তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো - পর্ব ০৮ - মৌরি মরিয়ম - ধারাবাহিক গল্প


          অনেক উলট-পালট ভেবে শেষমেশ নিহিন ফোনটা করেই ফেলল। ওপাশ থেকে কলরব বলল,

“হ্যালো…”

অস্থিরতায় ফোন তো করে ফেলল, এখন কী বলবে! কিছুতেই বুঝতে পারছে না নিহিন। কোনোমতে বলল,

“কেমন আছ?”

“আছি তো ভালোই, তুমি ভালো আছ?”

“হুম, ভালো।”

“ম্যাডামকে ফেসবুকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো না। ঝুলেই রইলাম।”

“একটু আগেই অ্যাড করলাম। কিন্তু তোমার এ নাম আমি জানতাম না কেন?”

“অবশ্যই জানতে। বলেছিলাম না আমার মা পাখিদের ডাক অনেক পছন্দ করত তাই আমার নাম রেখেছিল কলরব, এটা ডাকনাম। কিন্তু আমার পুরো নাম সাদমান সাদিফ।”

“হ্যাঁ, মা কেন কলরব রেখেছিল সেটা বলেছ, কিন্তু পুরো নাম বলোনি তুমি।”

“বলেছি। মনে করে দেখ, যেদিন আমাদের প্রথম কথা হয়েছিল তার পরের দিনই বলেছি।”

চিন্তায় পরে গেল নিহিন। এত আগের কথা এত নির্দিষ্টভাবে বলছে ও, হতেও তো পারে। কলরব নিহিন কে চুপ থাকতে দেখে আবার বলল,

“তখনও তুমি আমাকে ভালোবাসতে শুরু করোনি তাই আমার তখনকার বলা কথা ভুলে গেছ, কিন্তু তোমার প্রত্যেকটি কথা আমার মনে আছে। কারণ.. থেমে গেল কলরব। আগের মত সব কথা হুটহাট বলতে পারছে না। নিহিন বলল,

“কারণ… কী?”

“না, কিছু না।”

“বলো..”

“বাদ দাও, আচ্ছা এতদিন পর আমাদের কথা হলো, তো একবার দেখাটাও হওয়া উচিত না?”

স্বস্তি পেল নিহিন। মনে মনে এটাই চাচ্ছিল, বলতে পারত না হয়তো। বলল,

“কবে দেখা করতে চাও?”

“আমার তো শুক্র শনি ছাড়া গতি নেই। অফিস থেকে ফিরতে ফিরতেই অনেক রাত হয়ে যায়, তারপর তো আর সম্ভব না।”

“আমার শুধু শুক্রবার বন্ধ। তবে প্রতিদিন বিকেলের মধ্যেই বাসায় চলে যেতে পারি।”

“তাহলে এ শুক্রবারই দেখা করা যাক।”

“আচ্ছা।”

“ও, ভালো কথা.. আমার সাথে আমার ছেলে থাকবে। আসলে প্রতি শুক্র ও শনিবার ওকে নিয়ে বেড়াতে হয়। সারা সপ্তাহে সময় দিতে পারিনা, তাই এই দুইটা দিন ওর। সমস্যা নেই তো?”

“না না, ওকে নিয়েই এসো.. আমার কোনো সমস্যা নেই। কী কিউট করে কথা বলে। শুনেই দেখতে ইচ্ছে করছিল সেদিন।”

“হুম শুধু কথা না, ও আগাগোড়া পুরাটাই কিউট। বাপকা বেটা তো!” হাসল নিহিন। বলল,

“তাছাড়া জিজ্ঞেস করার কী আছে? আমি যে বাচ্চাদের পছন্দ করি তা ভুলে গেছ?”

“না ভুলিনি, কিন্তু তোমার চেয়ে বেশি আমি বাচ্চাদের পছন্দ করি। তাই আমি এক বাচ্চার বাপ, আর তুমি এখনো অবিবাহিত, ঘটনা কী? বিয়ে করোনি কেন?”

নিহিন আসলেই বিয়ে করেছে কি না জানার জন্য আন্দাজে একটা ঢিল ছুড়ল কলরব। নিহিনের মন চাইল বলে দিক, তুমি কত বিয়ে করেছ! কিন্তু বলল না, নিহিন এটা কলরবকে দিয়েই বলাতে চায়। তাই বলল,

“তোমাকে কে বলল আমি বিয়ে করিনি?”

“না মানে তোমার ফেসবুক রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস বলেছে।”

“ওটা যে মিথ্যে নয় তার কী গ্যারান্টি? আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল এমনটাই তো শুনেছিলে।”

“হ্যাঁ তা শুনেছি। তাহলে কি ধরে নেব তুমি বিবাহিত?” হেসে ফেলল নিহিন। কলরব বলল,

“এখানে হাসির কী আছে?”

“এমনি।”

দুজনেই চুপ হয়ে গেল। একসময় নীরবতা ভেঙে নিহিন বলল,

“তুমি ছেলের সাথে ছেলের মাকেও নিয়ে এসো।”

“ছেলের মা হাতছাড়া হয়ে গেছে।”

কলরব স্বস্তি পেল তার মানে নিহিনের বিয়ে নাও হতে পারে। কিন্তু বারবার মনে হতে লাগল, ওর ওই হাসির পেছনে কোন রহস্য নেই তো? বুকের ভেতর দামামা বাজতে লাগল!
·
·
·
চলবে....................................................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp