ভালোবাসি সুচরিতা - পর্ব ১২ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

ভালোবাসি সুচরিতা - মম সাহা
          শিকদার বাড়ির নিস্তব্ধতা ভেঙে দোতালায় থাকা টেলিফোনটা বেজে উঠল উচ্চ শব্দে। কেঁপে উঠল সোফায় বসে থাকা জোহরা। অন্যান্য সময় টেলিফোন এলে তার ভেতরে একটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে। টেলিফোন কে করেছে, তার কাঙ্খিত মানুষটি কি-না সেসব ভেবে উতলা হয়ে উঠে মন। বুকের ভেতর থাকা চড়ুইপাখির মতো মনটা ছটফট করে ডানা ঝাপটায়। অথচ আজ তার বিশেষ কিছুই হলো না। এতটা আলসেমিতে ঠেকল মন যে, একটু ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার প্রয়োজন বোধটুকুও করল না। 

 অপরদিকে চঞ্চল টুইটুবানি হাতে চামচ নিয়ে এগিয়ে এলো। সবার ক্ষেত্রে টেলিফোন ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও ওর ক্ষেত্রে বিষয়টা বিপরীত। যাবের শিকদারের অনুপস্থিতিতে ওর অনুমতি আছে টেলিফোন তোলার। তবে আজ যাবের শিকদার বাড়িতেই ছিলেন বলে টুইটুবানি বিশেষ গা করেনি। কিন্তু বেশখানিকটা সময় ফোন বাজার পরেও যখন রিসিভার তোলা হলো না তখন সে রান্না রেখেই ছুটে এলো। কোমড়ে হাত দিয়ে দোতালায় তাকিয়ে সন্দিহান স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়ল হাওয়ায়,
 “আব্বা যে এখনো আসে নাই ফোন তুলতে? ঘুমাইছে না-কি?”

 জোহরার উত্তর দেওয়ার তাড়া নেই। তবুও আলসে ভঙ্গিতে বলল, “হয়ত। গিয়ে তোল তুই।”

  টুইটুবানি ছুটে গেলো। সিঁড়িগুলো বাতাসের বেগে টপকেই তুলল ফোনটা। 

এতক্ষণে বিপরীত পাশের ফোন উঠতেই মেজবাহ্'র চিন্তিত ভ্রু জোড়া সমতল হলো। তবে সেদিনের মতো আগ বাড়িয়ে কথা বলল না সে। অপেক্ষা করল অপরপাশের কণ্ঠের। 
 টুইটুবানি চওড়া গলায় আপনমনে বলল, “আব্বা এহন ঘুমায়। পরে টেলিফোন করবেন। আপনার নাম কী? বইলা দেন আমারে। আমি আব্বারে বলমু।”

  একটি কিশোরী কণ্ঠের শুদ্ধ-অশুদ্ধের বাক্য ফোনের ওপাশ থেকে ছুটে আসতেই মেজবাহ্’র ভ্রু দু'টি কুঞ্চিত হয়ে গেলো। আজ আরও একটি ভিন্ন মানুষ তার ফোন তুলল?
তবে ওর আজ ধৈর্য ধরার ক্ষমতা নেই। তাই অগত্যা আগ বাড়িয়ে বলতে হলো, “সুচরিতা আছে? আমি আসলে তাকে খুঁজছিলাম।”

 টুইটুবানি কস্মিনকালেও এই নামে কাউকে দেখেনি। শুনেওনি কখনো এই নাম। টেলিফোনের লোকটা নির্ঘাত ভুল নাম্বারে ফোন করে ফেলেছে। আহারে! 
 “না তো ভাই, সুচরিতা নামে কেউ নাই এইহানে। আপনে মনে হয় ভুল নাম্বারে ফোন দিছেন।”

 মেজবাহ্ আলগোছে জিভ কাটে। মেয়েটার আসল নামতো সে জানে না। তার দেওয়া নাম এটা। এই নাম বললে যে ওপাশের কারোরই চেনারই কথা নয়। এবার তবে কী হবে?
সোফায় বসে থাকা জোহরার কানে সুচরিতা নামটি বারি খেতেই ও চট করে ওঠে দাঁড়ালো। লোকটা কল করেছে তাকে? এই সময়? কেন? সংবাদ শিরোনামে যা দেখল সেটার জন্য? সেটার জন্য তাকে কেন কল করবে? 

 ভাবতে ভাবতে সিঁড়ির গোঁড়ায় এসে দাঁড়াল জোহরা। ওর মনে একটা ভয়ও জেঁকে ধরল। বাবা আজ বাড়িতে। কিছু একটা উনিশ-বিশ হলেই তাদের সন্দেহ করবেন বাবা। তাই পরিস্থিতি সামলাতে টুইটুবানিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
 “কিরে? অপরিচিত কেউ? তাহলে রেখে দে। কথা বলিস না।”

টুইটুবানি ফোন কানে রেখেই মাথা নাড়াল, “হ মেঝো আপা। সুচরিতারে চায়।”

 “তুই সুচরিতাকে চিনিস?”

“না।” টুইটুবানি সহজ ভঙ্গিতেই বলল। তবে জোহরার তখন ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় এবং চাপা রাগে ভেতর তোলপাড়। সে ধমকে উঠল, 
 “না চিনলে ফোন ধরে রেখেছিস কেন? রাখ ফোন।”

 এত জোরেই বলল যে ওপাশের মেজবাহ্ শেখও কণ্ঠটি চিনে ফেলল। এত দিনের পরিচিত কণ্ঠ ও চিনবে না? তবে কি মেয়েটা সামনে থেকেও ফোন তুলল না? সংবাদটা দেখেই কি তুলল না। 
চিন্তায় মেজবাহ্ নাজেহাল হলো। তার চিন্তিত সেই ভাঁজ ফুটে উঠল কপাল জুড়েও। 

  সিকান্দার দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলো। নরম চোখে তাকিয়ে ছিলো মেজবাহ্'র দিকে। একজন লোকের সম্মান পুরো দেশব্যাপী নিলামে উঠছে জেনেও সে কি-না একটা অপরিচিত মেয়ের জন্য চিন্তায় কপাল কুঁচকাচ্ছে? এমন দিনও তাকে দেখতে হলো? 

 সিকান্দারের মন ছোটো হয়ে এলো ভাইয়ের চিন্তিত মুখটি দেখেই। খাঁদে নামানো স্বরে বলল, 
 “ভাই, এখন কোথায় যাবেন? থানাতে? না-কি তুলে আনতে?”

 “থানাতে যাবো। দেশে আইন আছে, আইনেরে প্রয়োগ করতে হবে সম্মুখে। আর আড়ালে এমন করে ধ্বংস করতে হবে যেন কেউ একই ভাবে ভুল দ্বিতীয়বার না করে। তবে সেটা সাবধানে, কাকপক্ষীও যেন টের না পায়। তুই খোঁজ নে সর্বপ্রথম কোন চ্যানেল এই খবর প্রচার করেছে। আমি থানায় যাচ্ছি।”

 সিকান্দার আমতা-আমতা করল, “আমিও আপনার সাথে থানায় যাবো, ভাই। এরপর আপনি বাড়ি এলে আমি খোঁজ নিতে যাবো। আপনাকে একা থাকতে দিবো না।”

  মেজবাহ্ সিকান্দারের দিকে একবার তাকালো। ছেলেটা ওকে ছাড়া কিছু বুঝে না। সবসময় ওর পাশে পাশেই যেন থাকতে হবে। 
রাজি না হয়ে কি আর উপায় আছে? মেজবাহ্ তাই রাজি হলো। ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, “চল। আমাকে যেহেতু ছাড়বিই না, আমার সাথেই চল।”

  সিকান্দার ফিচেল স্বরে বলল, “ছাড়ার জন্য যে ধরিনি প্রিয়তমা। সরি প্রিয়তম।”

 মেজবাহ্ চোখ রাঙাল, “সিকান্দার, চড় খাবি বললাম।”
সিকান্দার হেসে ফেলল। হাসলো মেজবাহ্ও। সিকান্দারের বাহুতে হাত রেখে বেরিয়ে গেলো বাড়ি ছেড়ে। এই ছেলেটা পাশে থাকলে মেজবাহ্'র অনেক কঠিন সময়ও সহজ হয়ে যায়। এর ভেতর একটা জাদুর মতো ব্যাপার রয়েছে।

 মেজবাহ্'রা যখন তাদের গাড়িটিতে উঠবে ঠিক সেই মুহূর্তেই কবির শেখের গাড়িটা শাঁই করে এসেই দাঁড়ালো তাদের সামনে। হন্তদন্ত কবির শেখ গাড়ি থেকে নেমে গেলেন সেক্রেটারি লোকটা নামার আগেই। কিছুটা ব্যস্ত পায়েই ছুটে এলেন ছেলের দিকে। 
 আব্বুর চিন্তিত মুখশ্রী দৃষ্টি এড়ায়নি মেজবাহ্'র। তবে সে রইল শান্ত। তার আশেপাশের ছেলেগুলোকে পিছনের গাড়িতে উঠতে বলে সে-ও কবির শেখের দিকে আগালো দু'কদম।

 “আব্বা, বাপ আমার, ঠিক আছোতো? ঠিকঠাক সব?” কবির শেখ এমন করে প্রশ্ন করলেন যেন কিছুই জানেন না তিনি। ছেলে যেন বিব্রত নাহয় সেজন্য নিজেকে রাখলেন ভীষণ সাবলীল। 
 চোখোর মণিগুলো ছেলের মুখমণ্ডলে ঘুরাচ্ছেন পাগলের মতো। ছেলেটা যে তার বুকের পুরোটা জুড়ে। ছেলের এমন দুর্নামে শহর ছেয়ে যাওয়ায় তিনি টিকতে পারেননি। ছুটে এসেছেন শোনার সঙ্গে সঙ্গেই।
 
 মেজবাহ্ তার পকেট থেকে আলগোছে রুমালটা বের করল। কবির শেখের কপালে ধীরে সেটা ছুঁইয়ে মুছতে লাগলো ঘাম। এমন অবলীলায় মুছল যেন কিচ্ছুটি হয়নি। পিতার প্রতি এক বুক স্নেহ ব্যতীত মেজবাহ্’র জীবনে আর কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
  ছেলের বাহুতে রাখা কবির শেখের হাতটি ঢিলে হলো। মুষ্টি হয়ে গেলো হালকা। ছেলেটা যে তার মুখচোরা। মুখ ফুটে বাবাকে কিচ্ছুটি বলবে না। এই যে দেখো, কেমন করে বাবার মুখ মুছিয়ে দিচ্ছে! ওদিকে ওর চরিত্র নিলামে উঠিয়ে সভা বসেছে আর এদিকে সে আছে বাবাকে শান্ত করতে ব্যস্ত।

 “আব্বু, আমি একদম ঠিক আছি। আপনি বাড়ি যান। আরাম করুন। আমি কিছুক্ষণ পরই ফিরবো।”

 কবির শেখ মুখ ফুটে সেই লজ্জাজনক সংবাদটির কথা আর বলার প্রয়াস করলেন না। বলে হবেই বা কী? তার ছেলে নিশ্চয় এতক্ষণে জেনে ফেলেছে সেই বিষয়ে। 
তাই আগ বাড়িয়ে সেসব নিয়ে কথা বললেন না তিনি। বরং পুত্রকে আশ্বস্ত করতে বললেন,
 “সাবধানে যাও। মনে রাখবে, তোমার আব্বা সবসময় তোমার সাথে আছে। এই পৃথিবী তোমার বিপক্ষে দাঁড়ালেও একজন তোমার পক্ষে সারাজীবন থাকবে। এই আব্বা তোমার পক্ষে থাকবে মেজবাহ্, আজীবন।”

 “চাচা কেবল আপনি না, আমিও ভাইয়ের সঙ্গে আছি। আপনি যান বাড়িতে। আমরা দেখে নিচ্ছি বিষয়টা।” সিকান্দারের আত্মবিশ্বাসী কথার প্রসঙ্গে মাথা নাড়ালেন কবির শেখ। সেক্রেটারি লোকটা এখনও কবির শেখের মাথায় ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। 
 
 মেজবাহ্ লোকটাকে ইশারা করতেই লোকটা কবির শেখকে বাড়ি ঢোকার তাড়া দিলেন। মেজবাহ্ও ফিরল উল্টো দিকে। উঠে গিয়ে বসল গাড়িটায়। ওর বাবাকেও যারা এত চিন্তায় আজ ফেলেছে সেই প্রত্যেকের হিসেব ও নিয়ে ছাড়বে। কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিবে।

 সিকান্দার গাড়ির গতি তীব্রতর করেছে। বাতাস পিছে ফেলে যেন সিলেটের বুক চিরে ছুটছে তিনটি গাড়ি পরপর। প্রথমটিতে মেজবাহ্'রই রক্ষীরা। সব তরুণ ছেলেপেলে। মাঝের গাড়িতে মেজবাহ্ আর সিকান্দার। শেষের গাড়িতেও মেজবাহ্'রই দলের ছেলেগুলো। মেজবাহ্'র নামে কোনো গুজব ছড়িয়েছে আর এ ক'জন সঙ্গে যাবে না তা কেমন করে হয়?

 “ভাই, থানায় নিচ্ছি আগে গাড়িটা। এরপরে ঐ সাংবাদিকের বাড়িতে যাব।”

 “বাড়িতে নয়। ওকে বাড়ির বাহিরে আনতে হবে। আমার নামে কেউ এমনি এমনি কথা ছড়ায়নি। আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

 স্টিয়ারিং-এ হাত রাখল সিকান্দার। গাড়ির গতি আরও খানিক বাড়াল, “তাই বলে ওকে ছেড়ে দিবেন? ওকে পুঁতে ফেলবেন ভাই। ওর হিসেব বুঝে নিতে হবে।”

 “হিসেব আমি ঠিক বুঝে নিবো, সিকান্দার। কেবল আসলটুকু নয়, সুদেও ওদের এই হিসেব চুকাতে হবে। মেজবাহ্ সুদ খায় না, হারামে যায় না। কিন্তু এইসব অন্যায়ের মাসুল সে সুদে গুণবে। শেখের ব্যাটার গায়ে কালি ছোঁড়া তাই না? এমন শিক্ষা দিবো কেবল সাংবাদিক নয় ওর চ্যানেল আর অফিসের প্রত্যেকটা সদস্যসহ সারা জনম আফসোস করে মরবে। ভুলের ক্ষমা আমি করি কিন্তু অন্যায়ের না। শেখের ব্যাটার নাম যেখানে কলঙ্কিত হয়েছে সেই জায়গাটিই সে রাখবে না।"

—————

  শুক্লাদের বাড়িটা নিরিবিলি। দু'টো কাজের মহিলা রয়েছে। ওরা ব্যতীত কথা বলার কেউ নেই। কথা বলেও না কেউ তেমন। শাহানা বেগম ব্যস্ত থাকেন নিজের ঘরেই। কখনো খুব বেশি একা অনুভব হলে তার কিছু পরিচিতদের সাথে আড্ডা দিতে যান। সে সময়টায় শুক্লা যদি বাড়িতে থাকে তবে পুরোপুরি একাই থাকে। করার মতো কিছু নেই বিধায় সে বারান্দায় ক'টা ফুলের গাছ লাগিয়ে ছিলো। সেগুলোরই যত্ন নেয়। নয়ত রান্না করে নিজ হাতে। নিজে যতটুকু খাওয়ার খায় বাকিটুকু বাড়ির কাজের খালাদের ও দারোয়ান মামাকে খাওয়ায়। বাবা-মায়ের জন্য একটুও রাখে না। না রাখারই কথা অবশ্য। শুক্লার ভালোবেসে করা কাজ কেউ তেমন প্রাধান্য না দিলে ও নিজেও তাদের প্রাধান্য দেয় না সেই প্রিয় কাজে।

  আজ শুক্লার বিরতি দিন। মাসে এমন এক-দুটো দিন থাকে যখন সে নিজের সাথে একা সময় কাটায়। বারান্দার ফুলগুলোর যত্ন নেয়। যত্ন নেয় নিজের রূপের। আজও সে বারান্দার ফুলের যত্ন নিয়েছে বেশ অনেকটা সময় লাগিয়ে। এরপর সেরেছে গোসল। রাত আটটায় গিয়ে একটু স্বস্তি পেলো। বসল ড্রয়িং রুমের সোফায়। গোসলে যখন গিয়েছিলো তখন শুনেছিলো তার এক বান্ধবী টেলিফোন করেছিলো। তাই প্রথমই মগ ভর্তি চা নিয়ে সে টেলিফোন তুলল কানে। ফোন করল তার বান্ধবীকে। 

 ওপাশে আজ তার বান্ধবী আশার কণ্ঠটা চঞ্চল। কিছু বলার জন্য মুখিয়ে আছে ভাব,
 এই শুক্লা, শুনেছো কিছু?”

 শুক্লা আয়েস করে চায়ে চুমুক দিলো। আশার চরিত্রের ধাঁচই এমন। সাধারণ কথাকেও এমন আগ্রহের সঙ্গে উপস্থাপন করে যেন সামনের মানুষটি ভড়কে যায়। তবে শুক্লা ওর সেই বিষয়ে অবগত বলেই ভড়কালো না। পা নাড়াতে নাড়াতে বলল,
 “কতকিছুই তো শুনি, আশা। তুমি কী সম্পর্কে বলছ ঠিক? খুলে বলো একটু।”

 আশার এতক্ষণের চনমনে কণ্ঠে চোরা ভাব ধরা দিলো। ফিসফিসিয়ে বলল, “আমাদের জেন্টেলম্যান তো ফেঁসে গিয়েছে। দেখোনি? ফিলোসোফির পাঠ পড়াতে পড়াতে বেচারা কেমিস্ট্রির পাঠে চলে গিয়েছে।”

 ফিলোসোফির কথা উঠতেই শুক্লা চমকে গেলো। ওপাশ থেকে আশালতার হাসি শোনা যাচ্ছে বেশ। ঘটনা যা-ই ঘটুক মেয়েটা ভীষণ উপভোগ যে করছে তা ওর সেই হাসি দেখেই বোঝা গেল ঢের। 
  শুক্লা চায়ের মগ রেখে দিলো পাশেই। উৎকণ্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “হয়েছে কী? এমন করে হাসছো যে?”

 “হাসব না? সিলেটের মোস্ট বিউটিফুল নেতা বাড়ির ভেতরে না-কি অন্যরকম সম্পর্ক চালাচ্ছে। সেটা নিয়ে টেলিভিশনে শিরোনাম চলছে। উপরমহলে চর্চাও শুরু হয়ে গিয়েছে। ভাবীর সঙ্গে না-কি অপ্রীতিকর কিছু রয়েছে তার।”

 “অসম্ভব। এটা কখনোই আমি বিশ্বাস করব না। তুমি কেন স্বয়ং মেজবাহ্ শেখ বললেও করব না।” শুক্লা আশালতার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলল কথাটি। যেন ওর চেয়ে ভালো কেউ জানেই না মেজবাহ্’কে।
 আশালতা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তুমি এত বিশ্বাসের সঙ্গে বলছ কী করে? হতেও তো পারে সত্যি এটা!”

 “অসম্ভব। তুমি উনার সাথে বসে কখনো দু'টো কথা বলোনি। যদি দু'টো কথা বলতে তবে নিশ্চয় বুঝতে পারতে এই লোক আর যা-ই করুক এসব কদর্য বিষয়ে থাকবেন না কখনো।”

 “আমি উনাদের বাড়িতে বহুবার গিয়েছি। দেখা হলে কথাও বলেছি। কোথায়, আমারতো এত বিশ্বাস আসছে না। তাছাড়া উনার ভাবীটাও বেশ সুন্দরী।”

 “তুমি যতটুকু কথা বলেছো তা হলো ভদ্রতার জন্য বলা। আমি দু'দিন উনার সাথে দেড় ঘন্টার সাক্ষাৎকার করেছি। উনার বলার ভঙ্গি, তাকানোর ধরনে বলে দেয় উনার চরিত্র কেমন। যতই হোক, আমরা নারী। আমাদের দিকে কে, কেমন করে তাকায় তা আমরা বুঝি। আমরা ছেলেদের ভাবভঙ্গিমা দেখলেই আন্দাজ করে নিতে পারি তার চরিত্র সম্বন্ধে।”

 শুক্লার এই পূর্ণ বিশ্বাস ভরা কথায় অতঃপর দমে এলো আশালতার আনন্দ। এবার ওকেও একটু ভাবুক মনে হলো। অন্যমনষ্ক গলায় বলল,
 “আমার বাপিও এটা বলেছেন। বাপিতো বহুবছর ঐ দলে। মেজবাহ্ শেখের সাথে যদিও তার ঠিক বনিবনা হয় না তবে তিনিও এই সংবাদের সাথে সহমত হননি।”

 “বাপি বলতে? তোমার ঐ চাচা? মালেক সাহেব?”

“হ্যাঁ। উনিই বললেন যে সংবাদে নাকি কোনো রাজনীতি লুকিয়ে আছে।”

  শুক্লা আর কথা বাড়ালো না। কোনোরকমে আশালতার থেকে বিদায় নিয়ে ফোন কাটল। এরপর নাম্বার ঘুরালো পুনরায়। ফোন করল মেজবাহ্ শেখের নাম্বারে। এমন একজন লোককে এইরকম বদনাম কে দিলো? কার এমন স্বার্থ জড়িয়ে! এত বিশ্রী কাণ্ড ঘটালো।

—————

   শিকদার বাড়ির বারান্দা দিয়ে তাকালো দেখা যায় সামনের একটি বিস্তৃত মাঠ। দূর থেকে মাঠটিকে এত স্পষ্ট, সুবজ, সজীব লাগে! যে কারোই মন ভালো হয়ে যায় সেদিকে তাকালেই। ঢাকার ভেতরে এই এক খণ্ড সবুজ মাঠ আর তার মাঝখানে একটি ঘাট দেওয়া পুকুর যেন মাটির অনুভূতি দেয়। গ্রামের এক টুকরো শান্তি অনুভব করায়।
 
  জোহরা দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়। ভোর হয়ে গিয়েছে অথচ তার বিশেষ নিদ্রা নেই চোখে। মাঝে মাঝে জোরপূর্বক বইতে মন দিতে চাইলেও দিতে পারেনি। অসহ্য একটা অনুভূতি চেপে বসেছে বুকে। সে মেজবাহ্ শেখকে কখনো ব্যক্তিগতভাবে চিনতে পারেনি। জানতে পারেনি। কিন্তু যতটুকুই জেনেছিলো কিংবা চিনেছিলো সেই চেনার সাথে আজকের চেনায় যেন সংঘর্ষ ঘটছে। মেজবাহ্ শেখের সঙ্গে ওর দেখাটা ছিলো কাল্পনিক। মুভি, সিনেমাতে যেমন হয় ঠিক তেমন। প্রায় দুটো বছর হয়ে গেলো সেই দেখার। তখন বোধহয় ছিলো শীতকাল! একটি কুয়াশাময় সিলেট গমনের দিন!
 জোহরার চোখে ভেসে উঠলো সেসব স্মৃতি—

 তখন সময়, ১৯৯৭ সালের এক ঝলমলে অক্টোবর। নিজের শহর ছেড়ে সিলেট ঘুরতে গিয়েছে জোহরা। কেবল জোহরা নয়, তার ছোটো বোন- প্রেমা, বড়ো ভাই- ইমন এবং তাদের গৃহভৃত্য- ষোলো বর্ষীয়া টুইটুবানি। 
সিলেটের বিছনাকান্দিতে একটি দু-তালা বাড়িতে তাদের থাকার জায়গা করা হয়েছে। রস্তমপুর গ্রামে এই বিছনাকান্দি অবস্থিত। আর পুরো রুস্তমপুর গ্রামে এইরকম রাজকীয় প্রাসাদ টাইপ বাড়ি নেই বললেই চলে। যেহেতু জোহরার বাবা সিলেটের এককালীন বসবাস করা সুপরিচিত মানুষ ছিলেন সেহেতু তার কিছুটা হলেও পরিচিতি লোকবল আছে সিলেটে। এবং সেই সূত্রেই জোহরাদের এত ভালো থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়ে যায় বিনা বাঁধায়। কেবল থাকার ব্যবস্থা না, বরং বেশ আপ্যায়নও করা হচ্ছে তাদের। বাড়ির কেয়ারটেকার এবং তার স্ত্রী বেশ যত্ন নিচ্ছেন তাদের। 

ভোর বেলার ট্রেনে এসে পৌঁছায় তারা সিলেট। সিলেটের ভোর সুন্দর, আকর্ষণীয়। কুয়াশায় আচ্ছন্ন ধোঁয়া মাখা ভোর। চারপাশে শীত শীত ঘ্রাণ। স্টেশনে নেমেই কুহেলিকার চাদরে জড়ানো ভোরটাকে উপভোগ করতেই চারজন গরম গরম চা নিল। সবাই বেশ চায়ের প্রশংসা করলেও খুঁত ধরল টুইটুবানি। কেমন মুখ-চোখ কুঁচকে বলল,
 “এটা চা হইলো? কেমন পাতলা পানির মতন। আর রঙটাও তো কেমন কাইলচা। দুধ চায়ের রঙ হইবো গাঢ় হলুদ রঙের। মুখে দিলে ঘন দুধের ঘ্রাণে পরাণ জুড়ায় যাইবো। অথচ এই চা-তে কোনো ঘ্রাণই নাই।”

টুইটুবানির করা চা সম্পর্কিত সমালোচনা একদম ভুল। চা-টা মোটেও পাতলা নয় এবং রঙটাও কালো নয়। কিন্তু তবুও কেউ কোনো প্রতিবাদ করল না। বরং ইমন চায়ে চুমুক দিতে দিতে টুইটুবানিকে উৎসাহ দিয়ে বলল,
 “হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস। সবাই কী আর তোর মতো চা বানাতে পারে? কোথায় তোর চা আর কোথায় ওদের চা! তুই বরং এটা কষ্ট করে খেয়ে নে। যেখানে যাব, সেখানে পৌঁছে তুই বরং আমাদের আরেক কাপ করে চা বানিয়ে দিস। কেমন?”

ব্যস্, ইমনের কথায় আহ্লাদে আটখানা হলো টুইটুবানি। পরম আনন্দে সে চা-টুকু খেল তারপর। টুইটুবানি এমন, অন্যের কাজ নিয়ে খুব একটা প্রশংসা শুনতে পারে না। খুঁত না থাকলেও খুঁত ধরবেই। আর জোহরা-রা টুইটুবানির এমন স্বভাব সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তারা কেউ কিছু বলে না ওকে। মেয়েটার বয়স কম। এই বয়সে এমন একটু আধটু ধাঁচ থাকেই।
অন্যদিকে ইমন চমৎকার একজন ছেলে। সে সবসময় বুঝে, কোন মানুষের কখন কেমন প্রত্যাশা থাকে এবং সেই মতেই সে সবসময় কাজ করে। যেমন আজ করল। চায়ের ব্যাপারটা সামলে নিল কেমন কৌশলে!

বিছনাকান্দি পৌঁছেয় সকলে একটা দীর্ঘ ঘুম দিল। সারারাত ঘুমোয়নি নতুন জায়গায় আসার উত্তেজনায়। তাই আরাম বিছানা পেতেই সবাই ক্লান্তদেহ ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ল। সকলের ঘুম ভাঙলো দুপুর সাড়ে তিনটায়। তাও আপোসে ঘুম ভাঙেনি। টুইটুবানি সকলকে জোর করে জাগিয়ে তুলেছে। এখানে আসার আগে বাবা বার বার টুইটুবানিকে সকলের দায়িত্ব গুছিয়ে দিয়েছে। সে এই দায়িত্বে এক ইঞ্চি হেলাফেলাও করবে না।

সকলে ক্লান্তি ঝেরে ফেলে ঘুম থেকে উঠলো। গোসল সেরেই খেতে বসল তারা। খেতে গিয়েও দেখল রাজকীয় ব্যাপার। পুরো টেবিল নানান রকমের খাবার দিয়ে পরিপূর্ণ। পেটে ক্ষুধা থাকায় জম্পেশ খাওয়া দাওয়া করল। তৃপ্তিও পেলো বেশ। খাওয়ার টেবিলেই আলোচনা করে ঠিক করল তারা খাওয়া শেষ করে একটু জিরিয়েই বিছনাকান্দির জায়গাটা দেখতে যাবে। 

কথা অনুযায়ী সকলে তৈরী হয়ে গেলো। জোহরা পড়ল একটা জলপাই রঙের শাড়ি। কাঁধ অব্দি চুল গুলো সব ছেড়ে দেওয়া। প্রেমার পরনে একটা সাদা শার্ট এবং লাল বড়ো স্কার্ট। টুইটুবানি পরল গোলাপি রঙের একটি ফ্রক। প্রেমা অবশ্য টুইটুবানিকে স্কার্ট দিয়েছিল পরার জন্য। কারণ ওরা দু'জনই সমবয়সী। পাশাপাশি বয়স। তাই একজনের জামা অপরজনের অনায়সে লাগে। কিন্তু টুইটুবানি পরেনি। বরং নাক-মুখ কুঁচকে বলল, 
 “নাহ্ ছোটো আপা, এই জামা পরতে ভালো লাগে না। আপনার চেহারা সুরত সুন্দর, আপনারে মানায়, আমারে পরলে আরও অসুন্দর লাগবো। আমার বাপ সাধে তো আর আমারে পাতিলের তলা ডাকতো না।”

টুইটুবানির কথা প্রেমা অবশ্য তেমন পছন্দ করেনি। মুখ চোখ কালো করে একটা রামধমক দিয়ে সরে যায়। ও একটু চুপচাপ স্বভাবের। বেশি কথা বলে না। এবং গম্ভীর থাকে। তাই তার এক ধমকেই যথেষ্ট। যদিও টুইটুবানি গায়েই মাখল না সে ধমক। 

বিকাল ঘনিয়ে আসতেই সকলে বেরিয়ে গেলো। তাদের সাথে বের হলো বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুল চাচাও। যেহেতু এই জায়গা তাদের অপরিচিত তাই আব্দুল চাচা হলেন পথপ্রদর্শক। তাছাড়া আজকাল সিলেটের রাজনৈতিক আবহাওয়া কিছুটা গরম তাই তাদেরকে একা ছাড়ার ঝুঁকি তিনি নেননি।

বিছনাকান্দির পরিবেশ সুন্দর। জলাশয়ে নরম স্রোত। বিভিন্ন রকমের পাথর যেন বিছিয়ে আছে। চারপাশ নিবিড়, কোমল। দূরে তাকালে দেখা যায় পাহাড় গুলো দাঁড়িয়ে আছে শক্ত হয়ে৷ ইমনের গলায় ঝুলানো দামী ক্যামেরা। এখানে আসার আগেই কিনেছে এটা। ইমন ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল ছবি তুলতে। তাকে সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখিয়ে দিচ্ছে আব্দুল চাচা। প্রেমা গেল টুইটুবানির সাথে। তাদের থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হলো জোহরা। সে একাই ঘুরতে লাগল। কখনো জল ছুঁয়ে দিল, কখনো বা জলের নিচে থাকা শান্ত পাথরে পা রেখে চোখ বুজে শান্তি কুড়িয়ে নিল। ঠিক যখন সে প্রকৃতিতে মত্ত, তখনই চারপাশের শীতল প্রকৃতি কেমন যেন হৈচৈ-এ পরিপূর্ণ হলো। জোহরা আবিষ্কার করল হাঁটতে হাঁটতে সে অনেকটা দূরে চলে এসেছে। এবং এতটা ভেতরেই চলে এসেছে যে সে ঠিক কোন পথে যাবে ঠাহর করতে পারল না। 
চারপাশ থেকে হৈ হল্লার শব্দ হলো। শান্ত পাখিরা অশান্ত হয়ে দিক্বিদিক উড়তে লাগল। জোহরা আর দাঁড়াল না। ভীত মনে ছুটতে শুরু করল বিশৃঙ্খল ভাবে। শাড়ির আঁচল এখানে ওখানে আটকে যেতে লাগল। চারপাশে চেঁচামেচি তখন পারদে পারদে বাড়তে লাগল। জোহরার মন ভীত হলো ভাই-বোনের কথা ভেবে। যখন চিন্তায়, ভয়ে সে প্রায় দিশেহারা, পড়ে গেল হুমড়ি খেয়ে, ঠিক তখনই একটি হাত ভরসা হয়ে এলো। একটি মন্ত্রমুগ্ধকর কণ্ঠ গম গমে স্বরে বলল, 
 “পড়ে গেলেন কীভাবে? এই মেয়ে? দেখি হাতটা ধরুন তো, উঠুন দ্রুত।”

জোহরা অবাক নয়নে তাকালো সেই মন্ত্রমুগ্ধকর কন্ঠের অধিকারী পুরুষটির দিকে। ঠিক সেখানেই প্রথম বারের মতন জোহরার পৃথিবী থমকে গেলো। একটা কেমন মোহ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরল তাকে। জোহরার সাড়া না পেয়ে সুদর্শন পুরুষটি বলল,
 “ব্যথা পেয়েছেন বেশি? উঠুন তো, বাবা। দেখছেন না কেমন ঝামেলা হচ্ছে! ওদের মনে কিন্তু মায়া-দয়া নেই। আপনাকেও ছাড়বে না।”

জোহরার তবুও ধ্যান ভাঙলো না। সে নির্নিমেষ তাকিয়ে রইল সামনের পুরুষটির দিকে। একটু চাপা গায়ের রঙ লোকটার। শ্যামলা বলা যায়। বাহু চওড়া। লম্বা ঠিক কতটুকু হবে বুঝা গেল না। চোখ মুখ, নাক তীর্যক। পরনে একটা শুভ্র রঙের পাঞ্জাবী। জোহরা আরও কিছুক্ষণ দেখার আগেই লোকটা তাকে টেনে তুলল। ব্যস্ত কণ্ঠে বলল, 
 “তাড়াতাড়ি চলুন তো। আপনার বিপদ আসন্ন।”

জোহরা কথা বলল না। তীব্র ব্যথায় তার পা যেন প্রায় অবশ হয়ে যাচ্ছিল তবুও সে টু শব্দও করল না। বরং এক ধ্যানে লোকটার সাথে তাল মিলিয়ে ছুটতে লাগল। পেছন থেকে একজন ছুটে এসে লোকটার উদ্দেশ্যে বলল,
 “মেজবাহ্, তুমি কোথায় যাচ্ছ? ওকে পথ দেখিয়ে বাড়ি ফিরলেই তো হয়। এখানে তোমার বিপদ বেশি।”

মেজবাহ্ টু শব্দ করল না বরং হাত দেখিয়ে পেছনের লোকটাকে থামিয়ে দিল। হাঁটতে হাঁটতে জোহরা-রা যখন জঙ্গল ছেড়ে বের হলো ঠিক তখন তাদের থেকে কিছুটা দূরে একটা লোককে আরেকটা লোক দা দিয়ে কোপ দিল। জোহরার মুগ্ধ দৃষ্টি সহ্য করত পারল না এই কঠিন দৃশ্য। গা কাঁপিয়ে জ্ঞান হারালো সে। তারপর...

সেবার জোহরার জ্ঞান ফিরে প্রায় ছেচল্লিশ ঘন্টা পর। যখন তার জ্ঞান ফিরে সে নিজেকে আবিষ্কার করে ঢাকার এক সনামধন্য হসপিটালে। তার জ্ঞান ফিরতে দেখেই সকলের আত্মায় পানি এলো। টুইটুবানি তো কেঁদেকেটে একসার। জ্ঞান হারানোর পর তার সাথে কি হয়েছিল সেটা সে আর জানেনি, জানতে পারেনি আবার বলা যায় সে জানার আগ্রহ দেখায়নি। যদি জানতে গিয়ে শুনে তার দেখা সেই অসম্ভব সুদর্শন পুরুষটি কেবলই কল্পনা তখন কী হবে! সে এটা মানতে পারবে না। 

কিন্তু জোহরার ভুল ভেঙে গেল খুব শীগ্রই। হসপিটালেরই একটা সংবাদপত্রে চোখ যেতেই মেজবাহ্'র ছবি ভেসে উঠল। বড়ো বড়ো শিরোনামে লিখা “সিলেটের তরুণ নেতা মেজবাহ্ শেখের উপর আক্রমণের চেষ্টায় আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। গত পরশু বিছনাকান্দি ঘটেছে এই আক্রমণ।”

জোহরার চারপাশ যেন শীতল হয়ে গেলো। ঠিক এরপর থেকে তার ভেতর পরিবর্তন শুরু হলো। টেলিভিশনে হা করে তাকিয়ে মেজবাহ্ শেখকে দেখা। সংবাদপত্র থেকে মেজবাহ্ শেখের ছবি কেটে লুকিয়ে রাখা। সিলেটের কথা শুনলেই হারিয়ে যাওয়া দু'টো চোখে...  
 এরপর থেকেই তার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হয়ে উঠলো সিলেট। মনে মনে কেবল সে একটা কথায় আওড়ানো শুরু করল,
 “মেজবাহ্ শেখের চোখে আমার পুরো সিলেটের সৌন্দর্য দেখা শেষ। এরচেয়ে সুন্দর জায়গা আর হয়না। এর চেয়ে মুগ্ধকর জায়গা আর নেই।"

জোহরার প্রথম প্রেমে পড়া এখানেই। এখান থেকেই শুরু ভালোবাসার গল্প।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp