জারিফের পাশে ড্রিংকস হাতে নিয়ে এগিয়ে আসতেই মাহাদীকে থামিয়ে দিল সে।
চোখ দুটো ঠান্ডা, কিন্তু গলায় স্পষ্ট হুমকি—
— “রাহা ম্যামের কাছ থেকে দূরে থাকবেন। এটা কোনো অনুরোধ না… শেষবারের মতো সতর্ক করছি।”
চারপাশের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।
মাহাদী ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। ঠোঁটের কোণে টানা এক তাচ্ছিল্যের হাসি। চোখে সরাসরি চ্যালেঞ্জ—
— “আপনি আমাকে ওয়ার্নিং দিচ্ছেন, মিস্টার…? নিজের সীমা জানেন তো?”
সে এক পা সামনে এগিয়ে এল, কণ্ঠ আরও নিচু কিন্তু ধারালো—
— “আমি কার কাছে যাব, কার থেকে দূরে থাকব— সেটা ঠিক করার ক্ষমতা আপনার নেই। আর চেষ্টা করবেনও না।”
জারিফ এবার গ্লাসটা টেবিলে নামিয়ে রাখল। আঙুলের গাঁটে চাপ পড়ে সাদা হয়ে উঠেছে—
— “ক্ষমতা আছে কিনা… সেটা সময় বলবে। তবে তখন আফসোস করার সুযোগ পাবেন না।”
মাহাদী হালকা হেসে মাথা কাত করল—
— “থ্রেট দেওয়ার আগে আয়নায় নিজেকে দেখে নেবেন। আমি ভয় পাই না। ভয় নামের কেনো শব্দ আমার ডিকশনারিতে নেই।”
দু’জনের চোখে চোখ লেগে রইল—
একদিকে নীরব আগুন, অন্যদিকে স্পষ্ট অবজ্ঞা।
মাঝখানে দাঁড়িয়ে যেন বিস্ফোরণের আগের নিস্তব্ধতা।
—————
করিডোরের আরেকটু সামনে যেতেই দেখা গেল রাহা তাড়াহুড়ো করে এদিকে আসছে।
অবন্তিকা কোমর চেপে ধরে কষ্টে কুঁকড়ে কুঁকড়ে হাঁটছে— মুখটা যন্ত্রণায় বিকৃত।
ওই অবস্থা দেখেই রাহা প্রায় দৌড়ে এগিয়ে এসে তাকে ধরে ফেলল, কণ্ঠে স্পষ্ট আতঙ্ক—
— “আরে, আরে! কী হয়েছে তোর? এভাবে হাঁটছিস কেন?”
অবন্তিকা দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না ঠিকমতো। তবুও রাহার কাঁধে ভর দেওয়ার মুহূর্তেই নিজেকে ঝটকা মেরে সরিয়ে নিল।
কষ্টে শ্বাস নিতে নিতে দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
— “সর এখান থেকে… আমাকে ধরবি না, বলে দিলাম।”
রাহা থমকে গেল। ভ্রু কুঁচকে তাকাল তার দিকে—
— “এই অবস্থায়ও নাটক করছিস? ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছিস না, আবার—”
অবন্তিকা কথা কেটে দিল, গলাটা কাঁপছে কিন্তু জেদটা স্পষ্ট—
— “বলেছি না, ধরবি না! আমি ঠিক আছি…”
কথাটা শেষ করতেই হঠাৎই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল সে। দেয়ালে হাত রেখে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল, কিন্তু শরীরটা কাঁপছে স্পষ্ট।
রাহা আর সহ্য করতে পারল না। এক ঝটকায় এগিয়ে এসে শক্ত করে তাকে ধরে ফেলল—
— “চুপ কর। একদম চুপ! নিজের অবস্থা দেখেছিস?”
অবন্তিকা এবার আর প্রতিবাদ করতে পারল না। চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে রাহার কাঁধে ভর দিল।
রাহার গলায় চাপা রাগ—
— “কে করেছে এটা…?”
— “তুই।”
— “আমি??”
— “তোর জন্যই শালি—”
সব ঘটনা খুলে বলতেই রাহা এক মুহূর্ত থেমে গেল, তারপর হঠাৎই হাসিতে ফেটে পড়ল।
সে হাসতে হাসতে আর দাঁড়াতে পারল না—মেঝেতে বসে পড়ল, পেট চেপে ধরে লুটুপুটি খাচ্ছে। হাসির চোটে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।
— “হাহাহা… তাহলে এই কাহিনী। আমি পারছি না রে স্বাভাবিক থাকতে।”
অন্যদিকে অবন্তিকা একদম গোমড়া মুখে দাঁড়িয়ে আছে। হাত দুটো বুকের ওপর ভাঁজ করা, চোখ সরু করে রাহার দিকে তাকিয়ে—
— “হাসিস কেন? এটাই তোর রিয়্যাকশন?”
রাহা কোনোমতে শ্বাস নিয়ে বলল—
— “তুই… তুই বললি ,
আমি তো ভাবলাম কী না কী… আর শেষে এই?”
আবার হাসতে শুরু করল সে, এবার আরও জোরে—
— “তোকে কোল থেকে জারিফ ভাইয়া ফেলে দিয়েছে। লাইক সিরিয়াসলি…!”
অবন্তিকা বিরক্ত মুখে এক পা এগিয়ে গেল—
— “একদম হাসা বন্ধ কর, রাহু।”
কিন্তু রাহা থামতেই পারছে না—মেঝেতে বসে এখনও হাসছে, চোখ মুছতে মুছতে বলল—
— “আমি সিরিয়াস থাকতে পারছি না রে… তুই এমন বলবি আমি ভাবিনি!”
অবন্তিকা এক পা এগিয়ে এসে ঠান্ডা গলায় বলল—
— “শেষ?”—
“আমি ব্যথা পেয়েছি, অপমানিত হয়েছি, আর তুই এখানে বসে হাসছিস?”
রাহা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। হাসিটা এখনো পুরোপুরি মিলিয়ে না গেলেও সে নিজেকে সামলে নিল।
— “ঠিক আছে, আমি সিরিয়াস হচ্ছি।”
তবু ঠোঁট চেপে রাখার ভেতর লুকিয়ে থাকা হাসিটা চোখে স্পষ্টই ছিল। অবন্তিকার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল—
— “চল, তোকে মলম লাগিয়ে দিই।”
অবন্তিকা তখনও মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বলল না, শুধু একটু অন্যদিকে তাকিয়ে রইল।
— “শোন, আগে খেতে চল।”
রাহা ভ্রু একটু তুলল—
— “এখনও তো তুই ঠিকমতো হাঁটতে পারছিস না।”
অবন্তিকা মুখ শক্ত করে বলল—
— “আমি পারব। বেশি কথা বলিস না।”
রাহা ছোট করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তারপর মাথা নাড়ল—
— “ঠিক আছে, যেভাবে বলিস।”
দু’জনে পাশাপাশি হাঁটা শুরু করল। করিডোর ধরে এগোতে এগোতে অবন্তিকা আবার হালকা গলায় যোগ করল—
— “সাফা নিশ্চয়ই রেগে আছে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে।”
রাহা একটু নরম গলায় বলল—
— “থাক, ওকে সামলে নেব।”
দুই বান্ধবী নিচে নামতেই সাফা তাদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল—
— “এতক্ষণ কোথায় ছিলি? আর আসারই বা দরকার ছিল কি?”
কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি।
রাহা তখনও আগের কথা মনে করে হালকা হেসে ফেলছিল, কিন্তু অবন্তিকা ঘাড় ঘুরিয়ে রাগী চোখে তাকাতেই রাহা সঙ্গে সঙ্গেই চুপ হয়ে গেল। হাসিটা মিলিয়ে গিয়ে গম্ভীর হয়ে বলল—
— “না… মানে, কিছু না।”
রাহা মাথা নাড়ল—
— “হ্যাঁ, ঠিক আছে। আগে খেতে চলি।”
অবন্তিকা কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল, মুখটা শক্ত।
সাফা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
— “চল, আগে খেতে চল। নাটক পরে হবে।”
এরপর তিনজন একসাথে খাবারের দিকে এগিয়ে গেল।
—————
খাবার টেবিলে বসতেই সামনের আসনে এসে বসে মাহাদী।
কারণ রাহাকে খেতে না দেখে মাহাদীও খায়নি—শান্তভাবে অপেক্ষা করছিল তার “শুভ্রপরি”-র জন্য।
ছয়জনের টেবিল, দুই পাশে তিনজন করে মুখোমুখি বসার ব্যবস্থা।
রাহা, সাফা আর অবন্তিকা এক পাশে একসাথে বসে পড়ল। সামনে মাহাদী বসলেও রাহা সহ তারা একটু বাঁকা চোখে তাকাতেই সে মেকি হাসি দিয়ে চুপচাপ বসে রইল।
ঠিক তখনই পাশ থেকে একজন এসে ডাক দিল—
— “মাহাদী ভাইয়া, আপনাকে আপনার বাবা ডাকছেন।”
মাহাদী একটু থমকে গেল। মনে মনে ভাবল, “কিছুক্ষণ আগেই তো দেখা হলো… আবার ডাকছে কেন?”
তবুও কোনো জরুরি বিষয় হতে পারে ভেবে সে উঠে চলে গেল।
এদিকে রাহার হঠাৎ মনে পড়ে গেল—অভ্র তো খায়নি। না খেয়েই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। ভাবতেই মনটা একটু অস্থির হয়ে উঠল।
খাবার সামনে এলেও তিনজনই হাত দিল না, কারণ হাত ধোয়া হয়নি। কিছু না বলে একসাথে উঠে গেল হাত ধোয়ার জন্য।
কিন্তু ফিরে আসতেই তারা থমকে গেল।
দৃশ্যটা দেখে তিনজনই একসাথে একে অপরের দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল—চোখ বড় বড়।
টেবিলের আরেক পাশে অভ্র আর তার দুই সঙ্গী মিলে একেবারে তাড়াহুড়ো করে খেয়ে যাচ্ছে। এত দ্রুত আর বেপরোয়া ভঙ্গিতে খাচ্ছে যে এক মুহূর্তে কেউই কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেল না।
সাফা ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলল—
— “এরা কি… প্রতিযোগিতা দিচ্ছে নাকি?”
রাহা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
অবন্তিকা শুধু মাথা নাড়ল—
— “এভাবেও মানুষ খেতে পারে?”
রাহা তো পুরোই বিস্ময়ে স্থির। মনে মনে ভাবল— উনি না ঘুমিয়ে গেলেন? কোত্থেকে উড়ে চলে এলেন এখন!
তিনজন আবার একে অপরের দিকে তাকাল, তারপর চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
ঠিক তখনই হঠাৎ—অভ্র খাওয়া একটু থামিয়ে মাথা তুলে রাহার দিকে তাকাল।
একটু দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে চোখ মেরে দিল।
রাহা এক সেকেন্ডের জন্য পুরো থমকে গেল—চোখ বড়, মুখে স্পষ্ট অবাক ভাব।
সাফা আর অবন্তিকা দুজনেই একসাথে রাহার দিকে তাকাল।
রাহা সেদিকে তাকিয়ে একদম থমকে গেল—চোখ বড়, শ্বাস যেন এক মুহূর্তে আটকে গেল। সে একটু কাশির মতো করে বিষম খেয়ে দ্রুত মাথা ঘুরিয়ে নিল।
ঠিক তখনই মাহাদী আবার ফিরে এলো। দৃশ্যটা দেখেই তার হাত দুটো শক্ত হয়ে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল, চোখে স্পষ্ট রাগ। অভ্রের দিকে একদম স্থির দৃষ্টি।
অভ্রও তাকাতেই ঠোঁট একটু বাঁকা করে পাউট করে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিল তার দিকে।
মুহূর্তেই মাহাদীর মুখের রাগ আরও তীব্র হয়ে উঠল।
অভ্র এবার অবলীলায় রাহার দিকে তাকিয়ে বলল—
— “কি হলো সুইটহার্ট? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? আমার খাওয়ার উপর নজর দিও না একদম।”
তারপর চারপাশে হাত নাড়িয়ে বলল—
— “তোমরা দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসে পড়ো, খাওয়া শুরু করো।”
চোখ ঘুরিয়ে হালকা আদেশের সুরে যোগ করল—
— “তারাতাড়ি বসো।”
মাহাদীর দিকে তাকিয়ে আবার বলল—
— “আর তুই ওই টেবিলে যা, ফাঁকা আছে। গিয়ে বসে পড়, খেয়ে বিদায় হ।”
রাহা এই কথা শুনেই হেসে ফেলল, সঙ্গে সাফা আর অবন্তিকাও চাপা হাসি থামাতে পারল না।
মাহাদী আর দাঁড়াল না। রাগ সামলাতে না পেরে সেখান থেকে চলে গেল, যাওয়ার আগে চোখের ইশারায় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল—এটা এখানেই শেষ না।
অভ্র আবার খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে খাওয়ায় মন দিল, যেন কিছুই হয়নি। তারপর হঠাৎ গম্ভীর গলায় বলল—
— “কি হলো, বস সবাই। খাওয়া শুরু করো।”
এই এক ধমকে সবাই যেন একটু নড়ে উঠল, তারপর ধীরে ধীরে চেয়ারে বসে পড়ল।
রাহা বসে পড়লেও বারবার অভ্রের দিকে তাকাচ্ছিল। কিন্তু অভ্র একবারও তার দিকে ফিরেও তাকাল না।
এদিকে সাফা আর অবন্তিকা দুজনেই জারিফের দিকে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ জারিফের চোখ পড়ে অবন্তিকার দিকে।
অবন্তিকা সাথে সাথেই একটু অস্বস্তিতে পড়ে যায়—চোখ নামিয়ে দ্রুত খাওয়ায় মন দেয়।
তার সেই লাজুক, অগোছালো ভঙ্গিটা দেখে জারিফের ঠোঁটের কোণে খুব হালকা একটা হাসি ফুটে ওঠে।
জারিফ তখন চোখ সরাতে গিয়ে দেখে সাফাও তাকিয়ে আছে তার দিকে।
সে একটু থমকে যায়।
সাফা তখনই দ্রুত চোখ নামিয়ে ফেলে, ভেবে নেয়—জারিফ তারদিক তাকিয়েই হাসছিল ।
কিন্তু আসলে সে নিশ্চিত না হয়েই নিজের মনে একটা ভুল ধারণা তৈরি করে ফেলে। তবুও সেই ছোট্ট মুহূর্তটা তার ভেতরে অদ্ভুত এক নরম অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়।
সাফা চুপচাপ খাওয়ায় মন দিলেও, তার ভেতরে কোথাও একটা হালকা, অচেনা ভালো লাগা ধীরে ধীরে জমে থাকল।
পার্টির শেষ দিকের ভিড়টা ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে আসছে। চারপাশে তখন শুধু শেষ খাওয়া-দাওয়ার হালকা ব্যস্ততা আর টেবিল গুছানোর শব্দ।
আলোটা একটু নরম হয়ে এসেছে, কোলাহলও অনেকটা কমে গেছে। কেউ কেউ উঠে যাচ্ছে, কেউ আবার চুপচাপ শেষবারের মতো বসে আছে।
এই পুরো সময়ে অভ্রের আচরণ বা তার ছোট ছোট কাণ্ডকারখানা—এগুলো নিয়ে কেউ তেমন খেয়ালই করেনি। সবাই নিজের কথাবার্তা, খাওয়া আর মুহূর্ত নিয়েই ব্যস্ত ছিল।
মাঝে মাঝে কারও চোখ পড়লেও সেটা মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে ভিড় আর ব্যস্ততার ভেতর। ফলে পুরো ব্যাপারটা যেন কারও মনেই গভীরভাবে ধরা পড়েনি—সবকিছু মিশে গেছে পার্টির স্বাভাবিক শেষ মুহূর্তের ভিড়ে।
—————
রাতের নরম আলো ছাদটাকে যেন এক শান্ত, স্বপ্নময় আবরণে ঢেকে রেখেছে। আকাশভরা তারা, দূরের শহরের মৃদু আলো—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত নীরবতা। সেই নীরবতার মাঝেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল ইভান আর শিফা।
শিফা ছাদের রেলিংয়ে হালকা ভর দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার চুলগুলো বাতাসে উড়ছিল, মাঝে মাঝে মুখ ঢেকে দিচ্ছিল। ইভান কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল, তারপর ধীরে এগিয়ে এসে আলতো করে তার চুলগুলো সরিয়ে দিল।
শিফা একটু চমকে তাকাল, কিন্তু কিছু বলল না।
— “তারা গুনছো?” ইভান হালকা হাসি নিয়ে বলল।
শিফা মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।
— “গুনে শেষ করা যাবে?”
— “হয়তো না… কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কী?”
কথাগুলো হালকা, কিন্তু তাদের চোখের দৃষ্টিতে ছিল গভীর কিছু।
ইভান তার পাশে এসে দাঁড়াল, এতটাই কাছে যে দু’জনের কাঁধ ছুঁয়ে গেল। শিফার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধক করে উঠল, কিন্তু সে সরল না।
কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না। শুধু হালকা বাতাস, আর দু’জনের নিঃশ্বাসের শব্দ।
·
·
·
চলবে……………………………………………………