দুদিন বাদে হসপিটালে দুপুরবেলা লাঞ্চ করছি এমন সময় পিয়ন এসে বলল,
“স্যার, আপনার সাথে একজন দেখা করতে আসছে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“কে, নাম বলেছে?”
“নাম তো বলেনি। একটা মেয়ে।”
“আমার চেম্বারে বসাও, আমি আসছি।”
খাওয়া শেষ না করেই উঠে পড়লাম। অনন্যা নিশ্চয়ই মানসীর কাছে ডিভোর্সের খবরটা কোনোভাবে পাঠিয়েছে। আর খবর পেয়েই ও এসেছে জ্ঞান দিতে কিন্তু আমি জানি মনে মনে স্বস্তি পেয়েছে মেয়েটা।
আমার চেম্বারে ঢুকতেই আমি অবাক! মানসী নয়, অনন্যা বসে আছে। আমি বললাম,
“অনন্যা? কিরে কী হয়েছে? হঠাৎ তুই এখানে? সব ঠিক আছে?”
“তুমি বাসায় ফিরলে এই ব্যাপারে কথা বলার জন্য সুযোগ খুঁজতে হবে তাই ক্লাস শেষ না করেই চলে এসেছি। কথাগুলো আজই বলতে হবে।”
“হ্যাঁ…তো বল।”
“পরশুর আগেরদিন যে আমরা সিনেমা দেখতে গেলাম তখন তোমাকে বলেছিলাম না মানসী ঐদিন আসেনি ক্লাসে।”
“হুম!”
আমার বুকের ধুকধুকানি বেড়ে গেল। না জানি কী বলবে অনন্যা! ও বলল,
“তারপর থেকে একদিনও আসেনি আজ পর্যন্ত! আমি তো চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। ফোন করেও পাচ্ছিলাম না। লাইন কাটা বোধ হয়। তাই আজ ইউনিভার্সিটি যাওয়ার পথে সাহস করে চলেই গিয়েছিলাম ওদের বাসায়। ওম্মা খালামণি আমাকে ঢুকতেই দিল না।”
“মানে? ঢুকতে কেন দেবে না?”
“শোনোই না। যখনই বললাম আমি মানসীর সাথে দেখা করতে এসেছি। উনি বলল, ‘মানসীর সাথে দেখা হবে না। ও বাসায় নেই।’ আমি বললাম, ‘এত সকালে ও কোথায় গেল?’ বলে কিনা মানসী ওর দাদুর বাড়িতে গেছে। তারপর খালামণি কী বলল শুনলে তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না।”
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,
“উফ! বলবি তো কী বলল।”
“খালামণি বলল, সামনে মানসীর বিয়ে, বিয়ের আগ পর্যন্ত ও ওখানেই থাকবে।”
“বিয়ে মানে?”
“মানসীর নাকি বিয়ে ঠিক হয়েছে।”
“কী বলছিস সব? ওর কেন বিয়ে হতে যাবে? ওর পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে খালু-খালামণি ওর বিয়ে দেবে না। আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত। তারা সবসময় এমনটাই বলে এসেছে।”
দাদা, আল্লাহ জানে কী হয়েছে! কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল মানসী বাড়িতেই ছিল, ইচ্ছে করে দেখা করতে দিল না। আমি বললাম, ‘কার সাথে বিয়ে? কবে ঠিক হলো? কিছুই তো জানি না।”
খালামণি বলল, “বড় আপার কাছ থেকে জেনে নিও। আমি একটু ব্যস্ত আছি। এখন আসতে পারো!”
“তার মানে মা সব জানে?”
“কী জানি দাদা! মা তো কিছুই বলল না!”
আমার মাথার ওপর পুরো পৃথিবীটা ঘুরতে লাগল। কী হচ্ছে আমার লাইফে? একদিক গোছাই তো আরেকদিক ভেঙে যায়। আর কত কী দেখতে হবে আমাকে কে জানে! অনন্যা চলে গেল। আমি আর কোনো কাজই করতে পারলাম না সেদিন। ডিউটি শেষ হবার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে সোজা মায়ের ঘরে ঢুকলাম। বাবা আর মোনাও ছিল। ঘরে ঢুকে বললাম,
“আমার একটু কথা আছে তোমাদের সাথে।”
বাবা বললেন,
“মোনা, তুমি এখন নিজের ঘরে গিয়ে পড়তে বসো।”
মোনা ফোঁসফোঁস করতে করতে বেরিয়ে গেল। মুখে বলছিল,
“যেখানেই যাও, সেখানেই…মোনা, তুমি বাইরে যাও, মোনা তুমি ভেতরে যাও, মোনা তুমি ঘরে যাও। কোনো কিছু জানার কোনো অধিকার আমার নেই।”
মা ওকে বকতে যাচ্ছিল। বাবা বললেন,
“বাদ দাও না। নীরব কী বলতে এসেছে শোনো।” আমি কোনো ভূমিকা ছাড়াই বললাম, “মা মানসীর নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে?”
মা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
“হ্যাঁ।”
“বাহ! তোমরা জানো আর আমাকে কেউ জানানোর প্রয়োজন মনে করলে না?”
বাবা বললেন,
“এখন তোকে জানিয়ে কী হবে বল? বিয়ে তো ঠিক হয়েই গেছে আর তুই নিজেই তো বিবাহিত। জেনেই বা কী করবি?”
“তো, তোমরা কিছু করো। আটকাও ওর বিয়েটা। এভাবে মেয়েটার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে আর তোমরা চেয়ে চেয়ে দেখবে?”
মা বললেন,
“নষ্ট কেন হবে? ছেলেটা খুব ভালো, আর্কিটেক্ট! দেখতে শুনতে হ্যান্ডসাম! বাবার নিজের ব্যবসা আছে কানাডাতে। ফুল ফ্যামিলি ওখানেই থাকে।
ছেলেকে বিয়ে করাতে দেশে এসেছে, বিয়ের পর মানসীকেও নিয়ে যাবে। ছেলের বাবা মানসীর বাবার কলিগ ছিল একসময়। মানসী ওখানে ভালো থাকবে।
“মা, মানসী আমি ছাড়া আর কারো কাছে ভালো থাকবে না। তোমরা কিচ্ছু জানো না, কিচ্ছু না।”
“তোর বিয়ের পরেও মানসী তোর সাথে সম্পর্ক রেখেছে, সেটা কীভাবে যেন জেনে গিয়েছিল মানসীর বাবা। তারপর থেকেই ছেলে দেখছিল ওর জন্য।”
“মানেটা কী? আমার বিয়ের পর থেকে আমরা পুরোপুরি ডিসকানেক্টেড। কোনো সম্পর্ক দূরের কথা যোগাযোগটাও তো নেই।”
“ওর জন্মদিনের দিন ও তোর হসপিটাল যায়নি? তুই ৪-৫ দিন আগে মানসীদের বাসায় যাসনি?”
“গিয়েছি তো কী হয়েছে? ওর সাথে কথা ছিল তাই গিয়েছিলাম।’ “হ্যাঁ, ওর জন্য আগেই ছেলেটাকে ঠিক করে ফেলেছিল কিন্তু অন্তত এখনই বিয়ে দিত না যদি সেদিন ওভাবে না যেতি। কারণ, এমন সময় গিয়েছিস যখন মানসী বাসায় একা ছিল। তুই বলেছিস খেতে গিয়েছিস, মানসী ঘাবড়ে গিয়ে কিছুই বলতে পারেনি। তোর খালামণি জিজ্ঞেস করেছে তুই খেয়েছিলি কিনা মানসী বলেছে খাসনি। এটা ভালো দেখায় না নীরব! তোর খালামণি তো এই নিয়ে আমাকে অনেক কথা শুনিয়ে ছেড়েছে।”
“আমার মনে কোনো দোষ ছিল না মা, তোমার বোন যদি মনে এত দোষ নিয়ে থাকে তাতে আমার কিছু করার নেই।
বাবা বললেন,
“নীরব, এসব কী কথা! মাথা ঠাণ্ডা কর।”
আমি চিৎকার করলাম,
“মাথা ঠাণ্ডা করার মতো কী হয়েছে বাবা? আমি তো আর সহ্য করতে পারছি না। একটা মানুষের নেওয়ারও তো একটা সীমা থাকে।”
মা কাঁদতে শুরু করে দিল। আমার রাগটা আরো বেড়ে গেল। পাছে আবার উল্টাপাল্টা কিছু বলে না বসি তাই ঘরে চলে এলাম।
ঘরে ঢুকতেই দিতিয়া জিজ্ঞেস করল,
“কী হয়েছে? তোমার মুখটা ওরকম লাগছে কেন?”
আমি রাগটা ওর ওপর ঝেড়ে দিলাম,
“কী হয়েছে সেটা তোমাকে বলতে হবে? এত প্রশ্ন করো কেন? এতবার বলেছি আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে কথা বলতে আসবে না। তাতে লজ্জা হয় না তোমার? লজ্জাশরম কি সব বাপের বাড়িতে রেখে এসেছ?”
দিতিয়া কিছু বলল না। মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। ও বলেই বোধহয় এরকম নিশ্চুপ ছিল। অন্য কোনো মেয়ে হলে উচিত জবাব পেয়ে যেতাম সাথে সাথে। বাবা-মা মরা মেয়েকে বাপের বাড়ির কথা বলে খোঁটা দিতে জানোয়াররাই শুধু পারে। আর আমি তখন জানোয়ারই হয়ে গিয়েছিলাম। মানসী অন্য কারো হয়ে যাচ্ছে, আমি মানুষ কীভাবে থাকব!
আমার চিল্লাচিল্লি শুনে মা এলেন,
“দিতিয়ার সাথে কেন এত খারাপ ব্যবহার করছিস? ওর কী দোষ? আমি দোষ করেছি, আমার সাথে যা ইচ্ছে কর।”
আমি মায়ের কথায় পাত্তা না দিয়ে পাশ কাটিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি আর ভাবছি কী করব! আমার সবকিছু এভাবে শেষ হয়ে যাবে! কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। শেষমেশ হুট করে মানসীদের বাসায় চলে গেলাম। রাত প্রায় ১১টা। খালু দরজা খুলে এত রাতে আমাকে দেখে বেশ অবাক হলেন।
দরজার বাইরে থেকেই বললাম,
“খালু, আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিল।”
“ভেতরে এসো।”
আমি ভেতরে ঢুকলাম। খালু বললেন,
“বসো।”
আমি বসলাম। উনি বললেন,
“বলো কী বলবে। তোমাকে জাস্ট ১০ মিনিট সময় দেয়া হলো কারণ আমি ১১টায় ঘুমাতে যাই প্রতিদিন। ১১টা বাজতে আর ১০ মিনিট বাকি।”
খালু ঠাণ্ডা মাথার খুব সিরিয়াস মানুষ। হাতে সময়ও কম, তাই আমি সরাসরি বললাম,
“আমি মানসীকে ভালোবাসি। মানসীও আমাকে ভালোবাসে। গত ৭-৮ বছর মানসীর সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। মায়ের জন্যে আমি বাধ্য হয়েছি বিয়ে করতে। কিন্তু আমি ডিভোর্সের সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি। জাস্ট বিয়ের ১ বছর আগে ডিভোর্স সম্ভব না তাই ৫ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডিভোর্সের পরই আমি মানসীকে বিয়ে করব। প্লিজ মানসীকে অন্য কোথাও বিয়ে দেবেন না। ও আমাকে ছাড়া অন্য কারো সাথে সুখী হবে না।”
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো শেষ করলাম। মানসীর বাবা খুব স্বাভাবিকভাবে আমার কথাগুলো শুনল। তারপর বলল,
“তোমার কথা শেষ?”
আমি উত্তর দেয়ার আগেই মানসী খালুকে ডাকতে ডাকতে ঘরে ঢুকল। ঘরে ঢুকে আমাকে দেখেই অবাক হয়ে চেয়ে রইল। এর মধ্যেই খালামণি এল। খালামণি এসে আমাকে দেখেই মানসীকে ঘরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। খালু বললেন,
“দাঁড়াও, মানসী এখানে থাক। ওর ব্যাপারেই কথা হচ্ছে। ওর জানার অধিকার আছে। আর তুমি চলে যাও। তোমার ব্যাপারে কথা হচ্ছে না।”
খালামণি চলে গেল। তারপর উনি খুব ঠাণ্ডা গলায় বললেন,
“শোনো, ধরে নেই ৮ না ৭ বছর ধরেই তোমাদের সম্পর্ক চলছে। তার মানে মানসীর তখন ১৩ বছর বয়স, একদমই বাচ্চা। ১৩ বছর বয়সে কোনো মেয়ে ভালোবাসা বোঝে না। আর তোমার তখন ২০-২১ বছর বয়স। তুমি তখন তাগড়া যুবক। তুমি কী করে একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ালে আমি বুঝতে পারিনি। কোনো ভালো ছেলের পক্ষে এটা সম্ভব না। তারপর গত ১/২ বছর ধরে ওর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের নামে ওকে তুমি ভোগ করেছ।
খালুর কথা শুনে আমি অবাক থেকে আরো অবাক হচ্ছিলাম। লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিলাম, নিজেকে অমানুষ বলেই মনে হচ্ছিল। মানসী বলল,
“বাবা আমি ওকে জোর করেছিলাম বিয়ে করার জন্যে।”
খালু মানসীকে বললেন,
“তোমাকে এখানে কিছু বলার জন্য রাখা হয়নি। শুধু শোনার জন্যে রাখা হয়েছে। যদি আর একটা কথাও বলো তাহলে এখানে থাকতেও পারবে না।”
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“যখন আমার পোস্টিং ঢাকার বাইরে হয় তখন মানসী ক্লাস ফোরে পড়ে। ওর স্কুলের প্রিন্সিপাল অনুরোধ করেছিল যাতে ওকে স্কুল থেকে নিয়ে না যাই। আর তোমার মা বলেছিল আমি আর মানসীর মা দুজনেই চাকরি করি, মানসীর দেখাশোনা করতে পারব না। ওনার কাছে থাকলে দেখে রাখতে পারবে। এমন দেখাই দেখেছে যে আমার মেয়ের সর্বনাশের কিছু বাকি রাখেনি। আর তোমার মায়ের দোষ দিয়েই বা কী হবে? উনি তো আর তোমার আসল মা না।”
আমি চমকে তাকালাম খালুর দিকে। তিনি আবার বলতে শুরু করলেন,
“তুমি তো তাদের পালক ছেলে। জানো নীরব তুমি কিন্তু একদম তোমার বাবার মতো হয়েছ। নিজের জন্মদাতা বাবার মতো। সেও তো তোমার নিজের মাকে বিয়ের নামে ভোগ করে চলে গিয়েছিল। তোমার তো কোনো জন্ম পরিচয়ই নেই।”
আমার বুক ফেটে কান্না আসছিল কথাগুলো শুনে। কিন্তু সে যোগ্যতা তো আল্লাহ আমাকে দেননি। মাথা নিচু করে বসে রইলাম অপরাধীর মতো। কী বলব আমি? খালুর কথার প্রতিবাদ করার মতো কোনো ভাষা ছিল না আমার। মানসী অনবরত কেঁদে যাচ্ছে।
খালু একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন,
“আর তোমার মা। তার কথা আর কী বলব? তোমার বাবা তোমার মাকে ফেলে চলে গিয়েছিল বলে সেও তোমাকে বড় আপা-দুলাভাইয়ের কাছে ফেলে নাচতে নাচতে চলে গেল বিয়ে করতে। সেই সংসারও তো টেকাতে পারল না। আরে পারবে কীভাবে? চরিত্রে সমস্যা ছিল তো। আর তোমার হলো রক্তে সমস্যা। তোমার বাবা-মায়ের রক্তই তো বইছে শরীরে। আমার কালো মেয়েটাকে ওর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ২ বছর ধরে ভোগ করে সুন্দরী মেয়ে দেখে বিয়ে করে ফেললে। এখন আবার ৬-৭ মাস যেতে না যেতেই বউ পুরোনো হয়ে গেল? তাকে বুঝি এখন আর ভালো লাগছে না? তাই আমার মেয়েকে ভালোবাসার কথা বলতে এসেছ!”
আমি তখন কিছু বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু বলতে পারিনি। গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না। নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে আসছিল। মানসী উঠে এসে ওর বাবার পা জড়িয়ে ধরে বলল,
“বাবা মাফ করে দাও বাবা। ওকে আর কিছু বলো না, প্লিজ। তোমার সব কথা আমি মেনে নিয়েছি। আল্লাহর দোহাই লাগে বাবা, ওকে ছেড়ে দাও।”
খালু খালামণিকে ডাকল। খালামণি প্রায় সাথে সাথেই এল। খালু বললেন,
“মানসীকে এখান থেকে নিয়ে যাও।”
খালামণি মানসীকে টেনে নিয়ে গেল। মানসী যেতে যেতে চিৎকার করে বলল,
“বাবা মাফ করো বাবা। ওকে আর কিছু বলো না।
খালামণি ওকে নিয়ে চলে যেতেই খালু বলল,
“এতকিছুর পরেও আমি তোমাকে কিছু বলতে যাইনি। আজ তুমি নিজে এসেছিলে তাই এসব শুনলে। ইউ ডিজার্ভ ইট নীরব। আমি তো তোমার সাহস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি। এতকিছু করে তোমার সাহস কীভাবে হয় ভালোবাসার কথা বলার?”
আমি এরপরেও কোনো কথা বলতে পারিনি।
খালু বললেন,
“আমার মেয়ের অনুরোধে আমি তোমাকে এতদিন কিছুই বলিনি। ছেড়ে দিয়েছিলাম। বিয়েতে কোনো ঝামেলা করার চিন্তাও করো না। তাহলে তোমাকে আর তোমার পাতানো বাপ-মাকে আমি ছাড়ব না।”
তারপর দরজা খুলে দিলেন,
“এবার আসতে পারো।”
আমি বেরিয়ে গেলাম। খুব অসহায় লাগছিল সেদিন। মনে হচ্ছিল, এই এত বড় একটা পৃথিবীতে আমার কেউ নেই। কোনো পরিচয় নেই আমার। আমি শুধুমাত্র কারো ফেলে যাওয়া সন্তান আর কারো পালিত সন্তান। খুব কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল একটু যদি কাঁদতে পারতাম তাহলে হালকা হতাম। কিন্তু পারিনি!
নীরব ইশতিয়াক
২৫ এপ্রিল, ২০১৬
·
·
·
চলবে.........................................................................