বজ্রমেঘ - পর্ব ২৪ - ফাবিয়াহ্ মমো - ধারাবাহিক গল্প


          ঢং ঢং করে কলিংবেল বেজে উঠল। কুঞ্চিত ভ্রুঁদুটো দরজার দিকে ফেলে উঠে দাঁড়াল সে। এই অবেলায় অসময়ে কে এসেছে জানা নেই। কিন্তু কারোর তো আসার কথা না। এই বিল্ডিংয়ে তেমন কেউ আসেও না। দরজা খুলে বাইরে আবিষ্কার করল একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। বেশভূষাতে বোঝা যাচ্ছে সে একজন ডেলিভারি ম্যান। হাতে পার্সেল করা প্যাকেট। মাথায় লাল ক্যাপ পড়ে সে একটা পার্সেল বাড়িয়ে বলল, 

  - হ্যালো ম্যাম। আপনি নিশ্চয়ই শেহজানা আলম? আপনার জন্য একটা পার্সেল এসেছে। প্লিজ ওটিপি জানিয়ে পার্সেলটা রিসিভ করবেন। 

আকাশ থেকে পরবার মতো অবস্থা হল। চোখদুটো ক্ষণিকের জন্য বিস্ময়বিদ্ধ হল। কীসের পার্সেল? কে পাঠাল? ওর নামে তো কোনো পার্সেল আসার কথা নয়! শ্রেষ্ঠা বা দলের বাকিরা কস্মিনকালেও এমনটা ঘটাবে না। তারা এটা ভালো করেই জানে শাওলিন এরকম চমক একেবারেই পছন্দ করে না। তবে? তবে এটা কার কাজ? শাওলিন ভ্রুঁদুটো কুঁচকে রেখেই পার্সেলটার দিকে চোখ বুলিয়ে প্রশ্ন করে উঠল, 

  - আমার জানামতে, আমি তো কোনো অর্ডার প্লেস করিনি। আপনি কোনো ভুল করছেন না তো? একটু চেক করে দেখুন। ভুল ঠিকানায় পার্সেলটা হয়ত ডেলিভারি করছেন হয়ত। 

লোকটা এবার একটু ভড়কে তাকাল। নিজের হাতে থাকা পার্সেলটায় কী একটা দেখে নিয়ে পুনরায় পেশাদার কণ্ঠে বলল, 

  - না ম্যাম। এটা তো আপনারই। এখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে শেহজানা আলম, ব্লক ডি। 

বুকটা ধক্ করে উঠল এবার শাওলিনের। এভাবে সুস্পষ্ট সঠিক ঠিকানা কে ব্যবহার করেছে? কার কাছে পৌঁছুল ওর ঠিকানা? বন্ধুরা করেছে? কিন্তু ওরা তো জানে না আজকের বিশেষ দিনটা! আজ পর্যন্ত এমন আজগুবি ঘটনা কখনো তো ঘটেনি! তবে অজ্ঞাত কাজটা কে করল? শুষ্ক নরম ঠোঁটদুটো সামান্য টিপে পার্সেলটা রিসিভ করল শাওলিন। দরজাটা যখন বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন অদূর রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন গভর্নর মানুষ জোহরা খালেক। বয়স পঁয়তাল্লিশ। বাচ্চা পালন থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। অভিনব উনার দক্ষতা। পড়ণে শালীন ভঙ্গিতে শাড়ি, শাড়িটির রঙ অনুজ্জ্বল সাদা, শাড়িটির পাড় বেশ প্রশস্ত মোটা, রঙটা গাঢ় ধূসর রঙা। মাথায় চমৎকার করে খোপা বাঁধেন তিনি। মুখে বয়সের ছাপ একটু একটু করে আঁচড় গেঁড়েছে, তবে চোখদুটো আজও ভীষণ বুদ্ধিদীপ্ত। সদা প্রস্তুত ভঙ্গিতে চর্তুপাশটা যেন ছেঁকে দেখতে পারেন। শাওলিনের হাতে কালো মোড়কে আসা পার্সেলটি দেখে তিনি ঠাণ্ডা গলায় প্রশ্ন করেন, 

  - কে পাঠিয়েছে মা? এতো সকাল সকাল? 

প্রশ্নটি শুনে চকিতে পিছু ফিরল শাওলিন। দেখতে পেল ভীষণ নিঃশব্দে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে আছেন আন্টি। যাকে ও জন্মের সময় থেকে ওর কাছে কাছেই দেখে এসেছে। মানুষটিকে ওর ভীষণ ভয়। ভয়টা এজন্য নয় যে, জোহরা খালেক ভীষণ কঠোর একজন নারী। ভয়টা বরং এজন্য যে, উনার চোখ থেকে একটা পিঁপড়া পর্যন্ত আড়াল পেতে পারে না, তিনি এতোটাই সজাগ ও দূরদর্শী। দুহাতে ধরা পার্সেলটি নিয়ে জোহরার কাছে বাড়িয়ে ধরল শাওলিন। যেভাবে এতোগুলো বছর ও নিজের জীবনটা অন্যের কাছে বাড়িয়ে দিয়েছে, সেভাবেই পার্সেলটা তুলে ধরল গভর্নর মহিলাটির কাছে। নামে গভর্নর হলেও কাজে একজন মমতাময়ী মায়ের মতো পার্সেলটা ওর হাতেই ফিরিয়ে দিলেন, 

  - এতে দেখার কিছু নেই মা। বোঝাই যাচ্ছে তোমার জন্য কোনো বই এসেছে। প্যাকেটের র‍্যাপিংটা সেভাবেই মুড়িয়ে দেয়া। কে পাঠিয়েছে বললে না তো? তোমার ভার্সিটির বন্ধুদল? 

  - বলতে পারছি না। হতেও পারে। প্রেরকের নাম ঠিকানা লেখা নেই। এটা খুলে দেখলে বুঝতে পারব। আমাকে এক কাপ চা করে দিবেন আন্টি? নাশতা একটু পর করি? 

চায়ের কথায় যতটা না খুশি হয়েছিলেন, নাশতা না করার ফন্দিটা বুঝতে পেরে ততটাই বেজার হলেন জোহরা। মুখ সরাসরি গম্ভীর করে দৃঢ় গলায় বললেন, 

  - চা তোমাকে বানিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু সেটা নাশতার পর। খালি পেটে চা কফি খাওয়া সম্পূর্ণ বারণ। আমার সঙ্গে চালাকি খাটবে না শাওলিন। নাশতা না খেয়ে ক্যাম্পাসে তোমাকে যেতে দিব না। 

শেষ কথাটা সামান্য হাসির ছটায় বলে গেলেন জোহরা। কেন জানি এই একটি মেয়ের কাছেই উনি সদর্প গম্ভীর ভাবটা দেখাতে পারেন না। কখনোই পারেন না। এই মেয়ের চোখের দিকে তাকালেই উনি মস্ত দুটো মায়ার জগত দেখতে পান। যেখানে ডুবে আছে দুটো কালো চোখ, দুটো কালো ঢল, দুটো গহন পুঞ্জিকার সম্মোহনী জগত। যে জগতে কিছু কালো অধ্যায় নিষিদ্ধ সিন্দুকে তালাবন্দী রাখা আছে। জোহরার প্রস্থানের পর চারকোণা আয়তাকার পার্সেলটি নিয়ে সোজা ঘরে ঢুকে দোর দিল শাওলিন। সকাল সাতটায় রৌদ্র বিকিরণ বেশ পূর্ণমাত্রায় চলছে। রুমের আনাচে কানাচে সোনালী রোদ্দুর মন ভুলোনো আলো ছড়িয়েছে। ফ্যানটা ছেড়ে নিজের পরিপাটি টানটান বিছানাটায় উঠে বসল শাওলিন। ধারালো কাটার দিয়ে কালো মোড়কে ঢাকা পার্সেলটা পুরোপুরি র‍্যাপার মুক্ত করে ফেলল। প্রচণ্ড আশ্চর্য হয়ে দেখল, ঢাউস সাইজের একটি চমৎকার বই! গল্পগুচ্ছ, লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই চমৎকার সুন্দর বইটি কে পাঠাল? কে এতোটা যত্নের সহিত কালো মোড়কে মুড়ে পাঠিয়ে দিল? ও তো বইপ্রেমী নয়, নয় কোনো গল্প পড়ুয়া। বইয়ের প্রতি তীব্র প্রকট আকর্ষণটা শূন্য ওর। তবে কে পাঠাল? কেন পাঠাল? ভারি বইটা দুহাতে ধরে কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে রইল। ওর অন্যমনষ্ক মন ভাবনার জগতজুড়ে পঙ্গিরাজের পাখা মেলেছে। সে ভেবে চলেছে, কে পাঠাল, কেন পাঠাল প্রশ্নদুটো। এসময় ঘরের দোরে ঠক্ ঠক্ মৃদু করাঘাত শুনে চোখ তুলল শাওলিন। দরজায় দাঁড়ানো জোহরা খালেক নম্রস্বরে ডাকলেন, 

  - এসো, খাবে। তোমার জন্য ঘন দুধ দিয়ে লাচ্ছা সেমাই বানিয়েছি। বেশি করে কাজু বাদাম, কিসমিস, দুধের সরও দিয়েছি। খেজুরের গুড় দিয়ে চা হয়েছে কিন্তু! সব জুড়িয়ে যাবে। এসো! 

খাবারের নাম শুনে যতটা খুশি হয়েছিল ও, তার চেয়ে বেশি আনন্দিত হচ্ছে শেষের দুটো বাক্য শুনে। খেজুরের গুড় দিয়ে চা! কী আনন্দ! কী সুখময় কথা! বইটা সেভাবেই রেখে চটজলদি খাবার টেবিলে আসন গ্রহণ করল শাওলিন। খাওয়াটা শুরু করতেই পাশে চেয়ার টেনে বসা জোহরা একটা পরোটা তুলে বললেন, 

  - আজ যে তোমার জন্য বিশেষ দিন এটা কী কেউ জানে? তুমি কী তোমার বন্ধুদের জানিয়েছ আজ তোমার উনিশতম জন্মদিন? 

সেমাইয়ে চামচ ডুবিয়ে ডানে-বাঁয়ে মাথাটা নাড়ল শাওলিন। একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 

  - ওরা জানে না আন্টি। ওরা শুধু এটা জানে, আমি ইতোমধ্যে উনিশ বসন্ত পার করে চলছি। আজই যে আমার উনিশ বর্ষের প্রথম দিন এটা কেউ জানে না। আমি কাউকে জানাইনি। 

  - তোমার এটা জানানো উচিত শাওলিন। আজ তোমার মণি এখানে থাকলে রীতিমতো ঝড় তুলে দিতেন। তুমি তো তাকে চিনো, সে তোমার আঠারোতম জন্মদিনে কী আয়োজনটাই করেছিল! 

  - আমার ওসব মানুষ ডাকানো আয়োজন ভালো লাগে না। জন্মদিন একটা সাধারণ দিন। মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা সুস্পষ্ট লক্ষণ। এমন দিনে খুশি থাকাটা যতটা না দরকার, তার চেয়ে বেশি এটা ভাবা দরকার, আমার পৃথিবীর আয়ু কমে আসছে। আমি যেকোনো সময় মারা যেতে —

সরল বাক্যটা সবে উচ্চারণ করছিল শাওলিন, কিন্তু ও খেয়াল করেনি জন্মদিনেই যে মৃত্যুর কথাটা বলতে বসেছে। জোহরা খালেক এমন উচ্চকণ্ঠে একটা ধমক দিলেন যে তড়িৎবেগে কথাটা থামিয়ে ফেলল শাওলিন। জোহরা খালেক চোখ আগুন করে বললেন, 

  - খবরদার যদি এমন কথা দ্বিতীয়বার বলতে শুনি! কী অলুক্ষণে কথাবার্তা বলছ! আজকের দিনে এমন ভয়ংকর কথা বলে? রেবেকা এখানে থাকলে কী অবস্থাটা করতো! খবরদার, এমন কথা আর মুখেও তুলবে না। খাও জলদি। নাশতা শেষ করো। আমি শ্রেষ্ঠার জন্য কিছু সেমাই বক্সে ভরে দিচ্ছি। এটা ওকে ক্যাম্পাসে গিয়েই দিয়ে দিয়ো। 

রাগারুণ মুখ থেকে চটজলদি স্বাভাবিকত্বে ফিরে আসা, এটা যেন জোহরা খালেকের নিজস্ব গুণ। তিনি এই মাথা গরম করে কথা বলছেন তো, পর মুহুর্তে একেবারে গলে যাওয়া মোমের মতো নম্রতা বোঝাচ্ছেন। তিনি যেন সাক্ষাৎ দ্বৈত ভূমিকা। ফোঁস করে হতোদ্যম শ্বাস ছেড়ে নাশতাটা শেষ করে উঠল। নতুন টোটব্যাগটার ভেতর পলিথিনে মুড়োনো সেমাইভর্তি বক্সটা ঢুকিয়ে চুপচাপ বাইরে বেরুল শাওলিন। আজ ক্যাম্পাসে টানা ক্লাস, বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। 

—————

চট্টগ্রাম বন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন শামসুল হায়দার। কোনো এক কূটনীতিক কার্যক্রমের জন্য সরকারের তরফ থেকে বন্দর দর্শনে এসেছেন তিনি। বেশ কিছু সন্দেহজনক লক্ষণ টের পাচ্ছেন খোলা চোখে। বুঝতে পারছেন কিছু একটা ঘোট পাকিয়ে আছে। কিন্তু সেটা যে কী এবং কীভাবে, এ নিয়ে কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না উচ্চমহলের এই নেতা। মুখ গম্ভীর করে হাতদুটো কোমরের কাছে পিছমোড়া করে বেঁধে হাঁটছেন তিনি। পড়ণে সাদা পোশাক, সাদা ধবধবে পাঞ্জাবির উপর মুজিব কোট। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা এঁটে ক্ষুরধার চাহনিতে সবকিছু দেখতে দেখতে শুধালেন, 

  - বন্দরের অবস্থা এমন হয়ে আছে কেন? সমস্যাটা কোনদিকে জাহাঙ্গীর? 

ছায়ার মতো পাশে পাশে চলা জাহাঙ্গীর কিছুক্ষণ নীরব রইল। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে সাবধানে হায়দার সাহেবের কানের কাছে কথাটা পাড়ল, 

  - ওস্তাদ, কিছু একটা ঘটার জন্য অপেক্ষায় আছে। কালও একটা ট্রলার কোত্থেকে জানি বন্দরে ঢুকেছে। কেউ কোনো তথ্য দিতে পারতেছে না। বন্দরের এখানে যারা ছিল, তারা বলল যে ট্রলার ভর্তি করা নওজোয়ান ঢুকেছে। প্রত্যেকের পোশাক আশাক ময়লা। জেলেপাড়ার লোকদের মতো আঁশটে গন্ধ নিয়ে মাছ কারবার-সহ ঘাটে ঢুকেছে। কিন্তু সমস্যা হল যে, চেহারা একটারও এই দেশি না। ভিনদেশি।  

হায়দার সাহেব স্তব্ধভাবে নির্বাক রইলেন। তিনি সাথে সাথে প্রত্যুত্তরে গেলেন না। কিছুক্ষণ আপন মনে ভাবনা সেরে নিজের সরকারি গাড়িতে উঠে বসলেন। জাহাঙ্গীর সামনের দিকে ড্রাইভারের পাশের সিটটাতে বসে কথা শুরু করল, 

  - ওস্তাদ, আমি যদি ভুল না হই, বন্দরে কোনো ঝামেলা পাকানো চলতেছে। এদিকে দেশের পরিস্থিতিও সুবিধার না। উচ্চমহলে মতান্তর চলতেছে, যৌথ বাহিনির ভেতর কোন্দল, কে কখন ছুরি মেরে বসে, এটা বলা পুরোপুরি অসম্ভব। আপনি যদি অনুমতি দেন তো একটা কথা বলি? 

শামসুল হায়দার দ্বিরুক্তি পোষণ না করে বললেন, 

  - বলো। 

জাহাঙ্গীর আরো একটু সংযত হয়ে নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা উৎকর্ণ সুরে বলল, 

  - ওস্তাদ আপনি দেশ ছেড়ে চলে যান। এই দেশে থাকাটা এখন আর সুবিধার না। আপনার মেয়ে রোজা কিন্তু নজরে পরে গেছে। ওরা কিন্তু ছাড়বে না। খাগড়াছড়ি পর্যন্ত যদি ধাওয়া করতে পারে, তাহলে সামনে ভালোই খারাপি আছে ওস্তাদ। ও এখনো জানে না, আপনি যে কেন ওরে খাগড়াছড়িতে যাওয়ার অনুমতি দিছিলেন। এখন যদি ওইখানেও ওর পিছু পিছু ঝামেলা পৌঁছায়, তাহলে তো আর দেশে থাকাটা ঠিক হবে না। ভিসাটা রেডি করে সবকিছু বন্দোবস্ত দেন।

সারামুখে থমথমে গাম্ভীর্য ভর করছে হায়দার সাহেবের। তিনি পালটা উত্তরে কথা পেশ করলেন না। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ভাবতে লাগলেন তিনি। এটা ঠিক, তিনি তার মেয়েকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছিলেন। কিন্তু উনার একগুঁয়ে জেদি মেয়ে উনার কোনো কথাই শুনেনি। দেশের স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়ে সেখানেই টিকে গেল। সেখানেই শেষপর্যন্ত ভর্তি হল রোজা। যে বন্ধুদলটার সঙ্গে উনার মেয়ে মিশে; চলাফেরা এবং বাকি কার্যক্রম করে থাকে; সেই দলটাকে ভালোমতো নিরীক্ষণ করেছেন তিনি। প্রত্যেকেই মেধার পারদে তুঙ্গস্পর্শী। সারা দেশের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে স্রেফ দুই হাজার শিক্ষার্থী অমন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পায়। সেখানে নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবানদের নাম উল্লেখ্য। তবে তিনি বিচলিত ছিলেন সেলিমের ব্যাপারটা নিয়ে। সেলিম উনারই আত্মীয়বর্গের একজনের পুত্রধন। ছেলেটা সুদর্শন, বেশ মেধাবী, চলনে-বলনে সবকিছুই মানানসই। কিন্তু চারিত্রিক দিকটা বোধহয় অটুট, নিটোল, যুতসই না। আর এদিকটাতে এসেই মন কলঙ্ক করেছে উনার মেয়ে রোজা। যদিও এখন কিছুটা শুধরে গিয়েছে রোজা হায়দার, কিন্তু তবু সেলিমের সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব কমেনি এক ছটাক। ছেলেটা বোধহয় ওই মেয়েটাকে পছন্দ করে! কী যেন নাম তার? হ্যাঁ, শাওলিন! নামটা শুনেছেন তিনি, কিন্তু এখনো মেয়েটাকে চোখে দেখেননি। হঠাৎ জানালার বাইরে থেকে চোখ সরিয়ে জাহাঙ্গীরের দিকে তীক্ষ্মকণ্ঠে প্রশ্নটা করলেন তিনি,  

  - আমি এখনো একটা ব্যাপার বুঝতে পারলাম না জাহাঙ্গীর। এখনো আমার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হচ্ছে না। ওরা যে খাগড়াছড়িতে বাকি দিনগুলো কাটাল, হামলার পরে সবকিছু ঠিকঠাক রইল, এটা কীভাবে সম্ভব হল? সেখানে তো কোনো সমস্যাই হল না? কী এমন ঘটেছিল যে একটা আঁচড় পর্যন্ত ওদের গায়ে পরল না? আমি তো ওদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আর্মির কাছে তদবির করিনি! তাহলে? ওরকম একটা সাংঘাতিক বিপদ কী করে পিছিয়ে গেছে?

জাহাঙ্গীর সামনের সিট থেকে মাথা ঘুরিয়ে পিছু তাকাল। মনিবের ডানহাত বাঁহাত হিসেবে নিজের ভূমিকাটা স্থির করল। নিম্ন অধরে জিভ বুলিয়ে দীপ্তকণ্ঠে বলল, 

  - এখানে ঘটনা আছে ওস্তাদ। বিশাল বড় ঘটনা! ওরা যেই এলাকায় ফাঁসছিল না ওস্তাদ? ওই সাদা গাড়িটা যেখান থেকে পিছু নিছিল? ওই এলাকাটা কোনো হোমরাচোমড়া ব্যক্তি সামলায় না। যিনি ওই এলাকা সামলান, তক্কে তক্কে তদারকি করেন; তিনি বনবিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর লোক। এই প্রথম কোনো ব্যক্তি আসলেন, যিনি কিনা ওই পদে আসীন হলেন। এর আগে কেউ ওই পদে অল্প বয়সে বসতে পারে নাই। এইটা যেমন বিরল ঘটনা, তেমনি তাজ্জবের ঘটনাও ওস্তাদ। সেখানে বসতে হইলে বয়সটা কমপক্ষে পঞ্চাশ তো হওয়াই লাগে। সঙ্গে কাড়ি কাড়ি লাখ টাকার ঘুষ কারবারি। সেখানে উনি খাগড়াছড়ির বিভাগীয় পর্যায়ের ব্যক্তি। চরম একটা চতুর লোক! সেনাবাহিনী পর্যন্ত উনার সঙ্গে খাস সম্পর্ক রেখে চলেন। 

এমন আজগুবি তথ্য শুনে চকিতে মুখটা সোজা করলেন হায়দার। ভড়কে যাওয়া দৃষ্টিতে কপাল কোঁচকালেন তিনি। জাহাঙ্গীরের দিকে পূর্ণদৃষ্টি মেলে আশ্চর্য গলায় শুধু বললেন, 

  - তাহলে রোজার জন্য যেখানে গাড়ি পাঠালাম, ওটা কী কোনোভাবে সেই লোকেরই বাড়ি? 

অসম্ভব উত্তেজনায় বুকটা ঢিপঢিপ করে কাঁপছে জাহাঙ্গীরের। কিছু কথা সঙ্গে সঙ্গে বলল না সে। গুছিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তার কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু যে তথ্যগুলো সে নীরবে জোগাড় করেছে, তার কোনোটাই মিথ্যে নয়। বুকভর্তি করে দম টেনে শামসুল হায়দারের দিকে তাকাল সে। এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে চাপা উদ্বেগের সুরে বলতে থাকল, 

  - আপনি চট্টগ্রাম আর পার্বত্য চট্টগ্রাম দুটাকে এক ভাবছেন ওস্তাদ। দুটা এক না। ধরেন, একই মায়ের পেটে দুই সন্তান। এরা সহোদর হলেও দুটা ভিন্ন আর আলাদা। আপনি চট্টগ্রামের বন্দর এলাকাটা দেখছেন, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের চেহারা দেখেন নাই। আপনার মেয়ের পিছু পিছু ঠিকই আপনার বিপক্ষ দলের নেতাকর্মীরা লেগেছিল। হয়ত সাংঘাতিক কিছুই ঘটাতে যাচ্ছিল। কিন্তু রেসোর্টের ওই সন্ধ্যায় খোদার মর্জি ছিল ভিন্নরকম। আপনার মেয়ে-সহ বাকিরা ঘুণাক্ষরেও ভাবে নাই কী হতে চলছে, অথচ তখন ওই রেসোর্টের কাছাকাছি ছিলেন সেই বন কর্মকর্তা নিজে। উনি একটা দাওয়াত রক্ষার্থে উনার দুই সহকর্মী নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। মাঝ রাস্তায় যখন গোলাগুলির আওয়াজ পান, আর একটা সেকেণ্ডও উনি নষ্ট করেন নাই; পুরা ছকটা তিনি কীভাবে অন্যদিকে ঘুরিয়েছেন খোদা মালুম। উনি তো পঞ্চাশ বছরের বুড়া ভীম না, আবার কামচোর কামলা খবিশও না। উনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। যখন পরিস্থিতি খারাপ বুঝলেন, তখনই সাথে সাথে বাহিনী ডাক দিয়ে নিজেও একপ্রকার ঝাঁপ দিলেন। এরপরের ঘটনা তো আপনি-আমি জানি-ই। নতুন করে আর কী বলব ওস্তাদ? তবে খোদা যা করেন ভালোর জন্যই করেন। এই বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নাই। আপনার মেয়ের বন্ধুদলটা যথেষ্ট ভালো পরছে ওস্তাদ, নয়ত কুসঙ্গ পরলে সেদিন রক্ষা ছিল না। 

সম্পূর্ণ কথা নিঃশব্দ শ্রোতার মতো শুনে যাচ্ছিলেন বতর্মান সরকার দলের নেতা। নিঃশব্দে নিজের চোখদুটো জানালার বাইরে দৃষ্টিলব্ধ করেছেন তিনি। মনে মনে ভাবছিলেন বহু কিছুই। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছিলেন না, ওই যুবকের উপস্থিতিতে কেন উনার শত্রুপক্ষরা পিছপা হয়েছিল? আর কেন-ই বা লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হল? সেদিন সন্ধ্যায় এমন কী দেখেছিল ওরা, যার দরুন সামনে এগোনোর স্পর্ধাটাই দেখাল না? ব্যাপারটা কেমন যেন অদ্ভুত না? 

—————

প্রান্তিক গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকল শ্রেষ্ঠা। মুখে গনগনে রাগের ছটা। পারলে এখুনি এই রাগে দিয়ে সামনের কাউকে ঝলসে দিবে। কিন্তু পারতপক্ষে সেরকম কিছুই কাছে পাচ্ছে না। একটা তিন চাকার অটো ডেকে শেখ হাসিনা হলের গন্তব্য বলল। তিরিক্ষি মেজাজ নিয়ে বার কয়েক কল বসাল নাযীফকে। জোচ্চর বদমাশ খবিশটা ফোনই রিসিভ করছে না! হাসিনা হলের সামনে ভাড়া চুকিয়ে নামতেই এক বান্ধবিকে দেখতে পেয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার ছাড়ল, 

  - সোহার বাচ্চা! তোর নাযীফকে যদি আজ জুতা না মা.. রছি, তাহলে আমার নামও শ্রেষ্ঠা না! এই জানোয়ার খবিশ বদমাইশ আমার ফোন রিসিভ করছে না, ওদিকে ফেসবুকে বসে বসে ডে দিচ্ছে! শালা হারামজা দা! আজকে ক্লাস করতে আসুক, আসুক খালি, ওর গলার নালি আমি কে টে দিব! 

শ্রেষ্ঠার বজ্র হুঙ্কারে আশপাশের মেয়েরা একপলক তাকাল ওর দিকে। পরক্ষণে নিস্পৃহ ভঙ্গিতে যে যার মতো চলে গেল গন্তব্যে। এখানে কেউ কারোর ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক ডুবায় না; অযথা কারোর ব্যাপারে কানাকানিটাও বন্ধ। সোহানা দৌড়ে ছুটে এলে শ্রেষ্ঠা ততক্ষণে ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ফেলে হাঁটছে। ডানপাশ থেকে কাঁধটা জড়িয়ে ধরল সোহানা। শ্রেষ্ঠার মুখের দিকে দৃকপাত করে বলল, 

  - হলোটা কী? কী নিয়ে অতো খেপে আছিস? নাযীফ তো ক্যাম্পাসেই আছে দোস্ত। একটু আগে তোর ব্যাপারে খোঁজও করল! 

এক ঝটকা মেরে কাঁধ থেকে হাতটা সরিয়ে দিল শ্রেষ্ঠা। মুখটা রাগের পুকুরে স্নান করিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, 

  - স্বার্থপর কোথাকার! জানা আমার জন্য একবক্স সেমাই এনেছে, খবিশের অদ্দটা পুরো বক্স খালি করে রেখেছে! আমি এখন কী খাব? জোহরা আন্টি কী ওর জন্য পাঠিয়েছিল? জা নো য়ার কোথাকার! আবার ফেসবুকে স্টোরি দিচ্ছে, অনলি ওয়ান অ্যাণ্ড বিএমবি ডিপার্টমেন্ট রকস্! ওর বিএমবি আমি চুলায় মারি! আমরা ফার্মাসিস্টরা কী বানের জলে ভেসে এসেছি? কত বড় বাটপারিটা করল! 

শ্রেষ্ঠার রাগ, ক্ষোভ, ক্ষুদ্ধ অবস্থা দেখে সোহানা আবারও বন্ধুর ডানপাশটা কাঁধে রাখল। ঠোঁটে মিচকি হাসি টেনে অপর হাতে সাদা এপ্রণটায় ঝুলিয়ে বলল,

  - অতো চেতিস না মাইয়া। রাগ কন্ট্রোল দে। আমি নাযীফ ব্যাটাকে ধরছি দাঁড়া। বিএমবি রকস দিয়ে কী বোঝায়? ওদের বায়োকেমিষ্ট্রি অ্যাণ্ড মলিকিউলার বায়োলজি বেস্ট? এ তো আমাদের ফার্মেসি ডেপ্টের অপমান! থাপ্পড় একটা আমার হাতে খেলে এক্ষুণি সোজা হয়ে যাবে। মাথা ঠাণ্ডা কর . . মাথা ঠাণ্ডা। ফার্মাসিস্ট কন্যারা চেতে না, ওরা চেতায়। পশ্চাদ্দেশে লাত্থি মারে। আয় দেখি। লেজ কেটে দিতেছি। 

সোহার প্রশ্রয়ে খানিকটা ঠাণ্ডা হল শ্রেষ্ঠা। দুই বান্ধবি নাযীফের সন্ধান করতে গিয়ে ছেলেদের হলের সামনে আসলো। এক জুনিয়রকে ডেকে বলল, 

  - তোমাদের বড় ভাই নাযীফ কোথায় জানো? ওকে দেখতে পেলে বলবে, সোহানা খোঁজ করছে। জরুরি কথা আছে। কথাটা আর্জেন্ট! 

  - ঠিকআছে আপু। ভাইকে দেখলে জানাচ্ছি। 

ছেলেটা চলে যেতেই দুই বান্ধবি হল এরিয়া পেরিয়ে একটা নির্দিষ্ট ফাঁকাস্থানে বসে পড়ল। সবুজ ঘাসে ছেয়ে আছে ক্যাম্পাসের দিগ্বিদিক কিছু জায়গা। মৌসুমের এই সময়টায় প্রকৃতি যেন দুয়ার মেলে সৌন্দর্যের ছটা ছড়িয়ে দেয়। সোহানার তদারকিতে চটজলদি সেখানে হাজির হল শাওলিন। সবুজ ঘাসে বুকে আরাম করেই বসলো। শ্রেষ্ঠার রাগে ক্রুদ্ধ মুখটা দেখে ঘটনা বুঝতে একটুও দেরি হল না ওর। ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই যেন ঠোঁটে এক ঝলক হাসি ফুটিয়ে টোটব্যাগ থেকে আরেকটি বক্স বের করে দিল। ঢাকনাটা খুলে আরেকটি চামচ বাড়িয়ে বলল, 

  - এটা তোমার জন্য। জোহরা আন্টি দুটো বক্সে সেমাই দিয়েছেন। তুমি যে ছোটদের মতো গাল ফুলাও তা তো আমি জানতাম না! তোমার জিনিসে ভাগ কেউ বসায়নি শ্রেষ্ঠা। আরেক বক্স আছে, ওটা সোহানা সহ বাকি সবার। 

শ্রেষ্ঠা দুচোখে আশ্চর্য নিয়ে বলল, 

  - তুই আমারটা আলাদা করে এনেছিস? আমি . . আমি ভেবেছি নাযীফের সঙ্গে তোর সম্পর্ক ভালো হয়েছে বলে তুই আর আমাকে আগের মতো দেখিস না। সেরকম দৃষ্টিতে ভাবিস না। 

  - ওটা তোমার ভুল ধারণা। সম্পর্ক তোমার সঙ্গে আগে হয়েছে আমার। বাকিদের সাথে তো না। প্রথম সম্পর্কগুলোই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে। তারপর এক এক করে বাকিরা। তুমি কিন্তু ভুলে যাচ্ছ, এই ভার্সিটিতে প্রথম বন্ধুত্বটা তোমার সঙ্গেই হয়েছে। না সোহানা, না রোজা, না নাযীফ ভাই। সেখানে তুমি ভাবছ তোমাকে আমি পিছনে রাখব? 

একটু আগের জ্বালাময়ী ক্রোধ গলন্ত এক বরফের মতো তরল হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ হঠাৎ রেগে ওঠা মানুষগুলো মোমের মতোই কেমন যেন নরম। অদ্ভুত রকম কোমল। শ্রেষ্ঠা হাত বাড়িয়ে বক্সভর্তি খাবারটুকু তৃপ্তিযোগে উপভোগ করল ঠিকই, কিন্তু বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত শান্তিতে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। অপরদিকে অন্য বক্সটিতে মনোযোগ দিয়েছিল সোহানা। ওরা কেউই জানে না কেন এই সেমাই-ভোগ। কেউ জানে না শাওলিন গোপন করেছে নিজের জন্মদিনটুকুও। আড়াল করেছে নিজের উপর্যুপরি সঠিক বয়সের অঙ্কটাও।

—————

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার কিছুটা বেশি। বাইরে আঁধার ঘনানো কালো ছবি। ক্লান্ত দেহে গোসলটা সেরে ঘরের কোণে স্টাডি টেবিলে বসেছে শাওলিন। ছেড়ে রাখা আধ শুষ্ক চুলগুলো ঘরের কৃত্রিম বাতাসে উড়ছে পিঠময়। গালে বাঁহাত রেখে কনুইটা টেবিলে ঠেকিয়ে খসখস কিছু লিখছে ও। লেখায় খানিক বিরতি দিয়ে চোখদুটো তুলে সামনের আকাশটা দেখল। টেবিলের সমুখে খোলা জানালা, জানালা দিয়ে দেখা যায় ওই দূর আঁধারের শামিয়ানা। হঠাৎ কী যেন ভেবে মাথাটা পিছু ঘুরিয়ে বিছানার দিকে চোখদুটো ছুঁড়ল। গুছানো বালিশ দুটোর কাছে ভারি বইটা রাখা। নিচের ঠোঁটটা দাঁতে কামড়ে কিছুক্ষণ ভাবল নীরবে। এরপর উঠে দাঁড়িয়ে বইটা হাতে নিয়ে বিছানার হেডসাইডে পিঠ ঠেকিয়ে বসল। বইয়ের মলাট উলটাতেই দেখল, সেখানে কালো জেলপেন দিয়ে অল্প কিছু কথা লেখা। পরিচ্ছন্ন অক্ষরে টান টান করে লিখেছে—

একজন স্বপ্নদর্শীকে ‘গল্পগুচ্ছ’,
তার জীবনে বই পড়া আবশ্যক। 
উনিশ বর্ষের প্রথম দিনটির শুভেচ্ছা।
বিশ বর্ষের প্রথম দিনটির জন্য অগ্রিম শুভবার্তা,
আশা করছি, রঙিন স্বপ্ন তার জীবনে রংধনুর সাতরঙে ধরা দিবে। সে হাসবে, ভীষণ উৎফুল্ল হবে। একদিন প্রস্তুত হবে, কারোর হৃদয়-সাম্রাজ্ঞী হতে। ততদিন অবধি সে ডি ব্লকের অস্থায়ী নিবাসী হোক। 

— নাম জানাতে অনিচ্ছা প্রকাশ।
·
·
·
চলবে....................................................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp