— “যখন বন্ধুর বউ ছিলো না,তখন ছিলাম আমি। এখন বন্ধুর বউ হইয়াছে, পর হয়েছি আমি।
ও বন্ধু, বিয়া করিয়া গেলি আমায় ভুলিয়া!
ঘরে কি তোর বউ তরে ঘুতায়?”
অভ্রে কণ্ঠে দুষ্টুমি মেশানো হাস্যরস গানের শেষ লাইনটুকু বলেই হো হো করে হেসে উঠল।তার এমন নির্লজ্জ ঠাট্টায় মাহাদী দাঁত কিড়মিড় করে রাগ সামলে গর্জে উঠল—
— “শাট আপ, অভ্র!”
অভ্র অবশ্য বন্ধুর রাগে বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। হাসির রেশটুকু ঠোঁটে রেখেই বলল—
— “এর জন্যই ভালো কথা বলতে নেই।বউ পেয়ে তো আমায় ভুলেই গেলো বন্ধু। আর আমার জেঠাসের জন্য শপিং করেছিস? আমি কিন্তু কোনো কিপ্টামি বরদাশত করব না।”
মাহাদী বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেলল। অভ্রের সঙ্গে কথা বাড়ানোর কোনো ইচ্ছেই তার নেই। তাই বিরক্ত স্বরে বলে উঠল—
— “সময়মতো সব চলে যাবে। এখন ফোন রাখ।”
অভ্র আর কথা বাড়াল না। কলটা কেটে দিল।
এরপর অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে গেল। রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হতেই থমকে দাঁড়াল।
সেদিনের ঘটনার পর দেখতে দেখতে কেটে গেছে তিনটি দিন। আর পরশুই মাহাদী যাবে আয়াতকে আনতে।বাড়িজুড়ে তখন কুমিল্লা যাওয়ার প্রস্তুতির ব্যস্ততা। একে একে সবাই নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে।আজ আয়াতের গায়ে হলুদ। তাই রাহার বাবা-মা, রাহা, তার ছোট আব্বু, ছোট আম্মু, আয়রা, জায়রা—সবাই আজ কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হবে।
আর আয়াতের বিয়ের দিন অভ্র ,আমান খান ও তাঁর স্ত্রী কুমিল্লায় যাবে।
কিন্তু রাহাকে তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে দেখা মাত্রই অভ্রের মাথায় যেন মুহূর্তের মধ্যে রক্ত চড়ে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, কপালের শিরা দপদপ করে ফুলে উঠল। রক্তাভ, ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে সে স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল রাহার দিকে।
অভ্রের সেই হিংস্র রাগান্বিত চাহনি চোখে পড়তেই আফসানা বেগম দ্রুত এগিয়ে এলেন। ছেলের বাহুতে সান্ত্বনার পরশ বুলিয়ে ধীরে ধীরে হাত ঘষতে ঘষতে শান্ত করার চেষ্টা করে নরম কণ্ঠে বললেন—
— “কিছু বলিস না, বাবা। আমরা তো কালকেই যাচ্ছি। মেয়েটা কতটা খুশি, বুঝতে পারছিস? এত বছর পর বাবার সঙ্গে যাবে। ওর মুখের হাসিটা দেখে আমরাও আর কিছু বলতে পারিনি।”
একটু থেমে ছেলের দিকে তাকিয়ে আবার আশ্বস্ত করার সুরে বললেন—
— “আর বড় কথা, আরমান যেহেতু ওর সঙ্গে আছে, চিন্তার কোনো কারণ নেই।”
মায়ের কথায় অভ্রের মুখের রাগী অভিব্যক্তিটা কিছুটা স্তিমিত হলো, কিন্তু বুকের ভেতর জ্বলে ওঠা ক্রোধের আঁচটুকুও কমল না। বরং রাহার এমন বেপরোয়া সাহস দেখে সে ভেতরে ভেতরে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাচ্ছে।কোনো অনুমতি নেই, কোনো আলোচনা নেই—কী দারুণ বেপরোয়া ভঙ্গিতে তার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই ঢেং ঢেং করে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গেছে!
মেয়েটার এই দুঃসাহসের উপযুক্ত জবাব সে দেবে। এই ঔদ্ধত্যের শাস্তি রাহাকে পেতেই হবে—মনে মনে বলছে অভ্র।
এদিকে রাহা অভ্রকে দেখতে পেয়েই মুখটা আনন্দে উজ্জ্বল করে তুলল। এতক্ষণে যেন তার অপেক্ষার অবসান হলো। খুশি মনে অভ্রের দিকে এগিয়ে গেল।
কিন্তু অভ্র?
রাহার দিকে একবারও না তাকানোর ভান করে। নির্বিকারভাবে তাকে পাশ কাটিয়ে সোজা এগিয়ে গেল আরমান খানের দিকে।একদম তার সামনে গিয়ে থামল। শীতল অথচ হুঁশিয়ারি-মাখা কণ্ঠে খুব নিচু স্বরে বলল—
— “আমার আমানত তোমার সঙ্গে যাচ্ছে। খেয়ানত যেন না হয়, শ্বশুর আব্বা।”
কথাটা শেষ করেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না অভ্র। ঘুরে সোজা বাইরে বেরিয়ে গেল।
অভ্রের এমন উপেক্ষায় রাহার মুখের উজ্জ্বল হাসিটা ম্লান হয়ে গেল। বুকের ভেতর কোথাও যেন চাপা একটা কষ্ট এসে জমাট বাঁধল। সে ভেবেছিল, অভ্রকে দেখলে অন্তত একটু কথা বলবে, হাসি মুখে বিদায় দেবে। অথচ অভ্র এমন নির্দয়ভাবে তাকে এড়িয়ে যাবে, সেটা রাহা কল্পনাও করেনি।চোখেমুখে চাপা বিষণ্ণতা নিয়ে রাহা নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।
অবশেষে সবাই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হলো।
—————
এদিকে মির্জা বাড়িতে আয়োজনের প্রায় শেষ পর্যায়। আজ আয়াতের গায়ে হলুদ। চারদিকে উৎসবের আমেজ, ব্যস্ততা আর আনন্দের রেশ।পুরো বাড়িজুড়ে তখন মেহমানদের গুঞ্জন, হাসি-ঠাট্টা আর কোলাহলে মুখরিত পরিবেশ। এক মুহূর্তের জন্যও যেন বাড়িটা নিস্তব্ধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। রাহাও বেশ যত্ন নিয়ে নিজেকে সাজিয়ে-গুছিয়ে একেবারে পরিপাটি হয়ে তৈরি হয়ে নিল।
অন্যদিকে অভ্র তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজনেস কনফারেন্সে ব্যস্ত। টেবিলের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ফাইল, আর একপাশেই রাখা তার মোবাইল ফোন। ঠিক সেই সময় রাহা অভ্রকে তার কয়েকটি ছবি পাঠিয়ে দিল।
মুহূর্তেই ফোনের স্ক্রিনে একের পর এক ছবির নোটিফিকেশন ভেসে উঠতেই অভ্রের দৃষ্টি সেদিকে আটকে গেল।পরক্ষণেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল।ধপ করে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে পড়ল।
— “এটা কী তাবাহী কাণ্ড!”
অভ্রের দৃষ্টি তখন সম্পূর্ণরূপে ফোনের স্ক্রিনে নিবদ্ধ।
এই মেয়েটা তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে শাড়ি পরে আবার তাকে ছবি পাঠিয়ে পাগল করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে নাকি!
এক হাতে শক্ত করে ফোনটা ধরে অন্য হাতের কনুই চেয়ারের হাতলে ঠেকিয়ে আঙুল দিয়ে কপাল চেপে ধরল অভ্র। তারপর এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত ইনবক্সে ঢুকে পড়ল।
ছবিগুলো খুলে একে একে জুম করে দেখতে লাগল।প্রতিটি ছবিতে তার চোখ এমনভাবে আটকে গেল, যেন চারপাশের পৃথিবীটাই ক্ষণিকের জন্য তার কাছে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।
অভ্রের এমন অস্বাভাবিক আচরণে কনফারেন্স টেবিলের চারপাশে বসে থাকা বড় বড় ইনভেস্টরদের মধ্যেও অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল।
কী এমন ঘটল যে অভ্র হঠাৎ মিটিংয়ের মাঝখানে এভাবে বসে পড়ল?কী এমন দেখছে ফোনে, যে এতটা গভীর মনোযোগ দিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে?
অভ্রকে তারা বহুবার কঠিন ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সামলাতে দেখেছে, কিন্তু কাজের মাঝখানে তার এমন আচরণ কখনোই দেখেনি।ফলে একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে নীরবে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ল তারা—অভ্রের ফোনে আসলে এমন কী এসেছে?
অভ্রের কানে তখনও ব্লুটুথ অন করা ছিল। ফোনটা হাতে নিয়েই সে জারিফকে কল করে সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ স্বরে বলে উঠল—
— “কুইক! ভিতরে আয়।”
কিছুক্ষণের মধ্যেই জারিফ ভেতরে ঢুকতেই অভ্র একটুও সময় নষ্ট না করে বলে উঠল—
— “কন্টিনিউ কর। আমি কুমিল্লা যাচ্ছি। কালকে তুই আর জায়ান, মাহাদীকে নিয়ে চলে আসবি।”
কথা শেষ করেই আর এক মুহূর্তও বসে থাকল না অভ্র। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে নিজের মনেই বিরবির করে উঠল—
— “এই মেয়েটা কবে যে আমাকে এমন করতে করতে শেষই করে ফেলবে!”
একটু থেমে আবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বিরক্তি আর অস্থিরতার মিশেলে বলে উঠল—
— “এই রূপে যদি অন্য ছেলেরা ওকে দেখে, নিশ্চিত আমার বউয়ের সঙ্গে লাইন মারতে চাইবে!”
কথাটা শেষ হতেই যেন হঠাৎ কোনো একটা কথা মনে পড়ে গেল তার।
— “ওহ শিট!”
বিরক্তিতে মাথা ঝাঁকিয়ে আর একটুও দেরি না করে দৌড়ে অফিস থেকে বেরিয়ে গেল অভ্র।পার্কিংয়ে গিয়ে বাইকটা বের করেই মুহূর্তের মধ্যে ইঞ্জিন গর্জে উঠল।পরক্ষণেই বাইক নিয়ে ছুটে বেরিয়ে পড়ল সে।
রাস্তার ওপর বাইকের গতি ক্রমশ বাড়তে লাগল। যেন সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড তার কাছে অসহ্য দীর্ঘ। কুমিল্লার পথে অভ্র তখন ছুটে চলেছে ফুল স্পিডে—মনের ভেতর একটাই তাগিদ, যত দ্রুত সম্ভব রাহার কাছে পৌঁছাতে হবে।
—————
আয়াতকে ইতোমধ্যেই স্টেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
চারপাশের উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেও রাহার বুকের ভেতরটা কেমন যেন হঠাৎ ভারী হয়ে এলো। মনটা বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় সে ধীরে ধীরে মাথা নাড়িয়ে এদিক-সেদিক তাকাল।
একপাশে চোখ পড়তেই দেখতে পেল—তার বাবা-মা বসে আছেন। বাবা খানিকটা দূরে বসে আছেন, আর মা কারও সঙ্গে যেন গভীর আলাপচারিতায় ব্যস্ত।রাহা আর কিছু না ভেবে ধপ করে গিয়ে বাবার পাশে বসে পড়ল। পরম নির্ভরতায় বাবার কাঁধে মাথা এলিয়ে দিল।মেয়ের এমন নিস্তেজ ভঙ্গি টের পেয়ে আরমান খান সস্নেহে তাকে জড়িয়ে নিলেন। মেয়ের মাথায় ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন।
সাথী বেগম একবার মেয়ের দিকে তাকালেন ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই আবার নিজের কথোপকথনে মগ্ন হয়ে গেলেন।
আরমান খান মেয়ের মাথায় স্নেহের পরশ বুলাতে বুলাতে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন—
— “কিরে মা? কী হয়েছে?”
রাহা মৃদু স্বরে উত্তর দিল—
— “ভালো লাগছে না, আব্বু।”
মেয়ের কণ্ঠের বিষণ্ণতা শুনে আরমান খানের বুকটা কেমন করে উঠল। আদুরে স্বরে বলে উঠলেন—
— “হঠাৎ কী হলো আমার নয়নমনির?”
রাহা চোখ নামিয়ে নিয়ে ক্ষীণ স্বরে বলল—
— “এমনি, বাবা।”
আরমান খান কিছুক্ষণ মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন—
— “অভ্রকে মিস করছিস?”
প্রশ্নটা শুনতেই রাহা একেবারে চুপ করে গেল।
কোনো উত্তর এলো না তার মুখ থেকে।মনের অজান্তেই কয়েক ঘণ্টা আগের ঘটনাটা চোখের সামনে ভেসে উঠল।
বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অভ্রের সেই শীতল উপেক্ষা—একবারও যেন তাকে দেখেনি সে। অথচ রাহা কতটা খুশি হয়ে তার কাছে এগিয়ে গিয়েছিল!
তারপর অভ্রকে পাঠানো ছবিগুলোর কথাও মনে পড়ল। ছবিগুলো দেখেও মানুষটা একটা রিপ্লাই পর্যন্ত করল না।
এসব ভেবে রাহার মনটা আরও ভারী হয়ে গেল।
অথচ এই মেয়েটাই জানে না—সে যে ছবিগুলো পাঠিয়ে অভিমান করে বসে আছে, সেই ছবিগুলো দেখার পর তার জন্যই একজন মানুষ কতশত কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে আসছে।
রাহা কোনো উত্তর না দিয়ে বাবার কাঁধেই মাথা এলিয়ে রাখল। ধীরে ধীরে চোখ দুটো বন্ধ করে নিল সে।আরমান খানের স্নেহমাখা হাত তখনও মেয়ের মাথায় অবিরাম বুলিয়ে চলেছে।
যাদের সামনেই সাথী বেগম বসে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী আয়েশা বেগম। এতক্ষণ ধরে দুজনেই আপন মনে ধীরস্বরে গল্প-গুজবে মগ্ন ছিলেন।আয়েশা বেগমের স্বামীও এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত। তাঁদের পরিবারেরও এলাকায় বেশ সুনাম ও প্রতিপত্তি রয়েছে।
ঠিক তখনই আয়েশা বেগমের ছেলে কোনো এক প্রয়োজনের তাগিদে মাকে ডাকতে এসে তাঁদের পাশে বসলো।কিন্তু বসার পরই তার দৃষ্টি আচমকা গিয়ে থামল সামনেই বসে থাকা রাহার ওপর।
চোখ বন্ধ করে বাবার কাঁধে মাথা এলিয়ে থাকা রাহাকে দেখে ছেলেটার চোখেমুখে মুহূর্তেই বিস্ময় আর মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল।
অজান্তেই তার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো—
— “ওয়াও... মাশাআল্লাহ! এটা আমি কী দেখছি!”
ছেলের কথা শুনে আয়েশা বেগম সঙ্গে সঙ্গে তাকে টেনে একটু দূরে নিয়ে গেলেন। তারপর সাথী বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন—
— “এক মিনিট বস, আমি আসছি।”
কিছুটা দূরে গিয়ে তিনি খেয়াল করলেন, তাঁর ছেলে এখনও অপলক দৃষ্টিতে রাহার দিকেই তাকিয়ে আছে।ছেলের এমন মুগ্ধতা দেখে আয়েশা বেগম মুচকি হেসে বলে উঠলেন—
— “ভালো লাগলে প্রস্তাব দিই? কী বলিস?”
মায়ের কথা শুনে ছেলেটা যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারল না।
— “সত্যি বলছ, মা?”
— “হ্যাঁ, আবির।”
মায়ের সম্মতি পেতেই আবিরের মুখটা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
— “উফ্ মা! আমি তো অনেক খুশি হব। এমন একটা পুতুল যদি আমার বউ হয়ে আসে, আমি একদম পুতুলের মতো করেই সাজিয়ে রাখব।”
ছেলের মুখে স্পষ্ট সম্মতি পেয়ে আয়েশা বেগম আর দেরি করলেন না। আনন্দিত মুখে সাথী বেগমের কাছে ফিরে এলেন।
সঙ্গে করে ছেলেকেও সামনে দাঁড় করিয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন—
— “এই যে, আমার ছেলে।”
তারপর ছেলের দিকে তাকিয়ে ডাকলেন—
— “আবির”
মায়ের ডাক শুনে আবির ভদ্রভাবে এগিয়ে এসে সাথী বেগমের সামনে দাঁড়াল। তারপর বিনয়ের সঙ্গে সালাম দিয়ে আত্মপরিচয় দিল—
— “আসসালামু আলাইকুম। আমি শাহরিয়ার আবির। বর্তমানে পেশায় একজন আর্মি অফিসার।”
সাথী বেগম আবিরের দিকে তাকিয়ে সস্নেহে বলে উঠলেন—
— “বাহ! খুবই ভালো বাবা।”
তখনই আয়েশা বেগম একটু এগিয়ে এসে সাথী বেগমের উদ্দেশে বললেন—
— “সাথী, একটা কথা বলব?”
— “হুম, বল।”
আয়েশা বেগম চোখের ইশারায় রাহার দিকে দেখিয়ে জানতে চাইলেন—
— “ওইটা কে রে?”
সাথী বেগম খানিকটা অবাক হয়ে বললেন—
— “কোনটা?”
— “ওই যে... ভাইয়ের কাঁধে মাথা রেখে আছে?”
সাথী বেগমের ঠোঁটে সঙ্গে সঙ্গে গর্বিত এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। মেয়ের দিকে তাকিয়ে আদুরে স্বরে বললেন—
— “ও? আমার কলিজার টুকরা। আমার একমাত্র মেয়ে। তুই তো এখনও ওকে দেখিসনি তাই চিনিস না। তোদের সবার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেব।”
রাহার দিকে একবার ভালো করে তাকিয়ে আয়েশা বেগম মুগ্ধ কণ্ঠে বলে উঠলেন—
— “মাশাআল্লাহ! একদম পুতুলের মতো দেখতে। যদি কিছু মনে না করিস, তাহলে একটা কথা বলেই ফেলি।”
সাথী বেগম এবার কৌতূহলী হয়ে তাকালেন।
— “কখন থেকে একই কথা বলছিস! কী বলবি, সেটা তো তাড়াতাড়ি বল...”
আয়েশা বেগম এবার আর ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা না বলে সরাসরি প্রস্তাবটা দিয়ে ফেললেন—
— “তোর মেয়েটাকে আমার ছেলে খুব পছন্দ করেছে। সত্যি বলতে, আমাদেরও খুব পছন্দ হয়েছে। পুতুলটাকে আমাদের ঘরে দিবি? আমি আমার ঘরের পুতুল বানিয়ে রাখব।”
কথাটা শুনতেই সাথী বেগমের মুখের হাসিটা নিমিষেই মিলিয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগেও যে মুখে আনন্দের আভা ছিল, সেখানে আচমকাই নেমে এলো অস্বস্তি আর বিস্ময়ের ছায়া।
আয়েশা বেগম সাথী বেগমের এমন পরিবর্তন দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন—
— “কী হলো?”
ঠিক তখনই—
পেছন থেকে ভেসে এলো এক কর্কশ ও বরফশীতল কণ্ঠস্বর—
— “পুতুলটা অভ্রের ঘর ছাড়া... যার-তার ঘরে শোভা পায় না।”
অভ্রের সেই গম্ভীর, কর্কশ কণ্ঠস্বর কানে পৌঁছাতেই রাহা ফট করে চোখ মেলে তাকাল।
এখানে উনি!কীভাবে সম্ভব?
রাহা তার মায়ের থেকে কিছুটা দূরেই বসে ছিল, তাই এতক্ষণ ধরে সাথী বেগম আর আয়েশা বেগমের কথোপকথনের কিছুই তার কানে পৌঁছায়নি। কিন্তু অভ্রের সেই ভারী, কর্তৃত্বময় কণ্ঠস্বর যেন মুহূর্তেই তার বুকের ভেতর তীব্র আলোড়ন তুলে দিল।
ধকধক করে উঠল বুক। তখনই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রাহা।পেছনে ফিরে তাকাতেই তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল।
অভ্র ভাই!সত্যিই অভ্র দাঁড়িয়ে আছে।
রাহার বুকের ধুকপুকানি যেন আরও বেড়ে গেল। অস্বস্তি আর অজানা উত্তেজনায় শাড়ির আঁচলটা এক হাতে বারবার মোচড়াতে লাগলো
অন্যদিকে অভ্রের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠেছে দুর্বোধ্য বাঁকা এক হাসি। দুই হাত পকেটে গুঁজে ধীর, আত্মবিশ্বাসী পায়ে এগিয়ে এসে সাথী বেগম আর আয়েশা বেগমের ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
তাদের ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল আবির।
অভ্র একবার তার দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দুই আঙুলের ইশারায় তাকে কাছে ডাকল।
ইশারা পেয়ে আবির এগিয়ে এল।
তবে এগোতে এগোতেই তার ভেতরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল—
লোকটা কে?
আর এমন অধিকার ফলানোর মতো কথা বললই বা কেন?
আবির কাছে আসতেই অভ্র স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করার ইঙ্গিত করে পরিচয় দিল—
— “আই অ্যাম জিহাদ খান অভ্র। হাজব্যান্ড অব আশফিয়া খান রাহা।”
অভ্রের পরিচয় শুনে আবির এক মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে গেল।তারপরও ভদ্রতা বজায় রেখে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করতে এগিয়ে গেল সে।
কিন্তু ঠিক হাত মেলানোর মুহূর্তেই অভ্র আচমকা নিজের হাত সরিয়ে নিল। তারপর সেই হাত মাথার পেছনে নিয়ে গিয়ে এমনভাবে ঘুরিয়ে নিল, যেন হ্যান্ডশেক করার কোনো ইচ্ছেই তার ছিল না।
আবির কপাল কুঁচকে অভ্রের দিকে তাকিয়ে রইল।
লোকটা এমন করছে কেন?তার আচরণের অর্থই বা কী?
কয়েক মুহূর্তের অস্বস্তিকর নীরবতার পর আবির অবশেষে প্রশ্ন করল—
— “রাহা কে?”
অভ্রের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসিটা আরও গাঢ় হলো। আবিরের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল—
— “বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিস, আর নামটাই জানিস না? দিস ইজ ভেরি ব্যাড, মিস্টার শাহরিয়ার আবির!”
কথাটা শুনে আবির হতভম্ব হয়ে রাহার দিকে তাকাল।
তার পছন্দ করা সেই ‘পুতুল’— বিবাহিত!
মুহূর্তেই তার মুখের সমস্ত উচ্ছ্বাস যেন স্তব্ধ হয়ে গেল।
অন্যদিকে রাহাও অভ্রের কথা শুনে বিস্ময়ে থমকে গেল।
মানে? এই লোকটা তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে?
আর সেই কারণেই কি অভ্র এতক্ষণ ধরে এমন তেজি হয়ে আছে?
রাহা আর কিছু ভাবার সুযোগ পেল না। লোকটাকে শান্ত করতে হবে তাই সবার সামনেই ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল অভ্রের বুকে। অভ্রও বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে মাথা নিচু করে এক হাত দিয়ে রাহাকে শক্ত করে জড়িয়ে নিল নিজের সাথে।রাহাকে বুকের সঙ্গে আগলে রেখেই ফট করে দৃষ্টি তুলল আবিরের দিকে।চোখ দুটো তখনই ভয়ংকর আর সতর্কবার্তায় পূর্ণ হয়ে উঠল।
অভ্র ঠোঁট বাঁকিয়ে ঠান্ডা অথচ বিদ্রূপাত্মক স্বরে বলে উঠল—
— “হাজব্যান্ড-ওয়াইফের রোমান্স দেখতে চাস?”
এতক্ষণ আবির ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিল তাদের দিকে। অভ্রের কথা কানে যেতেই সে যেন সম্বিত ফিরে পেল।
সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিল।
পরিস্থিতির অস্বস্তিকর ভারটা বুঝতে পেরে এতক্ষণে রাহার বাবা আরমান খানও এগিয়ে এলেন। হালকা হাসি দিয়ে বললেন—
— “চলো সবাই। মেয়ে আর মেয়ের জামাইকে একটু একা ছেড়ে দাও।”
অভ্র এবার ঠোঁটে দুষ্টুমি মেশানো এক চওড়া হাসি ফুটিয়ে আরমান খানের দিকে তাকাল।
তারপর বলল—
— “তোমার মতো শ্বশুর ঘরে ঘরে হোক। কিন্তু আমার বউয়ের মতো বউ একটাই হোক।”
কথাটা বলেই অভ্র এক চোখ টিপে দিল।
আরমান খান হেসে ফেললেন।
অন্যদিকে রাহা লজ্জায় মুখ গুঁজে রইল অভ্রের বুকে।
রাহা তখন লজ্জায় যেন অভ্রের বুকের ভেতরেই গলে মিশে যেতে চাইছে। মুখটা এতটাই লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠেছে যে, চোখ তুলে কারও দিকে তাকানোর সাহসটুকুও পাচ্ছে না।তবে তার প্রেমিক পুরুষটা যে তার ওপর ভীষণ অভিমান করে ছিল, সেটা বুঝতে রাহার একটুও বাকি রইল না। অভ্রের প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি কথার আড়ালেই সে সেই অভিমানের তীব্রতা স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে।
এদিকে আরমান খান হেসে বলে উঠলেন—
— “হতচ্ছাড়া!”
বলেই সেখান থেকে চলে গেলেন।
এরপর সাথী বেগমকেও ডাক দিলেন। সাথী বেগম সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন—
— “আসছি।”
বলেই নিজের বান্ধবী আয়েশা বেগমকেও সঙ্গে টেনে নিয়ে এগিয়ে গেলেন।
কিন্তু অভ্রের সঙ্গে এতক্ষণকার কথাবার্তা আর তার ব্যবহার দেখে আয়েশা বেগমের চোখেমুখে তখনও স্পষ্ট বিস্ময়। মনে মনে যেন ভাবছেন—এ কেমন ছেলে! কথাবার্তার ধরনই বা এমন কেন?
শেষ পর্যন্ত আর নিজের মন্তব্য চেপে রাখতে পারলেন না। সাথী বেগমের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলে ফেললেন—
— “সাথী, তোর মেয়ে এর চেয়েও অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে। তোর মেয়ের জামাই মোটেও সুবিধার না।”
কথাটা শুনেই সাথী বেগমের মুখের হাসি ফট করেই মিলিয়ে গেল।তিনি সঙ্গে সঙ্গে আয়েশা বেগমের হাতটা নিজের হাত থেকে সরিয়ে দিলেন। চোখেমুখে এবার ফুটে উঠল তীব্র অসন্তোষ।
কঠোর কণ্ঠে বলে উঠলেন—
— “একদম না,খবরদার । অভ্রকে নিয়ে একটা কথাও আমি সহ্য করব না, আয়েশা।”
একটু থেমে আরও কঠিন স্বরে বললেন—
— “আমার মেয়ের জামাইকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজের কথাগুলো একবার ভেবে বলবি। অভ্র কেমন, সেটা তুই কয়েকটা কথাবার্তা শুনে বিচার করার কেউ না। আমার মেয়ে কার হাতে আছে, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি।”
আয়েশা বেগম নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
সাথী বেগম থামলেন না। কণ্ঠে এবার স্পষ্ট মাতৃত্বসুলভ দৃঢ়তা—
— “আর একটা কথা মনে রাখিস—অভ্র শুধু আমার মেয়ের জামাই না, সে আমার ছেলে ও। আমার মেয়ের জীবনে অভ্রের জায়গাটা নিয়ে কারও কাছে কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন আমি বোধ করি না। আর যাকে তুই চিনিস না, জানিস না, তার চরিত্র কিংবা ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার তোর নেই। সেই অধিকার নেওয়ার চেষ্টাও করিস না।”
শেষ কথাটা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করলেন—
— “এবার চল।”
সাথী বেগম আর এক মিনিটও দাঁড়ালেন না। সেখান থেকে চলে গেলেন।
আর আয়েশা বেগম?
তিনি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন।
সাথী বেগমের মুখ থেকে এমন দৃঢ় প্রতিবাদ তিনি একেবারেই আশা করেননি।
—————
সবাই চলে যেতেই অভ্র আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। রাগে-ক্ষোভে টানটান হয়ে থাকা দুই হাত রাহার কোমর ঘিরে নিজের দিক থেকে ছাড়িয়ে পিছনদিকে ঠেলে দিল এক ঝটকা ধাক্কা।
ধাক্কার তীব্রতায় রাহা কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে পাতানো সোফায় ছিটকে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গেই তার চোখজোড়া জলে ভরে উঠল। মাথাটা সামান্য নিচু করে, শরীরটা একদিকে হেলিয়ে কুঁকড়ে রইল সে।
অভ্রও থেমে থাকল না। দ্রুত এগিয়ে এসে তার সামনে হাঁটু মুড়ে বসল। রাগে কঠিন হয়ে থাকা চোখদুটো স্থির হয়ে আটকে রইল রাহার ভেজা মুখের ওপর।
কণ্ঠে জমাট বাঁধা ক্রোধ নিয়ে বলে উঠল—
— “আমাকে পাগল করার মন্ত্রটা তো বেশ ভালোভাবেই জব্দ করেছিস, দেখছি। তাই বলে এভাবে পাবলিকলি সং সেজে বসে আছিস? তোর সাহস কী করে হয়?
আমাকে না জানিয়ে বাবার সঙ্গে আসার সিদ্ধান্ত নেয়ার..? তাও তো তোকে আমি বারণ করিনি।"
রাহা কোনো উত্তর দিল না। নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়তে লাগল তার চোখের পানি।
নীরবতায় অভ্রের ধৈর্যের বাঁধ আরও ভেঙে গেল। রাহার কাছ থেকে কোনো জবাব না পেয়ে সে আবারও ধমকে উঠতে যাচ্ছিল—
ঠিক তখনই রাহা হঠাৎ শব্দ করে কেঁদে উঠল।
কান্নার সেই অসহায় শব্দে মুহূর্তেই থেমে গেল অভ্র।
কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে রাহার দিকে তাকিয়ে থেকে এবার অপেক্ষাকৃত কঠিন স্বরে জিজ্ঞেস করল—
— “শাড়ি কেন পরেছিস? বল।”
রাহা কাঁদতে কাঁদতেই অস্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠল—
— “আপনার জন্যই।”
অভ্রের কপালের ভাঁজ আরও গভীর হলো।
— “তা আমার হলে তুই এখানে কেন?” আমি ছাড়া কারো সামনে শাড়ি পরা নিষেধ ভুলে গেছিস?
রাহা চোখের পানি মুছতে মুছতে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
— “এক ঘণ্টা হবে...শাড়িটা পরেই আপনাকে ছবি দিয়ে বাবার কাছে বসেছিলাম। আর এই এক ঘণ্টার মধ্যেই আপনি চলে এসেছেন।”
অভ্র বলে উঠল—
— “তুই তো এটাই চেয়েছিলি।”
ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাহার চোখ দুটো অস্থিরভাবে এদিক-সেদিক ছুটে বেড়াতে লাগল।
সত্যিটা তো সে নিজেও জানে—ইচ্ছে করেই এমনটা করেছে। অভ্রের মন ভালো করার জন্যই তো শাড়িটা পরেছিল। কিন্তু সে কি আর জানত, অভ্র যে এখানে চলে আসবে?
অভ্র আবারও রাহার দিকে এগিয়ে এল। রাহার দু'পাশে দুই হাত রেখে ঝুঁকে এল তার ওপর।
অভ্রের প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে রাহার অস্থিরতাও যেন ক্রমশ বেড়ে উঠতে লাগল। পেছনে সরে যাওয়ার আর কোনো জায়গা না পেয়ে শেষমেশ রাহা পুরোপুরি সোফায় শুয়ে পড়ল। দুইজনের মধ্যকার দূরত্ব মুহূর্তের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে এলো।
অভ্রের মুখ ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগল রাহার মুখের দিকে। তার দৃষ্টিতে তখনও সেই তীব্র অধিকারবোধের ছাপ।
ভারী কণ্ঠে বলে উঠল—
— “নে, এবার এসেই গেছি। এটার শাস্তি তো তোকে দিতেই হবে।”
কথাটা বলেই অভ্রের দৃষ্টি ধীরে ধীরে নেমে গেল রাহার ঠোঁটের দিকে। আরও একটু ঝুঁকে এল সে।
রাহার হৃদস্পন্দনটা যেন চলন্ত ট্রেনের ন্যায় কয়েকগুণ দ্রুত ছুটতে লাগল।চোখ দুটো ভয়ে বিস্ফারিত হয়ে স্থির হয়ে রইল অভ্রের মুখের ওপর।
অভ্র আরও কাছে এগিয়ে এলো—
আর ঠিক যখন পরিস্থিতি একেবারে শেষ সীমায় পৌঁছে গেল—
ঠিক তখনই_
·
·
·
চলবে……………………………………………………