তোমাগো মতন সংসার আমরা করলে, বুঝছো নাতবৌ? উঠতে বসতে তিন দশে তিরিশ, দিনে তিরিশবার তালাক কপালে জুটতো।
আয়না চুপ করে থাকল এছাড়া তার উপায় নেই। আধঘন্টা সময় নিয়ে তার মাথায় নবরত্ন তেল ঘষছেন সাহেরা বানু। না না করতে করতে কিভাবে যে এই পরিস্থিতিতে পড়ল তা আয়না মনেও করতে চায় না। বয়স্ক মানুষদের খুব নিরীহ লাগলেও তাদের সাংসারিক কুটনীতিতে জুড়ি নেই। আয়না তার প্রমাণ স্বরূপ জব্দ হয়ে বসে আছে।
সাহেরা বানু আঙুলে তেল নিয়ে তার মাথার তালুতে চাপ দিতে দিতে বললেন, এহনকার পোলাপান আল্লাহ! দুইদিন ভালোবাসাবাসি হইলেই মনে করে দুনিয়া জিতছে, আবার দুইদিন মন কষাকষি হইলেই মনে করে সম্পর্ক শেষ।
আয়না নিচু গলায় বলল, আমাদের তেমন কিছু হয়নি দাদী।
-হ, আমি তো অন্ধ। কিছুই দেখি না।
সাহেরা বানুর এমন ভাব যেন পুরো বাড়ির সিসিটিভি তার মাথার ভেতর লাগানো আছে। সুযোগ মতো আয়নাকে ঝেড়ে নিচ্ছেন আবার মাঝে সাঝে চুল আঁচড়ানোর নাম করে চাটি ও মেরেছেন।
দুরত্ব বজার রাখতে বিশ্বাসী আয়না একদম স্তব্ধ। আজকের দিনটাই খারাপ। পুরো শ্বশুরবাড়ি তার ওপর চড়াও হয়েছে।
দাদী ননস্টপ রেডিওর মতো বলে যাচ্ছেন আদর্শ স্ত্রীর চরিত্রাবলি যার সাথে আয়নার কোনো মিল নেই।
-এত্তো তেজ মাইয়াগো বাপরে বাপ! সাপের মতো ফোসফাস করে খালি। এমনে সোয়ামির ভাত খাওন যায়? যায় না রে।
আয়না চুলে টান খেতে খেতে বেজার মুখ করে বলল, বহুবচনে বলা লাগবে না। সরাসরি আমাকেই বলেন।
-কথার যা ধার! একটা কিচ্ছু মাটিতে পড়তে দেয়৷ না। এই বেলা একদম ফাস্ট। সংসারের বেলায় ঘোরার ডিম। এতো ভালা সোয়ামি পাইয়াও কোনো ভক্তি নাই৷ শ্রদ্ধা নাই। খালি অভিযোগ করে। খালি গাল ফুলায়।
আয়না বলল, আমি মোটেও তা করিনা।
-সারাদিনই পেঁচীর মতো মুখটা কইরা ঘুরো না তুমি?
-আমি এমনই! কিন্তু মোটেই আমি অভিযোগ করি না৷ তার কাছে। কোনোদিন খারাপ ব্যবহার করেছি আমি? কিছু চেয়েছি? তর্ক করেছি?
-করবা কেমনে? সব চাওয়া-পাওয়া তো কওয়ার আগেই হাজির রাখে আমার নাতি৷ সেইখানে তুমি ওর একটু যত্ন করতে পারো না। এইডা কি ঠিক নাতবৌ?
সে কতো দুশ্চিন্তা করতেছিল। তোমারে না আমি ওরে নিয়া সব কাহিনি বলছি?
বাইরের থেকে আইসা আবার বৃষ্টির মধ্যে পাগলের মতো বাইর হইয়া গেল। আমি জিজ্ঞেস করছি,কই যাস? আমারে ঠিকমতো উত্তরও দিল না। শুধু ফোন হাতে নিয়া দৌড় দিয়া পথে নাইমা গেল।
আয়না হতাশ হয়ে বলে, আমি তো নিজেই ফিরে আসতাম। ফোনেও তখন আর-
-এইসব তুমি জানো। সে জানতো?
-বলতেই তো দিচ্ছে না। কোনো কথা শুনতে৷ চাচ্ছে না। কতোবার বলতে চাইলাম আমি!
-সংসারে যে আগে ঝুঁকে তার পাল্লা ভারী থাকে।
-উল্টোটা বললেন।
-বেশি বুইঝো না। আরো দশবার বলবা। নরম সুরে সোহাগ দিয়া কইবা। মাফ চাবা। তা না কইরা নিজেই লোক হাসাইতে রাগ কইরা নিচে আইসা উঠছো, এইডা খুব জাতের কাজ করছো? এমন করলে খোদাও নারাজ হয়।
আয়না আর কোনো উত্তর করে না। সাহেরা বানু তেলের বোতলটা বন্ধ করতে করতে বললেন,
যাও এহন। আর শোনো, ওই পোলারে কিছু খাওয়াও। সকালের পর থেইকা কিছু মুখে দেয় নাই মনে হয়।
আয়না বের হতেই সাহেরা বানু এবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
মাহিরকে সুস্থ থাকতে হবে । তার মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। সংসারের বড় ছেলে। সবার দায়িত্ব তার উপর। তার ওপর যদি ঘরের শান্তিটাও না পায়, মানুষ টিকতে পারে? মাহিরকে ঠিক থাকতেই হবে।
—————
ঘর থেকে বের হয়ে করিডোরে এসে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল আয়না। নিচতলা প্রায় চুপচাপ হয়ে গেছে। দূরে রান্নাঘরের দিক থেকে বাসন সরানোর শব্দ আসছে। তার হঠাৎ মনে হলো আজ সকাল থেকে মাহির সত্যিই কিছু খেয়েছে কি না সে জানে না।
চিন্তাটা মাথায় আসতেই বিরক্ত লাগল নিজের ওপর। এত রাগের মধ্যেও কেন সে এইসব ভাবছে?তবুও পা আপনাআপনি রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
রান্নাঘরে গিয়ে আয়না নিজেই একটা প্লেটে রাতের খাবার তুলে নিল। খুব বেশি না। আবার একদম কমও না। যেন মানুষটা চাইলে সহজেই খেতে পারে।
প্লেট সাজাতে সাজাতে কয়েকবার তার মনে হলো নিজেই নিয়ে যাবে। তারপরই আবার মাহিরে ঠান্ডা মুখটা মনে পড়ল।
ঠিক তখনই দিনা রান্নাঘরে ঢুকল পানি খেতে। আয়নার হাতে প্লেট দেখে একটু থামল, মাহির ভাইয়ার জন্য?
আয়না খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, হুম।
-কই, আমি দিয়ে আসি?
আয়না কয়েক সেকেন্ড ভেবে প্লেটটা এগিয়ে দিল, আচ্ছা। টেবিলের মধ্যে ঔষধের ব্যাগ। সেখানে আলাদা প্যাকেটে রাতের ওষুধ গুলো রেখেছি। স্টিকু নোটস দিয়ে মার্ক করে রেখেছি। সিরাপটা ব্লু কালারের বোতলে। একটা অয়েন্টমেন্ট আছে ঘুমের আগে লাগাতে হবে। একটু রিমাইন্ডার দিও ওকে।
দিনা প্লেট হাতে বেরিয়ে গেল। আয়না দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর না চাইতেও ধীরে ধীরে তার পেছন পেছন হাঁটতে লাগল। এক নজর দেখে আসলে মন্দ হয় না।
উপরে উঠে চিলেকোঠার সামনে এসে সে আর ভেতরে ঢুকল না। দরজার আড়ালেই দাঁড়িয়ে রইল।
দিনা ভেতরে ঢুকে খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, ভাইয়া?
তারপর মাহিরের গম্ভীর, ক্লান্ত গলা শোনা গেল, আসতে হবে না। নিয়ে যা। খেতে ইচ্ছা করছে না।
দিনা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল, কিন্তু দাদী যদি জানে-
-দিনা, প্লিজ।কেউ যেন দরকার ছাড়া আমাকে ডিস্টার্ব না করে। কোনো প্রয়োজন পড়লে ডেকে দিস।
শেষ কথাটা খুব শান্তভাবেই বলল মাহির। তবুও আয়নার বুকের ভেতর শক্ত হয়ে গেল। কথাটা অদ্ভুতভাবে কানে বিঁধল তার। যেন সে শুধু প্রয়োজনেই মাহিরের কাছে আসে। কিছু চাইতে। কিছু নিতে। এর বাইরে কখনো না।
আয়না হঠাৎ নিজেকে অসম্ভব অপমানিত লাগল। সে দ্রুত নেমে রুমে ঢুকে যায়। সংসার আর স্বামী দুটোই চুলোয় যাক!
—————
সিঁড়ি দিয়ে প্রায় ছুটে নিচে নেমে এল আয়না। তার পা দুটো তাকে টেনে নিয়ে গেল মিনি আর দিনার ঘরের দিকে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে সে সোজা গিয়ে বসল খাটের এক কোণে। সবাই যার যার মতো ব্যস্ত, আয়নার এই আচমকা ঢুকে পড়া কেউ আলাদা করে খেয়াল করল না। আর তাতেই একটা সুযোগ পাওয়া গেল। নিজের ভেতরের ঝড়টাকে আড়াল করার সুযোগ।
আয়না দেয়ালের দিকে মুখ করে বসল। ছোটবেলা থেকে একটা জিনিস সে নিজের ভেতর খুব শক্ত করে গেঁথে নিয়েছিল, সে কখনো কোনো মানুষের জন্য নিজের মানসিক শান্তি, নিজের শরীর আর নিজের ভালো থাকাকে নষ্ট হতে দেবে না। দুনিয়া একদিকে চলে গেলেও সে নিজেকে সবসময় আগলে রাখবে, নিজের যত্ন নেবে। এই এক নিয়মে সে নিজের কৈশোর আর তার পরের সময়টা পার করেছে। নিজেকে ভালো রাখার জন্য সে চারদিকে একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রেখেছিল, সারাক্ষণ অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দিয়েছে নিজের মনকে।
সে বুঝতেই পারল না, কীভাবে সব ওলটপালট হয়ে গেল। এত পাহারা, এত সাবধানতা ফাঁকি দিয়ে মাহির আহমেদ নামক সরল চেহারার এই মানুষটা কখন, কীভাবে তার মনের ভেতর এতটা জায়গা জুড়ে বসল?
লোকটার সামান্য একটু অবহেলা, একটা তপ্ত কথার আঁচ আজ তাকে এভাবে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে! বুকের ঠিক মাঝখানটায় এমন একটা তীব্র ব্যথা হচ্ছে, যেন সত্যি সত্যি সেখানে কেউ হাত দিয়ে মুচড়ে ধরেছে।
ভীষণ বিরক্তিকর আর অসহায় একটা অনুভূতি!
আয়নার মনে হতে লাগল, সে নিজের অজান্তেই অন্য কারো দয়ার পাত্রী হয়ে গেছে। মাহির একটু ভালো করে তাকালে সে হাসবে, আর মুখ ফিরিয়ে নিলে সে এভাবে ঘরের কোণে বসে বিশ্রী করে কাঁদবে!
এই পরাশ্রয়ী জীবন তো সে নিজের জন্য কখনো চায়নি। কেন এমন হলো তার সাথে? কেন সে নিজেকে সামলাতে পারছে না?
তার চোখের কোণ জ্বল জ্বল হয়ে উঠল। ফোঁটা ফোঁটা করে নোনা পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল। আয়না হাত দিয়ে দ্রুত সেটা মুছে ফেলল, কিন্তু কান্না থামল না।
নিজের ওপরই এক চরম ঘৃণা দানা বাঁধছে তার। যে মেয়েটা মনে করত এই বিয়েটা স্রেফ একটা সামাজিক চুক্তি।দায়িত্ব ও কর্তব্য বাদে যেখানে আবেগ বা অনুভূতির কোনো স্থান নেই, সেই মেয়েটা আজ একটা পুরুষের জন্য এভাবে চোরের মতো লুকিয়ে কাঁদছে!
অথচ ওই লোকটা? সে এখন ওপরের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। তাকে এত বড় একটা আঘাত দিয়ে, প্রয়োজন ছাড়া ডিস্টার্ব না করার হুকুম জারি করে নিজে কত শান্তিতে আছে। আর আয়না এখানে বসে এই সামান্য একটা কারণে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। তার কি নিজের মাকে দেখেও শিক্ষা হয়নি!
অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে নিজের ওপরই একটা তীব্র উপহাসের হাসি ফুটল আয়নার ঠোঁটের কোণে। মনে মনে ভাবল, বাঃ! একদম ওই সস্তা প্রেমে পড়া বোকা কিশোরী মেয়েগুলোর মতো আচরণ করছ তুমি! টোটালি হোপলেস এন্ড প্যাথেটিক!
—————
গভীর রাতে আয়নার ঘুমটা ভাঙল আচমকা, একটা দুঃস্বপ্ন দেখে। ধড়ফড় করে চোখ মেলতেই দেখল চারপাশটা নিঝুম অন্ধকারে ডুবে আছে। বোধহয় ইলেকট্রিসিটি চলে গেছে।
তার সারা শরীর ঘামে ভিজে লেপ্টে গেছে, বুকটা ওঠানামা করছে প্রচণ্ড গতিতে। সে বাম হাতটা নিজের বুকের ওপর রাখল। হৃৎস্পন্দন এতটাই দ্রুত যে মনে হচ্ছে বুকের খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসবে। তীব্র একটা অস্বস্তি আর ছটফটানি তাকে গ্রাস করে নিল।
পাশে তাকিয়ে দেখল মিনা হাত পা ছড়িয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে, ওপাশের বিছানায় দিনা। আয়না বালিশের পাশে হাতড়ে ফোনটা নিল। স্ক্রিনের আলোয় চোখ কুঁচকে সময়টা দেখল রাত প্রায় দুটোর বেশি।
চারপাশে কোনো শব্দ নেই। কোনো অঘটন ঘটেনি, সবকিছু ঠিকঠাকই আছে। তবুও মনের ভেতরের এই কু ডাকটা কিছুতেই থামছে না। মনে হচ্ছে কোথাও যেন কিছু একটা ভুল হচ্ছে, অবচেতনভাবে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে। অস্থিরতা তাকে বিছানায় টিকতে দিচ্ছিল না। সে আর পারল না। নিজের জেদ, অভিমান সব একপাশে সরিয়ে সে বিছানা থেকে নেমে পড়ল। আজ সে হার মেনে নিল।
এই চিলেকোঠার বাইরের ঘরে একা একা নিজের ভেতরে নিজে পুড়ে খাক হওয়া তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। মাথা নিচু করেই সে মাহিরের ঘরের দিকেই পা বাড়াল।
সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় তার মনে হলো সে তো প্রায় সময় মাহিরের সাথে রূঢ় আচরণ করেছে, রুক্ষ থেকেছে, তার কোনো কারণ ছাড়াই দেয়াল তুলে রেখেছে নিজের চারপাশে। কিন্তু মাহির? মাহির তো কখনো ধৈর্য হারায়নি। তার সব পাগলামি, সব অন্যায্য দূরত্বকে সে সবসময় কোমলতা দিয়ে সামলে এসেছে। তবে আজ যদি মাহির তাকে একবার, দুইবার, তিনবার চারবার! চারবার ফিরিয়ে দিয়ে থাকে, তাতে এতটা ভেঙে পড়ার কী আছে?
সে আজ নিচে নেমে এসে মুখ লুকিয়ে কেঁদেছে। কিন্তু তাতে কী? লোকটা যদি তাকে পঞ্চমবার ফিরিয়ে দেয়, দেক তাও সে ষষ্ঠবার যাবে। কিন্তু!
আয়না মনে মনে একটা শক্ত দাগ টানল সে সপ্তমবার আর যাবে না। অসম্ভব! কক্ষনো না!
তার নিজেরও একটা আত্মসম্মান আছে, একটা জেদ আছে। সে সপ্তমবার যাবে না কিছুতেই! কিন্তু এই পঞ্চমবার যাবে আর যদি তাতেও না হয় তখন শুধু ষষ্ঠবারের চেষ্টাটুকু সে করবেই। আর একবারও না। মরে গেলেও না।
ওপরে চিলেকোঠার দরজার কাছে আসতেই টের পেল কারেন্ট চলে গেছে। পুরো ঘরটা যেন একটা গরম চুল্লির মতো তেতে আছে।
আয়না চট করে চার্জার ফ্ল্যাশলাইট জ্বালল। টেবিলের ওপর রাখা রিচার্জেবল ফ্যানটার সুইচ অন করে সেটার মুখটা ঘুরিয়ে দিল সরাসরি মাহিরের দিকে। ফ্যানের যান্ত্রিক মৃদু বাতাসটা মাহিরের গায়ে লাগতেই আয়না একটু এগিয়ে গেল তাকে দেখার জন্য।
মাহির বিছানায় খুব ছড়ানো-ছিটানো, বিশৃঙ্খল অবস্থায় ঘুমিয়ে আছে। প্লাস্টার করা হাত, শরীরে এত চোট তবুও ঘুমানোর ভঙ্গিটা বড্ড অগোছালো। দেখে মনে হচ্ছে বিছানার চাদর আর বালিশের সাথে একচোট লড়াই করে সে ক্লান্ত হয়ে কোনোমতে পড়ে আছে।
আয়না স্থির দৃষ্টিতে মাহিরের দিকে তাকিয়ে রইল।
বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানুষটাকে এখনো বড্ড বড্ড মায়াবী দেখাচ্ছে।
আয়নার কখনো কোনো ধারণাই ছিল না যে এই শান্ত মানুষটার ভেতরে এতটা রাগ লুকিয়ে থাকতে পারে। শীতল, কঠোর কণ্ঠস্বর আয়নার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। যদি কেবল একটা সামান্য বাক্যের আড়ালে এতটা ক্ষোভ থাকতে পারে, তবে বাকিটা! বাকিটার কথা সে ভাবতেও চায় না।
ভাবতে ভাবতে সে মাহিরের আরেকটু কাছে এগিয়ে গেল। গরমে আর যন্ত্রণায় কপালে একঝাঁক চুল লেপ্টে আছে ওর। নিমগ্ন আয়না আলতো করে ওর কপাল থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিতে গেল।
কিন্তু আঙুলটা চামড়ায় ছোঁয়াতেই সে চমকে উঠল।
এ কী! মাহিরের শরীর একটা জ্বলন্ত চুল্লি। প্রচণ্ড জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে ওর।
আয়না স্তব্ধ হয়ে গেল। বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠল তার। সে বিশ্বাস করতে না পেরে আবার হাতটা বাড়িয়ে ওর কপালে রাখল। আচ্ছন্নতার ঘোরেই মাহির অবচেতনে মাথাটা সামান্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। ওর চোখের পাতা বন্ধ, কিন্তু এই তীব্র জ্বরের ঘোরেও সে যেন বুঝতে পেরেছে এই স্পর্শটা কার। সে জড়িয়ে যাওয়া অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে উঠল, কেন এসেছ তুমি...?
এত জ্বর, শরীর কাঁপছে, অথচ এই অবস্থাতেও লোকটার তেজ কমেনি। আয়নার এবার আর ওর এই মুড সুইং বা অভিমানী স্বভাব সহ্য করার মতো সময় নেই। সে আর কোনো তর্কের সুযোগ না দিয়ে বেশ শক্ত হাতেই মাহিরের চিবুক ধরল, তারপর মুখটা আলতো চাপ দিয়ে অন্য পাশে ঘুরিয়ে দিল।
মুখটা ঘুরিয়ে দিতেই মাহিরের গলা আর বুকের ওপরের অংশটা উন্মুক্ত হয়ে গেল। আয়না নিজের পুরো হাতের তালুটা ওর গলার পাশে আর বুকের ওপর রাখল ভালো করে পরীক্ষা করার জন্য।
না, কোনো ভুল নেই। শরীরটা আসলেই পুড়ছে। তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে আয়নার নিজের হাতের তালুটাও গরম হয়ে উঠছে।
মুহূর্তের মধ্যে আয়না একদম দিশেহারা হয়ে পড়ল। তার মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। এই মাঝরাতে তীব্র এক আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরল।
আয়না আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করল না। মাহিরের গায়ের টি-শার্টটা ঘামে একদম লেপ্টে আছে, এই অবস্থায় ওটা গায়ে থাকলে জ্বর আরও বসে যাবে। সে দ্রুত ওর টি-শার্টটা খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল।
কিন্তু কাজটা মোটেও সহজ হলো না। অবচেতন অবস্থার মাঝেই মাহির বাধা দিতে শুরু করল। বস্ত্রহরণের সে খুবই অপমানিত বোধ করল। তার গায়ের জোর তখনো কিছুটা অবশিষ্ট আছে। এই মাঝরাতে অবাধ্য স্ত্রী এসে তার গায়ের কাপড় টানছে বিষয়টা সে মোটেও পছন্দ করছে না।
তার চোখ দুটো আধবোজা, মুখটা ভীষণ রাগী আর গোমড়া হয়ে আছে। অন্য কোনোদিন হলে এই কঠিন তপ্ত লোকটার এমন গোমড়া মুখ দেখে হয়তো আয়নার মনে মনে একটু মায়াই লাগত বা সে একটু হাসত, কিন্তু এখন তার মাথায় শুধুই আতঙ্ক।
সে টেবিল থেকে ওর রুমালটা তুলে নিয়ে পানির বোতলের পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিল। তারপর মাহিরকে চেপে ধরে ওর শরীরটা মুছিয়ে দিতে লাগল। ঠান্ডা ভেজা কাপড়ের স্পর্শ পেতেই মাহির কুঁকড়ে গেল। সে কাঁপতে কাঁপতে আপত্তি জানাল, উঁহু... ঠান্ডা। সরো তো। লাগবে না।
সে আয়নার বাঁধন থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আয়না এবার কোনো কথা শুনল না। সে নিজের পুরো শক্তি দিয়ে মাহিরকে বিছানায় চেপে ধরে রাখল এবং জোর করেই ওর গা মুছিয়ে দিতে লাগল। মাহির বিছানার এক কোণে কাঁপতে কাঁপতে গায়ের সবটুকু জোর দিয়ে বিড়বিড় করে অনবরত অভিযোগ আর গজগজ করে যেতে লাগল। গ্রামে বিয়ে খেতে যাওয়াই তার কাল হয়েছে! একটা আস্ত পাষানী নিয়ে এসেছে ঘরে!
গা মোছানো শেষ করে আয়না ভেজা রুমালটা ভাঁজ করে ওর কপালে জলপট্টি হিসেবে বসিয়ে দিল। মাহির সাথে সাথে কপাল কুঁচকে হাত বাড়িয়ে ওটা ফেলে দিতে চাইল।
আয়না ওর হাতটা চেপে ধরে ধমকের সুরে বলল, একদম নড়াচড়া করবে না বলছি! ভালোয় ভালোয় চুপচাপ শুয়ে থাকো।
মাহির মুখটা অন্যপাশে ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল, সে আয়নার দিকে তাকাতেও রাজি নয়। কিন্তু আয়না ওর চিবুক ধরে আবার মুখটা সোজা করে দিল।
আয়না হঠাৎ চিন্তিত বলে উঠল,
একটা মিসড কল দেওয়ারও কি খুব ঝুঁকি হয়ে যাচ্ছিল তোমার জন্য? ফোনটা তো কাছেই আছে! এত খারাপ লাগছে সেটা বলা যেত না?
মাহির কিছুক্ষণ একদম চুপ করে রইল। ঘোর আর জ্বরের মাঝে কথাগুলো বুঝতে ওর কিছুটা সময় লাগছে। তারপর সে ভীষণ গোমড়া গলায় বিড়বিড় করে বলল,
আমি তোমায় মোট তেষট্টিবার ফোন করেছিলাম... তেষট্টিবার। তুমি একটাও ধরোনি। তাহলে আমি কেন আবার করতে যাব, বলো?
কথাটা বলেই মাহির আবার আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। আর আয়না ভেজা রুমালটা হাতে নিয়ে পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তেষট্টিবার! লোকটা তাকে তেষট্টিবার খুঁজেছিল, আর সে!
বুকের ভেতরটা তীব্র এক অপরাধবোধে আর মায়ায় মুচড়ে উঠল আয়নার। সে আবার আলতো করে রুমালটা ওর কপালে বসিয়ে দিল।
—————
কয়েক মিনিট পর আয়নার হঠাৎ মনে হলো মাহির রাতের ওষুধগুলো মনে হয় একটাও খায়নি। কিন্তু এই খালি পেটে এত কড়া কড়া ওষুধ খাওয়ালে সমস্যা বেড়ে যাবে। সে স্থির করল নিচে গিয়ে চট করে ওর জন্য হালকা কিছু খাবার নিয়ে আসবে। কিন্তু সে বিছানা থেকে উঠতে গেলেই বিপত্তি ঘটল। মাহির অবচেতনেই হাত বাড়িয়ে খপ করে আয়নার শাড়ির আঁচলটা মুঠো করে ধরে ফেলল। মুখ ফুটে সে কোনো কথা বলল না, চোখও মেলল না। কিন্তু হাতের বাঁধনটা এমন শক্ত যে কোনোমতেই সে আয়নাকে ছাড়তে রাজি নয়।
ওর এই আকুলতা দেখে আয়নার বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠল। সে ওর বিছানার পাশে একটু ঝুঁকে বসল, তারপর ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে খুব নরম স্বরে বলল, আমি কোথাও যাচ্ছি না। এক মিনিটের জন্য নিচে যাচ্ছি, তোমার খাবার নিয়ে এখনই আসব। ছাড়ো?
মাহির মহা বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল।
আয়না চটজলদি নিচে নেমে গেল এবং রান্নাঘর থেকে খাবার একটা বাটিতে করে ওপরে নিয়ে এল। চিলেকোঠায় ফিরে এসে সে মাহিরের পাশে বসল, উঠে বসো, একটু খেয়ে নাও।
আয়না ডাল ভাত মাখতে মাখতে ওকে আলতো করে ধাক্কা দিল। মাহির চোখ না খুলেই মাথা নাড়ল, ও খেতে চাইছে না।
-নো!
-মাহির!
-প্লিজ আয়না?
-মাহির আহমেদ গেট আপ!
সে মুখটা ওপাশে ঘুরিয়ে বিড়বিড় করল, উঁহু... খাব না। ভালো লাগছে না।
খেতেই হবে। ওষুধ না খেয়ে এই জ্বরে সারা রাত ছটফট করবে নাকি? - আয়না বেশ কড়া গলায় বলল।
মাহির এবার চোখ মেলল। খুব ক্লান্ত আর গোমড়া মুখে সে আয়নার দিকে তাকিয়ে জড়িয়ে যাওয়া গলায় বলল, ইউ আর সো হার্টলেস! ক্রুয়েল।
মাহির যেন নিজের অভিযোগের খাতা খুলে বসল। এই তীব্র জ্বরের মাঝেও ওর এই নিখুঁত হিসাব আর গাল-ফুলিয়ে রাখা অভিমানী রূপটা দেখতে বড্ড মায়াবী লাগছিল।
আয়না আলতো হেসে মুখের কাছে লোকমা ধরল, কবুল বলে ফেলেছ এখন আর এসব বলে লাভ নেই। এখন চুপচাপ মুখ খোলো। আ?
মাহির আর আপত্তি না করে বাচ্চার মতো প্রথম গ্রাসটা মুখে নিল। আয়না ওকে আরও দু-তিন বার খাইয়ে দিল। কিন্তু ঠিক তখনই ঘটল অঘটনটা।
হুট করেই মাহিরের পেটটা মোচড় দিয়ে উঠল। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র বমি করে ফেলল। খাবার আর তরল এসে পড়ল ওর নিজের বুকে, বিছানায় এবং আয়নার শাড়ির আঁচলে।
মুহূর্তের মধ্যে মাহিরের মুখের সমস্ত অভিমান আর রাগ ধুয়ে মুছে গেল। সে প্রচণ্ড লজ্জিত আর অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। এই জ্বরের ঘোরেও তার চোখ দুটো অপরাধবোধে ভরে উঠল, সে খুব জড়সড় হয়ে বলল, আই অ্যাম... সরি। আমি আসলে বুঝতে পারিনি..
আয়না অবশ্য এইসবে বিন্দুমাত্র বিরক্ত হলো না। সে একদম স্বাভাবিক রইল। মাহিরকে শান্ত করার জন্য সে নরম গলায় বলল, “আরে ঠিক আছে, কিচ্ছু হয়নি। তুমি এত ব্যস্ত হচ্ছ কেন? চুপচাপ বসো তো।
সে প্রথমে একটা ভেজা তোয়ালে দিয়ে মাহিরের শরীরটা আবার খুব ভালো করে মুছে দিল। বিছানার চাদরের নোংরা অংশটা বদলে দিল। পুরো সময়টায় মাহির একদম চুপচাপ অপরাধীর মতো বসে রইল।
আয়না ওষুধের প্যাকেট থেকে ট্যাবলেট বের করে ওর দিকে এগিয়ে দিল, খাবার যতটুকু পেটে গেছে, তাতেই হবে। এখন এই ওষুধগুলো খেয়ে নাও।
মাহির বাধ্য ছেলের মতো ওষুধগুলো গিলে নিয়ে আবার বিছানায় শুয়ে পড়ল।
এবার আয়না নিজের দিকে তাকাল। ওর শাড়িটা বেশ ভালো রকমের নষ্ট হয়েছে, এটা বদলে ফেলা দরকার। কিন্তু এই অবস্থায় মাহিরকে একা ফেলে নিচে নিজের ঘরে যেতে ওর মন চাইল না। যদি এই ফাঁকে আবার ওর জ্বর বাড়ে? সম্ভাবনা কম কিন্তু হতে হতে পারে!
সে ঘরের আলমারিটা খুলে শাড়ি বের করল। আয়না ঘর থেকে বেরুনোর ঝুঁকি নিল না। মাহির তো, অন্যদিকে ফিরেই আছে। সে মাহিরের দিকে পেছন ফিরে, দেয়ালের দিকে মুখ করে খুব দ্রুত নিজের কাপড়টা বদলে নিল। আশ্চর্যভাবে স্বামীর জন্য চিন্তায় সে সংকোচ বোধ করার সময়টুকু পেল না!
কাপড় বদলে সে আবার মাহিরের বিছানার পাশে এসে বসল। মাহিরের শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আয়না আবার ওর কপালে হাত রাখল উত্তাপ এখনো আছে, তবে আগের মতো অতটা চড়া নয়।
আয়না ভেজা রুমালটা ভালো করে চিপে মাহিরের কপালে বসিয়ে দিল। হাতটা কপালে ছোঁয়াতেই সে স্পষ্ট বুঝতে পারছিল, লোকটা ভেতরে ভেতরে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে। প্লাস্টার করা হাত আর পাঁজরের চোটের কারণে সোজা হয়ে শুতেও ওর বড্ড কষ্ট হচ্ছে।
মাহিরের মনটা একটু অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য আয়না আবার সেই হাতপাখাটা তুলে নিল। খুব আলতো করে, পরম যত্নে সে বাতাস করতে লাগল ওকে। নিজের ভেতরে অসহায়ত্বটা আয়নাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। কেন সে এই মানুষটার কষ্টটুকু নিজের গায়ে টেনে নিতে পারছে না? কেন তাকে শুধু এভাবে দূর থেকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হচ্ছে?
জ্বরের তীব্র আচ্ছন্নতার মাঝেও মাহির ঘুমানোর কোনো চেষ্টা করছিল না। সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে চোখ দুটো খোলা রাখতে। বারবার ভারী চোখের পাতা পিটপিট করে সে শুধু আয়নাকেই দেখার চেষ্টা করছে যেন চোখ বন্ধ করলেই এই অবয়বটা আবার কোথাও হারিয়ে যাবে।
ওর এই করুণ চেষ্টা দেখে আয়নার খুব মায়া হলো। সে নিজের বাম হাতের নরম তালুটা খুব আলতো করে মাহিরের দুই চোখের ওপর রাখল। ওর চোখ দুটো বুজিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
ঘুমানোর চেষ্টা করো, মাহির। আমি এখানেই আছি। তখন দেখবে তোমার শরীর ভালো লাগছে। কথা শোনো আমার?
মাহির চোখের ওপর রাখা আয়নার হাতের নিচ থেকেই ভাঙা গলায় বিড়বিড় করে উঠল,
কিন্তু তুমি তো চলে যাবে... আমি তোমাকে একদম বিশ্বাস করি না।
খুব ছোট, একদম বাচ্চার মতো এক অভিমানী অভিযোগ। এই একটা কথা আয়নার বুকের কোথাও যেন একটা ওলটপালট করে দিল। তার সমস্ত প্রাচীর এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
আয়না আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে খুব ধীরে ধীরে মাহিরের মুখের ওপর ঝুঁকে এল। প্রথমে ওর তপ্ত কপালে নিজের ঠোঁট দুটো ছোঁয়াল।সেভাবেই থাকলো অনেকক্ষণ!
তারপর পরম নির্ভরতায় ওর বন্ধ থাকা দুটো চোখের পাতায় একে একে এঁকে দিল ভালোবাসার পরশ।
সে মাহিরের কানের খুব কাছে নিজের মুখটা নিয়ে এল। ওর চুলে আঙুল ডুবিয়ে খুব শান্ত ও আদুরে গলায় বলল,
তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি, মাহির।
মাহির নড়ল না। কেবল ওর নিঃশ্বাসের গতিটা একটু ধীর হলো।
আয়না বলতে লাগল,
আমি হয়তো এই ঘর থেকে এক মিনিটের জন্য বের হব, কিংবা হয়তো এক ঘণ্টার জন্য। আমি হয়তো ওয়াশরুমে যাব, নয়তো রান্নাঘরে। আমি হয়তো স্কুলে যাব, কখনো বাজারে যাব, হাসপাতালে যাব, কিংবা হয়তো কখনো নিজের গ্রামেও চলে যাব…
সে একটু থামল। ওর গলার স্বর আবেগে কাঁপছে, কিন্তু তাতে দৃঢ় নিশ্চয়তা আছে,
কিন্তু দিনশেষে, একটা সময়ে আমি ঠিক এই ঘরেই ফিরে আসব। ঠিক তোমার পাশেই এসে বসব। কারণ মানুষ দিনভর যেখানেই ঘুরুক না কেন, দিনশেষে সে সবসময় নিজের ঘরেই ফিরে আসে। আর তুমি, মাহির আহমেদ... তুমিই হলে আমার সেই ঘর।
·
·
·
চলবে……………………………………………………