আলীউদ্দিন তার ত্রিশজন অশ্বারোহী এবং নিজের পুত্র লামের সাথে অপেক্ষা করছে আবদালীর সৈন্যের আগমনের। সীমান্ত পার হলে আবদালীর সৈন্যরা তাদের রুদখান দূর্গে নিয়ে যাবে। কিন্তু আলীউদ্দিনের চিন্তাকে মিথ্যে করে দিলো যখন ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ পেলো তারা। মুহূর্তেই মুক্ত তলোয়ার হাতে কালো পোশাকে উপস্থিত হলো সৈন্যরা। এরা আবদালীর সৈন্য নয়। এরা শেহজাদা উমার এবং শেহজাদা আবু সাঈদের সৈন্য। পরিস্থিতি আন্দাজ করতেই আলীউদ্দিন নিজের পুত্র লামকে ইশারা করলো। পাঁচজন সৈন্য সমেত পালিয়ে যেতে বললো। লাম ভয়ার্ত স্বরে বললো,
“আব্বা-হুজুর, আমি পালিয়ে গেলে ওরা আপনাকে মেরে ফেলবে”
“এজন্যই তোমাকে পালাতে বলছি। এটা একটা চাল। আমরা ফাঁদে পা দিয়েছি। তুমি পালিয়ে যাও”
একখানা ছুরি তার হাতে দিয়ে বললো,
“এখান থেকে আমিরবাগ দূর্গ খুব দূরে না। ওখানে এই ছুরিটা দেখালে ওরা তোমাকে সাগরের ওপারে নিয়ে যাবে। মেহমুদ সাম্রাজ্যের বাহিরে গেলে তুমি নিরাপদ”
বলেই ছেলেকে পালিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলো। আবু সাঈদ এবং উমারের সৈন্য বর্বরের মতো তলোয়ার চালাতে লাগলো। রাতের অন্ধকারে, মুক্ত আকাশতলে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আলীউদ্দিনের অশ্বারোহীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলো কিন্তু অপারগ হলো। যুদ্ধের একপর্যায়ে আলীউদ্দিন ধরা পড়লো। আলীউদ্দিনের প্রধান সেনাপতিকে হত্যা করলো উমার। আর আলীউদ্দিনের শির “আল্লাহু আকবর” এর ধ্বনির সাথে দ্বিখন্ডিত করলো আবু সাঈদ। শুধু জঙ্গলের ভেতর স্থবির দাঁড়িয়ে রইলো ইরহান এবং তার ছায়াযোদ্ধারা। হুদ অবাক স্বরে বললো,
“হুজুর, আপনি স্থির কেন?”
ইরহান বাঁকা হাসলো। ঠান্ডা স্বরে বললো,
“আমার উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে হুদ। অহেতুক কষ্ট করার মানেই নেই”
“কিন্তু এসফাইন তো এখন শেহজাদা আবু সাঈদের নেতৃত্বে চলে গেলো”
“আমার উদ্দেশ্য কখনো এসফাইন ছিলো না, ছিলো আবদালীর ডান হাত কাঁটা। আজ সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা আমাদের প্রধান উজিরের হয়েছে। কালকের সকালটা তার জন্য ভাবী দুঃখ বয়ে আনবে। তুমি হয়তো খেয়াল করো নি লাম পালিয়ে গেছে। আলীউদ্দিনের অকেজো ছেলে এখন বিদ্রোহ করবে। সেই সাথে আবদালীর জোটে ভাঙ্গন ধরবে”
উজির আবদালীর সকল কুকাজের সাক্ষী আলীউদ্দিন। আবদালী কি করে সম্রাটের বিরুদ্ধে এবং নিজের দৌহিত্রর জন্য একটু একটু ছক কষেছিলো সবকিছুর সাক্ষী আলীউদ্দিন। আলীউদ্দিনের মৃত্যুর সাথে সাথেই আবদালীর উজির এবং দেওয়ানমহল নড়ে চড়ে উঠবে। সেই সাথে এতোকাল আলীউদ্দিন যেসব দূর্গ এবং খনিতে নিজের দখলে রেখেছিলো সেগুলো মেহমুদ সাম্রাজ্যের কাছে ফেরত চলে যাবে। আলীউদ্দিনের সৈন্যরা হবে সাম্রাজ্যের গাদ্দার। আবদালী নিজের লোকেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এই বিষয়টিও অনেকের মস্তিষ্কে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। শেহজাদা আবু সাঈদ প্রচন্ড খামখেয়ালী। এসফাইন তার নেতৃত্বে যাওয়া মানে একপ্রকার রাজ্যের ক্ষতি। ইরহান তার হাসি প্রশস্ত করে বললো,
“বায়োজিদকে বলো চলে আসতে। এখন এসফাইন রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব নয়। আর ইয়েমে খবর দাও। তারা যেন এসফাইনের উপর আক্রমন করে। আপাতপক্ষে আজ বিজয়ী আমি। মেহমুদ সাম্রাজ্যের ইটে অবশেষে ধাক্কা লাগলোই”
হুদ মাথা ঝুকিয়ে শুনলো ইরহানের কথা। সে একবার তাকালো আবু সাঈদের উজ্জ্বল মুখশ্রীর দিকে। রক্ত রঞ্জিত বিজয় উল্লাসে সে মাতোয়ারা। উমার শান্ত হয়ে তাকিয়ে রয়েছে আলীউদ্দিনের নিথর ধরের দিকে। মানুষের জীবন কতটা ছোট! সে নিজের হাতের দিকে চাইলো। নিজের ভাইয়ের ঘাড়ে হাত রেখে শান্ত স্বরে বললো,
“আজ থেকে তোমার নতুন যাত্রা শুরু। এসফাইন একবার অত্যাচারী শাসক পেয়েছে। আশাকরি তুমি এসফাইনে তৃতীয়বার আগুণ জ্বলতে দিবে না”
******
মালেক শাহর দরবারে তিন শেহজাদার বীরত্বের জয়ধ্বনি তীব্রভাবেই গুঞ্জলো। সকল উজির, দেওয়ানরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আলীউদ্দিনের শির ঝুললো নগরফটকে। সবার মনেই একটা ভয় সৃষ্টি হলো। সেই সাথে সুলতানের ন্যায়বিচারের প্রশংসা। আবু সাঈদ যে এতোকাল শুধু সুলতানা তাবিয়ার পুত্র হিসেবেই পরিচিত ছিলো সে প্রশংসা কামালো নিজের সাহসের। জনগনের মধ্যে আবু সাঈদের একটা নতুন পরিচয় জনপ্রিয়তা পেল। অন্যদিকে আবদালীর জোটের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি ছড়ালো। নিজের দোহিত্রের জন্য আবদালী নিজের লোকদের মাথা পিষে ফেলতে পারে। মালেক শাহ আবু সাঈদকে এসফাইনের নতুন প্রাদেশিক প্রধান ঘোষণা করলেন। সেই সাথে ঘোষণা করলেন,
“আগামী মাসের প্রথম শুক্রবার শিকার উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ফালাক দূর্গে”
প্রতিবছর সুলতান মালেক শাহ শিকার উৎসব করেন। টানা পনেরোদিন তার উজির, দেওয়ানসহ শেহজাদারা শিকারে যায়। যে সবচেয়ে বেশি শিকার করে তাকে উপহার দেওয়া হয় কোনো দূর্গ অথবা কোনো ঘোড়া। এই সময়টা রাজ্যের ভার থাকে সেনাপতি মীর বখসি এবং প্রধান উজির আবদালীর নেতৃত্বে। প্রতিবার শিকার উৎসবের বিজয়ী হয় শেহজাদা ইরহান। উমারের বেজুবান জানোয়ার হত্যায় কোনো বীরত্ব অনুভূত হয় না। তার মনে হয় এসব শুধুমাত্র নিজের অনর্থক শক্তি প্রদর্শন। কিন্তু তাকেও যেতে হবে কারণ সুলতান মালেক শাহ সবচেয়ে প্রিয় শখ শিকার। পিতার চোখের নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করতে নারাজ সে। এবার শিকার উৎসবে একটি পরিবর্তন হলো। সকলের সাথে দুজন মানুষ যুক্ত হলো, রুমেলিয়া এবং তার দাসী হুসনাত। তাবিয়া সেই সাথে হামিদাকেও যুক্ত করলো। মহলে তোড়জোড় শুরু হলো শিকার উৎসবের। প্রধান উজির এবং মীর বখসি বুঝে নিলেন তাদের দায়িত্ব।
২০.
পরিষ্কার দিন। সকাল সকাল মোট সাতটি ঘোড়ার গাড়ি মহল থেকে যাত্রা শুরু করলো ফালাক দূর্গের পথে। মালেক শাহ তার পছন্দের ঘোড়ায় করে যাত্রা শুরু করলেন। একটি ঘোড়ার গাড়িতে তাবিয়া, রুকসানা এবং তার দাসীরুপে হামিদা এবং অন্য একটি গাড়িতে রুমেলিয়া এবং হুসনাত। শেহজাদারা নিজ নিজ ঘোড়ায়। ইরহানের প্রিয় ঘোড়া “বেরকুত” এর উপর আরোহিত। তার পাশে হুদ। সবার শেষে তাদের ঘোড়া। যাত্রায় তারা তিন স্থানে থামলো। প্রথমবার থামা হলো সুলতানের ভোজন বিরতির জন্য। সবাই একত্রে ভোজন করতে বসলো। আবু সাঈদের মুখখানা চকচক করছে। তার ঠিক উলটো পাশে বসলো ইরহান। আবু সাঈদ তখন ইরহানকে খুঁচিয়ে বললো,
“সেরাতে আপনাকে কোথাও দেখি নি ভাইজান। আপনি থাকলে দেখতে পেতেন আমি কি করে আলীউদ্দিনের শির কেটেছি। আপনার অবশ্য ভাগ্য খুব ভালো। না উপস্থিত হয়েও আমার আর বড় ভাইজানের কৃতিত্বের ভাগ পেয়েছেন। কিন্তু আপনি ছিলেন কোথায়?”
ইরহান মুখে খাবারখানা নিতে যেয়েও থেমে গেলো। কিছু সময় স্থির চোখে তাকিয়ে রইলো আবু সাঈদের দিকে। তারপর বাঁকা হেসে বললো,
“আমি ওখানেই ছিলাম, শুধু নিজেকে প্রকাশ করি নি। আমি তোমাকে আশাহত করতে চাই নি। চেয়েছিলাম আলীউদ্দিনের শির তোমার হাতেই শোভা পাক। নয়তো আমাকে তো চিনোই, নগ্ন তরবারি রক্তে না ভেজালে আমার শান্তি হয় না। ওখানে যদি আমি উপস্থিত হতাম তাহলে তোমার বীরত্ব দেখাবার সুযোগ থাকতো না”
ইরহানের কথার মর্মার্থ বুঝে গেলো আবু সাঈদ। উমার একটু শক্ত গলায় বললো,
“ভোজনের সময় এতো কথা বলা উচিত নয়। খাও চুপচাপ”
আবু সাঈদের মুখে রঙ উড়ে গেলো। মায়ের দিকে তাকাতেই সে ইশারা করলো যেন শান্ত থাকে। মালেক শাহর ছেলেদের মধ্যকার রেষারেষি খুব উপভোগ্য লাগে। সিংহাসনের প্রতি লোভ না থাকলে কি শেহজাদা হওয়া যায়?
একটা প্রকান্ড গাছের নিচে বসলো হুসনাত। মালেক শাহর নজর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে সে। মুখে সর্বদাই নেকাব থাকে তার। যেন সুলতান তাকে ঘুণাক্ষরেও না দেখতে পারে। কেউ শুধালেই বলে,
“আমার মুখের ক্ষত এখনো সারে নি”
বণিকের হামলার ক্ষতের কারণে উপকার ই হলো হুসনাতের। যখন সুলতান পরিবার খেতে বসলো, সে অন্যদিক সরে এলো। সুলতান মালেক শাহর অপছন্দ ক্ষতবিক্ষত মুখ। তাই সেটাই উছিলারুপে ব্যবহার করলো হুসনাত। সে গাছের গুড়িতে হেলান দিলো। পা ব্যথা করছে। শেহজাদী তাকে নতুন পোশাক দিয়েছে। নতুন পাদুকায় তার পায়ের কিছু অংশ ছিলে গেছে। পাশে একটি প্রকান্ড ঝিল। ঠান্ডা বাতাস বইছে। মরু থেকে অনেক আলাদা এখানকার পরিবেশ। সবুজে ঘেরা জঙ্গল। সেই জঙ্গলের ভেতর থেকেই তাদের যাত্রা। এখানে যদি কেউ তাদের উপর আক্রমণ করে তাহলে বাঁচার সম্ভাবনা কম। যদিও সুলতানের বিশ্বস্ত অশ্বারোহী এবং তীরন্দাজরা সাথে রয়েছে। শেহজাদারাও সদা প্রস্তুত তাদের তলোয়ার নিয়ে। তবুও শত্রুরা যদি আক্রমণ করে তবে পুরো পরিবারকে জিম্মি করা যাবে। হুসনাত ঝিলের কাছে নিজের পাটা ধুয়ে নিলো। ঠান্ডা ঝিলের পানিতে তার মন যেন জুড়িয়ে গেলো। ফলে পা ডুবিয়ে দিলো সে। ঠিক সেই মুহূর্তেই মনে হলো তাকে কেউ দেখছে। হুসনাত সাথে সাথেই পেছনে চাইলো। ইরহান সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তার ঘোড়া বেরকুতের কেশে হাত বুলাচ্ছে। অথচ দৃষ্টি হুসনাতের দিকে। চোখে চোখ পড়তেই হুসনাতের হৃদয় ধক করে উঠলো। সেদিনের পর থেকে শেহজাদা তাকে ডাকে নি। ফলে বহুদিন শেহজাদার সাথে দেখা হয় নি হুসনাতের। এক অদ্ভূত অস্বস্তি তাকে ঘিরে ধরলো। হুসনাত আর তাকিয়ে থাকতে পারলো না। পানি থেকে পা উঠিয়ে প্রস্থান করলো সে। ইরহানের দৃষ্টি তখনও তার দিকেই নিবদ্ধ রইলো। শীতল, গভীর চাহনী।
অবশেষে চার দিন পর দূর্গে পৌছালো সকলেই। যে যার কামরায় চলে গেলো। আগামীকাল থেকে শুরু হবে শিকার। তাই বিশ্রাম প্রয়োজন। হুসনাত এবং হামিদাকে একই ঘরে দেওয়া হলো। হামিদা যদিও তাকে অপছন্দ করে কিন্তু সুলতানার কথা অমান্য করে সে কোনো ঝামেলা করলো না।
****
শিকার উৎসব শুরু হয়েছে। শিকারে প্রতিটা পুরুষ তার প্রিয় মানুষকে একটা করে পশু উপহার দিবে। হামিদা উমারকে বললো,
“শেহজাদা আমার একটি ছোট খরগোশ চাই”
“তুমি জানো আমার শিকার পছন্দ নয়”
“আমার আবদার আপনি রাখবেন না?”
উমার হামিদার মলিন মুখখানাকে অগ্রাহ্য করতে পারলো না। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে শিকারে নামলো। এর মধ্যে রুমেলিয়া আবদার করলো,
“আমিও শিকার করতে চাই, আব্বু”
মালেক শাহ মেয়ের উৎসাহকে মাটি করতে চাইলো না। কিন্তু বললো,
“বেশ তুমি আমার মাকবুলের সাথে যাও”
রুমেলিয়া এর মধ্যে একটি চালাকি করলো। সে নিজের সাথে হুসনাতকে যাবার আদেশ দিলো। হুসনাত কাঁপা স্বরে বললো,
“গোস্তাখি মাফ করবেন শেহজাদি, কিন্তু আমি ঘোড়া চালাতে পারি না”
“আমার ঘোড়া খুব শান্ত। তুমি শুধু ঘোড়ায় শান্ত হয়ে বসে থাকবে। আর তোমার পরণে থাকবে আমার পোশাক। আমি পরে থাকবো তোমার পোশাক”
“জি শেহজাদী”
শেহজাদী রুমেলিয়া বুদ্ধিমান। যদি কেউ তার উপর আক্রমণও করে বোঝার উপায় নেই কে শেহজাদী আর কে দাসী!
*****
জঙ্গলে জঙলী পশুর বাস। ফলে প্রতিটা মুহূর্তে বুঝে বুঝে পা ফেলতে হয়। ইরহান ইতোমধ্যে বেশ কয়টি বণ্য হরিণ এবং ভালুক শিকার করেছে। তার তীরের লক্ষ্য কখনোই ভুল হয় না। সাম্রাজ্যে সবচেয়ে দক্ষ তীরন্দাজের মধ্যে সে একজন। শব্দের সাথে সাথে তার তীর চলে। এদিকে মাকবুলের সাথে রুমেলিয়া এবং হুসনাত চলে গেলো একেবারে জঙ্গলের দক্ষিনে। এদিকে হিংস্র পশু কম। রুমেলিয়া তার তীর চালানোর দক্ষতা দেখালো। হুসনাত খুব ভয়ের সহিত বসে রইলো ঘোড়ার উপর। তার ভয় হচ্ছে। কখন পড়ে যায় সেই ভয়। রুমেলিয়া বহুদিন পর যেন শান্তিমত তীর চালাচ্ছে। মাকবুল হাসি মুখে বললো,
“শেহজাদীর তীর চালনার তুলনা হয় না”
“ধন্যবাদ, মাকবুল। তুমি কিন্তু আব্বাজানকে বলবে না। এটা আমার আর তোমার মধ্যকার গোপনীয় কথা কিন্তু”
এর মধ্যেই পাতার শব্দ শোনা গেলো। সতর্ক হয়ে তীর তাক করলো রুমেলিয়া। প্রথমে ভাবলো কোনো বন্যপশু। কিন্তু তার ধারণাকে মিথ্যে করে গাছ থেকে নেমে এলো ছায়া সৈন্য। তাদের ছুরি এসে লাগলো ঠিক মাকবুলের গলা বরাবর। আর চোখের পলকেই তার নিথর দেহটা পড়ে গেলো ঘোড়া থেকে। দেখতে দেখতেই ঘিরে ধরলো রুমেলিয়াকে তারা। রুমেলিয়া নিজেকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা করলো। কিন্তু একটা সময় শুত্রুর কাছে তাকে হার মানতে হলো। ফলে অজানা শত্রু জিম্মি করলো হুসনাত এবং রুমেলিয়াকে।
****
সন্ধ্যার পর সবাই ফিরে এলেও রুমেলিয়া, মাকবুল এবং হুসনাত ফিরলো না। ফলে উৎকুণ্ঠা জাগলো তাবিয়ার মনে। কথাটা জানাজানি হতেই সৈন্যরা জঙ্গলে তল্লাশিতে বের হলো। সেই সাথে আবু সাঈদ, উমার এবং ইরহানও তল্লাশিতে গেলো। জঙ্গলের দক্ষিণে যেতেই মাকবুলের লাশ পেলো তারা। আর পেলো রুমেলিয়ার ঘোড়া। ফলে নিশ্চিত হলো কেউ রুমেলিয়াকে অপহরণ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কে? ইরহানের কপালে ভাঁজ পড়লো। সে যেন আন্দাজ করতে পারলো কে এই কাজ করতে পারে। আলীউদ্দিনের পুত্র লাম। কিন্তু জঙ্গলের কোথাও তারা নেই। জঙ্গল পার হয়ে দক্ষিণে সীমান্ত। ফালাক দূর্গ অবস্থিত খোরাম্মাবাদের পশ্চিমে। খোরাম্মাবাদের পর মিশরীয় সীমানা। মিশরে কি তাদের নেওয়া হয়েছে। নাকি খোরাম্মাবাদের কোথাও তারা রয়েছে?
*****
রুমেলিয়া এবং হুসনাতের হাত, মুখ বাঁধা। একটা প্রাচীন ভাঙ্গা দূর্গে তাদের বন্দি করে রাখা হয়েছে। আজ চারদিন তারা জিম্মি হয়েছে। যে দূর্গটিতে তাদের রাখা তা খোরাম্মাবাদ পার হয়েছে শিরাজ প্রদেশের কাছে অবস্থিত। দূর্গের একটি অন্ধকার ঘরে তাদের বন্দি করে রাখা হয়েছে। বন্দির উদ্দেশ্য প্রতিশোধ। লাম নিজের মুক্তি চায় রুমেলিয়ার পরিবর্তে। যদি তাদের দাবি না মানা হয় তবে রুমেলিয়াকে হত্যা করা হবে। সুলতানের কাছে পৌছাবে রুমেলিয়ার কাটা মাথা। ঘরটা প্রচন্ড নোংরা, একটা মশাল জ্বলছে টিমটিমে আলো নিয়ে। রুমেলিয়া নিজের হাতের বাঁধন খোলার প্রচেষ্টা চালিয়েছে বহুবার কিন্তু পারে না। ক্ষিধায়, পিপাসায় তার শরীর দূর্বল হয়ে গিয়েছে। দৃষ্টি কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে। ছয়দিনে তাদের শুধু একটিবার খাবার দেওয়ার হচ্ছে যেন শেহজাদী না মরে। রুমেলিয়ার মনে হল সে যেন মরেই যাবে। ঠিক তখনই দরজা খুললো। দুজন লোক তাদের খাবার দিয়ে গেলো। হাত আর মুখের বাঁধন তখনই খুলে যখন তাদের খাবার সময় হয়। হাতের বাঁধনটা খোলার সাথে সাথেই হুসনাত শেহজাদীকে চাঁপা স্বরে বললো,
“শেহজাদী, আমাদের পালাতে হবে। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। আপনি যদি সাহায্য করেন তবে আমি আপনাকে বাঁচাতে পারবো”…………
·
·
·
চলবে……………………………………………………