কালান্তরের কন্যা - পর্ব ০৯ - ইলমা বেহরোজ - ধারাবাহিক গল্প

কালান্তরের কন্যা - ইলমা বেহরোজ
          কাজলীকে যখন সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলো, তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে তিল ধারণের স্থান নেই। 

ভেতরের মেডিসিন ওয়ার্ডের পরিস্থিতিও বর্ণনা করার মতো নয়। শয্যা সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা সেখানে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। বেড পাওয়া তো দূরহ কল্পনা, ওয়ার্ডের লম্বা করিডোর ছাড়িয়ে সিঁড়ির অন্ধকার কোণ পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য। 

নিরুপায় হয়ে ওয়ার্ডের এক স্যাঁতসেঁতে কোণে, একটা পাতলা চাদর বিছিয়ে শোয়ানো হলো মরণাপন্ন কাজলীকে। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের মশারির নিচে রাখা বাধ্যতামূলক হলেও, উপচে পড়া ভিড় আর বিশৃঙ্খলার কারণে সেই নিয়ম মানার ফুরসত কারোরই নেই। 

মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া কাজলীর অবশ ডান হাতে কোনোমতে একটা স্যালাইনের ক্যানুলা পরানো হয়েছে। স্যালাইনের বোতলটি ঝুলিয়ে রাখার মতো একটা স্ট্যান্ডও খালি পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে সাহেব চাচা দেয়ালের একটা মরচে পড়া ভাঙা পেরেকের সাথে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বোতলটি ঝুলিয়ে দিলেন। ওপর থেকে টুপটুপ করে স্যালাইনের ফোঁটা নেমে কাজলীর নিস্তেজ শিরাতে মিশে ওর রক্তচাপ স্থিতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কে জানে, এই ছোট ছোট ফোঁটাগুলো ওকে কতক্ষণ বাঁচিয়ে রাখতে পারবে!

জোহরা মেয়ের কপালে অনবরত হাত বোলাচ্ছেন আর হাউমাউ করে কাঁদছেন। ডাক্তার জানিয়েছে কাজলী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ডেঙ্গুজ্বরেই তো কদিন আগে বস্তির দুটো মানুষ চোখের সামনে মরে গেল! মেয়েটা বিষ খেয়ে মরতে পারল না বলে কি আল্লাহ ও'কে এই ডেঙ্গুজ্বরে তুলে নেবেন?

উনার নিজের শরীরটাও আর চলছে না। তলপেটের ব্যথায় নাড়িভুঁড়ি যেন ছিঁড়ে আসছে। রক্তের স্রোত নেমে ভারী হয়ে উঠেছে প্যাড। তাদের দিকে তাকানোর মতো আপন কেউই নেই! জাহান্নাম কী এর থেকেও কঠিন হবে? 

মেয়ের কথা ভেবে জোহরা বেগম বেহায়া হলেন, সাহেব চাচার ফোনটা নিয়ে কল করলেন ইয়ামিনকে। মারিয়াম বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও, অভিমান আর আত্মসম্মানের কারণে জোহরা বা কাজলী কখনো ইয়ামিনকে কল করেনি। মা-মেয়ের জেদ একইরকম ছিল।

অচেনা নাম্বার হওয়াতে ওপাশ থেকে ইয়ামিন কলটা ধরল। জোহরা রুদ্ধশ্বাস গলায় ডাকলেন, “ইয়ামিন, বাবা, আমি তোর মা।”

কাজলীর ঝামেলায় পাছে নিজে ফেঁসে যায়, সেই ভয়ে ইয়ামিন কলটা কেটে দিল। জোহরা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে, এক বুক যন্ত্রণা… এক বুক ধিক্কার নিয়ে তিনি তার সবচেয়ে আদরের, সবচেয়ে যত্নে মানুষ করা ছেলে ইয়ামিনকে অভিশাপ দিলেন, এই কুলাঙ্গার যেন কোনোদিন আর তার মায়ের মুখ দেখতে না পারে! তিলে তিলে, প্রতিটা মুহূর্তে নরকযন্ত্রণা ভোগ করে যেন তার মৃত্যু হয়!

রাউন্ডে আসা একজন তরুণ ডাক্তার কাজলীর চোখের পাতা টেনে দেখলেন। ওর গায়ের প্রচণ্ড উত্তাপ টের পেয়ে তিনি সাহেব চাচার দিকে তাকালেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ল্যাব থেকে কাজলীর রক্তের রিপোর্টটি চলে এলো।

সেদিকে একপলক তাকিয়েই ডাক্তারের কপালে ভাঁজ পড়ল৷ বললেন, “ওনার কন্ডিশন কিন্তু বেশ ক্রিটিক্যাল। প্লাটিলেট খুব দ্রুত ড্রপ করছে, বিশ হাজারে নেমে এসেছে। ব্লাড প্রেশারটাও ডেঞ্জারাসলি লো। আমরা আইভি ফ্লুইড দিয়েছি, কিন্তু ওনাকে সার্বক্ষণিক চোখে চোখে রাখতে হবে। নার্সদের ভরসায় বসে থাকলে চলবে না, ওনার মাথার কাছে আপনারা একজন সবসময় থাকবেন। প্রেশার যেন আর ডাউন না করে। আর শোনেন, ইমিডিয়েটলি প্লাটিলেট ডোনার রেডি করেন। সরকারি ব্লাড ব্যাংকে এই সিচুয়েশনে পাওয়া কঠিন হবে। একটু এদিক-ওদিক দেখলেই দৌঁড়ে গিয়ে ডিউটি ডাক্তারকে জানাবেন, এক মুহূর্ত দেরি করবেন না।”

সাহেব চাচাকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে ডাক্তার একটু বিরক্ত হয়ে বুঝিয়ে বলার মতো করে বললেন, “আপনাদের মেয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। ওনার শরীরের রক্তের যে শক্তি, সেটা খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী যেখানে আড়াই-তিন লাখ থাকার কথা, সেখানে কমে এখন মাত্র বিশ হাজারে এসে ঠেকছে। শরীর দুর্বল হয়ে রক্তচাপও একবারে তলানিতে নেমে গেছে। আমরা তো স্যালাইন দিয়ে রেখেছি। কিন্তু হাসপাতালে দেখছেনই তো রোগীর কী ভিড়! নার্স তো কম, ওনারা একা কয়জনকে সামলাবেন? এইজন্য ওনার মাথার কাছ থেকে আপনারা একদম নড়বেন না। সবসময় চোখে চোখে রাখবেন। শরীর যেন এক্কেবারে ঠাণ্ডা হয়ে না যায়, বা উনি যেন নেতিয়ে না পড়েন। আর একটা জরুরি কাজ করেন। এখনই রক্ত দেওয়ার মতো দুই-তিনজন সুস্থ মানুষকে জোগাড় করে রাখুন। রক্ত লাগলে যেন ডাকামাত্র পাওয়া যায়। ওনার অবস্থা একটুও এদিক-ওদিক হতে দেখলেই দৌড়ে গিয়ে ডাক্তার বা নার্সকে ডেকে আনবেন। এক সেকেন্ডও দেরি করবেন না।”

এইটুকু বলেই ডাক্তার আর এক মুহূর্তও দাঁড়ানোর সময় পেলেন না। পেছনে ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক মুমূর্ষু রোগীর দিকে ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে গেলেন।

ডাক্তারের কথাগুলো কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে শুনছিল ইউসুফ আর জামিল। ইউসুফ চোখ ঘুরিয়ে হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখছিল। চারপাশের উপচে পড়া ভিড়, স্যাঁতসেঁতে মেঝে, মশারির অভাব আর নার্সদের উদাসীনতা দেখে ওর বুকের ভেতর একটা ভীতি জন্মাল। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ডেঙ্গুজ্বরে উপশহরের কয়েকজন মারা গেছে। মেঝের ধুলোবালিতে ফেলে রাখলে, সঠিক পরিচর্যার অভাবে যদি কাজলীরও তেমন কিছু হয়ে যায়?

জামিল ইউসুফের কাঁধে হাত রাখল। ইউসুফ ওর দিকে তাকাতেই জামিল দেখল, কেঁদে কেঁদে ইউসুফের চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। কাজলী হয়তো কোনোদিন জানতেও পারবে না, ওর নিজের মা-বোন ছাড়াও আর একজন মানুষ ওর জন্য এভাবে আকুল হয়ে কেঁদেছে। যখন বস্তিতে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, কাজলীর অনেকক্ষণ যাবৎ জ্ঞান ফিরছে না, ফার্মেসির ডাক্তারও ওকে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং প্রাথমিক ধারণা করছে ওর ডেঙ্গু হয়েছে। তখন থেকেই ইউসুফ ভেঙে চুরমার হয়ে আছে।

জামিল ইউসুফের চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরস্থির গলায় বলল, “ওর জন্য কিছু করতে ইচ্ছে করতেছে?”

ইউসুফ আলতো করে মাথা ঝাঁকাল। ওর মন চাইছে কাজলীর জন্য কিছু একটা করতে। জামিল ওর কাঁধে চাপ দিয়ে বলল, “তাহলে কর। তোর যা মন চাইতেছে তাই কর। একবার যদি ওরে হারায়া ফেলস, সারাজীবন আফসোস কইরাও আর কোনো লাভ হইব না।”

ইউসুফ আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না, হনহনিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেল। সোজা বাড়ি ফিরে মায়ের শোবার ঘরে ঢুকল। আলমারিটা খুলে সেখান থেকে হাজার টাকার দুটো মস্ত বড় বান্ডিল বের করে পকেটে পুরে ফেলল। তারপর চোরের মতো চুপিচুপি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল। 

দূর্ভাগ্যবশত, সিমরান দূর থেকে ওর কাণ্ড লক্ষ্য করছিল। ওর মনে খটকা লাগল। ইউসুফ এত টাকা নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছে? না বলে এতগুলো টাকা নেওয়া তো দূরের কথা, ইউসুফ তো কখনো না বলে দু-টাকাও ছোঁয় না! সাবিনা এখন ছাদে, ঘর খালি। এই সুযোগে ইউসুফ এভাবে টাকা চুরি করে কোথায় যাচ্ছে?

সিমরানের ইচ্ছে হলো ওখানেই ইউসুফকে আটকানোর অথবা ওর পিছু পিছু যাওয়ার। তখনই ওর কোল থেকে ছোট বাচ্চাটা কেঁদে উঠল। গতকাল রাত থেকেই ওর মেয়ের পাতলা পায়খানা হচ্ছে, এই অবস্থায় মেয়েটাকে একা ফেলে যাওয়া যাবে না। বাধ্য হয়েই সিমরান আর পিছু নিল না। মনে মনে ভাবল, “বাড়ি ফিরুক আজ, তারপর ওর কান টানব। ভোলা মিয়া ইদানীং বড্ড বেশি উড়ছে, অনেক কিছু লুকাচ্ছে! ব্যাপারটা কী, ভালো করে খতিয়ে দেখতে হবে।”

সরকারি হাসপাতালের দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে কাজলীকে ইউসুফ সোজা নিয়ে গেল মীরবক্সটুলায় অবস্থিত সিলেট উইমেন্স মেডিকেলে। সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে হঠাৎ এত বড় একটা বেসরকারি হাসপাতালে আসার সিদ্ধান্তে সাহেব চাচা আর জোহরা প্রথমে ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। বেসরকারি হাসপাতালের আকাশছোঁয়া খরচ জোগাবে কে? 

তারা ইউসুফকে দেখেও কম অবাক হননি। এলাকার সবাই জানে, ইউসুফ হলো ধনী বাপের রাজপুত্র, মা-বাবার কলিজার টুকরো। স্বভাব-চরিত্রেও বড্ড সরল-সোজা। সেই ছেলে কেন কাজলীর জন্য এত বড় দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে চাইছে, সেটা তাদের মাথায় আসছিল না। ইউসুফ গুছিয়ে কথা বলতে পারে না, তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে জামিল এগিয়ে এলো। সে অভয় দিয়ে বলল, “টাকা-পয়সা নিয়া আপনারা এক ফোঁটাও টেনশন কইরেন না চাচা। এনে ফেলে রাখলে কাজলীকে আর বাঁচানো যাইব না। ওরে আমাদের যেমনেই হোক সুস্থ করতে হইব। আপনারা খালি ওর জন্য প্রাণ খুইলা দোয়া করেন।”

জোহরা বেগম ছলছল চোখে জামিলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কিন্তু বাবা, এত টাকা কে দিব?”

“কেন আন্টি, আমরা দেব।”

“তোমরা কেন দিবা? আমরার সাথে তোমরার কী সম্পর্ক?”

“কাজলী আমাদের এলাকার মেয়ে আন্টি, আমাদের ছোট বোনের মতো। বিপদের দিনে এলাকার একটা মেয়ের পাশে দাঁড়ানো তো আমাদের সবার দায়িত্ব। এখন প্লিজ আর সময় নষ্ট কইরেন না, ওরে নিয়া বেরোতে দেন।”

জামিল আর ইউসুফ যে এলাকার ভালো ছেলে, তা সাহেব চাচা আর জোহরা ভালো করেই জানেন। বিশেষ করে ইউসুফ তো মস্ত বড় পয়সাওয়ালার ছেলে। ধনীরা কতভাবেই তো গরিবদের দান-খয়রাত করে, এটাও হয়তো তেমনই কিছু…এমনটা ভেবেই সাহেব চাচা আর দ্বিধা করলেন না। 

কিন্তু কাজলীকে নিয়ে বের হওয়ার জন্য একটা ট্রলি পাওয়া এমন সময়ে ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে কেবল রোগীর হাহাকার। সাহেব চাচা হন্যে হয়ে একটা খালি ট্রলি খুঁজতে দৌড়ালেন। প্রতিটা ট্রলিতেই কোনো না কোনো মুমূর্ষু রোগী শুয়ে ছটফট করছে। 

এদিকে ইউসুফ ঠায় দাঁড়িয়ে কাজলীর ফ্যাকাশে মুখটা দেখছে। ও কাজলীর জন্য কিছু একটা করতে চাইছে, কিন্তু কী করতে চাইছে বুঝতে পারছে না। ওর ছটফটানি দেখে জামিল হুট করেই বলল, “ইউসুফ, কাজলীরে কোলে তুইলা নে!”

ইউসুফ যেন আকাশ থেকে পড়ল। ও চমকে উঠে চোখ বড় বড় করে বলল, “হু?”

“ট্রলি খুঁজতে গিয়া আর সময় নষ্ট করা যাইব না। তুই কাজলীরে কোলে নিয়া জলদি চল।”

“কিন্তু... কিন্তু যদি হাত ফসকে পড়ে যায়?” আত্মবিশ্বাসের অভাবটা আবার ওর গলায় ভর করল। নিজের শক্তির ওপর কোনো ভরসাই পাচ্ছিল না ও।

জামিল ওর কাঁধে জোরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে সাহস জোগাল, “শালা! হাত ফসকে পড়বে কেন? তুই শক্ত করে ধরবি। আর যদি কোনো সমস্যা হয়, আমি তো পাশেই আছি, আমি ধরমু। জলদি কর, মেয়েটার শরীর কিন্তু আর চলতাছে না!”

ইউসুফ তাও ইতস্তত করে বলল, “এখানে এত মানুষ... কী ভাববে? কাজলীর মা-ও তো আছেন।”

জামিল এবার একটু রেগে গিয়ে কড়া গলায় বলল, “এক থাবড় মেরে তোর চেহারা পাল্টে দিমু বাইন**৷ মানুষ কী ভাবব ওইডা ভাবার সময় এইডা? মানুষের কথায় কাজলীর জীবন ফিরে আইব না। আর জোহরা আন্টি মেয়ের জীবন বাঁচানো দেখতেছেন, তোর লোকলজ্জা দেখতে বসে নাই। নিজের ভেতরের ভয়টাকে ঝাইড়া ফেল ইউসুফ। কাজলীরে যদি সত্যিই ভালোবাসস, একটা বার নিজের পুরুষত্ব দেখা। একটু সাহস কর ভাই!”

ইউসুফ কাজলীর নিস্তেজ মুখটা দেখে এক বুক সাহস নিয়ে নিচু হলো কাজলীর শরীরটাকে দুই হাতে আগলে নেওয়ার জন্য। আর কোনো লোকলজ্জার বাধানিষেধের তোয়াক্কা করল না। মশারির ভেতর হাত বাড়িয়ে কাজলীর শীর্ণ শরীরটাকে আলতো করে নিজের দুই বাহুর ওপর তুলে নিল। এতক্ষণ নিজের ভেতরে যে দ্বিধা ছিল, যে সংশয় ছিল, পারবে কি পারবে না, তা এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। নিজের জীবনে কখনো কোনো দায়িত্ববোধ কাঁধে নেওয়া হয়নি ওর। কাউকে কোলে তুলে নেওয়ার অনুভূতি কেমন, তাও কোনোদিন জানত না। আজ প্রথমবার কাউকে কোলে নিল। আর নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউসুফের মনে হলো, কোনো এক সাত রাজার ধন সে নিজের বাহুতে তুলে নিয়েছে। এই অমূল্য রতনের বিন্দুমাত্র ক্ষতি সে হতে দেবে না।

কাজলীর শরীরটা প্রচণ্ড জ্বরে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। রোগে-শোকে একদম কাগজের মতো হালকা হয়ে গেছে। কোলে তুলে নিতেই অচেতন কাজলীর মাথাটা অবশ হয়ে ইউসুফের চওড়া কাঁধের ওপর হেলে পড়ল। ওর নাক-মুখ দিয়ে বের হওয়া তপ্ত নিঃশ্বাস ইউসুফের গলায় এসে আছড়ে পড়ছিল। 

ইউসুফ কাজলীকে বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে হাসপাতালের উপচে পড়া ভিড় ঠেলে, করিডোর দিয়ে দ্রুত পায়ে নিচে নামতে শুরু করল। পেছনে পেছনে জোহরা ও সাহেব চাচা নিজেদের অসুস্থতা ভুলে প্রায় দৌড়াতে লাগলেন। উৎসুক, কৌতূহলী কতগুলো চোখ তাদের দিকে তাকিয়ে রইল। আশ্চর্যজনকভাবে ইউসুফের মাথায়, কোনো চেনা মানুষ দেখে ফেললে কী হবে,সমাজ কী বলবে…এই চিন্তাটা এলো না।

ও একছুটে নিচে নেমে পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটা সিএনজির পেছনের সিটে কাজলীকে সাবধানে শুইয়ে দিল। 

জামিল পেছন থেকে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল আর মুচকি মুচকি হাসছিল। কপালে ছড়িয়ে থাকা সিল্কি চুলের দীর্ঘদেহী বন্ধুটিকে আজ অন্যরকম দেখাচ্ছে। 

যে ছেলেকে এক জগ পানি এনে দিতে বললে অলসতার সুরে ভ্রু বাঁকিয়ে বলত, “পারব না, হাত থেকে পড়ে যাবে।”

আজ সেই ছেলে একটা নারীর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে ঝড়ের বেগে ছুটে যাচ্ছে! ভালোবাসা বোধহয় এভাবেই মানুষকে বদলে দেয়। বদলে যাক ইউসুফ। বাড়ির রাজপুত্র রাজা হয়ে উঠুক। আর সে হবে তার সেনাপতি। 

ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের কারণে উইমেন্স মেডিকেলেও রোগীর চাপ কম ছিল না। তবে এখানকার পরিবেশ সরকারি হাসপাতালের মতো নয়। করিডোরগুলো ঝকঝকে পরিষ্কার। নার্স ও ডাক্তারদের তৎপরতাও বেশ দ্রুত। ইউসুফ কাউন্টারে গিয়ে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা জমা দিয়ে কাজলীকে মেডিসিন ওয়ার্ডের একটা সাধারণ বেডে ভর্তি করাল। এই টাকার মধ্যেই অ্যাডমিশন ফি, ইমার্জেন্সি চার্জ এবং প্রথম দিনের বেড ভাড়ার একটা বড় অংশ চলে গেল। 

ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ডিউটি ডাক্তার এবং নার্সরা কাজলীর চারপাশ ঘিরে ধরলেন। নার্স দ্রুত হাতে নতুন করে ক্যানুলা চেক করে ওসমাণী থেকে লিখে দেওয়া আইভি ফ্লুইড চালু করলেন। কাজলীর শরীরের তাপমাত্রা তখন ১০৩ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। একজন নার্স এসে কাজলীর কপালে জলপট্টি দিতে শুরু করলেন, আর অন্যজন রক্তের নতুন স্যাম্পল নিলেন প্লাটিলেট এবং হিমাটোক্রিট অর্থাৎ পিসিভি কাউন্ট পরীক্ষার জন্য। কিছুক্ষণ পর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র ডাক্তার এসে কাজলীকে পরীক্ষা করলেন। জোহরা ডাক্তারের সাদা অ্যাপ্রন খামচে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “ডাক্তার বাবা, আমার মাইয়াটার জ্ঞান ফিরতাছে না কেন? ও কি আমাগো ছাইড়া চইলা যাইব?”

ডাক্তার জোহরাকে সান্ত্বনার সুরে বললেন, “আপনি শান্ত হোন। এভাবে কান্নাকাটি করলে তো রোগী সুস্থ হবে না। আপনার মেয়ের এখন ডেঙ্গুর ক্রিটিক্যাল ফেজ চলছে। রক্তে প্লাটিলেট বিশ হাজারে নেমে এসেছে। জ্ঞান না ফেরার মূল কারণ হলো জ্বর, পানিশূন্যতা, ব্লাড প্রেসার হুট করে ড্রপ করা।”

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জামিল একটু মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, “স্যার, ওর জ্ঞান ফিরতে কতক্ষণ লাগতে পারে? আর আমাদের এই মুহূর্তে কী কী করতে হবে?”

ডাক্তার জামিলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর মুখে বললেন, “আমরা প্রেশার নরমাল করার জন্য স্যালাইনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছি। বডি আবার হাইড্রেটেড হতে আর প্রেশার স্টেবল হতে অন্তত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। আশা করছি, রাতের শেষ ভাগে বা ভোরের দিকে হালকা জ্ঞান ফিরবে।”

ডাক্তার একটা কাগজে খসখস করে দ্রুত কিছু ওষুধের নাম লিখে জামিলের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তারপর বললেন, “প্রতি ৪ ঘণ্টা পরপর রক্তের পিসিভি কাউন্ট চেক করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাটিলেট কাউন্টও পুনরায় টেস্ট করা হবে। তাই ল্যাবের বিল কাউন্টারে সব সময় রেডি রাখুন। আর এখনই ও-পজিটিভ রক্তের ২ জন ডোনার রেডি করে রাখুন। যদি ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয় কিংবা খুব ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন তৈরি হয়, যেকোনো মুহূর্তে প্লাটিলেট কনসেন্ট্রেট বা অন্যান্য ব্লাড কম্পোনেন্ট লাগবে। আর এক্সসেসিভ ব্লিডিং হলে, পেশেন্ট শকে চলে গেলে জরুরি ভিত্তিতে প্যাকড রেড ব্লাড সেলের প্রয়োজন হতে পারে। আপাতত ফার্মেসি থেকে এগুলো জলদি কিনে নিয়ে আসুন।”

ঘরের ভেতর একা ছটফট করছে মারিয়াম। সন্ধ্যায় কাজলীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারপর থেকে আর কোনো খবর নেই। ফোনে ব্যালেন্সও নেই যে সাহেব চাচাকে একটা কল করে খোঁজ নেবে। কাজলী কেমন আছে, কী অবস্থায় আছে, ডাক্তার কী বলল…কিছুই জানা যাচ্ছে না। মারিয়াম মনে মনে জানত ও কাজলীকে ভালোবাসে, কিন্তু সেই ভালোবাসার গভীরতা যে এতখানি, তা ও আজকের আগে কখনো বুঝেনি। যদি সত্যিই ওর বোনটার কিছু হয়ে যায়, ও কীভাবে বাঁচবে? 

তার ওপর ঘরের বাইরে ওঁৎ পেতে আছে আসিফ। সন্ধ্যা থেকে জানালার ওপাশে ঘুরঘুর করছে। মারিয়ামের বুকটা ভয়ে দুরুদুরু কাঁপছে। রাত এখন প্রায় দশটা। ঘরের নড়বড়ে দরজাটা যদি আসিফ জোর করে ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে? ভয়ে, আতঙ্কে মারিয়ামের পেটে এক দানা খাবারও পড়েনি। ঘরের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে এখনো কাজলীর আনা বিরিয়ানি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। 

কত আনন্দ করে খেতে বসেছিল। বিরিয়ানির প্লেটটা সামনে আসতেই মারিয়াম নিজের পেটে হাত দিয়ে খুব আবেগ নিয়ে বলে উঠেছিল, “এই যে আব্বা নাকি আম্মা, হুনেন! আজকে আমরা সবাই মিইল্যা বিরিয়ানি খামু। আপনি তো পেটে আসার পর থাইকা বিরিয়ানি জিনিসটা কী বুঝেনই নাই। আজ খায়া বুঝবেন, কী যে মজার এক জিনিস! কিন্তু আগেভাগেই সাবধান কইরা দিতেছি, এরপর কিন্তু প্রতিদিন খাইতে চাইবেন না। আপনার গরিব খালামনির এত্তো টাকা নাই! তবে টাকা হইলে প্রতিদিন খাওয়াবে, তাই না বাবুর খালামনি?”

বলেই মারিয়াম একগাল হেসে কাজলীর চোখের দিকে তাকিয়েছিল। বোনের মুখে অনাগত সন্তানের প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে কাজলীর বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে নিজের হাতে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবে? যে দুনিয়ার আলো দেখার জন্য প্রহর গুণছে৷ ও আর এক মুহূর্তও ভাবেনি; উন্মাদের মতো এক ঝটকায় মারিয়ামের বিষ মাখানো বিরিয়ানির প্লেটটা ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দিল। 

মারিয়াম চমকে গেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাজলী নিজের প্লেট থেকে এক লোকমা খাবার মুখে তুলতে উদ্যত হতেই, জোহরা বাঘিনীর মতো কাজলীর হাত থেকে সেই প্লেটটাও কেড়ে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে মারলেন। হাত তুলে “কুত্তার বাচ্চা” বলে কাজলীর গালে সজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দিলেন। এমনিতেই জ্বরে কাজলীর শরীরটা ভেঙে পড়েছিল, তার ওপর মায়ের অতর্কিত থাপ্পড়ের আঘাতে ও চেয়ার থেকে ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল এবং সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। 

জোহরা কীভাবে টের পেয়েছিলেন বিরিয়ানিতে কাজলী বিষ মিশিয়েছে, তা এখনো রহস্য! যে রহস্যের জট খোলার জন্য কাজলী উদগ্রীব হয়ে উঠবে। ও যখন রান্নাঘরে খাবারে বিষ মেশাচ্ছিল জোহরার ঘর থেকে দেখার বা জানার বিন্দুমাত্র সুযোগ ছিল না। তাহলে কীভাবে তিনি সবটা ধরে ফেললেন? 

জামিল প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে হাসপাতালের চত্বরে বেরিয়ে এলো। বাইরে এসে দেখল, ইউসুফ একটা বেঞ্চিতে পাথরের মতো বসে আছে। নিজের দুটো হাত সামনে বাড়িয়ে কেমন অদ্ভুত বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে দেখছে। জামিল পা টিপে টিপে ওর পাশে গিয়ে বসল। ইউসুফ একবার শূন্য চোখে জামিলকে দেখল, তারপর আবার নিজের প্রসন্ন হাতের তালু দুটোর দিকে তাকাল। ওর হাত দুটো তখনো হালকা কাঁপছিল। ও কেমন ঘোর গলায় ফিসফিস করে বলল, “জামিল?”

“হু?”

“আমি... আমি কাজলীকে কোলে নিয়েছি।”

“হু, নিছিস।”

“কীভাবে পারলাম”

“ভালোবাসিস তাই।”

ইউসুফ কিছুক্ষণ পর আবার ডাকল, “জামিল?”

“বল ভাই।”

“ও এতো হালকা! ও এতো ছোট! আমার বুকে ওর জায়গা হয়ে গিয়েছিল, দেখেছিস?”

ইউসুফের চোখে আলো ঝলমল করছে।

জামিল বলল, “দেখেছি তো।”

“এতো ছোট, কাগজের মতো হালকা একটা মেয়ে ও... এতো কষ্ট কী করে সহ্য করে?”

বলতে বলতে ইউসুফের চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। ওর চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল ওর কাঁপতে থাকা হাতের তালুতে। 

জামিল ইউসুফের পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। এ শহরের মানুষ ইউসুফকে অলস, ভীতু ছেলে মনে করতে পারে; সে হয়তো অনেক দায়িত্ব পালন করতে পারে না, গুছিয়ে কথাও বলতে পারে না। কিন্তু কাজলীর সামান্যতম কষ্টে এই পৃথিবীতে যদি কেউ সবচেয়ে বেশি কেঁদে থাকে, তবে সে এই ইউসুফ। জামিলের সবসময় মনে পড়ে, পুরোনো দিনগুলোর কথা। 

কাজলীর প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের পথে একটা পুরনো বড়ই গাছ ছিল। ঝড়-বাতাসে মাঝেমধ্যেই ওই পথে ধারালো কাঁটা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকত। ইউসুফ কলেজ জীবন থেকে আজ অব্দি, প্রতিদিন কাজলী আসার ঠিক আধঘণ্টা আগে ওই পথের সমস্ত কাঁটা কুড়িয়ে পরিষ্কার করে রাখত। কখনো কাজলীর সামনে গিয়ে বাহবা নেয়নি, কখনো নিজের ভালোবাসার জানান দেয়নি। শুধু আড়াল থেকে দেখেছে, ওর ভালোবাসার চরণে যেন একটা কাঁটাও না বিঁধে। 

কাজলীর অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যাবে খবরটা শোনার পর থেকেই প্রথমবার সাহস করে সামনাসামনি দাঁড়িয়েছে, দু-একটা ভাঙা ভাঙা কথা বলেছে৷ সেদিন সওদাগরের বাড়িতে ঘটনাটা ঘটার পর প্রথমবার কাজলীর পাশে বসল। আর আজ যখন মেয়েটার মাথার ওপর মৃত্যুর ছায়া দেখল, তখন সমস্ত লোকলজ্জা, ভয়কে পায়ের নিচে পিষে কত বড় বড় কাণ্ড করে বসল!

ইউসুফ আবার ফিসফিসিয়ে বলল, “জামিল?”

ও তখনো নিজের হাতের দিকেই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। 

জামিল বলল, “বল।”

“বুকটা হঠাৎ এতো খালি খালি লাগছে কেন?”

জামিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “কাজলী অনেকক্ষণ তোর বুকে ছিল, এখন নাই।”

ইউসুফ এবার জামিলের দিকে তাকাল। ওর চোখ দুটো লাল৷ ও বলল, “আমি ওকে সারাজীবন আমার কোলে রাখতে চাই।”

জামিল হেসে বলল, “কষ্ট হবে না তোর?”

“একটুও না। এক ফোঁটাও না।” ইউসুফ থামল তারপর কেমন মায়াময় কণ্ঠে বলল, “ওকে আমি ছাড়া যদি অন্য কোনো পুরুষ কোনোদিন এভাবে কোলে নেয়... আমি সহ্য করতে পারব না।”

জামিল হেসে ফেলল। দুই হাত দিয়ে ইউসুফের অস্থির, কাঁপতে থাকা হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরে আবেগঘন গলায় বলল, “তোদের দুজনের বিয়া না দেইখা আমি জামিল মরতে চাই না।”

ফিনাইলের কড়া গন্ধমাখা ওয়ার্ডে, একটা ধবধবে সাদা মশারির নিচে শুয়ে আছে কাজলী। পেটের ব্যথায় জোহরার চোখ-মুখ কুঁকড়ে উঠছে। সেই অবস্থাতেও কাজলীর কপালে অনবরত জলপট্টি দিয়ে যাচ্ছেন।

বাইরে তখন অন্ধকার রাত নেমেছে। যতই সময় গড়াচ্ছে, জোহরার ভয় বাড়ছে। মারিয়াম একা বাসায় পড়ে আছে। বস্তি রাতের বেলা কতখানি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, তা ওনার চেয়ে ভালো আর কে জানে! তার ওপর ঝুনু বিবির আক্রোশের ভয় তো আছেই।

তিনি দিশেহারা হয়ে ভাবছেন, কী করবেন? নিজের রক্তক্ষরণী যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করবেন? নাকি ঘরের পঙ্গু, গর্ভবতী বড় মেয়েটার কাছে ছুটে যাবেন? নাকি চোখের সামনে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা ছোট মেয়েটার শিয়রে বসে থাকবেন? একটানা কাঁদতে কাঁদতে ওনার চোখের জলও শুকিয়ে এসেছে। এতো অসহায় কেন করল আল্লাহ? এতো নিষ্ঠুর কেন হলো?

আজ থেকে বহু বছর আগে, নিজের বাবা-মায়ের বুকে আঘাত দিয়ে, তাদের ভালোবাসাকে অবজ্ঞা করে এক বুক রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন জোহরা। আজ জীবনের এই প্রান্তে এসে ওনার মনে হচ্ছে, ওই একটা ভুলের প্রায়শ্চিত্ত কেন এত বড়, এত নির্মম হতে হলো? নিজের অবাধ্যতার আগুনে পুড়ে নিজের জীবনটা তো বহু আগেই ছারখার হয়ে গেছে। সেই ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে এখন ওনার মেয়েগুলোর জীবনও কি এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে? 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp