লেক লুইসকে পাখির চোখে দেখার লোভে লগ্ন ও নাদভি পরদিন হাইকিং করা শুরু করল। বিশাল জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে রাস্তা। গাছপালার ফাঁক দিয়ে রকি মাউন্টেইন দেখা যায়। ৪৫ মিনিটের সহজ হাইকিং। কিন্তু হাঁটতে গিয়ে দেখা গেল কিছু কিছু জায়গায় রাস্তা খুবই উঁচু। হুট করেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়া বিকেলবেলা তারা রওনা হলো। সূর্য ডোবার আগে ফিরে আসতে পারলেই হয়। এই সময়ে মানুষজন নেমে আসছে। শুধু তারাই ওপরে উঠছে। লগ্ন একটা জায়গায় গাছের গুঁড়ির ওপর বসে পড়ল।
বড় বড় শ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল, ‘দাঁড়াও, একটু বসে যাই। পা ব্যথা করছে।’
নাদভিও এসে পাশে বসল। লগ্ন পানি খেয়ে বলল, ‘কী অদ্ভুত সুন্দর জায়গা তাই না! কত বড় বড় গাছ!’
নাদভি বলল, ‘হ্যাঁ। আমার তো এখন মনে হচ্ছে ৪৫ মিনিট কেন ৯০ ঘণ্টা লাগলেও আপত্তি নেই।’
‘না না। তখন আবার বেশি পা ব্যথা করবে।’
নাদভি হাসল। লগ্নর থেকে নিয়ে পানি খেয়ে তারপর বলল, ‘আর কোথাও যেতে চাইলে আজকেই যেতে হবে কিন্তু। কাল সকালে আমরা রওনা হচ্ছি, মনে আছে তো?’
‘আরে না। এবার আর কোথাও যাব না। অত ছোটাছুটি করতে চাই না। রিল্যাক্সে ক্যাম্পিং করতেই তো আসা। তারমধ্যে যতটুকু যা ঘুরেছি তা যথেষ্ট।’
‘ঠিক আছে।’
আরো কিছুক্ষণ বসে তারা রওনা হলো। আরো দুবার মিনিট পাঁচেকের বিশ্রামের পর তাদের হাইকিং শেষ হলো। ওপরে উঠে সামনের সৌন্দর্য দেখে দুজন কথা বলতে ভুলে গেল। অনেক নিচে নীল পানির সম্পূর্ণ লেক লুইস একসাথে দেখা যাচ্ছে। নীল বললেও ভুল হবে, অনেকটা প্যাস্টেল রঙের মতো। ওপর থেকে লেকটাকে ছোট লাগছে। লেকের ওপারে পাইনের জঙ্গল।
লগ্ন একটা বেঞ্চে বসে ছিল। নাদভি হাঁটছিল। হাঁটতে হাঁটতে সে কিছু বুনোফুল দেখতে পেল। কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফুল ডাঁটাসহ ছিঁড়ে একটা তোড়ার মতো বানালো। তারপর সেটা নিয়ে লগ্নর কাছে গেল। লগ্ন খেয়াল করেনি। সে লেক লুইসের সৌন্দর্যে ডুবে আছে তখনো। নাদভি আচমকা হাঁটু গেড়ে বসে ফুলের তোড়াটা এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘উইল ইউ বি মাই ওয়াইফ? রিয়েল ওয়াইফ?’
লগ্ন অবাক হলো। সঙ্গে ভীষণ ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হলো মন। সে ফুলের তোড়াটা নিয়ে নাদভির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। লগ্ন মাথা নেড়ে বলল, ‘ইয়েস। আই উইল।’
এবার নাদভিও উঠে দাঁড়াল। তারপর অবাক হলো লগ্নর চোখে জল দেখে। বলল, ‘তুমি কাঁদছ?’
লগ্ন আচমকা নাদভিকে জড়িয়ে ধরলো। নাদভি জড়িয়ে ধরে জানতে চাইল, ‘কাঁদছ কেন?’
লগ্ন কাঁদতে কাঁদতেই বলল, ‘জানি না। আই লাভ ইউ।’
নাদভির বুঝতে বাকি রইল না এ কান্না সুখের কান্না। সে লগ্নর মুখটা দুহাতে ধরে চোখের পানি মুছে দিলো। বলল, ‘আই লাভ ইউ টু।’
কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাদভি লগ্নর ঠোঁটে চুমু খেলো। এক মুহূর্ত পর সরে যেতেই লগ্ন তাকে ধাক্কা দিয়ে বেঞ্চে ফেলে তার কোলে বসে চুমু খাওয়া শুরু করল। এই ভালোবাসার ক্ষণের সাক্ষী হয়ে রইল রকি মাউন্টেইন, লেক লুইস, পাইন গাছ, মেঘেরা আর পাখিরা।
·
·
·
চলবে.........................................................................