চিন্তায় মাথা ফেঁটে যাচ্ছে ইমন তালুকদারের। একে একে তার সব ব্যবসা লাঠে উঠছে। ভয়ে যেই এমপি, নেতাগুলো তার সামনে কথা বলতে কাঁপতো, তারা এখন চোখ রাঙিয়ে কথা বলে। উপর মহল থেকে লাগাতার ফোন আসছে। অকথ্য ভাষায় গালাগালির সঙ্গে দু’একটা শাসানি শুনে কপালে ঘাম জমেছে বিস্তর। ড্রাইভার জুল্লুকে তিনি খেঁকিয়ে বললেন, ‘আমার ইনহেলার দে, হা রা মির বাচ্চা।’
ড্রাইভ করতে থাকা জুল্লু আকস্মিক ধমকে কেঁপে উঠলো। নড়বড়ে হাতে ড্রয়ার খুলে ইনহেলার দিতে দেড়ি হওয়া মাত্রই ইমন তালুকদার অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করলেন, ‘*** বাচ্চা! বাল মারাও আমার লগে? কাহানি করো? মজা লও? এক্কেরে হাইনকার হাড্ডি ভাঙ্গুম! আমারে চিনোছ?’
জুল্লু ঢোক গিলে। ভীষণ তাড়া নিয়ে ইনহেলার দিতেই প্রথমে ডান গালে রগরগে চড় পড়ে তার। ইমন তালুকদারের বয়স হয়েছে। ষাটোর্ধ। মাথার সবক'টা চুলে পাক ধরে সফেদ দেখাচ্ছে। মুখের, হাতের চামড়া ঝুলে বয়সের ছাপ। তবুও শরীরের শক্তি একরত্তি কমেনি। জুল্লুর গালের নরম চামড়া জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড ব্যথায় চোখে জল। লম্বা দম ফেলে জুল্লু গাড়ির স্টেয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরলো। অসহ্য ক্ষ্রোধ দমিয়ে কেমন পরাজিত গলায় বললো, ‘ক্ষমা করবেন, সাহেব।’
অথচ সেকথা শুনবার সময় বেহিসাবি ব্যস্ত ইমন তালুকদারের নেই। হাঁপাতে হাঁপাতে তিনি প্রথমে মুখে ইনহেলার চেপে ধরলেন। কাঁপা হাতে ফোনে ডায়াল করলেন নক্ষত্র তালুকদারের নম্বর। কল করে ফোন কানে রাখলেন। ফোন রিসিভ হতে সময় লাগলো। বেশ ধীরতা নিয়ে ওপাশ থেকে শোচনীয় কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, ‘ভাইয়া…’
কথা শেষ হলো না। দারুণ চিৎকারে গলার রগ ফুলে উঠলো ইমন তালুকদারের, ‘তোরে আমি পাইলে কবরে জিন্দা পুতুম নক্ষত্র! আমার কারবারের এই অবস্থা ক্যান? কে লাল বাত্তি জ্বালাইছে আমার গোছানো সংসারে? আমার পিছে এখন পুলিশ ধাওরা করতেছে। রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন হইতেছে। দেশ ছারবার পারতেছি না আমি। তুই বুঝতাছোছ কিছু?’
বলতে বলতে খুঁকখুঁক করে কাশতে লাগলেন তিনি। ফোনের ওপাশে থাকা নক্ষত্র তালুকদার হাঁসফাঁস করছেন। তিনি ধারণা করেছেন, এ কাজ কোনো না কোনো ভাবে তামজিদের। কিন্তু তার কাছে শক্ত প্রমাণ নেই। প্রমাণ বের করার চেষ্টা করেও ফলাফল শূন্য। ভুয়া প্রমাণ বের করার জন্য যেটুকু সময় দরকার, ইমন তালুকদার অধৈর্য হয়ে উঠেছেন।
নক্ষত্র তালুকদার জোরে জোরে নিশ্বাস নিলেন। ভাইকে বোঝানের শেষ চেষ্টা করে বললেন, ‘আমি একটা ব্যবস্থা করছি ভাইয়া। সময় দাও আমারে। একটা বরকি আছে। কোনোভাবে প্যাঁচ দিতে পারলে আমরা সবাই বাঁইচা যামু।’
এতক্ষণে যেন একটু শান্ত হলেন ইমন তালুকদার। ফোন কান থেকে নামিয়ে একবার ড্রাইভার জুল্লুকে দেখলেন। সে ড্রাইভিং এ ব্যস্ত। সতর্ক গলায় শুধালেন, ‘নাম কি?’
‘তামজিদ স্পন্দন।’
‘চিনোছ কেমনে?’
বসার ঘর থেকে মুখ উঁচালেই তুবার ঘর দেখা যায়। সেদিকে একবার উঁকি দিলেন নক্ষত্র তালুকদার। দরজা বন্ধ। চনমনে গলায় বললেন, ‘আমার মাইয়ার প্রেমিক।’
‘মাইয়ার প্রেমিকরে ফাসাবি? মাইয়া কিছু কইবো না?’
নক্ষত্র সাহেব উত্তর দিতে পারেন না। কলিংবেল বাজছে অনেক্ষণ হলো। কাজের লোক কেউ আশেপাশে নেই। হাঁক ছাড়লেও তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না৷ অগত্যা ইমন তালুকদারকে তিনি বিরক্ত গলায় বললেন, ‘কে যেন আসছে, ভাইয়া। আমি গিয়ে দেখি৷ তোমারে পরে ফোন দিমু।’
কল কেটে সদর দরজা খুললেন নক্ষত্র তালুকদার। পুলকিত হাসি নিয়ে সামনে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যম। উহু, তামজিদ স্পন্দন। চোখ তীক্ষ্ণ, ঠোঁটে লাজুক হাসি। আদৌ ওটাকে লাজুক হাসি বলা যায়? কুটনৈতিক হাসি বললেও ভুল হবে না। এ হাসি দেখে নক্ষত্র সাহেব কিছুদিন আগেও তাচ্ছিল্য করেছিলেন, বিরক্ত হয়েছিলেন। এবার কেন যেন সেই একই হাসি তার গোটা শরীর শিউরে দিলো। মাথা ঝিমঝিম করে ক্ষণিকের জন্য চোখে অন্ধকার দেখলেন তিনি। খুব কষ্টে আওড়ালেন, ‘এখানে কেন এসেছো?’
বিনিময়ে লাজুক হাসির প্রগাঢ়তা বাড়িয়ে তামজিদ ভীষণ সম্মান দেখিয়ে বললো, ‘তুবা আছে, স্যার? আমরা ডেটে যাবো তো! ওকে বলুন একটু তাড়াতাড়ি আসতে। আমার হাতে সময় কম।’
—————
বৃষ্টি হয়েছিল। প্রখর বৃষ্টির স্নানে সমস্ত পৃথিবীর পাপ মোচন হয়ে আবার পাপে লিপ্ত হয়েছে পাপি মানুষগুলো। দূর আকাশে একটা কাক উড়ে গেল। পর পর আরও দুটো। ধারণা করা যায়, বৃষ্টি শেষে ধূলোময়লাহীন শহর ভ্রমণে বেড়িয়েছে তারা। চোখ মুগ্ধ করতে, প্রাণ জুড়াতে, মন ভালো করতে। তারফান মাত্রই চুনোপুঁটির মতোন জানালার কাছে গিটার নিয়ে বসেছিল। জানালার বাহিরে সবে ওঠা সূর্যের কিরণ ঝলমল করছে। স্বর্ণাভ দ্যুতি চোখে গাঁথে। সতেজ প্রাণ অবশ্য ওখানে নেই। ছাদের পিচ্ছিল মেঝেতে বর্ষার পানি জমে একাকার। ক্ষণেই সেই পানিতে পা রাখলো মেরিন। বড় বড় কদমে পানির শীতল স্পর্শ পায়ে মাখিয়ে সে চিলেকোঠার দিকে এগোচ্ছে। মুখে রুঢ় তেজ, তিক্ত রাগে ভ্রু বাঁকানো। ভীষণ রেগে আছে বুঝি? ঠোঁটে ঠোঁট চেপে তারফান কিঞ্চিৎ হাসলো। দরজায় কড়া নাড়ানোর পূর্বেই দরজা খুলে মেরিনকে থতমত খাইয়ে দিলো একধাপ। ভ্রু নাঁচিয়ে বললো, ‘ঝগড়া করতে এসেছো, মেরিন? ভেতরে আসো। ধীরে সুস্থে, বসে ঝগড়া করি।’
দরজা ছেড়ে তারফান ভেতরে ঢুকে গেল তার পরপরই। ছোট্ট টেবিলের চেয়ার টেনে মেরিনকে বসতে দিলো। নিজে বসলো কোণার ওই একটুখানি ফাঁকা মেঝের ওপর। মেরিনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গম্ভীর স্বরে বললো, ‘ঝগড়া করবে না? মুড চলে গেছে?’
মেরিন মুখ খিঁচে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। পাজি লোক! অসভ্য! একে মন দিয়ে যে পাপটা মেরিন করেছে, তা নিয়ে রীতিমতো আফসোসে একগ্লাস পানি খেয়ে মরে যেতে ইচ্ছে করছে তার। শরীর মৃদু কম্পনে দুলছে। হাত মুঠো করে মেরিন লম্বা শ্বাস নিলো, ‘আপনাকে আমি কোনো একদিন চড় মেরে খু ন করবো তারফান।’
তারফান বড়ই আশ্চর্য হলো। এমন নতুন কথা সে আগে কখনো শুনেনি। কৌতূহল, উত্তেজনা দমাতে না পেরে তারফান হতবাক গলায় শুধালো, ‘চড় মেরেও খু ন করা যায়, মেরিন? কই, দাও তো দেখি! চড় খেয়ে আমি মা রা গেলে তুমি পাশ।’
বলতে বলতে গাল এগিয়ে দিয়েছে তারফান। ফর্সা গাল। খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি৷ মেরিন সত্যি সত্যি চড় মারতে হাত উঁচালো। পরক্ষণেই আবার গুটিয়ে নিলো তা। ভুলে গেলে চলবে না, তারফান তার চেয়ে গুণে গুণে দশ বছরের বড়। বুড়ো দামড়া একটা লোক। যে বয়স মানে না। সর্বদা বাচ্চাদের মতোন আচরণ করে।
ধপ করে চেয়ারে বসে মেরিন তারফানের দিকে জ্বলন্ত চোখে তাকালো। কটমট গলায় প্রশ্ন করলো, ‘আবার বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন কেন?’
তারফান ভাবলেশহীন ভাবে তাকালো মেরিনের দিকে। ওভাবেই বিছানায় রাখা গিটার টেনে হাতে নিলো। টুংটাং করলো দু'মিনিট। মেরিন ধৈর্য হারাচ্ছে। গুরুগম্ভীর গলায় তেঁতে উঠলো, ‘আপনি অসহ্য!’
‘কিছু করার নেই মেরিন। তোমার কপালের দোষ।’
মেরিন চোখ-মুখ কুঁচকে বললো, ‘বিয়েতে আবার মানা করে দিন।’
টুং… করে একটা শব্দ বাজিয়ে দুম করে গিটারে বারি মারলো তারফান। ঠান্ডা, শীতল কণ্ঠে বললো, ‘সম্ভব না।’
মেরিন মৃদু আর্তনাদ করে, ‘কেন? আপনি ছেলে খেলা পেয়েছেন এগুলো? আমার মন আপনার ছেলে খেলা মনে হয়?’ একটু থেমে তারফানের চোখে চোখ রাখে মেরিন, ‘আপনি কয়েকদিন আগেও আমাকে বিয়ের কথা বলেছিলেন। এরপর নিজেই আবার মানা করে দেন। এখন আবার কেন বিয়ে করতে চান? আপনি আমায় ভালোবাসেন না। আপনার চোখদুটো দেখেছেন কখনো? ওই চোখে আমার জন্য ভালোবাসা আছে?’
দূরে এককোণে একটা আয়না আছে। বেশি বড় না। মাঝারি। তারফান যেখানে বসেছে, সরাসরি দেখা যায়। নিজের প্রতিবিম্বর দিকে একপলক তাকালো তারফান। সত্যিই চোখে কিছু ভাসে না? মিথ্যা! চোখ ফিরিয়ে এবার মেরিনের পায়ের দিকে তাকালো সে। একদৃষ্টে চেয়েই রইলো। মেরিনের পা দুটো মাখনের মতো। জড়োসড়ো করে রেখেছে। রিনিঝিনি নুপুর পরা দু'টো পায়েই। তারফানের মাথায় চট করে একটা ভাবনা এলো। মেরিনকে আলতা পরলে কেমন লাগবে? সে যদি মেরিনের পায়ে আলতা পরিয়ে দেয়? মেয়েটা কি খুশি হবে?
পায়ের দিকে অস্বাভাবিক দৃষ্টি ফেলে তারফান আস্তে করে প্রশ্ন করে, ‘আমাকে এত বেশি ভালোবেসো না, মেরিন। পস্তাবে।’
মেরিনের কণ্ঠ কাঁপে এবার, ‘পস্তাবো যখন জানেনই তখন বিয়ে করতে চাইছেন কেন? আপনিও আমায় ভালোবাসেন?’
তারফান উত্তর দেয় না। দিবে না। হঠাৎ কঠিন করে বুক মোচড় দিয়ে উঠলো মেরিনের। জানতে চাইলো, ‘আপনি আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন কেন?’
‘এমনি।’
‘এমনিই?’
‘তোমায় আমার ভালো লাগে মেরিন।’
‘শুধু ভালো লাগে? আর কিছু না?’
তারফান উত্তর দিতে সময় নেয়। লম্বা দীর্ঘশ্বাসে আশপাশ গুমোট হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে নিষ্প্রভ গলায় বলে তারফান, ‘ভালো…বাসি।’
সঙ্গে সঙ্গে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো মেরিন। তারফানের দিকে আর একবারও তাকালো না। গালে উষ্ম শিশির গড়িয়ে পড়ছে। রুঢ়ভাবে অশ্রুজল মুছে চিলেকোঠা ছেড়ে বেড়িয়ে গেল সে। ওই স্তব্ধ, নির্বিকার পরিবেশে মেরিনের চলে যাওয়া এত ভারী শোনালো! দেওয়ালে পিঠ ঠেকলো, মাথা হেলান দিয়ে সিলিংয়ের দিকে নিষ্প্রাণ তাকিয়ে রইলো তারফান। মনে পরলো, কোনো এক ব্যস্ত সন্ধ্যায় সে অফিস থেকে সবে ফিরছিল। ক্লান্ত, পরিশ্রমে জরাজীর্ণ শরীর। পিপাসায় গলা চুলকাচ্ছে। শুষ্ক, উসখুস।
বিল্ডিংয়ের সামনে এসে তারফান প্রথমেই ভেতরে ঢুকলো না। গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে গেল। কি যেন ভাবলো। সামনে একটা ছোটখাটো নার্সারি আছে। হরেক রকমের ফুল আর ফুলের ঘ্রাণে নিশ্বাস আটকে যায়। তারফানের মনে পরে, কোনো এককালে এমনই কিছু ফুল নিয়ে বস্তিতে সাহেব সেজে আসতেন সুমন হায়দার। সর্বদা জৌলুশপূর্ণ একটা ফুলের বুকেট থাকতো তাঁর হাতে। প্রাপক, রজনী হায়দার। রজনী হায়দারকে পটানো কালীন এই ফুল বড়ো ভালোবেসে আনতেন তিনি। কত খাতির তাঁর, কত যে আদর-যত্ন! বিবাহিত জীবনের প্রথম কয়েক মাস তাঁরা সুখেই ছিলেন। ফাঁটল ধরল তখন, যখন রজনী হায়দায় সুমন হায়দারের প্রথম স্ত্রীর কথা জানতে পারলেন। লোকটার আগে থেকেই একটা সংসার ছিল, আছে। সুখি সংসার। সে সংসারে তিন ছেলেমেয়ে। ওই বউকে তিনি প্রচন্ড রকমের ভালোবাসেন। তাকে কোনো ভাবেই ছাড়তে পারবেন না। তাহলে রজনী? রজনীর অবস্থানটা কোথায়?
তারফান ফুলের সুবাস সহ্য করতে পারে না৷ ছোট থেকেই তার ফুলের সুবাসে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সেই কষ্ট মায়ের আনন্দের পিঠে সে আড়াল করে রেখেছিল। ডাইনিং টেবিলে একটা বোতলের ওপর জ্বলজ্বল করতো হরেক রকমের ফুল। ফুলগুলো ছিল সতেজ, স্নিগ্ধ। অথচ হঠাৎ করে সেই স্নিগ্ধতা একদিন হারিয়ে গেল। খুব অবাক হয়ে তারফান একদিন ভোরে ঘুম থেকে জেগে দেখলো, মায়ের অতি যত্নে আগলে রাখা টেবিলের ফুলগুলো শুকিয়ে গেছে। পঁচন ধরে বিশ্রী গন্ধ বেরোচ্ছে ওখান থেকে। মাছি উড়ছে, ভনভন! ভনভন!
‘ছার, ভেতরে ঢুকবেন না? দাঁড়াই আছেন যে?’ ওয়াচম্যানের কথায় সম্বিত ফিরে তারফানের। হকচকিয়ে তাকায়, ‘ঢুকবো।’
অথচ পা দুটো তখনো মাটির সঙ্গে গেড়ে আছে। নড়ছে না। নড়তে চাইছে না। মূহূর্তেই একটা মেয়ে গেইট খুলে বের হলো। তারফানের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে লোভনীয় চোখে কিছুক্ষণ নার্সারির দিকে তাকিয়ে রইলো। যেন, খুব প্রিয় কিছু দেখছে সে। অথচ নিতে পারবে না, ছুঁতে পারবে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েটি এবার রিকশা ডাকলো। রিকশায় চড়ে বসলো চোখের পলকে। রিকশাটা চলে যাচ্ছে। নীল রঙের রিকশা। তারফানের কি যে হলো হঠাৎ! ম্লান হয়ে থাকা মন গুটিগুটি পায়ে দোর খুলে খুব প্রাণবন্ত একটা হাওয়া ছুঁতে দিলো। ওইযে, দূরেই বিশাল এক সমুদ্র।
গেইট পেড়িয়ে ভেতরে ঢুকলো তারফান৷ দু'পকেটে দু'হাত ঢুকিয়ে আকাশের পানে তাকালো নিগূঢ় নয়নে। গুনগুনিয়ে গাইলো,
হতে পারে কোনো রাস্তায়
কোনো হুড তোলা এক রিকশায়
আমি নীল ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে, তুমি দেখলে না
·
·
·
চলবে……………………………………………………