি অনেকক্ষণ যাবত তার জন্য অপেক্ষা করছি।'
'আপনি কিছু খাবেন? মা বলেছে বাসায় গেস্ট আসলে তাদের আপ্যায়ন করতে।'
'ওয়াও। গুড। তা তুমি কিসে পড়ো মামনি?'
'কিছুদিন আগে ওয়ানে উঠেছি।'
'ওয়াও। ভেরি গুড।'

তখন পিছন থেকে সিনথিয়া জারাকে ডাকল,
'হাই সুইটি! হাউ আর ইউ।'
'আই অ্যাম গুড মিস। ইউ?'
'টু মাচ গুড।'

সিনথিয়া আজ একটু বেশিই খুশি। আজ ও কথা নিহাদের সংসার ভাঙার সকল কাজ করে এসেছে। ওর ৯৯% ধারণা কথা আজ নিহাদকে ছেড়ে যাবে৷ 

আজ নিহাদের সাথে চমৎকার একটা বিকাল কাটিয়েছে। ফিজিক্যাল রিলেশনে তৃপ্তি পেলে তখন সিনথিয়ার শরীর মন ভালো থাকে৷ আর তাছাড়া ওর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হয়েছে।

নিহাদকে আজ এমনভাবে ফাঁসাতে পারবে তা চিন্তাও করেনি সিনথিয়া। কথার মুখটা দেখার মতো হয়েছিল যখন কথা ওকে আর নিহাদকে একসাথে বিছানায় দেখেছে।

সিনথিয়া মনে মনে ভাবছে,
'কথা নিশ্চয়ই এখন নিহাদকে ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছে। বাড়ি গিয়ে খুব চিল্লাপাল্লা করেছে। উফফ ভাবতেই ভালো লাগছে কদিন পর আমি অফিসিয়ালি মিসেস নিহাদ হবো। উফফ! হাত পায়ের লোম কেমন দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। হে আল্লাহ কথা যেন আজই নিহাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। নিহাদ যেন দ্রুত আমাকে বিয়ে করে।'

(কী ছিল সিনথিয়ার পরিকল্পনা এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করেছিল এবং কথা ঠিক কী করেছিল? নিহাদকে ছেড়ে গিয়েছিল না কি সিনথিয়াকে শাস্তি দিয়েছি? তা জানতে পড়তে হবে "অমানিশায় আলো" বইটি।)

জারা, সিনথিয়াকে বলল,
'মিস আজ আপনাকে সুন্দর লাগছে।'
'ইয়েস বেবি। আজ আমার শরীর মন একদম ঝরঝরে। ওয়েদারও সুন্দর। সব মিলিয়ে আমার মুড খুবই ভালো আজকে।'

সিনথিয়া জারার সাথে কথা বলছিল আর রত্না সিনথিয়াকে দেখে ভাবছিল এ মেয়েটিকে ও চিনে৷ কোথায় দেখেছে মনে করতে পারছে না, কিন্তু সিনথিয়াকে ও ১০০% দেখেছে এবং সেটা কিছুদিনের মধ্যেই।'

রত্নার দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া জারাকে প্রশ্ন করল,
'উনি কে?'
রত্না নিজেই হাত বাড়িয়ে বলল,
'হ্যালো আমি রত্না। মন্ত্রী এহসান সাহেবের ওয়াইফ।'

সিনথিয়া সুন্দর করে হেসে বলল,
'আমি সিনথিয়া। জারার প্রাইভেট টিচার।'
'কিছু মনে করবেন না। আপনার বাড়ি কোথায়?'
'কেন?'
'অ্যাকচুয়ালী আমার মনে হচ্ছে আপনাকে আগেও কোথাও দেখিছি, কিন্তু ঠিক মনে পড়ছে না।'

সিনথিয়া হালকা হেসে বলল,
'এতটুকু শহর আমাদের। দেখা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।'
'তা ঠিক। কিন্তু আপনি যতটা ছোটো বলছেন ততটাও নয়। একই শহরে থেকেও অনেকে চেয়েও বছরের পর বছর নিজের মানুষদের সাথে দেখা করার সুযোগ পায় না।'
'সুযোগ তো পাওয়া যায় না আপু। সুযোগ করে নিতে হয়।'
'অনেক সময় চাইলেও সুযোগ করা যায় না।'

সিনথিয়া হেসে বলল,
'ওকে নাইস টু মিট ইউ। জারা চলে পড়তে বসবে। প্লিজ আপু এক্সকিউজ আস।'
'শিওর।'

রত্না আবার বসে রইল কিছু সময়। জবা উপর থেকে একবার ওকে বসে থাকতে দেখেও নিচে আসেনি৷ জবা জানত রত্না ওর সাথে দেখা করতে আসবে। মানুষ চেনার চমৎকার একটা শক্তি জবার থাকলেও স্বামী চিনতে সে চরম ভুল করেছে। ভালোবাসায় অন্ধ হলে যা হয়।

জবা ভাবল, এ ধরণের মেয়েদের ও ঘৃণা করে। যারা স্বামী থাকতেও পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। এসব নারী পুরুষদের ও এতটাই ঘৃণা করে যে, মাঝে মাঝে মনে হয়, ওর কাছে যে বৈধ বন্ধুক আছে, তা দিয়ে এদের মাথা বরাবর গুলি করে মাথা থেকে পরকীয়ার পোকা বের করে দিবে। 

মন্ত্রী এহসান সাহেব যখন ইরফানের কাজে নাক গলাতে চেষ্টা করেছিল তখনই জবা মন্ত্রী সাহেবের পুঙ্খানুপুঙ্খ খবর সংগ্রহ করেছে। তখনই জানতে পারে, বুড়ো মন্ত্রী সাহেবের যুবতী স্ত্রী স্বামী রেখে বাইরে স্বগৌরবে পরকীয়া করছে।

রত্নাকে অপেক্ষমাণ দেখে জবা বাঁকা হাসল। ওর ভালো লাগছে এটা দেখতে। জবাকে এমন বাঁকা হাসতে দেখে ইরফান নিচে তাকিয়ে বলল,
'কে উনি? অনেক্ক্ষণ যাবত বসিয়ে কেন রেখেছো?'

'উনি মন্ত্রী এহসান সাহেবের স্ত্রী।'
'কী? তাহলে তুমি তাকে এতক্ষণ কেন বসিয়ে রাখছো?'
'রিলাক্স জান। সে মন্ত্রীর স্ত্রী বলে তাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ওমন দু চারটা মন্ত্রী আর তার বউরা আমার কাছে কিছু না। বাই দ্যা ওয়ে কান কেন ছাড়ছো? তোমার শাস্তি তো শেষ নেই।'

'আজকের মতো ছেড়ে দাও জান। আর কখনো এমন হবে না। এরপর তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা কখনো ভুলবো না।'
'মনে থাকবে?'
'ইয়েস এবং পাক্কা প্রমিজ। এখন স্ট্যাডি রুমে যাই? আমার অনেক কাজ আছে।'
'ওকে।'
'জান...।'

'ব্ল্যাক কফি দিচ্ছি।'
'ও জান তুমি অনবদ্য। আমার বলার আগেই সব কেমন বুঝে যাও।'
'এটা নতুন কিছু না। জরুরি কাজের সময় তোমার প্রতি আধাঘন্টায় এক কাপ ব্ল্যাক কফি লাগে।'
'ধন্যবাদ জান আমাকে বোঝার জন্য৷ ধন্যবাদ আমাকে এত ভালোবাসার জন্য। লাভ ইউ।'

হাসল জবা। উঁচু হয়ে ইরফানের কপালে চুমু খেয়ে বলল,
'তোমাকেও ধন্যবাদ আমাকে এত ভালোবাসার জন্য।'

ইরফান গভীর প্রণয়ে জবাকে জড়িয়ে ধরল।

আরও আধাঘন্টা অপেক্ষা করানোর পর জবা নিচে নামল। রত্না ওকে দেখে বলল,
'এতক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে খুব বেশি মজা পেলেন মজা পেলেন মনে হয়?'

জবা হেসে বলল,
'ততটা পাইনি যতটা এক্সপেক্ট করেছিলাম। সো হাউ আর ইউ? হাউ ইজ ইউর সুগার ড্যাডি?'
'হি ইজ মাই হ্যাজবেন্ড।'
'ওহ রিয়েলী? সে হ্যাজবেন্ড অথচ পেটে বাচ্চা মিরাজের ব্যাপারটা খুব বেশি থ্রিলার হয়ে গেল না?'

'আমি সোজা সাপ্টা ভাবে জিজ্ঞেস করছি, আপনি এসব কীভাবে জানলেন?'
'তোমার সো কল্ড হ্যাজবেন্ড নামক চিনি বাবা তোমাকে আমার সম্পর্কে কিছু বলেনি?'
'আপনি কী এহসানকে সব জানাবেন?'
'তাকে জানিয়ে আমার কী লাভ?'
'তাহলে আমাকে সেদিন ব্ল্যাকমেইল করলেন কেন?'

'আমি তোমায় ব্ল্যাকমেইল করিনি। আমি কেবল তোমায় কিছু কথা বলেছি। আমার কাজ এহসান সাহেবের সাথে ছিল। যা তিনি অনেক আগেই করে দিয়েছেন। তোমাকে নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। সে তুমি মিরাজকে নিয়ে ফিনল্যান্ড যাও বা আয়ারল্যান্ড। আই ডোন্ট কেয়ার।'

রত্না খানিক চমকে বলল,
'আপনি এটাও জানেন?'.
'ইয়েস। তো তোমার এখানে আসার কারণ নিশ্চয়ই ভয়? তুমি ভয় পাচ্ছো আমি মন্ত্রী এহসান সাহেবকে না সব বলে দি। তাহলে বলি রিলাক্স। আমি এসব কিছুই করব না। তুমি আমার ক্ষতি না করলে আমিও তোমার ক্ষতি করব না। সিম্পল। এমনিও তোমাকে দেখলে আমার গা গিনগিন করে। বমি পায়।'

রত্না বেশ অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
'কেন?'
'বিবাহিত হয়েও অবৈধ বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরছো আবার জিজ্ঞেস করছো কেন?'
'দোষ আমার একার নয়।'

'তোমারই দোষ। অন্যের উপর দোষ দিয়ে নিজের পাপকে জাস্টিফাই করা যায় না। মানছি এহসান সাহেবকে বিয়ে করা তোমার চয়েস ছিল না, কিন্তু বিয়ের পর মিরাজের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে তার বাচ্চা পেটে নাওয়া তোমারই চয়েস ছিল। তুমি চাইলে এহসান সাহেবকে বিয়ে না করে পালিয়ে যেতে। অথবা বিয়ের পরও যখন ভালোবাসতে পারছিলে না তখন তালাক দিতে। বাট বিবাহিত হয়েও এমন নোংরামি কেন?'

'যার যার সিচুয়েশন সে জানে। এত জ্ঞান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।'
'রাইট। তুমি আসতে পারো। চিন্তা করো না আমি তোমার স্বামীকে কিছু জানাব না। ও বুড়োরও শাস্তি হওয়া দরকার। তার সঙ্গীর প্রয়োজন ছিল সে চাইলে বিধবা, ডিভোর্সী, নিঃসন্তান কাউকে বিয়ে করত। তা না বুড়ো বয়সে উত্তেজনার ঠেলায় যুবতী মেয়ে বিয়ে করছে। এখন ঠ্যালা সামলাক। ছাগল মন্ত্রী।'

রত্না চুপ করে উঠে যেতে নিলে দেখল ইরফান নিচে নেমেছে। ইরফানের দিকে তাকিয়ে রত্না জিজ্ঞেস করল,
'আপনার হ্যাজবেন্ড?'
'হ্যাঁ।'

এবার রত্না রহস্যময় হাসল। বলল,
'জবা, আপনি আর আমার স্বামী একই ক্যাটাগরির। আপনারা ঘরের খবর রেখে পরের খোঁজ খবর বেশি নেন। আপনারা নিজেদের খুব চালাক মনে করেন। কিন্তু কথায় আছে চালাক মানুষ চারপাশের খবর রাখলেও নিজের পায়ের তলার মাটির খবর কম রাখে। সে কারণে সেই মাটিটা একদিন নড়ে গিয়ে তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়। বাই দ্যা ওয়ে। চললাম। ভালো থাকবেন।'

রত্না চলে গেল, কিন্তু জবা ওর কথার মানে বুঝল না। বেশি ভাবলও না ওর কথা।

বাড়ির বাইরে নেমে রত্না মনে মনে বলল,
'জবা মনে পড়েছে আপনার মেয়ের টিচারকে আমি কোথায় দেখেছি? আপনার স্বামীর সাথে কক্সবাজার হোটেল মুনলাইটে দেখেছিলাম। সেখানে তাদের বেশ অন্তরঙ্গভাবে দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম তারা হ্যাজবেন্ড ওয়াইফ। এখন আসল ঘটনা বুঝলাম। কিন্তু এ খবর আমি আপনাকে দিব না জবা। আপনি নিজেকে অনেক বেশি চালাক ভাবেন। ভাবেন সব বুদ্ধি কেবল আপনারই। এবার নিজের বুদ্ধি দিয়ে বের করুন আপনার স্বামীর পরকীয়া৷ নয়তো ঠকে যান সারাজীবন।'

—————

বিধস্ত অবস্থায় অন্ধকার রুমে বসে আছে সিনথিয়া। এলোমেলো চুল আর চোখে বইছে অঝর ধারায় নোনা জল৷ আজ দুপুরের পর জবা চৌধুরী এসে ওর সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেছে।

কথা নিহাদকে নিয়েও যে পরিকল্পনা করেছিল তা ও সফলতার মুখ দেখবে বলে মনে হয় না। শেষ ভরসা ছিল ইরফান। তাও শেষ হয়ে গেল। তাছাড়া ইরফানকে দিয়ে এখন কোনো লাভ হবে না। আজই সিনথিয়া জানল সকল সম্পদ জবার নামে। তাহলে ইরফান তো এমনি ভিখারি।

সিনথিয়া ভাবছে, জবা চৌধুরীর টাকা কীভাবে দিবে? এত টাকা পাবেই-বা কোথায়? ইরফান যে এখন কোনো রকম সহায়তা করবে না, তা ও ভালো করেই জানে। আর জবা চৌধুরী আজ যেভাবে কথা বলে গেল তাতে সে এত সহজে সিনথিয়াকে ছাড়বে বলে মনে হয় না। সারে সাত লক্ষ টাকা কোথায় পাবে ও!

নিস্তব্ধ রজনীতে অন্ধকার রুমের নিস্তব্ধতায় ওর ফোঁপানির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না। ঘরের কেউ ওর দিকে ঘুরেও তাকাচ্ছে না। জবা চৌধুরী যাওয়ার পর থেকে কেউ ওর সাথে কথা বলেনি৷ ওর রুমে পর্যন্ত উঁকি দেয়নি। ও বেঁচে আছে না কি মরে গেছে তা-ও দেখতে আসেনি। ওর বাবাতো চিৎকার করে বলেই দিয়েছে আজ থেকে তার মাত্র দুই সন্তান। কাল ভোর হলে সিনথিয়া যেন বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ও বাড়ি থেকে না গেলে আমি চলে যাব।

কথাগুলো তিনি যে শুধু রাগ করে বলেনি বরং বাস্তবায়নও করবে তা বোঝা যাচ্ছে।

রাত একটা,
প্রচণ্ড ক্ষুদায় সিনথিয়ার শরীর কাঁপছে। সেই দুপুরে ভাত খেয়েছিল। তারপর একফোঁটা পানিও খায়নি। শুধু কেঁদেছে। ক্ষুদা তৃষ্ণায় এখন মাথা ঘোরাচ্ছে। শরীর কাঁপছে। সিনথিয়া উঠে রান্না ঘরে গেল। খাবার পাতিলের ঢাকনা খুলে দেখল, পাতিলে অনেক খাবার৷ হয়তো রাতের জন্য রান্না করা খাবার কেউ খায়নি। ও প্লেটে খাবার নিলো ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানি নিয়ে পেট ভরেই ভাত, সবজি আর ডাল খেল।

খাবার শেষে উঠে দেখল বাবা হক সাহেব ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সিনথিয়া খানিক ভয় পেলেও মনে মনে ভাবল,
'আব্বুকে এখন ইমোশনাল কথা বার্তা বলে আমার প্রতি দুর্বল করতে হবে।'

সিনথিয়া কিছু বলার আগেই হক সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
'খাওয়া হয়েছে?'
'জি আব্বু।'
'পেট ভরে খেয়েছো?'
'জি।'
'আচ্ছা। এটাই তোমার এ বাড়িতে শেষ খাবার। কাল ভোর হলেই তুমি তোমার জিনিসপত্র নিয়ে এ বাড়ি থেকে বিদায় হবে?'
'কী বলছো আব্বু? কোথায় যাব আমি?'

'সে তুমি জানো। খুব বুদ্ধি তোমার৷ বুদ্ধির জোরে অন্যের সংসার ভাঙছো, অন্যের স্বামীকে নিজের করার চেষ্টা করছো। এত এত প্রেম করেছো৷ তো তুমি নিজের থাকার ব্যবস্থাও করতে পারবে। যাদের বুদ্ধি আছে তারা কোথাও আটকায় না। আর যাদের কু বুদ্ধি আছে তারা আটকালেও বের হয়ে যায়। তোমার কু বুদ্ধির অভাব নেই। আশা করি বের হয়ে যেতে পারবে।'
'আব্বু...!'

'আমি তোমার কেউ নই। তোমার পাপি মুখ দিয়ে দয়া করে আমাকে ডেকো না। আমি সারাজীবন শিক্ষকতা করে যে সম্মান অর্জন করেছিলাম তা তুমি এক নিমিষেই শেষ করে দিয়েছো।'

এতকিছুর পরও সিনথিয়া বলল,
'আমার বিষয়টা তো কেউ জানে না আব্বু। তাহলে তোমার সম্মানহানি কি করে হলো? ঘরের লোক ছাড়া বাইরের কেউ তো কিছু জানে না।'

হক সাহেব শীতল কণ্ঠে বললেন,
'তুমি যে নরকের কীট হয়ে গেছ এই কথাই তার প্রমাণ। মানুষের সম্মান বাইরের মানুষদের কাছে ক্ষুন্ন হলে যতটা না আঘাত লাগে তার চেয়ে বেশি আঘাত লাগে নিজের কাছে নিজের সম্মান ক্ষুন্ন হলে। আত্মসম্মানের মানে তোমার মতো ব্যক্তিত্বহীন, চরিত্রহীন কেউ বুঝবে না। আমি এতটা হেয় হয়েও বেঁচে আছি কেন আল্লাহই জানেন৷ তুমি আমার চোখের সামনে থাকলে বাঁচতেও পারব না। তুমি দয়া করে যতদ্রুত পারো এ বাড়ি থেকে বিদায় হও। কাল সকালে আমি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর তোমাকে যেন আর না দেখি। আর তুমি যদি এ বাড়িতে থাকো তাহলে আমি আর এ বাড়িতে থাকব না।'

সিনথিয়া কী বলবে ভেবে পেল না। হক সাহেব প্রস্থান করলেন। সিনথিয়া ভাবতে লাগল এখন কী করবে? ভেবেছিল তখন রাগারাগি করলেও পরে বিষয়টা মেনে নিবে। কিন্তু এখন কী করবে ও?

ও রুমে গিয়ে ইরফানকে কল করল। ইরফান কল রিসিভ করেই তীর্যক কণ্ঠে বলল,
'এই মা* গি কয়টা লাগে তোর? আমাকে দিয়ে হচ্ছিল না? নিহাদ নামের টিচারকে কেন ফাঁসাতে চেয়েছিলি? বল খা*নকি? তোর এই অতি উত্তেজনার ফলে আমার এত বছরের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।'

সিনথিয়া হতভম্ব হয়ে বলল,
'এগুলো কী বলছো তুমি? কেমন ভাষা এসব? বস্তির মতো ভাষা তোমার।'
'তোর মতো বে* শ্যার সাথে কথা বলার জন্য এর চেয়ে ভালো ভাষা পাইনি। আমি তোকে স্যাটিসফাইড করতে পারছিলাম না যে নিহাদের সাথে মারাতে গিয়েছিলি। এই যে এত সব হলো, আমার তো মনে হয় এসব নিহাদই করিয়েছে।'
'না না। নিহাদ স্যার এমনটা করতে পারেন না।'

ইরফান ব্যঙ্গ করে বলল,
'নিহাদ স্যার এমনটা করতে পারেন না। কেন রে নিহাদ তোর বাপ লাগে? নাকি ভাতার লাগে যে তোর ক্ষতি করবে না?'
'ইরফান মুখ সামলে কথা বলো।'

'চুপ কর মাগি। আর একটা কথা বললে তোকে আমি খুন করে ফেলব। আমার মাথায় রক্ত উঠে আছে। আমার কত বড়ো ক্ষতি করেছিস তা জানিস তুই। তোকে আমি ছাড়ব না। তোর খুব চুলকানি না মা* গি? কুত্তা দিয়ে আমি তোর চুলকানি কমাবো। মনে রাখিস। ভুলেও আমার সামনে পরিস না। তোকে জানে মেরে ফেলব।'

ইরফান কল কেটে সিনথিয়ার নাম্বার ব্লক করে দিল। সিনথিয়া হতভম্ব হয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। এই কি সেই ইরফান যাকে ভালোবেসে নিজেকে সপেছিল। যে সবসময় মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ওর মন ভোলাতো। যে কখনো উচ্চস্বরে ওর সাথে কথা বলেনি। অথচ আজ যা মুখে আসল তা-ই বলল। দোষ ওর একার নয়। দু'জনেই সমান অন্যায় করেছে।

সিনথিয়া রাগে গজগজ করতে করতে ইরফানকে কল করল। কিন্তু নাম্বার ব্যস্ত। ও বুঝল নাম্বার ব্লক করা। সিনথিয়া সাথে সাথে ওর আরেকটা নাম্বার দিয়ে কল করল। কল রিসিভ করতেই সিনথিয়া বলল,
'তোর সাহস কী করে হয় আমার নাম্বার ব্লক করার।'

ইরফান আগের চেয়েও অধিক ক্ষুব্ধ হয়ে বলল,
'সাহসের কী দেখলি তুই? আমি সাহস দেখালে তুই দুনিয়া থেকে নাই হয়ে যাবি।'

সিনথিয়া নাকি সুরে ব্যঙ্গ করে বলল,
'ওরে মা* গির পোলা। তুই আমার বা* ল ছিড়বি। শা* লা ফকির। তুই তো রাস্তার ফকির৷ তোর বউয়ের নামে সব টাকা পয়সা। তোর কী আছে রে বলদের বলদ। খালি একটা ***।'
'হিসাব করে কথা বল নটি মাগি।'

'তুই যে ছোটোলোক ছিলি তার প্রমাণ তোর ভাষা। টুনটুনিতে টোকা পড়তেই আসল রূপ বেরিয়ে আসল। লোকে ঠিকই ছোটোলোকের যতই টাকা হয় এদের জাত বদলায় না।'
'ওরে আমার বড়োলোক! টাকার জন্য যখন তখন ব্যাডাগো বিছানা গরম করে সে আবার আমাকে জাত চিনায়। আমি ছোটোলোক হলে তুই তো জাত বে* শ্যা।'

ইরফান কল কেটে এই নাম্বারটাও ব্লক করে দিল। সিনথিয়া রাগে গজগজ করতে করতে নিজের মাথার চুল ছিড়তে লাগল। আর বলতে লাগল,
'কোন কুক্ষণে ঐ পারভার্টটা সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম। এখন কী করব আমি?'

'কী আর করবি? এতদিন যা করেছিস তাই করবি! বেশ্যাগিরি। এতদিন বেঁছে বেঁছে করতি এখন জনে জনে করবি '
পিছন থেকে বলল নিলুফা বেগম। আগে থেকেই হতভম্ব, বিস্মিত, ক্ষুব্ধ সিনথিয়া নিলুফা বেগমের কথা শুনে রাগে টেবিলে থাকা ফুলদানি তুলে নিলুফা বেগমের দিকে ছুড়ে মারল। ফুলদানিটা গিয়ে সোজা নিলুফা বেগমের মাথায় পড়ল। 

বিকট চিৎকারে রাত তিনটার সময় পুরো বাড়ি জেগে উঠল। নিলুফা কপাল চেপে বসে পড়ল। আতংকিত হয়ে সিনথিয়া ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে গেল।

বাড়ির সবাই নিলুফা বেগমের এ অবস্থা দেখে কেউ সিনথিয়াকে খুঁজতে লাগল আর বাকির নিলুফা বেগমে হাসপাতালে নেওয়া ব্যবস্থা করল। 

সিনথিয়া ঘরের বাইরে বের হলো ঠিকই কিন্তু এত রাতে বাড়ির সীমানার বাইরে যেতে সাহস করল না। ও বাড়ির বাগানের এক পাশে হাঁটুতে মাথা গুজে বসে রইল।

নিলুফা বেগমের চারটা সেলাই লাগল। কপাল বেশ খানিকটা কেটে গেছে। তার সাথে ঝুমা, হক সাহেব এবং শফিক হসপিটালে গিয়েছি। সীমার ছয় মাসের বাচ্চা নিয়ে যেতে পারল না।

সিনথিয়া সকাল পর্যন্ত বাগানেই বসে রইল। খুব ভোরে সীমা যখন দরজা খুলল তখন সিনথিয়া ভিতরে প্রবেশ করল। সীমা ওকে দেখে কর্কশ গলায় বলল,
'তুই...? আবার কেন এসেছিল। যা আমাদের বাড়ি থেকে। আমাদের জীবন থেকে যত দূরে পারিস চলে যা।'

সিনথিয়া রাগ করে বলল,
'আমার মাথা এমনি গরম আছে। আর মাথা গরম করলে আমি কিন্তু তোকে খুন করে, তারপর বাড়ি থেকে যাব। আমি আমার জিনিসপত্র নিতে এসেছি।'
'তাহলে নিয়ে বিদায় হ।'

সিনথিয়া বড়ো দুটো সুটকেসে নিজের সকল কাপড় প্রয়োজনীয় জিনিস রাখল। তারপর সীমাকে বলল,
'মায়ের আলমারির চাবি দে।'
'আলমারির চাবি দিয়ে তুই কী করবি?'
'চাবি দিতে বলছি চাবি দে।'
'দিব না।'

সিনথিয়া রাগে গজগজ করতে করতে সীমার ঘুমন্ত ছেলেকে কোলে নিয়ে বলল,
'চাবি দে নয়তো তোর ছেলেকে আছার দিয়ে মেরে ফেলব।'

শিউরে উঠল সীমা। সিনথিয়া বলল,
'কাল থেকে নিশ্চয়ই বুঝে গেছিস আমি আর মানুষ নেই। বাদবাকি যতটুকু মনুষ্যত্ব আমার ভিতরে আছে তা মেরে ফেলতে চাই না। আলমারির চাবি দে।'

অগত্যা সীমা চাবি দিল। মায়ের মন তো৷ সন্তান নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি। সিনথিয়া সজলকে কোলে নিয়েই আলমারি খুলে ড্রয়ারে পাওয়া ওর মায়ের কিছু গয়না আর টাকা নিলো। তারপর সীমাকে বলল,
'আমার ব্যাগগুলো বাইরে রাখ।'

সীমা তাই করল। সিনথিয়া বাইরে নেমে সীমাকে ঘরের মধ্যে রেখে দরজা বন্ধ করে বলল,
'তোর ছেলেকে এই দরজার সামনে রেখে গেলাম।'
সীমা চেচিয়ে বলল,
'ওকে একা বাইরে রেখে যাসনে। ছোটো বাবু ওর ক্ষতি হতে পারে।'

সিনথিয়া কথা শুনল না। ক্রন্দনরত সজলকে দরজার সামনে উবু করে শুইয়ে রেখে নিজের ব্যাগ নিয়ে চলে গেল। সীমা ভিতরে বসে ছটফট করছে ছেলের জন্য আর বাইরে জমিনে শুইয়ে ভয়ে কাঁদছে ছয় মাসের এক ক্ষুদ্র শিশু।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp