মৌনচন্দ্রা - পর্ব ১২ - নবনীতা শেখ - ধারাবাহিক গল্প

          দুই দিন কেটে গেল চিঠির অপেক্ষা করতে করতে। তারপর যখন চিঠি এলো, পড়লাম না। একদিনের ব্যবধানে জমে গেল তিন তিনটে চিঠি! আমি বিস্ময় ধরে রাখতে না পেরে অবশেষে পড়া শুরুই করে দিলাম...

প্রিয় আরাধ্যা, 
আমার এখানে রাত ২টা বেজে ১২ মিনিট এখন। ঘুম আসছে না। তোমার চিঠি একাধিকবার আমি পড়েছি আগেও। কিন্তু এবারেরটার ব্যাপারটা ভিন্ন ছিল। তুমি সম্ভবত 'ডোপামিন এডিকশন' এর কারণ হচ্ছো আমার। তবে, সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাপারটা—একটা সুন্দর বই পড়লে যেমন মন ভালো হয়ে যায়, এমন আনন্দ পাচ্ছি তোমার চিঠি পড়ে। তাই, এবারের চিঠিটা পড়ে আর ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয়নি। বরং ঠিক করেই রেখেছিলাম, ঘুমোনোর আগে আবারও পড়ব। হয়তো পরে আবারও পড়তে পারি...কিংবা এরপর আবারও!

'ভাইকিংস' ব্যান্ডের একটা গান আছে 'ভালোবাসি যারে' ২০০১ সালের স্পেশাল একটা এলবামের গান এটা। গানটা আমি গতকালই প্রথম শুনলাম, কারণ এটা গাইতে হবে আমাকে। গানটা শোনার পর থেকেই ভালো লেগে গেছে। বিভিন্ন গান সব সময়ই বিভিন্ন রকম ফ্লেভার দিয়ে গেছে আমাকে। গানের সাথে আমার জীবনের অনেক অনেক স্মৃতি ট্রিগার হয়। আমি যেন গানের সাথে টাইম ট্রাভেল করতে পারি। আমার কৈশোর, যৌবনে পা রাখা, বেড়ে এই অব্দি আসার ভেতর বেশ কিছু গান আছে। এই গানটা শোনার পর কীভাবে যেন আমি আমার কৈশোরের খুশি খুশি দিনগুলোর ফ্লেভার পাচ্ছি, জানো? প্রথম প্রেমে পড়ার বয়সে যেমন অনুভূতি হয় ছেলেমেয়েদের, তেমন..

তোমার চিঠিটা আবারও পড়ার সময় তাই গানটা লুপে চালিয়ে দিয়ে পড়তে লাগলাম। তোমার মূল চিঠির উত্তর দেবার আগে, এটা তাই খুচরো একটা চিঠি বলতে পারো কারণ জীবনে অনেক অনেক দিন পর আবারও এমন খুশি খুশি লাগছে। বিশেষ কারণ খতিয়ে দেখতে যাইনি। 

আমি হয়তো ষোলো বছর বয়সটাতে আটকে থাকতে চেয়েছি কখনো কখনো। ঐ বয়সের অনেক অপূর্ণতাই তো রয়ে গেছে। তাই, মনের বয়স আমার ষোলো বললেও খুব একটা ভুল হয়তো হবে না। কিন্তু কঠিন পৃথিবীর অভিজ্ঞতা আমার পূর্ণ বয়স্ক মানুষটারই। 

আচ্ছা, অতশত বলছি কেন....আসলে খুশি খুশি লাগছিল বেশ। তোমায় লিখতে ইচ্ছে করছিল, বা বলা ভালো ঠিক এই মুহূর্তে যে খুশি লাগছিল—সেটা জানাতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। তাই ছোট্ট করেই লিখলাম।

পুনশ্চ-১ঃ মূল চিঠিও দু ঘন্টার বসায় লিখে ফেলবো নাহয়, চিন্তা নেই। আজকাল কাউকে লিখতে বসলেও মন ভালো থাকে!

পুনশ্চ-২ঃ আচ্ছা, চিঠিতে গান শুনতে চেয়েছ দেখলাম। আমার না মনে নেই গানের কথা আদৌ উল্লেখ করেছিলাম কিনা। করেছিলাম কি? নাকি মন পড়তেও জানো? 

Mezbaah. 
June 7, 2017 3:55 AM
BUET, Dhaka

—————

প্রিয় আরাধ্যা, 
আমার এখানে রাত ২টা বেজে ১২ মিনিট এখন। ঘুম আসছে না। তোমার চিঠি একাধিকবার আমি পড়েছি আগেও। কিন্তু এবারেরটার ব্যাপারটা ভিন্ন ছিল। তুমি সম্ভবত 'ডোপামিন এডিকশন' এর কারণ হচ্ছো আমার। তবে, সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাপারটা—একটা সুন্দর বই পড়লে যেমন মন ভালো হয়ে যায়, এমন আনন্দ পাচ্ছি তোমার চিঠি পড়ে। তাই, এবারের চিঠিটা পড়ে আর ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয়নি। বরং ঠিক করেই রেখেছিলাম, ঘুমোনোর আগে আবারও পড়ব। হয়তো পরে আবারও পড়তে পারি...কিংবা এরপর আবারও!

'ভাইকিংস' ব্যান্ডের একটা গান আছে 'ভালোবাসি যারে' ২০০১ সালের স্পেশাল একটা এলবামের গান এটা। গানটা আমি গতকালই প্রথম শুনলাম, কারণ এটা গাইতে হবে আমাকে। গানটা শোনার পর থেকেই ভালো লেগে গেছে। বিভিন্ন গান সব সময়ই বিভিন্ন রকম ফ্লেভার দিয়ে গেছে আমাকে। গানের সাথে আমার জীবনের অনেক অনেক স্মৃতি ট্রিগার হয়। আমি যেন গানের সাথে টাইম ট্রাভেল করতে পারি। আমার কৈশোর, যৌবনে পা রাখা, বেড়ে এই অব্দি আসার ভেতর বেশ কিছু গান আছে। এই গানটা শোনার পর কীভাবে যেন আমি আমার কৈশোরের খুশি খুশি দিনগুলোর ফ্লেভার পাচ্ছি, জানো? প্রথম প্রেমে পড়ার বয়সে যেমন অনুভূতি হয় ছেলেমেয়েদের, তেমন..

তোমার চিঠিটা আবারও পড়ার সময় তাই গানটা লুপে চালিয়ে দিয়ে পড়তে লাগলাম। তোমার মূল চিঠির উত্তর দেবার আগে, এটা তাই খুচরো একটা চিঠি বলতে পারো কারণ জীবনে অনেক অনেক দিন পর আবারও এমন খুশি খুশি লাগছে। বিশেষ কারণ খতিয়ে দেখতে যাইনি। 

আমি হয়তো ষোলো বছর বয়সটাতে আটকে থাকতে চেয়েছি কখনো কখনো। ঐ বয়সের অনেক অপূর্ণতাই তো রয়ে গেছে। তাই, মনের বয়স আমার ষোলো বললেও খুব একটা ভুল হয়তো হবে নাহ। কিন্তু কঠিন পৃথিবীর অভিজ্ঞতা আমার পূর্ণ বয়স্ক মানুষটারই। 

আচ্ছা, অতশত বলছি কেন....আসলে খুশি খুশি লাগছিল বেশ। তোমায় লিখতে ইচ্ছে করছিল, বা বলা ভালো ঠিক এই মুহূর্তে যে খুশি লাগছিল—সেটা জানাতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। তাই ছোট্ট করেই লিখলাম নাহয়।

পুনশ্চ-১ঃ মূল চিঠিও দু ঘন্টার বসায় লিখে ফেলবো নাহয়, চিন্তা নেই। আজকাল কাউকে লিখতে বসলেও মন ভালো থাকে!

পুনশ্চ-২ঃ আচ্ছা, চিঠিতে গান শুনতে চেয়েছ দেখলাম। আমার না মনে নেই গানের কথা আদৌ উল্লেখ করেছিলাম কিনা। করেছিলাম কি? নাকি মন পড়তেও জানো? 

Mezbaah. 
June 5, 2017 3:55 AM
BUET, Dhaka

—————

ওহ রে! একই চিঠি দুইবার পাঠিয়েছে? আমার অনুভূতির সাথে এমন ছিনিমিনি খেলল কোন দুঃসাহসে? এখন যদি আমি এক চিমটে প্রতিশোধপরায়ণ হই? যাক! সেটা পরে দেখা যাবে। শেষ চিঠিটা পড়তে বসি আগে...

প্রিয় আরাধ্যা, 
এই কথাটা দু'দিন ধরে মাথায় ঘুরছে কিন্তু বলব বলব করে আর বলা হয়নি, জানেন? আপনার চিঠি পড়লে মনে হয়, কোনও উপন্যাসের নায়িকা চিঠি লিখছে। অমন আমি শুধু বইয়ের পাতাতেই পড়ে এসেছি। এজন্যই প্রতিবার চিঠি শেষ করলেই মনে হয়, বইয়ের বাকি পাতাগুলো কখন লিখবে আবার লেখক! আমার তো পড়ে পড়ে মন ভরে না! 
আর তারপর মনে পড়ে, এই বইয়ে আমিও একটা চরিত্র.... নায়িকা তো আমার কাছেই চিঠি লিখছে! 

একটু আগেই একটা মজার ব্যাপার হলো, জানো? আমার মনে হলো আমি কল্পনায় দেখতে পেয়েছি তোমায়, আরাধ্যা। মূর্ত কিছু নয়, মনে হলো তুমি জানালার দিকে ফিরে আনমনা হয়ে বসে আছো—আমি তোমার বা' কাঁধে আলতো করে ডান হাতটা রেখে বলছি, “কী হয়েছে? প্যানিক করছিলে কেন অমন সেই রাতে?”

ইউনিভার্সিটি লাইফে আমাকে পদে পদে এমন ভয়াবহ স্ট্রেসে পড়তে হয়, আরাধ্যা। কখনো কখনো সেসব চোখ ফেঁটে জল আসার মতোই। কিন্তু আমি স্থির থাকি। নিজেকে বলি, লম্বা দম নাও...It'll pass...You can do that...this is not the end of the world... this is nothing what you have already faced in your life. 
·
·
·
চলবে…………………………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp