প্রেমান্বেষা - পর্ব ৪১ - সারা মেহেক - ধারাবাহিক গল্প


" এখন পারফরম্যান্স দেখাবেন তাই তো? খবরদার, এ মুহূর্তে আমাকে একটুখানি স্পর্শ করলেই ঠ্যাঙ ভেঙে একদম গলায় ঝুলিয়ে দিবো। লুচ্চা বুইড়া একটা। "

নীলিমার এহেন আচরণে থতমত খেয়ে গেলো স্মরণ। অপ্রস্তুত হয়ে আমতাআমতা করে বললো,
" ক-কি করলাম আমি?"

নীলিমা এবার ঝট করে স্মরণের কলার ছেড়ে দিলো। অতঃপর কয়েক কদম পিছিয়ে এসে ধপ করে বিছানায় বসে দু হাত মাথায় চেপে ধরলো। তেতে উঠা গলায় বললো,
" বাড়ির সবার সামনে আমার মান সম্মান একেবারে ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন আপনি। মামার সামনে তো লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসছিলো। আর আব্বু! আব্বু কি না কি ভাবছে। ইশ, কাল সকালে.... নাহ, কাল সকালে নাকি, আজ রাতেই তো তাদের মুখোমুখি হতে হবে৷ কি না কি ভাববে তারা! কি দরকার ছিলো আপনার আগ বাড়িয়ে রাত কাটানোর কথা বলার?"

নীলিমার এহেন বিরামহীন অস্থির কথাবার্তায় অগোচরে হাসলো স্মরণ। ক্ষণেই সে এগিয়ে গিয়ে নীলিমার সম্মুখে হাঁটু গেড়ে বসলো৷ নীলিমার গালে দু হাত রেখে শান্ত স্বরে বললো,
" রিল্যাক্স নীলিমা, রিল্যাক্স। এত ফ্রাস্ট্রেটেড হচ্ছো কেনো? এটা নরমাল হিসেবেই ধরে নাও। আর সবাই যা শুরু করেছিলো তাতে বিরামচিহ্ন বসানোর জন্য এর চেয়ে ভালো আইডিয়া আর মাথায় আসেনি। "

নীলিমা এবার হুট করেই শান্ত হয়ে গেলো। তার বিক্ষিপ্ত চাহনি,মুখশ্রী নিবৃত্ত হলো। তবে স্মরণের দিকে চেয়ে বিচলিত গলায় বললো, 
" আচ্ছা? আব্বু যদি আপনাকে খারাপ ভাবে তাহলে? আমি চাই না আব্বু নিজের সিদ্ধান্তে আফসোস করুক। আমি চাই আব্বু যেনো আপনাকে সবসময় ভালো চোখে দেখে। এভাবে সবার সামনে হুটহাট কি সব বলে দেন আপনি!"

স্মরণ ফের মৃদু শব্দে হাসলো। নীলিমার অদ্ভুত চিন্তায় তার সশব্দে হাসতে মন চাইলেও নিজেকে বিরত রাখলো। এই ভয়ে যে নীলিমা যদি অভিমান করে বসে! স্মরণ নীলিমার গালের আলতো হাতের ছোঁয়া গাঢ় করলো। তাকে আশ্বস্ত করে মৃদুশ্বাসে হেসে বললো,
" বোকা মেয়ে! এসব কারণে কেউ এত ভাবে? আমাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এখন চাইলেই কি ফুপা আমাদের আলাদা করতে পারবে? তোমার উপর আমার সম্পূর্ণ হক আছে। আর এই হকের দাবী নিয়েই বলবো যে নীলিমাকে আমি ছাড়বো না, সে আমি যত ক্যারেক্টারলেসই হই না কেনো। সব ক্যারেক্টারলেসনেস তো তাঁর মেয়ের সামনেই দেখাচ্ছি, পরনারীর সামনে তো আর না। "
বলে সে ভ্রু নাচালো। আলতো হাসলো নীলিমা। আজ ভীষণ ক্লান্ত সে। সকাল থেকে যেমন শারীরিক তেমন মানসিক চাপে ছিলো সে। শরীরটাও ছেড়ে দিচ্ছে যেনো। তার চোখেমুখে হঠাৎ করেই ক্লান্তি ভর করলো। স্মরণ তা বুঝলো চোখের পলকেই। নীলিমার গাল থেকে হাত সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো সে। অতঃপর তার রুমের ড্রেসিং টেবিলের দিকে যেতে যেতে বললো,
" শাড়ি চেঞ্জ করে একটু রেস্ট নাও নীলিমা। যতক্ষণ না খেতে ডাকছে ততক্ষণ শুয়ে থাকো। "

নীলিমা ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। স্মরণ তখন হাত ঘড়ি খুলতে ব্যস্ত। তার মনোযোগ ঘড়ির উপর৷ কখন যে নীলিমা নিঃশব্দে এসে তার পাশে দাঁড়িয়েছে টের পায়নি। নীলিমা স্বাভাবিক গলায় বললো,
" একটু সরে দাঁড়ান স্মরণ ভাই। আমি গহনাগাঁটি খুলবো। "

স্মরণ সরে দাঁড়ালো। অদূরে থাকা কাঠের চেয়ার কাম টুলটা পা দিয়ে এগিয়ে এনে ড্রেসিং টেবিলের সামনে রাখলো। নীলিমাকে চোখের ইশারায় বসতে বললো। নীলিমা বসলে স্মরণ জিজ্ঞেস করলো,
" হেল্প করবো?"

সামান্য এই গহনা,চুলের ক্লিপ, শাড়ির পিন খুলতে নীলিমার খুব বেশি কসরত করতে হবে না। তার একার পারার মতোই কাজ। কিন্তু স্মরণের স্বেচ্ছায় সাহায্য করার মিঠা প্রশ্নে সে যেনো বরফের ন্যায় গলে গেলো। লাজুক ভঙ্গিতে মিষ্টি হেসে বললো,
" আপনার হাতে সময় থাকলে করতে পারেন। "

স্মরণ মৃদু হাসলো। নীলিমার ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে তার দু কাঁধে হাত রাখলো। অতঃপর আলতো ভাবে থুতনি ঠেকালো নীলিমার মাথার উপর। আরশির প্রতিবিম্ব মিলিত হলো দু জোড়া দৃষ্টি। দুজনের ঠোঁটেই মৃদু মোলায়েম হাসি। স্মরণ বললো,
" আজ আমার হাতে অফুরন্ত সময়। আজকের প্রতিটা সময় তোমার নামে লিখে দিলাম নীলিমা।"

লজ্জায় নীলিমা ক্ষণেই দৃষ্টিজোড়া নত করলো। লাজুক হাসি ছড়ালো তার চিকন ঠোঁটজোড়ায়। স্মরণও মৃদু হাসলো। অতঃপর তার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। প্রথমে নীলিমার বিয়ের ওড়নাটা মাথা থেকে সরালো। তারপর একে একে টিকলি, কানের দুল,গলার মালা খুলে দিলো। ওদিকে নীলিমা চুড়ি খুলছে। এ পর্যায়ে স্মরণ চুলের ক্লিপগুলো খুলতে আরম্ভ করলো। নীলিমা তখন বললো,
" আপনার কপাল ভালো যে পার্লারে সাজিনি। নাহয় যে কাজ আপনি দশ মিনিটে করে ফেলছেন, সে কাজ করতে আপনার অনায়সে এক দেড় ঘণ্টা চলে যেতো। "

স্মরণ হেসে বললো,
" যেতো! আমার সমস্যা নেই। আমি তো আরোও তোমার সাথে সময় কাটানোর সুযোগ খুঁজছি!"
বলেই সে সামান্য ঝুঁকে নীলিমার উন্মুক্ত পিঠে হাত রাখলো। ক্ষণেই মৃদু তালে কেঁপে উঠলো নীলিমা। তটস্থ হলো সে। স্মরণ বুঝতে পেরে আয়নার দিকে তাকালো৷ প্রগাঢ় চাহনিতে চেয়ে নীলিমাকে শুধালো,
" শাড়ি খুলতে....."

স্মরণকে মাঝপথেই থামিয়ে তড়াক করে উঠে দাঁড়ালো নীলিমা। দ্রুততার সাথে বললো,
" আ-আমিই পারবো। এটুকু কাজ আমিই পারবো স্মরণ ভাই। আপনাকে কষ্ট করতে হবে না।"

স্মরণ বাঁকা হাসলো। সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে নীলিমাকে আরেকটু লজ্জা দেবার জন্য বললো,
" এটা মোটেও কষ্টের কাজ না নীলিমা। তোমার স্বামী হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক সহজ কাজ।"

নীলিমা লজ্জায় যেনো টমেটোর মতো লাল হয়ে গেলো। বলতে পারলো না একটি বাক্যও। স্মরণ হাসলো তার এই লাজুকতা দেখে। মন বললো নীলিমাকে আরেকটুখানি লজ্জা দিতে। কিন্তু এখন না। আর কিছুক্ষণ বাদে খেতে ডাকবে তাদের। তাই তাড়াতাড়ি বিয়ের সাজসজ্জা সরাতে হবে। স্মরণ খাটের স্ট্যান্ডের উপর থেকে একটা পাতলা টিশার্ট ও ট্রাউজার নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। পিছে নীলিমাকে বললো,
"তুমি চেঞ্জ করে নাও এই ফাঁকে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। "
বলেই স্মরণ চলে গেলো। অতঃপর হাফ ছেড়ে বাঁচলো নীলিমা। বুকে হাত চেপে বড় বড় নিঃশ্বাস টেনে বিড়বিড় করে বললো,
" তুই শেষ নীলু, তুই শেষ। স্মরণ ভাই এভাবে লজ্জা দিয়ে কথা বললে তুই তো টিকতেই পারবি না। আর সেখানে বাসর! আস্তাগফিরুল্লাহ। কেন যে এই মামাতো ভাই নামক প্রাণিকে বিয়ে করতে গিয়েছিলাম!"
বলতে বলতে সে চোখ বন্ধ করে মাথা চাপড়াতে লাগলো। 

*********

খাবার টেবিলে সবার সাথে বসে খাবার খাচ্ছে স্মরণ ও নীলিমা। দুজনকে পাশাপাশি বসানো হয়েছে। লিলি বেগমের দৃষ্টি যতবার স্মরণ ও নীলিমার উপর যাচ্ছে ততবার তিনি বলে উঠছেন,
" ওদেরকে একসাথে কি সুন্দর লাগছে তাই না? আব্বা কেন যে আগেভাগে বিয়ে দিলো না ওদের! আসলে দরকার ছিলো ছোটবেলাতেই ওদের বিয়ে দিয়ে দেয়া। একসাথে বড় হতো, একসাথে পড়াশোনা করতো। তারপর নীলিমা একটু বড় হলে বাচ্চা নিয়ে নিতো। আমি বলছি কি, এক মাসের মধ্যেই বাচ্চা নিয়ে ফেল তোরা।"
বিয়ের রাতেই বাচ্চার কথা শুনে বিষম খেলো স্মরণ। বার কয়েক কাশি দিলো। মিলি বেগম বললেন,
" এত তাড়াহুড়া কিসের! মাত্রই বিয়ে হলো। এখনও একসাথে সময় কাটাবে, ঘুরবে। তারপর বাচ্চাকাচ্চা নেয়ার কথা ভাববে। "
মিলি বেগমের কথার পর উপস্থিত সকলে বিয়ে ও বাচ্চা নিয়ে যে যার মতো মতামত দিলো। যেনো এখন স্মরণ ও নীলিমার বিয়ের চেয়ে বাচ্চা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। নীলিমা ওদিকে পড়েছে লজ্জায়। না পারছে খেতে আর না পারছে খাবার ছেড়ে উঠে যেতে। লজ্জায় ফিসফিস করে স্মরণকে বললো,
" স্মরণ ভাই,দয়া করে উনাদের একটু থামতে বলুন। শান্তি মতো খেতেও পারছি না।"

স্মরণও ফিসফিস করে বললো,
" তুমি বলো! কারণ আমার তো খেতে অসুবিধা হচ্ছে না। "

নীলিমা আড়চোখে ক্রোধিত দৃষ্টিতে তাকালো। স্মরণ একটু নড়েচড়ে বসলো অবশ্য, এই ভেবে যে আজ থেকে একই রুমে, একই বিছানায় ঘুমাতে হবে। নীলিমাকে রাগিয়ে দিলে পরে মেঝেতে বালিশ ছাড়া ঘুমাতে হতে পারে। তাই স্মরণ তখনই গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
" আচ্ছা বিয়ের দিনই কোন আক্কেল জ্ঞানওয়ালা মানুষজন নতুন বর-বউকে বাচ্চা নিয়ে বলে বলো তো! সবাই একটু চুপ করো। খেতে দাও আমাদের। প্রচুর ঘুম পাচ্ছে। খেয়েদেয়ে একটু ঘুমাবো। "

আসমানী বেগমও এবার শাসালেন সবাইকে। বললেন,
" ইকটু চুপ কইরা খাওনদাওন কর। আমার নাতিডারে ভালা মতো খাইতে দে। "

আর কেউ কথা বললো না ঠিকই। তবে মিটিমিটি হাসলো ছোট সদস্যগুলো।

খাবার শেষে স্মরণ ও নীলিমা আলাদভাবে আবারও রুমে ঢুকলো। নীলিমা প্রথমেই রুমে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলো। স্মরণ এলো পরে। মাহবুব, সাজিদ, সাদ ইচ্ছে করে তাকে আটকিয়ে রেখেছিলো৷ পরে স্মরণ জোর করে তাদের আড্ডা থেকে চলে আসে। 
রুমে ঢুকেই স্মরণ দেখলো নীলিমা শুয়ে আছে। ঘুমাচ্ছে না। তবে ঘুমানোর ভান করছে। সে এসেই নীলিমাকে ডেকে বললো,
" এ্যাই নীলিমা! ঘুমাচ্ছো কেনো? উঠো।"

নীলিমা উল্টো দিকে ফিরেই স্পষ্ট গলায় বললো,
" রাতটা ঘুমানোর জন্যই দিয়েছে আল্লাহ। "

স্মরণ এবার দুষ্টু স্বরে বললো,
" আর ওসব করার জন্যও রাতটা দিয়েছে আল্লাহ।"

নীলিমা চট করে ঘাড় ঘুরে তাকালো। ভ্রু কুঁচকে শুধালো,
" কোন সব?"

স্মরণ চোখ টিপে হেসে বললো,
" বিবাহিত দম্পতির মধ্যে যে সব হয়ে থাকে সে সব। "

নীলিমা আঁতকে উঠলো মুহূর্তেই। তার চেহারায় স্পষ্ট হলো সে ভাব। গায়ে থাকা ওড়নাটা টান দিয়ে আরোও উপরে নিলো। তার এহেন কাজকর্ম দেখে এবার স্মরণ হো হো করে হেসে উঠলো। তার হাসি দেখে নীলিমা ভ্রু কুঁচকে উঠে বসলো। গায়ের ওড়নাটা পূর্বের ন্যায়ই রেখে বললো,
" ওমন রাক্ষসের মতো হাসছেন কেনো?"

স্মরণ নীলিমার নাক টেনে বললো,
" হাসির মতো কাজ করলে হাসবোই তো!"

" কি করলাম আমি?"

" এই যে তুমি কিছুক্ষণ আগে যে রিয়্যাকশন দিলে তা দেখলে তুমি নিজেও হেসে ফেলতে।"

নীলিমা কিছু না বলে ভেঙচি কাটলো। স্মরণ ফের বললো,
" বিয়ে হয়েছে মানে ওসবও হবে। শুধু শুধু ভয় পেয়ে লাভ নেই ম্যাডাম। "
বলে সে স্বাভাবিক হলো৷ হাসি থামিয়ে বললো,
" তবে আজ না। কারণ আজ আমরা দুজনেই ক্লান্ত। আজকের রাতটা রেস্ট নিয়ে কাটাবো। "

নীলিমা মুহূর্তেই সন্দিহান গলায় শুধালো,
" সত্যি তো?!"

" হুম সত্যি। আর যতদিন না তুমি সায় দিবে ততদিন আমাদের মধ্যে কিছু হবে না নীলিমা। নিশ্চিত থাকো তুমি।"

নীলিমা কিছু বললো না। শুধু চেয়ে রইলো স্মরণের দিকে। স্মরণের এই আশ্বাসে সে বড্ড স্বস্তি পেয়েছে। কেননা একদিনের মধ্যেই হুটহাট বিয়েতে সে এসবের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলো না। উপরন্তু স্মরণ যদি জোর করতো তবে আজ সে ভীষণ ব্যথিত হতো, স্মরণের আচরণে। কিন্তু স্মরণ তার ব্যক্তিত্ব, আচরণ বজায় রেখেছে। 

কয়েক সেকেন্ড বাদে এবার নীলিমা সরব হলো। হুট করেই তার মাথায় কিছু কথা খেলে গেলো। স্মরণকে জিজ্ঞেস করলো,
" বিয়ের রাতে মেয়েরা যে তার স্বামীর কাছ থেকে কত কিছু চেয়ে থাকে, আমাকে কি সে সুযোগ দিবেন না?"

" অবশ্যই দিবো! কি চাও বলো। "

নীলিমা একটু নড়েচড়ে বসলো। স্বাভাবিক হলো। ওড়নাটাও স্বাভাবিকভাবে ধরলো। বললো,
" আমার কিছু ওয়াদা, কিছু কথা চাই। "

" ওকে ডান! কি কি চাই বলে ফেলো। "

" হুম। তো, সবার প্রথমে আপনার দৃষ্টি সবসময় নিচে রাখবেন। কোনো মেয়ের দিকে তাকাবেন না।"

স্মরণ ইচ্ছাপূর্বক মজা করে অবাক কণ্ঠে বললো,
" তোমার দিকেও না!"

নীলিমা সরু চোখে চাইলো। বললো,
" আমার দিকেই তাকাবেন। শুধু আমার দিকে। বাইরের অন্য মেয়ের দিকে তাকালে একদম কঁৎ করে গলা টিপে দিব।"

স্মরণ বুকে হাত দিয়ে মিছে ব্যথিত হবার ভান করে বললো,
" কি বলো তুমি! বিয়ের পরপরই বিধবা হতে চাও!"

" আপনি ক্যারেক্টারলেস হলে হাজারবার বিধবা হতে রাজি আছি। হুহ।"

স্মরণ হাসলো। বললো,
" আর?"

" আর আমাকে জান,প্রাণ,সোনা,ময়না,পাখি এসব বলে ডাকবেন না। আমার তীব্র অপছন্দ এসব নাম।"

স্মরণ হাসলো। নীলিমার গাল টেনে বললো,
" ওসব নামে ডাকবো না। আমি তো ডাকবো 'নীলি' নামে। যা আমার একান্ত পছন্দের নাম।"

নীলিমা মুচকি হাসলো। তার হাসি মুগ্ধ নয়নে দেখলো স্মরণ। কি অদ্ভুতভাবে হুটহাট বিয়েটা হয়ে গেলো তাদের! অথচ ঢাকা থেকে আসার পূর্বে নানান জিনিস, আগাম ঘটনা সম্পর্কে ভেবে এসেছিলো সে। কিন্তু এখানে এসে দাদার প্রস্তাবে বিয়ের কাজ অর্ধেকটা এগিয়ে যায়। যদিও তার মা আর ফুপার বুড়ো বয়সের রঙঢঙ এর জন্য একটু পেরেশানিতে পড়েছিলো তারা। 

নীলিমা এবার গাল ফুলিয়ে বললো,
" আপনি বড্ড কঞ্জুষ স্মরণ ভাই। বিয়ের রাতে মেয়েরা তার স্বামীর কাছ থেকে গিফট পায়। আর আপনি একটা ফুলও দিলেন না আমাকে! এই আপনার ভালোবাসা!"

" হুটহাট বিয়েতে গিফট পাবে না স্বাভাবিক। "

"তাই বলে একটা ফুলও না! আপনি আসলেই কঞ্জুস। ভালোবাসেন না আমাকে। লোক দেখানো ভালোবাসা না সব? তা না হলে নূন্যতম একটা ফুলও দিতেও......"
নীলিমার ঠোঁটের উপর ক্ষণেই স্মরণের আঙুল উঠে গেলো। কথার মাঝ পথে তাকে থামিয়ে স্মরণ প্রগাঢ় গলায় বললো,
" হুঁশশ... এত কথা বলো কেনো! একটু থামো৷ তোমার প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হলে গিফট দিতে হবে বুঝি? "

হঠাৎ ঠোঁটে আঙুল উঠায় ঈষৎ চমকে উঠেছিলো নীলিমা। তবে পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে স্মরণের প্রশ্নের জবাবে 'না' সূচক মাথা নাড়ায়৷ স্মরণ এবার বলে,
" তবুও তোমাকে গিফট দিব। উহু, প্রমাণ দিতে নয়। এটা তোমার হক ভেবেই দিব।"
বলেই সে আঙুল সরালো এবং অপর হাতে ট্রাউজারের পকেট থেকে একটা ছোট্ট মখমলের বক্স বের করলো। নীলিমার ঠিক সামনে বক্সটি খুলে বললো,
" এটা আমার অনিন্দ্য সুন্দরী, রূপসী ও একমাত্র বউয়ের জন্য।"
.
.
.
চলবে........................................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp