ভাঙা আয়নার আলো - পর্ব ১৬ - শারমিন আক্তার সাথী - ধারাবাহিক গল্প

ভাঙা আয়নার আলো - শারমিন আক্তার সাথী
          ঘরটা নিঃশব্দ। জানালার ফাঁক গলে আসা আলো মেঝেতে লম্বা ছায়া ফেলে রেখেছে। বাইরে হালকা বাতাসে পর্দা দুলছে, কিন্তু ভেতরের স্থিরতা যেন কোনোভাবেই ভাঙতে পারছে না। মুখোমুখি বসে আছে ফারিস আর জবা। দুজনার মাঝখানে জমে আছে অগণিত না বলা কথা। জমে আছে প্রশ্নেরা। যারা উত্তর খুঁজে বেরাচ্ছে।

ফারিস অবশেষে নীরবতা ভাঙল। বলল,
'এমনটা করার কারণ কী ছিল, জবা?'
জবা ভ্রু তুলল, শান্ত স্বরে বলল,
'কেমনটা?'
'কাল অফিসে যা করলি।'

জবার ঠোঁটে হালকা বাঁকা হাসি। বলল,
'ভুল কিছু করেছি কী?'
ফারিস কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল,
'আমি যে তোর ভরসা রক্ষা করতে পারব, তার গ্যারান্টি কী?'

জবার চোখ নরম হয়ে এল। কণ্ঠে ভর করল অদ্ভুত এক নিশ্চয়তা। বলল,
'যে লোক একটা অনাথ বাচ্চাকে নিজের সন্তানের মতো বড় করতে পারে। সুশিক্ষা প্রদান করতে পারে। তার কাছে আমার মেয়েও নিরাপদ থাকবে। এটা আমি জানি। ভালো করেই জানি।'

কিছু মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গেল। দুজন চেয়ে রইল একে অপরের পানে। ফারিস আবার বলল,
'মেয়ের ব্যাপারটা বুঝলাম, কিন্তু তোর ব্যবসা, অফিস এসব কেন?'

জবা এবার সোজা হয়ে বসল। ওর চোখে ভেসে উঠল অন্যরকম কঠোরতা। 
'লিখে তো দেইনি। শুধু ক্ষমতা দিয়েছি। তা-ও আমার অবর্তমানে।'
একটু থামল জবা। তারপর ধীরে, ভারী স্বরে বলল,
'ইরফানের সাথে যে খেলায় আমি নেমেছি
তার পরিণতি তেমন বিশেষ ভালো হবে না তা আমি জানি।'

ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।
'আমি আমার উকিলকেও সব বলে রেখেছি।
আমার কিছু হলে, আপনিই শুধু জারার খেয়ালই রাখবেন। ইরফানের ছায়াও যেন ওর ওপর না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।'

জবার কণ্ঠে এবার আরও স্পষ্ট কঠোরতা। বলল,
'প্রয়োজনে সব বিক্রি করে জারাকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবেন। তবুও ওই লম্পটটার ছায়া আমার মেয়ের গায়ে লাগতে দিবেন না।'

ফারিস কাঁপা হাতে জবার হাতের উপর হাত রাখতে চাইল। থরথর করে কাঁপছে ওর হাত। তা দেখে জবা হালকা হেসে নিজেই ফারিসের হাত মুঠোবন্দি করল। ফারিস বলল,
'তোর কিছু হবে না। আমি তোর সাথে আছি। তুই নিজেই তোর মেয়েকে বড়ো হতে দেখবি।'

জবা কিছু বলল না। শুধু তার হাতটা আরও শক্ত করে ধরল। নীরবতা আবার ফিরে এলো।
কিন্তু এবার সেই নীরবতায় অদ্ভুত এক উষ্ণতা মিশে আছে। কিছুক্ষণ পর ফারিস আবার বলল,
'একটা কথা জিজ্ঞেস করি?'
'বলুন।'
'তোর প্রতিশোধ নেওয়া শেষ হলে তুই ইরফানকে ছেড়ে দিবি?'
'হ্যাঁ।'
'তারপর?'
জবার চোখ দূরে কোথাও থেমে গেল। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
'একটা শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করব আমি আর জারা।'

ফারিস কিছু বলতে নিয়েও থামল। কথাটা বলা উচিত কি না, দ্বিধা কাজ করল ভেতরে।
তবু শেষমেশ নিজেকে থামাতে পারল না।
'আমাকে আর ফিরনাসকে তোদের জীবনের সাথে যোগ করবি?'

জবা বিস্ময়ে তাকাল। কিছু বলল না।
ফারিসও চুপ হয়ে গেল। কিন্তু হঠাৎ ওর শরীর কেঁপে উঠল। অদ্ভুত এক শীত নামছে শরীরে।
যেন জ্বর এসে পড়বে এখনই। এই অনুভূতিটা নতুন নয়। যেদিন থেকে জবাকে ভালোবেসেছে,সেদিন থেকেই এই অদ্ভুত দুর্বলতা তার সঙ্গী।

জবার স্পর্শ পেলেই ওর ভেতরের সবকিছু কেঁপে ওঠে। জবা সেটা টের পেল।
চোখ সরু করে তাকাল কিছুক্ষণ। তবে কিছু বলল না। হাসল মনে মনে। 

ঘরের ভিতরের বাতাসটা কেমন ভারী হয়ে উঠেছে। ফারিসের অস্থির লাগছে। অস্থিরতা কাটাতে বলল,
'বাইরে চল।'

জবা উঠে বাইরে আসল। বাইরে জারা, ফিরনাস এবং ফরহাদের ছেলে আয়ান, মেয়ে অয়নি খেলছে। কমলা সুন্দরী সর্তক দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। ফাঁকে ফাঁকে চারপাশেও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। জারা আর ফিরনাসের মধ্যে খুবই ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। দুজন সমবয়সী হলেও ফিরনাস জারাকে বোন ডাকে আর জারা ফিরনাসকে ভাই ডাকে। ফারিসই ওদের এটা শিখিয়েছে। 

ফিরনাস জারাকে বলল,
'বোন চলো অনেক খেলেছি এবার কিছু খাওয়া যাক।'

পাশেই মোস্তফা হোসেন নাতিদের জন্য বিভন্নরকম কেক, কুকিস, জুস নিয়ে অপেক্ষা করছেন। খেলা শেষ করে সবাই তার কাছে গেল। তিনি যত্ন করে নাতিদের খাবার খাওয়াতে লাগল।

জবা সবসময়ই একটা ভরা সংসার চেয়েছিল। মানুষে মানুষে ভরা, হাসি-আড্ডায় ভরা। যেখানে একা হওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। ইরফানকে ভালোবাসার পর যখন শুনল, ওর জীবনে মায়ের বাইরে আর কেউ নেই, তখন বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠেছিল। ছোট্ট একটা হতাশা এসে ছুঁয়ে গিয়েছিল ওকে। তবু নিজেকে বুঝিয়েছিল, মানুষ বেশি হলেই তো সংসার সুন্দর হয় না।
যারা আছে, তাদের নিয়েই গড়া যায় একটা পূর্ণতা।

বিয়ের পর প্রথম দু’বছর সেই মানুষটিই ছিল জবার অনেক কাছের। ইরফানের মায়ের
স্নেহে, যত্নে জবা আরেকটা মা খুঁজে পেয়েছিল।

তারপর একদিন স্ট্রোক করে মারা গেলেন। সেদিন জবার মনে হয়েছিল নিজের মাকেই হারিয়েছে। শূন্যতা নেমে এসেছিল চারপাশে।
তবু সেই স্মৃতিগুলো ছিল উষ্ণ ভালোবাসায় ভরা।
কিন্তু আজ এ স্থানে এসে সবকিছু যেন প্রশ্নবিদ্ধ। ইরফানের মিথ্যা ভালোবাসার মুখোশ খুলে যাওয়ার পর, জবা যেন আর কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারে না।

হঠাৎ করেই মনে হয়। ওই স্নেহ, ওই মমতা
সবই কিছুই অভিনয় ছিল? ছিল কৃত্রিম। না কি সত্যিই ছিল ভালোবাসা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না ও।

চারপাশটা কেমন অদ্ভুত লাগে। যেন সবকিছু মিথ্যার আবরণে মোড়া। হাসিগুলো কৃত্রিম, কথাগুলো সাজানো। ভালোবাসাগুলোও যেন 
অভিনয়ের মতো নিখুঁত, কিন্তু ভেতরে ফাঁপা।

ইরফানের এত মিথ্যার ভিড়ে জবার চোখ এখন আর সহজে বিশ্বাস করতে পারে না কিছুই। সত্যিকারের ভালোবাসা সামনে এলেও, ওর মনে প্রথমে জন্ম নেয় সন্দেহ।
যেন ভালোবাসা এখন আর অনুভব নয়,
বরং একটা পরীক্ষা। যেখানে প্রতিটা স্পর্শ, প্রতিটা কথা যাচাই করতে হয়।

এই ভিড়ের মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া, এখন ওর কাছে
পরশ পাথর পাওয়ার মতোই বিরল। আর ও দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মিথ্যার মাঝখানে,
একটা সত্যের খোঁজে।

চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে জবা, জারাকে ডেকে বলল,
'চলো মা। বাড়ি যাব।'
'নো মা। আমার এখানে খুবই ভালো লাগে। এখানেই থাকতে চাই।'
'আবার আসব শোনা৷ আজ চলো মায়ের কাজ আছে।
মোস্তফা হোসেন বলল,
'জবা, তুমি যাও। ও থাক আমাদের সাথে প্লিজ।'
জবা খানিক বিভ্রান্ত হলো৷ এ সময় জারাকে এখানে রাখা অনিরাপদ নয়। তবুও কেমন যেন লাগছে। ফারিস বলল,
'কমলা আপু তো আছেই। তাছাড়া আজ ওদের স্কুল বন্ধ। আর তুই যাবি এখন অফিসে। ও এখানে থাক।'

ফারিসের কথায় না করতে পারল না জবা। ও গাড়ি নিয়ে চলে এলো।

কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎই জবার কপালে ভাঁজ পড়ল। পা বারবার ব্রেকে চাপছে। কিন্তু গাড়ি থামছে না। এক সেকেন্ড। দুই সেকেন্ড।
তারপরই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। আনমনে বলল,
'শিট!'
স্টিয়ারিং-এ জোরে একটা থাপ্পড় মারল জবা। বলল,
'এত বড় ভুল কী করে করলাম!'

মুহূর্তেই ওর চোখে ভেসে উঠল কয়েক মিনিট আগের দৃশ্য। গাড়ির পাশ দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাওয়া সেই লোকটা। যেন কিছু একটা করছিল। তখন গুরুত্ব দেয়নি। ভাবতেই পারেনি, ফারিসের বাড়ির কাছ থেকে কেউ তাকে মারার পরিকল্পনা করতে পারে। কিন্তু এখন সবকিছুই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

গাড়ির গতি বাড়ছে। হাওয়ার শব্দ কানে বাজছে তীব্রভাবে। জবা দ্রুত ফোন বের করল। ফারিসকে কল করল,
'ফারিস ভাই!'
'বল!'
'আমার গাড়ির ব্রেক ফেইল হয়েছে! যে কোনো সময় অ্যাকসিডেন্ট হতে পারে।'
ফারিসের কণ্ঠে সাথে সাথে আতঙ্ক নেমে এল। বলল,
'এখন কোথায় তুই?'
'আপনাদের বাড়ির চৌমাথা থেকে দক্ষিণে যে রাস্তা গেছে সেদিকে যাচ্ছি। সামনেই একটা খোলা মাঠ আছে। দেখি, সেখানে নিয়ে থামাতে পারি কি না।'
'তুই যা! আমি আসছি এখনই!'

জবার হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। জবা স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরল। চোখ স্থির। মাথা ঠান্ডা রাখার প্রাণপণ চেষ্টা। গাড়িটা মোড় নিল। রাস্তা ছেড়ে ঢুকে পড়ল খোলা মাঠে।
বালির একটা বড় স্তুপ চোখে পড়তেই, সে সোজা সেটার দিকে গাড়ি চালাল। স্বজোরে ধাক্কা লাগল বালির স্তুপে। গাড়ি থামার বদলে হঠাৎই উল্টে গেল। মুহূর্তের জন্য সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল।

তারপর অভ্যাসগত দ্রুততায় জবা জানালা দিয়ে বেরিয়ে এল। মাটিতে গড়িয়ে পড়ে উঠে দাঁড়াল। চারপাশে লোকজন ছুটে আসছে ওর দিকে।
'দূরে যান!'
চিৎকার করে উঠল জবা।
'গাড়ি ব্লাস্ট করতে পারে, দূরে যান সবাই!'

ওর কণ্ঠে এমন দৃঢ়তা ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পেল না। সবাই ছুটে সরে গেল।
জবাও অনেক দূরে পিছিয়ে গেল।
কয়েক মুহূর্ত চলে গেল। তারপরই বিস্ফোরণ হলো। প্রচণ্ড শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠল।
আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়ে উঠল।
জবার শরীর অনিয়ন্ত্রিতভাবে কেঁপে উঠল।
চোখে প্রতিফলিত হলো সেই আগুন। যেন মৃত্যু ঠিক একটু আগেই তাকে ছুঁয়ে ফিরে গেছে।
চারপাশের মানুষ হতভম্ব। কেউ কথা বলতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর। হাঁপাতে হাঁপাতে সেখানে পৌঁছাল ফারিস।

জবা তখনও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। নিজের কথা ভুলে গেছে। প্রথম প্রশ্ন করল,
'জারা কোথায়? ও ঠিক আছে?'
ফারিস দ্রুত বলল,
'হ্যাঁ। কমলা আপুর সাথেই আছে।'

এক লম্বা নিঃশ্বাস বেরিয়ে এল জবার বুক থেকে। হঠাৎ করেই ওর পা যেন আর শক্তি ধরে রাখতে পারল না। মাটিতে বসে পড়ল।
নিচু স্বরে বিড়বিড় করে বলল,
'আজ যদি ফুপা আর ফারিস ভাইয়ের কথায় জারাকে রেখে না আসতাম তাহলে কী হতো...?'

কথাটা শেষ করল না। ফারিস তার পাশে বসে পড়ল উদ্বীগ্ন কণ্ঠে বলল,
'গাড়ির ব্রেক ফেইল কী করে হলো?'
জবা ধীর কণ্ঠে বলল,
'আপনাদের বাড়ি যখন এসেছিলাম, তখন ঠিকই ছিল। বের হওয়ার সময় একটা লোককে দেখলাম গাড়ির পাশে। সন্দেহ হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্ব দেইনি'

ফারিস কপালে হাত ঠেকাল। রাগ, ভয়, অসহায়তা একসাথে মিশে গেছে কণ্ঠে। বলল,
'তুই পাগল, জবা? এখন যে পথে তুই হাঁটছিস প্রতিটা কদম ভেবে ফেলতে হবে তোকে!
এক কদম এদিক ওদিক হলেই তোকে প্রাণ হারাতে হবে!

কিছুক্ষণ চুপ রইল জবা। তারপর ধীরে, ক্লান্ত স্বরে বলল,
'হ্যাঁ। কয়েক মুহূর্তের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম আমার জীবনটা আর পাঁচটা সাধারণ মেয়েদের মতো না।'

দূরে আগুন জ্বলছে এখনো। আর সেই আগুনের লাল আলোয় জবার চোখে স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটাই সত্য, এই লড়াইয়ে
ভুল করার কোনো সুযোগ নেই।

—————

বাড়ি ফিরল জবা৷ কপালে, হাতে ব্যান্ডেজ৷ গাড়ি অ্যাকসিডেন্টের সময় এতটাই মানসিক ট্রমায় ছিল যে, নিজের শরীরের ব্যথার দিকে খেয়াল দিতে পারেনি। কিছু সময় পর যখন ধাতস্থ হলো তখন শরীরের অনেক স্থানেই ব্যথা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। বাম হাতে হালকা ফ্র্যাকচার হয়েছে৷ কপাল ফেটে গেছে। তাছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে চোট পেয়েছে।

দূর্ঘটনার পর ফারিস ওকে নিয়ে সোজা হসপিটালে যায়৷ কিছু পুলিশী ঝামেলাও পোহাতে হয়। সে ঝামেলা অবশ্য জবার উকিল সামলে নিয়েছে। হসপিটাল থেকে সকল চিকিৎসা নিয়ে জবা বাড়ি ফিরল। সাথে ফারিস। জারাকে নিয়ে কমলা আগেই জবার বাবার বাড়ি চলে গেছে। আজ সেখানেই থাকবে ওরা।

আহত জবাকে দেখে ইরফান খানিক অবাক হলো৷ উদ্বীগ্ন কণ্ঠে বলল,
'কি হয়েছে তোমার? এমন অবস্থা কেন?'
আবেগহীন কঠিন কণ্ঠে জবা বলল,
'উদ্বীগ্ন হওয়ার এত নাটক করে লাভ নেই। ছোটো একটা দূর্ঘটনা মাত্র।'
'জারা কোথায়? ও ঠিক আছে?'
'হ্যাঁ সেইভ জায়গায়ই আছে।'

জবা রুমে না গিয়ে সিনথিয়াকে ডাকল। সিনথিয়া আসার পর জবা তীক্ষ্ণ নজরে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। জবার এ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বড্ড ভয় পায় সিনথিয়া। ও আমতা আমতা করে বলল,
'বলুন।'
'আজকের আমার কার অ্যাকসিডেন্ট তুমি করাওনি তো?'
সিনথিয়া বেশ অবাক হলো৷ বলল,
'কিসের অ্যাকসিডেন্ট?'
'আচ্ছা যাও।'

জবা আর কোনো কথা না বলে রুমে গেল। ফারিস ওকে অনুসরণ করল। রুমে যাওয়ার পর ফারিস বলল,
'সিনথিয়া করেছে কী এসব?'
'না। ওর পিছনে আমার লোক লাগানো আছে। আপনার বাড়ির আসে পাশের সিসিটিভি ফুটেজে ঐ লোকটার ছবি পেয়েছেন?'
'না। খুবই সতর্কতার সাথে ক্যামেরা এড়িয়ে গেছে।'
'সমস্যা নেই। বের করে ফেলব।'
'ইরফান করেনি তো?'

'না। ইরফান জানত জারা আমার সাথে থাকবে৷ আর জারা আমার সাথে থাকাকালীন ও এমন কখনো করবে না। আর ইরফান এমনিও আমায় জানে মারতে পারবে না। ও জানে আমি মরলে ও এমনি ফিনিশ হয়ে যাবে। তো ও এমনটা কখনো করবে না। এখন দুজনার প্রতি সন্দেহ যায় মন্ত্রী এহসান সাহেব আর কোয়েল। আমি তাদের খোঁজ নিচ্ছি।'
'আমার কোনো হেল্প লাগবে?'
'আপাতত না।'
'হাত ভেঙে ফেললি এখন সব সামলাবি কী করে?'

স্মিত হাসল জবা। বলল,
'ম্যানেজ করে ফেলব।'
'আচ্ছা আমি তাহলে আসছি। নিজের খেয়াল রাখিস।'
'আচ্ছা।'

ফারিস বেরিয়ে যেতেই ঘরটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল। এক ধরনের ভারী নীরবতা যেখানে প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা নিঃশ্বাস পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যায়। জবা বালিশে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করল। সারাদিনের ক্লান্তি আর শরীর ব্যথায় এখন চোখ শরীরের সঙ্গ দিচ্ছে না।

তখন দরজাটা ধীরে খুলে ভেতরে ঢুকল ইরফান। ওর উপস্থিতির সাথে সাথে যেন বাতাসের তাপমাত্রাও বদলে গেল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল ইরফান,
'ফারিস আজকাল তোমার সাথে বেশি থাকে কারণ কী?'
জবা তাকাল না। তবে শান্ত, ঠান্ডা স্বরে বলল,
'সেটা তোমার না জানলেও চলবে।'

ইরফানের চোখে হালকা আগুন জ্বলে উঠল।
এক পা এগিয়ে এসে বলল,
'ভুলে যাচ্ছো তুমি এখনও আমার স্ত্রী।'

জবা এবার তাকাল। ওর ঠোঁটে ফুটল এক শীতল হাসি। যেখানে ব্যঙ্গ আছে, আছে বিদ্রুপ আর তীব্র ঘৃণা। বলল,
'না, ভুলিনি।'
ধীরে ধীরে বলল ও, 'ভুলিনি তুমি আমার স্বামী। ভুলিনি কীভাবে দিনের পর দিন তুমি আমায় ঠকিয়েছে।'

ওর কণ্ঠে জমে থাকা ক্ষতগুলো যেন একে একে বেরিয়ে আসতে লাগল। বলল, 'আমার বিশ্বাস, ভালোবাসাকে কত যত্ন করে ধ্বংস করেছো৷ ভুলিনি কিছুই আমি।'
শোয়া থেকে উঠে এক পা এগিয়ে এল জবা। চোখ দুটো জ্বলছে ওর। ইরফানের চোখে চোখ রেখে বলল,
'কখনো কোয়েল, কখনো সিনথিয়া, কখনোবা অন্য নারীর কাছে গিয়ে আমাকে প্রতিনিয়ত ছোটো করেছো, অপমান করেছো। কিছুই ভুলিনি৷ এ জীবনে ভোলাও সম্ভব নয়।'

ঘরের বাতাস ভারি হয়ে উঠল। ওর কণ্ঠ এবার আরও নিচু, কিন্তু ভয়ংকর দৃঢ়। বলল, 'তাই আমার কাছে স্বামী হওয়ার হ্যাডাম দেখিও না। তোমার এ অহংকার ভাঙতে আমার দুইমিনিও সময় লাগবে না।'

তারপর কয়েকমুহূর্ত থামল জবা। তারপর ধীরে, তীক্ষ্ণ স্বরে বলল, 'তুমি আমাকে এক জীবনে ভোলা যাবে না এমন কষ্ট দিয়েছো। কষ্টে কষ্টে আমাকে ভেঙে চুরমার করেছো।'

এ কথা বলার পর জবার চোখে অদ্ভুত এক আগুন জ্বলে উঠল। তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল,
'তবে জেনে রেখে আমি যদি ভেঙে হাজারো টুকরো হই, সেই প্রতিটি টুকরো থেকে একটা করে জবা জন্ম নিবে আর প্রতিটি টুকরো তোমাকে শেষ করবে।'

নীরবতায় কয়েক সেকেন্ড কেটে গেল। যেন সময় থমকে আছে। ইরফান চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর হঠাৎ প্রসঙ্গ পাল্টাল,
'অ্যাকসিডেন্ট কীভাবে হলো?'
'কেউ গাড়ির ব্রেক ফেইল করে দিয়েছিল।'
'কে?'
'তোমার রাখা রক্ষিতাদের মধ্যেই হয়তো কেউ করেছে। নয়তো এ কাজ কে করবে? তুমিও তো করতে পারো।'

ইরফান যেন আঘাত পেল জবার কথায়। বলল,
'আমি...! আমি তোমায় মারতে চাইবো তা তোমার মনে হয়?'

জবা হাসল। সে হাসি শীতল এবং নিষ্ঠুর। বলল,
'আমাকে মারার তোমার আর বাকিওবা আছে কী? মনটাকে তো মেরে ফেলেছোই। শরীরটা মারলে তেমন বিশেষ কষ্ট হবে না।'

ইরফান ধীরে এসে জবার কাছে বসল। ওর ভাঙা হাতটা আলত করে হাতের মুঠোয় নিয়ে নরম কণ্ঠে বলল,
'আমি তোমায় ভালোবাসি জবা। সত্যি তোমায় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।'

জবা হাসল। পরমুহূর্তেই এক দলা থু থু ইরফানের মুখে মেরে বলল,
'বের হয়ে যাও এক্ষুনি। তোমার কথা, তোমার চরিত্র থেকে ঠিক কী পরিমাণ গন্ধ বের হচ্ছে তুমি ভাবতেও পারবে না। দূর হও আমার চোখের সামনে থেকে।'

ইরফান স্তব্ধ হয়ে গেল। ও ভেবেছিল জবার এ দুঃসময়ে ও অনুভূতি প্রবণ কথা বলে জবার মনে আবার প্রবেশ করবে। কিন্তু ইরফান জানে না জবা ওর জন্য মনের দরজা সেই কবেই বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু বন্ধ করেই দেয়নি সিল মেরে বন্ধ করে দিয়েছে। সে বদ্ধ দরজা খোলার যোগ্যতা এখন আর ইরফানের নেই। সে স্থান ও কবেই হারিয়ে ফেলেছে।

—————

জারা আসল পরের দিন দুপুরে সোজা স্কুল থেকে। এসেই জবার কাছে আসল। মায়ের হাতে, কপালে ব্যান্ডেজ দেখে ছোট্ট পরীটা জবাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। তার ছোটো ছোটো চোখ থেকে হীরার মতো অশ্রু বইতে লাগল। 

জবা ওর চোখের জল মুছে বলল,
'কী হয়েছে আমার পরীর? এমন কাঁদছে কেন?'
জারা নিঃশব্দে মায়ের ক্রোড়ে মুখ গুজে রইল। জবা নিচু হয়ে ওর মাথায় চুমু খেয়ে বলল,
'যাও মা জলদি ফ্রেশ হয়ে আসো। আমরা একসাথে দুপুরের খাবার খাব। অনেকদিন পর আমরা একসাথে লাঞ্চ করব।'

জারা তাও মাথা তুলল না। জবা ওর ছোট্ট মুখটা দুহাতে তুলে বলল,
'হোয়াট হ্যাপেন্ড সুইটহার্ট?'
'তুমি এত ব্যথা পেলে আর আমাকে বললেও না মা?'
'কই এত ব্যথা পেলাম। অল্প ব্যথা কদিনেই সেরে যাবে। চলো চলো এখন গোসল সেরে নিবে। কমলা ওকে গোসল করতে হেল্প করো।'
'জি আপু।'

কমলা জারাকে গোসল করানোর পর জবা বলল,
'যাও তুমিও গোসল সেরে আসো৷ আজ তুমিও আমাদের সাথে খাবে।'
কমলা হালকা হেসে বলল,
'জি ম্যাডাম।'

দুপুরে খাওয়ার টেবিলে জারা, জবা, কমলার সাথে ইরফানও ছিল। জবা জারাকে একবার খাইয়ে দিলো। জারা বলল,
'মা তোমার তো হাতে ব্যথা আমি খাইয়ে দি?'
জবা হেসে বলল,
'আচ্ছা।'

জারা তার ছোট্ট হাতে জবাকে খাইয়ে দিচ্ছে। জবা মনে মনে করুণাময়ের শুকরিয়া আদায় করল এমন একটি মেয়ে ওকে উপহার দেওয়ার জন্য। ইরফান মুগ্ধ হয়ে জারা আর জবার পানে তাকিয়ে রইল। মনে মনে বলল,
'আজকাল আমার কাছে কেউ নেই। জবা তো দূরে চলে গেছেই। ইদানীং জারাও দূরে চলে যাচ্ছে। আমি কি সত্যি এত খারাপ? দোষ কী সবই আমার?'

ইরফান জারার দিকে তাকিয়ে বলল,
'মামনি সব ভালোবাসা মাকে দিচ্ছো আমায় দিবে না?'
জারা মিষ্টি করে হাসল। বলল,
'আমি তোমায়ও ভালোবাসি বাবা।'

জারা ইরফানকেও খাইয়ে দিলো। তারপর বলল,
'বাবা, তুমি কেন আগের মতো আমাদের ভালোবাসো না?'

জারার এ প্রশ্নে জবা আর ইরফান দুজনারই বুক কেঁপে উঠল। বিশেষ করে ইরফানের বেশি খারাপ লাগল। তবে কি ইরফানের ভিতরে কিঞ্চিৎ হলেও মনুষ্যত্ব বেঁচে আছে! অনুশোচনা হয় ওর!

—————

ভাঙা হাতটা মাত্রই সারল জবার। এতদিন অফিসে তেমন একটা আসেনি। ওর বাবা নিয়মিত এসেছে। আর বাকি কাজ ও বাড়িতে বসে সামলেছে।
আজ নিজ স্থানে ফিরল জবা। আর অফিসে গিয়েই জবা প্রথমেই ডাকল কোয়েলকে৷

করিডোরের বাতাস যেন হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। কোয়েল অনেকদিন ধরেই এড়িয়ে চলছিল জবাকে। সেদিনের ঘটনার পর সাহসই হয়নি সামনে পড়ার। আজ আর উপায় নেই।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাত কাঁপছে কোয়েলের। অনেকটা ভয়ে ভয়ে দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে দরজায় টোকা দিলো। ভিতর থেকে জবা বলল,
'কাম ইন।'

দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল জবার মুখের সেই হাসি। কিন্তু সেই হাসিতে উষ্ণতা নেই। বরং এমন ঠান্ডা, এমন ধারাল যেন এক মুহূর্তেই রক্ত হিম করে দিতে পারে।
কোয়েল ভয়ে ঢোক গিলল। জবা বলল,
'বসো৷'

কোয়েল ধীরে বসে পড়ল। ওর বুকের ভেতর ধুকপুকানি যেন বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছে।
জবা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। তারপর খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়ে ফিসফিস স্বরে বলল,
'গাড়ির ব্রেক ফেইল করে আমাকে মারার প্ল্যানটা ভেস্তে যাওয়ার পর খুব খারাপ লাগছে, তাই না?'

এক মুহূর্তে কোয়েলের চোখ বড় হয়ে গেল।
মুখ শুকিয়ে গেল। মনে মনে ভাবল, 'জবা কী করে জানল! ওর তো জানার কথা না।'

জবা হালকা হাসল সেই একই শীতল হাসি। বলল,
'ভাবছো আমি কী করে জানলাম?'
একটু থামল ও। তারপর বলল,
'ভুলে যেও না আমি জবা চৌধুরী।'
ক্রমশ ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠল। জবা বলল,
'তুমি কী ভেবেছো তোমার সম্পর্কে কিছু জানি না আমি? কী উদ্দেশ্য তুমি আমার কোম্পানিতে জয়েন করেছিলে তা জানি না আমি? এ কোম্পানিতে তোমার জয়েন করার লক্ষই ছিল আমার ক্ষতি করার।'

কোয়েলের গলা কেঁপে উঠল। হালকা তোতলা কণ্ঠে বলল,
'কি...কী বলছেন আপনি এসব?'

জবা আবারও হাসল। শীতল হাসি। তবে চোখে এক ধরণের তীক্ষ্ণতা। কণ্ঠস্বর যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে বলল,
'তুমি কায়সারের ছোটো বোন কোয়েল না?'

ভয়ানকভাবে চমকে উঠল কোয়েল। জবা বলল,
'কী ভেবেছো আমার কোম্পানিতে আমি একজনকে জব দিবো, তার ব্যাগ্রাউন্ড না জেনেই? প্রথমে আমি অবশ্য ভাবিনি তুমি প্রতিশোধের উদ্দেশ্য এখানে এসেছো। তোমার ভাইকে আমি জেলে দেওয়ার পর তোমাদের পরিবারের অবস্থা সত্যি খারাপ ছিল। সে কারণে তোমাকে অনেক বেশি বেতন, সুযোগ সুবিধা দিয়ে তারপর এ কোম্পানিতে রেখেছি, যাতে তোমার জীবন সহজ হয়। কিন্তু তুমি প্রমাণ করে দিলে তুমি কায়সারের বোন। তোমার ভাই ছিল একটা রেপিস্ট আর তুমি তার বোন গনিকা।

ঘরের বাতাস যেন জমাট বাঁধল। জবা বলল,
'তোমার ভাই একটা মেয়ের জীবন ধ্বংস করেছিল। আমি তাকে তার প্রাপ্য শাস্তি দিয়েছিলাম।'

একটু থামল জবা। তারপর কোয়েলের চোখে চোখ রেখে বলল,
'তুমি চাইলে সেখান থেকে নতুন জীবন শুরু করতে পারতে। তুমি চাইলে বিষয়টা পজিটিভলি নিয়ে জীবন সুন্দর করতে পারতে। এ কোম্পানি তোমায় অনেক দিয়েছে। কিন্তু বিনিময়ে তুমি আমার স্বামীকে ফাঁসালে আমার ক্ষতি করার জন্য।'

কোয়েলের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। জবা ঝুঁকে এল। ওর কণ্ঠে নিখুঁত ঠান্ডা নিষ্ঠুরতা। বলল,
'পুরুষের সাথে শোয়ার এত শখ তোমাদের?
চিন্তা করো না সেই শখ আমি খুব শিগগিরই পূরণ করব।'

কোয়েল এবার ভেঙে পড়ল।
তার শরীর কাঁপছে, ঠোঁট কাঁপছে। ঘামছে প্রচুর। জবা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
'সেদিন যখন বুঝলে আমি তোমাকে শাস্তি দিব তখন আমাকে মারার পর্যন্ত ব্যবস্থা করলে। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে?'

জবার ঠোঁটে বাঁকা হাসি। তারপর কিছু মুহূর্তের নীরবতার প্রহর কাটিয়ে ওর কণ্ঠে নেমে এলো চূড়ান্ত রায়। বলল,
'তোমার আর সিনথিয়ার আমি এমন অবস্থা করব যে ইতিপূর্বে কোনো মেয়ে অন্য মেয়েদের সাথে এমন কিছু করেছে কি না আমার জানা নেই। নোংরা পরিষ্কার করতে হলে নোংরায় তো নামতেই হবে। আমাকেও তাই করতে হবে। তোমাদের দুজনার খুব শখ অন্যের স্বামীর সাথে শোয়ার। আজ থেকে রোজ তোমরা বিভিন্ন নারীর স্বামীর সাথে শোবে। তোমাদের দুজনকে আমি গনিকালয়ে পাঠাব।'

ভয়ে শিউরে কোয়েল। জবার চোখ বলছে ও হেয়ালী করছে না। যেন সত্যি করবে এটা। জবার পা ধরে বলল,
'এমন করবেন না ম্যাম। আপনি একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের সাথে এমন করতে পারেন না।'
'তোমরা পারলে আমি কেন পারব না।?'

কোয়েল জবার পা ধরে বসে পড়ল। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে জবা টেবিল থেকে একটা সাদা কাগজ তুলে আনল। বলল,
'ঠিক আছে। একটা সুযোগ দিচ্ছি। তবে আমি এখন একটা সাদা কাগজ দিব সেটায় সাইন করো। আর কোনো অপশন নেই। হয় এটায় সাইন করো। না হয় গনিকালয়ে যাও। নয়তো আমাকে মার্ডার করতে চাওয়ার দায়ে জেলে যাও। অপশন অনেক আছে তুমি বেঁছে নাও।'

ঘরে আবার নীরবতা নেমে এলো। কিন্তু এবার তা শ্বাসরুদ্ধকর। কোয়েলের হাত কাঁপছে।কলম ধরতেও কষ্ট হচ্ছে। শেষমেশ অসহায়ভাবে সাইন করে দিল সে। জবা চুপচাপ তাকিয়ে রইল। ওর চোখে কী চলছে
সেটা বোঝার ক্ষমতা কারও নেই। শুধু একটা বিষয় স্পষ্ট, এই খেলা এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে কারও জন্যই আর ফিরে যাওয়ার পথ খোলা নেই।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp