সাহেবের সন্ত্রস্ত মুখটা এখনো আমার মনে আছে। শ্যামবর্ণ বিশালদেহী, প্রখরতায় ঘেরা মুখটা সেদিন কাগজের মতো সাদা আর বর্ণহীন লাগছিলো। তার চোখ কাঁপছিলো। ভারী স্বর কেমন খাবি খাচ্ছিলো উদ্বিগ্নতায়, কুণ্ঠায়। এতো কুণ্ঠিত কি আমি কখনো সাহেবকে আর দেখেছি? না দেখি নি। পর্বতের মতো মেরুদন্ড সোজা করে রাখা মানুষটি সেই একবার-ই নতজানু হয়েছিলো। আমার মনে হচ্ছিলো কিছু একটা আমার জীবনীশক্তিটাকে শুষে ফেলছে। আমার ভেতর থেকে প্রাণ নামক বিষয়টা হয়তো বেরিয়ে যাচ্ছে। যন্ত্রণায় আমি মলিন হয়ে সাহেবের কোলে ঢলে পড়লাম। রক্তে আমার নিচের অংশ ভিজে যাচ্ছে। যন্ত্রণায় কাতর স্বরে একটা প্রলাপই করছিলাম,
"আমার বাচ্চা, আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান!"
সাহেবের ভারী স্বরটা খুব ক্ষীণভাবে কানে আসতে শুরু করলো,
"কানন, চোখ বন্ধ করো না। চোখ বন্ধ করো না।"
আমার শরীর আর সেই কথাটা শুনতে পেলো না। আমার চোখের সামনে নেমে এলো নিগূঢ় আঁধার। আমি যেন তলিয়ে গেলাম অজানা এক গহ্বরে।
আমার মনে হলো আমি একটা অন্ধকার গর্তে আছি। পার্থিব কোনো শব্দ সেই অন্ধকারে এসে পৌছাতে পারে না। আমি আশপাশ দেখলাম। বোঝার চেষ্টা করলাম আমি কোথায় আছি? ক্ষণিকের জন্য মনে হলো আমি বুঝি মরে গেছি। কবরে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছি। ভাবতেই আমার ভীষণ কান্না পেলো। আমি চিৎকার করে কাঁদলাম। সাহেবকে ডাকলাম বারংবার। কিন্তু সাড়া এলো না। এ কোথায় এসেছি আমি। এতো অন্ধকার! এতো নীরব! অতঃপর ভাবলাম, আমি হয়তো মরি নি। মরলে কবরের হিসেব শুরু হবার কথা। সেটা হচ্ছে না। আমি বোধ হয় এমন একটা অবস্থাতে যেখানে জীবন মৃত্যুর একটা সূক্ষ্ণ দড়ি আছে। দড়ি এপাড়ে জীবন ওপাড়ে মৃত্যু। সত্যি বলতে আমি মরতে চাই না। আমি বাঁচতে চাই। আমার সাহেবের সাথে বাঁচতে চাই। লোকটা গম্ভীর, রাগী, কর্কশভাষী। তবুও আমি তাকে ভালোবাসি। এই মানুষটাকে ভালোবাসাটা হয়তো আমার বোকামি-ই। তবুও তাকে ভালোবাসি। এই আটটা মাস এই মানুষটা আমাকে আগলে রেখেছে। এই আট মাসের যাত্রাটা তো সহজ ছিলো না। আমার মনে আছে, তখন আমার পাঁচ মাস চলে। আমি খাচ্ছিলাম। খেতে খেতেই অরুচি হলো। গা ভাসিয়ে ভক ভক করে বমি করে দিলাম। সাহেব চেয়ারে বসে পেপার পড়ছিলাম। আমি তার দিকে চাইতেই তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আমাকে আস্তে করে তুলে বাথরুমে নিয়ে গেলন। পরিষ্কার করালেন। আমার কান্না পেয়ে গেলো। এতোটা কষ্ট কেন মা হবার৷ তখন কাজের মেয়ে ছিলো না। মিষ্টি আপুকে নিজের বমির কাপড় দিতে লজ্জা করছিলো। নাক টেনে টেনে বললাম,
"কাপড়গুলো ভিজিয়ে দিন। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেঁচে তুলছি।"
সাহেব এতো কঠিন চোখে আমার দিকে তাকালেন। চরম একখানা ধমক দিয়ে বললেন,
"কৃপা করে ঘরে গিয়ে বসলে ভালো হয়। যন্ত্রণা! যতসব!"
আমি সেই ধমকে আর থাকতে পারলাম না৷ সুরসুর করে গিয়ে খাটে বসলাম। উঁকি দিয়ে দেখলাম সাহেব আমার বমির ম্যাক্সি, ছায়া, বিছানার চাঁদর সব ধুঁলেন। আমার সাহেবের মুখে কোনো অনীহার ছাপ ছিলো না। বমির গন্ধে নাক কুঁচকালেন না। খুব সামান্য বিষয় কিন্তু না। আমার আট মাসের যাত্রায় আমি একবারের জন্যও আমার বাবার বাসায় যাই নি। যাই নি কারণ প্রয়োজন পড়ে নি। সাহেব তার সাধ্যমত আমার যত্ন নিয়েছেন। আমার মুড সুইং সহ্য করেছেন। আমি ডাব পছন্দ করতাম বলে আমার জন্য তিনি ডাব আনতেন প্রতিদিন। একবার বলেছিলাম,
"আমার না ছোট ছোট গোল গোল আলু দিয়ে মুরগী ভুনা খেতে ইচ্ছে করছে।"
তিনি ঠিক কোথা থেকে ওই আলু যোগাড় করলেন আমার জানা নেই। ঘরে এসে সেই আলুর ঠোঙ্গা রেখে ঝাঁঝালো স্বরে বললেন,
"এসব অদ্ভুত আতরাঙ্গি খাবার খাওয়ার শখ যে কেন মানুষের হয় আমি জানি না, সারা ঢাকা শহর চোষা লাগলো। ধ্যাত, যন্ত্রণা!"
যন্ত্রণা মুখে বললেও সেদিন আমাকে তৃপ্তি নিয়ে খেতে দেখে তার কপালের সেই চিন্তার রেখাটি আর দেখা গেলো না। কম তো দিন হলো না আমাদের বিয়ের আমার অভ্যাস হয়ে গেছে তার খ্যাটখেঁটে স্বভাবের। প্রথম বিবাহবার্ষিকীর কথাটা মনে পড়ে গেলো। আমি ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছিলাম,
"আজ কিন্তু তাড়াতাড়ি আসবেন। আমরা বাহিরে যাব।"
"কেন? হঠাৎ টো টো কোম্পানির ম্যানেজার হওয়ার শখ হলো কেন? নিজের অবস্থা তো লবডঙ্ক। হাটতে গেলেও জিরানো লাগে! এই অবস্থায় বাহিরে ঘুরে আরোও অসুস্থ হবার ফন্দি!"
"হ্যা, তাই। আসতে বলেছি। আসবেন। এতো কথা বলেন কেন?"
"আমি কথা বলি!"
"না আমি বলি, ঘাট হয়েছে আমার। যা বলেছি তাই শুনবেন কিন্তু!"
"পারবো না। আমি কারোর গোলাম না। আমি নিজের মর্জির মালিক!"
আমি তেড়ে উঠে তার হাতে কামড়ে দিলাম। তখন আমার প্রেগন্যান্সির চার মাস চলে। তিনি হতভম্ব চোখে তাকালেন। আমি কামড়ে মাথা তুলতেই তিনি মুখ কঠিন করে বললেন,
"গ্যাদা জঙ্গলী পেয়ারা কোথাকার। যন্ত্রণা! যতসব!"
তিনি সেদিন তাড়াতাড়ি এলেন বটে কিন্তু আমাদের বাহিরে যাওয়া হলো না। মায়ের শরীরটা বিকাল থেকে খারাপ হয়ে গেলো। জ্বর টর এসে একাকার। সেই অবস্থায় মাকে নিয়ে তার ছুটতে হলো ডাক্তারের কাছে। তিনি অসুস্থতা নিয়ে কোনো আপোষ করেন না। আমার মন খারাপ হলো বেশ। কিন্তু শ্বাশুড়ি জ্বরে রেখে বিবাহ বার্ষিকী পালন করার মতো নারী আমি নই। তাই আমি গিলে ফেললাম সেই মন খারাপের অনুভূতি। রাতে যখন ঘুমাতে এলাম, তখন সময় সাড়ে তিনটা। সাহেবের অফিস আছে বলে তিনি শুয়ে পড়েছিলেন। কপালে হাত রেখে চোখ বুজে ছিলেন। আমি ঘরে এসে নিজের চুল গুলো খুলতে খুলতে দেখলাম ড্রেসিং টেবিলে একগাছি লাল রেশমী চুড়ি আর একটা গোলাপের মালা। আমি তার দিকে তাকালাম। তিনি নির্লিপ্ত। আমি হাসলাম। খোঁপাটা আবার করলাম। সেই মালা মাথায় পড়লাম। রেডিওটা চালু করলাম। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুরু হলো,
"খোঁপার ওই গোলাপ দিয়ে
মনটা কেনো এতো কাছে আনলে
পারবে কি বাসতে ভালো আমাকে জানলে
আমাকে তেমন করে জানলে"
সাহেব হাত সরিয়ে সরু দৃষ্টিতে চাইলেন। আমি তার দৃষ্টি উপেক্ষা করে তার পাশে শুয়ে তার বুকে মাথা রাখলাম। তিনি বিরক্তি দিয়ে বললেন,
"এই রাতবিরাতে কি মাথার টপ ফ্লোর গরম হয়ে গেছে? মাথায় পানি ঢালতে হবে?"
"হ্যা! ঢালতে হবে। আপনার কৃপাময়ী পানি!"
বলেই তার ঠোঁটে চুমু খেলাম। এই আমি কি না, একটা সময় যমের মতো ভয় পেতাম সাহেবকে। সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আমার চোখজোড়া ঢেকে বললেন,
"কৃপা আর হবে না। এখন শুধু কৃপা করে ঘুমাতে হবে!"
আমি হাসলাম। এই লোকটাকে ভালো না বেসে কি করে থাকবো আমি। এই লোকটাকে ছাড়া ওই কবরে একা একাও কি করে থাকবো আমি। আমার যে ভয় করবে। আর সাহেব! তিনি তার গ্যাদা পেয়ারাকে ছাড়া কি ভালো থাকবেন! হয়তো থাকবেন। তিনি আমাকে ভালোবাসেন কি না সেটা তো আমি জানি না। তবে আমি মরতে চাই না। আর আমার বাচ্চা? সে কেমন আছে? সে বেঁচে আছে তো। আমি ওই অন্ধকারের মধ্যে ছুটতে লাগলাম। কোথাও কিছুই নজরে আসছে না। আমি ছুটছি খালি। ঠিক তখনই একটা সরু আলোর রেখা নজরে এলো। খুব ক্ষীণ, খুব দূরে। আমি ছুটতে লাগলাম। মনে হলো আমি যদি ওই আলোর কাছে চলে যাই তবে আমি বেঁচে যাবো। ওই আলোর ওপাশেই আমার সাহেব। যত আলোর কাছে যাচ্ছিলাম তত আলো ঘন হচ্ছে। অন্ধকার মিলিয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে শব্দ শুনতে পাচ্ছি। অনেকে কথা বলছে। অনেক কথা বলছে। আমার কান ধরে এলো। আমি ছুটতে ছুটতে একটা সময় আলোর কাছে চলে এলাম। সেই চোখ ধাঁধানো আলোতে আমার চোখ ঝলসে গেলো। আমি চোখ বুজে নিলাম। যখন দ্বিতীয়বার চোখ খুললাম নিজেকে একটা ঘরে পেলাম। নানা যন্ত্রাদি ঘেরা রুম। আমার মতো আরোও রোগী আছে সেখানে। আমার মুখে মাস্ক। টু টু করে একটা যন্ত্র চলছে। নার্স আমাকে দেখতেই,
"ডাক্তার, ডাক্তার!"
বলে চেঁচাতে লাগলেন। আমি বুঝলাম, এতোদিন আমার জ্ঞান ছিলো না। আমি ছিলাম আই.সি.উ তে। একটু পর ডাক্তার আমাকে দেখতে এলেন। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হেসে বললেন,
"কংগ্রেচুলেশনস। আমরা তো হোপ ছেড়ে দিয়েছিলাম। এটা মিরাকেল ছাড়া আর কিছুই না। আপনার পরিবারের দোয়া আছে আপনার সাথে। ওয়েলকাম টু ওয়ার্ল্ড এগেইন।"
আমি কথা বলতে পারছিলাম না। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম। সেই সারাদিন গেলো আমার মনিটরিং এ। ধীরে ধীরে জানতে পারলাম আমার প্লাসেন্টা এবরাপশন হয়েছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হবার কারণে আমার অবস্থা অবনতির দিকে যায়। দ্রুত আমাকে সি সেকশন করা হয়। আমার একটা মেয়ে হয়েছে। ওর ওজন ২ কেজি ৩০০ গ্রাম হওয়ার কারণে ওকে দ্রুত ইনকিউবেটরে ঢোকানো হয়। ৩৩ সপ্তাহের বাচ্চা। সে বাঁচবে কি না সেটা ডাক্তার জানাতে পারলেন না। আমার অবস্থাও খারাপ হলো। প্রচুর অক্সিজেন সাপ্লাই প্রয়োজন। উপর থেকে আমি অসার, জ্ঞানশূণ্য। ডাক্তাররা আমাকে সরাসরি লাইফ সাপোর্টে দেন। ষাট ঘন্টা পর আমার সেন্স আসা শুরু করে। অবশেষে আমি চোখ মেলে তাকাই। জাগতিক দুনিয়ার সাথে নিজেকে মেশাতে আমার সময় লাগে। আমাকে পাঁচদিন পর বেডে শিফট করা হয়। আমার বাচ্চা তখনও ইনকিউবেটরে। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বেডে আসার পর আমি প্রথম আমার সাহেবকে দেখি। তিনি নাকি আই.সি.উ তে আমাকে দেখতে আসতেন। কিন্তু আমি তখন গভীর ঘুমে থাকতাম। ঘোরে থাকার কারণে তার চেহারাটা আমার মনে নেই। সেই আই.সি.উ এর স্মৃতিগুলোও আমার মনে নেই। তাই যখন কেবিনে আসার পর আমি প্রথম সাহেবকে দেখলাম আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। সেই বুদ্ধিদীপ্ত, ধাঁরালো চোয়ালধারী লোকটা কেমন মলিন হয়ে গেছেন। দাঁড়ি বড় হয়ে গেছে। চুলগুলো বড্ড এলোমেলো। গায়ের শার্টটা অপরিপাটি। অথচ আমার সাহেব বড্ড পরিপাটি মানুষ। স্বাস্থ্যটা কেমন ভেঙ্গে গেছে। চোখের দৃষ্টিটাও খুব ক্লান্ত, ম্লান। শুষ্ক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
"ভালো আছো?"
"হ্যা! আপনি ভালো আছেন?"
তিনি উত্তর দিলেন না। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আমার চোখ বন্ধ হয়ে এলো আবেশে। মনটা তরল হয়ে গেলো। সেই তরল জমলো দু চোখে। মিষ্টি আপুর থেকে শোনা, সেই আই.সি.উ তে থাকা বিভীষিকাময় দিনগুলোতে সাহেব তীর্থের কাকের মতো বাহিরের প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে থাকতেন। একবিন্দু নড়েন নি। একবার ডাক পড়তো এনআইসিউ তে। একবার এখানে। খাওয়া দাওয়া যে কোন গ্রহে ছিলো তিনি জানতেন না। মিষ্টি আপু আর শাহনেওয়াজ সাহেব আসতেন বিকালে। ওই সময়েই তিনি একটু বাড়ি যেতেন৷ শাহনেওয়াজ সাহেব বললেন,
"ইউ আর অ্যা লাকি ওমেন ভাবি।"
আমি হাসলাম। আমি জানি আমি খুব লাকি। কিন্তু সেই লাকটা খুব এলোমেলো। বিকালবেলা যখন আমাকে হুইলচেয়ারে করে আমার বাচ্চার কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, আমি দেখলাম একটা কাচের বাক্সের মধ্যে আমার বাচ্চাটা রাখা। ছোট একটা তুলোর মতো মানুষ। ছোট্ট মুখ, শুভ্র বদন, লাল ঠোঁট। কি অপার্থিব সুন্দর আমার বাচ্চা। কিন্তু সেই সাথে আমার মনটা ভেঙ্গে গেলো যখন দেখলাম তার মুখে নল। তার ছোট্ট পেটটা শুধু উঠানামা করছে একটু পর পর। আমি হু হু করে কেঁদে উঠলাম। আমার সাথে সাহেব ছিলেন। তিনি নির্লিপ্ত। তার চোখে কোনো অশ্রু নেই। তার কাঠিন্য আমাকে খুব আহত করলো। নিজের বাচ্চার এমন অবস্থায় তিনি এতো নির্লিপ্ত কেন! তার দিকে চেয়ে অভিমানী স্বরে বললাম,
"আপনার কষ্ট হচ্ছে না? এতো পাষন্ড কেন আপনি!"
তিনি উত্তর দিলেন না। বরং একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
"চলো! সময় শেষের দিকে!"
বলেই তিনি আমাকে একরকম জোর করে বের করে আনলেন। আমি সাহেবকে দেখে খুব অবাক হলাম। তিনি এতো নির্বিকার কি করে? বাবারা সাধারণত নিজের সন্তানের প্রতি পাগল থাকে। অথচ তাকে দেখলাম শুধু আমার আশেপাশেই থাকতে। আমি যদি বাবুকে দেখতে যেতাম, তখনই তিনি যেতেন। ওখানেও তিনি বাবুর দিকে চাইতেন না। অন্যদিকে চেয়ে থাকতেন। এমন পাষন্ড রুপ কেন! আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না। বরং আমাকে বললেন,
"নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া শিখ।"
আমার রাগ হলো সাহেবের উপর, সেই রাগটা মারাত্মক বিষাদে পরিণত হলো যখন রাতে যখন দুধ পাম্প করে দিচ্ছিলাম তখন নার্স বললেন,
"বাচ্চার তো জন্ডিস হইছে। বেশি বেশি দোয়া করেন। মায়ের দোয়া বেশি কাজে লাগে।"
আমার ভেতরটা ছিড়ে যাওয়ার মতো কষ্ট হলো। আমার সার্জারির যন্ত্রণা, আমার অসুস্থতা আমি ভুলেই গেলাম। আমি দোষারোপ করলাম সাহেবকে,
"আপনি চাইতেন না আমার সন্তান না আসুক পৃথিবীতে। দেখুন আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করেছে। আমার বাচ্চাটা কষ্ট পাচ্ছে। আজ আপনার জন্যই সব হচ্ছে!"
সাহেব কিছু বললেন না। শুধু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। আমি পাগলের মতো কাঁদছি। উনার বুকে ধিমধাম করে কিল বসাচ্ছি। তিনি নড়লেন না। কিছু বললেন না। শুধু আমাকে আগলে ধরে রইলেন।
·
·
·
চলবে……………………………………………………