“এম্মা এ তো দেখি একদম বাচ্চা ছেলে!”
কলরবকে দেখেই একথা বলল তিথি। হকচকিয়ে গেল কলরব। এ মেয়ে বলছে কী? সাব্বির বলল,
“তিথি তোর কী জ্ঞানবুদ্ধি কখনো হবে না?”
“এম্মা এখানে জ্ঞানবুদ্ধির কী আছে? তুই ছোট ভাই হতে পারিস, আমি তো আধি ঘরওয়ালি। কি ভাইয়া ঠিক বলেছি তো?
কলরব হেসে বলল,
“সাব্বির তুই থাম তো, হ্যাঁ আধি ঘরওয়ালি কী যেন বলছিলে?”
“বলছিলাম যে, আপনাকে দেখে চমকে গেলাম, মনেই হচ্ছেনা আপনি আমাদের থেকে অত বড়। আমাদের বয়সী বলেই মনে হচ্ছে।”
“সেটা হওয়া কি ভালো না? নিজের প্রিয় বান্ধবীর জন্য নিশ্চয়ই কোনো বুড়োকে পছন্দ করবে না?”
“সেটা তো অবশ্যই না, নিহিনের ভাষ্যমতে আপনি কালো এবং ওর চেয়ে ৭/৮ বছরের বড়। তো সে হিসেবে আমি ভেবেছি একটা কালো, ভুঁড়িওয়ালা টাক লোককে দেখতে পাব। অথচ আপনি এত্ত কিউট এন্ড হ্যান্ডসাম যাকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড ছাড়া আর কিছু বলা যাচ্ছে না। আমি বিয়েটা না করে ফেললে আপনার সাথে লাইন মারতাম নির্ঘাত।”
একথা বলেই তিথি একটা চোখ মারল কলরবকে। কলরবের তো ভিরমি খাওয়ার যোগাড়। বিস্ময় কাটলে কলরব হো হো করে হেসে উঠল সাব্বির খুব বিরক্ত হচ্ছে। তিথির সব কিছুতেই বাড়াবাড়ি। কলরব বলল,
“আচ্ছা তোমার বান্ধবী তোমাকে বলেছে আমার মাথায় টাক আছে? আর ভুঁড়ি!”
“না তা নয়, আসলে কালো আর অনেক বড় বলেছে, তাই তামিল সিনেমার ভিলেনদের সাথে বাকিটা মিলিয়ে নিয়েছিলাম।”
আবার হাসল কলরব।
“যাক ভালোই হলো, বউটা আমার খুব শান্ত, আরেকটা চঞ্চল বউ পাওয়া গেল। সাব্বির চল আমরা আগাই।”
এরপর তিথিকে জিজ্ঞেস করল,
“তুমি নাকি নূপুরের ছবি তুলে এনেছ?”
তিথি মোবাইলের ছবিটা বের করে দেখালো। ছবিতে নিহিনের পা টা দেখে কলরবের মনটা একটা অদ্ভুত ভালোলাগায় ভরে গেল। ব্যাপারটা তিথি ধরে ফেলল।
“কি ব্যাপার পা দেখেই চিনে ফেলেছেন?”
“আমার জিনিস, আমি চিনব না?”
“শুধু যে চিনেছেন তা তো নয়। চোখ দুটো একদম নেচে উঠেছে।” হেসে ফেলল কলরব। দোকানে ঢুকতেই দোকানদার বলল,
“স্যার কী দেখাব?”
“কিছু দেখব না, অর্ডার দেবো। একটা নূপুর।”
“ওহ, সরি স্যার, আমরা রূপার জিনিসের অর্ডার নেই না। এখানে সুন্দর ডিজাইনের রেডিমেট বানানো আছে। এগুলো দেখতে পারেন।”
“না না, আমি আমি স্বর্ণের বানাবো। আর ডিজাইন সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি।”
চমকে উঠল তিথি।
“আপনি পাগল হয়েছেন? মুসলমানের স্বর্ণের নূপুর পরতে হয় না।”
“কেন?”
“সেটা জানি না।, সবাই বলে তাই।”
“এরকম কোনো কুরআনে আছে? হাদিসে আছে?”
“জানি না।”
“তাহলে আর কী, এখন তো বানাই। পাপ হলে তোমার বান্ধবীকে
বোলো ভেঙে অন্যকিছু বানিয়ে নিতে।”
“কেন লাগবে? আপনার কি টাকা পয়সা বেশি হয়েছে?”
কলরব হেসে বলল,
“একটু স্পেশাল তাই। এখন তো বুঝতে পারবে না। পরে বুঝবে।”
সাব্বির বলল,
“তোমার ভাই টাকা বেশি হইছে, রূপা দিয়ে বানাইলেই তো হয়।”
“তুই কি তোর বউকে বিয়েতে রূপার গয়না দিবি? নাহয় দিলি, তারপরেও কি একটুও স্বর্ণ থাকবে না?”
“তা থাকবে। কিন্তু তুমি কি এটা বিয়ের জন্য বানাচ্ছ?”
“ধরে নে, ওইরকম কিছু।”
খেয়ে দেয়ে, ঘুরে ফিরে ভালোই কিছু সময় কাটাল ওরা। যাওয়ার সময় তিথি বলল,
“ভাইয়া, এই প্রথম কিছু লুকিয়েছি নিহিনের কাছ থেকে।”
“সেটা তো তোমার বান্ধবীর খুশির জন্যই। সারপ্রাইজ পেতে কার না ভালো লাগে বলো।”
“হ্যাঁ, কিন্তু এখন যে কষ্টটা পাচ্ছে তার জন্যই খারাপ লাগছে।”
“কেন? কষ্ট পাচ্ছে কেন?”
“আপনি যে ওকে ভালোবাসেন সেটা ও খুব ভালোভাবেই জানে, কিন্তু সরাসরি কিছু বলেননি তাই টেনশনে মরছে। আর এদিকে আপনি বিয়ের প্ল্যানিং করছেন, বউ বউ করছেন। আমাকে কিছু বলতেও নিষেধ করছেন, কিন্তু ভাইয়া মেয়েটা ওদিকে অনেক কষ্ট পাচ্ছে।”
হাসল কলরব। তিথি অবাক হয়ে বলল,
“আপনি হাসছেন?”
“ওকে টেনশন করতে দাও। সময় এলেই আমি যা বলার বলব। যাতে সবকিছু খুব সুন্দরভাবে হয় সে ব্যবস্থাই করছি। আর তোমার বান্ধবী অনেক কষ্টই তো পেয়েছে, সুখটা নাহয় একবারে বেশি করে পাক। তাছাড়া গতকালই ওর সাথে দেখা হয়েছে, ও ভালোই আছে।”
এমন সময় সাব্বির তিথিকে বলল,
“তুই দরদ দেখাইয়া বলে দিয়া সব ব্লান্ডার করে দিস না দোস্ত প্লিজ।”
“আহ বললে তো কবেই বলে দিতাম। আমি কিছু বলেছি?”
“নিহিনের ফিলিংসের কথা ভাইয়াকে বলার কী দরকার ছিল? তুই এসে বলে দিবি সেজন্য কি নিহিন তোকে বলেছে? কোনো কথা এ মেয়েটার পেটে থাকে না।”
“এম্মা, আমি নিহিনের কোনো প্ল্যান..”
থেমে গেল তিথি। কলরব বলল,
“নিহিনের কীসের প্ল্যান?”
“না কিছু না, আমি গেলাম ভাইয়া।”
এই বলেই দৌড়ে পালালো তিথি। কলরব সাব্বিরকে বলল,
“আই থিংক নিহিন কোন প্ল্যান করছে, যেটা তিথিকে বলেছে, আর তিথি সেটা মুখ ফসকে বলে ফেলছিল। মনে পড়তেই আবার গিলে ফেলল কথাটা। তাই না?”
“আমি কি জানি, আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছো?”
“তুই হলি মিচকা শয়তান। সবার সব জানিস কিন্তু কিছু বলিস না।”
“সেটাই কি ভালো না? একজনের কথা আরেকজনের কাছে বলার মানে কী? যত্তসব! তিথি তোমাকে যেটুকু বলেছে তার জন্য আমার গা জ্বলছে।”
“জ্বলাজ্বলির কিছু নেই, আমার জন্মদিন আর নিহিন কিছু প্ল্যান করবে না এটা তো হতেই পারে না, কী প্ল্যান তা অবশ্য জানি না। কিন্তু কিছু তো একটা। তোরা না বললেও আমি বুঝি। নিহিনকে আমার চেয়ে ভালো আর কে জানে বল?
সাব্বির অবাক হওয়ার ভান করল,
“তোমার জন্মদিন নাকি?”
হেসে ফেলল কলরব। সাব্বির আবার বলল,
“শোনো নিহিনের অত টাইম নাই ওকে? মঙ্গলবার ওর অফিস আছে।”
কলরব হো হো করে হেসে দিলো। তারপর বলল,
“ডোন্ট ট্রাই টু বি ওভারস্মার্ট। একটু আগেই আমার জন্মদিন শুনে অবাক হলি। এখনই আবার বলছিস মঙ্গলবার ওর অফিস আছে। সামনে আমার জন্মদিন এটা জানিস না কিন্তু মঙ্গলবার আমার জন্মদিন এটা জানিস। হাস্যকর!”
“আচ্ছা ভাই, তাড়াতাড়ি চলো। আমার আবার কাজ আছে।”
·
·
·
চলবে..................................................................................