প্রেমান্বেষা - পর্ব ৪৪ - সারা মেহেক - ধারাবাহিক গল্প


          স্মরণ ও নীলিমার প্রেমময় আলাপে ঘুম ভাঙলো রাফার। অন্ধকারে আধো আধো চোখে সে দেখলো নীলিমা জানালা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। সে ঘুম জড়ানো গলায় নীলিমাকে জিজ্ঞেস করলো,
" কি রে নীলু? এত রাতে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে কি করিস?"

নীলিমা ঘাবড়ে গেলো। চোখেমুখে তার মৃদু আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট দেখা গেলো। ভীত গলায় আমতাআমতা করে বললো,
" একটু ঠাণ্ডা হওয়া খাই।"

" ঘুমাবি না? কালকে তোর হলুদ।"

" হুম ঘুমাবো। তুই ঘুমা। আসছি আমি৷ "

" আয় তাড়াতাড়ি।"

বলে সে ওপর পাশ ফিরে ফের ঘুমিয়ে পড়লো। তা দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো নীলিমা। স্মরণ এতক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে নীলিমার এ কান্ডকারখানা দেখছিলো আর মুচকি মুচকি হাসছিলো। মেয়েটা বেমালুম ভুলে বসেছে যে সে বিবাহিত এবং তার সদ্য বিবাহিত স্বামী তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। এটা লুকানোর কোনো বিষয় নয়। তবুও নীলিমা লুকাচ্ছে। কেনো লুকাচ্ছে জানে না স্মরণ। হয়তো সে এখনও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে সে সিঙ্গেল! 
স্মরণ হাসলো। জিজ্ঞেস করলো,
" তুমি কি এখনও নিজেকে সিঙ্গেল দাবী করো নীলিমা?"

নীলিমা নিজেকে সামলে নিয়ে স্মরণের দিকে চাইতেই এহেন প্রশ্নের সম্মুখীন হলো। দ্বিধাগ্রস্থ চাহনিতে চেয়ে কিঞ্চিৎ অবাক কণ্ঠে শুধালো, 
" মানে? নিজেকে সিঙ্গেল দাবী করবো কেনো?"

" সিঙ্গেল দাবী না করলে রাফার কাছ থেকে এভাবে লুকাচ্ছো কেনো আমাকে? আমাদের যে বিয়ে হয়েছে, ভুলে গিয়েছো নাকি?"

নীলিমার বেকুব বনে গেলো। সত্যিই তো! সে রাফার থেকে লুকাচ্ছিলো কেনো? এমন তো নয় যে তারা আড়ালে প্রেম করছে। দুজনের বিয়ে হয়েছে পরিবারের সম্মতিতেই। হাসলো নীলিমা। বললো,
" আসলে আমার সাব-কনশাস মাইন্ডে এখনও আমি পিওর সিঙ্গেল আছি। আমি যে বিবাহিত এটা মেনে নিতে একটু সময় প্রয়োজন। "

" তাহলে আমিও কি সাব-কনশাস মাইন্ডে নিজেকে সিঙ্গেল দাবী করবো? কেননা আমার সাব-কনশাস মাইন্ড কি কনশাস, আনকনশাস সব মাইন্ডই বিশ্বাস করে, আমি বিবাহিত। আমার বিবাহিত স্ত্রীর নাম নীলিমা। "

নীলিমা লাজুক হাসলো। আপনমনে স্মরণের প্রতি অভিযোগ জানালো, এত লজ্জা দেয়ার জন্য। কিন্তু স্মরণকে কিছু বললো না। ছেলেটার ভরসা নেই। এ কথা শুনে যদি আবারও লজ্জা দিয়ে বসে তবে!

স্মরণ ও নীলিমার এ লুকোচুরি প্রেমালাপ চললো আরোও কিছুক্ষণ। অতঃপর একে অপরকে বিদায় জানিয়ে ঘুমাতে চলে গেলো দুজনেই। 

*************

সকালে স্মরণ ও নীলিমাকে বাড়ির সব মহিলাগণ ও পাড়ার মহিলাগণ মিলে হলুদ গোসল করিয়েছে। এ অনুষ্টানেও সবার কি ছোটাছুটি! কে কাকে আগে ভিজাবে, কে কাকে একটুখানি হলুদ লাগিয়ে পালাবে, এরই প্রতিযোগিতা চলছিলো যেনো।
সন্ধ্যে হতে না হতেই হলুদ ও ক্ষীর খাওয়ানোর প্রধান অনুষ্ঠান শুরু হলো। স্মরণ ও নীলিমাকে একই স্টেজে পাশাপাশি বসানো হলো। দুজনের পরনেই হলুদ রঙের পোশাক। একই বাড়ির দুজন মামাতো ফুপাতো ভাইবোনের বিয়ে হচ্ছে বলে আশেপাশের লোকজনের আগ্রহের কমতি নেই। কেননা কাজিন বিয়ে শেখ পরিবারে, এমনকি আশেপাশের কয়েকটা বাড়ির মধ্যেই এ-ই প্রথম। তাই সকলে যেমন খুশিও হচ্ছে, তেমনই অবাকও হচ্ছে। আবার অন্যদিকে চলছে স্মরণ নীলিমা জুটির প্রশংসা। দুজনকে একে অপরের সাথে কতোটা মানায় এ নিয়েও চলছে আলোচনা। 

একে একে এসে সবাই স্মরণ ও নীলিমার গালে আলতো হলুদ ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে ও সাথে এক টুকরো মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছে। এভাবেই শেষ হলো দুজনের হলুদ অনুষ্টান। কাল রিসেপশন বলে স্মরণ ও নীলিমাকে আগেভাগেই রুমে পাঠানো হলো। যেনো দ্রুত ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারে তারা। 

হলুদের অনুষ্ঠানের খাওয়াদাওয়া চলছে উঠোনে। বাড়ির ভেতরে কেউই নেই আপাতত, বাহাদুর শেখ ও আসমানী বেগম বাদে। হলুদের মিষ্টি খেয়ে পেট ভরিয়ে ফেলার জন্য স্মরণ বা নীলিমা কেউই আর রাতের খাবার খেতে ইচ্ছা পোষণ করলো না৷ 

নীলিমা রুমে এসে হলুদের গহনা খুলছে ধীরেধীরে। এমন সময় হঠাৎ পিছে দরজা লাগানোর আওয়াজ পেলো সে। চমকে পিছনে ফিরতেই বিস্ময়ের সহিত দেখলো স্মরণ দাঁড়িয়ে আছে। ঠোঁটে তার দুর্বোধ্য হাসি। পরনে হলুদের পাঞ্জাবিই রয়েছে। গালে এখনও সবার দেয়া হলুদ লেগে আছে। হঠাৎ তাকে দেখে নীলিমা অবাক স্বরে শুধালো,
" কি ব্যাপার স্মরণ ভাই? এখানে কি করছেন? ফ্রেশ হবেন না?"

স্মরণ ধীর পায়ে নীলিমার দিকে এগুতে এগুতে বললো,
" তা হবো.... তবে এর আগে অসম্পূর্ণ কাজটা সেরে যাই।"

" কি অসম্পূর্ণ কাজ?"

স্মরণ এতক্ষণে নীলিমার সম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। নীলিমার প্রশ্নাতুর চাহনিকে উপেক্ষা করে এক ঝটকায় সে নীলিমার কোমর চেপে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। অকস্মাৎ এ কাজে নীলিমা প্রচণ্ড ঘাবড়ে গেলো, বিস্মিত হলো। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হয়ে পড়লো কিংকর্তব্যবিমুঢ়। বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই স্মরণ তাদের দুজনের মধ্যকার দূরত্ব আরোও কমিয়ে আনলো। নীলিমার হৃৎস্পন্দন তীব্র থেকে তীব্রতর হলো। বিয়ের পর এই প্রথম দুজনার এতোটা কাছে আসা, একে অপরের সংস্পর্শে আসা হয়েছে। তাই অনুভূতিটা অন্যরকম। কিছুটা অগোছালো,কিছুটা অস্থিরতার সংমিশ্রণে তৈরী এ অনুভূতিতে দুরুদুরু বুকে শুধালো,
" হঠাৎ এভাবে..... "

সম্পূর্ণ বাক্যটি শেষ করতে অপারগ হলো নীলিমা। এর পূর্বেই স্মরণের আঙুল গিয়ে ঠেকলো তার ঠোঁটের উপর। বিস্ময়ে তার চোখের তারা বড় হয়ে এলো। স্মরণ নিঃশব্দে তার এ বিস্ময়ের জোয়ার ভাটা দেখলো আর হাসলো। অতঃপর বললো,
" মিসেস নীলিমা, আপনি কি আমার স্পর্শে এতো অবাক হয়েছেন নাকি আমার হঠাৎ আগমনে?"

নীলিমা স্পষ্টত জানে স্মরণ ইচ্ছাপূর্বক এমন প্রশ্ন করছে। কেননা স্মরণের হঠাৎ আগমনে সে অবাক হয়নি। হয়েছে এই আকস্মিক স্পর্শে, আকস্মিক কাছে টেনে নেয়ায়। নীলিমা আমতা আমতা করে কিছু বলতে চাইলো। কিন্তু তার গলা দিয়ে বেরোলো না একটি শব্দও। বিস্ময়ে ডুবে যাওয়া এই নীলিমাকে বিস্ময়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দিতে স্মরণ সেই কাজটি করে ফেললো যে কারণে সে এভাবে রুমে এসেছিলো। নিজের খোচাখোচা দাড়িওয়ালা গালটা নীলিমার গালের সাথে ঘষে দিলো। ফলস্বরূপ তার গালের হলুদের ছোঁয়া নীলিমার গালে লাগলো। 
স্মরণের এহেন কাজে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো নীলিমা। চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেলো সে। তার এহেন প্রতিক্রিয়া দেখে স্মরণ মিটিমিটি হাসলো। অপর হাত দিয়ে তার গাল ছুঁয়ে দিয়ে শুধালো,
" কি? এতো অবাক হয়ে গিয়েছো!"

নীলিমার হুুঁশ ফিরে এলো। নিজেকে ধাতস্থ করতেই স্মরণের দাড়ির খোচা ব্যাথা রূপে ধরা দিলো তার গালে৷ ব্যাথায় মৃদু গোঙানি দিয়ে চোখেমুখ কুঁচকে বলে উঠলো,
" ইশ, কি করলেন এটা? ব্যাথা পেয়েছি তো!"

স্মরণ এর তোয়াক্কা করলো না৷ নীলিমার গালের হলুদটা আলতো ছোঁয়ায় আঙুল দিয়ে আরোও লেপ্টে দিলো চারপাশে। মৃদু কেঁপে উঠলো নীলিমা। খিঁচে চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করলো। তার দু হাত সময়ের ব্যবধানে স্মরণের বুকের উপর। আর স্মরণের এক হাত তার কোমড়ে। দুজনার মধ্যকার দূরত্ব একেবারেই নগন্য। 
এ পর্যায়ে স্মরণ ধীর গলায় শুধালো,
" আমার হলুদ লাগানোটা বাকি ছিলো। তাই হলুদ ছোঁয়া দিতে এসেছিলাম তোমাকে।"

নীলিমার দৃষ্টি নত। তার পাতলা ঠোঁটজোড়া তিরতির করে কাঁপছে। স্মরণের স্পর্শ, তার মুখ নিঃসৃত প্রতিটি বাক্য তার হৃদয়ে ঝড় তুলছে। অদ্ভুত অনুভূতি বশ করে ফেলেছে তার আপাদমস্তক। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে সে অতঃপর বললো,
" হলুদ ছোঁয়া হাত দিয়ে দিতে হয়। গাল দিয়ে নয়।"

স্মরণ খানিকটা শব্দ করে হাসলো। বললো,
" একটু রোম্যান্টিক ওয়েতে কাজটা করলাম। সহধর্মিণীর উপর টুকটাক রোম্যান্সের পদ্ধতি ট্রাই করতে হবে না! হঠাৎ মাথায় এই বুদ্ধিটা খেলে গেলো। তাই দেখতে এলাম কাজ হয় কি না। "
বলেই সে মুহূর্তেই নীলিমার কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিস করে বললো,
" আসলে টিভি সিরিয়াল, মুভি থেকে আইডিয়াটা নিয়েছি। কাউকে বলো না যেনো!"

স্মরণের এ কথায় লজ্জায় কুঁকড়ে এলো নীলিমা। দু হাতে স্মরণের পাঞ্জাবি চেপে মুখ লুকালো তার বুকে। স্মরণও এবার কোমর ছেড়ে বুকে জড়িয়ে ধরলো নীলিমাকে।

***************

রিসেপশনের সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলো। এ বিয়ের অনুষ্ঠানের সূচনা হতে সমাপ্তি অব্দি সর্বাধিক খুশি ছিলেন বাহাদুর শেখ। প্রতিটি অনুষ্ঠানে কিছুক্ষণের জন্য তাকে হুইলচেয়ারে করে সবার মাঝে আনা হয়েছিলো। ছেলে-মেয়ে, নাতি নাতনির খুশি দেখে তিনি আবেগে আপ্লূত হয়েছিলেন। চোখের কোনে জমেছিলো পানি। রিসেপশনের পরে স্মরণ ও নীলিমাকে দু হাত ভরে দোয়া দিয়ে বাসর ঘরে পাঠান তিনি। নাতি নাতনির এ আবেগঘন মুহূর্তে তিনি হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠেন। হাসিখুশি মহলটুকু কিছুক্ষণের জন্য ভারী হয়ে উঠে। 

বাহাদুর শেখ ও আসমানী বেগম পাশাপাশি শুয়ে আছেন। ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এতদিন পর আজ হঠাৎ আসমানী বেগমের বুকটা শূন্য শূন্য লাগছে। বোধ হচ্ছে জীবন থেকে বড় কিছু হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। শুধুমাত্র বিয়ের পরিবেশ নষ্ট করতে চাননি বলে নিজের ভেতরকার এই অস্থিরতাটুকু চাপিয়ে রাখেন। এমনকি এখনও বাহাদুর শেখকে বলেননি তিনি।

বাহাদুর শেখ আসমানী বেগমের এক হাত নিজের বুকের উপর রেখে দু হাত দিয়ে চেপে ধরেন। সময় নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
" বহুতকাল পর এহানডায় শান্তি শান্তি লাগতেছে দিল। মনে হইতাছে বড় একটা বুঝা হইতে আল্লাহ আমারে মুক্তি দিছে। আমার নাতি নাতনির এ বিয়াডা যে দেখবার পারছি এইডাই আল্লাহর কাছে বারবার শুকরিয়া আদায় করি বুঝছো। স্মরণ নীলিমার পুরা বিয়াডা দেখার জন্যই আল্লাহ আমারে এতদিন বাঁচায় রাখছে। এহন আমি শান্তিতে ম' র' তে পারমু। "

আসমানী বেগমের বুক কেঁপে উঠলো বৃদ্ধ বয়সে এসেও স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসা বিন্দু পরিমানও কমেনি। এজন্য এখনও তাঁকে হারানোর চিন্তা মাথায় এলেই বিচলিত হয়ে পড়েন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসমানী বেগম কপট রাগ দেখিয়ে বললেন,
" ভালো কথা কও ইটুফোঁটা। এত ম' রা ম' রা করো ক্যান! আমার লগে থাকতে ভাল্লাগেনা তোমার? না লাগলে কও, আমিই মইরা যাইতেছি। "

দূর্বল হাসলেন বাহাদুর শেখ। আজকাল হাসতে গেলেও মনে হয় শরীরের সমস্ত শক্তি লেগে যাবে। নিভে যাবে জীয়নকাঠি। স্ত্রীকে প্রত্যুত্তরে বলেন,
" তোমার লগেই তো এতোডা বছর কাটাইলাম দিল। তুমি মইরা গেলে আমিও ওক্ষণে মইরা যামু। কারণ তুমি যে আমার দিল! কোনো মানুষ কি দিল ছাড়া বাঁচে কও!"

আসমানী বেগম ভেতরকার অস্থিরতাটুকু ঢেকে বলেন,
" বহুত কথা কইছো। এহন ইটু ঘুমাও তুমি। "

বাহাদুর শেখ এর প্রত্যুত্তর করলেন না। আসমানী বেগমের হাতের উপরিভাগে আলতো ঘষা দিতে দিতে বললেন,
" শোনো দিল, তোমারে আমি খুব ভালাবাসি। হেই যৌবনকাল হইতে এই বুইরা বয়স পর্যন্তও তোমারে কিছু না ভাইবাই ভালাবাসি গেছি। আল্লাহর কাছে আমি প্রতি মুনাজাতে দোয়া করছি যেন জান্নাতে তোমারে আমার বউ বানায়। আর অন্য কাউরে না। আমি মইরা গেলে তুমিও এই দোয়াই করো জানি জান্নাতে আমাগো সাক্ষাৎ হয়। "
আসমানী বেগম আর কিছুই বলতে পারলেন না। দু চোখ উপচে নোনাজল গড়িয়ে পড়লো তার। 

ঠিক ভোরেই ফজরের আজান পড়তে না পড়তেই ইন্তেকাল করেন বাহাদুর শেখ। নিজের দিলকে একা করে রেখে যান বিশাল এ পৃথিবীতে।
.
.
.
চলবে.........................................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp