অনেকদিন সাজে না নিহিন। কারণ ও সাজতে পছন্দ করে না। কিন্তু আজ সাজবে, কলরব খুব সাজ পছন্দ করত। কলরব তো শাড়িও খুব পছন্দ করত, খুব বলত শাড়ি পরতে, কিন্তু সেই ১৫ বছর বয়সে তো শাড়ি পরতেই শেখেনি নিহিন। তাই কখনো ওকে শাড়ি পরে দেখাতে পারেনি। আজ এত বছর পর প্রথম দেখা, আজ কি শাড়ি পরাটা ঠিক হবে? কলরব কী ভাববে? আবার নিজেই ভাবল এত ভাবাভাবির কী আছে? এখন ও বড় হয়েছে, শাড়ি তো পরতেই পারে। কিন্তু আজকাল অকেশন ছাড়া শাড়ি কেউ পরেই না। কী করবে? এসব ভাবতে ভাবতে শাড়ি একটা পরেই ফেলল। সাদা শাড়ি, জলপাই রঙের পাড়। সাদা প্রিয় রং কলরবের। নিশ্চই ওর ভালো লাগবে। আয়নার সামনে বসে চোখে কাজল দিলো। হালকা লিপস্টিক দিলো আর কপালে ছোট্ট একটা কালো টিপ। কোমর সমান চুলগুলো খোলাই রাখল। সব শেষ করে যখন আয়নার সামনে দাঁড়াল, নিজের রূপে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেল। না এভাবে কলরবের সামনে কিছুতেই যেতে পারবে না ও। লজ্জায় মরেই যাবে। শাড়ি পালটে সাজের সাথে যায় এমন একটা সালোয়ার কামিজ পরে নিল, এই ভালো।
কলরবের আজকের মত দুর্দশা ইহজীবনে কোনোদিনও হয়নি। কী পরবে বুঝে উঠতে পারছে না। আলমারির সামনে অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। নিহিন পাঞ্জাবি খুব পছন্দ করত। পাঞ্জাবি পড়লেই বলত, ‘তোমাকে পাঞ্জাবিতে এত মানায় কেন বলল তো?’ বাচ্চা মেয়েটা এটা বুঝত না যে পাঞ্জাবি পড়লে সব ছেলেদেরই মানায়। যাই হোক শুক্রবার যেহেতু পাঞ্জাবি পরাই যায়। কিন্তু না পরাটাই ভালো, শীতকাল বলতে গেলে চলেই এসেছে, তবু তো আজ প্রচণ্ড গরম পড়েছে। তাছাড়া নিহিন ভাবতে পারে ওর জন্য পঞ্জাবি পরেছে কলরব। আবার উৎসব উৎসব ভাব চলে আসবে পাঞ্জাবি পরলে। ধুর.. যে যা ভাবার ভাবুক, আজ নিহিনের সাথে দেখা করতে যাবে ও, এর চেয়ে বড় উৎসবের দিন আর কী হতে পারে? নিহিনের পছন্দের কালো রঙের একটা পাঞ্জাবি পরল। কলরব আর কল্প যেখানেই যায় একই কাপড় পরে বের হয়। কেনার সময়ই ইচ্ছে করে একই কাপড় কেনে কলরব। তাই কল্পও একই পাঞ্জাবি পরল। বের হওয়ার সময় সানগ্লাস পরে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই মনে পড়ল নিহিন বলত, ‘সানগ্লাস আমার একদম ভালো লাগে না, সানগ্লাস পরলে তোমার চোখ দেখা যায় না।’
সানগ্লাসটা খুলে রেখে দিলো। কল্প বলল,
“পাপ্পা, ইটস আ সান্নি ডে। তুমি সানগ্লাস কেন রেখে যাচ্ছো?”
“এমনি, ভাল্লাগছে না।”
একটু থেমে আবার বলল,
“আসলে আমরা যে এত সানগ্লাস পরি, পরা উচিত না কিন্তু। কারণ সানগ্লাস পরলে চোখ দেখা যায় না।”
“কিন্তু পাপ্পা, তুমি তো বলেছিলে সানগ্লাস সান এর আল্ট্রা ভায়োলেট থেকে আমাদের চোখকে প্রোটেক্ট করে।”
কলরব মহা বিপদে পড়ল। বলল,
“বড়রা না পরলেও হয় কিন্তু বাচ্চাদের পরা উচিত।”
“তাহলে তুমি যে সানগ্লাস কিনে কিনে ঘর ভরে ফেলেছ? আর এতদিন তো ডেইলি পরতে।”
কলরব বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“বাবা আমরা বেরোলাম।”
তারপর কল্পকে কোলে নিয়ে বেড়িয়ে যেতে যেতে বলল,
“তুই অনেক পেকেছিস। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছিস! তোকে আমি ল’তে ভর্তি করে দেবো কালই, তোর আর স্কুলে যেতে হবে না! ইয়া মোটা মোটা বই পড়বি!”
“নো পাপ্পা.. আই হেট বুকস!”
কলরব ড্রাইভ করছে, পাশে কল্প আবারও জেরা শুরু করে দিয়েছে।
“পাপ্পা, আমরা আজকে যে আন্টিটার সাথে মিট করতে যাচ্ছি, সে কি দেখতে সুন্দর, নাকি না?”
“কেন?”
“সুন্দর না আন্টিদের আমার ভালো লাগে না।”
“কেন? যারা অসুন্দর তারা কি তোকে মেরেছে?”
“নো, বাট কেন জানি ভালো লাগে না।”
“কী আর করা যাবে বল, সবাই তো আর আফরার মতো সুন্দর হয় না।”
“পাপ্পা!”
ধমক দিয়ে বলল কল্প। কলরব হেসে বলল,
“আচ্ছা আচ্ছা সরি, ওই আন্টিটা অনেক সুন্দর। তোর পছন্দ হবে।”
“সে কি ফরসা?”
“হুম, ফরসা তো।”
“মায়ের মতন?”
একটা ধাক্কা খেয়ে আবার সামলে নিল কলরব। বলল,
“হুম, তোর মায়ের মতন।”
“এহ্ আমার মায়ের মতো সুন্দর পৃথিবীতে আর কেউ নেই।”
সেটা অবশ্য ঠিক, এই আন্টিটা অত সুন্দর না হলেও সুন্দর।”
“আচ্ছা। পাপ্পা, আমাদের আর কতক্ষণ লাগবে?”
“এইতো চলে এসেছি প্রায়।”
·
·
·
চলবে..................................................................................