আড়ালে আবডালে শুধুই তুই - পর্ব ৫৪ - রাহা ইসলাম - ধারাবাহিক গল্প

আড়ালে আবডালে শুধুই তুই
— "কী হলো, আরমান? এমন সিদ্ধান্ত নিলি কেন? তাও আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে মাহাদী আর আয়াতের বিয়ের ঘোষণা দিয়ে দিলি?"

চোয়াল শক্ত করে, কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন আমান খান।

অভ্র কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই তাকে থামিয়ে দিয়ে আয়াত নিজেই বলে উঠল,

— "আমি... উনাকে ভালোবাসি। তাই এই সিদ্ধান্ত।"

মাত্র একটি বাক্য। অথচ সেই একটি বাক্যই যেন পুরো ঘরে বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ল।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেন সময়টাই থমকে দাঁড়াল। উপস্থিত প্রত্যেকের মুখে স্পষ্ট অবিশ্বাস অভিব্যক্তি।

ইভান, আফরোজা বেগম এবং মাইনুদ্দিন মির্জা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সোফার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা আয়াতের দিকে।

আয়াতের দৃষ্টি তখনও মেঝের ওপর স্থির। দুই হাত শক্ত করে আঁকড়ে রেখেছে নিজের ওড়নার প্রান্ত। বুকের ভেতর ঝড় বইলেও কণ্ঠে তার কোনো কম্পন নেই। কথাটি শেষ করে ধীরে ধীরে মুখ তুলে তিনি সরাসরি বাবা-মায়ের চোখের দিকে তাকালেন।

সেই দৃষ্টিতে ছিল সংকোচ, অপরাধবোধ, এবং একই সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি অটল দৃঢ়তা।

ইভানের বুকের ভেতর যেন হঠাৎ করেই ধাক্কা লাগল।তার বোন কাউকে ভালোবাসতে পারে—এটা অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু সেই মানুষটা মাহাদী!

অসম্ভব!

তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণশক্তি এবং ক্ষুরধার বিশ্লেষণী মস্তিষ্ক কোনোভাবেই এই সমীকরণ মেলাতে পারছিল না। ইভানের অভিজ্ঞতা বলছিল—এত সহজে কিছুই ঘটছে না। এই ঘটনার আড়ালে নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে, যা এখনো সবার অজানা।

ইভান ঘাড় বাঁকা করে অভ্রর দিকে তাকাল।

অভ্র তখন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে কোনো বিস্ময় নেই, কোনো প্রতিবাদও নেই। বরং তার অস্বাভাবিক স্থিরতা পরিস্থিতিটিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলছিল।

সেটাই উপস্থিত সবার মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিল।

অভ্র কি আগে থেকেই সব জানত?
নাকি এই নীরবতার আড়ালেও লুকিয়ে আছে আরও কোনো গভীর সত্য, যা প্রকাশ পেলে আজকের এই বাড়িটাই আবার তছনছ হয়ে যাবে?

ঠিক তখনই অভ্র একবার রাহার দিকে তাকাল।
রাহা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে তাকে থামিয়ে দিল। তার সেই নীরব ইঙ্গিতের অর্থ অভ্র বুঝতে এক মুহূর্তও সময় নিল না। আয়াত আর মাহাদীর বিয়ে ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে—এই সত্যটি আপাতত গোপন রাখাই শ্রেয়।

পরিস্থিতি সামলে নিয়ে অভ্র শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

— "আয়াতের যদি মাহাদীকে পছন্দ হয়ে থাকে, তাহলে আমি এখানে কোনো সমস্যাই দেখছি না।"

অভ্রর কথা শেষ হতেই আয়াতের মা ক্ষোভে ফেটে পড়লেন।

— "অভ্র! তুমি কী বলছ? ওই খুনি পরিবারের কাছে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দেব? এটা কোনোদিনও সম্ভব নয়!"

অভ্র নির্বিকার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— "যে অপরাধী, সে অবশ্যই তার অপরাধের শাস্তি পাবে। কিন্তু মাহাদী তো খুনি নয়। একজন মানুষের অপরাধের দায় পুরো পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়।আমরা বিচার করছি একজন মানুষকে, তার রক্তের সম্পর্ককে নয়।”

একটু থেমে সে আবার বলল,

— "আর মাহাদী একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ। ইতালির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, পাশাপাশি বাংলাদেশেরও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব আর যোগ্যতা—সব দিক থেকেই সে আয়াতের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত।"

কথা শেষ হতেই ইভান তীক্ষ্ণ স্বরে বলে উঠল,

— "কিন্তু মাহাদী তো রাহাকে ভালোবাসে!"

অভ্রর ঠোঁটের কোণে রহস্যময় এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।সে ধীরে ধীরে ইভানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল আর বলতে লাগলো,

— "রাহাকে তোমার বউ করবে বলে তো একসময় তোমার মাও ঠিক করে রেখেছিলেন। তখন তো আমি কোনো আপত্তি করিনি।"

এরপর সে আরও এক পা এগিয়ে ইভানের কানের কাছে মুখ নিয়ে নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল,

— "তাই বলে যে আমি আমার বোনকে তোমাদের পরিবারে দেব না... এমনটা কিন্তু কখনো বলিনি, ইভান।"

অভ্রর সেই অপ্রত্যাশিত কথায় ইভান হঠাৎ করেই বিষম খেল।কাশির দমকে তার মুখ আর চোখ দুটোই লাল হয়ে উঠল।

অভ্র ঠোঁটের কোণে তীক্ষ্ণ হাসি রেখেই পাশের টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি তুলে ইভানের দিকে বাড়িয়ে দিল।

ইভান আর দেরি না করে প্রায় ছিনিয়েই গ্লাসটা হাতে নিল এবং এক নিঃশ্বাসে পুরো পানি খেয়ে ফেলল।

তবুও বিষমের রেশ কাটল না। উপস্থিত সবাই কৌতূহল নিয়ে কখনো অভ্রর দিকে, কখনো ইভানের দিকে তাকিয়ে রইল।

ইভানের অবস্থা দেখে অভ্র হালকা হেসে বলল,

— "রিল্যাক্স, ইভান। আমি কিছুই মনে করিনি। এখন বরং আমার খালা শাশুড়ি আর খালু শশুর কে বোঝাও। আয়াত যখন নিজেই রাজি, তখন অযথা বাধা দিয়ে কোনো লাভ নেই।"

এরপর শুরু হলো দীর্ঘ আলোচনা।

আয়াতও শান্তভাবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলল। অভ্র, আমান খান, আরমান খান,আসান খান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও যুক্তি দিয়ে আয়াতের বাবা-মাকে বোঝাতে লাগলেন।

দীর্ঘ আলোচনার শেষে অবশেষে অনিচ্ছাসত্ত্বেও সম্মতি দিলেন আয়াতের বাবা-মা। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের টানটান উত্তেজনাও অনেকটাই প্রশমিত হলো।

এক এক করে সবাই নিজ নিজ কক্ষে চলে গেল।

সারাদিনের টানা মানসিক চাপ, দৌড়ঝাঁপ এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনায় প্রত্যেকেই ক্লান্ত।

সাফা আর অবন্তিকাও সেদিন খান বাড়িতেই থেকে গেল। অভ্র নিজেই জানিয়ে দিয়েছে, পরদিন তাদের নিরাপদে পৌঁছে দেবে।

আজকের দিনটি যেন বহু বছর পর খান পরিবারের জন্য এক বিরল আনন্দের দিন।দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর তিন ভাই আবার একই ছাদের নিচে, একই পরিবারের উষ্ণতায় একত্র হয়েছে।

ড্রয়িংরুম সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে গেলে অভ্রর চোখ পড়ল ইভান আর আয়াতের দিকে।দুজন ছাড়া সেখানে আর কেউ নেই।

আয়াতকে দেখে মনে হচ্ছিল, বুকের ভেতর অগণিত না-বলা কথার ভার নিয়ে সে শ্বাস নিতেও কষ্ট পাচ্ছে। তার মুখে গভীর বিষণ্নতার ছাপ, চোখেমুখে স্পষ্ট অস্থিরতা।

ইভান ধীর কণ্ঠে ডাকল,

— "আয়াত..."

ডাক শুনে আয়াত যেন বাস্তবে ফিরে এল। চমকে উঠে ভাইয়ের দিকে তাকাল।

ইভান ধীরে ধীরে তার কাছে এসে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,

— "সত্যি করে বল তো... তুই কি সত্যিই মাহাদীকে ভালোবাসিস?"

প্রশ্নটা শুনে আয়াত আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না।নিঃশব্দে এগিয়ে এসে মাথাটা ভাইয়ের বুকে এলিয়ে দিল।এতক্ষণ ধরে শক্ত করে আটকে রাখা চোখের জল বাঁধ ভাঙলো।অশ্রুবিন্দুগুলো একে একে গড়িয়ে পড়তে লাগল, ভিজিয়ে দিল ভাইয়ের শার্ট।

তবুও সে কোনো শব্দ করল না।

শুধু খুব ধীরে... মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

হ্যাঁ...

সে মাহাদীকে ভালোবাসে।অন্তত সবাইকে সেটাই বিশ্বাস করাতে হবে। কারণ সে জানে, যদি ইভান একবারও বুঝতে পারে যে, সে কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার, কিংবা এই বিয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর কোনো পরিকল্পনা, তাহলে নিজের জীবন বাজি রেখেও ইভান এই সম্পর্ক মেনে নেবে না।

তাই নিজের সমস্ত কষ্ট, আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব বুকের গভীরে চেপে রেখেই সে মিথ্যার আশ্রয় নিল।

ইভান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।তার ছোট্ট বোনের চোখের জল তার বুক ভিজিয়ে দিলেও সে আর কিছু বলল না।বোন যখন নিজের ইচ্ছায় এই সম্পর্ক মেনে নিয়েছে, তখন ভাই হিসেবে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো ছাড়া আর কোনো পথও নেই।

আয়াতের মাথায় স্নেহভরে হাত রেখে সে মৃদু হেসে বলল,

— "তুই যদি সত্যিই সুখী থাকিস, তাহলে আমিও তোর পাশে আছি। সবসময়।"

কিন্তু সে জানত না—

তার বুকের সঙ্গে মাথা রেখে দাঁড়িয়ে থাকা বোনটি এই মুহূর্তে নিজের ভালোবাসার জন্য নয়, বরং নিজের আপজন গুলোকে রক্ষা করার জন্য নীরবে ভেঙে পড়ছে।

—————

— এই শশুরের মেয়ে। আমার কাছে না এসে আমার শ্বশুরের রোমান্সের বারোটা বাজাতে যাচ্ছিস, গাধী?

অভ্র রাহার হাত ধরে বলে উঠে।

রাহা ও কিছু বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো,

— মানে?

— তুই কি আজীবন গাধীই থেকে যাবি?

— এতদিন পর বাবা ফিরে এসেছে। আমি কথা বলব না নাকি?

— দিনে কি তুই তোর ঘোড়াদের জন্য ঘাস কাটতে যাবি? ওনাদের একটু একা থাকতে দে। চল, আমার সঙ্গে।

— কোথায়?

— ওনাদের রোমান্সে ডিস্টার্ব কেন করবি? বরং আমরা নিজেদের রোমান্সটা করি।

— ধুর! কী যে বলেন!

— কেন? তুই কি আমার বউ না? আজকে অন্তত আমার কথাটা শোন।

— আর মাত্র সাত দিন। বাবা তো বলেই দিয়েছেন, বরবেশে এসে আমাকে নিয়ে যেতে।

— “সেই তো শেষ পর্যন্ত আমার কাছেই আসবি! আর কত দূরে রাখবি, জান। চল না, আজকে একটু কিছু মিছু হয়ে যাক.. প্লিজ!”

— “ছাড়ুন! কী করছেন? কেউ দেখে ফেলবে।”

— “যা করার দরকার, সেটাই করছি।”

— “এখন না...অভ্র ভাই।”

— “আরে ধুর! সবাই করলে রাজলীলা, আর আমি করলে ক্যারেক্টার ঢিলা। বাল ,সর এখান থেকে।”

— “আপনিও সরুন তো!”

ঠিক তখনই হঠাৎ কক্ষের দরজাটি খুলে গেল।

দরজা খোলার শব্দ কানে আসতেই অভ্র চমকে উঠল। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে দ্রুত রাহার কাছ থেকে সরে দাঁড়াল।

ঘর থেকে বেরিয়ে এসে সাথী বেগম দরজার সামনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা অভ্র আর রাহাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললেন।

কয়েক মুহূর্ত দু'জনের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললেন,

— "তোমরা এখানে? কী করছ?"

মুহূর্তেই রাহার গাল লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল।
সে আমতা-আমতা করে তোতলাতে তোতলাতে বলল,

— "আ... আসলে মা, বাবা'র সঙ্গে একটু কথা বলব বলে এসেছিলাম।"

সাথী বেগম শান্ত কণ্ঠে বললেন,

— "কিন্তু তোমার বাবা তো ঘরে নেই। আমাকে বলে বাগানের দিকে গেছে। আমিও এখন ওদিকেই যাচ্ছি। চলো, আমার সঙ্গে।"

কথাটা শুনে রাহার মুখে স্বস্তির আভা ফুটে উঠল। সে সাথী বেগমের সঙ্গে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই অভ্র দ্রুত তার পথ আগলে দাঁড়াল।

মৃদু হেসে বলল,

— "মেজো আম্মু, তুমি যাও। রাহা একটু পরে আসবে। ওর সঙ্গে আমার খুব জরুরি একটা কথা আছে।"

অভ্রর কথা শুনে সাথী বেগম সন্দেহমিশ্রিত দৃষ্টিতে একবার রাহার দিকে, আরেকবার অভ্রর দিকে তাকালেন।

রাহা তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। লজ্জায় তার কান পর্যন্ত লাল হয়ে উঠেছে।

দুজনের অস্বাভাবিক আচরণে সাথী বেগমের মনে হালকা সন্দেহের রেখা জাগলেও তিনি আর কিছু বললেন না।শুধু অর্থবহ এক দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে ধীর পায়ে বাগানের দিকে এগিয়ে গেলেন।

তিনি চোখের আড়ালে যেতেই রাহা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অভ্রর দিকে তাকাল। ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানী গলায় বলে উঠল,

— "আমাকে যেতে দিলে না কেন?"

অভ্র এক চিলতে দুষ্টু হাসি হেসে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো।

— "তোর সেখানে গিয়ে কোনো কাজ নেই।"

কথাটা বলেই কোনো সুযোগ না দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে রাহাকে কাঁধে তুলে নিল।

— "অভ্র ভাই! আমাকে নামান!”

রাহার প্রতিবাদ, ছটফটানি কিংবা লজ্জা—কোনোটারই যেন কোনো মূল্য নেই অভ্রর কাছে।সে নির্বিকার ভঙ্গিতে রাহাকে নিয়ে সোজা তাদের কক্ষে চলে গেল।রুমে ঢুকেই অত্যন্ত যত্নে তাকে বিছানার ওপর নামিয়ে দিল।

রাহা বিরক্ত মুখে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেই অভ্র এক টানে তার হাত ধরে আবার বসিয়ে দিল।

নির্ভার ভঙ্গিতে নিজের মাথাটা রাহার কোলের ওপর এলিয়ে দিল।
তারপর আধা-ধমক, আধা-আবদারের সুরে বলল,

— "একটাও কথা বলবি না, রাহা। একটু আগে আদর করতে চেয়েছিলাম, করতে দিলি না। এখন যদি মাথাটাও টিপে না দিস... তাহলে কিন্তু তোর খবর আছে। এমন জ্বালান জ্বালাব যে মনে রাখবি।"

একটু থেমে আরও নরম গলায় বলল,

— "চুপচাপ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দে। আমি একটু ঘুমাব।"

অভ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ রেখেই আবার বলল,

— "তোর জন্য আজ সারাদিন কত প্ল্যান করেছি, কত হিসাব কষেছি, কত চাল চালতে হয়েছে—জানিস? পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে গেছি, জান। এখন আর কিছু চাই না... শুধু তোর কোলে একটু শান্তি করে ঘুমাতে চাই।"

কথাগুলো শেষ করেই সে আরও একটু সরে এসে রাহার কোলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিল।

রাহার সমস্ত রাগ মুহূর্তেই যেন গলে গেল।
ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক টুকরো মায়াভরা হাসি ফুটে উঠল।নিঃশব্দে সে অভ্রর চুলে আঙুল চালিয়ে ধীরে ধীরে তার মাথা টিপে দিতে লাগল।

আর অভ্র...

কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখ বন্ধ করে সেই স্পর্শের উষ্ণতায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সঁপে দিল।

রাহা ধীরে ধীরে অভ্রর চুলে আঙুল চালাতে চালাতেই বিষণ্ন কণ্ঠে বলে উঠল,

— "আয়াত আপু আজ যেটা করল... এত বড় একটা আত্মত্যাগ! আমি জীবনে কোনোদিনও এই ঋণ শোধ করতে পারব কি না জানি না, অভ্র ভাই।"

অভ্র তখনও চোখ বন্ধ রেখেই শুয়ে ছিল।
কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

— "তোকে এসব নিয়ে এত ভাবতে হবে না, রাহা। আমি আছি। যা করতে বলেছি, শুধু সেটাই কর। বাকিটা আমার ওপর ছেড়ে দে।"

অভ্রর গম্ভীর ভঙ্গি দেখে রাহা দুষ্টুমি ভরা মুখভঙ্গি করল। অভ্রের কণ্ঠ নকল করে বিড়বিড়িয়ে বলল,

— "যা করতে বলেছি, শুধু সেটাই কর... বাকিটা আমার ওপর ছেড়ে দে!"

রাহার কথা শুনেই অভ্র ধীরে ধীরে চোখ খুলল।
রাগ দেখানোর ভান করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।তারপর মাথা তুলতে উদ্যত হতেই রাহা মুহূর্তের মধ্যে দুই হাত দিয়ে অভ্রর মাথাটা নিজের উরুর সঙ্গে আলতো করে চেপে ধরল।

হাসতে হাসতেই তড়িঘড়ি করে বলে উঠল,

— "আচ্ছা আচ্ছা... করছি! আপনার কথাই শুনছি। এবার শান্ত হয়ে শুয়ে থাকুন।"

অভ্র আর কিছু বলল না।শুধু একবার রাহার দিকে তাকিয়ে মৃদু নিঃশ্বাস ফেলে আবার চোখ বন্ধ করে নিল।

বাইরে থেকে তাকে যতটা শান্ত লাগছিল, ভেতরে ঠিক ততটাই প্রলয় বয়ে যাচ্ছিল।

মনের গভীরে নিঃশব্দে উচ্চারণ করল—

"আই'ম সরি, আয়াত। আজ তুমি আমাদের জন্য নিজের সুখটাই বিসর্জন দিলে। এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। যতদিন বাঁচব, ততদিন তোমার এই আত্মত্যাগ আমার বিবেককে তাড়া করে বেড়াবে।”

অভ্রর বুকের ভেতর অপরাধবোধ আর কৃতজ্ঞতা একসঙ্গে দোলা দিয়ে উঠল। সে আর চোখ খ খুলে তাকায়নি কারণ এই মুহূর্তে তার চোখ খুললে হয়তো ভেতরের সমস্ত ঝড় রাহার সামনে প্রকাশ পেয়ে যেত।

—————

ফ্ল্যাশব্যাক…

সকলেই গোপনে একটি পরিকল্পনা করছিল—মাহাদীকে এমনভাবে পরাস্ত করা হবে, যাতে সে আর কখনো মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস না পায়। পুরো পরিকল্পনাটি করা হচ্ছিল অভ্রকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে।

এই পরিকল্পনার সঙ্গে ছিল অবন্তিকা, সাফা ও রাহা। তবে শিফা এ বিষয়ে কিছুই জানত না।
ঠিক তখনই সেখানে এসে উপস্থিত হলো আয়াত। সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে সে দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিল,

— "আমি মাহাদীকে পছন্দ করি।"

মুহূর্তের মধ্যেই রাহার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
মনে মনে সে বিড়বিড় করে উঠল,

— "আয়াত আপু তো অভ্র ভাইকে পছন্দ করত! এত দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে অন্য কাউকে পছন্দ করল? যাক, সেটা ভালোই... কিন্তু পৃথিবীতে এত মানুষ থাকতে শেষ পর্যন্ত এই কাচ্ছির লোটাটাকেই কেন?"

রাহা আর নিজেকে সামলাতে পারল না,বলে উঠল,এ

— "কিন্তু আপু... ওই লোকটাই কেন? ওর সম্পর্কে সবকিছু তো তুমি জানো!"

আয়াত নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

— "তাতে কী হয়েছে? কাউকে কি ভালো লাগতে পারে না?"

রাহা অসহায় ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল।

— "হুম... সেটাও ঠিক।"

আয়াত তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সুরে বলল,

— "তাহলে আর কোনো আপত্তি নয়। পরিকল্পনাটা আমার, আর সেটাই বাস্তবায়ন হবে।"

এরপর সবাই ঠিক সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে শুরু করল।
পরে রাহা যখন বিষয়টি অভ্রকে জানাল, তখনই অভ্র আয়াতের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে ফেলল।

এক সেকেন্ডও দেরি না করে সে পরিকল্পনাটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দিল।
কারণ অভ্র স্পষ্ট বুঝেছিল—আয়াতের মাহাদীকে পছন্দ করার কথাটি নিছকই অভিনয়। সে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের অনুভূতিকে বিসর্জন দিয়ে, নিজের জীবনকে ত্যাগের মঞ্চে তুলে দিয়ে রাহা ও অভ্রর পথ সহজ করে দিতে চাইছে।

কিন্তু আয়াতও ছিল নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল। একবার যা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়ন না করে সে কখনোই পিছু হটার মেয়ে নয়।

অন্যদিকে অবন্তিকা ও সাফা আয়াতের প্রতিটি কথাই নিঃসংকোচে বিশ্বাস করেছিল। কারণ তারা কেউই জানত না—একসময় আয়াতের হৃদয়ের সমস্ত অনুভূতি জুড়ে ছিল শুধুই অভ্র।

—————

সকালে সবাই একসঙ্গে নাশতা শেষ করে দিনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করল। আজ সাফা ও অবন্তিকার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিয়ের মূল অনুষ্ঠান যেহেতু এখনো সাত দিন বাকি, তাই এতদিন বান্ধবীর বাড়িতে অবস্থান করা তাদের কাছেও যুক্তিসংগত মনে হলো না।

রাহা অনেক বোঝানোর পর শেষ পর্যন্ত তারা আজকের দিনটি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
কারণ অভ্র সবার জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা করে রেখেছিল। সে আজ সবাইকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাবে।

 আয়াতরাও আজকের দিনটি এখানেই কাটাবে। আগামীকাল সকালে তারা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
ঠিক তখনই বিয়ের আয়োজন নিয়ে নতুন একটি বিষয় সামনে এলো।এদিকে মঈনুদ্দিন মির্জা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় বিয়ের ক্ষেত্রে আলাদা দাওয়াতি অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে। সেই রীতিনীতি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।

বিষয়টি শুনে অভ্রও তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল—

— "তাহলে অনুষ্ঠানের আগের দিন মাহাদী এসে আয়াতকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাবে।"

অন্যদিকে আরমান খানও এখানকার আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বিষয়টি আগেই অবহিত করেছেন। ফলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেদিন রাহার আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হবে, সেদিন একই মঞ্চে রাহার পাশাপাশি আয়াতকেও নববধূর আসনে বসানো হবে। একই আয়োজনে দুই কনের শুভ সূচনা সম্পন্ন হবে।

তারা নয়জন মিলে শহরের একটি মনোরম উদ্যানের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। চারপাশজুড়ে সবুজের সমারোহ, শীতল বাতাস আর নির্মল পরিবেশ—সব মিলিয়ে স্থানটি ছিল অত্যন্ত মনোরম ও দৃষ্টিনন্দন।

প্রায় দশ মিনিট ধরে সবাই সেখানে বসে আছে। অথচ রাহা, অবন্তিকা, সাফা, শিফা আর আয়াত—কারও মাথায়ই কিছু স্পষ্ট হচ্ছে না। তারা বারবার একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—

কিসের জন্য এই অপেক্ষা? কাকে আসার অপেক্ষায় রেখেছে অভ্র?

রাহা আর ধৈর্য ধরে রাখতে না পেরে অভ্রকে জিজ্ঞেস করল,

— "অভ্র ভাই, আমরা আসলে কার জন্য অপেক্ষা করছি?"

অভ্র রহস্যময় এক হাসি ঠোঁটে টেনে শান্ত গলায় বলল,

— "এই তো... আর মাত্র একটু অপেক্ষা কর। সব জানতে পারবি।"

অভ্রর সেই রহস্যময় উত্তর সবার কৌতূহল আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।
ঠিক তখনই ঘটল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা।
কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা জারিফের দিকে হঠাৎ করেই এক তরুণী দৌড়ে এল। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই। সে সবার সামনে জারিফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে উপস্থিত প্রত্যেকেই স্তম্ভিত হয়ে গেল।

অবন্তিকা বিস্ময়ে চেয়ার ছেড়ে মুহূর্তেই দাঁড়িয়ে পড়ল। তার মুখমণ্ডলের সমস্ত রক্ত যেন নিমেষেই শুকিয়ে গেল।

আর জারিফ?

সে নিজেও পুরোপুরি হতবাক। কী ঘটছে, কেন ঘটছে—কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছিল না।

জারিফ সোজা দৃষ্টি তাক করলো অবন্তিকার উপর।
দেখল, অবন্তিকার দু’চোখ জলে টলমল করছে। আহত অভিমান, অসহায় কষ্ট আর ভাঙা বিশ্বাস একসঙ্গে তার চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এক মিনিটও আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল না অবন্তিকা।কিছু না বলেই ঘুরে বিপরীত দিকে দ্রুত হাঁটা শুরু করল।অবন্তিকাকে চলে যেতে দেখে জারিফ যেন সম্বিৎ ফিরে পেল।এক ঝটকায় নিজের সঙ্গে লেপ্টে থাকা মেয়েটিকে সরিয়ে দিয়ে সে ছুটে গেল অবন্তিকার পিছু।

তবে ততক্ষণে অবন্তিকা একবারের জন্যও ফিরে তাকায়নি। এমনকি যে মেয়েটি জারিফকে জড়িয়ে ধরেছিল, তার মুখটাও দেখার প্রয়োজন মনে করেনি।

কিন্তু অবন্তিকা না দেখলেও বাকিরা মেয়েটির মুখ স্পষ্টভাবে দেখেছে। আর সেই মুখ দেখেই সবাই বিস্ময়ের চরম সীমায় পৌঁছে গেল।

রাহার চোখ বিস্ফারিত হয়ে উঠল। অবিশ্বাসে কাঁপা কণ্ঠে সে বলে উঠল—

— "সানা...!”

রাহা আর সাফাও তাদের পিছু নিতে উদ্যত হতেই অভ্র হাত বাড়িয়ে দু'জনকে থামিয়ে দিল আর বলল,

— "থাক... যার মানুষ, তাকে তার মানুষকেই সামলাতে দে। সব সমস্যায় তৃতীয় কাউকে জড়ানোর দরকার নেই।"

অভ্রর কথা শুনে রাহা আর সাফা থেমে গেল।

অন্যদিকে জারিফ দ্রুত এগিয়ে এসে এক ঝটকায় অবন্তিকার হাত চেপে ধরল।অবন্তিকা নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ছটফট করতে লাগল। তার বুকের ভেতর যেন ঝড় বয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগের দৃশ্যটি সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু তার সমস্ত অভিমান ও ভাঙা বিশ্বাসের নীরব সাক্ষী হয়ে উঠেছে।

জারিফ ব্যাকুল কণ্ঠে বলল,

— "অবন্তিকা, প্লিজ... তুমি যা দেখেছ, তার কিছুই সত্যি নয়!"

অবন্তিকা বিদ্রূপভরা কণ্ঠে বলল,

— "তাহলে সত্যিটা কী?"

জারিফ অসহায়ভাবে মাথা নাড়ল।

— "আমি... আমি নিজেও জানি না।"

অবন্তিকার ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল।

— "বাহ! কোনো কারণ ছাড়াই একটা মেয়ে হঠাৎ এসে আপনাকে জড়িয়ে ধরল, আর আপনি বলছেন আপনি কিছুই জানেন না?"

জারিফ গভীর শ্বাস নিয়ে বলল,

— "বিশ্বাস করো, আমি সত্যিই জানি না।"

— "চলো... এখনই ওর কাছে যাই। সামনাসামনি জিজ্ঞেস করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।"

অবন্তিকা এমন দৃষ্টিতে জারিফের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন চোখের আগুনেই তাকে ভস্ম করে দেবে।

ঠিক তখনই জারিফ আরোএগিয়ে এল। মৃদু হাসি নিয়ে দুই হাত দিয়ে আলতো করে অবন্তিকার দুই গাল স্পর্শ করল, চোখের জল আলতো করে মুছে দিল।

গভীর, আশ্বস্তকারী কণ্ঠে বলল,

— "শোনো বিচ্ছু... তোমাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে আমি কল্পনাতেও স্থান দিতে পারি না।"

কথা শেষ করে সে স্নেহভরে অবন্তিকার কপালে একটি চুম্বন এঁকে দিল।

'বিচ্ছু' ডাকটি কানে আসতেই অবন্তিকার রাগের মাঝেও অজান্তে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।

সে ভ্রু কুঁচকে মিষ্টি অভিমান নিয়ে বলল,

— "এখনও তো আমি কোনো বিচ্ছুগিরিই দেখালাম না!"

জারিফ হেসে মাথা নাড়ল।

— "তুমি যদি জানতে তোমার রক্তের প্রতিটি কণায় কতটা বিচ্ছুগিরি মিশে আছে, তাহলে এই কথাটা বলতে না। একটু আগে তোমার চোখে একফোঁটা জল দেখেই আমার বুকটা যেন থেমে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আমার প্রাণটাই বেরিয়ে যাচ্ছে। তোমার কান্না আমি সহ্য করতে পারি না, বিচ্ছু।”

অবন্তিকা আবারও একবার জারিফের দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে ছিল অভিমান, প্রশ্ন আর অব্যক্ত যন্ত্রণার মিশেল।

জারিফ আর একটি কথাও বলল না। শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে শুধু বলল,

— "চলো... আমার সঙ্গে।"

এ কথা বলেই সে সামনে এগিয়ে গেল।

এরপর রাহা ধীরে ধীরে সানার দিকে এগিয়ে গেল। কাছে যেতেই বিস্ময়ে তার ভ্রু কুঁচকে উঠল।

— "সানা... তুমি এখানে?"

একটু থেমে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে আবার বলল,

— "কিন্তু তোমাকে এতটা ভগ্ন, বিধ্বস্ত আর অসহায় দেখাচ্ছে কেন?"

এদিকে অবন্তিকাও জারিফের সঙ্গে এসে মেয়েটির মুখ ভালোভাবে দেখল। তখনই সে বুঝতে পারল—এ তো সেই সানা!

অন্যদিকে জারিফ যখন অবন্তিকার পেছনে ছুটে গিয়েছিল, তখনই সানা সবকিছু বুঝে গিয়েছিল। তাদের দু'জনের চোখের ভাষাই বলে দিচ্ছিল—তাদের সম্পর্কটা সাধারণ কোনো সম্পর্ক নয়।নিজের আচরণের কথা মনে পড়তেই অপরাধবোধে মাথা নিচু হয়ে গেল তার।ধীরে পায়ে এগিয়ে এসে সানা, জারিফ ও অবন্তিকার সামনে দাঁড়াল।
চোখেমুখে স্পষ্ট অনুশোচনার ছাপ নিয়ে নিচু স্বরে বলল,

— "আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।আমাকে ক্ষমা করবেন। হঠাৎ করে আপনাকে জড়িয়ে ধরা আমার উচিত হয়নি। আমি বিষয়টি না ভেবেই করে ফেলেছি, যার ফলে আপনাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। আমি সত্যিই অত্যন্ত লজ্জিত।”

সানা দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নিল। কারও দৃষ্টিতে যেন তার অশ্রু ধরা না পড়ে, সেই ব্যর্থ প্রচেষ্টাই করছিল সে।
মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়ে অজান্তেই জারিফের প্রতি তার হৃদয়ে গভীর এক অনুভূতির জন্ম নিয়েছে।মৃত্যুর দুয়ার থেকে যখন তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, তখন ঝাপসা হয়ে আসা দৃষ্টিতে সর্বপ্রথম যে মুখটি সে দেখেছিল, সেটি ছিল জারিফের। তার শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সানাকে তারা ধৈর্য, সাহস ও মানবিকতায় আগলে রেখেছিল।

জারিফ সবকিছুই করেছিল নিছক একজন মানুষের দায়িত্ববোধ থেকে—কোনো প্রতিদান বা বিশেষ অনুভূতির প্রত্যাশা ছাড়াই।

কিন্তু ভেঙে-চুরে যাওয়া হৃদয় সেই মানবিকতাকেই ভালোবাসা বলে ভুল করে ফেলেছিল।
সানার নিঃশব্দ কান্না ও অসহায় মুখশ্রী দেখে অবন্তিকার বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে সানার সামনে দাঁড়াতেই, সানা আর নিজেকে সংবরণ করতে পারল না।

এক ঝটকায় অবন্তিকাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল। তার বুকফাটা কান্নায় চারপাশ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।উপস্থিত সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। কেউই বুঝতে পারছিল না—হঠাৎ এই কান্নার পেছনে কী এমন অসহনীয় যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে।

ঠিক তখনই জায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীরবতা ভাঙল।
শান্ত কিন্তু ভারাক্রান্ত কণ্ঠে সে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে লাগল।

সে জানাল, কীভাবে এক নৃশংস অপরাধের শিকার হয়ে সানার জীবন মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনার পর কীভাবে সে শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল, কীভাবে আতঙ্ক, দুঃস্বপ্ন ও অসহায়তার সঙ্গে প্রতিটি দিন সংগ্রাম করে বেঁচে ছিল, এবং সেই কঠিন সময়ে কীভাবে জারিফ ও জায়ান সর্বশক্তি দিয়ে তাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল।

সবাই যখন স্তব্ধ হয়ে শুনছিল, তখন ইভানও নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল। ইভানও শুরু থেকেই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল। তবে সে কোনো মন্তব্য করেনি।কারণ অভ্র যখন নিজ দায়িত্বে বিষয়টি সামলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন সে ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব থেকেছে। অভ্রর সিদ্ধান্তের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা থাকায় সে আর কাউকে কিছু জানায়নি।

জায়ানের মুখে পুরো ঘটনা শোনার পর উপস্থিত প্রত্যেকটি মেয়ের চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল।
একসময় সেই অশ্রু আর সংবরণ করা গেল না। নীরবে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল।
কারও মুখে কোনো কথা নেই। সবার মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—

একজন মানুষের জীবনে এতটা নিষ্ঠুরতা কীভাবে নেমে আসতে পারে?

রাহা, অবন্তিকা, সাফা, শিফা—প্রত্যেকেই পাথরের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ভেতরটা যেন হাহাকারে ভরে উঠল।তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে যে, এত বড় একটি বিপর্যয় ঘটে গেল, অথচ তারা কেউই তার সামান্যতম খবরও জানতে পারেনি।

আয়াতও নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
সানা যে তারই এলাকার মেয়ে, তবুও এত ভয়াবহ একটি ঘটনার কোনো সংবাদ তার কানে পৌঁছায়নি।

আয়াত ভারী কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলল,

— "আমরা একই এলাকার মানুষ হয়েও... আমি কিছুই জানতে পারলাম না! সে এত বড় একটা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে একা একা লড়াই করেছে... অথচ আমরা কেউই তার পাশে দাঁড়াতে পারিনি!"

তখন রাহা বলে উঠল,

— "অভ্র ভাই, ধর্ষণকারীদের ধরতে পেরেছেন?"

এবার জারিফ সব বলল যে, তাদের তিলে তিলে শেষ করা হয়েছে। আর কাল শেষ শাস্তিটুকু সানা নিজ হাতে দিয়েছে।

তাদের মেইন পয়েন্টে প্রথমে লাল পিঁপড়া দিয়ে কামড় খাওয়ানো হয়, তারপর গরম তেল ঢেলে দেওয়া হয়। আর তারপর একেকজন ছটফট করতে করতে সেখানেই শেষ হয়ে যায়। কেননা এতদিন অভ্র তাদের কম টর্চার করেনি।

সে জানত, তাদের আইনের আওতায় এনে কিছুই হবে না। এ দেশের আইন টাকায় কেনা যায়। টাকা যার, আইনও তার। তারা দেখবে না দোষী কে, নিরপরাধ কে। তারা দেখবে কার টাকা আছে। অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় বিচার পাওয়ার আগেই প্রমাণ হারিয়ে যায়, আর ক্ষমতাবানরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসে। তাই তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার দায় অভ্র নিজের কাঁধেই তুলে নেয়।

—————

কিছুক্ষণ নীরবতা বিরাজ করল। কারও মুখে একটি কথাও নেই। মনে হচ্ছিল, জায়ানের বর্ণিত প্রতিটি দৃশ্য যেন সবার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ভেসে উঠছে।

একজন মেয়ে কীভাবে এতটা অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করেছে—এই ভাবনাই সবার হৃদয় ভারী করে তুলল।

রাহা, অবন্তিকা, সাফা, শিফা, আয়াত—প্রত্যেকের চোখই অশ্রুসিক্ত।

নীরবতা ভেঙে অবশেষে রাহাই মুখ খুলল।

— "সানার পরিবারের কেউ কি জানে?"

জারিফ মাথা নেড়ে বলল,

— "হ্যাঁ... ওর পরিবারকে সব জানানো হয়েছে। সানার মা এখন পুরো বিষয়টি জানেন। তবে তাঁর মেয়ের জীবন সমাজের চোখে কলঙ্কিত হয়ে গেছে—এই আশঙ্কায় তিনি নীরব হয়ে আছেন।"

সে তিক্ত হেসে আবার বলল,

— "আর বলবেনই বা কী? আমাদের সমাজ আজও অপরাধীর চেয়ে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। ছেলেদের অপরাধ উপেক্ষা করা হয়, আর দোষের সম্পূর্ণ ভার চাপিয়ে দেওয়া হয় মেয়েদের ওপর।"

কিছুক্ষণ থেমে সে সানার দিকে তাকাল।

— "তবে সানা এসবের কোনো পরোয়াই করে না। সে বারবার বলেছে—এখানে তার কোনো অপরাধ নেই। সে কেবল একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার। তবুও মায়ের অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এতদিন নীরব ছিল। তবে সে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে কেউ যদি তাকে অপমান করার চেষ্টা করে, তাহলে সে আর চুপ থাকবে না। নিজের হয়ে সে নিজেই জবাব দেবে।"

জারিফ ধীরে ধীরে সানার সামনে এসে দাঁড়াল।
তার চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

— "তুমি কোনো কলঙ্ক নও, সানা। কলঙ্ক তাদের, যারা তোমার জীবনটা নষ্ট করার চেষ্টা করেছে।তুমি আজও আগের মতোই পবিত্র। অপরাধ তোমার নয়, অপরাধ তাদের—যারা তোমার ওপর অন্যায় করেছে। তাই কখনোই মাথা নিচু করবে না।"

জায়ানও এগিয়ে এসে মৃদু হেসে বলল,

— "আবার নতুন করে জীবন শুরু করো। যা হয়েছে, সেটাকে একটি দুঃস্বপ্ন হিসেবে পেছনে ফেলে দাও। সামনে আরও সুন্দর একটি জীবন তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।"

রাহা যতই শক্ত মনের মানুষ হোক না কেন, সানার জীবনের এই নির্মম অধ্যায়ের কথা শুনে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না।সে ডুকরে কেঁদে উঠল।

সাথে সাথে অভ্র রাহাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিল।আলতো করে তার চোখের জল মুছে দিয়ে কপালে হাত রাখল।নরম, স্নেহময় কণ্ঠে বলল,

— "কেঁদো না, জান বাচ্চা... ওদের প্রাপ্য শাস্তি ওরা পেয়েছে। এখন আর তোর চোখে জল দেখতে চাই না।”

রাহা তবুও নিজেকে সামলাতে পারল না। কাঁদতে কাঁদতেই তার হেঁচকি উঠে গেল।

কাঁপা কণ্ঠে সে বলল,

— "আপনারা না থাকলে... সানার কী যে হতো!"

পরক্ষণেই চোখের জল মুছতে মুছতে আবার প্রশ্ন করল,

— "কিন্তু... আপনারা সেখানে কীভাবে পৌঁছালেন?"

অভ্র মৃদু হেসে রাহার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল।

তারপর স্নেহভরা কণ্ঠে বলল,

— "এই ছোট্ট মাথাটায় এত চাপ নিতে হবে না, জান। সবচেয়ে বড় কথা, সানা এখন ভালো আছে। আপাতত সেটাই ভাব।"

অথচ রাহা যদি জানত, সেদিন তার জন্য অভ্র ঠিক কতটা পাগলামি করেছিল, কতটা ভেঙে পড়েছিল, চোখের জল ফেলেছিল—তাহলে হয়তো আজ সে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে যেত।

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!

অভ্রকে একটু শায়েস্তা করার জন্যই তো সেদিন রাহা পরিকল্পনা করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।
কিন্তু সেই এক সিদ্ধান্তই কতগুলো মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, তা সে তখনও জানত না।

ঠিক তখনই ইভান সামনে এগিয়ে এসে সানার উদ্দেশে বলল,

— "কাল থেকে তুমি আমাদের সঙ্গেই থাকবে। আয়াতের বিয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি আর তোমার পরিবার আমাদের বাসাতেই থাকবে। আর কোনো চিন্তা করবে না। আন্টির সঙ্গে আমি নিজে কথা বলব। সবকিছু বুঝিয়ে বলব।"

ইভানের দৃঢ় আশ্বাসে সানার চোখ আবারও ভিজে উঠল। তবে এবার সেই অশ্রুর মধ্যে ভয়ের চেয়ে কৃতজ্ঞতার ছাপই বেশি ছিল।

—————

ভারী পরিবেশটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করল। ঠিক তখনই অভ্রর ডাকা মানুষটিও সেখানে এসে পৌঁছাল।

অভ্র আগেই মাহাদীকে ফোন করে সেখানে ডেকে নিয়েছিল।

মাহাদীকে দেখামাত্রই উপস্থিত সবার মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। কারও মুখে কিছু না থাকলেও চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল।

মাহাদী কাছে আসতেই অভ্র কোনো ভূমিকা না করেই সরাসরি বলে উঠল,

— "আজ থেকে ঠিক পাঁচ দিন পর তোর গায়ে হলুদ। আর তার পরদিন বরযাত্রী নিয়ে আয়াতের বাসায় যাবি। তোর সঙ্গে আমিও যাব—ছেলের বাড়ির মানুষ হয়ে।"

মাহাদী কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই অভ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকে থামিয়ে দিল।

— "একদম চুপ! একটা কথাও বলবি না। যা বলছি, ঠিক সেটাই করবি। নইলে কিন্তু তুইও কোনো ছাড় পাবি না।"

মাহাদী অবশ্য ভালো করেই জানত—এসবের পেছনে আয়াতেরই পরিকল্পনা রয়েছে।

কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল আয়াত।

মাহাদী ধীর পায়ে তার সামনে গিয়ে হঠাৎ কোমর জড়িয়ে এক টানে নিজের কাছে টেনে নিল। ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমি মাখা হাসি ফুটিয়ে বলল,

— "অবশ্যই কেন নয়? বিয়ে যখন করেছি, তখন বউ আনতেও তো অবশ্যই যাব।"

তারপর আয়াতের দিকে ঠোঁট গোল করে চুমুর ভঙ্গি করে মুচকি হেসে বলল,

— "তাই না, আমার ফ্রড বউ?"

পরক্ষণেই কানের কাছে মুখ এনে খুব নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল,

— "আমাকে বিয়ে করার শখটা আমি একেবারে মিটিয়ে দেব। জাস্ট ওয়েট... তোর জন্যই আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে পাইনি।"

আয়াতও কম যায় না।
সেও ইচ্ছে করেই মাহাদীর কোমর জড়িয়ে ধরে দৃঢ় স্বরে বলে উঠল,

— "অবশ্যই, আমার জামাই জান!"

চারপাশের সবাই শুনতে পেল।

এরপর ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে একেবারে নিচু স্বরে বলল,

— "আমিও দেখতে চাই, আপনি কীভাবে আমার শখ মেটান, পিও।"

কথাটা বলেই সেও ইচ্ছে করেই মাহাদীর চুমুর ভঙ্গিটা হুবহু নকল করে দেখাল।

আয়াতের এমন অপ্রত্যাশিত জবাবে মাহাদী মুহূর্তেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল।সে দ্রুত আয়াতকে ছেড়ে দিয়ে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। প্রায় পালিয়েই সেখান থেকে চলে গেল। তার এমন অবস্থা দেখে উপস্থিত সবাই চাপা হাসিতে ফেটে পড়ল।

এরপর সবাই মিলে ঠিক করল, রাতে ছাদে বসে একটি আড্ডার আয়োজন করা হবে। সঙ্গে থাকবে বারবিকিউ পার্টির ব্যবস্থাও।

অনেক প্রস্তুতির বাকি থাকায় সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সানাকেও সঙ্গে নিয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল।

—————

রাতের বেলা ছাদের আড্ডা জমে উঠেছে। বারবিকিউয়ের ধোঁয়া, গল্প আর হাসিতে পুরো পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

ঠিক তখনই হঠাৎ রাহা লাফিয়ে উঠে জোরে চিৎকার করে বলল,

— "কেউ পানি আন! জলদি পানি আন!
অভ্র ভাই, জারিফ ভাই আর জায়ান ভাইয়ের মাথায় পানি ঢালতে হবে!”
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp