কামিনী - পর্ব ২০ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প


          স্নানাগারের উষ্ণ জল ঠান্ডা হয়ে গেলো। রানি বসে রইলেন সেখানে নিঃশব্দে, বহুক্ষণ। বসে বসে জীবনের অনেক কথা-ই ভাবলেন। এই জীবনে কতকিছুই ঘটে যায় হুট করে। সেই ঘটে যাওয়ায় কোনো সীমারেখা টানা যায় না। আটকানো যায় না কত অঘটন। যদি আটকানো যেতো তবে বোধহয় রানি সবার আগে আটকাতেন সখীকে। কিন্তু আদৌ আটকিয়ে কি লাভ হতো? সখী যে প্রেম পেতে গিয়ে বন্ধুত্বই ভুলে বসেছিল! 

 ৩১.....

রাজ সভায় আজ কিছুটা চিন্তার শ্বাস বয়ে যাচ্ছিলো। রাজ্যের জন্য একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রয়োজন অতি শীগ্রই। অপর দিকে রাজকোষের অবস্থাও শোচনীয়। প্রজাদের প্রয়োজন পূরণ করতে না পারলে আসন দিয়ে রানি করবেনই-বা কী? 
 নিজের বিশাল কক্ষ জুড়ে হেঁটে হেঁটে বেড়াচ্ছেন রানি। হাতে তার মদ্যরসের পাত্র। পায়চারী করছেন নিজ মনে। তিনি ভেবে ভেবে কূল পাচ্ছেন না কীভাবে এই সমস্যা থেকে বের হবেন! সমাধান করবেন অর্থ সংকটের। 
হুট করেই রানির মাথায় কূটনৈতিক চিন্তার উদয় হলো। তিনি হেসে উঠলেন আপন মনে। নিজের এই অসম্ভব বুদ্ধিমত্তায় নিজেই আপ্লূত হলেন। ফ্রেয়ার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বললেন,
"যাও ফ্রেয়া, সেনাপতিকে ডেকে আনো। বলবে বিশেষ প্রয়োজন।"
 ফ্রেয়া মাথা নাড়িয়ে সেনাপতিকে খোঁজার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো। 
রানি কক্ষটিতে একাই রইলেন। একা, ক্লান্ত দিন। ধূ ধূ রোদ্দুর মিশানো উষ্ণ হাওয়া। পশ্চিমের দিকে কিছু গাছ সে হাওয়ায় মৃদু নড়ছে। রানি মনে মনে ছক এঁকে নিলেন। কীভাবে রাজ্য এবং প্রজাদের উন্নয়ন ঘটানো যায় তার সমস্ত ভাবনাই সাজিয়ে নিলেন ভেতর ভেতর।

কপাটে মৃদু শব্দে এসে কেউ যে দাঁড়িয়েছে তা রানি ঠিক টের পেলেন। এবং তিনি ঘুরে না দেখেই অনুমতি দিয়ে বললেন,
 "সেনাপতি হ্যাব্রো, ভেতরে আসো।"

হ্যাব্রো ভেতরে প্রবেশ করলো নিঃশব্দে। রানির কাছ থেকে প্রায় দশ-বারো হাত দূরে দাঁড়ালো। রানি বাহিরের দিকে দৃষ্টি স্থায়ী করেই বললেন,
"আমাদের রাজ কোষে তেমন অর্থ নেই জানোই নিশ্চয়, সেনাপতি?"

"হ্যাঁ।"

 "এই রাজ কোষ বাড়ানোর খানিক উপায় নিয়ে আমি ভেবেছি।"

"কী উপায়?"

 "আমার সাথে ক'জন রাজা দেখা করতে চান তার আনুমানিক হিসেব আছে, হ্যাব্রো?"

"আনুমানিক চৌত্রিশটি পত্র এখনো আছে যেখানে উল্লেখ আছে প্রত্যেকেই আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে মরিয়া।"

"তার ভেতর বেশ অর্থনৈতিক দিয়ে পাকাপোক্ত রাজা ক'জন?"

 "ষোলো জন।"

"আচ্ছা। রাজা ছাড়া কোনো বড়ো বণিক কিংবা আর অন্য ক'জনের পত্র আছে?"

 "বণিক বললে তো হিসেব নেই। বেশ বিশিষ্ট বণিক ষোলোশ জন আপনার সাথে দেখা করার জন্য উদগ্রীব। এছাড়া অসংখ্য বিখ্যাত গীতিকার, কবিও আছেন। যারা আপনার রূপ নিয়ে জানতে চান এবং তাদের রচনাকৌশলে ফুটিয়ে তুলতে চান। আর...."
 সেনাপতির থেমে যাওয়ায় রানির চোখে উদগ্রীবতার দেখা মিললো। সেনাপতি তো কখনো কথা বলতে বলতে থামে না! তবে আজ কেন?

রানি ঘুরে দাঁড়ালেন। প্রশ্ন করলেন, "আর?"

 "আর বহু দিন আগে একটি তৈলচিত্র এসেছিল।"
রানি আঁচ করতে পারলেন যেন এই চিত্রশিল্পীটি কে। তবুও মনের কৌতূহল সত্যি করার জন্য জিজ্ঞেস করলেন,
"কোনো নাম কিংবা পরিচয় ছিলো সঙ্গে? অথবা কোনো পত্র?"

"না।"

"কবে এসেছিল আনুমানিক?"

 "বছর এক আগে!"
রানি অবাক হলেন এবার। এতদিন আগে তার নামে একটি জিনিস এসেছিলো অথচ তাকে জানানোর প্রয়োজনবোধ করল না সেনাপতি? খানিক ক্ষিপ্তও হলেন বোধকরি। বললেন, "সেটা আজ জানালে? এতদিন কি মুখ বন্ধ ছিলো?"

 "মার্জনা করবেন, রানি। তবে আপনিই বলেছিলেন আপনার জন্য প্রেমময় পাঠানো কোনো বার্তা কিংবা অন্য কিছু সম্বন্ধে যেন আপনাকে না জানানো হয়। তাই জানাইনি।"

হ্যাব্রোর কথায় রানি অসন্তুষ্ট হলেন। বার্তার সাথে চিত্রের আদৌ কোনো যোগসূত্র আছে? কবে, কীভাবে এই দু'টো বস্তুকে এক সাথে মেলালো সেনাপতি? এমন বুদ্ধিমান হয়ে কিনা বোকার মতন কাজ করল?
 রানি কামিনী অসন্তুষ্ট স্বরেই বললেন,
"যেই রাজারা অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্ষমতাসীন তাদের মাঝে বেছে বেছে কয়েক জনকে পত্র পাঠিয়ে আমন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করো। আর চিত্রটা কোথায়? আমাকে দেখাও।"

 "অবশ্যই। আমি নিয়ে আসছি।"

"আর হ্যাঁ, দাতব্য চিকিৎসালয়ের প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করো। মহামন্ত্রীকে সংবাদটি জানাও। বলো কাজ শীগ্রই আরম্ভ করার নির্দেশ দিয়েছি।"

"ঠিক আছে।" বলেই কুর্ণিশ করে সেনাপতি প্রস্থান নিলেন।
 রানি বাহির থেকে ফ্রেয়াকে আসার অনুমতি দিলেন। ফ্রেয়া আসতেই মদ্যরস বানানোর নির্দেশ দিয়ে গিয়ে বসলেন নিজের রাজকীয় আরামকেদারায়। 
ঘোরগ্রস্তদের মতন কতক্ষণ কতকিছু ভাবলেন। ফ্রেয়ারও ততক্ষণে মদ্যরস তৈরি করা হয়ে যায়। মৃদু স্বরে সে বলল,
"রানি, আপনার মদ্যরস তৈরি।"

রানি চোখ মেলে তাকালেন। তার ভাবনার রাজ্যকে বিশ্রাম দিয়ে তুলে নিলেন পাত্রটি। ঢকঢক করে গিলে নিলেন সবটুকু পানীয়। সচারাচর দিনের বেলায় এত মদ্যরস তিনি গ্রহণ করেন না। অথচ আজ গ্রহণ করলেন। এবং এতেই ক্ষান্ত হলেন না। দ্বিতীয়বার আবার নির্দেশ দিলেন মদ্যরস আনার জন্য। 
ফ্রেয়া রানির নির্দেশ মেনে নিলো। আবার ছুটে গিয়ে প্রস্তুত করে নিলো সেই পানীয়। রানি তা আবারও গিলে নিলেন। 
পর পর অনেক মদ্যরস পানের ফলে তিনি স্থিরতা প্রায় হারালেন। সংযত ভাবও কমে এলো নেশার প্রভাবে। ঘোলাটে চোখে পিটপিট করে তাকালেন ফ্রেয়ার দিকে। নিষ্পাপ চেহারার মেয়েটি রানির থেকে কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে আছে গুটিশুটি মেরে। মাথা নত। দৃষ্টি বোধহয় মাটিতে। 

রানি জড়ানো গলায় ডাকল তাকে, "ফ্রেয়া..."
 রানির ঘোরগ্রস্ত ডাক ফ্রেয়ার কানে যেতেই সে কেঁপে উঠল। কৌতূহলী নয়ন যুগল নিয়ে তাকালো রানির পানে। বেশ বিনীত স্বরে বলল, "বলুন, রানি।"

রানি বলল না কিছু। তাকিয়ে রইলেন নিভু নিভু চোখে ফ্রেয়ার দিকে। নেশার ঘোরে মনে হলো সেখানে ফ্রেয়া নয় দাঁড়িয়ে আছে তার সখী- যামিনী। ঠোঁটে সেই স্বচ্ছ হাসি। 
 সখীকে দেখে রানির মনটি বড়োই আনন্দিত হলো। তিনি পুলকিত হয়ে বললেন,
"সখী, এসেছো তুমি?"

রানির এহেন ভুল প্রশ্নে ফ্রেয়া আশ্চর্যান্বিত হয়ে আশেপাশে তাকালো। কোথায় রানির সখী? কক্ষ জুড়ে এক বিকেলের শূন্যতা বাদে তো কিছুই নেই। তবে রানি যে ডাকলেন তার সখীকে? 
ফ্রেয়া বিহ্বল হয়ে শুধালো, "কোথায় আপনার সখী, রানি?"

রানি ততক্ষণে আধো নিদ্রা, আধো জাগরণে নিমগ্ন। ঘোলাটে চোখে ফ্রেয়াকে আঁচ করতে পেরে কেমন বোকার মতন হাসলেন। বিষণ্ণ, আর্দ্র স্বরে বললেন, "নেই। কোথাও নেই।"

ফ্রেয়া চুপ করে গেলো। ততক্ষণে রানির এই অবস্থা তার বোধগম্য। 
 ফ্রেয়াকে চুপ করে থাকতে দেখে রানি বিড়বিড় করে বললেন, "তুমি চুপ করে আছো কেন, ফ্রেয়া? কথা বলো একটু। আমার একা লাগছে। সখীকে মনে পড়ছে ভীষণ। আমি কি বড্ড বেশিই নিষ্ঠুরতম আচরণ করি?"

ফ্রেয়া বুঝে উঠতে পারে না এমন অবস্থায় তার কী বলা উচিত। হয়তো এখানে রানির সখী থাকলে ঠিক পরিস্থিতি সামলে নিতে পারতো। 
 রানি আবারও ভগ্ন স্বরে বললেন, "আমার কাছে আসো, ফ্রেয়া। পাশটাতে বসো। আমার নিঃসঙ্গ লাগছে।"

যদিও সামান্য দাসীর কোনো অধিকার নেই রানির পাশে বসার। কিংবা নেই অনুমতিও। তবুও ফ্রেয়ার ভীষণ মায়া হলো রানির আকুতিতে। তাই সে গিয়ে বসল রানির পাশে। তবে সেটা কেদারায় নয়, মাটিতে। রানির পায়ের কাছটায়। 
রানি তা দেখে বেশ আনন্দিত হলেন তবে অত্যাধিক ঘোরে থাকায় সেই আনন্দ প্রকাশ করতে পারলেন না ভাষায়।

ফ্রেয়া অবসন্ন চোখে তাকিয়ে রইল রানির দিকে। সে যখন এই রাজপ্রাসাদে আসে তখন কত লোকেই কত কিছু বলেছিলো। অনেকে রানির হিংস্রতার বর্ণনা এতটাই ভয়াবহ ভাবে দিয়েছিলো যে, যেকোনো মানুষ সেই বর্ণনা শুনলে কেঁপে উঠবে। অথচ কেউ যদি একদম কাছটাতে আসতো এই মানুষটার, তবে বুঝতে পারতো রানি আসলে কতটাই মাটির মানুষ। তার শক্ত আস্তরণের ভেতর কী যেন একটা দুঃখী নারী আছে। যে-ই নারী নেশার ঘোরে বেরিয়ে আসে। নেশাগ্রস্ত রানির সাথে অন্যান্য সময়ের কঠিন রানির কোনো মিলই যেন থাকে না। ঘটে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন। 

৩২......

 নিস্তব্ধ রাত। রানির যখন নিদ্রা হালকা হলো তখন আকাশের মাঝামাঝি বসে একটি চাঁদ বিলাপ করে যাচ্ছে একাকীত্বের। বাতায়নের রাজকীয় পর্দা গুলো একদিকে করে রাখায় জোছনার কৌতুক আবছায়া এসে লুটিয়ে পড়েছে ঘরের মেঝেতে। চাঁদের মোহনীয় সেই আলোয় ঘরটাকে লাগছে স্বর্গপুরী। শুভ্র রঙের বিশাল কক্ষটির এক কোণায় ধিক্ ধিক্ করে জ্বলছে ছোটো মশাল। তার পাশেই দাঁড় করানো বিশাল একটা কিছু যা ঢাকা আছে সাদা পর্দায়। রানির ঘুম ভেঙেই সেই দিকেই প্রথম চোখটি পড়ল। মাথা যন্ত্রণায় ভার হয়ে আছে। মুখ চোখ কুঁচকে তিনি সটান উঠে বসলেন। যন্ত্রণাকে উপলব্ধি করতে না-চাওয়ার একটি অদম্য শক্তি তার ভেতর বরাবরই উপস্থিত। 

রানি পালঙ্ক থেকে ধীরে ধীরে নেমে দাঁড়ালেন। যদিও তখনও শরীরটা বেশ ভার ভার লাগছিলো। কপাটের দিকে নজর দিতেই খেয়াল করলেন পর্দার নিচ দিয়ে প্রহরীদের দাঁড়িয়ে থাকা পা গুলো দেখা যাচ্ছে। 
রানি ধীর পায়ে দরজার সামনে গেলেন। কণ্ঠ সামান্য উঁচু করে কোনো নাম উল্লেখ্য না করেই শুধালেন,
"কক্ষের এই বিশেষ বস্তুটি কি সেনাপতি দিয়ে গিয়েছেন?"

 বাহির থেকে মৃদু কণ্ঠে উত্তর এলো, "হ্যাঁ, রানি।"

রানি দ্বিতীয় বার আর কিছু না বলে বস্তুটির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। সরাসরি চাঁদের আলো এসে পড়ছে বস্তুটিতে। এটা নিশ্চয় সে-ই চিত্র যেটির কথা সেনাপতি বলেছিলো। রানির বেশ মনে আছে চিত্র নিয়ে চলা কথোপকথনের দৃশ্য। 

তিনি শুভ্র কাপড়টিতে হাত দিলেন। সাত-পাঁচ না ভেবেই সরিয়ে ফেললেন কাপড়টি। চাঁদ ও মশালে উজ্জীবিত হওয়া অগ্নির হলদেটে আলোয় জ্বলজ্বল করে উঠল চিত্রটির উপরের মসৃণ কাচটি। রানির ডাগর ডাগর আঁখিগুলো ক্রমশই সংকুচিত হয়ে এলো। মণিগুলো হলো স্থির। তাজ্জব নয়নে তাকিয়ে রইলো চিত্রটির দিকে। এ কেমন চিত্র? কোনো মানুষের পক্ষে আদৌ এমন চিত্র অঙ্কন করা সম্ভব? রানির গা কাঁপলো। 
চাঁদের রূপোলী আলোয় জ্বলজ্বল করল চিত্রের নগ্ন নারী দেহটি। সুডৌল দেহে কী বিষণ্ণ ঢেউ! মৃসণ চামড়ায় কত আঁচড়, ক্ষতের চিহ্ন! ডানদিকের স্তনটি আধপোড়া। ওষ্ঠ থেকে নাভি অব্দিই অঙ্কিত এখানে। যেখানে ওষ্ঠের মাঝে সামান্য ফাঁক রয়েছে। মনে হচ্ছে যেন কত দীর্ঘশ্বাস উড়িয়ে দিয়েছে এই নারী মন। তাই ওষ্ঠ মেলানোর আর সুযোগটি হয়ে উঠেনি জীবনে।

রানির মনে হলো, উপহার হিসেবে পাওয়া এই চিত্রটি শুধু একটি চিত্র না, বরং এক গভীর প্রেম, উপলব্ধি ও তীব্র মনস্তত্ত্বের বহিঃপ্রকাশ।
নগ্ন, মসৃণ নারীদেহ, ক্ষতবিক্ষত, পোড়া স্তন—তা রানির প্রতি চিত্রশিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গিকে খুব তীক্ষ্ণ আর প্রতীকী করে তুলেছে। মনে হচ্ছে, অজ্ঞাত সেই মানুষটি রানির বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে তার যন্ত্রণা, তার বেদনা, তার জীবনের পোড়া দিকটাকেই চিত্রে ধরতে চেয়েছেন। যেন রানি কামিনীকাঞ্চনের প্রকৃত রূপ ওই ছবির মধ্যেই ফুটে উঠেছে—নগ্নতা এখানে লজ্জা নয়, বরং ভয়ের ঊর্ধ্বে এক নিরাবরণ সত্য।
এক কথায় অসম্ভব অনন্য সুন্দর, অকল্পনীয় কিছু যেন ফুটে উঠেছে রানির চোখে। অপরিচিত সেই শিল্পী শুধু ছবি আঁকেননি, এঁকেছেন নারী কামিনীকে পড়ে—তার ভাঙাচোরা আত্মা, অগ্নিদগ্ধ গর্ব, আর নিঃশব্দ শক্তি। এই চিত্র তারই প্রতিচ্ছবি।

রানি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে কতক্ষণ তাকিয়ে রইলেন চিত্রটির দিকে। কতটা সময় এক ধ্যানে তার কেটেছে তিনি বুঝে উঠতে পারলেন না। এরপর মোহগ্রস্তের মতন আলগোছেই নিজের পোশাকটি খুললেন। চাঁদের আলো তখনও জ্বলজ্বল। রানির উন্মুক্ত দেহে এসে পড়ল সেই আলো। এবং আগুন ও চাঁদের মিশ্রণ আলোয় রানির দেহের চাপা দাগগুলো স্পষ্ট, স্বচ্ছ দেখা গেলো। তার জৌলুশ ভরা রূপের অন্তরালের এই লোকচক্ষুর না দেখা ক্ষতগুলো কে এত যতন করে আঁকলো? হেমলক পিয়ার্স? যেই মানুষটিকে রানি এর আগে কখনো দেখেনইনি তিনি আদৌ এই চিত্র এঁকেছেন? কীভাবে? 

রানি তীর্যক দৃষ্টিতে চিত্রটির দিকে চোখ বুলিয়ে গেলেন। কোথাও, কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি-না তার আকাঙ্ক্ষায়। এসব অবশেষে তিনি দেখলেন চিত্রটির সুগভীর নাভিটির নিচে আঁচড়ের দাগের উপর লিখা দুটো শব্দ— 
❝ An elegy of a Queen
 where beauty weeps.❞
·
·
·
চলবে...................................................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp