ভাঙা আয়নার আলো - পর্ব ০৪ - শারমিন আক্তার সাথী - ধারাবাহিক গল্প

ভাঙা আয়নার আলো - শারমিন আক্তার সাথী
          জবারা বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই সিনথিয়া আসল। বাড়ির বিশাল গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতেই অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা টের পেল সে। চারপাশ এত শান্ত, যেন বাড়িটা নিঃশ্বাস আটকে বসে আছে। একজন দারোয়ান আর কাজের লোক ছাড়া কাউকেই দেখা গেল না।
কাজের মহিলা রুমা সিনথিয়াকে দেখে এগিয়ে এসে বলল,
'ম্যাডাম, আপনার ছাত্রী তো জবা ম্যাডামের সাথে গেছে। জবা ম্যাডামের ফুপু অসুস্থ। তাকে দেখতে গেছেন তারা।'
'ওহ আমাকে তো কল করে বলতে পারতো। তাছাড়া গাড়িও তো পাঠিয়েছে আমাকে আনতে।'

রুমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
'হুট করেই খবর আসল তার ফুপু স্ট্রোক করেছে। তারা দ্রুত বের হয়ে গেল। হয়তো আপনাকে কল করতে ভুলে গেছে।'
'হতে পারে। বাসায় আর কেউ নেই?'
'স্যার আছেন। আজ সে অফিস যায়নি।'

কথাটা শুনে সিনথিয়ার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে রহস্যময় এক হাসি ফুটে উঠল। বলল,
'তোমার স্যারকে গিয়ে বলো আমি এসেছি। তার সাথে একটু কথা আছে।'
'জি ম্যাডাম। আপনি বসুন আমি আমি স্যারকে বলছি।'

রুমা যেতেই সিনথিয়া মনে মনে বলল,
'ইরফান সাহেবের সাথে খানিকক্ষণ গল্প করি। মানুষটা এত বড়োলোক। যদি খুশি হয়ে বেতন বাড়িয়ে দেয়। অথবা এ-ও হতে পারে তার অফিসে একটা ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।'

সিনথিয়া জানত না ইরফানের নামে কিছুই নেই। জবার বাবা জয়নুল আবেদিন চৌধুরী। তার ব্যবসায়ের সকল ভার ইরফানকে দিলেও, এ সকল সম্পত্তির মালিক করে রেখেছেন তার মেয়েকে। তিনি ইরফানকে পছন্দ করেন, কিন্তু নিজের সম্পত্তি ইরফানের নামে লিখে দেওয়ার ভুল তিনি করেননি।

প্রথম যেদিন ইরফান জানতে পেরেছিল, এই বিশাল সাম্রাজ্যের প্রকৃত মালিক সে নয় বরং জবা। সেদিন ভেতরে ভেতরে ওর চোখে আগুন জ্বলে উঠেছিল। ইচ্ছে করছিল বৃদ্ধ মানুষটাকে সেখানেই শেষ করে দিতে। কিন্তু নিজের রাগ গিলে নতুন পরিকল্পনা করল ইরফান। ও জানে, সরাসরি যুদ্ধ করে নয়, হাসিমুখে বিষ ঢেলে মানুষ ধ্বংস করতে হয়।

জয়নুল আবেদিন চৌধুরী তার উইল এমনভাবে করেছেন যে, জবার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে ওর সকল সম্পদ অনাথ আশ্রমে চলে যাবে। তবে জবা যদি চায় তবে ওর সম্পত্তি নিজের ছেলে মেয়ে কিংবা স্বামীকে লিখে দিতে পারবে। ইরফান সেই দিনের অপেক্ষায় আছে কবে জবা ওর সকল সম্পত্তি ইরফানের নামে করবে। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই কাজ করছে।

রুমা গিয়ে ইরফানকে বলল,
'স্যার জারা মনির টিচার এসেছে।'
ইরফান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
'তাকে তুমি বসতে বলো। আমি আসছি।'

ইরফান গায়ে দামি পারফিউমটা একটু স্প্রে করে চুলটা একটু ঠিক করল। নিজেকে আয়নায় দেখে বলল,
'বাহ ইরফান কে বলবে তোর পাঁচ ছয় বছরের একটা মেয়ে আছে। অবশ্য তোর বয়সও তো বেশি না। আমার কেবল ইয়াং পিরিয়ড চলছে। এখনই জীবনের মজা নেওয়ার সময়।'

ওর চোখে তখন আত্মতৃপ্তির ঝিলিক। আজ সে প্রথম টোপ ফেলবে। শিকারকে ফাঁদে ফেলতে ইরফান কখনো তাড়াহুড়ো করে না।
নিচে নামার সময় ওর হাঁটার ভঙ্গিতেই এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ঝরছিল। এমনিতেই ওর চলাফেরা, হাসি, কথা বলার ধরণ সবকিছুতেই অদ্ভুত আকর্ষণ আছে। কিন্তু আজ সে নিজেকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছে।

ইরফানকে নামতে দেখে সিনথিয়ার হৃৎস্পন্দন বেশ বেড়ে গেল। মনে মনে বলল,
'এ লোক এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করে বাচ্চা ফুটাতে গেল কেন? বিয়ে না হলে একটা চান্স নিতাম। অবশ্য চাইলে এখনও চান্স নেওয়া যায়।'

নিচে নেমে সিনথিয়াকে দেখে যতটা খুশি হলো, সিনথিয়ার পাশে জবাকে দেখে ইরফানের সকল উচ্ছ্বাসে মুহুর্তেই ঠান্ডা পানি পড়ল। চরম হতাশা আর বিরক্তি নিয়ে জবার পানে চেয়ে রইল৷ জবা ইরফানকে বলল,
'তুমি সিনথিয়াকে ফোন করে আসতে নিষেধ করোনি?'

ইরফান ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। মিথ্যা বলতে আর কাহিনী বানাতে ওর জুড়ি মেলা ভার। আর মিথ্যার ধরণগুলো একদম সহজ স্বাভাবিক। কেউ বুঝতেই পারে না ও মিথ্যা বলছে। ও বলল,
'সরি জান। অ্যাকচুয়ালি আই ফরগট।'
জবা হেসে বলল,
'ইট'স ওকে। তুমি না বললে বের হবে? এখনও বের হলে না যে?'
'ভেবেছিলাম বের হবো। তবে মাথাটা ভার লাগছে। সো আর বের হয়নি।'
জবা খানিক উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,
'আবার মাথা ব্যথা করছে?'
'হুম খানিকটা।'
'কতবার বললাম ডাক্তার দেখাও, কিন্তু তুমি আমার কথাই শোনো।'
'ওহো এত চিন্তা করার মতো কিছু নেই। ওষুধ খেয়েছি৷ এখন এক কাপ কফি খাব। ঠিক হয়ে যাবে। তুমি ফিরে আসলে যে? হসপিটালে যাওনি? জারা আর খাদিজা আপা কোথায়?'
'তারা গাড়িতেই আছেন।'
'তবে তুমি ফিরলে যে?'
'বাবার বেশ কিছু ক্যাশ টাকার প্রয়োজন। বাবার কার্ডে কি যেন সমস্যা হয়েছে। টাকা তুলতে পারছেন না। তাছাড়া এখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। এত মোটা অংকের টাকা সে ব্যাংক থকে তুলতে পারবেন না। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমার কাছে ক্যাশ আছে কি না?'
'কত লাগবে?'
'পঞ্চাশ লাখ। আজ সকালে তুমি ব্যাংক থেকে উঠিয়েছিলে না তোমার কাজে? প্লিজ সেটা দাও। তোমার তো কাল সকালে লাগবে। তো তুমি কাল সকালে ব্যাংক থেকে নিয়ে নিও। ততক্ষণে বাবাও টাকা ম্যানেজ করে ফেলবেন।'
ইরফান হেসে বলল,
'কাবাটে আছে নিয়ে নাও।'
'ওকে। তুমি বরং সিনথিয়াকেও কফি দিতে বলো। আমি টাকা নিয়ে গেলাম।'
'আচ্ছা।'

জবা বাড়ি থেকে বের হতেই ইরফান সিনথিয়াকে বলল,
'তুমি কেমন কফি খাও? আমি বানিয়ে দিব? সরি তুমি করে বলছি। তুমি আমার অনেক ছোটো।'
সিনথিয়া কৃত্রিম সুন্দর হেসে বলল,
'সমস্যা নেই। তুমিই বলুন। তাহলে আপন আপন লাগে।'
ইরফান বাঁকা হাসল। বলল,
'কফি না কি চা?'
'কফি।'
'আজ তোমাকে আমি এত চমৎকার একটা কফি খাওয়াবো যে স্বাদ তোমার মুখ লেগে থাকবে।'

ইরফান কফি মগ সিনথিয়ার হাতে দিয়ে বলল,
'বারান্দায় চলো৷ সেখানে প্রকৃতি দেখতে দেখতে কফি পান করার মজাই আলাদা।'

সিনথিয়া ওকে অনুসরণ করল। জবার বাড়ির বারান্দায় যেন গোলাপের রাজ্য৷ বড়ো বারান্দায় চারপাশে জুড়ে কেবল গোলাপ গাছে। নানা রঙের গোলাপের সমারোহ সেখানে। এত রঙের গোলাপ সিনথিয়া কখনো দেখেনি। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে বেগুনী রঙের গোলাপ ফুল দেখে। এ রঙের গোলাপ ও কখনো দেখেনি।

সিনথিয়া আলত করে ফুলের গায়ে হাত বুলাল। বলল,
'ভাইয়া এসব গাছ কি জবা আপুর?'
'না আমার। জবা গোলাপ তেমন পছন্দ করে না৷ আমার গোলাপ অনেক পছন্দ। সে কারণে বারান্দায়, ছাদে, বাড়ির লনে আমিই গোলাপের বাগান করেছি।'
'ওহ। আপনি ফুল খুব ভালোবাসেন?'
ইরফান সিনথিয়ার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলল,
'সুন্দরকে কে না ভালোবাসে? সুন্দরকে ভালোবাসাই মানুষের ধর্ম।'

সিনথিয়া লাজুক হাসল। গাল লাল হয়ে উঠল। ইরফান বলল,
'তুমি চাইলে এখান থেকে একটা গোলাপ নিতে পারো। যদিও আমি কাউকে আমার ফুল ছেড়ার পারমিশন দেই না, তবে তুমি একটা নিতে পারো।'
সিনথিয়া বলল,
'আমাকে কেন অনুমতি দিলেন?'
'কারণ তুমি গোলাপের মতো সুন্দর।'
সিনথিয়া এবারও লাজুক হাসল।

পিছন থেকে রুমা ইরফানকে ডাকল,
'স্যার আপনার ফোন বাজছে।'
'আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি। সিনথিয়া তুমি এখন বাড়ি যাবে?'
'জি।'
'আমি ড্রপ করে দিব?'
সিনথিয়ার চোখ চকচক করে উঠল।
'তাহলে তো খুবই ভালো হয়।'

ইরফান যাওয়ার সময় ইচ্ছে করে সিনথিয়ার আঙুল ছুঁয়ে দিল। তাতে সিনথিয়া খানিক কেঁপে উঠল।

গাড়িতে বসার পর সিটবেল্ট আটকে দেওয়ার অজুহাতে ইরফান খুব কাছে চলে এল। এত কাছে যেন তার নিঃশ্বাস গায়ে লাগছে। ইরফান কিছু মুহূর্ত ওর চুলের ঘ্রাণ নিলো। তারপর নিজের অবস্থানে এসে বলল,
'তুমি কি শ্যাম্পু ইউস করো। চুলের ঘ্রাণে তো মানুষ পাগল হয়ে যাবে।'

সিনথিয়া কেবল লাজুক হাসল। তবে ও এটা বুঝতে পারল ইরফান চৌধুরী ওর প্রতি আকৃষ্ট। ও মনে মনে বেশ খুশি হলো। ইরফান চৌধুরীকে হাত করা মানে রাজরানী হওয়া। এ সুযোগ আর কখনো পাবে না ও। তাই নিজে চলে আসা সুযোগ হাতছাড়া করল না সিনথিয়া।

এরপর খুব দ্রুতই ওদের সম্পর্ক প্রেমে রূপ নিল। তবে সেই প্রেম তখনও গভীর হয়নি। ইরফান সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছে। ও জানে, চাইলেই তো একটা মেয়েকে যখন তখন বিছানা নেওয়া যায় না। বিছানায় নেওয়ার আগে তার মনকে আয়ত্তে আনতে হয়। তবে সিনথিয়ার আচরণে ইরফান এতটুকু বুঝে এ মেয়েও খুব একটা ধোয়া তুলসীপাতা না। ইরফান শিওর সিনথিয়া আগেও বেশ কয়েকবার ছেলেদের বিছানায় গেছে। তবে ইরফানের তাতে কিছু আসে যায় না। ও তো আর সিনথিয়াকে বিয়ে করবে না। সিনথিয়া ওর জন্য সময় কাটানোর খেলনা।

—————

কফি মগে শেষ চুমুক দিয়ে মগটা পাশে রেখে অফিসের বিশাল জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল ইরফান। পকেটে হাত ঢুকিয়ে দূরে তাকিয়ে রইল। সামনেই বিশাল এক শপিং মল তৈরি হচ্ছে। এটাই ওর স্বপ্ন। ওর ভবিষ্যৎ।
ওর লোভ। ওর সাম্রাজ্য। এক ধ্যানে নিজের স্বপ্নকে একটু একটু করে বাস্তব হয়ে উঠতে দেখছিল ও।

ঠিক তখনই অফিসে ঢুকল জবা। ও তেমন একটা অফিসে আসে না। তবে আজ একটা বিশেষ দিন। তার জন্য বিকালটা ইরফানের সাথে কাটাতে চায়। ইরফানের মনে আছে কি না জবা বুঝতে পারছে না।

ইরফানের কেবিনে ঢুকে পিছন থেকে ওকে দেখে জবার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। 

ইরফানের পরণে সাদা শার্ট, কালো জিন্স। গলায় টাই। পকেটে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে ঠিক সিনেমার নায়কের মতো লাগছে। পিছন থেকে ইরফানকে দেখে আনমনে হাসল জবা। এই অতি সুদর্শন পুরুষটি কেবল ওর। ওর স্বামী৷ 

জবা খুব ধীরে ধীরে গিয়ে ইরফানকে পিছন দিয়ে জড়িয়ে ধরল। ইরফান মুচকি হেসে বলল,
'জান, এ সময় তুমি অফিসে?'
'তুমি কীভাবে বুঝলে আমি তোমায় জড়িয়ে ধরেছি?'

ইরফান পিছন ঘুরে জবার পানে তাকিয়ে ওর কপালে চুমু খেলো। তারপর বলল,
'তোমার স্পর্শ আমি চিনি, জান।'
তৃপ্তির হাসি হাসল জবা। বলল,
'তাহলে আজ কী মনে আছে?'
ইরফান জবার গালে চুমু খেয়ে বলল,
'আসে বসো। তারপর বলছি।'

ইরফান নিজের চেয়ারে জবাকে বসিয়ে ড্রয়ার থেকে একটা হীরার নেকলেস বের করে জবার গলায় পরিয়ে বলল,
'আজকের দিনে প্রথম আমাদের মনের মাঝে অনুভূতির জন্ম হয়েছিল। তুমি আমার গিটারের তার ছিড়ে ফেলেছিলে।'
জবা হেসে বলল,
'সেদিন গিটারের তারে আঙুল কেটে রক্ত আমার আঙুলে ঝড়েছিল, কিন্তু সে রক্তে তোমার নাম হৃদয়ে লিখেছিলাম।'
'আমিও।'
'আজ একটা গান শোনাও?'
'এখন অফিসে...!'
'তাহলে কোথায়?'
ইরফান ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে জবার কোলে মাথা দিয়ে বলল,
'ঘুরতে যাবে জান?'
'কোথায়?'
'যখন আমরা নতুন নতুন বিয়ের পর প্রেম করতাম নদীর পাড়ে সে জায়গায়।'
'চলো।'

সন্ধ্যা নামব নামব করছে। জবা আর ইরফান নদীর পাড়ে বসে সূর্যের শেষ আলোটা দেখতে দেখতে ইরফান গিটারে টুংটাং শব্দ করে গান ধরল। সেই গানটা যেটা বিয়ের রাতে জবাকে শুনিয়েছিল।

"কেউ এলো মনে মনে কাছাকাছি,
কেউ বলে কানে কানে আমি আছি।
খুব চেনা ওচোখে,
অচেনা স্বপ্নকে, 
দেখে মন খুশিতে ভেসে গেল।"

গানটা শেষ করার সাথে সাথে জবা বলল,
'আমার ফেবারিট লাইনগুলো আবার গাও প্লিজ।'
ইরফান আবার গান ধরল,
"কবে যে আড়ালে,
বেড়েছে গোপনে,
এত চাওয়া।
না বলে কখন,
পড়েছে এ মনে,
কারো ছায়া।
ঐ হাসির বৃষ্টিতে,
আড়চোখের দৃষ্টিতে,
দেখে মন খুশিতে ভেসে গেল।"

জবা ইরফানের বুকে মাথা দিয়ে বলল,
'তোমার গানের গলা শুনলে এখনও আমার বুকে কাঁপন ধরে যায়। অদ্ভুত সুর তোমায় গলায়। তোমার অভিব্যক্তি অদ্ভুত সুন্দর। আমার ঘোর লাগে।'
ইরফান হেসে বলল,
'তোমায় ভালোবাসি বলেই হয়তো এ সুর তোমায় মনে পৌঁছায়।'
এত ভালোবাসা বহিঃপ্রকাশ করে ইরফান কীভাবে পারছে দিনের পর দিন জবার সাথে প্রতারণা করতে?

জবা ইরফানের কাঁধে মাথা দিয়ে সূর্যাস্ত দেখছে। সূর্যটা ধীরে ধীরে নদীর ওপারে ডুবে যাচ্ছিল। ইরফান মনে মনে বলল,
'জবা একদিন হয়তো তোমার জীবনের সূর্যটাও আমার হাতে বিলীন হবে। কিন্তু তাতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট আমিই পাব। আমি খারাপ প্রচণ্ড খারাপ, কিন্তু আমার একটি মাত্র ভালোদিক আছে।
আমি নিজেও বুঝতে পারি না এ দিকটা কেন আমার মাঝে আছে। অদ্ভুতভাবে আমি তোমায় সত্যি ভালোবাসি জবা। তোমাকে আর জারাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। কিন্তু আমার ভালোবাসাটাকে আমি কখনোই আমার লক্ষ্য নষ্ট করতে দিব না।'
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp